Articles posted by Radical Socialist on various issues.

Mobilise On the Streets first, to Resist Normalization of Communal Murders

Statement of Radical Socialist


Mohammad Afrazul, from Malda’s Sayadpur village, worked as a labour contractor and lived with twenty-four other labourers in a four roomed, single storey house in Rajsamand’s Dhoinda, some 300 kilometres from Jaipur. He was first attacked with an axe, then burnt to death, and the entire process recorded on video and uploaded with pride with the assertion that as a Hindu, the perpetrator was preventing a love jihad. This episode in Rajasthan on 7th December shows exactly the distance travelled in a quarter century in India, by the forces of Hindutva.

When in 1992 Advani and the others of his criminal gang led the attack and destroyed the Babri Masjid, the action was widely treated as a crime. A quarter century later, not only are they proclaiming 6th December as a Day of Valour, but have been able to push their agenda a great deal.

Much of the debate over how to resist these forces have focused on exactly how fascistic they are, but the real issue today is more on recognizing that regardless of whether we see them as fascists or as aggressive communalists, it is essential to understand that this is a political force that maintains an autonomous agenda and constantly strives to push it forward. It is necessary, as always, to stress that the RSS and its whole network is not a simple instrument that the ruling class creates, to keep in readiness for bringing out whenever rulers feel the need. Historically, the relationship between fascism as a political movement and the bourgeoisie is more complex, and varies from country to country.  In the case of India, the Sangh combine has spent nine decades building an ultra-nationalism through the valorization of a chauvinist Hindutva, presenting other religions as enemies, especially presenting Muslims as sub-human beasts and eternal enemies of Indian culture and tradition. There is nothing in a purely capitalist rationality that would push this outlook. But the terms that the RSS and its various branches collectively have set out is, in return for their delivering certain highly needed profitable steps for the ruling class and international capital, they will be given freedom to pursue their politics of hatred. The murder of rationalist secular activists like Dabholkar, Pansare, Kalburgi and Lankesh; the murders of ordinary Muslims for no crime other than being Muslim, with allegations of cow slaughter, “love jihad”, being agents of the Isis , etc., in cases ranging from Mohammad Akhlaq, Pehlu Khan, Junaid Khan to Mohammad Afrazul, present this politics of hatred in its open form.

The accusation behind attacking and murdering Mohammad Afrazul was a by now routine one, of being a participant in a “love jihad”. It is significant that the man was a Muslim labourer from West Bengal. Bengali speaking Muslims have been repeatedly targeted and accused of being Bangladeshi infiltrators. Each of these points must be noted. That immigration, which happens all over the world primarily due to economic hardships, are now being declared terroristic plots. Secondly, that unless they can prove their Indian-ness, Bengali speakers, especially if Muslims, are being accused of being foreigners.  This too is part of the larger fight to impose the Hindi-Hindu-Hindustan design all over India.  And any Muslim, anywhere in India, is seen as fair game.

From mid November, a pamphlet on the so-called love jihad was distributed in Jaipur. Instead of immediately halting it, the police merely carried out an inquiry. Love Jihad is a lie, but one that has a long pedigree. It asserts that Muslims pretend to love Hindu women in order to make them convert to Islam. In the recent notorious case of Hadiya, the Kerala High Court had set aside her marriage, despite all evidence that she had converted of her own, and had only then met her future husband and married him, and above all that she is an adult. Even the Supreme Court has been far from clear, so far, in her Case, with the NIA having been asked to investigate if it was indeed a case of love jihad at one stage.

In the case of Afrazul, who has a family, the entire horrifying episode shows how murdering Muslims has become a near normalized event, with the Hindu upper caste communities ignoring it, or taking to the social media to drag in killings in Bangladesh, Syria and elsewhere to dilute the gravity of the situation in India. Resistance by all democratic forces, by all those who seek to retain all the colours of the rainbow in a pluralist India, is essential. And we must be aware that such resistance has to be completely free of all rightwing parties, not just the RSS-BJP. Even as protests erupted, in Kolkata, about twenty-five protesters were arrested by the police for demonstrating close to the Keshav Bhavan, the RSS Headquarters in the City. The government of West Bengal, under Trinamul Congress leader Mamata Banerjee, is showing that its verbal fencing against the BJP is not serious, and that it is keen to break up any independent protest.

It is only by as combined struggle on the streets, in courts, and in the electoral space, that responses to these can be made. There is certainly a need to fight electorally. But those who make that the principal terrain can only end up as fifth wheels to a Congress led alliance where social issues will take a back seat. It is important to note that with the Gujarat election campaign in full swing, the Congress is keen to prove that Rahul Gandhi is a good Hindu, and hence it has not gone out for a forthright condemnation of the murder of Afrazul, with the stress on how the official Hindutva campaigns are empowering such individual murders as well. And as the Supreme Court has repeatedly shown, any tactics of court battles without social struggles are fraught with uncertainty as the court may take poor stances. Mass mobilisations, public resistance, thus remain the starting point.


Radical Socialist, 8th December 2017 

পথে নেমে গণ-জমায়েত করুন, সাম্প্রদায়িক হত্যাকান্ডের স্বাভাবিকীকরণ রুখতে লড়াই করুন

র‍্যাডিকাল সোশ্যালিস্টের বিবৃতি

মালদার সইয়দপুর গ্রামের মহম্মদ আফ্রাজুল জয়পুর থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে রাজসামান্দের ধোইন্দাতে লেবার কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করতেন এবং আরো চব্বিশজন শ্রমিকের সঙ্গে একটি চার ঘরের ভাড়া একতলা বাড়িতে থাকতেন। তাঁকে প্রথমে কুঠার দিয়ে আক্রমণ করা হয় ও তার পর পুড়িয়ে মারা হয়। গোটা প্রক্রিয়াটা ভিডিও করে ইন্টারনেটে তোলা হয়, গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করে যে হত্যাকারী হিন্দু হিসেবে একটি লাভ জিহাদ বন্ধ করছে। ৭ই ডিসেম্বর রাজস্থানে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, গত ২৫ বছরে হিন্দুত্ববাদী শক্তি ভারতে ঠিক কতদূর এগিয়েছে।

যখন ১৯৯২ সালে আদবানী আর তার অপরাধীবৃন্দ আক্রমণ করে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করেছিল, তখন সেই কাজকে বহু দিক থেকেই অপরাধ বলে দেখা হয়েছিল। ২৫ বছর পরে, তাঁরা ঐ দিনটিকেই শুধু সৌর্য দিবস বলে ঘোষণা করছে না, বরং অন্য বহু ক্ষেত্রে তাদের কর্মসুচী এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছে।

এই শক্তিদের কিভাবে প্রতিহত করতে হবে, সেই বিতর্কের অনেকটাই কেটেছে তাঁরা ঠিক কতটা ফ্যাসিবাদী তা নিয়ে, কিন্তু আজ যা দরকার তা হল বোঝা, যে আমরা তাদের ফ্যাসিবাদী বলি আর আগ্রাসী সাম্প্রদায়িকতাবাদী বলি, মূল কথা হল, এ এমন এক রাজনৈতিক শক্তি, যারা তাদের স্বতন্ত্র কর্মসূচী বজায় রাখে, এবং ক্রমান্বয়ে সেটা সামনে ঠেলে। সব স্ময়ে জোর দিয়ে বলা দরকার যে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ ও তার গোটা শাখা প্রশাখা শাসক শ্রেণীর তৈরি করা একটা হাতিয়ার নয়, যেটা তারা প্রয়োজন মত বার করে। ঐতিহাসিকভাবে ফ্যাসিবাদ ও বুর্জোয়া শ্রেণীর মধ্যে সম্পর্ক অনেক বেশী জটিল, এবং দেশ থেকে দেশে তার অদলবদল হয়েছে।  ভারতের ক্ষেত্রে, সঙ্ঘ-জোট নয় দশক ধরে উগ্র হিন্দুত্বভিত্তিক জাতীয়তাবাদ গঠনে জোর দিয়েছে। তারা অন্য সব ধর্মের মানুষকে শত্রু হিসেবে দেখিয়েছে, বিশেষত মুসলিমদের মনুষ্যেতর পশু হিসেবে এবং তথাকথিত ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের চিরন্তন শত্রু হিসেবে দেখিয়েছে। নৈর্ব্যক্তিক পুঁজিবাদী যুক্তিতে এমন কিছু নেই যা এই দৃষ্টিভঙ্গীকে মদত দেবে। কিন্তু আর এস এস –সঙ্ঘ পরিবার যে শর্ত আরোপ করেছে, তা হল, তারা শাসক শ্রেণীর এবং আন্তর্জাতিক পুঁজির জন্য খুবই লাভজনক কিছু পদক্ষেপ নেবে, যার বিনিময়ে তাদের থাকবে নিজেদের হিংসার রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা। দাভোলকার, পানসারে, কালবুর্গি এবং লঙ্কেশদের মত যুক্তিবাদী, ধর্মনিরপেক্ষ কর্মীদের হত্যা, নিছক মুসলিম হওয়ার অপরাধে সাধারণ মুসলিমদের হত্যা করা, যেখানে মহম্মদ আখলাক, পেহলু খান থেকে মহম্মদ আফ্রাজুল পর্যন্ত অভিযোগের চরিত্র হল গো-হত্যা, লাভ জিহাদ, আইসিসের চর হওয়া ইত্যাদি,  এই হিঙ্গসার রাজনীতিকে নগ্নরূপে তুলে ধরে।

মহম্মদ আফ্রাজুলকে আক্রমণ করা ও হত্যা করার পিছনে অভিযোগটা ইতিমধ্যে মামুলী হয়ে যাওয়া অভিযোগ – সে নাকি লাভ জিহাদের অংশীদার।  ব্যক্তিটি যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা মুসলিম শ্রমিক, সেটা তাৎপর্যপূর্ণ । বাংলাভাষী মুসলিমদের  বারে বারে আক্রমণ করা হয়েছে, অভিযোগ করা হয়েছে তাঁরা বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী। এর প্রতিটি কথা বুঝে নিতে হবে। সারা পৃথিবী জুড়ে মানুষ প্রধানত অর্থনৈতিক সংকটের ফলে এক দেশ থেকে আর এক দেশে যায়। সেটাকে এখন বলা হচ্ছে সন্তত্রাসবাদী চক্রান্ত। দ্বতীয়ত, নিজেদের ভারতীয়ত্ব প্রমাণ করতে না পারলে বাংলাভাষীদের, বিশেষত মুসলিমদের বিদেশী বলা হচ্ছে। এটাও হল সারা ভারতে “হিন্দী-হিন্দু-হিন্দুস্তান” চাপিয়ে দেওয়ার  বৃহত্তর পরিকল্পনার অঙ্গ। আর অবশ্যই, যে কোনো মুসলিম, ভারতের যে কোনো প্রান্তে, আক্রমণের শিকার।

নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জয়পুরে তথাকথিত লাভ জিহাদ নিয়ে একটি পুস্তিকা প্রচার করা হচ্ছিল। সেটা তখনই বন্ধ করার বদলে পুলিশ কেবল তদন্ত করেছিল। লাভ জিহাদ একটা মিথ্যা, কিন্তু এমন এক মিথ্যা যার এক দীর্ঘ ইতিহাস আছে। এতে দাবী করা হয় যে মুসলিমরা হিন্দুদের  ভালবাসার ভান করে, তাঁদের ইসলামে ধর্মান্তরিত করার উদ্দেশ্যে। সাম্প্রতিক কালের কুখ্যাত ঘটনা, হাদিয়ার মামলাতে, কেরালা হাই কোর্ট তার বিয়ে নাকচ বলে ঘোষণা করেছিল, যদিও সে সব প্রমাণ দাখিল করেছিল যে সে নিজের ইচ্ছায় প্রথমে ধর্মান্তরিত হয়েছিল, এবং তার পর তার ভবিষ্যত স্বামীর সঙ্গে তার আলাপ হয়েছিল এবং তারা বিয়ে করেছিল; এবং স্ররবোপরি, সে একজন প্রাপ্তবয়স্কা। এমন কি সুপ্রীম কোর্টের ভূমিকাও এ পর্যন্ত এই ঘটনাতে পুরোপুরি স্বচ্ছ নয়, কারণ সুপ্রীম কোর্ট এন আই এ কে এক সময়ে তদন্ত করতে বলেছে, এটা বাস্তবিক “লাভ জিহাদ” কি না।

আফরাজুলের ক্ষেত্রে, সে  মাঝ বয়সী, তার পরিবার আছে, যাদের খাওয়া পরার জন্যই সে কাজের খোঁজে গিয়েছিল। গোটা ভয়ংকর ঘটনাটা দেখায়, মুসলিমদের খুন করা প্রায় একটা স্বাভাবিক ঘটনাতে পরিণত হয়েছে, এবং হিন্দু উচ্চজাতির লোকেরা সেটা হয় অবহেলা করে, অথবা সোশ্যাল মিডিয়াতে গিয়ে বাংলাদেশ, সিরিয়া বা অন্যান্য দেশের ঘটনা টেনে   এনে ভারতে পরিস্থিতি কতটা বীভৎস সেটা লঘু করতে চায়। সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিদের, যারা বহুত্ববাদী ভারতের রামধনুর সবকটা রঙ রক্ষা করতে চান তাঁদের দ্বারা প্রতিরোধ আবশ্যক। আর আমাদের সচেতন হতে হবে যে তেমন প্রতিরোধ সমস্ত দক্ষিণপন্থী দলমুক্ত হতে হবে, কেবল আর এস এস – বিজেপি মুক্ত নয়। প্রতিবাদ যখন ফেটে পড়ে, সেই সময়েই, কলকাতার আর এস এস সদর দপ্তর কেশব ভবনের কাছে কলকাতা পুলিশ প্রায় পঁচিশজন  প্রতিবাদীকে গ্রেপ্তার করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার  দেখাচ্ছে, মুখে বি জে পি-র সঙ্গে তাঁদের যে যুদ্ধ, সেটা আসল নয়, এবং তার যে কোনো স্বাধীন প্রতিবাদ ভেঙ্গে দিতে উৎসাহী।

এই আক্রমণগুলির জবাব দেওয়া সম্ভব রাস্তার লড়াই, আদালতের লড়াই এবং নির্বাচনী ক্ষেত্রের যৌথ সংগ্রামের মাধ্যমে। নির্বাচনী ক্ষেত্রে লড়াই নিশ্চয়ই করা দরকার। কিন্তু যারা সেটাকে প্রধান ক্ষেত্রে পরিণত করবেন, তাঁরা শেষ অবধি কংগ্রেস পরিচালিত জোটের বাড়তি চাকা হয়ে থাকবেন।সেখানে সামাজিক প্রসঙ্গ সব পিছনে চলে যাবে। এটা লক্ষ্যণীয় যে গুজরাটে নির্বাচনী প্রচার পুরোদমে চলছে, কংগ্রেসের সেখানে হঠাৎ উৎসাহ জন্মেছে রাহুল গান্ধীকে ভাল হিন্দু বলে প্রমাণ করার, এবং এই কারণে কংগ্রেস আফরাজুল হত্যার সরাসরি ও সুস্পষ্ট নিন্দা করে নি, যেখানে জোরটা পড়ার দরকার ছিল, সরকারী হিন্দুত্ববাদী প্রচার কীভাবে এইরকম ব্যক্তিগত খুনকেও ক্ষমতা দিচ্ছে। আর, সুপ্রীম কোর্ট বারংবার দেখিয়েছে, সামাজিক লড়াই বাদ দিয়ে নিছক আদালতের লড়াইয়ের কৌশল অনিশ্চয়তা পূর্ণ, কারণ আদালত খারাপ অবস্থান নিতেই পারে।  গণ জমায়েত, রাস্তায় প্রতিরোধ, এদেরই থাকতের হবে সূচনাবিন্দু।

র‍্যাডিকাল সোশ্যালিস্ট , ৮ ডিসেম্বর ২০১৭



জুলাইয়ের দিনগুলি --দানিয়েল গাইডো

জুলাইয়ের দিনগুলি

দানিয়েল গাইডো

বলশেভিকরা পারী কমুনের ভাগ্য এড়াতে চেয়েছিলেন। তাই তাঁরা ১৯১৭-র জুলাইতে ক্ষমতা নেন নি।

১৮ই জুন , ১৯১৭ : পেত্রোগ্রাদে রাজনৈতিক শোভাযাত্রা। বাঁ দিকের ব্যানারে লেখা আছেঃ “সারা দুনিয়ার জন্য শান্তি – জনগণের হাতে সব ক্ষমতা – জনগণের হাতে সব জমি”। ডানদিকের ব্যানারে আছেঃ “পুঁজিবাদী মন্ত্রীরা নিপাত যাক”এগুলি ছিল বলশেভিক স্লোগান। 

১৯১৭ সালে রাশিয়াতে ছিলেন ১৬.৫ কোটির বেশী নাগরিক, যাদের মধ্যে মাত্র ২৭ লাখ থাকতেন পেত্রোগ্রাদে। রাজধানীতে থাকতেন ৩৯০,০০০ জন ফ্যাক্টরী শ্রমিক – এক তৃতীয়াংশ নারী –২১৫,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ জন সৈনিক যারা ছাউনীতে থাকতেন, আর মোটামুটি ৩০,০০০ নাবিক ও সৈনিক যারা থাকতেন নিকটবর্তী ক্রোনস্টাড নৌ ঘাঁটিতে।

ফেব্রুয়ারী বিপ্লব এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাসের পদত্যাগের পর, মেনশেভিক এবং সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারীদের নেতৃত্ত্বাধীন সোভিয়েতরা ক্ষমতা হাতে তুলে দিল এক অ-নির্বাচিত অস্থায়ী সরকারের হাতে, যারা বদ্ধপরিকর ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার অংশগ্রহণ  চালিয়ে যেতে, সংবিধান সভার নির্বাচন পর্যন্ত কৃষি সংস্কারের বিলম্ব ঘটাতে, আর সংবিধান সভার নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবী রাখতে।

ঐ সোভিয়েতগুলিই সৈনিকদের কমিটি গড়ার ডাক দিয়েছিল, এবং তাঁদের বলেছিল শ্রমিক ও সৈনিকদের প্রতিনিধিদের সোভিয়েতের নির্দেশ ও ডিক্রীর পরিপন্থী যে কোনো সরকারী নির্দেশ অমান্য করতে।  

এই স্ববিরোধী সিদ্ধান্তগুলি তৈরী করল একটি নড়বড়ে দ্বৈতক্ষমতা, যাতে দেখা দিল বারে বারে সরকারের সংকট। এই রকমের প্রথম সংকট দেখা দিল এপ্রিল মাসে, যার কারণ ছিল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া, এবং যা শেষ হল যখন দুই প্রধান বুর্জোয়া রাজনৈতিক নেতা – সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক দল বা ক্যাডেট দলের পাভেল মিলিউকভ এবং অক্টোব্রিস্ট দলের আলেক্সান্দর গুচকভ বহিস্কৃত হলে তবে। উপরন্তু, এই সংকট দেখিয়ে দিল, পেত্রোগ্রাদ ছাউনীর উপর সরকারের অক্ষমতা। সৈন্যরা তৎকালীন সেনা প্রধান জেনারাল লাভর কর্নিলভের নয়, বরং পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের কার্যনির্বাহী কমিটির ডাকে সাড়া দিল।

পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের ১নং নির্দেশ, যা প্রকাশিত হয় পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের ১৪ই মার্চ।

এই দলিলে সমস্ত সামরিক ইউনিটদের আহবান করা হয়, সৈনিকদের কমিটি নির্বাচন করার, সোভিয়েতে প্রতিনিধি পাঠাবার, এবং অফিসারদের ও অস্থায়ী সরকারকে মানার কেবল যদি তাঁদের নির্দেশ পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের নির্দেশ ও ডিক্রির পরিপন্থী না হয়।  সমস্ত অস্ত্র এই কমিটিদের হাতে তুলে দিতে বলা হয়, “এবং কোনো অবস্থাতেই যেন, এমনকি দাবী করলেও যেন, অফিসারদের দেওয়া না হয়”।

এই সংকট থেকে যে জোট সরকার বেরিয়ে এল, তাতে ছিলেন বুর্জোয়া ফলগুলি থেকে ন’জন মন্ত্রী আর তথাকথিত সমাজতন্ত্রী দলগুলি থেকে ছ’জন। প্রিন্স ল’ভভ প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী থেকে গেলেন, কিন্তু যুদ্ধমন্ত্রী ও নৌবহরের মন্ত্রী হলেন সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারী দলের আলেক্সান্দার কেরেনস্কী, এবং তিনি দ্রুত পরিণত হলেন সরকারের উঠতি তারকা।ক্যাবিনেটে আরো রইলেন মেনশেভিক দলের ইরাকলি সেরেতেলি – ডাক ও তাঁর বিভাগের মন্ত্রী হিসেবে, এবং মাতভেই স্কোবেলেভ – শ্রম দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে। কৃষি মন্ত্রী এবং বিচার বিভাগের মন্ত্রী হিসেবে জোটে যোগদান করলেন সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারী ভিক্টর চের্নভ এবং পাভেল পেরেভেরঝেভ।

১৯১৭র গ্রীষ্মকালে বলশেভিক দল

১৯১৭র প্রথমার্ধে বলশেভিকদের কষ্ট করে লড়তে হয়েছিল। তাঁরা প্রথমে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মিছিলের বিরোধিতা করেছিলেন, যে মিছিল থেকে ফেব্রুয়ারী বিপ্লব ঘটে। তারপর মার্চের মাঝামাঝি থেকে বলশেভিক দল ভালরকম ডাইনে মোড় নেয়, যখন লেভ কামেনেভ, যোসেফ স্তালিন এবং এম কে মুরানভ সাইবেরিয়া থেকে ফিরে পার্টির মুখপত্র প্রাভদার উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেন। তাঁদের নিয়ন্ত্রণে পত্রিকাটি অস্থায়ী সরকারের প্রতি সমালোচনামূলক সমর্থন প্রস্তাব করে, “যুদ্ধ নিপাত যাক” স্লোগানের বিরোধিতা করে, এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর মধ্যে ভাঙ্গন আনার কাজ বন্ধ করতে আহবান করে।

লেনিনের ‘দূর থেকে চিঠি’ গুলিতে ব্যক্ত মতের সঙ্গে এই মত তীব্র বৈপরীত্য দেখায়। সুতরাং এটা খুব বিস্ময়কর না, যে প্রাভদা সেগুলির কেবল প্রথমটাকে প্রকাশ করেছিল, এবং তাও আবার অনেক ছেঁটেকেটে । আলেক্সান্দার শ্লিয়াপনিকভের সাক্ষ্য অনুযায়ীঃ

“সংস্কারপ্রাপ্ত প্রাভদা”র প্রথম সংখ্যা প্রকাশনার দিন, অর্থাৎ ১৫ই মার্চ, ছিল “দেশরক্ষাবাদীদের” বিজয়োল্লাসের যুগ। গোটা টাউরিডে প্রাসাদ জুড়ে একটাই খবর উপচে পড়ছিল, ডুমা কমিটির সদস্যদের থেকে বিপ্লবী গণতন্ত্রের হৃদয়স্থল [সোভিয়েতের] কার্যনির্বাহী কমিটি পর্যন্ত – অতিবামদের উপর  নরমপন্থী, যুক্তিবাদী বলশেভিকদের জয়ের খবর। খোদ কার্যনির্বাহী কমিটিতে আমাদের দেখানো হয় বিষাক্ত হাসি।

যখন ৩রা এপ্রিল লেনিন ফিনল্যান্ড স্টেশনে উপস্থিত হন, তখন এই মতামতই বলশেভিক নেতাদের মধ্যে প্রধান ছিল। পরদিন, তিনি সারা রাশিয়া শ্রমিক ও সৈনিক সোভিয়েতদের সম্মেলনের জন্য আগত বলশেভিক প্রতিনিধির সামনে তাঁর এপ্রিল থিসিস (April Theses) পেশ করেন। কামেনেভ ও স্তালিনের বিপরীতে, লেনিন “বিপ্লবী প্রতিরক্ষাবাদকে” সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করলেন, এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বমূলক আচরণের প্রস্তাব রাখেন। উপরন্তু তিনি লিওন ট্রটস্কীর দিশা গ্রহণ করে বলেন “বিদ্যমান মূহুর্ত” হল বিপ্লবের প্রথম “বুর্জোয়া-উদারনৈতিক” পর্ব থেকে দ্বিতীয় “সমাজতন্ত্রী” পর্বে উত্তরণের সময়, যখন ক্ষমতা চলে যাবে শ্রমিক শ্রেণীর হাতে।

লেনিন বিরোধিতা করলেন স্তালিন ও কামেনেভের অস্থায়ী সরকারের প্রতি “সীমাবদ্ধ সমর্থনের” নীতির, তার বদলে ঐ সরকারকে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করার ডাক দিলেন, এবং বলশেভিকরা কম জঙ্গী মেনশেভিকদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হবেন এই ধারণাকে কাটিয়ে দিলেন। তখন থেকে, বলশেভিকরা সোভিয়েতদের হাতে সব ক্ষমতা হস্তান্তরের ডাক দিতে থাকেন, যে সোভিয়েতরা জনগণকে সশস্ত্র করবে, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় আমলাতন্ত্রের বিলুপ্তিসাধন করবে,  সমস্ত জমিদারী বাজেয়াপ্ত করবে, এবং উৎপাদন ও বন্টনের নিয়ন্ত্রণ শ্রমিকদের হাতে হস্তান্তর করবে।

বলশেভিক দলের সপ্তম (এপ্রিল) সারা রাশিয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় পেত্রোগ্রাদে, ২৪ থেকে ২৯ এপ্রিলে। এই সম্মেলনে যুদ্ধ এবং অস্থায়ী সরকার প্রসঙ্গে লেনিনের অবস্থান সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন লাভ করে।

লেনিনের “এপ্রিল থিসিস”-এর প্রথম পৃষ্ঠা, প্রাভদায় প্রকাশিত


১৯১৭-র গোড়ায় বলশেভিক পার্টি ছিল ছোটো, পেত্রোগ্রাদে তাঁদের সদস্য ছিলেন মোটামুটি দু’হাজার, যা হল শহরের শিল্প শ্রমিকদের মাত্র ০.৫ শতাংশ। এপ্রিল সম্মেলনের মধ্যে পার্টির সদস্য সংখ্যা কেবল রাজধানীতেই বেড়ে হয়েছিল ষোল হাজার। জুনের শেষদিকে তা আবার দ্বিগুণ হয়। সেনা ছাউনীর দু’হাজার সৈন্য বলশেভিক সামরিক সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন, এবং আরো চার হাজার জন ক্লাব প্রাভদা নামে বলশেভিক সামরিক সংগঠন পরিচালিত সৈনিকদের জন্য একটি অপার্টি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। সদস্য সংখ্যার এই বিশাল বৃদ্ধি সংগঠনের রূপান্তর ঘটালো। তাতে এলেন দলে দলে নতুন সদস্য, যারা আবেগ প্রবণ, মার্ক্সসীয় তত্ত্ব কম জানেন কিন্তু বিপ্লবী লড়াইয়ের জন্য আকুল।  

ইতিমধ্যে বলশেভিকরা অন্যান্য সংগঠনদের নিজেদের দলে টেনে নিতে শুরু করলেন। ৪ঠা মে, জোট সরকার গঠনের আগের দিন, নির্বাসন থেকে ফিরলেন ট্রটস্কী। তিনি এবং লেনিন এখন একি জমিতে দাঁড়িয়ে দেখে ট্রটস্কী তাঁর সংগঠন, মেঝরায়ন্তসি বা পেত্রোগ্রাদের আন্ত:-জেলা সংগঠনকে লেনিনের দলের সঙ্গে যুক্ত করতে আরম্ভ করলেন।   

এই দ্রুত বিকাশ সত্ত্বেও বলশেভিকরা তখনও সংখ্যালঘু ছিলেন। ৩ রা জুন, শ্রমিক ও সৈনিকদের প্রতিনিধিদের সোভিয়েতদের প্রথম সারা রাশিয়া কংগ্রেস যখন শুরু হল, তখন তাঁরা ছিলেন মোট প্রতিনিধিদের দশ শতাংশেরও কম। জাতীয় স্তরের এই সভাতে ছিলেন ১০৯০ জন প্রতিনিধি, যাদের মধ্যে ৮২২ জনের ভোট দেওয়ার অধিকার ছিল। ছিলেন তিন শতাধিক শ্রমিক, সৈনিক ও কৃষক সোভিয়েতের এবং ৫৩টি আঞ্চলিক, প্রাদেশিক ও জেলা সোভিয়েতের প্রতিনিধি। ১০৫ জন প্রতিনিধি নিয়ে বলশেভিকরা ছিল তৃতীয় বৃহত্তম শক্তি, সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারীদের (২৮৫) এবং মেনশেভিকদের ( ২৪৮ জন প্রতিনিধি) পিছনে।

এই সময়ে পেত্রোগ্রাদে বলশেভিক পার্টির তিনটি স্বতন্ত্র পার্টি নেতৃত্ব ছিল – নয় সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি, সারা রাশিয়া সামরিক কমিটি, এবং পিটার্সবুর্গ কমিটি। প্রত্যেকের নিজস্ব দায়িত্ব ছিল, যার ফলে তাঁরা স্বতন্ত্র, এবং কখনও কখনও পরস্পর-বিরোধী চাপের মুখে পড়তেন। কেন্দ্রীয় কমিটিকে গোটা দেশের কথা মাথায় রাখতে হত। ফলে তাঁরা অনেক সময়ে বেশী জঙ্গী গোষ্ঠীদের রাশ টেনে ধরতে বাধ্য হতেন।

জুলাইয়ের প্রেক্ষাপট

বলশেভিক সামরিক সংগঠন স্থির করে, তারা ১০ই জুন অস্থায়ী সরকা্রের প্রস্তাবিত সামরিক আক্রমণের বিরুদ্ধে, সেনা ছাউনীতে শৃংখলার নামে কেরেনস্কী যেভাবে অফিসারদের কর্তৃত্ব ফেরাতে চাইছে তার বিরুদ্ধে, এবং রণক্ষেত্রে সেনা পাঠানোর হুমকীর বিরুদ্ধে গণ অসন্তোষ জানানোর জন্য প্রকাশ করতে একটি সশস্ত্র মিছিল ডাকবে। শেষ মূহুর্তে সোভিয়েত কংগ্রেসের বিরোধিতার কাছে নতি স্বীকার করে তারা মিছিল রদ করে।

বলশেভিক পার্টির কিছু কিছু সদস্য, বিশেষ করে পিটার্সবুর্গ কমিটিতে এবং সামরিক সংগঠনে, মনে করেছিলেন যে প্রস্তাবিত মিছিলটি হবে সম্ভাব্য সামরিক অভ্যুত্থান। বস্তুত, একটি জরুরী সভাতে লেনিনকে হাজির হতে হয়েছিল, প্রস্তাবিত মিছিলটি রদ করার পক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তের পক্ষে বলার জন্য। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে কেন্দ্রীয় কমিটি বাধ্য হয়েছিল, সোভিয়েত কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ মানতে, এবং বলেন যে প্রতিবিপ্লবীরা ঐ মিছিলকে নিজেদের কাজে লাগাবার চক্রান্ত করেছিল।


 বলশেভিক সামরিক সংগঠন


লেনিন যোগ করেনঃ

সাধারণ যুদ্ধেও এরকম ঘটে, যে রণনীতিগত কারণে পরিকল্পিত আক্রমণ রদ করতে হয়েছে , এবং আমাদের শ্রেণীযুদ্ধে সেটা ঘটার সম্ভাবনা আরো বেশী ... পরিস্থিতি বুঝে সাহসের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

সোভিয়েত কংগ্রেস স্থির করল, এক সপ্তাহ পরে, ১৮ই জুনে, তার নিজের মিছিল হবে। সেনা ছাউনীর সবকটি ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হল, তারা যেন নিরস্ত্রভাবে মিছিলে আসে। বলশেভিকরা চার লাখের বেশীর এই মিছিলকে অস্থায়ী সরকার বিরোধী এক বিশাল বিক্ষোভে রূপান্তরিত করলেন। নিকোলাই সুখানভের প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণে আমরা পড়িঃ (https://archive.org/stream/russianrevolutio011007mbp/russianrevolutio011007mbp_djvu.txt

পিটার্সবুর্গের সমগ্র শ্রমিক ও সৈনিক সমাজ এতে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু এই মিছিলের রাজনৈতিক চরিত্র কী ছিল? “আবার বলশেভিক”, আমি মন্তব্য করি, স্লোগানগুলো দেখে, “আর তাঁর পিছনে আরো একটি বলশেভিক মিছিল” ... “সভিয়েতের হাতে সব ক্ষমতা!” “দশজন পুজিপতি মন্ত্রী নিপাত যাক!’, “কুঁড়ে ঘরের জন্য শান্তি, প্রাসাদের উপরে যুদ্ধ!” এই শক্তিশালী ভাষায় শ্রমিক – কৃষকের পিটার্সবুর্গ, রুশ ও বিশ্ব বিপ্লবের অগ্রণী শক্তি, নিজের মত জানাল।

