Articles posted by Radical Socialist on various issues.

Resist the Transgender Persons (Protection of Rights) Bill 2018

Statement of Radical Socialist, 23 December 2018


Radical Socialist affirms, first of all,

1. Sexuality generally is an important political issue. The oppression faced by Lesbians, Gays, Bisexuals, Transgender people (LGBTs), is real.

2. We fight for a combination between the left and working class movement and the Queer movement (also movements of all other oppressed), without calling for the subordination of LGBT movement to any other movements.

3. We believe, though it may not be obvious, that the elimination of oppressions of LGBTs, like any other oppressed groups is necessarily linked with elimination of class society based on private ownership over means of production and the elimination of the exploitative and oppressive state, which can be summarised as elimination of capitalism. The vast majority of transgenders are of the working class. So working class unity necessarily requires struggling against all forms of oppression within this working class; including consciousness by relatively less oppressed layers of workers about special or multiple oppression; while every oppressed section within the working class must also be part of the common collective struggle against class oppression, i.e. against capitalism.

Our stand on the Transgender Persons (Protection of Rights) Bill 2018 is based on the struggles of the Transgender community and organisations within it. The long struggles of the Transgender community saw one significant achievement, when the NALSA judgement came. This was a Supreme Court judgement which made acknowledging the self-definition of identity important.

Part of the judgement read:

Gender identity refers to each person’s deeply felt internal and individual experience of gender, which may or may not correspond with the sex assigned at birth, including the personal sense of the body which may involve a freely chosen, modification of bodily appearance or functions by medical, surgical or other means and other expressions of gender, including dress, speech and mannerisms. Gender identity, therefore, refers to an individual’s self-identification as a man, woman, transgender or other identified category.”

The NALSA judgement also ends with a demand from the Supreme Court that the central and the state governments uphold the right of transgender persons to decide their self-identified gender; and pursuant to this, be granted full legal recognition towards the same. This judgement was an important one, in a way too good to be true in a country where patriarchy and homophobia are so deeply entrenched. The parliamentary reaction under the Hindutva forces shows the backlash by the elite to the judgement.

Self-declaration versus regulation by bureaucracy:

 The importance of self-declaration is that it avoids any filter that any kind of legislation is likely to set up. The transgender community is a minority group that has borne a history of incessant discrimination, state sanctioned violence and systemic marginalisation. The inclusion and acceptance of the diversity of experiences under the umbrella of "transgender" can be realised fully only when there is a liberty to each individual to claim their identity and be legally recognised for it. The proposal in the Transgender Persons (Protection of Rights) Bill 2018 is to set up a two-tier screening process to determine gender identity. If a Transgender person wants to get legal acknowledgement for the chosen identity, and applies for a “third gender” identity then the District Magistrate will have to be the person to whom application is submitted. A District Screening Committee will look into the application. It will include psychologists, medical officers, etc. Their certification is essential. If the wish is not for a “third gender” identity, but for the “opposite” gender, that is, if it is a cis-man asking for recognition as woman, or the reverse, then they have to get a certification from a committee, along with having Sex Reassignment Surgery (SRS) and submitting its evidence to the District Magistrate. This flies in the face of the NALSA judgement which asserted that any insistence for SRS for declaring one’s gender is immoral and illegal.

Anti Transgender Features of the Bill:

 The Bill also criminalizes begging by making it an offense. Given the long history of the Hijras, the inclusion of this clause in this particular bill has to be seen as something pointed against them. In a country where so many are jobless, where begging in general is so widespread in all the big cities, to target begging in a bill devoted to Transgender Persons is so palpably a hostile act, that not just socialists and members of the LGBT+ community, but anyone claiming to be a democrat, has to oppose this.

The bill provides for a lower punishment for sexual violence against transgender persons (maximum two years) as opposed to the law punishing sexual violence against cis-women, which is up to seven years.

The bill treats transgender persons not as equal humans, empowered subjects, but as victims who require protection.

The bill attempts to compel transgender persons to return to the families in which they were born. The real situation is, in many cases they have left those families because of patriarchal and anti-trans oppression/violence. Thus, the bill effectively ignores domestic violence when the violence is directed against transgender persons.

The bill ignores the Supreme Court suggestion that transgenders be seen as a Backward Class/Community and reservations be made for them.

Under the circumstances, we condemn the Transgender Persons (Protection of Rights) Bill 2018.

We demand:                                                      


  • ·         A Law that follows the NALSA verdict

    ·          A law that is made in consultation with wide sections of transgender organisations across India

    ·         Reservation for Transgender persons in accordance with the NALSA verdict

    ·          An end to the criminalization of the profession of Hijras

    ·          A recognition of the alternative family/social networking of the transgender people which they have chosen, instead of forcing them to return to their families of birth.



We urge all transgender and other queer activists to recognise the necessity of unity of all sectors of the oppressed and exploited. This should not be seen as a rhetorical remark. Specific demands, such as the call for reservation, while perfectly just, will be used by the elite to divide the poor, as they already do. Unless the necessary links between different segments of the exploited and oppressed are worked out and organisational links forged, each struggle will remain isolated, and be easier to defeat. We may mobilise, and win some legal victories, but neither the law on minimum wages nor the law on self-identification will mean anything unless we have the united force to snatch from the rulers what we need.


১৯১৭ সালের কৃষক বিপ্লব




সারা ব্যাডকক

১৯১৭ সালে, রাশিয়াতে সাধারণ গ্রামীণ মানুষ নিজেদের দুনিয়া পাল্টে নেবেন বলে

প্রত্যক্ষ সংগ্রামের পথ ধরেছিলেন।

প্রাক বিপ্লব রুশ কৃষক


১৯১৭ সালে রাজনৈতিক খেলাটা পাল্টে গেল শেষমেষ কৃষকদের জন্য।সশস্ত্র, ঊর্দী পরা কৃষকরা সৈনিকের কাজ করতেন, ফলে রাজনৈতিক ক্ষমতা গড়া ও ভাঙ্গার কাজ তাঁরা করতেন। নগর রাশিয়ার বাসিন্দাদের বড় অংশ হিসেবে তাঁরা শহরগুলিতে অভ্যুত্থানেও বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন।  কিন্তু আমরা যখন কৃষকের বিপ্লবের কথা বলি, তখন সাধারণত আমরা উল্লেখ করি জমি ব্যবহার ও মালিকানার লড়াইয়ের কথার।  আর, যদিও রাশিয়ার মানুষের ৮০ শতাংশের বেশী ১৯১৭ সালে শহর না, এমন জায়গাতেই বাস করতেন, তবু, বহু সময়ে গবেষকরা রুশ বিপ্লবে কৃষকদের অংশগ্রহণ ও অভিজ্ঞতাকে প্রান্তিক স্তরে রেখে জোর দেন নিছক শহুরে শ্রমিক এবং বুদ্ধিজীবীদের উপর।

গ্রামাঞ্চলের অভ্যুথানগুলির বহুত্ব, তাদের জটিলতা, কৃষক আন্দোলন সম্পর্কে আমাদের সরলীকৃত ধারণাদের দূর করে দেবে। তারা আরও দেখায়, বিপ্লবের অনন্যসাধারণ সৃজনশীলতা এবং রূপান্তরের ক্ষমতা।

কৃষক অভ্যুত্থানের কোনো সহজ সংজ্ঞা হয় না। ১৯১৭ সালে তারা কাল এবং ভৌগোলিক দিক থেকে যত ছড়িয়ে পড়েছিল, ততই রুশ সাম্রাজ্যের বিশাল আয়তনে ছড়িয়ে থাকা বৈচিত্রের অনুসরণে বিচিত্র রূপ ধারণ করেছিল। অনেক সময়ে, জমির ধরণ এবং স্থানীয় সংস্কৃতি অভ্যুত্থানগুলির চেহারা ঠিক করে দিয়েছিল। অধিকাংশ লোক মনে করে কৃষি বিপ্লব মানেই জমির মালিকদের উপর হিংস্র আক্রমণ এবং গায়ের জোরে তাদের এস্টেট দখল করা। কিন্তু বহু গ্রামীণ সংগ্রাম শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়েছিল। হিংসাত্মক ও মুখোমুখি লড়াই সবচেয়ে বেশী নজর কাড়ে, কিন্তু তাতে যাঁরা অংশ নেন তাঁদের ঝুঁকি থাকে বিপুল। রাশিয়ার কৃষকদের অধিকাংশ নীরবে, কিন্তু মেপে পা ফেলেছিলেন, যদিও যারা সম্পত্তি হারাল তারা হয়তো তেমন বোধ করে নি।  

 কিছু কৃষক চুপিসাড়ে বিদ্রোহ শুরু করেন শুধু একটা গেট খুলে দিয়ে গ্রামের গরু-ছাগলকে জমিদারের মাঠে ঘাস খেতে পাঠিয়ে। কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় সমাজের পক্ষ থেকে বেশ সরকারী দেখতে দলিল তৈরী করা হল, যাতে বলা হল যে তারা স্থানীয় সম্পদকে চিরকাল ব্যবহার করতে পারবে। আরো সাহসী অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে দেখা গেল যে কৃষকরা হাত মিলিয়ে নিকটবর্তী বন থেকে গাছ কেটেছেন। গ্রামীণ শ্রমজীবীরা ঐ বিপ্লবী বছরে যতরকমভাবে বিদ্রোহ করেছিলেন আমাদের কাছে তার পূর্ণ বিবরণ নেই।  আমরা যতটুকু জানি, তা দেখায় রণকৌশল, সক্রিয় ব্যক্তিত্ব, লক্ষ্য, এ সবের কত প্রশস্ত একটা ক্ষেত্র ছিল, যেটা বিপ্লব-পরবর্তী রাশিয়ার রাষ্ট্রে একটা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।   

আধুনিকতার আগমন

কৃষক বলতে বোঝায় সেই সব মানুষ যারা গ্রামাঞ্চলে থেকেন ও কাজ করেন তাদের। কিন্তু রাশিয়াতে কৃষক ছিল এর উপর একটা আইনী গোষ্ঠী বা সোস্লভি, যা এমনকি একজনের পাসপোর্টেও লেখা থাকত।[1] অর্থাৎ রাশিয়াতে কৃষক অনেক ক্ষেত্রে শহরে বাস করতেন, শ্রমিক বা ব্যবসায়ী হিসেবে জীবন ধারণ করতেন, বা সেনাবাহিনীতে কাজ করতেন।     

বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে আধুনিকতা হাজির হল রাশিয়াতে, কিন্তু সে সহবাস করল ও ধীরে রূপান্তর ঘটাল কৃষক জীবনের পরম্পরাগত উপাদানগুলির, যেগুলির সংজ্ঞার্থ নির্মিত হয়েছিল পিতৃতন্ত্র, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং সংঘবদ্ধ গ্রামজীবন দিয়ে। পিতৃতান্ত্রিক ক্ষমতাবিন্যাস নিশ্চিত করত যে বয়স্করা পরিবারে ও গ্রামসমাজে, দু’জায়গাতেই প্রাধান্য রাখবে। রুশ অর্থোডক্স ধর্ম বহু বাসিন্দার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আত্মিক জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। বহু এলাকাতে জমি তদারকী হত যৌথভাবে, ফলে সম্পদের যৌথ ব্যবহার করা সম্ভব হত, এবং পিতৃতান্ত্রিক সমাজ কাঠামো মজবুত হত। এই সব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ফলে রুশ গ্রামাঞ্চলে একরকম সংকীর্ণতা ছিল, এবং রাজনীতিতে জাতীয় প্রসঙ্গের তুলনায় অগ্রাধিকার পেত স্থানীয় প্রসঙ্গ। 

আধুনিকতা এই পরম্পরাগত ধাঁচগুলিকে নানা ভাবে আক্রমণের মুখে ফেলল। ১৮৬১ সালে ভূমিদাসদের মুক্তির পর, গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষাবিস্তার ত্বরান্বিত হল,  এবং নবীন প্রজন্মের কাছে সাক্ষরতা নিয়ে এল। ইতিমধ্যে, লাখে লাখে মানুষ বছরের এক একটা সময়ে শহরাঞ্চলে যেতে থাকে, এবং গ্রামে ফিরে আসে শহুরে ধারণা ও আদব-কায়দা নিয়ে, যার মধ্যে আবার পড়ে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ভোগকেন্দ্রীক সংস্কৃতি। নির্বাচিত স্থানীয় স্বায়ত্ত্বশাসন সংস্থা ও স্থানীয় আদালত গ্রামের মানুষকে রাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলার নতুন পন্থা দিল, যেটা তারা সানন্দে জড়িয়ে ধরলেন। ১৯০৫এর বিপ্লবের পর কৃষকরা জাতীয় স্তরে নির্বাচনের জন্যও দলে দলে এগিয়ে আসেন ও তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছে সরবে দাবী পেশ করতে থাকেন।

সবশেষে, ১৯১৪ সালে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির ফলে, গ্রামের পুরুষদের যারা অস্ত্র হাতে নিলেন তাদের মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হল – কারো মনে দেখা দিল দেশপ্রেমিক বোধ, কেউ বা গভীর আপত্তি অনুভব করলেন। কিন্তু সকলকেই বিশাল সাম্রাজ্যের মধ্যে অনেক দূরে দূরে যেতে হল।  নিজেদের ছোট্ট গ্রামের বাইরের জগতের সঙ্গে এই সংযোগের ফলে ১৯১৭-র মধ্যে কৃষকরা আর প্রাক-আধুনিকতা পর্বের নিঃসঙ্গতায় থাকছিলেন না। তাঁরা রাষ্ট্র ও জাতির সঙ্গে বহুবিধভাবে সম্পর্কিত হচ্ছিলেন। সাক্ষরতার হার বাড়ার ফলে কৃষকরা জাতীয় এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রসঙ্গে জড়িয়ে পতে পারছিলেন, আর শহরের অভিজ্ঞতার ফলে নবীনরা প্রবীণ পুরুষদের পিতৃতান্ত্রিক প্রাধান্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারছিলেন।

বিপ্লবী আঙ্গিক

“জল আপনাদের, আলো আপনাদের, জমি আপনাদের, বন আপনাদের”।

এই কথাগুলি বলেছিলেন ১৯১৭র জুন মাসে, কাজানের এক সভাতে একজন নাবিক। এই কথাগুলি বিপ্লবী কৃষক আকাংখ্যার সবচেয়ে মৌলিক উপাদানগুলিকে ধরে রেখেছে। এই স্পষ্ট কথা, যে বাতাস ও জলের মতই, জমি ও বনাঞ্চল তাদের হবে, যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশী, এটা বিপ্লবের বছর জুড়ে ও তার পরে বারে বারে উচ্চারিত হয়েছে।

যে সব জায়গাতে একদা ভূমিদাসপ্রথার প্রাধান্য ছিল, সেখানের প্রাক্তন ভূমিদাসদের বুকে মুক্তির শর্তাবলীর অসাম্য সম্পর্কে গভীর ক্ষোভ জমে ছিল। যেসব জায়গাতে কৃষকদের সঙ্গে স্থানীয় জমিদারদের বৈর সম্পর্ক ছিল, সেখানেই জমি দখল সবচেয়ে হিংস্র রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আমরা গ্রামাঞ্চলে বিপ্লবের চরিত্র ও তীব্রতা সম্পর্কে যা জানি তার তথ্য এসেছে প্রধানত জমিদারদের অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরী তথাকথিত গন্ডগোলের রিপোর্ট থেকে। এই রিপোর্টগুলি আমাদের বলে যে রাশিয়ের যে সব অঞ্চলে সবচেয়ে ঊর্বর জমি ছিল সেখানেই সবচেয়ে বেশী গোলযোগ হয়েছে। এগুলি আরও জানায় যে ভূমিদাস যে সব অঞ্চলে বেশী ছিল, সেই সব অঞ্চলেই বেশী অস্থিরতা, ব্যক্তি জমিদারদের উপর তীব্র আক্রমণ বঙ্গ জমিদারী জোর করে দখলের ঘটনা বেশী ঘটেছিল। এই পরিসংখ্যান থেকে গ্রামাঞ্চলের অভ্যুত্থানের সার্বিক ছবি পাওয়া যায় না, কারণ এগুলি কেবল এক ধরণের লড়াইকেই লিপিবদ্ধ করেছে।  

যদিও হিংসাশ্রয়ী আক্রমণ এবং জোর করে জমি বন্টনকেই কৃষিবিপ্লবের নজীর হিসেবে তুলে ধরা হয়, বাস্তবে সেগুলি সব জায়গাতে ঘটে নি। বস্তুত, ১৯১৭র মধ্যে, জমিদারদের হাতে কৃষিযোগ্য জমির একটা ছোট অংশই ছিল। কোনো কোনো জায়গাতে, যেমন ভায়াটকাতে, অভিজাত জমিদার এবং জমির ক্ষুধা, দুটোই ছিল প্রায় অনুপস্থিত। ফেব্রুয়ারী বিপ্লব কৃষকদের চাহিদা এবং লড়াইয়ের পতাকা দুটোই ক্রমান্বয়ে মেলে ধরল, কিন্তু গ্রমাঞ্চলের বিপ্লবীরা কীভাবে সমতার জন্য লড়াই করেছিলেন তা নির্ভর করেছিল তাঁদের এলাকাতে জমির মালিকানা ও ব্যবহারের উপরে। অধিকাংশ লড়াই হিংসাশ্রয়ী বা বলপূর্বক জমি দখলের ধারা দেখায় নি। বরং গ্রামসমাজ ব্যক্তি মালিকানার আইন লঙ্ঘন করল, কিন্তু সম্ভাব্য দমনপীড়ন থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে।   

যেমন, আরিষ্কাদঝা গ্রামের কৃষকরা ঘোষণা করলেন, তাঁরা শীতের ফসলের জন্য স্থানীয় জমিদারের জমি চাষ করএন, এবং তার ভাড়া করা লোকেদের একদিন দেওয়া হল জমি ছেড়ে চলে যেতে। মজুরেরা চলে যায়, এবং গ্রামবাসিরা চাষ করেন।

উপরন্তু, আমাদের এই গ্রামীণ বিপ্লবকে শ্রেণীভিত্তিক ঘটনা বলে মনে করা ঠিক হবে না, কারণ কৃষক কোনো একটা শ্রেণী না। তবে কৃষকরা প্রশস্ত অর্থে নিজেদের গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষ বলে দেখতেন, এবং এটাই তাদের বিশ্বদিশা এবং তাদের কাজের ভিত্তি ছিল। কিছু কৃষক বিপ্লবে দেখা গেল গ্রামীণ সম্প্রদায় ভূস্বামীদের বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়াই করছে, যেন শ্রেণীভিত্তিক অভ্যুত্থানের মত, শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের লড়াইয়ের মত। কিন্তু অন্য অনেক ক্ষেত্রে লড়াইটা দেখায় যেন জমি ব্যবহার নিয়ে দুই প্রতিবেশী সম্প্রদায়ের মধ্যে, বা দুই ব্যক্তির মধ্যে দ্বন্দ্বের মত।