১০ইয়ের মিছিলে বলশেভিকদের অন্যতম মিত্র ছিল পেত্রোগ্রাদ ফেডারেশন অফ অ্যানার্কো-কমিউনিস্টস। অ্যানার্কিস্ট প্রভিশনাল রেভল্যুশনারী কমিটি তাঁদের মিত্রদের থেকে আরো একধাপ এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাইবর্গ জেল ভেঙ্গে বন্দী বলশেভিক সামরিক সংগঠনের পত্রিকা সম্পাদক খাউস্তভকে বার করে আনে।

এর জবাবে সরকার নৈরাষ্ট্রবাদীদের সদর দপ্তর হানা দেয়, এবং আস্নিন নামে তাঁদের একজন নেতাকে হত্যা করে। একদিকে কেরেনস্কীর জুলাই সামরিক আক্রমণ, আরেকদিকে নতুন অস্ত্র ও ফৌজে নতুন লোক আনার নির্দেশ, এবং তার সঙ্গে আস্নিনের হত্যা, সেনাবাহিনীর মধ্যে, বিশেষ করে প্রথম মেশিন গান রেজিমেন্টে, চাঞ্চল্য বাড়িয়ে তুলল। এই সৈনিকেরা অ্যানার্কো-কমিউনিস্টদের মদতে ১লা জুলাই থেকে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করতে থাকেন।

বলশেভিক সামরিক সংগঠনদের সারা রাশিয়া সম্মেলনে প্রতিনিধিদের সাবধান করা হল, তাঁরা যেন সরকারের ফাঁদে না পড়েন, অসময়ে, অসংগঠিত অভ্যুত্থান না ঘটান। ২০ জুন লেনিনের বক্তৃতায় আগাম এই কথাটাই বলা হয়ঃ

আমাদের বিশেষভাবে নজর রাখতে হবে, সাবধান থাকতে হবে, যাতে আমরা ফাঁদে পা না দিই ... । আমরা একটা ভুল পদক্ষেপ নিলে সর্বনাশ হয়ে যেতে পারে ... । আমরা যদি এখন ক্ষমতা দখল করতেও পারি, আমরা তা ধরে রাখতে পারব মনে করা হবে ছেলেমানুষী।

আমরা একাধিকবার বলেছি যে বিপ্লবী সরকারের একমাত্র সম্ভাব্য রূপ হল শ্রমিক, সৈনিক ও কৃষকদের প্রতিনিধি পরিষদ।

সোভিয়েতে আমাদের ফ্র্যাকশনের নির্দিষ্ট ভর কী? এমন কি দুই রাজধানীর সোভিয়েতেও আমরা নিতান্ত সংখ্যালঘু, অন্যান্য জায়গার কথা তো বলাই বাহুল্য। এই তথ্য কী দেখায়? এটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এটা দেখায় যে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ দোদুল্যমান, কিন্তু এখনও এস আর এবং মেনশেভিকদের উপর আস্থা রাখছেন।

প্রাভদায় একটি সম্পাদকীয়তে লেনিন এই ধারণাতে ফিরে এলেন।

সেনাবাহিনী কুচকাওয়াজ করে মরতে গেল, কারণ তারা বিশ্বাস করেছিল, তারা স্বাধীনতা, বিপ্লব এবং দ্রুত শান্তির জন্য ত্যাগ স্বীকার করছে।

কিন্তু সেনাবাহিনী সেই কাজ করেছে কারণ তারা জনগণেরই একটি অংশ, যারা বিপ্লবের বর্তমান স্তরে সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারী এবং মেনশেভিক দলদের অনুসরণ করছে। এই সাধারণ ও মৌলিক সত্য, যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেনশেভিক এবং সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারীদের পেটি বুর্জোয়া নীতিতে আস্থা রাখছেন, যে নীতি ধনিকদের উপর নির্ভরশীল, আমাদের পার্টির অবস্থান ও আচরণকে নির্ধারণ করছে।

কিন্তু, ট্রটস্কীর কথায় (https://www.marxists.org/archive/trotsky/1930/hrr/ch24.htm ) শ্রমিক ও সৈনিকদেরঃ

মনে ছিল যে ফেব্রুয়ারীতে তাঁদের নেতারা বিজয়ের পূর্বাহ্নে পিছু হঠতে প্রস্তুত ছিলেন; যে মার্চে আট ঘন্টার শ্রম দিবস আদায় হয়েছিল নিচের তলা থেকে লড়াই করে; যে এপ্রিলে মিলিউকভকে রেজিমেন্টরা নিজস্ব উদ্যোগে রাস্তায় নেমে ছুঁড়ে ফেলেছিল। এই তথ্যগুলি স্মরণে আসায় জনতার উত্তেজিত এবং অস্থির মানসিকতা তীব্রতর হয়েছিল।

পেত্রোগ্রাদের সামরিক সংগঠনের নিচের দিকের নেতারা অস্থায়ী সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার মতের মোটামুটি সমর্থক ছিলেন, এবং বহু সাধারণ বলশেভিক দ্রুত অভ্যুত্থানকে অনিবার্য এবং কাম্য বলেই মনে করছিলেন।

কিন্তু ঠিক যখন কেরেনস্কীর আক্রমণ ধ্বসে পড়ার মুখে, তখনই সরকার আবার এক সংকটে পড়ল। ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় রাডার সঙ্গে কেরেনস্কির রফার প্রতিবাদে চারজন ক্যাডেট মন্ত্রী জোট সরকার ছেড়ে গেলেন। এই আচমকা পদক্ষেপের ফলে সরকারে এখন থাকল ছ’জন সমাজতন্ত্রী ও কেবল পাঁচজন বুর্জোয়া মন্ত্রী, এবং সরকার অসংগঠিত ও বিপন্ন হয়ে পড়ল। জুলাইয়ের দিনগুলি যখন শুরু হয়, ঠিক তখনই পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের শ্রমিক শাখাতে বলশেভিকরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেন, যা প্রমাণ করল, জনগণের মধ্যে তাঁদের প্রভাব বাড়ছিল।


জুলাইয়ের দিন নামে পরিচিত ঘটনাবলীর সূচনা হয় ৩রা জুলাই, যখন প্রথম মেশিন গান রেজিমেন্ট, অন্য কিছু সামরিক ইউনিটের সমর্থনে বিদ্রোহ শুরু করে। এই বিদ্রোহ শুরু হয় বলশেভিকদের দ্বিতীয় পেত্রোগ্রাদ নগর সম্মেলন চলছে এমন সময়ে (এই সম্মেলন শুরু হয় ১ জুলাই)।

যখন স্পষ্ট বোঝা গেল যে বেশ কয়েকটি রেজিমেন্ট পথে নেমেছে, তাঁদের সমর্থন করছে ব্যাপক শ্রমিক, এবং সাধারণ বলশেভিকরাও অংশ নিয়েছেন, তখনই  কেন্দ্রীয় কমিটি লড়াইয়ের অংশীদার হল, এবং পরামর্শ দিল যে পরদিন মিছিল সংগঠিত হোক বলশেভিকদের পতাকায়। যদিও কেন্দ্রীয় কমিটি বুঝেছিল যে প্রতিবাদীরা অস্ত্র নিয়ে বেরোবেন, কেন্দ্রীয় কমিটির পরামর্শে সশস্ত্র অভ্যুত্থান বা সরকারী প্রতিষ্ঠানদের দখলের কোনো কথা বলা হল না। বরং পার্টির প্রস্তাবে শ্রমিক, সৈনিক ও কৃষকদের সোভিয়েতের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বলশেভিক আহবানেরই পুনরাবৃত্তি করা হল। এইভাবে বলশেভিক সামরিক সংগঠন একটি আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করল, যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে। এই অপ্রত্যাশিত বিস্ফোরণ পার্টিকে বিশৃংখলায় ঠেলে দিল। যারা কেন্দ্রীয় কমিটির কথা মেনে বিপ্লবকে পিছিয়ে দেওয়ার কথা বললেন, দেখা গেল তাঁদের সঙ্গে অন্যদের দ্বন্দ্ব হচ্ছে, বিশেষ করে সামরিক সংগঠনের এবং পিটার্সবুর্গ কমিটির সদস্যদের।

একটি বিপ্লবী দলের অবশ্যই বিপ্লবের সময়ে অসাধারণ বৃদ্ধি হয়। আমরা দেখেছি, পেত্রোগ্রাদে পাঁচ মাসের কম সময়ে বলশেভিক পার্টি বেড়েছিল ১৬০০ শতাংশ।  এই ঘটনা পার্টিকে অভূতপূর্ব চাপের মুখে ফেলেছিল। সেটা পার্টির বিভিন্ন সংগঠনে বিভিন্ন মাত্রায় দেখা দিয়েছিল, এবং সংগঠনকে ছিঁড়ে ফেলার বিপদ দেখা দিয়েছিল। কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা এটা ঠেকাতে পারে না। বিপ্লবী ঘটনাবলী কীভাবে এগোবে, তা নির্ভর করে অনেক রকম পরিস্থিতির উপর, যার মধ্যে একটি হল পার্টি নেতৃত্ব কতটা আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। এই কারণেই দল গড়ার কাজটা বিপ্লবের আঁচ লাগার পরও শুরু করা যায় না, যেটা প্রমাণ করেছিল জার্মান বিপ্লব।

৩রা জুলাই সশস্ত্র বিক্ষোভকারীরা কেরেনস্কীকে গ্রেপ্তার করার ব্যর্থ চেষ্টার পর টাউরিডে প্রাসাদের দিকে এগিয়ে গেলেন। এই প্রাসাদে ছিল সোভিয়েত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির আসন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, এই সংস্থাকে বাধ্য করা, যেন তারা অস্থায়ী সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেয়।

আনুমানিক ষাট থেকে সত্তর হাজারের এই জনতা প্রাসাদের প্রতিরক্ষা হঠিয়ে দিয়ে নিজেদের দাবী পেশ করেন। কার্যনির্বাহী কমিটি তা প্রত্যাখ্যান করল। ট্রটস্কী ঐ মূহুর্তের বিদ্রূপাত্মক চেহারাটা তুলে ধরে মন্তব্য করেছেন, যখন লাখ লাখ প্রতিবাদী চাইছিলেন যেন সোভিয়েত নেতারা ক্ষমতা হাতে তুলে নেন, তখন নেতারা এই বিক্ষোভ মিছিলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায় এমন সামরিক শক্তি খুঁজছিলেন।

ফেব্রুয়ারী বিপ্লবের পর শ্রমিক ও সৈনিকরা মেনশেভিক ও সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারীদের ক্ষমতা দিয়েছিলেন, কিন্তু এই দলগুলি চেষ্টা করল সাম্রাজ্যবাদী বুর্জোয়াদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে, নিজেদের হাতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের চেয়ে জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে কাম্য মনে করে।  যখন জুলাইয়ের বিক্ষোভকারীরা বুঝলেন যে সোভিয়েতের  নেতারা তদের পুঁজিবাদী মিত্রদের ছাড়বেন না – যদিও তাঁদের অনেকে সরকার ছেড়ে দিয়েছিল – তখন পরিস্থিতি একটা বদ্ধ জায়গাতে আটকে পড়ল।

“কুত্তার বাচ্চা, যখন তোমাদের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে সেটা নিয়ে নাও!"

পরের দিন লেনিন ফিরে এলেন ফিনল্যান্ড থেকে, এবং তিনি সোজা চলে গেলেন ক্সেসিন্সকায়ার প্রাসাদে বলশেভিকদের সদর দপ্তরে। অল্প পরে, ক্রোনস্টাডের নৌঘাঁটি থেকে নাবিকরাও সেখানে উপস্থিত হলেন। অক্টোবর বিপ্লব পর্যন্ত লেনিনের এই ছিল শেষ প্রকাশ্য বক্তৃতা, এবং তিনি যা বললেন সেটা নাবিকদের কাছে প্রত্যাশিত ছিল না। তিনি শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর জোর দিলেন এবং নিশ্চয়তা প্রকাশ করলেন যে “সোভিয়েতদের হাতে সব ক্ষমতা” স্লোগান জয়যুক্ত হবেই। তিনি বক্তৃতা শেষ করলেন নাবিকদের আত্মসংযম দেখাতে, দৃঢ়তা দেখাতে, এবং সজাগ থাকতে আহবান করে।

জুলাইয়ের দিনগুলি বলশেভিক কেন্দ্রীয় কমিটিকে, এবং লেনিনকে, এক ভিন্ন আলোকে দেখালো। তাঁরা রাজধানীতে একটি অকালীন অভ্যুত্থানঠেকালেন। যদি সেটা ঘটে যেত, তাহলে বলশ্রেভিকরা নিঃসঙ্গ হতে পারতেন, এবং বিপ্লবকে গুঁড়িয়ে দেওয়া যেতে পারত, যেমন হয়েছিল পারী কমিউনে ১৮৭১ সালে এবং বার্লিনের স্পার্টাকাস অভ্যুত্থানে ১৯১৯ সালে।   

সেদিনও আনুমানিক ষাট হাজারের একটি মিছিল টাউরিডে প্রাসাদের দিকে রওনা হয়, কিন্তু তাঁদের দিকে গুলি চালানো হয় নেভস্কি এবং লিটেইনি স্ট্রীটের মোড়ে, এবং আবার লিটেইনি ও প্যান্টেলেমোনোভ স্ট্রীটের মোড়ে। তবে সবচেয়ে বেশী হতাহত হয় দুটি কসাক স্কোয়াড্রনের সঙ্গে সংঘর্ষে। তারা বিক্ষভকারীদের বিরুদ্ধে এমনকি গোলন্দাজদের ব্যবহার করে। রাস্তার উপরে এইমসরাসরি যুদ্ধের পর ক্রোনস্টাডের নাবিকরা ফিওদোর রাসকোলনিকভের নেতৃত্বে টাউরিডে প্রাসাদে পৌঁছে প্রথম মেশিন গান রেজিমেন্টের সঙ্গে যোগ দিলেন। 

তারপর ঘটে সেদিনের অন্যতম নাটকীয় ঘটনা, যা ছিল একাধারে ট্রাজিক ও হাস্যকর। সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারীদের তাত্ত্বিক বলে পরিচিত নেতা ভিক্তর চের্নভকে পাঠানো হল প্রতিবাদীদের ঠান্ডা করতে। জনতা তাঁকে বন্দী করে, এবং একজন শ্রমিক ঘুষি পাকিয়ে তাঁকে বলে, “কুত্তার বাচ্চা, যখন তোমাদের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে সেটা নিয়ে নাও!"

চের্নভকে গ্রেপ্তার করার ঘোষণা করে তাঁকে কাছে একটি গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হল। ট্রটস্কির হস্তক্ষেপে মন্ত্রী বেচে গেলেন। সুখানভ সেই দৃশ্যের বিবরণ দিয়েছেনঃ

যতদূর দেখা যাচ্ছিল, জনতা ছিল উত্তেজিত ... গোটা ক্রোনস্টাড ট্রটস্কীকে চিনত, এবং মনে করা যায়, বিশ্বাস করত। কিন্তু তিনি বলতে শুরু করলেও জনতা ঠান্ডা হল না। যদি সেই মূহুর্তে উস্কানীমূলকভাবে কেউ একটা গুলি চালাত, তাহলে এক ভয়ানক হত্যাকান্ড ঘটে যেত, এবং আমাদের সকলকে, হয়তো ট্রটস্কীকেও, ছিড়ে ফেলা হত। ট্রটস্কী এত উত্তেজিত ছিলেন যে এই হিংস্র আবহাওয়াতে ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তিনি অতি কষ্টে একেবারে সামনের সারির লোকেদের তাঁর কথা শোনাতে পারছিলেন... । তিনি যখন চের্নভের কাছে যেতে চেষ্টা করেন, গাড়ির কাছের সৈন্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে। ট্রটস্কী বলেনঃ “আপনারা এসেছেন আপনাদের মত জানাতে, এবং সোভিয়েতকে দেখাতে যে শ্রমিক শ্রেণী আর বুর্জোয়া শ্রেণীকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না । কিন্তু আপনারা কেন নগণ্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক কাজের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষতি করবেন? ... আপনারা প্রত্যেকে বিপ্লবের প্রতি তাঁর আনুগত্য দেখিয়েছেন। আপনারা প্রত্যেকে বিপ্লবের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত। আমি সে কথা জানি। আপনার হাতটা দিন, কমরেড। ভাই, আপনার হাত দিন!” ট্রটস্কী হাত বাড়িয়ে দিলেন বিশেষভাবে হিংস্রতা দেখিয়ে প্রতিবাদ করছিল এমন এক নাবিকের দিকে। ... আমার মনে হল যে ঐ নাবিক, যে নিশ্চয়ই ক্রোনস্টাডে ট্রটস্কীকে একাধিকবার শুনেছে, তার এখন মনে হচ্ছিল যে ট্রটস্কী বেইমান হয়ে গেছে; তাঁর মনে পড়ছিল পুরোনো বক্তৃতাগুলি, এবং তাঁর সব গুলিয়ে যাচ্ছিল...। কী করতে হবে বুঝতে না পেরে ক্রোনস্টাদের নাবিকরা চের্নভকে ছেড়ে দিল।

পেত্রোগ্রাদ, ৪ জুলাই ১৯১৭। সৈন্যরা গুলি চালানো শুরু করলে নেভস্কি প্রসপেক্টে বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ জায়গা খুঁজছেন।

চের্নভ টাউরিডে প্রাসাদে ফিরে গেলেন এবং বলশেভিকদের নিন্দা করে আটটা সম্পাদকীয় লিখলেন। সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারীদের পত্রিকা দিয়েলো নারোদা শেষ অবধি তাঁর চারটি প্রকাশ করেছিল।

কিন্তু অস্থায়ী সরকার সার্বিকভাবে এর চেয়ে অনেক জঘন্যভাবে বদলা নিল -- পরদিন, তারা এক মিথ্যা প্রচার শুরু করল, যে লেনিন (যিনি বন্ধ ট্রেনে করে জার্মানীর মধ্য দিয়ে রাশিয়াতে এসেছিলেন) জার্মান সেনাপতিদের চর।

প্রতিক্রিয়ার সাময়িক বিজয়

৫ই জুলাই সোভিয়েত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি এবং পেত্রোগ্রাদ সামরিক জেলা কর্তৃপক্ষ শহর দখল নিতে সামরিক অভিযান শুরু করল। সরকারের অনুগত ফৌজ ক্সেসিন্সকায়ার প্রাসাদ দখল করে এবং প্রাভদার ছাপাখানা ভেঙ্গে দেয়। লেনিন কোনোক্রমে পালিয়ে যেতে পারেন। তিনি ধরা পড়লে তাঁর পরিণতি স্পার্টাকাস অভ্যুত্থানের পরে রোজা লুক্সেমবুর্গ ও কার্ল লিবকনেশটের মত হত কি না তা নিয়ে ভেবে হয়তো লাভ নেই। কিন্তু দুদিন পরে পেত্রগ্রাদস্কায়া গাজেতা নামে দক্ষিণপন্থী সংবাদপত্রে এই ছবিটা ছাপা হয়েছিল। এ থেকে একটা সূত্র বেরোতে পারেঃ

লেনিন একটা উঁচু পদ চায়?... বটে? তার জন্য একটা পদ তৈরী আছে

সরকারের অনুগত সৈন্যরা পিটার ও পল দূর্গ দখল করল, যেটা বলশেভিক সামরিক সংগঠনের কথা অনুযায়ী প্রথম মেশিন গান রেজিমেন্ট তাঁদের কাছে সমর্পন করল। পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি পার্টির অনুগামীদের কাছে নির্দেশ পাঠাল, তাঁরা যেন পথে মিছিল করা বন্ধ করেন; শ্রমিকদের কাজে ফিরে যেতে এবং সৈনিকদের ছাউনীতে ফিরতে আহবান করা হল।

ইতিমধ্যে সরকার নির্দেশ দিল যে লেনিন, কামেনেভ ও গ্রিগরী জিনোভিয়েভ সহ নেতৃস্থানীয় বলশেভিকদের এবং ট্রটস্কী এবং আনাতোলি লুনাচারস্কি সহ আন্তঃ জেলা সংগঠনের নেতাদের যেন গ্রেপ্তার করা হয়। ট্রটস্কী সহ এই রাজবন্দীদের কয়েকজন, কর্নিলভের অভ্যুত্থানের সময়ে শ্রমিকদের প্রতিরোধ গড়তে জেল থেকে বেরোন, কিন্তু অন্যরা অক্টোবর বিপ্লব পর্যন্ত জেলেই থাকেন।

এইভাবে শেষ হল জুলাইয়ের দিনগুলি -- লেনিনের ভাষায় “মিছিলের চেয়ে অনেকটা বেশী আর বিপ্লবের চেয়ে কম”। বলশেভিক পার্টির কিছু নেতাকে আত্মগোপন করতে হয়। পার্টির সংবাদপত্রগুলি বন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু এই পিছু হঠা ছিল সাময়িক। দক্ষিণপশ্চিম ফ্রন্টে একাদশ আর্মির আক্রমণ ব্যর্থ হল, জার্মান এবং অস্ট্রিয় ফৌজ বিপুল প্রত্যাক্রমণ করল, আর সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকল। ফলে বলশেভিকদের স্লোগান যে ন্যায্য, তা আবার বোঝা গেল।

বলশেভিক পত্রিকারা শীঘ্রই সামান্য নাম পরিবর্তন করে প্রকাশিত হল। পার্টি কমিটিরা নতুন করে পায়ের তলায় জমি খুঁজে পেল। আর বিদ্রোহী সামরিক বাহিনীগুলির অস্ত্র কেড়ে নেওয়া, যেমন চেয়েছিল সরকার, তা হুকুম দেওয়া যত সহজ ছিল, বাস্তবে করা অত সহজ ছিল না। অগাস্ট ১৯১৭তে কর্ণিলভের ষড়যন্ত্র পরাস্ত হলে চাকা আবার ঘুরে গেল। বলশেভিকদের ক্ষমতা দখলের সফল প্রয়াসের পূর্বশর্ত তৈরী হল।



 অনুবাদঃ কুণাল চট্টোপাধ্যায়



Anticapitalistas statement on the situation in Catalonia.


Monday 30 October 2017, by Anticapitalistas


This statement was issued by Anticapitalistas, section of the Fourth International in the Spanish state, on 29 October 2017.

1- On 27 October, following the mandate of the referendum of 1 October in which more than 2 million people participated despite police repression, the Catalan Parliament proclaimed the Catalan Republic. In a Spain with a monarchy that is a direct successor of the dictator Franco, a Republic that opens up a constituent process is undoubtedly a proposal that breaks with the 1978 regime, with its political consensuses and with a constitutional order at the service of the elites. This proclamation tok place in a context of constant threats to apply Article 155 and give an authoritarian resolution to a conflict that has to have an eminently political and democratic solution. In fact, in recent days it had started to threaten the application of 155 whatever happened. We call to reject the application of article 155 and to the democratic, peaceful and disobedient defence of the will of the Catalan people and their right to decide.

2- It is important, in these times of exacerbation of patriotic passions, to correctly identify those responsible for what has happened. The Partido Popular, spurred on by Ciudadanos, with the support of the PSOE and the pressure of state apparatus, had decided to apply article 155 of the Constitution. The goal of this measure was to prevent a dialogue between Catalonia and the rest of the State, criminalizing the Catalan people, refusing to open the solution of a negotiated referendum and justifying the use of force to solve a political problem. An irresponsible measure, which seeks to reorganize the unity of the state based on authoritarian relations.

3- We are aware that many unknowns and uncertainties are open. To drug the people with easy slogans is characteristic of a conception of politics that shies away from democratic debate and which considers itself the protagonist of a story that actually the common people are leading. The new Catalan Republic faces internal challenges that it cannot ignore, in a country where a significant section of the population does not feel represented by independence. The first challenge of the process is to work to heal this division, integrating the non-pro-independence popular sectors into their country’s project, avoiding social divisions that only benefit the reactionary forces, while organizing a movement capable of resisting repression of the State. The constituent process must be used to go in that direction, integrating demands of the popular classes that go beyond the national question, putting social issues in the centre and radically democratizing Catalonia.

4- In the Spanish State, we are living through a complex wave of reaction. Many people, including people of the left, feel hurt and torn by what is happening in Catalonia. While it is true that much of this feeling is channeled through a Catalanphobic reaction, heir to the worst sentiments of the Franco regime, and into the violent expression of the extreme right in the streets, there is a large section of the population that is honestly worried by what is happening in Catalonia and is putting its trust in dialogue and negotiation, on the return of politics.

From our point of view, what is fundamentally at stake is the ability of people to decide their future. If the Catalan people suffer defeat and are crushed by the PP and its allies, when a territory, a town council, a community, or a social sector decides to decide freely on any matter, it will be crushed with the same logic with which today the PP and the state seek to crush Catalonia. This is the central issue, which goes beyond the national issue and puts the question of popular sovereignty at the centre: it is the people who have the right to decide, that is the basis of democracy, and the law must be at the service of democracy and not vice versa.

On the other hand, there are other solutions and forms of relationship between peoples that surpass those traditionally imposed in the Spanish State. The strategy of opening constituent processes has as a central idea that the working and popular classes, women, migrants, all the people who do not have the political and economic power but who are the indispensable ones elaborate a project of society. But it can also be a method of solving the historical problems of the Spanish State at the national level, a way of re-organizing the relations between the peoples in equality, where starting from respect for the right to decide and its results, builds bridges of union that the current imposed and authoritarian relationship of the central state breaks up; building forms of cooperation and dialogue among the people below to build an alternative society to that of political and economic elites. An opportunity to build a new framework of living together that allows us to aspire not only to win back but also to conquer new social and democratic rights for the popular classes.

5. We know that ours is a difficult position in a context like this. That is why it seems to us fundamental to debate, to dialogue between different democratic positions, but also to oppose the authoritarian intervention that the State plans with the excuse (it could have been any other) of the Catalan question. Defending the Catalan people who will suffer the brutal application of 155 is not only to defend the independentistas, but also to be with that 80% of the population in Catalonia that has been demanding a referendum and a democratic answer to their demands and the other 20% who will lose their self-government. It is to defend the possibility of a democratic exit from the impositions of the State. It is time to (re) start the patient construction of a project that goes beyond the 1978 regime, that is capable of building brotherly and sisterly relations between the different peoples of the Spanish State. The elites have proved incapable of solving the problems of the Spanish State; today more than ever, it is urgent to recover the leading role in politics for those from below.

On the Anticapitalistas site.

১৯১৭: বিপ্লবের মেয়েরা

১৯১৭: বিপ্লবের মেয়েরা

-মেগান ট্রুডেল

নারীরা শুধুমাত্র রুশ বিপ্লবের স্ফূলিঙ্গ ছিলেন না বরং বিপ্লবকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যান ছিলেন

২৩ ফেব্রুয়ারী, ১৯১৭, আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারী দিবসের পরও নেভস্কি প্রসপেক্টে মিছিল করে মেয়েরা রেশন বৃদ্ধির দাবী করছেন।সেন্ট পিটার্সবুর্গএর কিনো-ফোটো-ফোনো দলিল কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রীয় আর্কাইভের সৌজন্যে

১৯১৭ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবসে পেট্রোগ্রাদের ভাইবর্গ জেলার মহিলা বস্ত্র শ্রমিকেরা ধর্মঘট করেন। কারখানার কাজ বন্ধ রেখে শত শত মহিলা কারখানা থেকে কারখানা ঘুরে অন্য শ্রমিকদের ধর্মঘটে যোগ দিতে আহ্বান করছিলেন; ফলে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়েন।

দিনের পর দিন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দিনে ১২-১৩ ঘণ্টা কাজ করেও অত্যন্ত কম মাইনে পেতেন নারী-শ্রমিকেরা। সেইজন্যেই তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন এবং পুরুষ শ্রমিকদের সক্রিয় সমর্থন চাইছিলেন; বিশেষতঃ কারিগরি ও ধাতব কারখানায় শ্রমরত দক্ষ শ্রমিকদের সক্রিয়তা আশা করছিলেন বেশি করে কারণ, তাঁরাই ছিলেন শহরের সবচেয়ে রাজনীতি-সচেতন অংশ। মহিলারা কারখানার দরজায় লাঠি, পাথর ও বরফবল ছুঁড়ে জোর ক’রে কারখানায় ঢুকে পড়তে চেষ্টা করেন। তাঁদের সমস্বর স্লোগান ছিল যাতে যুদ্ধ শেষ হয় এবং নিকটাত্মীয়েরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ঘরে ফেরেন।

তৎকালীন বহু ইতিহাস-বিশেষজ্ঞের মতে যে নারীরা রুটির জন্যে লড়ছিলেন, তাঁরা বহু সময় ধরে প্রাচীন পন্থায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন পুরোপুরি অর্থনৈতিক দাবিতে। তাঁদের সংগ্রামে হৃদয়াবেগ যত ছিল, তাত্ত্বিক ভিত্ত তত ছিল না। তাঁরাই ছিলেন জারের বিরুদ্ধে ঝড়ের পূর্বাভাস কিন্তু অচিরেই তাঁরা বিপ্লবী পুরুষ-শ্রমিকদের ভিড়ে এবং পুরুষশাসিত রাজনৈতিক দলগুলির প্রাধান্যে হারিয়ে গেলেন।

ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের প্রাক্‌-সময় থেকেই যুদ্ধবিরোধী স্লোগানই ছিল প্রতিবাদের মূল নির্যাস। নারীদের ঔদ্ধত্য, একাগ্রতা এবং পদ্ধতি কয়েকটা জিনিস পরিস্কার করে দিয়েছিল যে, তাঁরা নিজেদের সমস্যার শিকড় বুঝেছে, শ্রমিক-ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা বুঝেছে এবং জারের পক্ষ থেকে বিপ্লবের পক্ষে সৈন্যদের টেনে আনার প্রয়োজনীতা উপলব্ধি করেছেন। পরবর্তী কালে ট্রটস্কি লিখেছিলেন-

“শ্রমিক ও সৈন্যদের মধ্যে সম্পর্করক্ষায় নারীদের ভূমিকা অতুলনীয়। যে কোনো কর্ডন ভাঙ্গতে পুরুষদের থেকে বেশি উৎসাহী ছিলেন তাঁরা। রাইফেল ধরতেও বেশি দক্ষ ছিলেন; আর, তাঁদেরই দৃঢ়চেতা স্বর ছিল, ‘বেয়নেট ফেলে দাও। আমাদের সঙ্গে যোগ দাও।’ সৈন্যরা উত্তেজিত হত, লজ্জিত হত, উদ্বিগ্ন দৃষ্টিবিনিময় করত এবং হাত নাড়ত তাঁদের উদ্দেশে। কোনও একজন প্রথমে মন শক্ত ক’রে আগ্রণী জনতার কাঁধের ওপরে বন্দুক রেখেছিল অপরাধবোধ নিয়েই।”

২৩শে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই যে সমস্ত সৈন্য ট্রাম ডিপোর রক্ষী ছিলেন, তাঁরা নারী-শ্রমিক ও আন্দোলনকারীদের কথায় সরকারের বিরুদ্ধে চলে যান সৈন্যদের বিপক্ষ থেকে পক্ষে নিয়ে আসার এই কাজটা শুধুমাত্র যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির বোঝা বেড়ে যাওয়া কিংবা আন্দোলনের ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ প্রভাবের ফলেই সম্ভবপর হয়নি। ১৯১৪ সাল থেকেই পেট্রোগ্রাডের বিদ্রোহী কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন মহিলা বস্ত্র শ্রমিকেরা। ব্যারাকের সৈন্যরা এবং কারখানার মহিলারা যাঁরা একই অঞ্চল থেকে শহরে এসেছিলেন, তাঁরা নিজেদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন, ফলে শ্রমিক ও সৈন্যের ভেদাভেদ ঘুচে গিয়েছিল। আর, নারী শ্রমিকরাও প্রয়োজনের মুহূর্তে সশস্ত্র সাহায্যের পূর্ণ আশ্বাস পেয়েছিলেন।

নারী শ্রমিকরা ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের সামনের সারিতে ছিলেন, যে বিপ্লব জার সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা করেছিল। বহু পুরুষ শ্রমিক ও বিপ্লবীর প্রারম্ভিক সংশয় সত্ত্বেও তাঁরা শুধুমাত্র ‘স্ফূলিঙ্গ’ ছিলেন না, বরং নিঃসন্দেহে আন্দোলনের চালিকাশক্তি ছিলেন!