যেমন, গ্রামবাসীরা অনেক সময়ে সেইসব কৃষকদের উপর আক্রমণ করেন, যারা মীর বা যৌথ জমিতে কাজ না করে নিজস্ব জমিতে চাষ করতেন, এবং জোর করে তাদের যৌথ চাষে ফিরিয়ে আনেন। এই ধরণের আক্রমণ করত গোটা গ্রাম, ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদী কৃষককে এবং তার জমিকে সামাজিক জমিতে মিলিয়ে নতে চাইত। গ্রামবাসীদের নানা স্তরের সম্পদ ও প্রভাব ছিল, কিন্তু সেটা স্থায়ী হত না। লোকে উপরেও উঠত, নীচেও নামত।

ইতিমধ্যে, কেন্দ্রীয় সরকার জমিদারদের অভিযোগকে সমর্থন করে,এবং গ্রামীণ সম্প্রদায়দের নির্দেশ দেয় ব্যক্তি মালিকানার প্রতি সম্মান জানাতে। কিন্তু এই নির্দেশ বলবৎ করার মত ক্ষমতা তাদের ছিল না, ফলে ১৯১৭ সালে দেখা গেল ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপর ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপ।

গ্রামাঞ্চলে বিপ্লবের নেতৃত্ব কে দিয়েছিল?

কৃষক বিপ্লবের নেতৃত্বদায়ীব্যক্তি ও গোষ্ঠীদের সম্পর্কে আমাদের হাতে আছে খুবই খন্ডিত তথ্য। বহু গ্রামে কমিটি, কৃষক সোভিয়েত, এবং ইউনিয়নরা নেতৃত্বে আসে। তারা জমি ব্যবহার এবং পরিচালন সম্পর্কে নির্দেশ জারি করে। এই সংগঠনগুলি কৃষকদের রাজনৈতিক কাজের একটা প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিয়েছিল।  

এদের কেউ কেউ, যেমন কৃষক প্রতিনিধিদের সোভিয়েত, আঞ্চলিক এবং জাতীয় জোটের মধ্যে পড়েছিল, এবং অস্থায়ী সরকার জমি ও রদ কমিটি প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলি নিয়ন্ত্রণ রেখেছিল কেবল নির্বাচকদের দাবী মেনে চললে। সটনুর্স্ক গ্রাম কমিটি যেমন আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষকে সাফ মনে করিয়ে দিয়েছিল – “আমরা তোমাদের নির্বাচিত করেছি! তোমাদের কাজ আমাদের কথা শোনা!”

নানা ধরণের সাক্ষ্য-প্রমাণ দেখায় যে ক্ষমতা নিয়েছিলেন কেবল কৃষক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত মানুষরাই । তথাকথিত গ্রামীণ বুদ্ধিজীবীবর্গ – শিক্ষক, ডাক্তার, কৃষিবিশারদ, এবং যাজকদের – নির্বাচিত পদ থেকে একেবারে নিয়মমাফিক বাদ দেওয়া হয়েছিল। গ্রামীণ বিপ্লবের বিবরণে সাধারণভাবে এদের নামও আসে না। নির্বাআচনের রেকর্ড দেখায় গ্রামবাসীরা পছন্দ করতেন এমন সব শিক্ষিত, ঠান্ডা মাথা, এবং বিশ্বস্ত প্রার্থীদের, যারা কৃষক সমাজের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। কিন্তু কৃষক বিপ্লবের বৈচিত্রের ফলে, আমাদের পক্ষে তাদের নেতাদের চরিত্র এক ছাঁচে ফেলা সম্ভব নয়। কোনো গ্রামীণ বিপ্লব গোটা গ্রামকেই টেনে নিয়েছিল, কোথাও মেয়েরা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, অন্যত্র অল্পসংখ্যক বিত্তবান কৃষক বাকিদের উপর নেতৃত্ব কায়েম করেছিলেন।   

ফেরুয়ারী বিপ্লব সাধারণ সৈনিকদের মর্যাদা ও ক্ষমতার রূপান্তর ঘটিয়েছিল। তাঁরা পরিণত হলেন আন্দোলনের সশস্ত্র রক্ষাকর্তায়। সেনাবাহিনী ছেড়ে পলাতকরা, ছুটিতে দেশে আসা সৈনিকরা, এবং ছাউনীর সৈনিকরা, সকলেই গ্রামের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। যদি এদের বহিরাগত বলা যায় তবে এরাই একমাত্র বহিরাগত যারা কৃষক বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার কাছে আসতে পেরেছিলেন।  সৈন্যরা যেহেতু হিংসার জন্য তালিম পায় এবং তার জন্য অস্ত্রে সজ্জিত হয়, তাই সৈনিকরা অংশ নিলে বিপ্লবী লড়াই অনেক বেশী হিংস্র হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। অনেক সময়ে গোটা সম্প্রদায় এই আক্রমণে অংশ নিত। যেমন, ১৯১৭র মে মাসে একদল সৈনিকের সঙ্গে গ্রামের মেয়েরা ও তাদের বাচ্চারা গিয়ে নাতালিয়া নেরাতোভাকে তার জমি থেকে উচ্ছেদ করেছিল।

বিপ্লবের গোড়ায় দলীয় রাজনীতি কৃষকদের কাজে খুবই প্রান্তিক ভূমিকা পালন করেছিল। ভিক্টর চের্নভের সমাজতন্ত্রী বিপ্লবী দল গ্রামাঞ্চলে একটা শক্তিশালী সমর্থনের ভিত্তি গড়ে তুলেছিল, বিশেষ করে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে, যেটা দেখা গেল নভেম্বর মাসের সংবিধান সভা নির্বাচনে। জাতীয় স্তরে এই দল পেয়েছিল ৩৭ শতাংশ ভোট, যেখানে বলশেভিকরা পায় ২৩ শতাংশ। কিন্তু উত্তরাঞ্চলে তারা পেয়েছিল ৭৬ শতাংশ, আর কেন্দ্রীয় কৃষ্ণ মৃত্তিকা অঞ্চলে ৭৫ শতাংশ। কৃষকের দল বলে তাদের যে পরিচিতি, সেটার উপরে তারা ভর করেছিল। তাতে তারা নির্বাচনী সমর্থন পেয়েছিল। কিন্তু তারা গ্রামের বিপ্লবের নেতৃত্ব দেয় নি। গ্রামে পার্টির কর্মীরা নেতৃত্ব তখনই দিয়েছিলেন, যখন তাঁরা গ্রামসমাজের চাহিদা ও আকাংখ্যাকে আপন করে নিয়েছিলেন।

গ্রাম-শহর বিভাজন

গ্রামের বিপ্লব জাতীয় এবং আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাহীনতা তুলে ধরেছিল। না পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েত না অস্থায়ী সরকার কৃষকের সমস্যা বা দাবীদাওয়া নিয়ে কথা বলেছিল। তাঁরা গ্রামের মানুষকে শুধু ধৈর্য্য ধরতে বলেছিল, সংবিধান সভা এসে ভূমি বন্টনের আইন পাশ করবে বলে। কৃষকরা মোটামুটিভাবে এই আবেদন অগ্রাহ্য করেছিলেন। আর কেন্দ্রীয় সরকার তাদের বাধা দিতে পারে নি।  আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষরা ১৯১৭ সালে শুরু করেছিলেন এই বিশ্বাস নিয়ে যে গ্রামের বিপ্লবের কারণ ভুল বোঝাবুঝি, এবং মনে করেছিলেন যে সমঝোতা এবং শিক্ষা গন্ডগোল বন্ধ করে দেবে। গ্রীষ্মকালের মধ্যে, গ্রাম সমাজের সচেতন সক্রিয়তা এবং কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা না মেনে নিজেদের বিপ্লব করার প্রবণতা এই বিশ্বাসে ক্ষয় ধরিয়েছিল।

আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষরা উত্তরোত্তর সশস্ত্র ফৌজ নির্ভর হয়ে পড়লেন, গ্রামাঞ্চলকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য। অল্প কিছু নেতা, যারা বেশী দূরদর্শী ছিলেন, তাঁরা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি স্থানীয় কমিটিদের হাতে তুলে দিয়ে কৃষকদের বাগে আনতে চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো কেন্দ্রীয় বা প্রাদেশিক শক্তি কোনো স্থির নীতি লাগু করতে না পারায়, অভ্যুত্থানগুলি চলতেই থাকে।

অক্টোবর ১৯১৭ তে বলশেভিকরা ক্ষমতা দখলের পর, লেনিন দ্রুত জমি সংক্রাং দিক্রী প্রস্তাব করলেন, যা সব ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিকে কৃষকদের ব্যবহারের জন্য হস্তান্তরিত করল। বস্তুত, এই ডিক্রী কেন্দ্রীয় সরকারের অক্ষমতা দেখাল, কারণ অক্টোবরের মধ্যে কৃষকরা প্রায় সব ব্যক্তি মালিকান্ধীন জমি দখল করে নিয়েছিলেন। গ্রামীণ রাশিয়ার অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণের যে লড়াই আসন্ন গৃহযুদ্ধের এক প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছিল, লেনিনের ডিক্রী তার পূর্বনির্দেশ করেছিল।

রাশিয়ার গ্রামীণ বিপ্লবের ইতিহাস এখনও আবিষ্কৃত হচ্ছে, এবং আমরা যতটুকু জানি তা ১৯১৭র ইতিহাসকে আরো সমৃদ্ধ করছে।

রুশ জারতন্ত্র প্রজাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইত। এই কারণে প্রতিটি মানুষ নিজের গ্রাম ও জেলার বাইরে যেতে গেলেই তাঁকে একরকম দেশের ভিতরে ব্যবহারের পাসপোর্ট নিতে হত।


Sexual Politics : Identity Politics Can Only Get Us So Far


Friday 3 November 2017, by Roger Lancaster

Let’s give identity politics its due, but let’s also be clear about why we need universalist politics.

I first encountered the assertion that “all politics is identity politics” some time in the 1990s. The claim seemed tailor-made for that decade, when Judith Butler was portraying all identity as performance and politics as a slow, staid, and distinctly non-revolutionary adjustment of social norms.

This idea has persisted, no doubt because the wider political conjuncture that shaped it still remains in force. It reverberates in current debates about the 2016 election and in discussions about the relationship between post-1960s social movements and a renewed socialist left.

At first glance, the idea looks like a useful shorthand for how politics really works. For instance, in Imagined Communities, Benedict Anderson showed how a certain kind of identity shaped the modern world. After Gutenberg, books, newspapers, schools, and other emergent institutions undermined ancient axioms, coaxed people to join different communities, and thus prepared the ground for the spread of nationalism and the rise of nation states.

Likewise, we might read Karl Marx as an identity-politics theorist. When his followers define class consciousness as the development of a class-in-itself into a class-for-itself, they effectively describe a process whereby members of a class become aware of themselves as a class and forge a collective identity.

However, categorizing Anderson and Marx as identity thinkers misrepresents their work. Anderson does not base his analysis on general assertions about the timeless mechanisms of identity formation. Rather, he takes converging political-economic factors — especially the rise of what he calls print capitalism — into meticulous account.

And, as E. P. Thompson suggested, aligning class consciousness with identity abstracts class from the historical conditions and struggles of its production.

Once this [approach] is assumed it becomes possible to deduce the class-consciousness which “it” [the working class] ought to have (but seldom does have) if “it” was properly aware of its own position and real interests. There is a cultural superstructure, through which this recognition dawns in inefficient ways. These cultural “lags” and distortions are a nuisance, so that it is easy to pass from this to some theory of substitution: the party, sect, or theorist, who disclose class-consciousness, not as it is, but as it ought to be.

In fact, the claim that all politics is about identity is so general that observers can use it to give a flyover view of almost any political phenomenon. After all, every movement positions an “us” against a “them” and builds support by enlisting people to join a group and to identify with a cause.

That this assertion can apply to so many cases is not a strength. The paradigm rejects an analysis of the particular in order to feign expertise in the general, erases the historical specificities of given struggles and movements, and paints everything with the same brush.

Weaponized Identities

A scrupulous review of what socialist and working-class movements have usually demanded — universal health care, free education, public housing, democratic control of the means of production — doesn’t easily square with how identity politics are typically understood. In its strictest sense, identity politics describes how marginalized people embrace previously stigmatized identities, create communities on the basis of shared attributes and interests (which are typically held to be essential and unchanging), and rally either for autonomy or for rights and recognitions. I would take this argument a step further and say that even the new left social movements that gave birth to the term identity politics have not always fit this mold.

Consider the gay movement. In its late-1960s upsurge, gay politics had less to do with the pageantry of identity than with urgent demands to end violence and oppression. Activists first called for the cops to get out of our bars, the institutions to get off of our backs, and the shrinks to get out of our lives.

Identity comes up early, of course, usually in discussions of coming out. In this context, however, activists gave no hint of seeking what Nancy Fraser calls “recognition,” nor did they reify homosexuality as a person’s unchanging essence.

Surveying his research on the early history of gay liberation, Henry Abelove argues that today, blinkered by post-Stonewall preconceptions, we fundamentally misunderstand the relationship early gay activists had to identity. “I find little to suggest,” he writes, “that [the early liberationists] saw coming out as the result of a truth-seeking journey deep into a supposed interior self. They thought of it rather as a release from a quite deliberately assumed reticence.” That is, they considered publicly identifying as gay as an “indispensible means” for building a political movement, a gentle and persistent weaponization of the individual in homosexuals’ collective struggles.

Among other things, this means that the liberationists generally took a dialectical approach to sexual categories. From the start, they maintained that labels like heterosexual and homosexual would be cast aside after liberation.

Carl Wittman’s influential broadside, “A Gay Manifesto,” published in 1970 by the Red Butterfly brigade of the Gay Liberation Front, gives us useful insight into the early militants’ thinking. Far from celebrating the gay ghetto, Wittman treats San Francisco as a “refugee camp.” Rejecting gay marriage as a political goal, he calls instead for alternatives to matrimony. And while stressing the political necessity of coming out, Wittman underscores the tentativeness of identity with glances at a liberated, bisexual future: “We’ll be gay until everyone has forgotten that it’s an issue.” Likewise, Dennis Altman’s 1971 polemic, Homosexual Oppression and Liberation, concludes with a chapter titled “The End of the Homosexual.”

Under the rubric of liberation, activists embraced identity in order to abolish it. Marxist ideas about class struggle — which similarly culminate with the abolition of social classes — influenced their ideas. They rallied around demands for adequate income, housing, medical care, ecological well-being, and meaningful employment. Their liberation struggle was ultimately a revolutionary call to action with a universalist view of freedom.

The turn to identity as the key political trope, as well as the whittling-back of demands to fit this narrower concept, came in the wake of the original political upsurge, as urban gay communities were growing, as gay was emerging as a niche market, and when the political discourse shifted from social to personal liberation. In this context, increasingly reified identities would step out of closets to claim their rights, each vying for recognition under increasingly elaborate acronyms. A complex history of separatisms, nationalisms, and intersectionalities follows.

Universal Liberation

All of the new left social movements trace similar trajectories. Over the course of the 1970s, the women’s movement, the black movement, and the gay movement all retreated from their original, radical outlooks to take on essentially liberal worldviews. As political imaginaries contracted, each began to dwell more comfortably in the house of identity. This process dovetailed with post-Fordism’s and neoliberalism’s new forms of lifestyle consumerism. Periodic upsurges in radicalism occasionally interrupted this trend, but these outbreaks were quieted, domesticated, and reabsorbed back into the main movement.

Identity politics, from this perspective, is neither coterminous with politics nor the form invariably taken by new left social movements; rather, it describes the form that these movements took under changing circumstances.

This evolution has had important results. We owe the fact that the United States has become more tolerant and inclusive to identity politics’ successes and to the liberal reforms they have won.

But this kind of political engagement has failed to address the types of social inequalities around which earlier liberationists centered their activism. And now, as class inequalities have dilated, establishment politicians ally with identity groups to shore up neoliberalism against any resistance to it.

Let’s give identity politics its due but let’s also be clear about its limitations. We can learn from the past, but not from potted histories that make terms like identity into abstractions. And we deceive ourselves if we think the path forward will involve the accumulation of minorities into a majority, the mere amalgamation of pre-constructed identities into a socialist movement.

The Left must now discover how to win over the publics currently being represented by identity brokers with an inclusive and universalist socialist program.

08 March 2017

Source Jacobin.

পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েত ১৯১৭ঃআপোস থেকে ক্ষমতার দিকে

কেভিন মারফি

ভাষান্তর – কুণাল চট্টোপাধ্যায়

১৯১৭ সাল ধরে পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েত নিজেকে রূপান্তরিত করল পুঁজির সঙ্গে রফা করতে প্রস্তুত এমন একটি সংস্থা থেকে বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত এমন একটি সংগঠনে।  

মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে ফেব্রুয়ারী বিপ্লব রুশ জারতন্ত্রকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করেছিল। বিদ্রোহের পরে পাশাপাশি দাঁড়িয়েছিল এক নির্বাচিত পেত্রোগ্রাদ শ্রমিক এবং সৈনিকদের সোভিয়েত, এবং এক অনির্বাচিত অস্থায়ী সরকার। গোটা ১৯১৭ জুড়ে এই সোভিয়েতের ভূমিকা ছিল একেবারে কেন্দ্রীয়। ১৯০৫-এর সাধারণ ধর্মঘটের সময়ে জঙ্গী শ্রমিকরা প্রথম সোভিয়েতের সূচনা ঘটিয়েছিলেন। সোভিয়েতের ধারণাটা শ্রমিক আন্দোলনে এতটাই ঢুকে গিয়েছিল, যে ১৯১৭-র অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় দিন থেকেই কিছু কিছু ফ্যাক্টরী নতুন সোভিয়েত তৈরী হওয়ার প্রত্যাশায় প্রতিনিধি নির্বাচন শুরু করে দেয়।

কিন্তু মেনশেভিকরা যাখন সোভিয়েত ডাকলেন, ২৭শে ফেব্রুয়ারী, তখন নরমপন্থী সমাজতন্ত্রী আলেক্সান্দর কেরেনস্কী প্রতিশ্রুতি দিলেন, এই সংস্থা কাজ করবে শৃংখলা বজায় রাখার জন্য।  ১৯০৫এর সোভিয়েত ছিল আগাগোড়া লড়াইয়ের প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এবারের পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েত তার কার্যনির্বাহক কমিটিতে নির্বাচিত করল প্রায় একচ্ছত্রভাবে সেই সব বুদ্ধিজীবীদের, যাঁরা বিপ্লবে অংশ নেন নি।  