ফেব্রুয়ারি বিপ্লবকে সাধারণতঃ অভিহিত করা হয় ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ বিদ্রোহ বলে। হয়তো কিয়দংশে তা সত্যি, কারণ, বিপ্লবীদের পরিকল্পনামাফিক এই বিপ্লব নির্মিত বা পরিচালিত হয়নি। কিন্তু, স্বতঃস্ফূর্ততা মানেই যে রাজনীতির অভাব তা ক্ষেত্রে ঘটেনি। যে মেয়েরা পেট্রোগ্রাডের কল-কারখানায় কাজ করতেন এবং তাঁদের বাড়ির দায়িত্ব সামলাতে দীর্ঘক্ষণ খাবারের লাইনে দাঁড়াতেন, তাঁদের অভিজ্ঞতায় ‘খাদ্যের’ অর্থনৈতিক দাবি এবং বিপ্লবের রাজনৈতিক দাবির কোনও ফারাক ছিল না। ক্ষধা এবং দারিদ্র্য থেকে উদ্ভূত বস্তুগত পরিস্থিতি সঠিক দিশাতেই পরিচালিত হয়েছিল- যুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরিচালক রাজনৈতিকদের বিরুদ্ধে। সেই সব দাবি কখনোই পূরণ হত না এক যুগান্তকারী পরিবর্তন ছাড়া।

এছাড়া, বলশেভিক নারীরা বহুবছর অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন অদক্ষ, অসংগঠিত নারী শ্রমিকদের সংগঠিত করতে, তাঁরাই ছিলেন ধর্মঘটের মধ্যমণি। যদিও তাঁদের নিজেদের পার্টির পুরুষদের বক্তব্য ছিল যে, নারীদের সংগঠিত করার অর্থ জারতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রাম থেকে বিচ্যুতি এবং উচ্চশ্রেণির নারীবাদীদের ক্রীড়নক হয়ে শ্রেণি সংগ্রাম থেকে বিযুক্তি।

বিপ্লবী আন্দোলনের বহু পুরুষের ধারণা ছিল যে, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিবাদ মিছিল অপরিণত পদক্ষেপ এবং দক্ষ শ্রমিকরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নারী শ্রমিকদের অপেক্ষা করা উচিত। পার্টির ভেতরে সংখ্যালঘু নারী সদস্যরা ভাইবর্গ জেলায় একটি সমাবেশ করার পক্ষে যুক্তি দেন যেখানে যুদ্ধ ও মূল্যবৃদ্ধি বিষয়ে আলোচনা হবে এবং সক্রিয় নারী সদস্যরা আন্তর্জাতিক নারী দিবসে যুদ্ধবিরোধী প্রদর্শন সমাবেশ করবেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতমা হলেন আনাস্তাসিয়া দেভিয়াৎকিনা যিনি একাধারে বলশেভিক, শ্রমিক; ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের পরে তিনি সৈন্যদের স্ত্রী-দের নিয়ে একটি ইউনিয়ন গঠন করেন।

ফেব্রুয়ারির পর থেকে অক্টোবর বিপ্লবের দিকে যাওয়ার পথে নারী সদস্যরা ক্রমেই অন্তর্হিত হচ্ছিলেন। কয়েকজন মাত্র মহিলা বিপ্লবী টিঁকে ছিলেন যেমন আলেকজান্দ্রা কোলনতাই, নাদেঝদা ক্রুপস্কায়া ও ইনেসসা আরমান্দ; ব্যক্তিগত জীবন, স্ত্রী বা প্রেমিকা হিসেবে ভূমিকার বাইরে মাঝেমাঝেই যাঁদের সক্রিয়তা ও তাত্ত্বিক অবদানের ব্যাপারে পর্যালোচনা হয়।

জারতন্ত্রের অবশেষ থেকে উদ্ভূত প্রশাসনিক ব্যবস্থায় মেয়েরা প্রধানত অনুপস্থিৎ ছিলেন। গ্রামীণ পরিষদগুলিতে, সংবিধান সভার প্রতিনিধি হিসেবে, অথবা সোভিয়েতের প্রতিনিধি হিসেবে, উপস্থিত ছিলেন খুব নগন্য সংখ্যক মেয়ে। কারখানা কমিটির নির্বাচনগুলোও পুরুষ-দমিত ছিল, যারা এমনকি সেই সব কারখানাতেও প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন, যেখানে মহিলা শ্রমিকরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন। এর কারণ দ্বিবিধ, যদিও পরস্পর সম্পর্কিতঃ অভাবের সংসারে মহিলাদেরই মূল দায়িত্ব ছিল পরিবার প্রতিপালনের এবং উচ্চতর সক্রিয় রাজনীতির ক্ষেত্রে তাঁদের আত্মবিশ্বাস, পড়াশুনা সর্বোপরি সময়ের খুবই অভাব ছিল। শতাব্দীর পর শতাব্দী যে শোষণমূলক বাস্তবতার মধ্যে রাশিয়ার শ্রমজীবী নারীদের বেঁচে থাকতে হত, তাঁদের শোষণের যে বস্তুগত বাস্তবতা, সেটার ফলে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল তাঁদের রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার ক্ষমতা, যদিও তাঁদের রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ছিল।

১৯১৭ সালের আগের রাশিয়া ছিল প্রধানত একটি কৃষক সমাজ।  জারের সর্বময় কর্তৃত্বকে কায়েম করা ও  মজবুত করার কারজটা করত চার্চ। সেই কর্তৃত্ব প্রতিফলিত হত পরিবারের মধ্যেও। বিবাহ ও বিবাহ-বিচ্ছেদ ছিল চার্চ ও ধর্ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত; আইনমতে নারীরা হীনতর অবস্থানে ছিল, এবং তাঁদের মনুষ্বেতর প্রাণী এবং সম্পত্তি বলে ভাবা হত। সাধারণ রুশ প্রবাদে এই মতাদর্শের ভাবাবেগই প্রকাশিত হত, যেমন- “মনে হল যেন দু’জন মানুষ দেখলুম। কিন্তু আসলে একজন পুরুষমানুষ আর তার বউ।”

পরিবার ছিল প্রত্যক্ষ পুরুষতান্ত্রিক এবং প্রত্যাশা করা হত যে প্রবল পাশবিক পরিবেশেও মেয়েরা নীরব, নিস্ক্রিয় থাকবে। মনে করা হত তাঁরা নীরবে হাতফেরত হবে পিতার অধীনতা থেকে স্বামীর অধীনতায়, প্রায়শই প্রথাসিদ্ধ হিংসার শিকার হবে। কৃষক ও শ্রমিক নারীরা কর্মক্ষেত্রে প্রবল খাটনি খাটতে বাধ্য হতেন। শাস্তিমূলক কাজ করতে বাধ্য হতেন। গোদের ওপরে বিষফোঁড়ার মতো ছিল সন্তানদের দেখাশোনা করা ও গৃহকর্মের দায়িত্ব, এবং এমন এক যুগে যখন সন্তানের জন্ম দেওয়া ছিল কঠিন ও বিপজ্জনক,  যখন গর্ভনিরোধক ছিল না এবং শিশুমৃত্যুর হার ছিল চড়া।

এতদ্‌সত্ত্বেও ১৯১৭-র বিপ্লবে নারীদের ভূমিকা শূণ্য থেকে পড়ে নি। রাশিয়ায় একটা দ্বান্দ্বিকতা ছিলঃ সংখ্যাগরিষ্ঠ শোষিত জনগণের অবর্ণনীয় দারিদ্র্য ও তাঁদের উপর মুষ্টিমেয়র অত্যাচার থাকলেও ১৯০৫ সালের আগের দশকগুলিতে রাশিয়ার অর্থনীতি ফুলেফেঁপে উঠেছিল। প্রচুর আধুনিক কলকারখানায় উৎপাদিত হচ্ছিল বস্ত্র ও অস্ত্র। রেলপথ দ্রুত বাড়তে থাকা নগরগুলোর মধ্যে যোগাযোগ তৈরী করছিল; আন্তঃরেলপথের বাড়বাড়ন্ত এবং ইউরোপ থেকে আশা প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের ফলে লোহা ও তেল উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিল।

অর্থনীতির এই নাটকীয় পরিবর্তন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে রাশিয়ার সামাজিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য রূপান্তর ঘটিয়েছিলঃ বৃহৎ সংখ্যায় কৃষক নারীরা কারখানার শ্রমিক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। এর একটা কারণ যেমন ছিল ক্রমবর্দ্ধমান দারিদ্র্য তেমনই যান্ত্রিক চাহিদার যুগে কারখানার মালিকদের প্রয়োজন ছিল প্রচুর পরিমাণে অদক্ষ শ্রমিক যারা সমস্ত শর্ত মানতে ‘বাধ্য’ থাকবে। আর, তাই লিনেন, কটন্‌, রেশম, পশম, সেরামিক ও কাগজশিল্প সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকের হার বৃদ্ধি পেয়েছিল।

মেয়েরা ধর্মঘটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ১৮৯৬ সালে বস্ত্রকলে ধর্মঘটে, রুশ-জাপান যুদ্ধ শুরুর আগে বাধ্যতামূলক ভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের প্রতিবাদে, এবং বিশেষ করে ১৯০৫ সালের বিপ্লবে, যখন বস্ত্র, তামাক, মিষ্টি শিল্পের অদক্ষ নারী শ্রমিকরা এবং গৃহ-পরিচারিকা ও ধোপানিরা ধর্মঘট করেছিলেন এবং সার্বিক, ব্যাপক আন্দোলনের অংশ হিসেবে ইউনিয়ন গড়ার চেষ্টা করেছিলেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাব নারী শ্রমিকদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে নির্নায়ক হয়েছিল। যুদ্ধ পরিবারদের ধ্বংস করে, ও নারীদের চরম দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে ফেলেছিল। লাখ লাখ পুরুষ যুদ্ধে গিয়ে হয় আহত হচ্ছিল নয়তো মারা যাচ্ছিল, তার ফলে কৃষিকাজ সামলানো, গৃহস্থকাজ সামলানো এবং শহরের কারখানায় শ্রমিক হয়ে দিনযাপনে বাধ্য হচ্ছিলেন নারীরা। ১৯১৪ সালে নারীশ্রমিক ছিলেন মোট শ্রমিকের ২৬.৬%, যেটা ১৯১৭ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৪৩.৪% তে। এমনকি দক্ষ, সংগঠিত ক্ষেত্রেও এই বৃদ্ধির হার ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯১৪ সালে ধাতব শিল্পে নারী শ্রমিক ছিলেন মাত্র ৩%, যা ১৯১৭ সালে বেড়ে হয়েছিল প্রায় ১৮%!

ফেব্রুয়ারি বিপ্লব পরবর্তী দ্বৈত ক্ষমতার পরিস্থিতিতে নারীদের প্রতিবাদ অন্তর্হিত হয়নি বরং তা প্রকট হয়ে উঠেছিল। এই প্রতিবাদ একটা প্রক্রিয়া অংগ হয়ে পড়ল, যার মাধ্যমে শ্রমিকদের সমর্থন প্রবাহিত হতে থাকে বেশী করে সরকার থেকে সোভিয়েতের পক্ষে, এবং সেপ্টেমবরের মধ্যে সোভিয়েতের অন্দরে  নরমপন্থী সমাজতন্ত্রী মেনশেভিক- সমাজতন্ত্রী বিপ্লবীদের থেকে বলশেভিক বিপ্লবীদের পক্ষে।

নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা আশা করেছিলেন যে, জারতন্ত্রের পতনের পরে তাঁদের শোচনীয় পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে; কিন্তু অচিরেই সে আশায় জল ঢেলে দেয় তৎকালীন সরকার ও সোভিয়েত নেতৃত্ব যখন তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদের মুখে মে মাসের মধ্যেই প্রথম অস্থায়ী সরকারের পতন ঘটল। মেনশেভিক ও সমাজতন্ত্রী বিপ্লবীরা উদারনৈতিকদের সাথে মিলে জোট সরকার গঠন করল- কিন্তু সেটাও যুদ্ধের পক্ষেই ছিল। শ্রমিকদের স্বপ্নভঙ্গের বেদনা পরিণত হল একের পর এক ধর্মঘটে, যেখানে আবার নেতৃত্ব দিলেন নারী শ্রমিকরা। বলশেভিক সোফিয়া গনচারেস্কায়ার নেতৃত্বআধীন একটি ইউনিয়নের উদ্যোগে প্রায় ৪০ হাজার রজক-শ্রমিক ধর্মঘট করেন, বেতনবৃদ্ধি,  দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবি, কর্মক্ষেত্রের আবহ উন্নতি- যেমন, স্বাস্থ্যসম্মত কর্মক্ষেত্র, মাতৃত্বকালীন সুযোগসুবিধা (কারখানার মাটিতে বাচ্চার জন্ম না দেওয়া অবধি গর্ভবতী শ্রমিক নারী অনেক সময়েই গর্ভাবস্থা লুকিয়ে রাখতেন, এটা অস্বাভাবিক ছিল না) এবং যৌনহেনস্থা বন্ধের দাবি। ইতিহাসবিদ্‌ জেন ম্যাকডারমিড এবং অ্যানা হিলিয়ার লিখছেনঃ

ইউনিয়নের অন্যান্য সদস্যাদের সঙ্গে গনচারস্কায়া এক লন্ড্রী থেকে অন্য লন্ড্রীতে গিয়ে মেয়েদের ধর্মঘটে সামিল হতে উদবুদ্ধ করেছিলেন। চুল্লী নেভানোর জন্যে তাঁরা বালতিতে করে ঠাণ্ডা জল ঢালতেন। একটি লন্ড্রীতে মালিক একটি ক্রো-বার নিয়ে মারতে এসেছিলেন গনচারেস্কায়াকে। তখন অন্যান্য শ্রমিকরা পেছন থেকে টেনে ধরে তাঁকে বাঁচান।

অগাস্ট মাসে জেনারেল কর্নিলভ যখন বিপ্লবকে টুঁটি টিপে মারতে চাইছিলেন, তখন পেত্রোগ্রাদ রক্ষায় এগিয়ে এলেন নারী শ্রমিকেরা। তাঁরা ব্যারিকেড তৈরি করে ও প্রাথমিক চিকিৎসা করে সহায়তা করতে লাগলেন। অক্টোবরে, বলশেভিক নারীরা প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি স্থানীয় অঞ্চলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতে লাগলেন। কয়েকজনের দায়িত্ব ছিল পেত্রোগ্রাদের কিছু অঞ্চলে বিদ্রোহ সংগঠিত করা; আর, রেড গার্ডের নারীরাও এই ব্যাপারে সাহায্য করছিলেন। ম্যাকডারমিড ও হিলিয়ার অপর এক বলশেভিক নারীর ব্যাপারে লিখছেনঃ

জুলাইয়ের দিনগুলির পর অস্থায়ী সরকার যখন শ্রমিকদের অস্ত্র কেড়ে নিতে চেষ্টা করেছিল, তখন ট্রাম কন্ডাক্টার রোডিওনোভা নিজের ডিপোতে ৪২টি রাইফেল এবং অন্য অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিলেন। অক্টোবরে তাঁর দায়িত্ব ছিল মেশিন গান ভর্তি দুটো ট্রাম যেন ডিপো থেকে উইন্টার প্যালেস দখলের জন্য ছেড়ে যায়। তাঁকে নিশ্চিত করতে হয়েছিল যেন ২৫ অক্টোবর-২৬ অক্টোবর রাতে ট্রাম চলাচল চালু থাকে, যাতে ক্ষমতা দখলে সহায়তা করা হয়, এবং সারা শহর জুড়ে লাল রক্ষী বাহিনী যারা বিভিন্ন জায়গায় নিয়োজিত, তাঁদের কাজের তদারকী করা।

বিপ্লব যে পথ ধরে এগোতে থাকল, তার ফলে ব্যবধান বাড়ছিল একদিকে শ্রমজীবী মহিলাদের সঙ্গে অন্যদিকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সমর্থক নারীবাদীদের, কারণ শ্রমজীবী মেয়েদের জীবনযন্ত্রণা বেড়েছিল যুদ্ধের জন্য, তাই তাঁদের শান্তির আবেদন চীৎকারে পরিণত হয়েছিল বছরটা যত গড়িয়েছিল। যেসমস্ত উচ্চশ্রেণিভুক্ত নারীবাদীরা আইন ও শিক্ষাক্ষেত্রে সমতাবিধান ও সামাজিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোনরত ছিলেন, তাঁরা ভেবেছিলেন যে যুদ্ধের সপক্ষে নবনিযুক্ত সরকারের তোষামোদী করলেই সেইসব দাবি পূরণ হবে। ভোজসভায় আসনের মূল্য হল দেশপ্রেমের প্রমাণ দেওয়া!


ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের পরে নারীবাদীরা নতুন উদ্যমে সর্বজনীন ভোটাধিকারের আন্দোলন শুরু করলে, তা মান্যতা পায় জুলাই মাসে, যা ছিল এক উল্লেখযোগ্য বিজয় । কিন্তু, অধিকাংশ মেয়েদের জীবনে সামান্যই পার্থক্য আনল, কারণ তাঁদের জীবন তখনও দুরবস্থায় ছিল, দৈনন্দিন ঘাটতি, দীর্ঘক্ষণের পরিশ্রম এবং পরিবারের শ্রমের যাঁতাকলে পড়ে। কোলোনতাই ১৯০৮ সালে লিখেছিলেনঃ

নারীবাদীদের দাবি আপাতভাবে যতই বিপ্লবাত্মক হোক না কেন, তাঁদের শ্রেণিগত অবস্থানের কথা মাথায় রেখে এটাও ভাবা দরকার যে, তাঁরা সমকালীন সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আমূল বদলের জন্যে সংগ্রাম করবেন না, যেটা ব্যতিরেকে নারীদের মুক্তি সম্পূর্ণ হওয়া অসম্ভব।


অধিকাংশ শ্রমিক-কৃষক মহিলার জন্যে শোষণমুক্তি ও সমতাবিধান শুধুমাত্র বিমূর্ত কথার কথা ছিল না বরং তাঁদের নিজেদের ও শিশুদের তথা পরিবারের অবস্থা উন্নতির লড়াইয়ের থেকে বেরিয়ে এসেছিল। যাঁরা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক এবং বেশী দ্বিধাহীন হয়ে উঠলেন, অনেক সময়ে বলশেভিক পার্টির সদস্যা হিসেবে, তাঁরা সেটা হলেন যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের ফলে – যার কেন্দ্রে ছিল ক্ষুধা ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং জমির মালিকানার পক্ষে সংগ্রাম। রবার্ট সার্ভিস বলছেনঃ

বলশেভিকদের রাজনৈতিক কর্মসূচী শ্রমিক, কৃষক ও সৈন্যদের কাছে দারুণ গ্রহণযোগ্য হয়েছিল কারণ, শরতের শেষ দিকে সামাজিক অস্থিরতা এবং আর্থিক সংকট চরমে পৌঁছেছিল। কিন্তু, সেটাই অক্টোবর বিল্পবের জন্যে যথেষ্ট ছিল না।

এটা নারী কৃষক, শ্রমিক এবং সৈনিকদের স্ত্রীরা ততটাই অনুভব করেছিলেন, যতটা করেছিলেন তাঁদের পুরুষ সমগোত্রীয়রা। পেত্রোগ্রাদের অদক্ষ শ্রমিকদের ব্যাপক অংশের সমর্থন ছাড়া, যাদের একটা বড় অংশ মহিলা, তাঁদের জন্যেই অক্টোবর অভ্যুত্থান সফল হত না। বলশেভিকদের প্রতি সমর্থন কোনও অন্ধ অনুসরণ নয় বরং ট্রটস্কির ভাষায়, লক্ষ লক্ষ নারী ও পুরুষ শ্রমিকের “চেতনার সযত্ন ও কষ্টার্জিত বিকাশ”। অক্টোবরের মধ্যে সবরকম প্রচেষ্টাই করা হয়েছিল- অস্থায়ী সরকার ও মেনশেভিকরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, মিছিলের জবাবে এসেছিল হয় দমনপীড়ন না হলে সামান্য অগ্রগতি যা আর তাঁদের উন্নত জীবনের আশাপূরণ করছিল না। সর্বোপরি, কর্নিলভের সামরিক উত্থান ব্যাপারটা পরিস্কার করে দিয়েছিল যে- লক্ষ্যপূরণে এগোও নয়তো ধ্বংস হও! একজন শ্রমিকের কথায়, “বলশেভিকরা সবসময় বলত যে, ‘আমরা নয়, জীবন তোমাদের লক্ষ্যপূরণে উদ্যমী করে তুলবে।’ আর, এখন তাদের কথাই সত্যি হল কারণ জীবন তাঁদের রণকৌশলকে সঠিক বলে প্রমাণ করেছে।”

বলশেভিকরা নারী প্রসঙ্গকে যতটা গুরুত্ব দিয়েছিলেন, সেটা তাঁদের কৃতিত্বের কথা। যদিও, এখনকার দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে নারীরা ভীষণভাবেই কম গুরুত্ব পেত; তবু, তাঁদের সংগঠিত করা ও উন্নতির জন্য গভীরভাবে চেষ্টা করা হয়েছিল। বলশেভিকরা যে অন্যান্য সমাজতন্ত্রী দলগুলোর থেকে নারী শ্রমিকদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার জন্য বেশী কাজ করেছিলেন, সেটা সবসময়ে নারী অধিকারের প্রতি অধিক মাত্রায় অঙ্গীকয়ারের জন্য নয়।

মেনশেভিক ও বলশেভিক দুই পার্টিই মনে করেছিল নারীদের সঙ্গে শ্রমিক শ্রেণীর অঙ্গ  হিসেবে আদানপ্রদান চালাতে। কিন্তু, বলশেভিকরা নারী-পুরুষ সমানাধিকারের লড়াইকে সরকার ও যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের শ্রেণীগত রণনীতির ভিত্তির ওপরে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। অন্যদিকে যেসমস্ত দল যুদ্ধের পক্ষে ছিল ও উচ্চশ্রেণির বা মালিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখত, তারা শুধুমাত্র নারী শ্রমিকদের ধর্মঘটের রিপোর্ট করতে পারত আর রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে আলোচনা চালাত; কিন্তু নারীদের দুঃসহ বাস্তবতার কোনও নিশ্চিত সমাধান ছিল না তাদের কাছে।


বলশেভিকরা দ্রুত মহিলাদের রাজনীতিকরণ ও সঙ্ঘবদ্ধ করার চেষ্টা শুরু করেছিলেন- তাঁরা কিছুটা শিক্ষা পেয়েছিলেন ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের বারুদ থেকে আর কিছুটা পেয়েছিলেন তাঁদের নারী সদস্যাদের জেদের ফলে।


কোলোনতাই, ক্রুপ্সকায়া, আর্মান্দ, কনকর্দিয়া স্যামোইলোভা ও ভেরা স্লুৎস্কায়ার মতো অগ্রণী বলশেভিক নারীরা বহুদিন যাবৎ পার্টিকে বলছিলেন যাতে পার্টি নারীদের সংগঠিত ও রাজনীতিকরণের ব্যাপারে বিশেষ প্রচেষ্টা করে। পুরুষ কমরেডদের যুক্তির বিরুদ্ধে তাঁদের দীর্ঘদিনের লড়াই ছিল এই প্রতিযুক্তিতে যে, অদক্ষ অসংগঠিত নারী শ্রমিকদের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে এবং কোনওমতেই তাঁরা নিষ্ক্রিয়, সংস্কারাচ্ছন্ন ও বিপ্লবের পথে ‘অন্তরায়’ নন! ১৯১৪ সালে প্রথম প্রকাশিত ও ১৯১৭ সালে পুনঃপ্রকাশিত রাবোৎনিৎসা (নারী শ্রমিক) পত্রিকায় বারবার ক্রেশ্‌, নার্সারি ও নারীদের জন্যে সুরক্ষিত কর্মক্ষেত্রের বিষয়ে প্রবন্ধ প্রকাশিত হত। বিশেষ করে গুরুত্ব দেওয়া হত যাতে সমতাবিধান ও ‘নারীদের দাবি’ বিষয়ে সমস্ত শ্রমিক সচেতন হন।


ফেব্রুয়ারিতে নারী শ্রমিকদের ভূমিকা এবং পেত্রোগ্রাদের শ্রমিকদের মধ্যে তাঁদের গুরুত্বের ফলে বলশেভিক পুরুষদের অনেকের মধ্যেও [পুরোনো] দৃষ্টিভঙ্গির বদল ঘটাতে সাহায্য করেছিল, যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, নারী সমস্যার ব্যাপারে বেশি মাথা ঘামানো মানে নারীবাদকে উৎসাহ দেওয়া এবং বিপ্লবের নেতৃত্ব দেবে সবথেকে দক্ষ, সংগঠিত ও রাজনৈতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ অগ্রণী (পুরুষ) শ্রমিকরাই কেবল। বলাবাহুল্য, এই লড়াই ছিল কষ্টকর।  যখন কোলনতাই পার্টিতে স্বতন্ত্র মহিলা শাখার কথা বললেন, তখন তাঁকে একঘরে ক’রে দেওয়া হল। যদিও লেনিনের সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি। লেনিনের এপ্রিল থিসিসও অবশ্য সেই বলশেভিক নেতৃত্ব ভালভাবে মেনে নেয়নি- একইভাবে, কেন্দ্রীয় কমিটিতে কোলনতাই ছিলেন লেনিনের একমাত্র সমর্থক।[1]


পরবর্তী কয়েকমাসে এটা পরিষ্কার হয়ে গেছিল যে, সোভিয়েতরা ক্ষমতা দখল করার দিকে বিপ্লবকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লেনিনীয় তত্ত্ব এবং কোলনতাইয়ের বারংবার নারী শ্রমিকদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের তত্ত্ব- দুইই এসেছিল বিপ্লবের গতি থেকে, এবং বিপ্লবকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারত। রাবোৎনিৎসা-র বাইরে অন্যান্য বলশেভিক পত্রিকাগুলোও এই যুক্তি দিতে লাগল যে, প্রবল লিঙ্গবিদ্বেষী দৃষ্টিভঙ্গি শ্রেনী ঐক্যের ক্ষতি করছে। এরপর পার্টির চেষ্টায় বিভিন্ন কারখানায় মহিলারাও শ্রমিক প্রতিনিধি হলেন পুরুষ শ্রমিকদের চিন্তাভাবনার বিরোধিতা করে, যাঁরা মহিলা শ্রমিকদের বিপদ বলে মনে করতেন। পার্টি তাঁদের যুক্তি দিল যে কেন মহিলা প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করা প্রয়োজন- বিশেষতঃ কারখানায় যেখানে তাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। আর, নারী শ্রমিকদের যেন সহকর্মী, প্রতিনিধি ও কমরেডের মর্যাদা দেওয়া হয়।  


অক্টোবর বিপ্লবের ৬ সপ্তাহের মাথায় ধর্মীয় বিবাহের জায়গায় এলো নাগরিক নিবন্ধীকরণ এবং স্বামী বা স্ত্রী যেকোনও একজনের আবেদনে বিবাহবিচ্ছেদ্দের আইন। এক বছরের মধ্যে আনা পরিবার আইনে এই বিষয়গুলিকে আরো বিস্তারিতভাবে দেখা হল। নারী পুরুষ আইনের চোখে সমানাধিকার পেল। ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি ঘটল, এক আইনে মুছে গেল শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা প্রাতিষ্ঠানিক শোষণ। যেকোনও একজন কারণ প্রদর্শন না করেই বিবাহবিচ্ছেদ দাবি করতে পারত। নারীদের নিজেদের আর্থিক মালিকানা স্বীকৃত হল এবং একজনের অপরজনের সম্পত্তির ওপর অধিকার থাকল না। কোনও মহিলা যদি সন্তানের পিতৃত্বের ব্যাপারে নিশ্চিত না হতেন, তা’লে তাঁর সমস্ত যৌনসঙ্গীকে সেই সন্তানের দায়িত্ব পালন করতে হত। রাশিয়ায় ১৯২০ সালে বিশ্বের প্রথম আবেদনের ভিত্তিতে গর্ভপাত আইনসিদ্ধ হল।


১৯১৭-র বিপ্লব নারীদের দ্বারাই শুরু হয়েছিল এবং দিশা পেয়েছিল; বছরভর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় নারীদের সম্পর্কে বহু প্রাচীন ধ্যানধারণা বদলে গিয়েছিল। নারীরা দুর্বল, তাঁরা পুরুষের সম্পত্তি, তাঁরা নিষ্ক্রিয়, পিছিয়ে পড়া, রক্ষণশীল, তাঁরা স্বনির্ভর নয়, কমজোরি- এইসব বস্তাপচা ধারণা একেবারে মুছে না গেলেও নারীরা সক্রিয়তা ও রাজনৈতিক দক্ষতা দিয়ে এই ধারণাগুলোর বিরুদ্ধতা করেছিলেন।


কিন্তু, রুশ বিপ্লব পুরুষ কর্তৃত্বকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে পারেনি বা নারীদের সর্বাত্মক মুক্তি দিতে পারেনি। রুশ বিপ্লব পরবর্তী গৃহযুদ্ধের বীভৎসতা ও সোভিয়েত সরকারের কিছু বিকৃতি ও বিচ্যুতির জন্যেই তা সম্ভব হয়নি। বৈষম্য রয়েই গেছিল। কিছু মহিলা কর্তৃত্বকারী অবস্থানে পৌঁছেছিলেন, কয়েকজন প্রশাসনিক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং অক্টোবর পরবর্তী প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লিঙ্গবিদ্বেষী মনোভাব পুরো শেষ হয়ে যায়নি।


বিপ্লবের দিনগুলোতে নারীরা হয়তো পুরুষদের মতো অত বেশি সংখ্যায় অংশগ্রহণ করেননি কিংবা উচ্চতর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অতটা তাৎপর্যমূলক অবদান রাখতে পারেননি কিন্তু জীবনের দৈনন্দিন সীমাবদ্ধতাকে জয় ক’রে তাঁরা প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে গেছিলেন এবং বিপ্লবের রূপরেখা গড়তে পেরেছিলেন। ম্যাকডারমিড এবং হিলিয়ার যেমন বলছেনঃ

এটা সত্যি যে, পুরুষ ও নারীর মধ্যে শ্রম বিভাজন থেকে গিয়েছিল। কিন্তু, মেয়েরা পুরুষ প্রাধান্যকে প্রশ্ন করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, একথা মনে না করে আমরা বরং ভাবতে পারি, মেয়েরা তাঁদের পরম্পরাগত ক্ষেত্রের মধ্যে  কীভাবে কৌশল করেছিলেন; এবং সেটা বিপ্লবী প্রক্রিয়ার কাছে কি অর্থ এনেছিল, তা বুঝতে হবে।


নারীরা ১৯১৭-র বিপ্লবে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে ছিলেন, পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়েই ইতিহাস রচনা করেছিলেন। নীরব দর্শকের ভূমিকায় বা নিষ্ক্রিয় অরাজনৈতিক হিসেবে নয়, তাঁদের সাহসী প্রত্যক্ষ ভূমিকা আরও উজ্জ্বল ছিল, কারণ এতদিনের শোষণের প্রতিস্পর্ধী ছিলেন তাঁরা। নারীদের চোখে বিপ্লব পর্যালোচনা করলে তবেই নারীদের জীবনের সবচেয়ে প্রগতিশীল ঐতিহাসিক বিদ্রোহকে অনুধাবন ক’রে সমৃদ্ধ হওয়া যায়।



প্রবুদ্ধ ঘোষ

অনুবাদ সম্পাদনা – কুণাল চট্টোপাধ্যায়



[1] লেখিকা এখানে দুটি সময়ের মধ্যে মিশিয়ে ফেলেছেন। এপ্রিল থিসিস যে সভাতে লেনিন পেশ করেন, সেখানে কোলোনতাই ছিলেন লেনিনের একমাত্র সমর্থক। কিন্তু তিনি বলশেভিক কেন্দ্রীয় কমিটিতে নির্বাচিত অন ষষ্ঠ পার্টি কংগ্রেসে, জুলাই মাসে, যখন তিনি কেরেনস্কীর জেলে। -- সম্পাদক

Introduction to Leon Trotsky, The History of the Russian Revolution, Indian Edition of 2014


Soma Marik and Kunal Chattopadhyay


The Making of a Revolution

The publication of Leon Trotsky’s History of the Russian Revolution in India, for the first time in an Indian edition, is part of the evidence that the fall of Stalinism has not meant a collapse of unfalsified communism, but rather, it has enabled a revival of democratic-revolutionary socialism from below. In the last few years there have appeared a large number of works on Trotsky, as well as editions of many of his writings. The bourgeois biographies by Robert Service, Geoffrey Swain, or Ian Thatcher are clearly aimed at “cutting Trotsky down to size,” at proving that he was nothing but a failed Stalin, conceited, unpleasant, more wrong than right—even a paragon of murder and authoritarianism. From such a perspective, the History of the Russian Revolution too could be seen as nothing more than a self-serving work, since Trotsky, the author, can be seen here restoring the role actually performed by Trotsky, the politician. The fact that Service, Swain and Thatcher all make distorted claims, false assertions, and present information that is often plainly wrong, is known more to specialists than to the general reader.[1] Yet the very fact that major publishers are willing to publish so many books on Trotsky and that supposedly serious scholars are willing to spend time writing garbled narratives is evidence that Trotsky and his Marxism remain important for the present.