মার্চের শেষের মধ্যে, পেত্রোগ্রাদে স্থিত ১৫০,০০০ সৈনিকদের বেশী প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হল ২০০০ প্রতিনিধি মারফৎ, যেখানে ৪০০,০০০ শিল্প শ্রমিকদের প্রতিনিধি হলেন মাত্র ৮০০ জন। ফেব্রুয়ারী বিপ্লবে বস্ত্রশিল্পের নারী শ্রমিকদের নির্ণায়ক ভূমিকা সত্ত্বেও, সোভিয়েতের সদস্যরা ছিলেন প্রায় সকলেই পুরুষ, আর মাত্র কয়েক ডজন নারী প্রতিনিধি। অসংগঠিত, চীৎকার হত, এমন সাধারণ সভার অর্থ হল অধিকাংশ সময়ে জরুরী কাজ চালাত কার্যনির্বাহক কমিটি। এই কমিটির লক্ষ্য ছিল শ্রমিক এবং সৈনিকদের চেয়ে অনেক মোলায়েম। ক্ষমতা হাতে নেওয়ার বদলে এই কমিটি তার অনিচ্ছুক উদারনীতিবিদ মিত্রদের উপর চাপ দিল যে তাঁদের সরকার গঠন করতে হবে। নিকোলাই সুখানভ লিখেছেন, যে মেনশেভিকরা বিশ্বাস করতেন, “জারতন্ত্রের জায়গা নেবে যে সরকার তাকে সম্পূর্ণভাবে বুর্জোয়া হতে হবে”।

২ মার্চ সোভিয়েত যখন অস্থায়ী সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়, তারপর সোভিয়েতের সংবাদপত্র ইজভেস্তিয়া ব্যাখ্যা করে, সোভিয়েত নতুন সরকারের উপর গণতন্ত্রের স্বার্থে চাপ দেবে, কিন্তু বেশী জোরে চাপ দেবে না, পাছে প্রতিবিপ্লব ঘটে যায়। কিন্তু কার্যনির্বাহক কমিটি এই সামান্য দিশা পালন করতেও পারে নি। অস্থায়ী সরকারকে খুশী রাখতে সোভিয়েতের নেতারা প্রতিটি প্রধান বিষয়ে পিছু হাঁটলেন। তাঁরা  স্থির করলেন, ভূমি সমস্যার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না, যতদিন না সংবিধান সভা নির্বাচিত হয়, আর সেই নির্বাচন বারে বারে পিছিয়ে দেওয়া হল। অবিশ্বাস্য হলেও, তাঁরা এমনকি রাজতন্ত্র চালু রাখতেও রাজি হলেন – কিন্তু তাঁদের হাত থেকে সিদ্ধান্তটা কেড়ে নিলেন নিকোলাসের ভাই মিখাইল, কারণ তিনি একদিনের জন্যও জার হতে অস্বীকার করলেন।  

যুদ্ধের মত বিতর্কিত বিষয়ে, সোভিয়েত ১৪ মার্চ একটা শান্তিবাদী ইস্তাহার প্রকাশ করল, যাকে বলশেভিক প্রাভদা ব্যাখ্যা করেছিল “সোভিয়েতে উপস্থিত সবকটি ধারার মধ্যে সচেতন রফা” বলে। ফলে যে ঐকমত্যটি সৃষ্ট হল, তা এমনই ধোঁয়াটে ছিল, যে যুদ্ধবাজ বিদেশ মন্ত্রী পাভেল মিলিউকভ পর্যন্ত সেটা সমর্থন করতে পেরেছিলেন, যেমন পেরেছিলেন বলশেভিকদের পক্ষে জোশেফ স্তালিন এবং লেভ কামেনেভ।

বস্তুত, ঐ গোড়ার দিকে বলশেভিকদের কাজের সঙ্গে মেনশেভিক আর সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারী (এস আর)দের  কাজের ফারাক করা কঠিন। কার্যনির্বাহক কমিটির সভাগুলির কার্যবিবরণী দেখায়, বলশেভিক গোষ্ঠীর নেতারা অধিকাংশ নীতিগত প্রশ্নে নীরব থেকেছিলেন। এটা ট্রটস্কীর পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মিলে যায়, যেখানে তিনি লিখেছিলেনঃ

প্রতিবেদনগুলিতে, এবং সংবাদপত্রে একটিও প্রস্তাব, ঘোষণা, বা প্রতিবাদের উল্লেখ নেই, যেখানে মেনশেভিক এবং এস আর-দের স্তাবকতার প্রতিবাদে স্তালিন বলশেভিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেছিলেন।

স্তালিন ও কামেনেভের নেতৃত্বে বলশেভিকদের ভূমিকা এমনই জঘন্য ছিল, যে কয়েক বছর পরে, তাঁরা আলেক্সান্দর শ্লিয়াপনিকভের উপরে চাপ দেবেন, তাঁর স্মৃতিচারণ পাল্টে লেখার জন্য।

ঐ প্রথম সপ্তাহগুলিতে সোভিয়েতের একমাত্র উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল ১নং নির্দেশ জারী করা। জঙ্গী সৈনিকরা নেতাদের উপরে চাপ দিয়ে সেটা পাশ করিয়েছিলেন। এই বিখ্যাত ডিক্রী সৈনিকদের নিজস্ব কমিটি নির্বাচনের ক্ষমতা দিল, এবং যে সব সরকারী নির্দেশ সোভিয়েতের নির্দেশের পরিপন্থী হবে সেগুলি অমান্য করার ক্ষমতা দিল। ১নং নির্দেশ অস্থায়ী সরকারের যুদ্ধপ্রস্তুতির পথে এক বিশাল বাধাতে পরিণত হল।

লেনিন দ্রুত এই দ্বৈতক্ষমতা ব্যবস্থার  অস্থিতিশীলতা বুঝতে পারলেন। অস্থায়ী সরকার এবং সোভিয়েতের ছিল পরস্পরবিরোধী শ্রেণীস্বার্থ, এবং না কূটনীতি, না আপোষপন্থা, তাদের স্থায়ীভাবে একত্রে আনতে পারত। ট্রটস্কীর, এবং ভাইবর্গের কিছু বামপন্থী বলশেভিকের কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে লেনিনের এপ্রিল থিসিস আহবান করল, যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রচারের মাধ্যমে যুদ্ধের প্রয়াসকে নাকচ করা হোক, রাষ্ট্রক্ষমতা সোভিয়েতদের হাতে তুলে দেওয়া হোক, এবং “সামাজিক উৎপাদন ও উৎপন্ন দ্রব্য বন্টন” শ্রমিক পরিষদদের নিয়ন্ত্রণে আনা হোক।

৩রা এপ্রিল তিনি ফিরে আসার পরবর্তী চব্বিশ ঘন্টায় লেনিন অনেকগুলি পথসভায় বক্তৃতা দেন, যেখানে তিনি এক হাজারের বেশী বলশেভিক কর্মীর কাছে তার নতুন, বৈপ্লবিক দিশা ব্যাখ্যা করেন। তিনি “পুঁজিবাদী জলদস্যুদের যুদ্ধের” বিরুদ্ধে প্রচার করেন, কামেনেভ ও স্তালিন যে মেনশেভিকদের সঙ্গে ঐক্যের আলোচনা করছিলেন তাকে নাকচ করেন, এবং গোটা রাজনৈতিক পরিমন্ডল থেকে প্রতিপক্ষদের আক্রোশ বাড়িয়ে তোলেন।

মেনশেভিক সংবাদপত্র চীৎকার জুড়ে দিল যে তার নতুন কর্মসূচী বিপ্লবের প্রতি নিঃসন্দেহে এক বিপদ, আর উগ্র দক্ষিণপন্থী পত্রিকাগুলি লেনিনকে তুলনা করতে শুরু করল খৃষ্টীয় বিশ্বাসের “অ্যান্টিক্রাইস্ট”-এর সঙ্গে।  প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স লভভ অভিযোগ করলেন, সোভিয়েত বলেছিল অকুন্ঠ সমর্থন দেওয়া হবে, তার বদলে সরকারকে এখন সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে, নেভস্কি প্রসপেক্টে “পুঁজিবাদী মন্ত্রীরা নিপাত যাক” লেখা ব্যানার হাতে শ্রমিক আর সৈনিকদের সংঘাত হল “লেনিন নিপাত যাক” লেখা ব্যানার হাতে উদারনীতিবিদ সমর্থকদের সঙ্গে।

যুদ্ধ ও এপ্রিল সংকট

এই যে চাপা উত্তেজনা, সে সব প্রকাশ্যে বেরিয়ে এল প্রথম বিশ্বযুদ্ধে  রাশিয়ার ভূমিকার ফলে। মেনশেভিক ইরাকলি সেরেতেলির চাপে, অস্থায়ী সরকার ২৭শে মার্চ ঘোষণা করে যে তাঁদের লক্ষ্য নিছক প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধ। কিন্তু একমাসের কম সময়ের মধ্যে, উদারনৈতিক সাংবিধানিক গণতন্ত্রী দল, বা ক্যাডেটদের সদস্য মিলিউকভ মিত্রশক্তির কাছে একটি নোট প্রচার করেন, যাতে আগের ঘোষণাটিকে কার্যত অস্বীকার করে।

তিনি বলেন যে রাশিয়া বিশ্বযুদ্ধকে চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তার ফলে রাশিয়ার দখলে আসবে কনস্ট্যান্টিনোপল এবং দার্দানেলিস। তিনি মনে করেছিলেন, বিপ্লব সাম্রাজ্যের যুদ্ধকালীন দিশাগুলিকে দুর্বল করেনি, বরং যুদ্ধকে চূড়ান্ত বিজয় অবধি এগিয়ে নিয়ে যাওয়াআর সর্বজনীন আকাংখ্যাকে শক্তিশালী করেছে, এবং তিনি দাবী করেন যে ভবিষ্যত যুদ্ধ থামানোর জন্য চাই গ্যারান্টি ও মঞ্জুরী – আসলে দেশ দখল এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবী।

সোভিয়েতের সঙ্গে অস্থায়ী সরকারের ভঙ্গুর শান্তি ভেঙ্গে পড়ল মিলিউকভের এই খোলাখুলি ভাষায় রুশ ও মিত্র সাম্রাজ্যবাদীদের আগ্রাসী দিশার ব্যাখ্যার ফলে। গভীর রাত পর্যন্ত সোভিয়েতের কার্যনির্বাহক কমিটি সভা করেও কোনো ঐকমত্যে আসতে পারল না।   

২০ এপ্রিল সকালের খবরের কাগজগুলিতে যখন মিলিউকভের নোট প্রকাশিত হল, তখন ফিনল্যান্ড রেজিমেন্টের এক সার্জেন্ট একটি যুদ্ধবিরোধী মিছিল সংগঠিত করেন। সত্ত্বর, অন্য বিভিন্ন রেজিমেন্ট এবং বাল্টিক নৌবহরের নাবিকরা যোগদান করলেন।  শেষে ২৫০০০ সশস্ত্র সৈনিকের এক মিছিল হাজির হল মারিনস্কি প্রাসাদের সামনে। হাতে তাঁদের প্ল্যাকার্ড, যাতে লেখা ছিল – “মিলিউকভ নিপাত যাক!”   

পরদিন, বলশেভিকদের উদ্যোগে বৃহত্তর একটি প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত হয়, আর মেনশেভিক ও এস আর-রা শ্রমিক এবং সৈনিকদের আবেদন করেন, ঐ মিছিলে যোগদান না করতে। মারিনস্কি প্রাসাদের বিশাল সম্মুখভাগের উল্টোদিকে বলশেভিকরা একটা বিরাট লাল ব্যানার টাঙ্গিয়ে দিলেন, যাতে বলিষ্ঠ ভাষায় লেখা ছিলঃ “তৃতীয় আন্তর্জাতিক দীর্ঘজীবী হোক”। ক্যাডেট দল অস্থায়ী সরকারের সমর্থনে পাল্টা মিছিল ডেকেছিল, এবং ফেব্রুয়ারীর পর এই প্রথম নেভস্কিতে খন্ডযুদ্ধ দেখা যায়।

কিছু কিছু বলশেভিক “অস্থায়ী সরকার নিপাত যাক” স্লোগানটা আক্ষরিকভাবে নিয়ে মনে করলেন, প্রাসাদে হানা দিয়ে মন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করা যেতে পারে। জেনারাল লাভর কর্ণিলভ প্রস্তাব করলেন, প্রতিবাদীদের কামান দেগে ছত্রভঙ্গ করা হোক। সোভিয়েত যখন এই খবর পায়, তখন তার দিক থেকে সৈনিকদের কাছে নির্দেশ যায়, তাঁরা যেন ছাউনীতেই থাকেন।

ইজভেস্তিয়া অভিযোগ করল, নেতৃত্ব সংকট মেটাতে কাজ করছেন, কিন্তু “অনেক সমর্থক পতাকা সহ এমন স্লোগান নিয়ে মিছিল করছেন, যেগুলি সোভিয়েতের লক্ষ্যের সঙ্গে সাযুজ্য রাখে না”। যেমন, তাঁরা দাবী করছেন “সরকারের উচ্ছেদ এবং সোভিয়েতের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর”। সেদিন সন্ধ্যায়, অস্থায়ী সরকার যুদ্ধ প্রসঙ্গে সোভিয়েতের কাছে নতুন করে লেখা একটি নোট পাঠায়, এবং ৩৪-১৯ ভোটে কার্যনির্বাহী কমিটি সেটি গ্রহণ করে। এই নেতারা মনে করলেন যে সংকট শেষ, এবং তাঁরা আর কোনো মিছিল করার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারী করলেন।  

লেনিন এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কষাঘাত করে লিখলেন, “পুঁজিপতিরা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে”, এবং “প্রথম সংকটের পর আরো সংকট আসবে”। তিনি একই সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করলেন ব্লাংকিপন্থী, তাৎক্ষণিক ক্ষমতা দখলের চেষ্টাকে। তার বদলে ডাক দিলেন দীর্ঘমেয়াদী রণনীতির, যাতে বোঝানো হবে যুদ্ধ থামানোর প্রলেতারীয় পদ্ধতি এবং সোভিয়েতের প্রতিনিধিদের নতুন করে নির্বাচিত করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হবে।

সোভিয়েতের প্রতিনিধিদের ফিরিয়ে আনার গণতান্ত্রিক রীতি বলশেভিকদের পক্ষে কাজ করবে। এপ্রিলের শেষে, পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতে লেনিনের দলের ছিল প্রায় এক চতুর্থাংশ প্রতিনিধি, আর আরো নীচে, নগর জেলা সোভিয়েতগুলিতে, সংখ্যাটা বেশীই ছিল। যুদ্ধক্ষেত্রে, যে প্রচারকরা জার্মান সৈনিকদের সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব প্রদর্শনের ডাক দিচ্ছিলেন তাঁদের কথা যেন ক্লান্ত সৈনিকদের মনে দাগ কাটছিল।

৬ই মে, ইজভেস্তিয়া ক্ষুব্ধ ছিল, যে প্রাভদা “সোভিয়েতের আবেদনের সম্পর্কে সৈনিকদের আস্থা ভেঙ্গে দিচ্ছিল ... আপনারা যদি আপনাদের সোভিয়েতের উপর বিশ্বাস রাখেন, তাহলে পবিত্র চিত্তে তার আহবানে সাড়া দিন এবং ‘ভ্রাতৃত্ব’ প্রদর্শন বন্ধ করুন”।

কেরেনস্কীর আক্রমণাত্মক যুদ্ধঃ

লেনিনের ভবিষ্যতবাণী, যে মিলিউকভ নোট নিয়ে সংকট হবে বহু সংকটের প্রথমটি মাত্র, বাস্তবে সত্য বলেই প্রমানিত হল। জুন মাসে কেরেনস্কী প্রস্তাবিত সামরিক আক্রমণ অস্থায়ী সরকার, সোভিয়েত, এবং তার যে জনগণের নাকি প্রতিনিধিত্ব করছিলেন তাঁদের মধ্যে ব্যবধান বাড়িয়ে তুলল।

৩রা জুন যখন পেত্রোগ্রাদে সারা রাশিয়া সোভিয়েতদের প্রথম কংগ্রেস আরম্ভ হল, তখন নরমপন্থী সমাজতন্ত্রীরা ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছিলেন, এবং তাঁরা দাবী করতে পারতেন যে তাঁরা দু’কোটি শ্রমিক ও সৈনিকদের নামে শাসন করছেন। কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা কেরেনস্কীর আক্রমণের প্রস্তাবকে অনুমোদন করলেন, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে তড়িৎস্পৃষ্ট রাজধানীতে শ্রমিক ও সৈনিকদের বাঁয়ে মোড় ঘোরা বাকি দেশের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল।  

যুদ্ধের নবীকরণের প্রস্তুতিতে কেরেনস্কী সামরিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করেন, কিন্তু বিপ্লবী সৈনিকদের কাছ থেকে বাঁধা পান। ২৩ মে পেত্রোগ্রাদের বলশেভিক সামরিক সংগঠনের একটি সভাতে ঘোষণা করা হয় যে “কেন্দ্র থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গৃহীত না হলে [সামরিক সংগঠন] নিজের উদ্যোগে বেরিয়ে আসতে প্রস্তুত”।  

৮ই জুন সামরিক সংগঠন সহ বলশেভিক নেতারা বিপুল ভোটে স্থির করেন যে কেরেনস্কীর পরিকল্পনার প্রতিবাদে একটি মিছিল হবে। বলশেভিক পত্রিকা সোলদাতস্কায়া প্রাভদা অস্থায়ী সরকারের ডাকঃ “বিজয় পর্যন্ত যুদ্ধ”কে ব্যঙ্গ করে তাদের নিজেদের স্লোগান দিলঃ “পুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে বিজয় পর্যন্ত যুদ্ধ”।  

তৃণমূল স্তরে ব্যাপক সমর্থন থাকলেও, বলশেভিকদের এই আহবান সোভিয়েত কংগ্রেস এবং পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েত, উভয়কেই অগ্রাহ্য করেছিল। ১০ই জুনের গোড়ায়, বলশেভিক কেন্দ্রীয় কমিটির এক ছোট সভাতে ৩-০ ভোটে মিছিল বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইয়াকভ সভের্দলভ এবং লেনিন নেতৃত্বের দক্ষিণপন্থী অংশের বিরুদ্ধে ভোটদান থেকে বিরত থাকেন।