In the life as well as the writing achievements of Trotsky, the Russian Revolution occupies pride of place. Like Thucydides, he produced a work, which has defined the subject matter that he chose to write on. Like Thucydides, he was a participant, who could be severely objective, but unlike Thucydides, he did not try to hide his partisan stance. But his greatest similarity with Thucydides was that all subsequent overall accounts of the Russian revolution, to be considered serious studies and not tendentious works that either produced hagiographies of Lenin, Stalin and the absolutely wise and perfect Bolsheviks, or equally tendentious works that sought to ignore reality in a bid to present the Revolution of 1917 as a conspiracy of a handful against the alleged democracy of the Provisional Government, had to be measured against his work.[2]

What makes Trotsky’s book so remarkable is a combination of absolute commitment to working class struggle for emancipation (a political project) with a very serious attempt at factual accuracy and objectivity. The commitment – not to party but to class led by party and party created and enriched by the experiences of the class – comes out consistently, but perhaps nowhere better than in the argument that:

“The history of a revolution is for us first of all the forcible entrance of the masses into the realm of their own destiny.… The masses go into a revolution not with a prepared plan of social reconstruction, but with a sharp feeling that they cannot endure the old regime. Only the guiding layers of a class have a political program, and even this still requires the test of events, and the approval of the masses. The fundamental political process thus consists in the gradual comprehension by a class of the problems arising from the social crisis—the active orientation of the masses by a method of successive approximations”.[3]

As a good Marxist, Trotsky was committed to scientific history writing. For him, however, historical objectivity did not involve a claim to stand away from the battle, or a claim that the historian should stand on the wall observing both sides. He saw such a claim as a spurious objectivity that actually aided the reactionary forces.

“The serious and critical reader will not want a treacherous impartiality, which offers him a cup of conciliation with a well-settled poison of reactionary hate at the bottom, but a scientific conscientiousness, which for its sympathies and antipathies – open and undisguised – seeks support in an honest study of the facts, a determination of their real connections, an exposure of the causal laws of their movement. That is the only possible historic objectivism, and moreover it is amply sufficient, for it is verified and attested not by the good intentions of the historian, for which only he himself can vouch, but the natural laws revealed by him of the historic process itself”.[4]

To take a contemporary study, that of Orlando Figes, by no means the most extreme reactionary one (such an epithet should be left for Richard Pipes), the central effort is to make a case that even without the Bolshevik or October revolution, the progressive development of Russia was not ruled out. Figes admits that Tsarist Russia was extremely backward. For example, "The death rate in this city of the Tsars (St. Petersburg) was the highest of any European capital, including Constantinople, with a cholera epidemic on average once in every three years".[5] Figes argues that perhaps timely land reforms and certain concessions by the Tsarist state could have staved off the revolution, which was ultimately orchestrated as a coup d’etat by Lenin and a minority. Trotsky’s analysis is useful in reminding us that concessions, reforms, are finally based on class and other social interests, but also that states, as the power-holding entities, can get detached from the class/es they represent. The demand for some sort of concession was widespread even among the upper layers – reform minded nobles, big bourgeoisie, and their intellectual allies. But the ‘Court Camarilla’, as the term Trotsky uses, shut its ears and eyes. But more important was the social pressure from below. Figes or other bourgeois historians reject the conclusions that the empirical data presented by them indicate. Miliukov, the leader of the Constitutional Democratic (Cadet) Party, and Russia’s most important liberal leader of 1917, urged in 1915 that there should be reforms since Russia was treading a volcano. This was nothing but an unvarnished truth, since peasants were groaning under not only tax and other economic burdens caused by Tsarist policies and capitalist development in a backward economy, but also by the terrible pressure of war. The politically conscious sections of the working class, as Leopold Haimson showed in a seminal article, was turning against not only the upper classes but also against the intellectuals of the moderate left in the years immediately before the War.[6] To turn one’s back on all this and to see in the revolution essentially a conspiracy, is to reject the historian’s craft. Trotsky, by contrast, refuses to see either the wickedly conspiratorial or the absolutely wise party as the cause of the revolution. Instead, he stresses that revolution breaks out when all the antagonisms of a society have reached their highest tension.

A revolution occurs only when certain basic conditions are met. Marxists have denied that revolutions can be simply willed into existence if there is a correct leadership. There must first of all be a split within the ruling class. As long as a ruling class is united, it is able to tackle problems better. Every major revolution such as the English Revolution of 1640-49, the French Revolution, all developed when the elite was in conflict. Figes recognises this for the pre-February situation. But he fails to see that such conflicts persisted. As Rosenberg’s study showed, there was a conflict within the liberal forces, and the rightwing liberals led by Miliukov were dominant.[7] The idea that there existed a democratic alternative, which was demolished through a coup d’etat, has to be shown by a concrete study of events, rather than wishful thinking. As the events showed, attempts at forging a liberal-moderate left alliance failed, and not just because of poor leadership.

A second, equally important, or even more important, factor in bringing about a revolution is the refusal of the toiling masses to go on being ruled in the old way. The preparedness of the working class to go the whole way is vital. And if we look at a key detail, strike statistics during the War, it is evident that the February General Strike and the growth of soviets did not fall from the sky. A widespread strike developed in January 1916 in St Petersburg on the anniversary of ‘Bloody Sunday’ when workers were massacred in the 1905 revolution during a peaceful agitation in the form of humble petition to the Tsar. The number of strikes doubled during the following year, going from economic strikes to political strikes, from partial and sectional struggles to the idea of a general strike. The intermediary layers, particularly in the countryside, were in ferment, a process enormously speeded up by the deepened economic crisis and brutalities unleashed by the First World War.

For Figes, however, these were not the real reasons why the working class turned to revolution. As noted earlier, Figes does not deny the masses all roles. However, that they supported the Bolsheviks, according to him, is because lacking any alternative political ideology, they embraced this “dogmatism”. So the working class did not accept key Marxist ideas because these had greater explanatory power concerning their lived experiences, nor because Marxism suggested a way out, but because they were simpletons and saw things in black and white. If only they had passed through the kind of schooling provided by Professor Figes, it would all have been so different. This is much like the official histories that used to be churned out from the USSR, arguing that the correct line of the party was the key to the revolution. What Trotsky’s work argues, and what subsequent serious studies, such as Victoria Bonnell’s Roots of Rebellion (for the period between the revolution of 1905 and the war), or the slew of works on social history during 1917, by David Mandel, Dianne Koenker, or others suggest, is that the working class was not putty in anyone’s hands.[8] Paul Le Blanc’s work on Lenin and the Revolutionary Party, or Soma Marik’s Reinterrogating the Classical Marxist Discourses of Revolutionary Democracy [9], bring together these studies to show that the making of the revolutionary party was a long process, which cannot be explained as the expansion of some original scheme out of one book by Lenin.

The massive The History of the Russian Revolution was written in a relatively brief period, about a year, while Trotsky was in exile in Prinkipo, an island off the coast of Turkey. From 1923, Trotsky had been fighting openly against the rise of a bureaucratic stratum that was taking away all power in the USSR. This had resulted in his ouster from the party and the Communist International, internal exile to Alma Ata in Kazhakhstan, and ultimately forcible removal from the USSR. The person, who had been the principal organiser of the October insurrection, who had organised the defence of the revolution against imperialist aggression and counter-revolution during the Civil War, was now being publicly hounded and vilified as an agent of counterrevolution within the international communist movement. Along with Stalin’s all out assault on the final traces of working class power, proceeded hand in hand with a massive campaign of lies and a rewriting of history – of Marxist theory, of the Bolshevik Party, of Trotsky’s role, of Stalin’s own role. Trotsky’s great biographer, Isaac Deutscher, reminded readers at a time when his role had been totally obscured, that the anti-Trotskyist campaign was not slackened for a single moment.[10] Trotsky thus wrote The History of the Russian Revolution both to present the actual history of the Russian Revolution and to defend his own role within it. That there were strong political motives behind writing the book do not make it a merely political tract of low historical worth.

Three points need to be briefly considered by the modern reader. The first is that Trotsky nowhere provides references to the sources. He explained in his preface that he was not relying on his memory. Unlike Thucydides, who lived in an age when literature was just emerging from the shadow of orality, Trotsky had at hand printed sources. A careful reader would also find steady references to various memoirs and documents. That no serious work of scholarship has challenged his documentation, even when taking great objection to his interpretations, indicate that the sources he used have not been impugned. The second question is, whether, in trying to assert his role, he had not inflated it. Stalinist propaganda of course systematically tried to paint him black. But a single verification of his sources in the final years of the Soviet Union, when the Stalin School of Falsification was finally published in that country, showed that the materials kept in the archives corresponded to the documents he had published.[11] The final question is more complicated and will be dealt with later. This relates to the role of Lenin. Was he, in reacting to the Stalin cult, not accepting and reinforcing the Lenin cult? It is certain that Lenin looms very large in the book. But it is not an infallible Lenin. It is a great revolutionary whose role is painted, and one can find scope to disagree with this or that point made by Trotsky. But he shows, for example, that Lenin’s proposed tactical line for carrying out the insurrection was not necessarily the best way, because while Lenin was a major driving force behind the insurrection, he was in hiding and therefore cut off from the nitty-gritty of tactical measures.

The Fall of Tsarism

A real history had to begin with setting the social and political context and revealing the splits developing at the top. In attempting to do so, Trotsky begins with an exposition of a law of historical materialism, which he calls the law of combined development. This was not a law generated out of nothing, but the result of his reflections on his theory of permanent revolution, first articulated in the Russian context, and subsequently generalised.[12]

In the first chapter, Trotsky establishes the unique “combined” character of Russia’s economic development, with backward agrarian conditions coexisting with the most sophisticated modern industries. Trotsky writes:

“A backward country assimilates the material and intellectual conquests of the advanced countries…. Although compelled to follow after the advanced countries, a backward country does not take things in the same order. The privilege of historic backwardness—and such a privilege exists—permits, or rather compels, the adoption of whatever is ready in advance of any specified date, skipping a whole series of intermediate stages.”[13]

Forced to defend itself from, and compete with, neighbouring capitalist powers, Russia absorbed modern military and related technology and along with them industries—but only by grafting the most modern capitalist methods, with the aid of state aid and foreign investment, on top of the most backward rural social relations. This was done, moreover, not by a new capitalist state, but by the old regime itself, dominated by the monarchy and the Dvoryanstvo [nobility].

But the rulers of Russia, in importing modern technology and industry, also imported the modern class struggle. The Russian working class developed under special conditions, with peasants turning into proletarians in a generation. This included

“sharp changes of environment, ties, relations, and a sharp break with the past. It is just this fact—combined with the concentrated oppressions of tsarism—that made the Russian workers hospitable to the boldest conclusions of revolutionary thought—just as the backward industries were hospitable to the last word in capitalist organization.”[14]

While the working class was numerically small, far away from being a majority of the population, its social and economic position made it possible for this class to lead the peasant majority in making a revolution. Such a revolution would have to fight the capitalists, not just the landlords, and at the same time, by overthrowing capitalism provoke a counterrevolution that could only be met by an international chain of revolutions.

Trotsky writes, in a chapter entitled ‘The Proletariat and the Peasantry’:

“The law of combined development of backwards countries—in the sense of a peculiar mixture of backwards elements with the more modern factors—here rises before us in its most finished form, and offers a key to the fundamental riddle of the Russian revolution.… In order to realize the Soviet state, there was required a drawing together and mutual penetration of two factors belonging to completely different historical species: a peasant war—that is, a movement characteristic of the dawn of bourgeois development—and a proletarian insurrection, the movement signalizing its decline. That is the essence of 1917.”[15]

Trotsky depicts the ruling circles, particularly the Tsar Nicholas II and the Tsarina, Alexandra with pitiless clarity. As the waves of modernity moved forward, the last of the Romanovs and his spouse rejected it, and retreated to a decadent medieval past, mired in superstition, ignoring social reality, and functioning as shallow, banal people who looked away as the social crisis intensified and their world crumbled.[16] Quoting the diary of the Tsar, he shows that Nicholas could not comprehend the gravity of the political crisis even as the state apparatus and the narrow clique around him separated from the landlord-bourgeois bloc. Trotsky argues that the apparently personal traits of the tsar symbolised the obsolescence of the monarchy. “In reality his ill-luck flowed from the contradictions between those old aims which he inherited from his ancestors and the new historic conditions in which he was placed.”[17]

The Russian bourgeoisie hated the tsar, his court, and wanted the end of the semi-feudal and superstitious order. But they were even more afraid of a revolution from below, which might be set in motion if they started off a revolt from above. The 1905 Revolution had begun with modest banquet campaigns by liberals and had ended in general strikes and insurrections. Remembering it, they “could not fail to ask… Will not the palace revolution, instead of a means for preventing a real revolution, turn out to be the last jar that loosens the avalanche? May not the cure prove more ruinous than the disease?”[18]

Tsarism and Russian capitalism alike were closely linked to Western capital. An economically backward partner, during the War Russia’s principal role was to provide assistance that would benefit the Western allies. Notably, the soldiers shifted for the battle of Tannenberg, late August 1914 (though they did not reach the Eastern Front in time) perhaps made the difference during the final German push for Paris, halted at the First Battle of the Marne, early September 1914[19]. “The one thing the Russian generals did with a flourish was drag human meat out of the country.”[20] Fifteen million men were conscripted into the army, and five and a half million of them were killed, captured, or wounded in the three years of war. The outbreak of War and a temporary wave of patriotism had enabled the rulers to defuse class bitterness, on the rise since 1912. But, as Trotsky notes,

 “The war itself, its victims, its horror, its shame, brought not only the old, but also the new layers of workers into conflict with the tsarist regime. It did this with a new incisiveness and led them to the conclusion: we can no longer endure it. The conclusion was universal; it welded the masses together and gave them a mighty dynamic force.”[21]

The futility of the war was obvious; and it led to a revival of strikes and popular dissatisfaction. By 1916, political, and not merely economic strikes were becoming prominent.

It was in this situation that the five days of insurrection developed, toppling the monarchy. On the occasion of International Women’s Day, March 8, 1917, which by the unreformed Russian calendar fell on February 23, Petrograd women workers of several textile mills, demanded bread from the local Duma [city council]. They wanted a strike, which the Bolshevik leaders at the local level were not keen to arrange. But the women went ahead nevertheless, and soon a general strike developed. Within a day half the city’s workers were out, and political demands outstripped economic ones. The Cossacks, relatively privileged landed groups residing in the lower Dnieper and Don Basins in Ukraine and Southern Russia, and who were the principal suppliers of the Tsarist cavalry, were called out. Here, Trotsky’s narrative reaches amazing heights:

“Decisive moment! But the horsemen, cautiously, in a long ribbon, rode through the corridor just made by the officers…the Cossacks, without openly breaking discipline, failed to force the crowd to disperse, but flowed through it in streams…. The officers hastened to separate their patrol from the workers, and, abandoning the idea of dispersing them, lined the Cossacks out across the street as a barrier to prevent the demonstrators from getting to the center. But even this did not help: standing stock-still in perfect discipline, the Cossacks did not hinder the workers from ‘diving’ under their horses. The revolution does not choose its paths: it made its first steps toward victory under the belly of a Cossack’s horse.”[22]

On the third and the fourth days rebels confronted the army. Quite a significant number were shot – something usually ignored by bourgeois historians who like to talk about the “peaceful” February Revolution in opposition to the violent” October Revolution.[23] But the workers persisted, and eventually made a dent on the soldiers’ morale and discipline. An army, bound by the most rigid of disciplines, does not easily go against the orders of its superiors. Workers, accustomed to partial battles, can do so. Trotsky explains:

“The more the soldiers in their mass are convinced that the rebels really are rebelling—that this is not a demonstration after which they will have to go back to the barracks and report, that this is a struggle to the death, that the people might win if they join them, and that this winning will not only guarantee impunity, but will alleviate the lot of all—the more they realize this, the more willing they are to turn aside their bayonets, or go over with them to the people. In other words, the revolutionists can create a break in the soldiers’ mood only if they themselves are actually ready to seize the victory at any price whatever, even the price of blood. And this highest determination never can, or will, remain unarmed”.[24]

By the fifth day, the army had gone over to the revolutions. The tsar abdicated, with his generals telling him bluntly that his departure was the minimum to save the state. Workers and soldiers marched to the Tauride Palace, not, however, to directly take power in their hands. The grassroots leadership that had overthrown the old power was not yet confident. So it left the top echelons of power to professional politicians and parties who had at best stood on the sidelines, or who had even tried to forestall the revolution.

In the next chapter, Trotsky discusses the question of leadership. No party could claim to have led the February revolution. But it was not a spontaneous revolution. There were worker activists. Modern historians have discussed issues, like who first issued the call for a general strike.[25] Trotsky argues that while the principal leaders of all the socialist parties were either in exile abroad, or in prison or internal exile, the revolutionary tradition among the workers had not died. Working class militants who were politically mature, who played leading roles at the factory or locality level, (the class vanguard in Marxist terms) had assessed the different socialist parties and their politics, and, asserts Trotsky, were drawing Bolshevik conclusions.

“To the smug politicians of liberalism and tamed socialism everything that happens among [the?] masses is customarily represented as an instinctive process, no matter whether they are dealing with an anthill or a beehive. In reality the thought which was drilling through the thick of the working class was far bolder, more penetrating, more conscious, than those little ideas by which the educated classes live. Moreover, this thought was more scientific: not only because it was to a considerable degree fertilized with the methods of Marxism, but still more because it was ever nourishing itself on the living experience of the masses which were soon to take their place in the revolutionary arena. Thoughts are scientific if they correspond to an objective process and make it possible to influence that process and guide it.”[26]

He concludes:

“To the question, who led the February Revolution? We can then answer definitely enough: Conscious and tempered workers educated for the most part by the party of Lenin. But we must here immediately add: This leadership proved sufficient to guarantee the victory of the insurrection, but it was not adequate to transfer immediately into the hands of the proletarian vanguard the leadership of the revolution.”[27]


The Dual Power and the Reorientation of the Bolshevik Party

The subsequent chapters take up the themes of dual power (the Provisional Government, a bourgeois – landlord organ, and the Soviet, a worker and soldier institution), and the recurrent crises of the February regime. The bourgeois politicians were afraid of the popular uprising, and initially hoped that the Tsar’s forces would suppress it. When that hope faded, they simply waited in the Tauride palace, expecting to be arrested. To their shock, they were approached by workers and soldiers, who demanded that they should form a government. A moderate socialist of the populist variety, Alexander Kerensky, who would come to have enormous power and influence over the next months, urged that the Duma, dissolved by the Tsar but its members still keeping together, should place themselves at the head of the already successful insurrection. The first semi-government was named the Provisional Committee. The Provisional Government that finally emerged was somewhat different in terms of personnel.

At the same time, in the same building, was set up the Executive Committee of the Workers and Soldiers soviet. Drawing upon the experience of the 1905 Revolution, a few Menshevik leaders took the initiative in this. They did so, not in order to develop the revolution, but in the hope that by forming the Soviet in this way, they would be able to keep the radical elements under control. But the aims of the Mensheviks and the reality diverged quickly. The famous Order No. 1 of the Soviet, virtually dictated to the left Menshevik Skobelev by soldiers, was an order that established the political rights of soldiers, in a country where till the day before, a feudal order had existed in the army. It was the Soviet that took charge of food supplies through a Food Commission. It also controlled communications, as workers voluntarily turned to this institution. It was the moderate socialist intellectual leadership of the soviet that, instead of taking power, went to the powerless bourgeois liberals and asked them to form a government.  The Dual Power emerged, not because of an objective need, but because the political consciousness of the workers and their allies had not reached the stage where they would move to institutions of working class democracy and decide to build a life without the bourgeoisie. This bears special reassertion in a country where the influence of Stalinism has remained strong among leftist forces. According to the Stalinist theory of stages, there must be a self-contained bourgeois democratic revolution (termed Peoples Democratic, New Democratic etc), because without this, economic development cannot reach the stage where socialist revolution comes on the agenda. It is not possible to deal with all the variants of this theory here.[28] But where all such theories stumble is over the fact that between February and October 1917, the only thing that evolved was the consciousness of the masses, not the mode of production.

Doug Lorimer, a member of the Socialist Workers Party of Australia, which later renamed itself the Democratic Socialist Party, wrote a pamphlet on the theory of permanent revolution, in which he asserted that Trotsky had misrepresented Bolshevik theory and policy in the 1920s and 1930s.[29]This is based on the argument that a dictatorship of the proletariat is created only when the economy is nationalized. In that case, the entire struggle between Lenin and Kamenev in the Bolshevik party, with Stalin as an early supporter of Kamenev, would remain inexplicable. After all, was not Kamenev championing the “Leninist” slogan (1905) of “revolutionary democratic dictatorship of the proletariat and the peasantry”, and accusing Lenin of ultra-leftism and Trotskyism? The April Theses of Lenin were published in Pravda in 1917, with the comment that these represented Lenin’s personal viewpoint. Thus the top level of the Bolshevik Central Committee did not support Lenin. Trotsky traces the struggle in the Bolshevik party, and shows how Lenin won over the party by appealing over the heads of the leadership to the party ranks. It still took a month of struggle and compromises.[30] Moreover, if Lenin had indeed held the rigid views Lorimer ascribes to him, he would hardly have stated: “We shall now proceed to construct the Socialist order”, as John Reed[31] records him in a book Lenin himself approved of, at the Second Congress of Soviets.

Indeed, the return of Lenin was a crucial turning point in the revolution.  If the Bolshevik leadership of the February days, Shlyapnikov, Zalutsky and Molotov, had been inadequate, the Bolshevik leadership that replaced them, Stalin, Kamenev and Muranov, was much more moderate as well as dogmatic. Trotsky spares no details in chronicling the defensist, compromising nature of Stalin’s leadership during March, in an attempt to use all the documentary evidence to break through the lies being manufactured by the Stalinist bureaucracy concerning the infallibility of the party, and the closeness between Lenin and Stalin. Once again, in a country where the Stalin cult remains strong among the left, these details are worth studying.  Stalin forcefully stressed that the revolution must be bourgeois. In Pravda, the “defensist” line was firmly stated:

“Our slogan is not the meaningless ‘down with war.’ Our slogan is pressure upon the Provisional Government with the aim of compelling it…to make and attempt to induce all the warring countries to open immediate negotiations…and until then every man remains at his fighting post!”[32] 

The Stalin-Kamenev leadership even began to gravitate toward the idea of reuniting with the Mensheviks in a single party.[33] Lenin launched a sharp attack on this line, though he was careful to make it possible for his erring comrades to withdraw from their positions.

Lenin’s struggle was waged in distinct stages. His first task was to win over the general staff—the Bolshevik Party itself. In the two chapters, ‘The Bolsheviks and Lenin’ and ‘Rearming the Party’, Trotsky considers this process. This was followed by deep propaganda among the masses. Lenin was absolutely clear that in a country where general democratic situations existed, anything other than democratic struggles to win over the majority of the toiling masses was a false course. For that reason, it was not enough to win over the majority in the capital. This was achieved, if in a relatively unstable manner, by the time of the First All Russia congress of Soviets (October 25-26, 1917). The final chapters of the first volume trace this process, including the Bolshevik call for a demonstration, called off when the Soviet claimed it would be used by conspirators. On June 11, Tseretelli, speaking at a meeting including the executive committee, members of the presidium of the congress, and other leaders, demanded that the Bolsheviks be disarmed. But the Bolsheviks did not have special arms. The people who had the arms were the soldiers and the workers. As Trotsky puts it: “That classic moment of the revolution had arrived when the bourgeois democracy, upon the demands of the reaction, undertakes to disarm the workers who had guaranteed the victory. [34]

Hoping to show that the masses were still with them, the moderate socialists called a counter-demonstration on 18 June. To the consternation of the Menshevik and Social Revolutionary leaders, this turned out to be a triumph of the Bolsheviks. Tseretelli had thrown down a challenge – let the demonstration show which side had the greater forces.

“The delegates of the congress, assembled on Mars Field, read and counted the placards. The first Bolshevik slogans were met half laughingly… But these same slogans were repeated again and again. “Down with the Ten Minister-Capitalists!”, “Down with the Offensive!”, “All Power to the Soviets!” The ironical smiles froze, and then gradually disappeared. Bolshevik banners floated everywhere. The delegates stopped counting the uncomfortable totals.”[35]


Class and Gender: A Missing Dimension of the History

Before we turn to the next two volumes, dealing with the failure of counter revolution and the Soviet seizure pf power, one point needs to be raised. Trotsky’s narrative, superb in its scope, holds the reader enthralled even today, close to a century after the events it describes and nearly eighty years since he wrote it. But that is why, some of the omissions tend to be overlooked. An introduction to a classic work is not a place to propose rectifications into that work. But the omissions need to be mentioned. The most vital one is the seeming gender neutrality of the narrative that actually stumbles. After the eruption of women workers on International Women’s Day, women mostly disappear from the descriptions. Where they appear, it is to assert that women will look after the home while men go off for political battles. Yet the reality was more complex.[36]

There were a significant number of Bolshevik women. While a very limited number held senior party positions, there is no doubt that quite a few of them were active supporters of Lenin, and worked in various capacities to mobilize party members and non-member supporters and other workers along similar lines as Lenin. Apart from Nadezhda Krupskaya, one should mention Maria Ulyanova, Alexandra Kollontai, Inessa Armand, and others. Kollontai, a leading woman activist, the first to be elected to a Bolshevik Central Committee (in the Congress of 1917), was a firm supporter of Lenin right from her return to Russia.

Kollontai, in association with other women, like Vera Slutskaya, Konkordia Samoilova, and Klavdia Nikolaieva, was also seriously involved in organising toiling women – both women workers and the soldatki [soldiers’ wives]. By 1917 women formed 43 percent of the workforce. They had to be organised if the revolutionary movement was to proceed. The first weeks after February saw an unprecedented increase in the number of women organising themselves to make political and economic demands. Bolsheviks were active among them. In Petrograd, the best documented city, Bolshevik women were active in two kinds of work among militant women. One was the formation of the Union of Soldatki. Bolshevik influence over the army was to grow significantly as a result of the Bolshevik women’s struggle to organise the Soldatki and to champion their demands. The other work was that of organising women workers for their demands. The social peace established by the Mensheviks and Socialist Revolutionaries after February was broken for the first time by several thousand women workers in the city laundries. They fought for an 8-hour working day, and for minimum wages. Bolshevik women like Goncharskaya, Novikondratieva and Sakharova led these struggles. Under the influence of Kollontai, the party press, primarily Pravda regularly reported about the strike. After a month’s strike, there was a partial victory.[37]

In trying to organise women workers, the Bolshevik women had to wage an ideological and organisational struggle against pro-war bourgeois feminists. As a result, not only the women, but the party as a whole had to turn its attention to work among the women. A meeting of the Executive Committee of the Petersburg Committee of the Bolsheviks gave Slutskaya the task of organising work among the women.[38] She felt that in order to do this work properly, there should be a bureau of working women, autonomous but under the city Committee. Despite all her assurances that this was only to facilitate practical work, the Petrograd Committee meeting witnessed much resistance to her proposal. The meeting resolved to revive the defunct Rabotnitsa, a journal originally brought out by Bolshevik women in 1914 and then suppressed by the police but left examination of Slutskaya’s proposals for a later date.[39] Eventually very few raion [district] committees set up women’s bureaux. The reasons for the non-functioning character of the bureaux can be found in the party’s hostility to any kind of feminism.[40] The journal Rabotnitsa was revived, and it became the centre of agitational and organisational work among women workers. The fact that it was a paper meant it could avoid the charge “feminist deviation”. Rabotnitsa enabled the two types of women activists – those like Armand and Kollontai on one hand, and those like Samoilova or others, to coexist. As Kollontai wrote later:

“As late as the spring of 1917 Konkordiya Nikolaevna found superfluous the formation of an apparatus in the party for work amongst women. On the other hand she warmly welcomed the rebirth of Rabotnitsa as an ideological centre … Comrade Samoilova would not tolerate anything that smacked of feminism and she regarded with great caution any organisational scheme which in her opinion might introduce “division according to sex” into the proletariat.”[41]

The return of a powerful agitator and leading cadre like Kollontai to Russia had meant a strong impetus to the work of organising working class women. But she too failed to get the party to sanction the creation of any kind of special apparatus for work among women. This meant that work among women was not often recognised as a distinct kind of work requiring special efforts. After prolonged attempts, Kollontai, Samoilova and others eventually got the party to agree to a women workers' conference, held on November 12 and 18, 1917, in Petrograd and attended by 500 elected delegates representing over 80,000 women workers.[42] It aimed at mobilising the working class women for the coming elections to the Constituent Assembly, and to prepare the grounds for an All-Russia women’s conference. Some Bolshevik women activists and leaders realised it quite well that the task of mobilisation would be easier if the women workers were separately organised where they could find a congenial atmosphere to overcome their hesitations and inhibition which were the results of their social upbringing.

The publication of Rabotnitsa had positive consequences. Women, traditionally treated as backward, brainless, were finding voices of their own. Their understanding of the gendered nature of class struggle came out, as when an activist, Prokhorova, wrote, “Many women comrades say that everything will be done without us. But comrades, whatever is done without us will be dangerous for us."[43] The paper provided space for the voices of female factory workers criticising sexist behaviour of male colleagues, not merely overseers. The editors of the paper, who included Samoilova, Klavdia Nikolaeva, and Praskovia Kudelli, were no less committed Bolsheviks than their male counterparts. These writings helped to emerge the early articulations of a Bolshevik-feminist discourse that went beyond Bolshevik orthodoxy of defining class in the cast of an adult male. A major historian of Bolshevik women has written that not only was sexism among the ranks of the proletariat criticised, but trade union leaderships (through demands for equal pay for equal work) and also the Bolshevik leadership, which was urged to increase its efforts to reach out to the women workers.[44] That the most important leader of the October insurrection found no space to put in some of these dimensions also means that this is an area where his work has to be read today in conjunction with Marxist-feminist work on the subject.

The Failure of Coalitionism:

The first Provisional Government had been an almost purely bourgeois government with only Kerensky as a token leftist. But by May, a crisis had shaken it, and the moderate socialists had entered into a coalition, not to push the regime to the left, but to provide it with a left cover. This first coalition government had ten bourgeois and six socialist ministers. The coalition attempt however failed. As Rosenberg’s study shows, the Liberals, gathered under the banner of the Cadet party, were not willing to make adequate concessions to the moderates.[45]This has to be seen, not as accidents of history, but as the expression of basic class interests. In the second volume of The History, Trotsky traces the conflict between the soviet parties and the soviet masses, as the moderate parties swung rightward and the masses moved left.  Early in July, workers and soldiers went out on to the streets, demanding that the Central Executive Committee of the soviets should take over power. The compromising socialists refused outright. Street encounters and casualties occurred. The collapse of the demonstrations followed, because the workers and soldiers were still confused. They had come out with arms. But they were still urging class collaborators to seize powers from the upper classes. This confusion was what resulted in uncertain aims and actions. The compromising leaders now took the path advocated by Tseretelli. The Bolshevik papers were shut down. Lenin went underground. A number of others, including Trotsky, were arrested. But this victory came at a price. The most openly counter-revolutionary forces had to be employed. In other words, there was a growing polarization.

Meanwhile the failure of the Provisional Government was becoming evident in all ways. The economic crisis continued unabated, and the national debt—fuelled by the war—was approaching the value of Russia’s total wealth, at 70 billion roubles. The massive inflation led to the printing of notes in bulk, increasingly valueless and sneeringly named “kerenkies”; “both “the bourgeois and the worker, each in his own way, embodied in that name a slight note of disgust.[46]  Factory owners were deliberately closing down shops as a systematic campaign of sabotage, resulting in a decline of metal production by 40 percent and textile output by 20 percent. In the cities the shadow of famine loomed closer, convincing the participants in the February uprising that the “future contained no glimmer of hope. This was not what the workers had expected from the revolution.”[47] The land question was left untouched. The struggle of the oppressed nationalities was likewise deferred. And the key political issue, the convening of the Constituent Assembly, was finally decided upon as late as mid-June, when it was announced that the Assembly election would be held in September 17. The Cadet press started a campaign against this immediately.

The consequence of the July days was an emboldened counter revolution. The Bolsheviks were vilified and attacked as German agents. Lenin and Zinoviev explained from underground why they were not submitting to the authorities. It was clear that a frame up was being planned. There were many, even in the Bolshevik ranks, who hesitated at this. Only later, with the murders of Rosa Luxemburg and Karl Liebknecht, did it become clear to all that in the class struggle, the bourgeoisie does not play by rules when its domination is seriously threatened.

A routine charge against revolutionaries is that they are in the pay of foreign powers. Trotsky’s discussion of this issue shows that charges of German gold were routine, but when it was turned against the Bolsheviks, it reached unprecedented heights. But the July victory did not strengthen the government. Kerensky became the Minister –President. A renewed coalition was proposed, with the bourgeoisie dictating terms – such as, continuing the war, no social reforms till the Constituent Assembly met, and responsibility of ministers to their consciences, in other words, no responsibility to the masses.[48]

The story did not end there. In order to restore discipline in the army, General Lavr Kornilov, the only successful commander during Russia’s disastrous military offensive of June 1917, was appointed Supreme Commander. The right wing press tried to make a cult out of him. Kerensky and Kornilov entered into a Bonapartist conspiracy. Their aim was to beat back the revolution.

Kornilov was chosen probably also because after February 1917 he had claimed to be a republican. But this did not make him less counter-revolutionary. He demanded the restoration of the death penalty at the rear and gave orders to shoot deserters and set up their corpses as examples. He also threatened the peasants with severe penalties for violating the proprietary rights of the landlords.[49] The upper classes felt that in Kornilov they had acquired the strong man who would put down the disturbances.

Meanwhile, Kerensky, in order to create a semblance of a social base for his regime, and to put on display the alleged national unity, organised a State Conference for August 12–14 in Moscow, which was notable for its over-representation of the rich and ruling classes. It was also notable for the behind-the-scenes manoeuvring of the “partners”—Kornilov and Kerensky—against each other. Both wanted “order,” but the democrats nursed their illusions of a bourgeois republic while the Cadets and their military allies wanted to drown the working class in blood. As a result, the State Conference saw dramatic confrontations. But these were confrontations within forces who were agreed on blocking workers, peasants and soldiers from power.