এই সিদ্ধান্ত পার্টির জঙ্গী কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্রোধের সঞ্চার ঘটায়। ভাইবর্গের কিছু সদস্য তাঁদের সদস্যপদ ছিঁড়ে ফেলেন। পিটার্সবুর্গ কমিটিতে একের পরও এক বক্তা কেন্দ্রীয় কমিটিকে তীব্র কষাঘাত করেন। প্যারী কমিউনের মত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়ে লেনিন তার কমরেডদের কাছে আহবান করেন সর্বাধিক শান্তি, সতর্কতা, ধৈর্য এবং সংগঠিত হওয়ার জন্য।

পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েত এবং সোভিয়েত কংগ্রেসের সভাপতিমন্ডলীর এক যৌথ অধিবেশনে ১১ই জুন উদভ্রান্ত সেরেতেলি বলশেভিকদের নামে অভিযোগ আনলেন বিপ্লবের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করার এবং দমনমূলক ব্যবস্থার ডাক দিলেন। বলশেভিকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন কামেনেভ। তিনি বলেন, কোনো স্লোগান দেওয়া হয় নি, ক্ষমতা দখলের জন্য। কেবল স্লোগান তোলা হয়েছিলঃ সোভিয়েতদের হাতে সব ক্ষমতা। তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেনঃ “ আমাকে গ্রেপ্তার করে বিপ্লবের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করার জন্য বিচারে তুলুন”। তিনি ও অন্য বলশেভিকরা প্রতিবাদে ওয়াক আউট করেন।

পরদিন, সোভিয়েত কংগ্রেস কেরেনস্কীর পরিকল্পিত আক্রমণাত্মক যুদ্ধনীতি অনুমোদন করল। সেই সঙ্গে তাঁরা ১৮ই জুন ঐক্যের নামে মিছিলের ডাক দিল। কিন্তু পেত্রোগ্রাদের সোভিয়েত নেতাদের চিন্তা ছিল যে বলশেভিকরা তাঁদের মিছিল কেড়ে নেবে, তাই তাঁরা প্রস্তাব করলেন, কেবল সোভিয়েত কর্তৃক অনুমোদিত স্লোগান থাকতে পারবে।

বিপ্লবী রীতির সঙ্গে এই খোলাখুলি ভাংগন, যদিও সেটা বাস্তবে চাপিয়ে দেওয়া অসম্ভব হত, বহু শ্রমিক ও সৈনিককে রক্ষণশীল নেতৃত্বের বিরোধী করে তুলল। বহু ফ্যাক্টরী, যেখানে আগে মেনশেভিক ও এস আর রা প্রাধান্য বিস্তার করেছিলেন, সেখানে সিদ্ধান্ত হল বলশেভিকদের স্লোগান সমর্থন করার।  

ইজভেস্তিয়া অভিযোগ করল যে “জনতার নীচের দিকের, অজ্ঞ অংশগুলি” আকৃষ্ট হচ্ছে “নৈরাষ্ট্রবাদী-বলশেভিক প্রচারে”মিছিলের পূর্বাহ্নে সেরেতেলি বলশেভিক প্রতিনিধিদের বলেন, “আমরা দেখব সংখ্যাগরিষ্ঠ কাদের অনুসরণ করে – তোমাদের না আমাদের”।    

ম্যাক্সিম গোর্কির নোভায়া ঝিঝন পরদিন স্বীকার করেছিল, চার লাখের ঐ মিছিল দেখিয়েছিল “পিটার্সবুর্গ প্রলেতারিয়েতের মধ্যে বলশেভিকবাদের সম্পূর্ণ বিজয়”। বলশেভিকদের ব্যানার ও স্লোগানে ভরে গিয়েছিল। “সোভিয়েতদের হাতে সব ক্ষমতা”, এবং “দশজন পুঁজিবাদী মন্ত্রী নিপাত যাক”, এই দুই স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ডের সমুদ্রে দ্বীপের মত দেখা্ দিচ্ছিল সামান্য কিছু সরকারী সোভিয়েত, মেনশেভিক ও এস আর স্লোগান।

এই মিছিল আর কেরেনস্কীর আক্রমণাত্মক রণনীতির সমাপতন ঘটেছিল। ঐ আক্রমণের ফলে চল্লিশ হাজার সৈনিকের মৃত্যু হয়। ইজভেস্তিয়াতে রিপোর্ট বেরোয়, একটি প্রতিনিধি দল দশম সেনাবাহিনীর কাছে “রুশ গণতন্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গী ব্যাখ্যা করতে গেলে” কি হয়েছিলবহু রেজিমেন্টে কমিটির সদস্যদের বলা হয়, সৈন্যরা তাঁদের কর্তৃত্ব, পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের কর্তৃত্ব, বা যুদ্ধমন্ত্রীর কর্তৃত্ব মানবে না, এবং আক্রমণে নামবে না। রাশিয়াতে যেখানে স্বাধীনতা এসেছে, একটু জমি পাওয়ার সুযোগ এসেছে, সেখানে তারা মরতে চায় না।

৭০৩ নং রেজিমেন্টে সৈন্যরা কমিটিকে বিদ্রুপ করে, কারণ তারা “আমাদের তাড়া দিচ্ছে কেরেনস্কীর হুকুম মানতে”, এবং তারপর পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের প্রতিনিধিদের মারধর করে, মেরে ফেলার হুমকি দেয়, এবং শেষে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।  

কেরেনস্কীর বহু প্রত্যাশিত আক্রমণ এক ভয়ংকর বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিল। প্রকাশ্যে সাফল্য দাবী করলেও, তিনি ২৪ জুন এক সাংকেতিক ভাষায় লেখা টেলিগ্রামে স্বীকার করেন যে “প্রথম দিনগুলির পর, কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুদ্ধের প্রথম কয়েক ঘন্টার পর ... তেজ কমতে থাকে”, এবং বিভিন্ন [সামরিক] ইউনিট “প্রস্তাব গ্রহণ করতে থাকে, যাতে ছিল অবিলম্বে রণাঙ্গণের পিছনে অপসারণের দাবী ছিল”।

জুলাইয়ের আধা-অভ্যুত্থানঃ

জুলাইয়ের দিনগুলি এই সংঘাত তীব্রতর করে তুলল। বিদ্রোহীরা পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের কাছে আকুল আবেদন করলেন যেন সোভিয়েত ক্ষমতা নেয়, আর নেতারা আশ্চর্যভাবে সৈনিকদের হাতে পায়ে ধরলেন ঐ বিদ্রোহীদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য। একজন বলিষ্ঠ চেহারার শ্রমিক এক বিখ্যাত ঘটনায় এই দ্বন্দ্বটা তুলে ধরেন, যখন টাউরিডে প্রাসাদের বাইরে তিনি এস আর নেতা ভিক্টর চের্নভের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে চীৎকার করে বলেনঃ “কুত্তার বাচ্চা, ক্ষমতা যখন তোমাদের দেওয়া হচ্ছে, তখন সেটা নাও”।  

ফেব্রুয়ারীতে প্রথম মেশিন গান রেজিমেন্টের হাজার হাজার সৈনিক ওরেনবুর্গ থেকে শোভাযাত্রা করে এসে বিপ্লবকে রক্ষা করার জন্য পেত্রোগ্রাদেই থেকে গিয়েছিলেন। এই সৈনিকদের দুই-তৃতীয়াংশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাবার হুকুম দিলে তাঁরা বিদ্রোহ করেন, কারণ তাঁরা ঐ হুকুমকে মৃত্যুদন্ডের চেয়ে কম কিছু বলে মনে করেন নি। ১ জুলাই সোভিয়েত দাবী করে, মেশিন গান চালকরা যেন তাঁদের ছাউনীতে ফিরে যান, কিন্তু তাঁরা সশস্ত্র শোভাযাত্রার পরিকল্পনা করে যেতে থাকেন।

বলশেভিকদের সারা রাশিয়া সামরিক সংগঠনের সম্মেলনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হলেন পিঠে বন্দুক নিয়ে, লড়তে প্রস্তুত হয়ে।প্রাদেশিক সংগঠনরা জানালেন কেরেনস্কীর ও তার যুদ্ধ-পরিকল্পনার প্রতি তীব্র ক্ষোভের কথা।.তাৎক্ষণিক সশস্ত্র অভ্যুত্থানের দাবী নিয়ে বারে বারে সৈন্যরা এসে সম্মেলনকে বাঁধা দেন। লেনিনের বক্তৃতায় লেনিন অসংগঠিত, বেশী আগে ঘটে যাওয়া অভ্যুত্থান যে সরকারের হয়াতে খেওলবে, এই কথা বলে অত্যুৎসাহীদের উপরে যেন ঠান্ডা জল ঢাকার চেষ্টা করলেন।

জুলাইয়ের মধ্যে কিছু হঠকারী বলশেভিকদের দেখাচ্ছিল যেন নৈরাষ্ট্রবাদীদের মতো। ২রা জুলাই নৈরাষ্ট্রবাদীদের একটি সভা থেকে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের ডাক দেওয়া হয়। বস্তুত, আলেক্সান্ডার রাবিনোউইচ লিখেছেন যে এই গোষ্ঠীটি “অভ্যুত্থানে এক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল”।  নৈরাষ্ট্রবাদী ব্লেইখম্যান মেশিন গান বাহিনীকে আহবান করেন সরকারকে উচ্ছেদ করতে, কিন্তু তাঁর বিশ্বাস, যে “রাস্তাই আমাদের সংগঠিত করবে”, কেবল বিশৃঙ্খলা ঘটিয়েছিল। যখন ক্রোনস্টাড থেকে দশ হাজার সশস্ত্র নাবিক হাজির হলেন, তখন সোভিয়েতের নেতারা তাঁদের কাছে আবেদন করছিলেন ফিরে যেতে, কিন্তু তাঁরা ব্লেইখম্যানের প্রস্তাবিত অভ্যুত্থানের প্রস্তুতির প্রতি অনেক বেশী সহানুভূতিশীল ছিলেন। এই বিশাল মিছিল সারা রাশিয়া সোভিয়েত কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে যে দাবীগুলি পেশ করেছিল, ইজভেস্তিয়া তা ছেপে দেয়ঃ