Soldiers and workers saw the State Conference as a direct threat to soviet power. The Moscow city Soviet was still dominated by the compromisers. Over their heads, the trade unions and local soviets, with Moscow Bolsheviks often in the leadership, called a general strike. They plunged the city into darkness, showing that bourgeois power was still at the mercy of the toilers. Trotsky cites Miliukov, the liberal leader and historian, as writing that “The delegates coming to the Conference... could not ride on the tramways, nor lunch in the restaurants.”[50]The Bolshevik paper, The Proletarii, asked those who had thought the militancy a special problem of Petrograd and had moved to Moscow, “From Petrograd you went to Moscow—where will you go from there?[51] 

The Counterrevolutionary Plot and its Collapse

Kornilov and his backers had decided that they would organise a coup on August 27. The plan had been to provoke the Bolsheviks into an insurrection, through imposition of martial law in the capital and if necessary by using provocateurs claiming to be Bolsheviks. Kerensky was fully involved in this. Kerensky’s memoirs, cited by Trotsky, show that from June 1917, he had held conversations with right-wingers about the possibility of a coup or a dictatorship. That he claims he was not interested in such a power is undercut by his admission that for months he, claiming to be a minister of the revolution, was a party to such counterrevolutionary discussions. During the second half of August, the conspiracy proceeded so far that elements of it were clearly understood, not only by the Bolsheviks, but by the Menshevik and Socialist Revolutionary dominated Soviet leadership, who could not, however, denounce Kerensky, but only Kornilov. The Bolshevik paper Proletarii was shut down for appealing to workers not to respond to provocations.

The plan was to concentrate rightwing cavalry troops in Petrograd, then declare martial law, and then publish measures leading to an untimely insurrection. As Trotsky writes:

“The events, the documents, the testimony of the participants, and finally the confessions of Kerensky himself, unanimously bear witness that the Minister-President, without the knowledge of a part of his own government, behind the back of the soviets which had given him the power, in secrecy from the party of which he considered himself a member, had entered into agreement with the highest generals of the army for a radical change in the state régime with the help of armed forces.”[52]

Under the pretext of protecting the capital after the fall of Riga to the German army, three “loyal” divisions were moved closer to Petrograd as the first step of the projected coup. In the early morning hours of August 28, troops began their march on Petrograd, and reports started coming to the Executive Committee, terrifying the democrats. But Kerensky too was upset, for by this time, it was no longer a coup in which he would share power with Kornilov. As Eisenstein’s film October suggested, both Kerensky and Kornilov fancied himself for the role of Bonaparte, and Kornilov now thought he did not need Kerensky. Kerensky was now in a paroxysm of fear, and he dismissed Kornilov and ordered his troops to halt. Kornilov simply ignored the order. Kerensky had no forces loyal to himself.

The Bolsheviks understood that while Kerensky was a traitor, Kornilov was the counterrevolutionary who had to be stopped immediately, at any cost. Thus arose the Bolshevik scheme of a united front. The news of Kornilov’s march on Petrograd led to huge mass meetings in the factories. Every one of them vowed to defend the city and urgently demanded arms from the Soviet Executive. Thousands of Petrograd workers threw themselves into the struggle to stop Kornilov, at least 25,000 enlisted for the Red Guards who were co-ordinated by the Soviet’s Military Revolutionary Committee. The government was forced to re-arm the militia they had disarmed in July. At Putilov 8,000 of the workforce were sent to perform defence and agitation duties. Those who remained behind worked hard to overproduce military equipment in defence of the revolution.

The Menshevik-SR leadership of the Petrograd Soviet were obliged to set up a Committee of Struggle against the counter-revolution and to invite the Bolsheviks to participate in it. There were three delegates each from the SRs, the Mensheviks and the Bolsheviks plus delegates from the main trade unions.

Bolshevik leaders, whether Kamenev, out in the open, or Trotsky, still in prison, or Lenin, still in hiding, realised that the situation had changed. During the defense of Petrograd, sailors came to Trotsky, who was still in prison as a result of the July Days, and ask him what they should do. “Use Kerensky as a gun-rest to shoot Kornilov,” advised Trotsky. “Afterward we will settle with Kerensky.”[53]

Until the outbreak of the Kornilov coup Lenin had been arguing that the counter-revolution had already occurred in July, so talk of a military coup was fraudulent rhetoric by the Mensheviks. He vigorously demanded no blocks or alliances with the Mensheviks. But as the reality of the situation sank in, he changed his tactics. The Bolsheviks active in the city called for united action with the Mensheviks and SRs and also with Kerensky. Lenin started arguing that workers who wanted to defend Petrograd against Kornilov must be mobilised to put forward demands on Kerensky that would develop their militancy and simultaneously expose the weakness and vacillation of the moderate leaders. His proposals included arrests of bourgeois leaders and legalisation of land transfer to peasants, and workers’ control over factories.

As workers mobilised, the coup fell apart. The supposedly reliable soldiers had simply not known what they were being sent to do. Delegations of soldiers and workers met the troops sent by Kornilov, and the projected army of counterrevolution just melted. The coup failed, because those who had planned it were totally isolated from the Russian people. They thought the masses just needed a whip to abandon the revolution. As Trotsky writes, “This mistake in estimating the mood of the masses brought all their other calculations to the dust.[54] Both politically and organisationally, the Kornilov coup and the defence against it had immense consequences. The soviets, which had become lifeless, were revitalised. While at the top the compromisers still had formal leadership, one step below, new revolutionary forces were pushing up. And the coup itself pushed soldiers back to the Bolsheviks.

The Soviet Conquest of Power

The theme that October 1917 was a coup has a pedigree as long as the revolution itself, and the fall of the Soviet Union has seen no end of the long line of books condemning October as a coup, a theme that was examined and debunked at length in the third volume of Trotsky’s The History, ‘The Triumph of the Soviets’, exploded this myth solidly, long before the current crop of scholars. At the same time, it also challenged the view that the party, rather than working class, organised in numerous institutions, though certainly led by the party, had made the revolution.[55]

It is a standard experience of history that the masses, even in times of revolution, do not begin by turning to the most revolutionary party. Thus it was that in 1917, the masses turned initially to the compromising social democrats and populists. The masses desired a quick solution to their most burning problems - in the case of Russia, a speedy end to the War, bread and land. Instead, the reformists offered them speeches and promises. The Bolsheviks based themselves at every stage on the masses. After defeating the tendency headed by Kamenev and Stalin, Lenin had to wage a struggle against ultra-lefts who immediately put forward the slogan "down with the Provisional Government", at a time when the masses still had illusions in the Menshevik and SR leaders who were supporting the Provisional Government. He explained that before the Bolsheviks could conquer power, they must first "conquer" the masses, and this had to be done by a combination of the experience of the masses and the patient work of the Bolsheviks, summed up in Lenin's slogan "patiently explain!"

At the Petrograd City Conference of the party, held in April Lenin said:

“We do not have complete political liberty, of course. But nowhere else is there such freedom as exists in Russia today. “Down with war” does not mean flinging the bayonet away. It means the transfer or power to another class. ….. We are still a minority and realise the need for winning a majority. Unlike the anarchists, we need the state for the transition to socialism .... The role of the Soviets .... is that they apply organised force against the counter-revolution ...... There can be no dual power in a state .... the way out of the war lies through the victory of the Soviet .... This is the type of state under which it is possible to advance towards socialism .... So long as the Soviets have not seized power, we shall not take it. A living force, however, must impel the Soviets to seize power .... So long as the Provisional Government has the backing of the Soviet of Workers’ Deputies, you cannot “simply” overthrow it. The only way it can and must be overthrown is by winning over the majority in the Soviets.[56]

By July the masses in Petrograd had been won over to the idea of Soviet power. At this point it was the top leadership of the Bolshevik Party that tried to restrain them, since the leadership was aware that the masses all over the country were not yet ready to overthrow the compromisers. The Bolshevik Party grew gradually, over the year. The table below shows the growth of some of the principal party committees.


  Growth of Party Committees[57]

Party Committee           Early March                   Seventh Conference               Sixth Congress

                                                                                    April                                       July                       

Petrograd                                      2000                                16,000                                  26,000

Moscow                                          600                                  7,000                                  15,000

Ivanovo-Voznesensk                        10                                  3,564                                    5,440

Ekaterinoslav                                  400                                  1,500                                    3,500

Lugan                                             100                                  1,500                                    2,596

Kharkov                                          105                                  1,200                                       —

Saratov                                             60                                  1,600                                    3,000

Kiev                                                200                                  1,900                                    4,000

Ekaterinburg                                     40                                  1,700                                    2,800


Despite this, it has been argued that the Bolshevik strategy was undemocratic. Three major possible criticisms have to be considered. First, the Bolsheviks overthrew a democratic regime. Second, they acted through their party, not through the Soviets. Finally, Lenin and Trotsky, particularly Lenin, was said to have been ‘dictatorial’. Following the defeat of Kornilov, there was a brief period when the right wing was completely disarmed. The Bolsheviks again attempted to go over peacefully to Soviet democracy. They recognised that the workers and peasants in their majority wanted a purely socialist government, and proposed that the Menshevik-SR bloc should take power, promising in that case to restrict themselves to peaceful propaganda.[58] But the Mensheviks and the SRs rejected this and again turned to coalition building with the already discredited Cadets, pretending that Kornilov’s coup was his personal work.

It is obvious that wherever there was a possibility, the Bolsheviks tried to minimise violence and to take power peacefully. It is also clear that this confidence was based on a rising tide in the Soviets, factory councils and trade unions, even more than in the municipal bodies. Throughout Russia, from late August, new elections to Soviets were being organised. The Bolsheviks made significant gains. Thus, at the Second Congress of the Soviets of Workers’ and Soldiers’ Deputies of Urals, representing 505,780 workers and soldiers, which met on August 17-21, the Bolsheviks had 77 deputies against 23 for the Mensheviks.[59] On August 31- September 1, the Petrograd Soviet adopted a resolution on power, which led to the resignation of the old executive committee.[60] In Kiev, a Conference of Factory and Shop Committees passed a Bolshevik resolution with 161 votes for, 35 against, and 13 abstentions.[61]

The defeat of the Menshevik-SR bloc in the Petrograd Soviet (279-115 votes) had been questioned by the compromisers. On September 9, the presidium of the Petrograd Soviet insisted that the Soviet must state whether it was changing its line or not, saying it stood for the old line. Both sides had mustered their strength, and the presidium lost by 414 votes to 519, with 67 abstentions.[62]

On September 5, the Moscow Soviet passed a resolution condemning the Provisional Government and the Central Executive Committee by 355 votes to 254.[63] At the Kiev Soviet of Workers’ Deputies, the Bolshevik resolution won on 8th September by 130 votes to 66, showing a swing of 35 previously non-Bolsheviks delegates to them. On September 10, a regional Congress of Soviets in Finland adopted Bolshevik resolutions by big majorities.[64]

In August, work had barely begun in the rural areas. But by September 21, the Saratov Soviet had 320 Bolsheviks against 103 SRs. 76 Mensheviks, and 34 non-party deputies.[65] In Kronstadt, new elections resulted in a further shift to the left in an already radical Soviet, so that now it had 100 Bolsheviks, 75 left SRs, 12 Menshevik Internationalists, 7 anarchists, and 90-odd unaffiliated, but mostly leftwing, delegates. The right wing of the Soviet spectrum was practically wiped out.[66] Newly elected Soviets in Reval, Dorpat, Wenden, all had a Bolshevik-left SR majority. In Talinn, the Estonian regional committee elected a little later, in October, had 6 Bolsheviks, 4 left SRs, 1 Menshevik Internationalist, and one rightwing Menshevik.[67]

In Petrograd, Moscow, and the other major centres, the Bolshevik influence grew even more swiftly. From the last week of September, the open struggle between the Bolsheviks and their opponents began for hegemony over the Soviets in the final lap of the race for power. The Petrograd Soviet adopted Trotsky’s resolution calling for the consolidation and federation of all Soviet organisations and the immediate convocation of the Second All Russia Congress of Soviets.[68] This unleashed a flood of similar resolutions calling for the assumption of full power by the Congress.[69]

 The most detailed all-Russia studies, by numerous scholars, disclose that the trend was towards Bolshevism.[70]The Bolsheviks were in the majority in the Workers’ Soviets in most industrial cities and in most Soldiers’ Soviets in garrison towns, with strongholds in Finland, Estonia, Petrograd, the Northern Front, the Baltic Fleet, the Central Industrial Region (around Moscow), the Urals, Western and Central Siberia. The Socialist Revolutionaries predominated among the peasants and the frontline committees. Their bases included the black-earth region, the middle Volga, and the Western, Southern and Rumanian fronts. The Mensheviks dominated only in Georgia.

The last attempt made by the parties of moderate leftism to shore up their position came when they convoked the Democratic Conference on September 14. That Conference, in turn, set up the Council of the Republic, popularly known as the Pre-Parliament. Marc Ferro assesses the significance of the Democratic Conference in the following terms:

The democratic conference, convoked and organised by the Executive Council of the Soviets, reflected in its composition, the great variety of institutions that the Revolution had thrown up rather than their numerical strength or real power. Over thirty types of organization were represented, from the league of clergy and laymen to the Soviets, although the nationalities, for one, had only 43 places out of 1250…. [The SR-Menshevik bloc controlling the VTsIK, flouted democracy and] distributed seats as suited them. Workers’ and soldiers’ Soviets were allotted 230 places, as were the peasant Soviets, whereas the municipal councils took 300, the zemstva [local self-governing bodies created during Tsarist Russia] 200 and the cooperative movement 161.”[71]


Notwithstanding all this effort, even this attempt miscarried. The principle of bourgeois participation in government was approved by 766 votes to 688, with 38 abstentions. But then, an amendment excluding the Cadets was also passed with 595 votes against 493 with 72 abstentions.[72] A coalition without the Cadets was a senseless coalition. Kerensky then threatened to resign, refusing to participate in a homogeneous government, and as a result a renewed vote was taken and a Council of Republic created with bourgeois participation. But this was not a genuinely representative body. It was not elected, but nominated by the conference and the government, its composition was the following — 15 percent of all the groups represented in the Democratic Conference, together with 120 seats for the propertied classes and 20 for the Cossacks.[73]In view of the highly distorted system of representation in the Democratic Conference, it meant that the really representative bodies like the Soviets, peasants committees etc. would be underrepresented while utterly inconsequential bodies would get large representations. As a result, the moderate socialists got far more seats than they could get in Soviets, or in the case of the upper classes even in municipal dumas (since they were not represented in the Soviets at all).

But while the class collaborationist socialists were moving further and further to the right, accommodating every demand of the bourgeoisie, not only the workers and the soldiers in the capital cities, but other social forces were also moving in a more revolutionary direction. Trotsky analyses in two chapters of the third volume on the peasantry and the oppressed nationalities, whose struggles provided a massive impetus, and without whose conscious support the revolution could not have won and subsequently held out.

The peasantry had supported the Socialist Revolutionary party, the heir to the populist tradition. The Socialist Revolutionaries (SR) was dominated by the upper layers of the peasantry who “got tangled up in a coalition” and were beholden to a government rife with landowners and the bankers to whom they owed billions of rubles. The Socialist Revolutionaries

“went to pieces, therefore, not on the Utopian character of their socialism, but on their democratic inconsistency. It might have taken years to test out their Utopianism. Their betrayal of agrarian democracy became clear in a few months. Under a government of Social Revolutionaries the peasants had to take the road of insurrection in order to carry out the Social Revolutionary program.[74] 

One historian cited by Trotsky counted 4,954 agrarian conflicts against landlords between February and October.[75]

The fusion of the two revolutionary currents—proletarian and peasant—proved irresistible. Trotsky writes:

“The 17th, 18th and 19th centuries of Russian history climbed up on the shoulders of the 20th, and bent it to the ground. The weakness of this belated bourgeois revolution was manifested in the fact that the peasant war did not urge the bourgeois revolutionists forward, but threw them back conclusively into the camp of reaction. Tseretelli, the hard-labour convict of yesterday, defended the estates of the landlords against anarchy! The peasant revolution, thus rejected by the bourgeoisie, joined hands with the industrial proletariat. In this way the 20th century not only got free of those past centuries hanging upon it, but climbed up on their shoulders to a new historic level. In order that the peasant might clear and fence his land, the worker had to stand at the head of the state: that is the simplest formula for the October revolution”.[76]


The other source was national oppression and the national liberation struggles. Within Russia’s imperial borders, 57 percent of the population was non-Russian. Instead of capitalist development in Russia integrating the multi-ethnic society, it codified ethnic and national distinctions, creating specific oppressions to keep the nationalities divided.

With the coming of the February Revolution, the hope for liberation for the second-class citizens of Russia was simultaneously raised and dashed by the Mensheviks and Socialist Revolutionaries, who used the claim of “unity” to deny long-denied national rights: “The compromisist democracy merely translated traditions of the Tzarist national policy into the language of libertarian rhetoric.[77] The Bolsheviks, by insisting on the right of nations to self-determination, fought and mobilised the masses.

This was the context in which Lenin and Trotsky began to work for an insurrection. Lenin’s personal role was certainly important, but it was not dictatorial. His central achievement was to make the Bolshevik party and the militant workers understand that however weak the Kerensky government might be, it would simply not give way to a socialist regime. It would have to be forcibly overthrown.

In this context, Trotsky also treats at length the internal struggles in the party. This has much value today. On one hand, it shows, as Trotsky intended, that the Stalinist hagiography was a myth. On the other hand, it also tells us that real Bolshevism, unlike what followed since Stalin’s conquest of power, was thoroughly democratic. Even on the eve of an insurrection the Bolsheviks could debate, and at times even take out aspects of the crucial debate into the public.

Lenin began calling for insurrection when the Bolsheviks obtained hegemony in the Petrograd and Moscow Soviets by September 1917. This meant, in his view that the active majority of revolutionary elements were with them.[78] As further evidence of the strengthening of the left wing, he cited the growth of internationalist influence among the Mensheviks and SRs. So unlike in April and July when he had attempted to rein in over enthusiastic radicals, he now wanted to spur them forward. As a result, the differences in the Central Committee surfaced anew.[79] Lenin suggested that the large number of party members present as a result of their participation in the Democratic Conference virtually made up a Party Congress, and that they should decide upon the need to steer a course for the revolution.[80]

The struggle in the Central Committee, and throughout the party, was quite serious. A few days later, Lenin still in hiding, wrote another letter to the Central Committee, entitled ‘Marxism and Insurrection’. He opposed the view that politics of insurrections were always Blanquist. When there was a mass upsurge, when the enemy was in disarray, and when certain other conditions were met, a conspiracy for the technical side of the insurrection was a necessary action, not a Blanquist aberration.[81]

The majority of the Central Committee was hesitant. In its meeting of September 15, the agenda was Lenin’s letters. It was decided, with 6 votes to 4 with 6 abstentions, to burn all but one copy of the letter.[82] On September 21, Trotsky’s call to boycott the Council of the Republic won by single vote, but was overturned by the Bolshevik delegates of the Democratic Conference. Two days later, the Central Committee, with 15 members present, voted 8-7 in favour of a proposal to openly confront the moderates’ appeal for peace as hypocritical one.[83] But rank and file pressure went to support Lenin and his allies. Bukharin later related that at the Democratic Conference:

“the sailors posted by Kerensky to defend the Democratic conference against us, the Bolsheviks, turned to Trotsky and asked him, shaking their bayonets : ‘How soon can we get to work with these things?[84]


Finally, on October 5, the Central Committee decided to withdraw from the Pre-Parliament, with Kamenev expressing his dissent.[85] On October 7, Trotsky, on behalf of the Bolshevik fraction of the Pre-Parliament, read out a statement denouncing the Pre-Parliament as “a new edition of the Bulygin Duma”, an unrepresentative and counter-revolutionary body, and said, “we, the social democratic Bolshevik group, declare we have nothing in common with this government that betrays the people and with this council which connives at counter-revolution.”[86]  This was a call for an insurrection.

The boycott of parliamentary institutions on the part of anarchists and semi-anarchists is dictated by a desire not to submit their weakness to a test.... A revolutionary party can turn its back to a parliament only if it has set itself the immediate task of overthrowing the existing regime.”[87]

Much is made of certain proposals made by Lenin, so they should be briefly examined. Impatient at what he considered the dilatory tactics of the Central Committee, he put forward a proposal to Smilga, that the latter, as chairman of the Regional Committee of the Army, Navy and Workers of Finland, could call out troops, overthrow Kerensky, and hand over power to the Congress of Soviets.[88] Two days later, in an article entitled ‘The Crisis has Matured’, he objected to waiting for the Congress of Soviets, on the ground that time would be lost and Cossacks would be mobilised against any seizure of power.[89] He also suggested that the insurrection should be called directly by the party, rather than by the Soviets, and if necessary in Moscow, rather than in Petrograd.[90] He wrote repeatedly that “To ‘wait’ for the Congress of Soviets is idiocy ....”[91] or that “To wait for the Congress of Soviets would be a childish game of formalities, a disgraceful game of formalities, and a betrayal of the revolution.”[92]

It is not true that with these proposals, he was suggesting that Soviet democracy be rejected in favour of party dictatorship. As the proposal to Smilga showed explicitly, he wanted power to go to the Congress of Soviets. But he was apprehensive that those who were actually opposed to staging the insurrection were taking refuge behind the slogan of waiting for the Soviet Congress. At the same time, his proposals also showed his failure to understand how far the organisation of the insurrection could be assisted if it was launched in the name of the Soviets. On this issue his opponent was Trotsky, who devised a different tactical approach to the uprising.

This is an issue where Trotsky had to step gingerly. Yet he achieved his task as a historian with great dexterity. By the time he was writing, a Lenin cult was in position. He had no wish to denigrate Lenin. But he was also trying to restore his position in history.  He shows that while Lenin was the central leader of the revolution and the key figure who had turned the Bolshevik party round, he himself was not there on the ground, and therefore unaware of the precise relationship of forces. Trotsky was also fighting against the lies heaped by Stalinist professors showing that the concrete work of organising the insurrection was Lenin’s deed.

Thus, in the third volume, we find a full chapter entitled ‘Lenin summons to Insurrection’. In it, Trotsky argues:

“Besides the factories, barracks, villages, the front and, the soviets, the revolution had another laboratory: the brain of Lenin. Driven underground, Lenin was obliged for a hundred and eleven days – from July 6 to October 25 – to cut down his meetings even with members of the Central Committee. Without any immediate intercourse with the masses, and deprived of contacts with any organisations, he concentrated his thought the more resolutely upon the fundamental problems of the revolution, reducing them – as was both his rule and the necessity of his nature – to the key problems of Marxism.”[93]


But this does not mean that Trotsky was willing to ascribe to Lenin the single-handed power to make or unmake the insurrection. One of the present authors had, because of this chapter and similar comments, many years back, accused Trotsky of ignoring Marxist views on the role of the individual in history.[94] A careful reading shows this not to be the case. In the first place, Trotsky here is drawing attention to Lenin’s theoretical work. Rejecting the mechanical determinism of the Second International’s moderates, who often behaved as though History personified would ensure the collapse of capitalism, and who abused the criticisms levelled by Marx and Engels against minority putschism (“Blanquism”, etc) by turning them into flat rejections of the use of force in a revolution, Lenin argued that when the majority of conscious workers and their allies were willing to fight for class power, making an insurrection was a necessity, because the bourgeoisie would not hand over power. Perhaps, at this point, it is worth quoting the great revolutionary whose authority is misused to condemn the Bolsheviks. At the time of the German revolution of 1918-19, this is what Rosa Luxemburg wrote:

“From the  Deutsche Tageszeitung,  Die Vossische and Vorwärts to the independent Freiheit, from Reventlow, Erzberger and Scheidemann to Haase and Kautsky, comes a unanimous call for a National Assembly. At the same time there is a unanimous cry of fear at the idea of the power being in the hands of the working class.

All the ‘people’, the whole ‘nation’, are to be called upon to decide by majority resolution the further fate of the revolution.

This slogan is a matter of course to the open and disguised agents of the ruling classes. We shall discuss neither in the National Assembly nor about the National Assembly with the guards of the capitalists’ safes.

But even independent leaders are joining the ranks of the guards of capital in this decisive question.

In this way, as Hilferding states in Freiheit, they want to spare themselves the revolution, the use of force, the civil war with all its horrors. Petit-bourgeois illusions! They imagine that the greatest revolution since the beginning of humankind will develop in such a form that the various social classes will come together, engage in a pleasant, calm and ‘dignified’ discussion with each other, and will afterwards hold a vote, perhaps even one with a famous ‘division’. When the capitalist class sees that it is in the minority, it, as a well-disciplined parliamentary party, will declare with a sigh, There is nothing we can do! We see that we are outvoted. All right, we shall submit and hand over all our lands, factories, mines, all our fire-proof safes and our handsome profits to the workers ...”

Indeed, the species embodied by Lamartine, Garnier Pages, Ledru Rollin, namely the species of petit-bourgeois illusionists and babblers of 1848, has not died out; it has reappeared – without the lustre and talent and allure of newness – in a boring-pedantic-scholarly German edition written by Kautsky, Hilferding and Haase.”[95]

In other words, it was the theoretical position of the revolutionary left that power cannot go to the working class without open battle against the bourgeoisie, and without class power socialism could not be built. This is where Lenin made a decisive contribution in 1917, especially in opposition to those of his own comrades who fell into the trap of equating insurrections with Blanquism.

But Trotsky was also able to make two other arguments. First, even in this chapter, and then in the next, he demonstrated that Lenin did not create an insurrection out of nothing. Even less did he create the leadership of the insurrection out of nothing. He fought passionately with his comrades precisely because he knew that the Bolshevik party, built over so many years, with so many vanguard workers, could not be replaced in the middle of a revolution:

“It required a mighty confidence in the proletariat, in the party, but also a very serious mistrust of the Central Committee, in order over its head, upon his own personal responsibility, from underground, and by means of a few small sheets of notepaper minutely inscribed, to raise an agitation for an armed revolution, for an armed overthrow of the government. How could it happen that Lenin, whom we have seen at the beginning of April isolated among the leaders of his own party, found himself again solitary in the same group in September and early October? This cannot be understood if you believe the unintelligent legend which portrays the history of Bolshevism as an emanation of the pure revolutionary idea. In reality Bolshevism developed in a definite social milieu undergoing its heterogeneous influences and among them the influence of a petty bourgeois environment and of cultural backwardness. To each new situation the party adapted itself only by way of an inner crisis.

In order that the sharp pre-October struggle in the Bolshevik upper circles may come before us in a true light, it is necessary again to look back at those processes in the party of which we spoke in the first volume. This is the more necessary since exactly at this present time the faction of Stalin is making unheard-of efforts, and that, too, on an international scale, to wipe out of historic memory every recollection of how the October revolution was in reality prepared and achieved.”[96]

In the next chapter, ‘The Art of Insurrection’, Trotsky attempts to demonstrate that theoretical clarity by itself could not have made a successful insurrection. This was at the same time therefore a restatement of the historical role of Trotsky himself in October, for it was he, as the principal leader of the Petrograd Soviet, who took the actions that led to the insurrection while constantly hiding it from the enemies of the revolution.

When the old executive committee of the Petrograd Soviet had resigned, Trotsky had been elected the new chairman. From this position, he symbolised Bolshevism to the mass of workers and soldiers. Also, from this position, he was better able to feel the pulse of the workers and soldiers. He was sanguine that for the insurrection to succeed, it had to be made through the Petrograd Soviet. The Central Committee majority, while agreeing on the need for an insurrection, likewise differed with Lenin’s tactical Proposals. On October 15, there was a meeting of the Central Committee, the Petersburg Committee and other prominent activists. The discussions revealed that many activists, including some who had been to the left of Lenin during the July Days, felt that an uprising in the name of the party would not get adequate popular support.[97] The next day, there was a meeting of the Central Committee which Lenin could at last attend. There too, reports were presented that showed that an uprising organised by the Petrograd Soviet would be more popular than one organised by the party.[98]

In many Soviets, the majority was left, but not purely Bolshevik. The leftists included Left SRs, anarchists (mainly in factory committees, but also in a few Soviets like Kronstadt), leftwing Mensheviks, etc. The left SR support was vital above all, for they represented the revolutionary peasantry. Another reason for sticking to the Soviets was that the long established dual power tradition could be used to screen offensive moves. Thus, when a rumour arose concerning a counter-revolutionary plan to abandon the capital, Trotsky formally proposed an all out opposition to any transfer of seat of the government out of Petrograd. On October 11, he spoke before the Congress of Northern Soviets: “Our government can run away from Petrograd, but the revolutionary people will never leave Petrograd.”[99]The Petrograd Soviet became aware that Kerensky was trying to transfer many of the military units out of Petrograd. The Executive Committee of the Soviet decided to respond by creating a Committee of Defence, soon to be renamed Military Revolutionary Committee. This was an executive organ of the Petrograd Soviet, and the tasks given to it included both defensive and offensive ones.[100] Trotsky did not move according to a set plan, but improvised, using events as they came up.  A delegation of workers came to him and said that they needed weapons, which an arms factory would supply if the Soviet ordered it. Trotsky gave an initial order for five thousand rifles, which was immediately complied with.[101] In the same way, the Garrison Conference of October 18, saw almost the entire garrison declaring their readiness to come out at the call of the Petrograd Soviet.[102]On the same day, Trotsky issued a declaration: 

“I declare in the name of the Soviet: we have not been planning any kind of armed initiative. However, if the course of events forced the Soviet to take an initiative, workers and soldiers would respond....  at the first attempt.... to disrupt the Congress of Soviet.... we shall answer with a counter attack.[103]


This gave the complete definition of the intended insurrection a political offensive under the formula of military defence. The All Russia Central Executive Committee postponed the Soviet Congress by six days at last moment. The Petrograd Soviet put the six days to good use.  On the night of October 21, General Polkovnikov, in charge of the Petrograd garrison, refused to allow any access to the Military Revolutionary Committee of the Petrograd Soviet.   The Military Revolutionary Committee responded by calling on the soldiers not to accept any directive unless countersigned by it.[104] On October 23, Trotsky won over the garrison at the Peter and Paul Fortress and the Kronverk Arsenal.[105]As yet, every step had been taken by pointing to the quite genuine counter revolutionary threat and calling for defence. Trotsky’s strategy was thus covered by Soviet legality. He was aware that the masses were in favour of action by the Soviets. By October 24, when the insurrection began, it had been virtually secured. The government’s attempt at this stage, to close down the Bolshevik press, provided the perfect scope. The Military Revolutionary Committee stated, on the same day that “Two revolutionary papers, Rabochii Put and Soldat, have been closed down by the plotters from the General staff. The Soviet will not tolerate the strangling of free speech.[106] The insurrection had begun. The deceptive ruses were intended for the enemy. For the working masses, at each stage the Bolsheviks proclaimed the goal of Soviet power, and explained that it could be established by overthrowing the Provisional Government.

In his The History, Trotsky explains the nature of class-party relationship as it had developed on the eve of the revolution:

“The Party set the Soviets in motion, the Soviets set in motion the workers, soldiers and to some extent the peasantry. What was gained in mass was lost in speed. If you represent this conducting apparatus as a system of cog-wheels ...... the impatient attempt to connect the party directly with the gigantic wheel of the masses - omitting the medium sized wheel of the Soviets — would have given rise to the danger of breaking the teeth of the party wheel, and nevertheless not setting sufficiently large masses in motion.”[107]


It has been remarked that:

“In so far as the October insurrection meant a total rupture with the remnants of the Tsarist state, as well as the emerging bourgeois state, the revolution’s victory meant, not a continuity of the old legality, but its destruction, however peaceful the revolution might be. But, the degree of Bolsheviks’ commitment to Soviet democracy and Soviet legality is a different matter. As long as there existed Provisional Government, claiming (though with indifferent success) the allegiance of the troops, it was pointless to imagine that a Congress of Soviets could meet and decide to take over power, without meeting armed resistance from the government.”[108]

The political leadership of the insurrection certainly came from the Bolsheviks, whose Central Committee had decided on it. But the party acted democratically through the Soviet. Trotsky has sometimes been accused of Soviet legalism. It is possible to argue that as the President of the Petrograd Soviet, he was aware that the working class could / should not be duped. Charges of this kind actually reveal a substitutionist attitude, with the working class being treated as a backward mass fit only to be led by the Party.

The decision for going ahead with the insurrection on the eve of the Soviet Congress, rather than after it gave a formal sanction, was based on an awareness that what decision the Second Congress of Soviets would adopt depended on who controlled the guns. As recent history shows repeatedly, even an anti-dictatorial democratic struggle, whether in Thailand or in Egypt, has to face this hurdle, the question of the armed forces. There was no coup involved in October, but the guns had to be won over.


The October Revolution was a tremendous act of social emancipation. It ended centuries of tsarist oppression along with the extremely exploitative capitalist development of Russia. It liberated the peasants and the nationalities. It aroused the masses to political life, and provided inspiration to a whole generation. The democratic and socialist ideals of October did not only attract the exploited and oppressed masses. They also inspired the best of the artists and intellectuals, who were irresistibly drawn to the cause of the Revolution. Going beyond Russian borders, the October revolution inspired radicals fighting for national liberation and social emancipation everywhere. Virendranath Chattopadhyay, the Indian revolutionary, a member of the Berlin Committee, testified that they were electrified when the Bolshevik tribune talked about the liberation of colonies at the negotiations of Brest Litovsk in March 1918. In an age when Stalinists are becoming upholders of neo-liberalism, when cynicism is rampant, when the very idea of building a new and better world is met with knowing sneers it is difficult to imagine the spirit of liberation that was born out of the Russian Revolution.

For all the horrors of Stalinism, the October Revolution proved in practice the superiority of a nationalized planned economy. It proved that it was possible to run the economy of a vast country without landlords, bankers and private capitalists. In the words of Leon Trotsky, it proved the superiority of socialism, not in the language of Marx's Capital but in the language of cement, iron, steel, coal and electricity. Thanks to the colossal advantages of a nationalized planned economy, the USSR made notable strides forward in education, science, art and culture. A land where large sections of the population had been illiterate before October experienced a cultural revolution like no other in previous history. The discourse and the actuality of women’s liberation, under the greatly difficult situations of civil war, economic isolation, and the legacy of backwardness, were well integrated into the project of socialist construction until the rise of Stalinism and the consequent partial reversal of the gains of women.

The Stalinist bureaucracy that usurped power however was a major impediment. In the long run, as scholars like H. H. Ticktin have shown, it ruined the economy[109].And ultimately it turned to capitalist restoration to preserve its privileges and transform them into lasting class power – in the name of democratic revolutions in the USSR, and some East European countries, and in the name of the party in China.

And what have the admirers of capitalism got to say about Russia today? The restoration of capitalism has not conferred any benefits on the peoples of the former USSR. As Trotsky predicted, the return to capitalism in the Soviet Union has caused an unprecedented decline in the productive forces and culture. In place of the monstrous corrupt regime of the Stalinist bureaucracy, we have the even more monstrous and corrupt regime of Putin. There can be no return to the conditions of 1917. But for working people anywhere, resistance to neoliberal capitalism must lead to reassertion of class power, class democracy. For this, re-learning the lessons of what really happened during the Russian revolution is vital, and no book is more suitable for that than Trotsky’s great history.



[1] The Trotsky biographies are, Robert Service, Trotsky, A Biography (Cambridge, MA: Harvard University Press, 2009), Ian D. Thatcher, Trotsky (London: Routledge, 2003), Geoffrey Swain Trotsky, Longman, 2006. For critiques of the biographies see Paul Le Blanc, “Second Assassination of Leon Trotsky,” Links, International Journal of Socialist Renewal, December 25, 2009 (http://links.org.au/node/1440); Thomas Twiss and Paul Le Blanc, “Revolutionary Betrayed: Leon Trotsky and His Biographer,” International Socialist Review, issue 71, May-June 2010; and David North, Leon Trotsky & the Post-Soviet School of Historical Falsification [Oak Park, MI: Mehring Books, 2007].

Serious recent works on Trotsky’s Marxism and aspects of his life and work see Kunal Chattopadhyay, The Marxism of Leon Trotsky (Kolkata: Progress Publishers, 2006); Bill Dunn and Hugo Radice, eds., 100 Years of Permanent Revolution, Results and Prospects (London: Pluto Press, 2006); Ernest Mandel, Trotsky As Alternative (London: Verso, 1995); Michael Löwy, The Politics of Combined and Uneven Development (Chicago, IL: Haymarket, 2010).

[2]For Cold War histories that claim/ed that the Bolsheviks were a minority bent on seizing power in an undemocratic manner, see L Schapiro, The Origin of the Communist Autocracy, (Cambridge, MA: Harvard University Press, 1966); Richard Pipes, The Russian Revolution, (New York: Knopff. 1990). For the most popular post-Cold War account along that tradition see Orlando Figes, A People’s Tragedy: The Russian Revolution, 1891-1924, (London: Jonathan Cape, 1996). Figes is different from the earlier Cold Warriors, not in his assessment of the evils of the Russian revolution, but in his rejection of those historians’ views that the masses were passive tools. Instead, he argues, it was to degenerate into dictatorship and violence precisely because it was a people’s revolution. The people, you see, were barbaric. Simon Schama must be applauding from his corner. See Simon Schama, Citizens: A Chronicle of the French Revolution. (New York: Vintage Books, 1990). For orthodox Stalinist historiography, see the classic work, Isaac Izrailevich Mints, Istoriia Velikogo Oktiabria, 3 vols. (Moscow: Izdatelstvo Nauka, 1967-72).


[3]Leon Trotsky, The History of the Russian Revolution, (Delhi: Aakar Books. 2011), pp. 17-18. Hereafter all quotations from the History will be from this edition, and by page.

[4] Ibid, p.21.

[5] Orlando Figes, A People’s Tragedy: pp 112-113.

[6] Leopold Henri Haimson, “The Problem of Political and Social Stability in Urban Russia, 1905-1917,” Slavic Review 23 (Dec. 1964): 619-642 and Slavic Review 24 (March 1965): 1-22

[7]William G. Rosenberg, Liberals in the Russian Revolution: The Constitutional Democratic Party 1917-1921, (Princeton, NJ: Princeton University Press, 1974).

[8]V.E. Bonnell, Roots of Rebellion, (Berkeley: University of California Press, 1983); D. Koenker; Moscow Workers and the 1917 Revolution, (Princeton, NJ: Princeton University Press, 1981);  D. Mandel; The Petrograd Workers’ and the Fall of the Old Regime, (London:MacMillan, 1984); The Petrograd Workers and the Soviet Seizure of Power, (London:MacMillan, 1984); Factory Committees and Workers’ Control in Petrograd in 1917, (Montreuil: IIRE, 1993).

[9]Paul Le Blanc, Lenin and the Revolutionary Party, (New York: Humanity Books, 1993); Soma Marik, Reinterrogating the Classical Marxist Discourses of Revolutionary Democracy,  (Delhi: Aakar Books, 2008).

[10]Isaac Deutscher, The Prophet Outcast: 1929–1940 (New York: Vintage Books, 1963), p. 125

[11]L. Trotsky,  Stalinskaya shkola falsifikatsii, in Voprosy Istorii, no. 7, 1989.

[12]On this see George Novack, Understanding History (New York: Pathfinder Press, 1972); Michael Lowy, The Politics of Combined and Uneven Development: The Theory of Permanent Revolution, (Chicago: Haymarket Books, 2010), and Kunal Chattopadhyay, The Marxism of Leon Trotsky.

[13]Leon Trotsky, History, pp. 26-27.

[14]Ibid, p 33.


[16]Ibid, pp. 72-84.

[17]Ibid, p. 116.

[18]Ibid, p.92.

[19]This traditional view has however been questioned by John Sweetman, Tannenberg 1914, (London:Cassell, 2002). But Dennis Showalter, Tannenberg: Clash of Empires, 1914, ( Hamden, Connecticut: Archon, 1991); as well as a number of other scholars argue that Younger Moltke was so much anxious about the pace of Russian advance in East Prussia that he weakened the right wing of the German push along Belgium leading to Von Kluck's defeat at Marne.

[20]Leon Trotsky, History,p.40.

[21] Ibid, p.165.

[22] Ibid. pp.124-125 .

[23] One can mention a number of historians. In particular, it is possible to talk about Richard Pipes, a scholar who worked as an analyst for the CIA. See Richard Pipes, The Russian Revolution. For critiques of Pipes’ view that the October Revolution was, rather than a popular general uprising, a coup foisted upon the majority of the Russian population and the national minorities, by a tiny segment of the population driven by a select group of intelligentsia who subsequently established a “totalitarian” dictatorship which was intolerant and repressive from the start, see David C. Engerman, Know your enemy. The rise and fall of America's Soviet experts. (Oxford: Oxford University Press, 2009) See also Peter Kenez,  ‘The Prosecution of Soviet History: A Critique of Richard Pipes' The Russian RevolutionThe Russian Review, vol. 50, 1991, pp. 345-51.

[24]Leon Trotsky, History, p.141

[25]This discussion has been summarized in Soma Marik, Reinterrogating the Classical Marxist Discourses, pp.321-23.

[26]Trotsky, pp.169-70.

[27]Ibid., p.171

[28] This has been done in Kunal Chattopadhyay, Leninism and Permanent Revolution, Antar Rashtriya Prakashan, Baroda, 1987; as well as in Kunal Chattopadhyay, The Marxism of Leon Trotsky. See also the editors’ introduction in Kunal Chattopadhyay, Anindya Banerjee and Saurobijoy Sarkar Eds, Leon Trotsky, Permanent Revolution and Results and Prospects, Aakar Books, Delhi, 2006

[29] Doug Lorimer, Trotsky's Theory of Permanent Revolution—a Leninist Critique, Resistance Books, Sydney, 1998.

[30] On this, see Soma Marik, Reinterrogating the Classical Marxist Discourses, pp. 328-330, 333-335, 338-340.

[31] John Reed, Ten Days That Shook the World, London: Penguin (1977), p. 128

[32] Trotsky, History, p. 305.

[33] Ibid., p.321.

[34] Ibid, p.457.

[35] Ibid, p.462.

[36] This has been discussed at length in Marik, Reinterrogating…, and in a number of specialized articles like Soma Marik (2004), ‘Gendering the Revolutionary Party’, in B. Chaqtterjee and K. Chattopadhyay (Eds), Perspectives on Socialism, Kolkata, Progressive Publishers, pp. 13-50; Soma Marik (1999), ‘Biplabi Dal o Linga Samata’, in P. Majumdar (Ed.), Loukik Udyan – Manabi Sankhya, Kolkata: UBI Staff welfare and Cultural Society, pp. 379-406.

[37] See M. Donald, ‘Bolshevik Activity Amongst the Working Women of Petrograd in 1917’, International Review of Social History, vol.XXVII, 1982. See also Pravda, 7 May 1917 and 31 May 1917.

[38] Pervyi legalnyi komitet Bolshevikov v 1917g, Moscow, 1927, p.33.

[39] Ibid., p.40

[40] Lyudmilla Stal, a prominent Bolshevik woman, made this point later in her memoirs of 1917. See M. Donald, ‘Bolshevik Activity Amongst the Working Women of Petrograd in 1917’, p.137.

[41] Ibid., p.139.

[42] See Pravda, 26.11.1917.

[43] Rabotnitsa, 30 May 1917.

[44]B. Evans Clements, Bolshevik Women, Cambridge: Cambridge University Press, 1997, pp. 132-3.

[45] W. G. Rosenberg, Liberals in the Russian Revolution: The Constitutional Democratic Party, 1917-1921, Princeton Univ Pr (June 1974)


[46] Trotsky, History, vol II, p.515.

[47] Ibid, p.516.

[48] Ibid, pp. 626, 629-30.

[49] Ibid, p. 653.

[50]Ibid, p.658.

[51]Ibid.p. 659.

[52]Ibid, pp.706-7.

[53]Ibid, p. 739.

[54]Ibid, p. 733.

[55] For similar views see particularly Charles Bettelheim (1976), for whom “The establishment of the dictatorship of the proletariat means that the proletariat sets itself up as the ruling class and this cannot be done through organs of the soviet type, which are mass organisations, or through state organs exclusively derived from these. The constitution of the proletariat as ruling class is necessarily effected through an apparatus that is specifically proletarian in ideology and aims, and in the role of leadership and unification that it plays in relation to the masses. ‘In other words, through a proletarian party that plays this leading role, politically and ideologically, and plays it, too, in relation to the machinery od state issuing from the mass organisation”. Class Struggle in the USSR, First Period 1917-1923. New York: Monthly Review Press, p. 109.

[56] V.I. Lenin, Collected Works, 4th English Edition, volume 24, Moscow, 1980, Progress Publishers, hereafter cited in the form LCW:  24, pp. 145-6.

[57] Based on data in Voprosy Istorii KPSS, no.2, 1958.

[58] V.I. Lenin, ‘On Compromises’ in LCW: 25, pp.310-14.

[59] V. V. Kutuzov, ed., Velikaia Oktiabrskaia Sotsialisticheskaia Revolutsiia — Khronika Sobytii. , Moscow, 1957, vol.3, p.226. The SRs had 40, giving the Bolsheviks a clear lead over the combined Menshevik-SR bloc.

[60] A. Andreyev, The Soviets of Workers and Soldiers Deputies on the eve of the October Revolution, Moscow, 1971, p.260.

[61] L. Trotsky, History of the Russian Revolution, vol.2, p. 781.

[62] Ibid, p.806 gives the voting figures.

[63] Ibid., p.804.

[64] Ibid., p. 805.

[65] A. Andreyev, The Soviets of Workers and Soldiers Deputies on the eve of the October Revolution, p.263.

[66] L.Trotsky, History of the Russian Revolution, vol.2, p.803.

[67] O. Anweiler, The Soviets, p.179.

[68] The text of the resolution is in Vtoroi Vesrossiiskii Sezd Sovetov , Moscow, 1957, pp.119-20. It gives 22 September as the date. O. Anweiler, The Soviets, p.181 gives the date as 21 September.

[69] For a nearly complete checklist, see Vtoroi Vserossiiskii S”ezd Sovetov, pp.121-216.

[70] Apart from Anweiler and Trotsky, see A. Rabinowitch, The Bolsheviks Come to Power, New York 1976.

[71] M. Ferro, The Bolshevik Revolution, London, 1985, Routledge and Kegan Paul, p.233.

[72] L.Trotsky, History of the Russian Revolution, vol.2, p. 839, Ferro, The Bolshevik Revolution, p,233 gives somewhat different figures.

[73] L. Trotsky, History of the Russian Revolution, vol.2, p.841; M. Ferro, The Bolshevik Revolution, p.233.

[74] L. Trotsky, History of the Russian Revolution, vol 3, p 872.

[75]Ibid., p.871.

[76] Ibid, p.888.

[77]Ibid, p. 891.

[78] V.I. Lenin, ‘The Bolsheviks must assume power’ in LCW: 26, Moscow, 1977, p.19.

[79] R. Schlesinger, History of the Communist Party of the USSR , pp.121-2, rejects the view that Lenin found the Central Committee, or large parts of it, as a hindrance, saying that it is a Trotskyist myth, Trotsky’s own detailed account is in L. Trotsky, History of the Russian Revolution, vol.3, pp. 975- 1016. As we have argued, Trotsky did not make as simplistic a claim as Schlesinger implies.

[80] LCW: 26, p.20.

[81] Ibid, pp.22-4

[82] The Bolsheviks and the October Revolution, Minutes of the Central Committee of the Russia Social Democratic Labour party (Bolsheviks), August 1917 — February 1918, London, Pluto Press, 1974, translated by Anne Bone, with additional notes by T. Cliff, p.58.

[83] Ibid., p.69

[84] Quoted in L.Trotsky, History of the Russian Revolution, vol.2, p.839.

[85] The Bolsheviks and the October Revolution, p.78.

[86] Rabochii Put, October 8, 1917, English translation in The Bolsheviks...., pp.79-81.

[87] L. Trotsky, History of the Russian Revolution, vol.2, p.841.

[88] LCW: 26, p.70

[89] Ibid., p.83.

[90] V.I. Lenin, ‘Letter to the Central Committee, the Moscow and Petrograd Committees and the Bolshevik Members of the Petrograd and Moscow Soviets, in ibid., pp.20-21, 58, 80-81, 141.

[91] Ibid., p.141.

[92] Ibid., p.83.

[93] L.Trotsky, The History of the Russian Revolution, vol.3, p. 975.

[94]Kunal Chattopadhyay, ‘Rus Biplaber Oitihasiker Bhumikaye Trotsky’, [Trotsky as Historian of the Russian Revolution] Arani, 1977-78, pp.72-85, especially pp.83-84. Reading the essay, Professor Sushovan Sarkar , the founder of Marxist historiography in Bengal, had argued that this was a rather mechanical view of the materialist conception of history. He argued that leadership is something that develops historically, and while leadership is certainly only a link in a chain; the leadership cannot be replaced overnight.

[95]Rosa Luxemburg, ‘Die Nationalversammlung’, in Gesammelte Werke, Bd 4, Berlin: Dietz Verlag, 1990, pp. 407-8. This translation is based on the translation provided by Robert Looker, edited and introduced, Rosa Luxemburg: Selected Political Writings, New Tork: Random House, 1972, pp.262-3, but somewhat modified.

[96] L.Trotsky, The History of the Russian Revolution, vol.3, pp.138-139.

[97] See J. Bunyan and H. H. Fisher, The Bolshevik Revolution, 1917-1918: Documents and Materials, Stanford, 1934, pp.69-74.

[98] The Bolsheviks and the October Revolution, pp.97-99.

[99] Leon Trotsky Speaks, Pathfinder Press, New York, 1972, p.59

[100] L.Trotsky, The History of the Russian Revolution, vol.3, pp.950-52.

[101] Ibid, p.949

[102] Ibid, pp. 954-55.

[103] M. Macauley, ed, The Russian Revolution and the Soviet State 1917-1921: Documents, London, 1988, pp.119-21

[104] Leon Trotsky Speaks, pp.67-8

[105] N. N. Sukhanov (1955) (Tr. And Ed, Joel /Carmichael), The Russian Revolution, London: Oxford University Press, pp.595-6.

[106] Bunyan and Fisher, The Bolshevik Revolution, 1917-1918: Documents and Materials, p.86.

[107] L. Trotsky, History of the Russian Revolution, vol.3, p. 1130.

[108] Soma Marik, Reinterrogating , p. 356

[109] Ticktin has written extensively on the Soviet Union and its breakdown. See for example H H Ticktin: Origins of the Crisis in the USSR: Political Economy of the disintegration of a system, Myron Sharpe, Armonk, 1992. For a positive appreciation of Ticktin and a critique of earlier approaches (Mandel versus Tony Cliff, etc), see Marcel van der Linden, Western Marxism and the Soviet Union, Chicago, Haymarket Books, 2009.

রুশ বিপ্লব - সমাজ বিপ্লব না ষড়যন্ত্র ?




সোমা মারিক

[২০১৭-র ভূমিকাঃ এই প্রবন্ধটি মূল্যায়ন পত্রিকার অক্টোবর ’৯৭ – মার্চ ’৯৮ সংখ্যাতে প্রকাশিত হয়। পুরো নতুন করে তা ঢেলে সাজানো এখনই সম্ভব নয়। উপরন্তু, যে সংকলনে এই প্রবন্ধটি প্রকাশিত হবে, তাতে অন্য একাধিক প্রবন্ধে কয়েকটি জরুরী বিষয় আলোচিত হবে। কেবল কিছু অন্তটীকার মাধ্যমে তথ্যসূত্র দিয়ে দেওয়া হল। সামান্য কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রবন্ধে কিছু সংযোজন বা পরিমার্জন করা হয়েছে। টীকা দেওয়ার ফলে সঙ্গের গ্রন্থপঞ্জী সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।]

রুশ বিপ্লবের, বিশেষত  অক্টোবর, ১৯১৭-এর সমালোচনা, নতুন নয়। যেদিন গণ-অভ্যুত্থান ঘটেছিল, মেনশেভিক নেতা ফেদোর ড্যান সেই দিনই একটি বক্তৃতায় তাকে এক "অপরাধমূলক  কাজ" বলে চিহ্নিত করেছিলেন। লিওনার্দ শ্যাপিরোর মতে, একদল লোক, যারা সংখ্যায় অল্প, কিন্তু যারা নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে সজাগ ছিল, তারা কীভাবে ষড়যন্ত্রমূলক অভ্যুত্থান করে ক্ষমতা দখল করল এবং অধিকতর গণতান্ত্রিক দাবীদারদের ক্ষমতার কাছে আসতে দিল না, ১৯১৭ পরবর্তী রাশিয়ার ইতিহাসে সেটা এক প্রধান বিষয়।[i] গত এক দশকে মার্ক্সবাদী, কমিউনিস্ট   ইত্যাদি বলে নিজেদের সম্পর্কে দাবী করার পরও আরো অনেকে এই সুরে গলা মিলিয়েছেন। দক্ষিণপন্থী বলে সুপরিচিত রিচার্ড পাইপস, নৈরাষ্ট্রবাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও আনাল স্কুলের ইতিহাসবিদ মার্কস ফেরো প্রমুখের সঙ্গে অনেকটা গলা মেলাচ্ছেন এরিক হবসবম, পরেশ চট্টোপাধ্যায়, শার্ল বেতেলহাইম ও অন্যান্যরা।[ii]

প্রত্যেক লেখকের প্রতিটি খুঁটিনাটি বক্তব্য পর্যালোচনা করার জন্য একটি গোটা বই লাগবে সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনার জন্য মূল কয়েকটি ধারা বা কয়েকটি যুক্তি ও প্রস্তাবনাকে তুলে ধরা হবে।

এই সমালোচকদের মতে (কমবেশী), 'সোভিয়েতের হাতে সব ক্ষমতা ' এই স্লোগান ছিল ভাঁওতা কারণ বাস্তবে লেনিন বারে বারে পার্টির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত  করতে চেয়েছিলেন। 

দ্বিতীয়ত, সোভিয়েত কংগ্রেস যথেষ্ট প্রতিনিধিত্বমূলক ছিল না। সংবিধান সভা ভেঙে দিয়ে বলশেভিকরা নিজেদের স্বৈরতান্ত্রিক উদ্দেশ্যে স্পষ্ট করে দেখিয়েছিলেন।

তৃতীয়ত, সোভিয়েত নয়, বলশেভিকরাই বাস্তবক্ষেত্রে অভ্যুথান পরিচালনা করেছিলেন তাঁদের নিজেদের তত্বে এই কমিটিগুলির কোনো জায়গা ছিল না।

সুতরাং এঁদের সিদ্ধান্ত মোটামুটি এইরকম --- ১৯১৭-র ফেব্রুয়ারিতে একটি গতান্ত্রিক  পরিকাঠামো রচিত হয়েছিল। গতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তাঁদের অভিসন্ধি কার্যকর হবে না   বলে বলশেভিকরা ষড়যন্ত্র করে গতন্ত্র ধ্বংস করলেন। ১৯৩০-এর দশকে যে  স্তালিনবাদী স্বৈরতন্ত্র দেখা দিল তা নতুন কিছু নয়। রুশ ইতিহাসবিদ ভলকোগোনভের মত তাঁরাও মনে করেন,লেনিন এবং ট্রটস্কী, তথা ১৯১৭-র বলশেভিক নেতৃত্ব, স্তালিনবাদী ব্যবস্থা প্রকৃত স্রষ্টাদের মধ্যে পড়েন। স্তালিনবাদ বর্জিত কোনো প্রকৃত বিপ্লবী মার্কসবাদী সম্ভব নয়, যে একাধারে গণতান্ত্রিক এবং বিপ্লবী, আর বিপ্লবী মার্কসবাদ ইউটোপীয় এবং তাকে বাস্তব রূপ দিতে হলে স্বৈরতন্ত্র অনিবার্য। এই শেষ সিদ্ধান্তটা অবশ্য তাঁরা সকলে এখনো গ্রহণ করেন নি। কিন্তু আমরা দেখব, ১৯১৭-র অক্টোবরকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করলে তার কোন বিকল্প থাকে না

১৯১৭-তে বলশেভিকবাদঃ   

লেনিন তাঁর একদল নগণ্য সংখ্যক অনুচর একটি একটি সুশৃঙ্খল রোবট-পার্টি নিয়ে ক্ষমতা দখল করলেন, এই দাবী ঠিক কিনা তা যাচাই করার রাস্তা হল ১৯১৭ সালে বলশেভিক পার্টি কেমন ছিল, তার মতাদর্শ, তার দলীয় গণতন্ত্র কেমন ছিল, তার পর্যালোচনা। বে-আইনী থাকলে  আন্তঃপার্টি গণতন্ত্র কতটা থাকতে পারে বা না পারে, ফেব্রুয়ারির গ-অভ্যুথানের পর সে সব তর্কের শেষ হয়ে যায়।বলশেভিক পিটার্সবুর্গ কমিটি মনে করেছিল, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সাধারণ ধর্মঘটের চেষ্টা করা ভুল। সাধারণ ধর্মঘট ও বিপ্লবী সরকারের ডাক প্রথম দেয় ছোটো একটি সংগঠন, মেঝরায়াঙ্কা ( আন্তঃ জেলা কমিটি )। কিন্তু এই সংগঠন কয়েক মাস পরে, ষষ্ঠ কংগ্রেসে, বলশেভিক দলে যোগ দেয়। এমন কি, মার্চের গোড়াতেই দুই সংগঠনের ঐক্যের আলোচনা শুরু হয়। তা যে সাময়িক ভেঙে গেল, তার কারণ হল মার্চের মাঝামাঝি বলশেভিকদের ডাইনে মো ঘোরাপ্রাথমিকভাবে ইতস্তত করলেও, অভ্যুথান শুরু হওয়ার পর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্লিয়াপনিকভ বুর্জোয়াশ্রেণীর তৈরী অস্থায়ী সরকারের বিরোধী ছিলেন। ভাইবর্গ এলাকার  (রাজধানীর অন্যতম প্রধান শ্রমিক এলাকা) বলশেভিক কমিটি তো আরো আগেই সোভিয়েত গঠনের উদ্যোগ নেয়।

কিন্তু ১২ মার্চ সাইবেরিয়া থেকে স্তালিন, কামেনেভ, মুরানভ , এই তিন নেতা ফেরার পর কেন্দ্রীয় কমিটি ও পার্টির মুখপত্র প্রাভদা ডাইনে মোড় নেয়। ৮ মার্চ কেন্দ্রীয় কমিটির রুশ ব্যুরোর প্রস্তাবে বলা হয়, সোভিয়েতকে সমর্থন করা উচিত, যাতে তা একটি অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার তৈরী করে। ২২ মার্চ, স্তালিন-কামেনেভের প্রভাবে, নতুন প্রস্তাবে সোভিয়েতকে আর ক্ষমতার কেন্দ্র হিসাবে দেখা হল না।বলা হল,সোভিয়েতদের অস্থায়ী সরকার (বিদ্যমান বুর্জোয়া অস্থায়ী সরকার) তার প্রতিনিধিদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে”। মার্চের শেষ দিকে, পার্টির এক সারা রাশিয়া সম্মেলনে স্তালিন তাঁর বক্তৃতায় সোজা বলেন, সরকারকে সমালোচনাত্বক সমর্থন জানাতে হবে।[iii]

ইতিমধ্যে লেনিন বিদেশ থেকে একাধিক চিঠি লিখেছেন(letters from Afar)[iv] তার সবকটি প্রাভদায় মুদ্রিত হয় নি। যখন তিনি ফিরে এসে তাঁর বিখ্যাত ‘এপ্রিল থিসিসে’ সোভিয়েতদের  হাতে সব ক্ষমতা-র কথা বলেন, প্রাভদা তা ছেপে সঙ্গে সম্পাদকীয় মন্তব্যে লেখে –এটা কমরেড লেনিনের ব্যক্তিগত মত।[v] কেন্দ্রীয় কমিটির অপেক্ষাকৃত বামপন্থী সদস্যরা (যথা শ্লিয়ানিকভ) পর্যন্ত লেনিনের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হলেন না। 

লেনিন ফেরার আগে মার্চ সম্মেলনে পার্টিতে তিনটি ধারা দেখা দেয়। ইতিনস্কির নেতৃত্বে সবচেয়ে নরমপন্থীরা মনে করলেন, মেনশেভিকদের সঙ্গে ঐক্যের পথে কোনো বাধাই নেই। স্তালিন ও কামেনেভের নেতৃত্বে মধ্যপন্থীরা জিমারওয়াল্ড কর্মসূচীর ভিত্তিতে ঐক্য চাইলেন[vi]আর মলোটভ ও পিওতর জালুৎস্কির নেতৃত্বে একাংশ মেনশেভিকদের সঙ্গে ঐক্যের বিরোধিতা করলেন। 

সম্মেলনের মাঝপথে ফিরে লেনিন যেন বোমা ফাটালেন। ভইতিনস্কি ও তার সমর্থকরা মেনশেভিক দলে চলে যান। লেনিন ও কামেনেভের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব বেধে ওঠে, তা গোটা বছর ধরেই চলেছিল। সপ্তম সারা রাশিয়া সম্মেলনে (২৪-২৯ এপ্রিল) লেনিনের প্রস্তাব পায় ৭১ ভোট, তার বিপক্ষে পড়ে ৩৯ ভোট এবং ৮ জন ভোট দান থেকে বিরত থাকেন। অর্থাৎ পার্টির তথাকথিত একনায়ক প্রথমে নিঃসঙ্গ ছিলেন, এবং পরে প্রায় ৪০ শতাংশ তাঁর বিরুদ্ধে ভোট দেয়।[vii]

মতভেদের অধিকার শুধু পার্টির উপর মহলে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যত বড় সম্ভব সভা ডাকা হত। যেমন, জুন মাসে, অস্থায়ী  সরকারের অবসান দাবী করে একটি মিছিল ডাকা হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় কমিটি, পিটার্সবুর্গ কমিটি, সামরিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কমিটি এবং ট্রেড ইউনিয়ান সেল ও ফ্যাক্টরী কমিটি সেলের প্রতিনিধিদের সম্মিলিত সভা। বিশেষ পরিস্থিতিতে যখন কেন্দ্রীয় কমিটি পরে মিছিল স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়, তখন পার্টির বিভিন্ন কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটিকে নিন্দা করে প্রস্তাব নেয় এবং লেনিন স্বীকার করেন, তাঁদের তা করার অধিকার রয়েছে।[viii]

এটাও লক্ষণীয় যে প্রতিটি কাজে বিভিন্ন মতের সদস্যদের যুক্ত রাখা হতষষ্ঠ কংগ্রেসে নির্বাচিত ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৬ জন ছিলেন কামেনেভপন্থীএর পিছনে একদিকে ছিল লেনিন ও অন্য বলশেভিক নেতাদের গণতান্ত্রিক মনোভাবথেকে আরেক দিকে ছিল তলা থেকে আসা চাপ

১৯১৭ সালে বলশেভিক পার্টির সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েফেব্রুয়ারীতে সদস্য সংখ্যা ছিল আনুমানিক ২৩,৬০০এপ্রিল সম্মেলনে তা বেড়ে হয় ৮০,০০০ এবং ষষ্ঠ কংগ্রেসে ২,৪০,০০০ব্যাপক সংখ্যক জঙ্গী শ্রমিক পার্টিতে আসেনতাঁদের উপর রাতারাতি কঠোর শৃংখলা চাপানো হবে এবং গণতান্ত্রিক বাতাবরনের অস্তিত্ব সত্ত্বেও তাঁরা সেটা নীরবে মেনে নেবেন, এটা অসম্ভব ছিল। নীচের সারনীতে কয়েকটি বড় শহরে পার্টির সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির ছবি তুলে ধরা হল  



মার্চ                     সপ্তম সম্মেলন           ষষ্ঠ কংগ্রেস

পেত্রোগ্রাদ                       ২০০০                  ১৬,০০০                        ৩৬,০০০

মস্কো                           ৬০০                    ,০০০                 ১৫,০০০

ইভানোভো ভসনেসেনস্ক          ১০                     ,৫৬৪                  ,৪৪০

একাতেরিনোস্লাভ                 ৪০০                    ,৫০০                  ,৫০০

লুগান                           ১০০                    ,৫০০                  ,৫৯৬

খারকভ                         ১০৫                    ,২০০

সারাতোভ                        ৬০                     ,৬০০                  ,০০০

কিয়েভ                          ২০০                    ,৯০০                  ,০০০

একাতেরিনবুর্গ                   ৪০                     ,৭০০                  ,৮০০

আমরা আগেই দেখিয়েছি, পার্টির পুরোনো কর্মীদের মধ্যে কোনো ফ্যাসিস্ত ধাঁচের (বা স্তালিনবাদী) হুকুমসর্বস্ব শৃঙ্খলা ছিল নাআর, যদি তর্কের খাতিরে মেনে নেওয়াও হয়, যে তা কিছুটা ছিল, ইভানোভো-ভসনেসেনস্কের  ১০ জন পুরোনো বলশেভিক ৫৪৩০ জন নতুন সদস্যকে নিয়ন্ত্রণ করছিলেন, বা এমনকি পেত্রোগ্রাদের ২০০০ জন ৩৬,০০০ জনকে নিয়ন্ত্রণ করছিলেন (যে ৩৬,০০০-এর মধ্যে ছিলেন মেঝরায়ঙ্কা সংগঠনের ৪০০০ সদস্য), এটা অবিশ্বাস্য এবং অপ্রমাণিত

এই রকম একটি দল, যা প্রতিদিন  নতুন জঙ্গী শ্রমিকদের টেনে নিচ্ছে, তার পক্ষে গোপন, ষড়যন্ত্রমূলক রাজনীতি করাই অসম্ভব ছিলযদি আমরা ১৯১৭-র মূল সংকটের দিনগুলির দিকে তাকাই এবং তখন বলশেভিকরা কি করছিল তা দেখি, তাহলে ছবিটা সম্পূর্ণতা লাভ করবে  

লেনিন তাঁর এপ্রিল থিসিসে বলেন, “এখন, শ্রমিক প্রতিনিধি পরিষদ থেকে পার্লামেণ্টারি সাধারণতন্ত্রে ফিরে যাওয়া হবে পিছু হঠাঅর্থাৎ, তাঁর ঘোষিত বক্তব্য হল, পরিষদীয় (সোভিয়েত) গণতন্ত্র সংসদীয় গণতন্ত্রের চেয়ে উন্নত, তাই সেটাই চাইএপ্রিল মাসে, পার্টির পেত্রোগ্রাদ নগর সম্মেলনে তিনি বলেন, রাশিয়াতে এখন এতটা স্বাধীনতা রয়েছে যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ছাড়া ক্ষমতা দখল করা যায় না। বলশেভিকরা সংখ্যালঘু। সংখ্যাগরিষ্ঠের উদ্যোগ ছাড়া ক্ষমতা দখল সম্ভব নয়। পার্টির কাজ সোভিয়েতের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে নিজের মতে টেনে আনা।[x]

চারটি ঘটনার মাধ্যমে আমরা দেখব, এই দিশাই গোটা বছর ধরে বলশেভিকদের দিশা ছিলসেগুলি হল যথাক্রমে ‘ এপ্রিল সংকট , ক্রোনস্তাদে প্রায় অভ্যুত্থান, জুনের মিছিল ও জুলাইয়ের আধা-অভ্যুত্থান

ফেব্রুয়ারী বিপ্লবের পরও থেকেই শ্রমিক আর সৈনিকদের দাবী ছিল, এই ভয়াবহ এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী যুদ্ধের অবসান চাই। বুর্জোয়া অস্থায়ী সরকার তাতে রাজী ছিল না। কিন্তু সোভিয়েতের সমর্থন ছাড়া অস্থায়ী সরকার টিঁকতে পারত না। ফলে সোভিয়েতের মেনশেভিক ও সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারী নেতৃত্বের সঙ্গে অস্থায়ী সরকারের রফা হয়, তারা এক ঘোষণাপত্রে জানায়, রাশিয়া চায় কোনো দেশ দখল নয়, জনগণের অধিকারের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক শান্তি।কিন্তু এটা ছিল কৌশলগত ঘোষণা।  ১৮ এপ্রিল, অস্থায়ী সরকারের বিদেশমন্ত্রী পাভেল মিলিউকভ মিত্রশক্তিকে জানান, রাশিয়ার জারতন্ত্রী সরকারের যুদ্ধ সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি ও চুক্তিগুলি থেকে অস্থায়ী সরকার পিছু হঠবে না। এই চুক্তিগুলিতে রাশিয়ার পাওনা ছিল কনস্ট্যান্টিনোপল সহ বিভিন্ন এলাকা দখলের অধিকার। এই খবর জানার ফলে জনগণ অস্ত্র হাতে পথে বেরিয়ে আসেন। ধর্মঘট শুরু হয়। সোভিয়েতের নেতৃত্ব মেনশেভিক রেভল্যুশনারী জোটের হাতে। তারা এমন পথ খুঁজছিল, যাতে মিলিউকভের এই বক্তব্য খণ্ডিত হয়, কিন্তু বিপ্লব না ঘটেএই সময় কেরেনস্কীর বন্ধু স্টাঙ্কেভিচ সোভিয়েতকে বলেন, এত চিন্তার কি আছে। আপনারা ফোনে একটা কথা বললে পাঁচ মিনিটে সরকার ইস্তফা দেবে। আপনারা ক্ষমতা নিয়ে নিন। কিন্তু তা তাঁদের কাম্য ছিল না (এবং স্টাঙ্কেভিচ তা জানতেন)। এই চাপের ফলে তাঁরা এবার মিলিউকভের সঙ্গেও রফা করতে চেষ্টা করেন। 

কিন্তু পরদিন, বলশেভিক দলের পিটার্সবুর্গ কমিটি আরেক দফা মিছিলের ডাক দেয়। তাদের দাবী ছিল, “অস্থায়ী সরকার নিপাত যাক”। কেন্দ্রীয় কমিটির বক্তব্য ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে, সোভিয়েতের মধ্যে এই দাবী তোলা যায়, সোভিয়েত সরকার গড়ার কথা বলা যায়,কিন্তু অস্ত্র হাতে পথে বেরোনো যায় না, কারণ তাহলে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠের বিরুদ্ধে যেতে হয়, যেহেতু তাঁরা সোভিয়েত নেতৃত্বকে মেনে চলছেনএপ্রিল সম্মেলনে লেনিন বলেন, ঐ স্লোগানের অর্থ ছিল এমন পরিস্থিতিতে শক্তি ব্যবহার করা, যা অনুমোদনযোগ্য নয়তবে, ব্যাপক জনপ্রতিরোধের ফলে মিলিউকভ ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন।

এর সঙ্গেই যুক্ত ছিল ক্রোনস্তাদের সংকট। দ্বীপ-দূর্গ ক্রোনস্তাদের ৮২,০০০ জন প্রাপ্ত বয়স্কের মধ্যে ছিলেন ২০,০০০ সৈনিক, ১২,০০০ নাবিক এবং যুদ্ধ শিল্পের ১৭,০০০ কর্মী। গোড়া থেকেই ক্রোনস্তাদ অস্থায়ী সরকারকে অস্বীকার করে কেবল সোভিয়েত কার্যনির্বাহী কমিটির কর্তৃত্ব মানত। এপ্রিলের শেষদিকে ক্রোনস্তাদের বলশেভিক সদস্য সংখ্যা ছিল ৩০০০ এবং সোভিয়েতে ৩০ শতাংশ আসন ছিল তাঁদের ।

মিলিউকভের বক্তব্যে ক্রোনস্তাদে তুমুল আলোড়ন হয়। নগর সোভিয়েতে নতুন নির্বাচন হয়ে বলশেভিক, বামপন্থী সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারী ও নৈরাষ্ট্রবাদীরা মিলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে১৩ মে নতুন ক্রোনস্তাদ নেতৃত্ব সোভিয়েত রাজ ঘোষণা করে দেয়। ১৪ মে বলশেভিক ও মেঝরায়ঙ্কা নেতৃত্বের পক্ষে ট্রটস্কী ক্রোনস্তাদে গেলেন। তিনি সেদিন এবং দুদিন পরে আবার তাদের কাছে আহ্বান করেন, জঙ্গী লড়াই লড়তে, কিন্তু সারা রাশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একা অভ্যুত্থানের চেষ্টা না করতেপরে যখন ক্রোনস্তাদের বিদ্রোহীদের বিচার করার কথা ওঠে, তখন সোভিয়েত কার্যনির্বাহী কমিটিতে তিনি বলেন, যখন কসাক ফাঁসুড়েরা আসবে, তখন এই জঙ্গী যোদ্ধারাই কিন্তু সোভিয়েতকে বাঁচাবার জন্য প্রাণ দেবে। অর্থাৎ বলশেভিকরা জঙ্গী লড়াইয়ের মেজাজকে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কোথাও এককভাবে যাতে সংখ্যালঘু বিদ্রোহ না হয়, তার জন্য সচেষ্ট ছিলেন।

এর পর নতুন সংকট আসে জুন মাসে। ৩ জুন প্রথম সারা রাশিয়া সোভিয়েত কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হয়। জমায়েত হন ২ কোটি শ্রমিক ও সৈনিকের (এবং কিছু ক্ষেত্রে কৃষকের ) প্রতিনিধিরা। বলশেভিক দল ও তার মিত্রেরা ছিলেন প্রতিনিধিবর্গের পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও কম। কিন্তু রাজধানী পেত্রোগ্রাদে তাঁদের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছিল। পৌর নির্বাচনে ৮০১ টি আসনের মধ্যে ১৫৬ টি পান তাঁরা, এবং বুর্জোয়া ক্যাডেট দলকে বাদ দিলে, বামপন্থীরা মোট যত ভোট পেয়েছিলেন তার এক  তৃতীয়াংশের বেশী তাঁদের দিকে পড়েছিল। সোভিয়েত কংগ্রেসে আসা দেশের প্রতিনিধিদের সামনে বলশেভিকরা প্রলেতারীয় পেত্রোগ্রাদের মেজাজটা তুলে ধরতে চাইলেন। ইতিমধ্যে প্রথম অস্থায়ী সরকারের পতন ঘটেছে, দশজন বুর্জোয়া ও ছ’জন সমাজতন্ত্রীকে নিয়ে জোট সরকার তৈরী হয়েছিল। বলশেভিকরা স্লোগান হিসেবে রাখেন,  ‘দশজন পুঁজিবাদী মন্ত্রী নিপাত যাক’ ‘সর্ব রুশ সোভিয়েতের হাতে সব ক্ষমতা’ ইত্যাদি।

যে মেনশেভিক- সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশানারী জোট তখন সোভিয়েতের নেতৃত্বে, তাঁরা সমস্ত ক্ষমতা নিয়ে আদৌ রাজী ছিল না। তাঁরা কংগ্রেসে প্রস্তাব আনলেন, এই দাবিতে কোনো প্রকাশ্য মিছিল চলবে না। কারণ হিসেবে দেখালেন, তাঁদের কাছে খবর আছে, রাজতন্ত্রীরা ষড়যন্ত্র করছে এর সুযোগে গোলযোগ করার। এই অবস্থায় বলশেভিক নেতৃত্ব গভীর আপত্তি সত্ত্বেও একটি বিবৃতি দিয়ে মিছিল রদ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, রাজতন্ত্রী ষড়যন্ত্র হচ্ছে এই দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে মিছিল স্থগিত রাখা হল, কিন্তু সোভিয়েত কংগ্রেসের সিদ্ধান্তকে প্রকৃত সরকারের সিদ্ধান্ত হিসাবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না বুর্জোয়া মন্ত্রীদের হঠিয়ে সোভিয়েতের কাছে দায়বদ্ধ সরকার গঠিত হচ্ছে। অর্থাৎ মিছিল স্থগিত রাখা হলেও, সোভিয়েত আইন ও শ্রেণী- সংগ্রাম  দুইয়ের উপর সমান জোর দেওয়া হল

পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের সভা


আর কিছু দিন পর বলশেভিকদের পক্ষেও অসন্তোষকে সংহত  রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ল। প্রতি পদে  তাঁদের ভয় ছিল, পেত্রোগ্রাদ যেন গোটা দেশের চেয়ে বেশী এগিয়ে না যায়। জুলাই মাসের গোড়ায় তাই ঘটল। প্রথম মেশিনগান রেজিমেন্টের বিদ্রোহী মেজাজকে তাতিয়ে তোলে পার্টির সামরিক সংগঠন। পার্টির পিটার্সবুর্গ কমিটিও লেনিনের সমালোচনা করে, কারণ তিনি লিখেছিলেন, জাতীয় স্তরে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত তখনও মেনশেভিক-এস আর জোটের পক্ষেঅবশেষে ৩ জুলাই, প্রথম মেশিনগান রেজিমেন্ট স্থির করে ,তারা অস্ত্র হাতে বেরিয়ে আসবেই। ট্রটস্কী পরে লেখেন, ৩ জুলাই রাতে বলশেভিক ও মেঝরায়ঙ্কা নেতৃত্বের যৌথ সভা হয়, ষড়যন্ত্রমূলক অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্যে নয়, বরং মিছিল আটকানো হবে, না তাকে সুশৃঙ্খল রূপ দেওয়ার জন্য তার শীর্ষে থাকতে হবে, সেই আলোচনার জন্য। কিন্তু রিপোর্ট আসতে থাকে, ভাইবর্গের শ্রমিক, ক্রোনস্তাদের নাবিক, সকলেই তাতে যোগ দেবেন। লেনিন পরে লিখেছিলেন, ঐ পরিস্থিতিতে স্বতঃস্ফূর্ত গ্ণ-আন্দোলনকে সমর্থন করতে অস্বীকার করার অর্থ হত প্রলেতারিয়েতের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা।

বলশেভিকদের এই ভূমিকা লক্ষণীয়। পারী কমিউনের সময় মার্কস, বা জার্মান বিপ্লবে জানুয়ারী ১৯১৯-এ বার্লিন অভ্যুত্থানে রোজা লুকসেমবুর্গের মতই, তাঁরা ঘটনা ঘটার আগে পর্যন্ত শ্রমিকশ্রেণী ও অন্য  সংগ্রামী জনতাকে সাবধান করতে চেয়েছিলেন, যে অসময়ে অভ্যুত্থান করলে বিপদ হবে, কিন্তু শ্রেণী যখন তা সত্ত্বেও লড়তে আরম্ভ করেছে, তখন শ্রেণীর লড়াইয়ে অংশ নেওয়াই কর্তব্য বলে মনে করেছেন। তফাৎ একটাই ছিল। বিগত কয়েক মাসের রণনীতি, অর্থাৎ পার্টি ও শ্রেণীর মধ্যে ক্রমাগত আদান-প্রদান বাড়ানো, পার্টিকে এমন এক নৈতিক কর্তৃত্ব দিতে পেরেছিল যে তাঁরা ঘটনাটাকে সশস্ত্র মিছিলের স্তরে ঠেকিয়ে রাখতে পারলেন, সামরিক অভ্যুত্থানে পরিণত হতে দিলেন না। পরবর্তী ঘটনাবলী দেখিয়ে দিল, তাঁদের এই কাজ কতটা ঠিক ছিল। এমন কি মস্কোতেও, অধিকাংশ শ্রমিক ও সৈনিক সংহতিমূলক লড়াইয়ে নামেন নি। উপরন্তু, হাতে অস্ত্র ধরলেও সৈনিকরা তখনো মেনশেভিক-এসআর নেতাদেরই ক্ষমতা হাতে নিতে বলেছিলেননরমপন্থীদের সম্পর্কে এই মোহ না কাটলে ক্ষমতা দখলের লড়াই সম্ভব ছিল না

মেনশেভিক-এস আর নেতৃত্ব বিদ্রোহী শ্রমিক ও সৈনিকদের ঠেকাতে কসাক ফৌজ ডাকেনবিদ্রোহী জনতাকেপ্রতিবিপ্লবীআখ্যা দেন, আর লেনিন সম্পর্কে বুর্জোয়া সংবাদপত্রগুলিতে এবং সৈনিকদের একাংশের কাছে প্রচার করা হয় যে লেনিন জার্মানীর চর, তাঁকে তথা বলশেভিক দলকে জার্মান সরকার টাকা পাঠায়  খুন করা হয় এক বলশেভিক কর্মীকেগ্রেপ্তার হন ট্রটস্কী সহ বহু বলশেভিক নেতাআত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন লেনিনবলশেভিকরা এই প্রথম সিদ্ধান্ত নিলেন, যে অভ্যুত্থান ছাড়া ক্ষমতা দখল হবে না, কারণ ফেব্রুয়ারী যে গণতান্ত্রিক বাতাবরণ এনেছিল, তাকে ধ্বংস করা হচ্ছেএরপর কী?’ শীর্ষক পুস্তিকায় ট্রটস্কী লেখেন, “ ৩-৫ জুলাইয়ের দিনগুলো মোড় ঘোরালো ... তারা দেখিয়ে দিল, পেটিবুর্জোয়া গণতন্ত্রের নেতৃস্থানীয় দলগুলি ক্ষমতা হাতে নিতে সম্পূর্ণই অপারগ’’। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প “ নিরন্তর বিপ্লব অথবা নিরন্তর হত্যা কাণ্ড ”। এটা যে নিছক বাগ্মীসুলভ গরম কথা ছিলনা, তার প্রমাণ কর্ণিলভের ষড়যন্ত্র, যাতে শুধু ক্যাডেট দল নয়, কেরেনস্কীও অনেকটা জড়িত ছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল শক্তিশালী সরকার ( অর্থাৎ এক রকম বোনাপার্তবাদ ) কায়েম করে কড়া হাতে বলশেভিক ও সবরকম বিদ্রোহী জনতাকে দমন করা[xi]

যে রাজনৈতিক দল কোনো মৌলিক শ্রেণীর (বুর্জোয়া, প্রলেতারীয়) দল, তারা অবশ্যই মনে করে, তারা ক্ষমতায় যাবে। কিন্তু কী ভাবে? বলশেভিকরা নিশ্চয় ভবিষ্যতে গবেষকদের কথা মাথায় রেখে কথা বলতেন না তাই বিভিন্ন সময়ে “ আমরা ক্ষমতা দখল করতে চাই ’’ এমন কথা বলা আশ্চর্যের নয়। কিন্তু নিশ্চিতভাবেই, তাঁদের কাজের বিবরণ দেখায়, তারা শ্রমিকশ্রেণীর অংশ হিসেবেই ক্ষমতা চেয়েছিলেন, শ্রমিক শ্রেণীর সংগেই ক্ষমতা চেয়েছিলেন।

শ্রমিকশ্রেণী, সোভিয়েত, ফ্যাক্টরী কাউন্সিলঃ

কিন্তু তবু, তাঁরা কি শ্রমিকশ্রেণীকে নিছকব্যবহার করতেচেয়েছিলেন? অর্থাৎ শ্রেণীকে উসকানি দিয়ে তাঁরা একক ক্ষমতা চেয়েছিলেন কি? এর উত্তরে শ্রমিক শ্রেণীর ভুমিকার পর্যালোচনা করতে হয়

১৯১৭-র ফেব্রুয়ারি থেকে রুশ শ্রমিকশ্রেণী ও অন্যান্য শ্রমজীবিরা যেমন নানা প্রতিষ্ঠানে সংগঠিত হচ্ছিলেন, তেমনি, সবরকম প্রতিষ্ঠানেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও হাজির ছিলসোভিয়েত ও ফ্যাক্টরী কাউন্সিল শ্রমিকের সংগঠন, এবং বলশেভিকরা শ্রমিকশ্রেণীরবহির্ভূত, এই দাবি অর্থহীনদুই মার্কিন গবেষক, ডায়েন  কোয়েনকার ও উইলিয়াম রোসেনবার্গ, এক বিপুল সংখ্যক ধর্মঘটের বিশ্লেষণ করে এই ধর্মঘটগুলির সঙ্গে রাজনৈতিক স্তরে লড়াইয়ের একটা সম্পর্ক দেখাতে চেয়েছেন[xii]গবেষক মাইকেল মেলাসঁ রুশ বিপ্লবের মহাফেজখানা থেকে একটি ফাইল পেয়েছেন, যাতে এপ্রিল থেকে অক্টোবর, কেন্দ্রীয় সোভিয়েত নেতৃত্বের কাছে পাঠানো স্থানীয় সোভিয়েতদের প্রস্তাবসমূহ রয়েছেএমন শতশত প্রস্তাব থেকে একটি ছবি স্পষ্ট ফুটে ওঠেতা হল অক্টোবরের মধ্যে, এমনকি যেসব সোভিয়েত তখনো মেনশেভিক নেতৃত্বাধীন কার্যনির্বাহী সমিতির সাথে চিঠিপত্র লিখছে, তাদেরও বৃহদাংশ সোভিয়েতদের কাছে দায়বদ্ধ সমাজতন্ত্রী সরকারের জন্যই লড়াই করছিল

১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫শে অক্টোবরের মধ্যে কমপক্ষে ১২ লক্ষ শ্রমিক ধর্মঘট শুরু করেনঅন্যদিকে, লড়াইয়ের চরিত্র পাল্টাচ্ছিলঅগাস্ট-সেপ্টেম্বরের চেয়ে অক্টোবর মাইনের দাবিতে ধর্মঘটের সাফল্যের হার কমছিলঅর্থাৎ বুর্জোয়া কাঠামোর মধ্যে যে সব দাবী, মালিকরা সেগুলিকে বেশি বেশি করে অগ্রাহ্য করছিল

অন্য দিকে, ফ্যাক্টরী কাউন্সিলগুলির প্রভাব বাড়ে, উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের লড়াই বাড়েমার্কসের কাছে, সমাজতন্ত্র মানে শুধু উৎপাদন ব্যবস্থার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব রূপ নয়, বরং শ্রমিক শ্রেণীর বিচ্ছিন্নতা বোধের অবসানতেমনি, ১৯০৫-এর বিপ্লবে ট্রটস্কী জোর দিয়েছিলেন, বিপ্লবের সময়ে ন্যূনতম আর পূর্ণ কর্মসূচীর প্রাচীর ভেঙে পড়বে এবং তার প্রধান কারণ হবে, মালিকেরা ন্যূনতম কর্মসুচী রূপায়ণে বাধা দিলে শ্রমিকরা উৎপাদন নিজের হাতে তুলে নেবেন, শিল্প জাতীয়করণ আর শ্রমিক শ্রেণী পরিচালিত সরকারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর প্রশ্ন তুলবেন[xiii]  

১৯১৭-তে কমবেশী এরকমই ঘটেছিলফেব্রুয়ারী বিপ্লবের সূচনা হয় পূর্বপরিকল্পিত পথে বিপ্লব করার জন্য নয়, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির প্রতিবাদ হিসেবেতাই শ্রমিকরা শুধু জারের পতনে খুশী হন নিতাঁরা ৮ ঘণ্টার শ্রমদিবস, ফ্যাক্টরীতে শ্রমিক ও প্রশাসনের সম্পর্কের গণতন্ত্রীকরণ, শোষণের মাত্রা হ্রাস এবং নূন্যতম অধিকারের দাবীতে লড়াই চালিয়ে যানশ্রমিকের কাছে সংবিধান শুধু ভোটের অধিকারের প্রশ্ন ছিল নাতাঁরা যখন সংবিধানসম্মত  ফ্যাক্টরীর দাবী তোলেন, তখন তাঁরা মনে করেন, সমাজে শ্রমিকের পরিস্থিতি ও মর্যাদা বাড়ানোর জন্য ফোরম্যান ও ম্যানেজারদের স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতার বিলুপ্তি ছিল আবশ্যকএই গণতন্ত্রীকরণের লড়াই ছিল তীব্রপ্রথমেই, সবচেয়ে ঘৃণিত ফোরম্যান ও প্রশাসকদের তাড়ানো হয়, বা তারা ভয়ে পালিয়ে যায়পুতিলভ ওয়ার্কসের শ্রমিকরা আধা- ফ্যাসিবাদী ব্ল্যাক হান্ড্রেড নেতা পুজানভকে মালের ঠেলায় চাপিয়ে তার মাথায় লাল সিসে ঢেলে তাকে নিকটবর্তী খালে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেনএর পর আসে একের পর এক ফ্যাক্টরীতে পুরোনো শৃঙ্খলার বিধি পোড়ানোতারপর আসে, এর পাল্টা হিসেবে, ফ্যাক্টরী কমিটি গঠন[xiv]

বলশেভিকবিরোধী ইতিহাসবিদরা যখন বলেন, ফ্যাক্টরী কাউন্সিল আন্দোলন বলশেভিকরা সৃষ্টি করেন নি, তাঁরা ঠিকই বলেনস্তালিন রচিত সেই অপূর্ব রচনা, হিস্ট্রি অফ দ্য সি পি এস ইউ (বি)- শর্ট কোর্স ও তার অনুকরণগুলি ছাড়া, এমন দাবী কোথাও নেই যে গোটা লড়াইটা এককভাবে বলশেভিক নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রনে ঘটেছিলকোনো দল একক চেষ্টায় একটি দেশব্যাপী লড়াইয়ের পূর্ণরূপ দেবে, তা হয়ও নাকিন্তু যখন দাবী করা হয়, ঐ আন্দোলন নৈরাষ্ট্রবাদীরা সৃষ্টি করেছিলেন, তখনও তা মানা যায় নাশ্রমিকশ্রেণী তার জীবন্ত সমস্যার মোকাবিলা করতে গিয়ে এই আন্দোলনের জন্ম দেয়আর তাঁদের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তাঁদের উত্তরোত্তর ক্ষমতা দখলের রণনীতির দিকে ঠেলে দেয়ফলে তাঁরা বলশেভিক নেতৃত্ব গ্রহণ করেনফ্যাক্টরী কমিটিগুলি যখন নির্বাচিত হতে থাকে, তখন দাবী করা হয়, তারাই ফ্যাক্টরীর অভ্যন্তরীণ শৃংখলা রক্ষা করবেপ্রথমে এর বেশী তারা যায় নিকিন্তু লক-আউট, সাবোতাজের সন্দেহ ইত্যাদির ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ার উপরও তাঁরা নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে শুরু করেএকদিকে, মালিকপক্ষ          দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল, কঠোর শ্রম-শৃংখলা ছাড়া পথ নেইঅন্যদিকে শ্রমিকরাও নিশ্চিত ছিলেন, পুঁজির বল্গাহীন স্বাধীনতা খর্ব না করলে অর্থনৈতিক সংকট কাটানোর পথ নেই

ফ্যাক্টরী কমিটিগুলি এবার একই সঙ্গে ফ্যাক্টরী স্তরে ম্যানেজারদের উপর নিয়ন্ত্রণ, আর জাতীয় স্তরে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের দাবী করতে থাকেঅস্থায়ী সরকার এর উত্তরে প্রস্তাব করে, ফ্যাক্টরীগুলোকে কাঁচামালের এলাকায় সরানো হোকতাদের উদ্দেশ্য ছিল, পেত্রোগ্রাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা ভাঙাশ্রমিকরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন

১ জুন, ফ্যাক্টরী কমিটিদের প্রথম পেত্রোগ্রাদ সম্মেলনে বলশেভিকরা প্রস্তাব আনেন, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে প্রতিষ্ঠান স্তরে এবং জাতীয় স্তরে একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ আনা দরকার এবং সেই সঙ্গে দরকার সোভিয়েতদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা অর্পণেরযারা ফ্যাক্টরী কমিটি আন্দোলনকে বলশেভিক বিরোধী, বা নৈরাষ্ট্রবাদী বলে দাবী করেন, বা তার দাবীদাওয়ার মধ্যে অ-বলশেভিক, খাঁটি প্রলেতারীয় প্রতর্ক খুঁজে পান, তাঁরা এই প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটির কথা ভুলে যান। বলশেভিকদের আনা প্রস্তাবটি পায় ২৯৭ ভোট, অর্থাৎ দুই- তৃতীয়াংশের সামান্য বেশি। নৈরাষ্ট্রবাদীদের প্রস্তাব পায় ৪৫ ভোট, মেনশেভিক প্রস্তাব ৮৫ ভোট।[xv] অর্থাৎ ফ্যাক্টরী কমিটির কাজের অভিজ্ঞতা থেকে শ্রমিকরা ক্রমেই মনে করছিলেন, ক্ষমতা দখল না করলে, এবং কেন্দ্রীয় স্তরেও শ্রমিকশ্রেণীর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শুধু ফ্যাক্টরী স্তরে লড়াই যথেষ্ট নয়।

ক্ষমতা দখল পর্যন্ত, এমনকি তার পরেও, বলশেভিকদের এ বিষয়ে দলগতভাবে কোনো ঐক্যবদ্ধ মত ছিল না। তাঁদের রচনায় ও কথায় শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকদের স্ব-শাসন এবং জাতিয়করণ, বিভিন্ন প্রস্তাবের সহাবস্থান লক্ষ্য করা যায়। লেনিন মনে করেছিলেন, বেশী দ্রুত শিল্প অধিগ্রহণ ঠিক হবে না বরং, একদিকে শ্রমিক রাষ্ট্র, আরেক দিকে ফ্যাক্টরী কাউন্সিল, মালিকদের নিয়ন্ত্রণ কড়া নজরে রাখবে। জাতীয়করণের দাবী সীমাবদ্ধ ছিল ব্যাংক এবং কিছু একচেটিয়া সংস্থাকে ঘিরে। বামপন্থী বলশেভিকরা, যথা ক্রিপনিক, চুবার, আন্তিপোভ প্রমুখ মনে করেছিলেন, স্থানীয়ভাবে ফ্যাক্টরী কমিটির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণটাই বড় কথা আর ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা, যথা রিয়াজানভ, লঝভস্কি, শ্লিয়াপনিকভ প্রমুখ কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার উপর জোর দেন।[xvi]

অতএব, শ্রমিকশ্রেণী এই প্রশ্নে বিভক্ত ছিল, বলশেভিক দলও তাই। কেউই ভাবেনি রাতারাতি সব জাতীয়করণ করতে হবে। এমন কি ১৯১৮-র মার্চ পর্যন্ত যত ফ্যাক্টরী জাতীয়করণ হয়, তার ৯৪ শতাংশ হয়েছিল স্থানীয় উদ্যোগে। এই  পরিস্থিতি পাল্টেছিল গৃহযুদ্ধের ফলে। যে ইতিহাসবিদরা দাবী করেন, শ্রমিকদের ঠকিয়ে বলশেভিকরা পার্টি স্বৈরতন্ত্র কায়েম করল, তাঁরা ঐ গৃহযুদ্ধের ভয়াবহ বাস্তবতার কথাটুকু ভুলে যান।

সোভিয়েত কংগ্রেস ও অভ্যুত্থানের রাজনীতি

১৯১৭-র শ্রেণী-সংগ্রামে শেষ চালগুলি চালা হয়েছিল অক্টোবরে। অস্থিতিশীল দ্বৈত ক্ষমতা- হয় বুর্জোয়া স্বৈরতন্ত্র অথবা সোভিয়েত রাজ, এই দুই বিকল্পের যে কোনো একদিকে যেতে বাধ্য ছিল। যাঁরা মনে করেন বা দাবী করেন যে গণতান্ত্রিক পরিবেশকে “বলশেভিকরা কলুষিত করেছিল” তাঁরা বুর্জোয়া শ্রেণীর রণনীতি কি ছিল তা দেখন না। প্রথম অস্থায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল আলেকসিয়েফকে লেখা চিঠিতে খেদ প্রকাশ করেন, যে সোভিয়েতের চাপে পড়ে তাঁকে সেনাবাহিনীর গণতন্ত্রীকরণ মেনে নিতে হয়েছে। অক্টোবর অভ্যুত্থানের অনেক আগেই, নৌ-দপ্তরের সহকারী মন্ত্রী ক্যাপ্টেন দুদারেভ বাল্টিক নৌ-বন্দরের প্রধান অ্যাডমিরাল ভেরদেরভস্কিকে নির্দেশ দেন, ডুবোজাহাজ ব্যবহার করে বলশেভিকপন্থী ব্যাটলশিপ (সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ) গুলিকে দরকার মত ডুবিয়ে দিতে।

৩-৪ জুলাইয়ের ঘটনার পর মিথ্যা দলিলে প্রচার করা হয় যে লেনিন জার্মান চর। ট্রটস্কী, রাসকোলনিকভ ও অন্যান্যদের গ্রেপ্তার করা। বিশেষ “অ্যাকশন স্কোয়াড” তৈরী শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে কেরেনস্কী ও কর্নিলভ হাত মেলায়। মার্চ মাসেই, শিল্পপতি পুতিলভ নেতৃস্থানীয় ধনিকদের এক গোপন কমিটি তৈরী করেন। এতে যুক্ত হন ক্যাডেট দলের নেতা কাটলার, রুশ-এশীয় ব্যাঙ্কের ডিরেক্টর ঝাভোইকো ও অন্যরা। জেনারাল আলেক্সিয়েভ, জেনারাল দেনিকিন ও বহু জেনারাল মিলে তৈরী করে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধানদের এক সংগঠন। ১৯১৮-র মধ্যভাগে এরাই শ্বেতরক্ষী বাহিনীর নেতৃত্ব দেয়।

কর্ণিলভ এদের নেতা হিসেবে দেখা দিয়েই, প্রতিক্রিয়াশীল অফিসারদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়তে শুরু করে। তার উদ্দেশ্য ছিল পেত্রোগ্রাদে সামরিক আইন জারী করা, সোভিয়েত ভেঙে দেওয়া, বলশেভিকদের বে-আইনী ঘোষণা করা এবং সরকারকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনা। আর, তার সঙ্গে শতকরা ৯৫ ভাগ পথ একত্রে হাঁটেন “গণতন্ত্রী” কেরেনস্কী[xvii]

এই অবস্থাতে, গণতান্ত্রিকতা বলশেভিকরাই দেখিয়েছিলেন। কর্ণিলভের যড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার পর আরো একবার সুযোগ আসে, বিনা যুদ্ধে সোভিয়েত ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করার। তখনও, সোভিয়েতদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে মেনশেভিক ও সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারীরা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা প্রতিশ্রুতি দেন, সোভিয়েত-ভিত্তিক সমাজতন্ত্রী সরকার প্রতিষ্ঠা করা হলে তাঁরা শান্তিপূর্ণ প্রচারে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখবেন। কিন্তু ঐ দুই দল এই প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে। জুলাইয়ের শেষ থেকে বলশেভিকদের পিছনে গণসমর্থন বাড়ছিল। ৩ আগস্ট, ওল্ড লেসানার এবং নিউ লেসানার ফ্যাক্টরীর চিকিত্‍সা ফান্ড কমিটির নির্বাচনে তাঁরা ৮০ শতাংশ ভোট পান। ২০ আগস্ট পেত্রোগ্রাদের পৌর নির্বাচনে তাঁরা পান ১,৮৪,০০০ ভোট আর মেনশেভিকরা ২৪,০০০। মস্কোতে বরো নির্বাচনে সেপ্টেম্বরে বলশেভিকরা এককভাবে ৫১ শতাংশ ভোট পান। ৩১ আগস্ট--১ সেপ্টেম্বর রাতে পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতে বলশেভিকদের আনা প্রস্তাব যে অস্থায়ী সরকার নয়, সোভিয়েত হোক ক্ষমতার কেন্দ্র, ২৭৯-১১৫ ভোটে গৃহীত হল। ঐ সোভিয়েতের কার্যনির্বাহী কমিটি ইস্তফা দিল। ৯ সেপ্টেম্বর দুপক্ষ পূর্ণশক্তি এনে লড়াই করল, সোভিয়েতের সভাপতিমন্ডলী কার হবে তা স্থির করতে। বলশেভিকরা ৫১৯-৪১৪ (৬৭ ভোটদানে বিরত) জয়ী হলেন। ৬ সেপ্টেম্বর মস্কো সোভিয়েত অস্থায়ী সরকার ও কেন্দ্রীয় সোভিয়েত কার্যনির্বাহী কমিটিকে নিন্দা করে ৩৫৫-২৫৪ ভোটে প্রস্তাব পাশ করে। কিয়েভ সোভিয়েতে ৮ সেপ্টেম্বর বলশেভিক প্রস্তাব জয়ী হয় ১৩০-৬৬ ভোটে। ২১ সেপ্টেম্বর সারাতোভ প্রাদেশিক সোভিয়েতে বলশেভিকদের ছিল ৩২০ ভোট, এস. আর.-দের ১০৩, মেনশেভিকদের ৭৬, পার্টি পরিচিতিহীন ৩৪ জনক্রোনস্তাদে নরমপন্থীদের কার্যত প্রতিনিধিত্বই ছিল না রেভাল, দোরপাত, ওয়েনডেন, তালিন সর্বত্র বলশেভিক-বমপন্থী সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।

এই পরিস্থিতিতে, পোত্রোগ্রাদ সোভিয়েত ট্রটস্কীর প্রস্তাব গ্রহণ করল, যে প্রথম সোভিয়েত কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিন মাস পরে পরে সোভিয়েত কংগ্রেস ডাকতে হবে। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নরমপন্থী নেতৃত্ব পাল্টা চাপ দিতে থাকে, সোভিয়েত কংগ্রেস না ডাকার জন্য। মস্কো আঞ্চলিক কংগ্রেস, সর্ব-সাইবেরিয় কংগ্রেস, বিয়েলোরুশ কংগ্রেস (মিনস্ক), উত্তর ককেশাস কংগ্রেস, ভ্লাদিমির ও তভারের প্রাদেশিক কংগ্রেস এবং উত্তরাঞ্চলের সোভিয়েত কংগ্রেস (পেত্রোগ্রাদ, মস্কো, আর্কেঞ্জেল, রেভাল, হেলসিংফোরস, ক্রোনস্তাদ, ভাইবর্গ, নারভা, গ্যাটচিনা,জারস্কোয়ে সেলো, বাল্টিক নৌবহর, পোত্রোগ্রাদ কৃষক সোভিয়েত এবং উত্তর পশ্চিম, দক্ষিণ-পশ্চিম ও রুমানীয় ফ্রন্টের সোভিয়েতদের সম্মেলন) সোভিয়েত কর্তৃক ক্ষমতা দখলের দাবী তোলে। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক সম্মেলন নাম দিয়ে যে সম্মেলন ডেকে নরমপন্থীরা নিজেদের জন্য নতুন ভিত তৈরী করতে চান, তা ছিল সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। বলশেভিকদের তীব্র সমালোচক, মার্ক ফেরোকেও বলতে হয়েছে, এই সম্মেলনে প্রকৃত সংখ্যাগত শক্তির প্রতিনিধি ছিল না। ১২৫০ জন প্রতিনিধির মধ্যে সোভিয়েতরা পেল ৪৬০টি আসন, সমবায়রা ১৬১টি (যার প্রতিনিধি হল বাণিজ্যিক সমবায়ের কর্মকর্তারা), আর জারের যুগের জেমস্তভোরা ২০০ ও পৌরসভারা ৩০০। এই সম্মেলন যে প্রাক-পার্লামেন্ট বা সাধারণতন্ত্রের পরিষদ তৈরী করল, তাতে উচ্চ শ্রেণীদের জন্য আসন সংরক্ষণ করে তাদের প্রাধান্য বাড়ানো হল। লেনিন একে প্রতিবিপ্লবের পরিষদ আখ্যা দেন।

এই পরিপ্রেক্ষিতে লেনিন ও ট্রটস্কী অভ্যুখানের প্রসঙ্গ তোলেন। সোভিয়েত কংগ্রেসকে সফলভাবে অনুষ্ঠিত করার জন্যও বলপ্রয়োগের বিকল্প ছিল না। এ প্রসঙ্গে অনুস্টুপে পরেশ চট্টোপাধ্যায়ের উক্তি লক্ষণীয়। তিনি বলেন, দেশের পরিষদগুলির এক বৃহৎ সংখ্যা এই দ্বিতীয় কংগ্রেসে প্রতিনিধি পাঠায় নি, তার কারণ তাঁরা ছিলেন বহু প্রতীক্ষিত সংবিধান সভার বৈঠকের পর্বে পরিষদীয় কংগ্রেস ডাকার বিরোধী।

সংবিধান সভা ডাকতে কদিন লাগে? ফেব্রুয়ারী থেকে অক্টোবর, তা কেন ডাকা হয় না? কিন্তু কোনো বৈপ্লবিক পদক্ষেপ না দিতে চাইলে সংবিধান সভা ছিল ভাল অজুহাত। জমি দখল? সংবিধানসভা স্থির করবে। শান্তি প্রতিষ্ঠা (তখনও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলছে)? সংবিধান সভা স্থির করবে। সংবিধান সভা দীর্ঘজীবি হোক, যাতে তাকে দিয়ে সোভিয়েতদের ঠেকানো যায়। তারপর তাকেও ফেলা যাবে। ২৬ সেপ্টেম্বর, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সমিতিতে মেনশেভিক নেতা দান প্রস্তাব করলেন, সংবিধান সভার নির্বাচনের স্বার্থে সোভিয়েত কংগ্রেস মুলতুবি রাখা হোক। যে সংগঠনের তাঁরা নেতা, তার নিয়মাবলী অগ্রাহ্য করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকাটাই তাহলে গণতন্ত্র! আর এযুগের বামপন্থী বুদ্ধিজীবীরাও তাতে গদগদ হয়ে পড়েন। যখন ট্রটস্কী উত্তরে বললেন, সোভিয়েত কংগ্রেস ডাকা হবেই – বিধিসম্মতভাবে না হলে তলা থেকে নতুন উদ্যোগ ণিয়ে – তখন মেনশেভিকরা পিছু হঠলেন। কিন্তু সেই সঙ্গে তাঁরা তীব্র প্রচার চালাতে থাকলেন, যেন কংগ্রেস বয়কট করা হয়। এই কারণেই, প্রথম কংগ্রেসের চেয়ে দ্বিতীয় কংগ্রেসে প্রতিনিধি সংখ্যা কিছুটা কম ছিল। কিন্তু দেশের প্রায় সমস্ত জনবহুল এলাকা থেকে প্রতিনিধি এসেছিলেন। অর্থাত্‍, বড় শিল্পাঞ্চল, সেনাবাহিনী, এরা সবাই হাজির ছিল। উপস্থিত আনুমানিক ৬৫০ প্রতিনিধির মধ্যে ৩৯০ জন ছিলেন বলশেভিক সমর্থক, এবং ১৭৯ – ৮০ জন অভ্যুখানের সমর্থক বামপন্থী সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারী। কিছু দক্ষিণপন্থী সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারী ও মেনশেভিক প্রতিনিধি আসেন নি ধরে নিয়েও বোঝা যায়, প্রতিনিধিত্ব বাড়লে ক্ষমতা দখলের প্রশ্নে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত একই থাকত।   

        উপরন্তু, কৃষক সোভিয়েতদের কার্যনির্বাহী সমিতি অভ্যুখানের এবং সোভিয়েত রাজের বিরুদ্ধে হলেও চাপে পড়ে তারা ২৩ নভেম্বর এক জরুরী কংগ্রেস ডাকতে বাধ্য হয়। এর ৩৩৫জন প্রতিনিধির ১৯৫ জন ছিলেন বামপন্থী সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারী, ৩৭ জন বলশেভিক এবং ২২জন নৈরাষ্ট্রবাদী। ৯-২৫ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নিয়মিত কৃষক কংগ্রেসের ৭৮৯ জন প্রতিনিধির মধ্যে ৩৫০ জন বামপন্থী এস. আর. এবং ৯১জন বলশেভিক ছিলেন। অর্থাৎ গ্রামাঞ্চলেও সোভিয়েত রাজের পক্ষেই মত বেশী ছিল।

তাহলে কেন অভ্যুখান আবশ্যক ছিল? প্রশ্নটা যখন স্বঘোষিত মার্কসবাদীরা করেন, তখন কিন্তু বুঝতে হয়, প্রশ্নটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অভ্যুখান কেন দরকার – তার উত্তর হল, সেনাবাহিনীর প্রধানরা, বিচার বিভাগ, ব্যাঙ্ক, সকলেই আনুগত্য ঘোষণা করছিল অস্থায়ী সরকারের প্রতি। কেরেনস্কী যেহেতু স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়বে না, তাই তাকে যে সত্যিই হঠানো হয়েছে, তা দেখাতে পারলে তবেই সার্বভৌম ক্ষমতা সোভিয়েতদের হাতে যাবে। এবং শত্রু শ্রেণীও তা মানতে বাধ্য হবে। বিপ্লব ও শ্রেণী-সংগ্রাম পার্লামেন্টে ভোট নয়। বুর্জোয়াশ্রেণী একটা রাজনৈতিক দল নয়, যারা ভোটে হেরে সঙ্গে সঙ্গে স্পীকারের রুলিং মেনে চুপচাপ বসে পড়বে। পুরানো রাষ্ট্রযন্ত্রের কেন্দ্রীয় সংগঠন তাদের হাতেই থাকে। চিলিতে আলেন্দের সরকার, বা স্পেনের পপুলার ফ্রন্ট সরকার (১৯৩৬) এই ভুলই করেছিল। তারা মনে করেছিল, তারা নির্বাচিত সরকার, তাদের রুখবে কে? কিন্তু বুর্জোয়াশ্রেণীর টাকার থলেতে টান পড়লে তারা তখন সংসদীয় রেওয়াজ মেনে চলে না।

এরপরও মিথ্যা প্রচার রয়েছে, কুয়াশা সৃষ্টির চেষ্টা রয়েছে। খুব সংক্ষেপে কয়েকটির দিকে তাকানো যাক।

প্রচার ১ : লেনিন পার্টির হাতে ক্ষমতা চেয়েছিলেন।

উত্তর : এ প্রচার অবান্তর। একটি বিশেষ প্রসঙ্গে লেনিন বলেছিলেন, সোভিয়েত কংগ্রেসদের জন্য অপেক্ষা না করে পার্টির উচিত অভ্যুত্থানের ডাক দেওয়া। তাঁর এই মত ভুল ছিল, কারণ সোভিয়েতকে এড়িয়ে পার্টি ডাক দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ পথে বেরিয়ে আসত না। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটি এ ক্ষেত্রে লেনিনের মতকে অগ্রাহ্য করেছিল। যে প্রস্তাব গৃহীত হল না, সেটাই আসল নীতি, এ কেমন কথা? বাস্তবে, যে পন্থা গৃহীত হল তার স্রষ্টা ছিলেন ট্রটস্কী। পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের সভাপতি হিসেবে তিনি সোভিয়েত ক্ষমতাকে ব্যবহার করে সোভিয়েতের নামেই অভ্যুত্থান সংগঠিত করেন। দ্বিতীয় সোভিয়েত কংগ্রেস বসবে কার তত্ত্বাবধানে – কেরেনস্কী না শ্রমিকশ্রেণী? এই প্রশ্ন তুলে সেনাবাহিনীকে জয় করে তিনি অভ্যুত্থানের ভিত্তি রচনা করেন।

প্রচার ২ : অভ্যুত্থান সোভিয়েত করে নি, করেছিল হঠাত্‍ গজিয়ে ওঠা সামরিক বিপ্লবী কমিটি।

উত্তর : পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের সভায় গণতান্ত্রিক ভাবে স্থির হয়েছিল, প্রতিবিপ্লবী বিপদের মোকাবিলা করার জন্য একটি সামরিক বিপ্লবী কমিটি তৈরী হবে। সুতরাং, ঐ কমিটি সোভিয়েতেরই কমিটি। এই কমিটিকে রাজধানী রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি হন বামপন্থী সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারী লাজিমির। পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের প্রতিনিধিদের ছাড়াও এতে টানা হয় নৌবাহিনী, ট্রেড ইউনিয়ন, ফ্যাক্টরী কমিটি, লাল রক্ষীবাহিনী ও ফিনল্যান্ডের আঞ্চলিক কমিটির প্রতিনিধিদের। মেনশেভিক ও দক্ষিণপন্থী এস. আর. রা এই সব পথে, এবং দলীইয় প্রতিনিধি পাঠিয়ে, নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখাতে পারতেন। তাঁরা স্বেচ্ছায় তা করেন নি। যদি এই কমিটিকে ষড়ষন্ত্রের সদর দপ্তর করারই পরিকল্পনা থাকত তাহলে কি এতটা গণভিত্তি রাখা হত, না মেনশেভিকদের জন্য জায়গা ছাড়া হত?

প্রলেতারিয়েত যে ক্ষমতা দখল করবে, তা তারা খালি হাতে করতে পারে না। তাদের চাই সংগঠন। সেই সংগঠন হল সোভিয়েত ও ফ্যক্টরী কমিটি। চাই রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সেটা দিল বলশেভিক পার্টি, এবং অংশত বাম এস. আর.রা। চাই অস্ত্র, যা এল সামরিক বিপ্লবী কমিটির মাধ্যমে। এই সব সংগঠনের বাইরে, শুধু কি পানশালায় শ্রমিকশ্রেণীকে খুঁজতে হবে, যেমন বলতে চেয়েছেন হালে, অর্ল্যান্ডো ফাইজেস?[xviii] না হলে, বিপ্লবটা শ্রমিকরা করে নি, বলশেভিকরা করেছিল, এমন মেকী বৈপরীত্য তৈরীর অর্থ কি? তার চেয়ে সহজে বলে দিলেই হয় – বলশেভিকরা জিতলে কিন্তু খেলব না। কিন্তু শ্রেণী-সংগ্রাম তো বাচ্চাদের খেলা নয়। তাই এই উক্তিগুলিও একটা শ্রেণীর দিকেই যায়, আর সে শ্রেণী শ্রমিকশ্রেণী নয়।

সোভিয়েত গণতন্ত্র ও সংবিধান সভা

অক্টোবর অভ্যুখানের পর সোভিয়েত ব্যবস্থা অনেক গভীরতা ও ব্যাপ্তি লাভ করে। গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়া পর্যন্ত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মানুষ নিজের জীবন চালায়। এমন কি, গৃহযুদ্ধ সত্ত্বেও নীচের দিকে সোভিয়েতগুলি ১৯২০-২১ পর্যন্ত প্রাণবন্ত থাকে। উয়েঝদ্ কংগ্রেসগুলিতে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সমিতিতে বলেশেভিকদের অনুপাত ছিল ১৯১৯-এ ১২.২. শতাংশ, ১৯২১-এ ৭.৬ শতাংশ। পেত্রোগ্রাদের প্রথম নগর জেলা সোভিয়েত ১৯১৭-র নভেম্বর থেকে ১৯১৮-র জুন পর্যন্ত পৌরসভাকে তো বটেই; কেন্দ্রীয় সোভিয়েত কতৃর্পক্ষ-কেও হঠিয়ে দিয়ে পরিষেবা ইত্যাদি সংগঠিত করতে থাকে। এপ্রিল ১৯১৮ থেকে তারা নিজেদের এলাকার সংবাদপত্র প্রকাশ করে। গৃহযুদ্ধের প্রথম সাড়ার মধ্যেও মে-জুনে ঐ সোভিয়েতের শ্রমিক সম্মেলনে আসেন ১৩৪ জন বলশেভিক, ১৩জন বাম এস আর, ৩০ জন মেনশেভিক ও ২৪ জন এস.আর।[xix] লেনিন যখন বলছিলেন, যে সোভিয়েত, অর্থাত্‍ প্রলেতারীয় গণতন্ত্রের সমাজতন্ত্রী চরিত্র নিহিত হয়েছে এই তথ্যে যে এই প্রথম গোটা জনগণ প্রশাসন শিখতে শুরু করেছেন[xx], তখন তিনি ভাঁওতা দিচ্ছিলেন না।

এই সময়ে সমালোচকরা আবার রণহুঙ্কার দেন। তাঁদের হাতে পতাকা-সংবিধান সভা। তাঁদের মুখে এই শতাব্দীর মহত্তম বিপ্লবী শহীদদের অন্যতম, রোজা লুক্সেমবুর্গের নাম। লুক্সেমবুর্গও তো সংবিধান সভা ভাঙার সমালোচনা করেছিলেন, তাই নয় কি?

অবিভক্ত সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক দল তার দ্বিতীয় কংগ্রেসে, ১৯০৩ সালে, নারী ও পুরুষের সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সংবিধান সভার নির্বাচন দাবী করেছিল। ১৯১৭-তেও এই দাবী বলশেভিক কর্মসূচী থেকে বাতিল হয় নি। তার দুটি কারণ ছিল। প্রথমত, ট্রটস্কী ছাড়া ১৯১৭-র আগে কেউই মনে করেন নি যে রুশ বিপ্লব বুর্জোয়া সীমানা ছাড়িয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত, ১৯১৭-তেওযতক্ষণ না সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের বাস্তব রূপায়ন হচ্ছে, ততক্ষণ বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে সংবিধান সভার দাবী রাখা আবশ্যক ছিল। উপরন্তু, সংবিধান সভাকেও তখন ক্যাডেট, এস. আর এবং মেনশেভিকরা বানচাল করতে চাইছিল। রয় মেদভেদেভ তাঁর দ্য অক্টোবর রেভল্যুশন বইয়ে এস. আর. নেতা বোরিস সকো্লভের স্বীকারোক্তি তুলে ধরেছেন – যে এস. আর. –রা বাস্তবে সংবিধান সভা বসাতে চাইছিল না, আর যে ক্যাডেট দল কর্ণিলভের অভ্যুখানের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল, তারা তো সংবিধান সভা অবশ্যই চায় নি। সুতরাং, যতক্ষণ না উন্নততর, সোভিয়েত গণতন্ত্র আসছে ততক্ষণ বুর্জোয়া স্বৈরতন্ত্রের প্রতিতুলনায় বুর্জোয়া গণতান্ত্রিকতার নিদর্শন হিসেবে সংবিধান সভার একটা আপেক্ষিক প্রগতিশীলতা ছিল।

        সংবিধান সভার নির্বাচন হয় ১৯১৭-র নভেম্বর-এ। ফল ঘোষিত হয় ৩০ ডিসেম্বর। ৭০৭ জন প্রতিনিধির মধ্যে দলগত ভাগ ছিল নিম্নরূপ :

মোট প্রতিনিধি                   : ৭০৭

এস. আর                       : ৩৭০

মেনশেভিক                      : ১৬

পপুলার সোশ্যালিস্ট               : ০২

ক্যাডেট                         : ১৭

বলশেভিক                       : ১৭৫

বাম এস. আর                   : ৪০

সংখ্যালঘু জাতি                   : ৮৬

অজ্ঞাত                          : ০১


এই পরিসংখ্যান দিয়ে করা হয়, এস. আর-রা এখানে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা পেয়েছিল। কিন্তু এস. আর দলের ইতিহাসবিদ র‍্যাডকি মনে করেন, সংখ্যালঘু ৮৬ জনের একটা বড় অংশ, এবং বিভিন্ন প্রশ্নে এস. আর-দের একাংশ, বলশেভিক-বাম এস. আর জোটের দিকে যেত, ফলে কোনো স্থিতিশীল অবস্থা হত না।[xxi]

দ্বিতীয়ত, ভোটের ইতিহাস উল্লেখযোগ্য। কোন কোনো এলাকায় ভোট হয়নি। যুদ্ধ এলাকায় সেনাধ্যক্ষরা অস্থায়ী সরকারের পতনের খবর পর্যন্ত লুকিয়ে রেখেছিল। তৃতীয়ত, এস.আর. দের প্রতি যে কৃষক সমর্থন, তার মূলে ছিল, এস. আর –দের পুরোনো কর্মসূচী১৯১৭-তে চের্নভ, আভকসেন্তিয়ভ প্রমুখ সেই কর্মসূচী বর্জন করেছিলেন। পুরোনো কর্মসূচী নিয়ে লড়াই করেছিলেন বামপন্থী সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারীরা। তারাই ছিলেন ব্যাপক কৃষক জনতার কাছে বিপ্লবী বলে পরিচিত। কিন্তু সাংগঠনিক কাঠামোতে তাঁরা ছিলেন দুর্বল। তাই দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের সময়ে তাঁরা বাদ পড়েন। আনুষ্ঠানিকভাবে এস, আর দল ভেঙে তাঁরা আলাদা দল তৈরী করেন ভোটের সামান্য আগে, এবং মাত্র কয়েকটি এলাকায় তাঁরা নিজস্ব প্রার্থী দিতে পেরেছিলেন | কৃষক কংগ্রেসের সঙ্গে সংবিধান সজায় তাঁদের প্রতিনিধির সংখ্যার তারতম্য দেখায় এই ব্যাখ্যা সঠিক | যেখানে স্বতন্ত্র  বাম এস. আর তালিকা ছিল , সেখানে ছবি অন্যরকম |

সারণী – ২

মোট প্রদত্ত ভোটের শতকরা অংশ হিসেব


বাম এস, আর-দের ভোট

দক্ষিণপন্হী এস. আর ভোট



বাল্টিক নৌবহর








আরেকটা বিষয়ের উপরও জোর দেওয়া দরকারবুর্জোয়া নির্বাচনী ব্যবস্থায় একজন নাগরিক একা গিয়ে শুধু ভোট দেন সোভিয়েত ব্যবস্থায় শুধু ভোট নয়, স্ব-শাসন চলে তাই যে শ্রমিক বা কৃষক সংবিধানসভায় আপাত নিস্পৃহ, যেখানে নিজে কাজ করছেন, ক্ষমতার অংশীদার হচ্ছেন, সেখানে কিন্তু তিনিই অন্য অবস্থান নিয়েছেন বোরিস সোকোলভ লেখেন যে একটি সৈনিক কংগ্রেসে, এস. আর. – রা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগারিষ্টতা লাভ করেন, কিন্তু ঐ কংগ্রেসেই সোভিয়েত রাজ্যের পক্ষে প্রস্তাবও গৃহীত হয়[xxii]

উপরে বর্ণিত কারণগুলি ব্যাখ্যা করে বলশেভিকরা সংবিধান সভা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন একদিকে, প্রলেতারীয় বিপ্লবের পর এই বুর্জোয়া প্রতিষ্ঠানের দরকার নেই (কারণ বিকল্প গনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে) এই দাবী এবং অন্যদিকে নির্বাচন প্রত্রিূয়ার ত্রুটি, ও বিশেষত এস. আর দলের ভাঙন সংবিধান সভায় প্রতিফলিত না হওয়ার কথা তোলেন তাঁরার‍্যাডকি দেখাচ্ছেন, বলশেভিকদের ঐ মূল্যায়ন ভুল নয় তিনি লিখেছেন, “খবর যত দেরীতে পৌঁছেছে, তত বলশেভিকদের প্রতি সমর্থন কম তাই, সিদ্ধান্তটা অনস্বীকার্য যে দূরবর্তী ফ্রন্টগুলির পিটার্সবুর্গ গ্যারিসনের মত হয়ে ওঠার জন্য শুধু সময়ের দরকার ছিল[xxiii]

সংবিধান সভা ভাঙা মানেই স্বৈরতন্ত্রের সূচনা, এই দাবীর জনক সমাজতান্ত্রিক মহলে কার্ল কাউটস্কি। তিনি এমনকি সংবিধান সভার নির্বাচন যে অস্থায়ী সরকার পিছিয়ে দিয়েছিল, তাকেও সমর্থন করেন তিনি লেখেন, সোভিয়েতগুলিকে  প্রলেতারীয় গনতন্ত্রের প্রতিষ্ঠান বলা যায় না তাঁর মতে, গণতন্ত্র একরকমই হয়, আর তা হল পার্লামেন্টারী ব্যবস্থা।[xxiv]

রোজা লুক্সেমবুর্গের সমালোচনা (Zur Russischen Revolution) একটি অসমাপ্ত পান্ডুলিপি। সংবিধান সভা ভাঙা প্রসঙ্গে তিনি লিখেছিলেন, যদি গণচেতনা পাল্টে গিয়ে থাকে, তা হলে আরেকবার নির্বাচন করলেই তো হত। সোভিয়েত বনাম পার্লামেন্ট, এই প্রশ্নে তিনি তখন কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেন নি।


Whatever a party can, at a historic hour, provide in the way of courage, drive in action, revolutionary farsightedness, and logic, Lenin, Trotsky, and their comrades gave in full measure. All the revolutionary honor and the capacity for action that were lacking in the Social-Democracy in the West, were to be found among the Bolsheviks. Their October insurrection not only in fact saved the Russian Revolution, but also saved the honor of international socialism.

কিন্তু লুক্সেমবুর্গের এই সমালোচনা আজ ব্যবহার করা ভন্ডামী। ১৯১৮-র শেষে যখন জার্মানীতে বিপ্লব হয়, তখন তিনি ও কাউটস্কি একেবারে উল্টো অবস্থা নিলেন। সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের নামে কাউটস্কি জাতীয় সভার (জার্মান সংবিধান সভা) পক্ষে ওকালতি করলেন। আর লুক্সেমবুর্গ স্লোগান তুললেন, শ্রমিক ও সৈনিক পরিষদগুলির হাতে সব ক্ষমতা চাই। জাতীয় সভা এবং জাতীয় সভা ও শ্রমিক পরিষদ শীর্ষক গুলি প্রবন্ধ তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন, বৈপরীত্যটা আসলে দুটি শ্রেণীর ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যে। শ্রেণী-সংগ্রামের তীব্রতম মুহুর্তে দুটি শ্রেণীর ক্ষমতা কাঠামোতে একই সঙ্গে চেপে বসার চেষ্টা করলে হয় যাঁরা প্রচেষ্টা করছেন, তাঁদের পতন হবে, অথবা তাঁরা শ্রমিকশ্রেণীকে ঠকাবেন, বুর্জোয়া আধিপত্যকেই সমাজতন্ত্রবলে চালাবেন, যেমন চালিয়েছিল জার্মান সোশ্যাল ডেমোক্রাটিক দল ১৯১৯-২০-তে, লুক্সেমবুর্গ-লিবকনেক্টদের হত্যা করার পরও। অক্টোবর অভ্যুত্থান ও সংবিধান সভা ভাঙার বিরোধীদের জায়গা লুক্সেমবুর্গের সঙ্গে নয়; তাঁর হত্যাকারীদের সঙ্গে।

উপসংহার :- সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, নিছক নির্বাচনভিত্তিক কোনো রাস্তায় এক শ্রেণীর হাত থেকে আরেক শ্রেণীর হাতে ক্ষমতা যায় নি –বুর্জোয়া শ্রেণী থেকে শ্রমিকশ্রেণীর হাতে তো অবশ্যই নয়। খাঁটি সমাজ বিপ্লব হলেই শান্তি থাকবে, এই দাবী তাই ইতিহাসে প্রমাণিত নয়। আর, সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যুত্থান পুরোনো নড়বড়ে জারতন্ত্রকে ফেলতে পারে, কিন্তু পাল্টা ক্ষমতা কাঠামো তৈরী করতে হলে সচেতনতা চাই, নেতৃত্ব চাই। বলশেভিক দল শ্রমিকশ্রেণীর উপর চেপে বসা বুদ্ধিজীবী বাহিনী ছিল না। তার ছিল জঙ্গী, রাজনৈতিকভাবে অগ্রসর শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রঅন্যান্য কেন্দ্র ছিল সোভিয়েত, ফ্যাক্টরী কাউন্সিল, ইত্যাদিএদের মিলিত উদ্যোগে অক্টোবর অভ্যুত্থান হয়। পরে গৃহযুদ্ধ, বলশেভিকদের পদস্খলন, স্তালিনীয় প্রতিবিপ্লব সব সত্ত্বেও এই ইতিহাস ও তার আজকের জন্য তাত্‍পর্য অক্ষত রয়েছে।

১  ড্যানের বক্তৃতার জন্য দেখুন, Mark Jones (Ed), Storming the Heavens: Voices of October, Atlantic Highlands, London, 1987, p.85. শ্যাপিরোর ব্যাখ্যা আছে Leonard Schapiro, The Origins of the Communist Autocracy, Bell, London, 1955.

Richard Pipes, The Russian Revolution 1899-1919, Collins Harvill, London, 1990, p. 491; Marc Ferro, The Bolshevik Revolution, Routledge and Kegan Paul, London, 1985, pp. 257-8; Eric Hobsbawm, ‘Waking from History’s Great Dream’, Independent on Sunday, 4 February, 1991;  পরেশ চট্টোপাধ্যায়, অনুস্টুপ, শারদ সংখ্যা, ১৯৯১, Charles Bettelheim, Class Struggles in the USSR: Third Period 1930-1941, Part One: The Dominated, T.R. Publications, Madras, 1994.

[iii]Ralph Carter Elwood (Ed), The Russian Social Democratic Labour Party 1898 – October 1917, volume 1 of R. H. McNeal, General Editor, Resolutions and Decisions of the Communist Party of the Soviet Union, University of Toronto Press, Toronto, 1974, p. 200; L. Trotsky, The Stalin School of Falsification, Pathfinder Press, New York, 1979, pp. 236-9;

[iv] V.I. Lenin, Collected Works, Volume 24,

[v]Pravda, 7 April 1917.

[vi]স্তালিনের ঐ অবস্থান গোপন করার জন্য ওই সম্মেলনের বিবরণী বহুদিন মুদ্রিত হয় নি। ট্রটস্কী প্রথম তাঁকে বহিস্কারের পর তা ছেপে দেন। ১৯৮৮ সালে অবশেষে সোভিয়েত ইউনিয়নে স্বীকার করা হয়, The Stalin School of Falsification গ্রন্থে মুদ্রিত দলিলগুলি সঠিক।

[vii]Sed’maia (Aprel’skaia) Vserossiskaia Konferentsiia RSDRP (bolshevikov), Moscow, 1958, p.372.

[viii] V. I. Lenin, Collected Works, Volume 25, p.81.

[ix] Voprosy Istorii KPSS, no.2, 1958.

[x] V. I. Lenin, Collected Works, Volume 24, pp. 145-6.

[xi]এ প্রসঙ্গে এখনো সেরা বিবরণ L. Trotsky, History of the Russian Revolution, Volume 2, Aakar, Delhi, 2013.

[xii] Diane P. Koenker and William G. Rosenberg, Strikes and Revolution in Russia, 1917, Princeton University Press, Princeton, N.J., 1989.

[xiii]  L. Trotsky, Permanent Revolution and Results and Prospects, Pathfinder Press, New York, 1976, pp 194-5, 200.

[xiv]S.A. Smith, ‘Petrograd in 1917’, in D. H. Kaiser (Ed), The Workers’ Revolution in Russia 1917, Cambridge University Press, Cambridge, 1987, p.63.  এছাড়া দেখুন  S.A. Smith, Red Petrograd, Cambridge University Press, Cambridge, 1983, এবং David Mandel, Factory Committees and Workers' Control in Petrograd in 1917 , International Institute for Research and Education, Amsterdam, 1993.

[xv] P.N. Amosov et al (Eds), Oktyabrskaya revoliyutsia I Fabzavkomy, Komissiya po izucheniu istorii professional’nogo dvizheniya v SSSR, Moscow, 1927, vol 1, p. 107.

[xvi]S.A. Smith, Red Petrograd, pp. 258-9.

[xvii]কর্নিলভের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ও তাতে কেরেনস্কীর ভূমিকার জন্য ট্রটস্কীর বই ছাড়া দ্রষ্টব্য, J.L. Munck, The Kornilov Revolt: A Critical Examination of Sources and Research. Aarhus University Press, Aarhus, 1987; H. Asher, ‘The Kornilov Affair: A Reinterpretation’. The Russian Review. 29 (3): 286–300, 1970.


[xviii]Orlando Figes, A People's Tragedy: The Russian Revolution 1891–1924, Random House, New York, 1996.

[xix] Alexander Rabinowitch, ‘The Evolution of Local Soviets in Petrograd, November 1917 – June 1918: The Case study of the First City District Soviet’, Slavic Review, 46:1, Spring 1987, pp. 20 22-4, 30-32, 37.

[xx] V.I. Lenin Collected Works, vol. 27, p. 272.

[xxi] O. H. Radkey, The Elections to the Russian Constituent Assembly of 1917, Harvard University Press, Cambridge, Mass., 1950.

[xxii]Roy Medvedev, The October Revolution, Constable, London, 1979, p.108.

[xxiii] O. H. Radkey, The Sickle Under the Hammer, Columbia University Press, New York, 1963, pp. 301, 344.

[xxiv]Karl Kautsky, The Dictatorship of the Proletariat, University of Michigan Press, Ann Arbor, 1964, pp 26, 161, 72-87.