দশজন বুর্জোয়া মন্ত্রীর অপসারণ, সোভিয়েতদের হাতে সব ক্ষমতা, আক্রমণাত্মক যুদ্ধ বন্ধ করা, বুর্জোয়া পত্রপত্রিকার ছাপাখানাগুলি বাজেয়াপ্ত করা, জমি হবে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি, উৎপাদনের উপরে চাই রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ।

সেই রাতে কামেনেভ ও জিনোভিয়েভ বলশেভিক নেতৃত্বকে বোঝালেন যে পরদিনের মিছিল বাতিল করতে হবে, কারণ তাঁদের উৎকন্ঠা ছিল যে মিছিল হলে তা দলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। যখন বোঝা গেল, যে মিছিল হবেই, এবং দক্ষিণপন্থী বলশেভিকদের রণনীতি দেখাবে বিশ্বাসঘাতকতার মত, তখন ৪ঠা জুলাইয়ের প্রাভদা তে যেখানে মিছিল বাতিল করার আহবান ছাপা হচ্ছিল, সেখানটা সাদা পাতা হিসেবে ছাপা হয়।

সেদিন পাঁচ লাখের মিছিল হয়। সরকার হিংস্রভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। ইজভেস্তিয়া একটা সুপরিকল্পিত আক্রমণের বর্ণনা দিয়েছিলঃ  

তাঁরা [প্রতিবাদীরা] যখন একটা গীর্জা পেরোচ্ছিলেন, তখন গীর্জার মাথা থেকে একটা ঘন্টা বাজে, এবং যেন ঐ ইঙ্গিতের সঙ্গে সঙ্গে বাড়িগুলির ছাদ থেকে বন্দুক আর মেশিন গান দুয়েরই গুলিবর্ষণ শুরু হয়। মিছিলের অংশগ্রহণকারীরা যখন উল্টোদিকে দৌড়ে গেলেন, তখন উল্টোদিকের ছাদ থেকেও গুলি চালানো হয়। মেনশেভিকদের সংবাদপত্রে আরো রিপোর্ট বেরোয় যে কসাকরা মিছিলের উপর কামান দেগেছিল।

জুলাইয়ের দিনগুলি দেখাল যে নিকোলাসের ইস্তফার সময়ে যে ক্ষণস্থায়ী জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল সেটা খতম হয়ে গেছে। একজন অংশগ্রহণকারী লিখেছেনঃ

“লাল পতাকার নীচে হেটেছিলেন কেবল শ্রমিক আর সৈনিকরা। আমলাদের লাল রিবন, ছাত্রদের চকচকে বোতাম, “ভদ্রমহিলা সহমর্মীদের” সৌখীন টুপি দেখা যাচ্ছিল না ... মিছিলে হাটছিলেন ধনতন্ত্রের সাধারণ দাসেরা”।

ক্যাডেট নেতা নাবোকভ লিখেছিলেন, প্রতিবাদিদের মুখে ছিল সেই উন্মত্ত, নির্বোধ, পাশবিক চেয়ারা, যা আমাদের মনে আছে ফেব্রুয়ারির দিনগুলি থেকে”। শ্রেণী ঘৃণা এখন পারস্পরিক। শ্রমিকরাও ব্যানার নিয়ে হাঁটছিলেন, যাতে লেখা ছিল, “পুঁজিপতিরা মনে রেখো,  মেশিন গান আর ইস্পাত তোমাদের ধ্বংস করবে!” কেরেনস্কী রেলপথে ফ্রন্টের দিকে যাচ্ছেন শুনে কিছু মেশিন গান ফৌজ বাল্টিক স্টেশনে তাঁকে খুজতে চলে গেলেন। অন্যরা বিত্তবানদের মোটরগাড়ি দখল করে অস্ত্র দেখিয়ে নেভস্কির পথে টহল দিতে থাকলেন।

টাউরিডে প্রাসাদের বাইরে চের্নভ শান্তির আবেদন করতে থাকলেন, যতক্ষণ না ক্রোনস্টাডের নাবিকরা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। শেষমেশ ট্রটস্কীকে এসে হস্তক্ষেপ করে এস আর নেতার মুক্তির ব্যবস্থা করতে হয়।

সশস্ত্র শ্রমিকরা সেরেতেলির খোঁজ করতে করতে প্রাসাদের মধ্যে সোভিয়েতের একটা অধিবেশনে ঢুকে পড়েন। সুখানভের ভাষায়, কিছু কিছু প্রতিনিধি “যথেষ্ট সাহস এবং আত্ম-সংযম দেখাতে পারলেন না”। একজন শ্রমিক বক্তার জায়গাতে লাফিয়ে উঠে, তাঁর রাইফেল ঝাঁকিয়ে ঘোষণা করলেনঃ

কমরেডরা, শ্রমিকরা আর কতদিন এই বেইমানী মেনে নেবেন? আপনারা এখানে তর্ক করছেন, জমিদারদের সঙ্গে রফা করছেন ...। আপনারা শ্রমিক শ্রেণীর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করতে ব্যস্ত! এখানে আমরা পুতিলভ [কারখানা] থেকে সবশুদ্ধু ৩০,০০০ জন আছি। আমরা আমাদের দাবী আদায় করবই। সভিয়েতদের হাতে সব ক্ষমতা! আমরা আমাদের রাইফেল শক্ত হাতে ধরেছি। আপনাদের কেরেনস্কী রা আর সেরেতেলীরা আমাদের ঠকাতে পারবে না!”

ক্ষমতার ভারসাম্য সোভিয়েত নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরে গিয়েছিল। অনুগত সৈনিক খুঁজে বার করার ভারপ্রাপ্ত মেনশেভিক ভ্লাদিমির ভইটিনস্কি ব্যাখ্যা করেন যে তিনি টাউরিডে প্রাসাদ রক্ষার জন্য ফৌজ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। প্রথম যে সৈনিকরা এলেন, তাঁরা ট্রটস্কীদের মেঝরায়ন্তসি সংগঠনের অনুগত ছিলেন। সন্ত্রস্ত সোভিয়েত নেতৃত্ব তাঁদের দেখেই আনন্দের সঙ্গে অভ্যর্থনা জানালেন।

সেই রাতে বলশেভিকরা মিছিল শেষ করার ডাক দিলেন, এবং পর দিন অস্থায়ী সরকার লেনিন ও তার কমরেডদের বিরুদ্ধে  জার্মান চরবৃত্তির অভিযোগ এনে প্রচার শুরু করে। জুলাইয়ের দিনগুলির পরিপ্রেক্ষিতে অস্থায়ী সরকারের অ-সমাজতন্ত্রীরা স্থির করলেন যে বিপ্লবকে  নির্মূল করতে হবে, সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে, এবং সোভিয়েতকে ধ্বংস করতে হবে। অভ্যুত্থানের জবাবে এই কসাইখানা আনার আকাংখ্যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে তাঁদের লক্ষ্যের পায়ে পড়ে। বিপ্লবকে রক্ষা করতে শেষ অবধি সোভিয়েত রুখে দাঁড়াবে।


সোভিয়েতে জঙ্গী ভাবের বিকাশ

শয়ে শয়ে বলশেভিককে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করয়া হল। লেনিন আত্মগোপন করে পালিয়ে গেলেন ফিনল্যান্ডে। মিথ্যা অভিযোগের নমুনা হল, সরকার দাবী করল, ট্রটস্কী লেনিনের সঙ্গে জার্মানদের দেওয়া তথাকথিত সীলমারা ট্রেনে করে রাশিয়া এসেছিলেন, যেটা নাকি প্রমাণ করে যে এই দুই বিপ্লবীই আসলে রাশিয়ার শত্রুদের সেবাদাস। আসলে লেনিন যখন রাশিয়াতে ফেরেন তখন ট্রটস্কী নোভা স্কোশিয়াতে ইংরেজ সেনাবাহিনীর হাতে বন্দী।

সেরেতেলি লেনিনের গ্রেপ্তারের ওয়ারেন্টে সই করলেন, এবং মনে হচ্ছিল যেন মেনশেভিকরাও প্রতিবিপ্লবে যোগদান করেছেন। কিন্তু ধাতু শ্রমিক ইউনিয়নের দপ্তরে, মেনশেভিকদের বিভিন্ন অফিসে, আক্রমণ, এবং সোভিয়েতের কিছু কিছু প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করা দেখিয়ে দিল যে তুলনামূলকভাবে রক্ষণশীল সমাজতন্ত্রীরাও সরকারের বিছিয়ে দেওয়া দমন-পীড়নের জাল থেকে নিরাপদ না।  ক্যাডেট দলের সম্মেলন গণতান্ত্রিকতার ভান ছেড়ে এক কড়া একনায়কের দাবী তুলল। বক্তারা কেরেনস্কী এবং ১ নং নির্দেশকে “রাশিয়ার বর্তমান ভয়াবহ বিপদের” জন্য দায়ী করলেন।  

শিল্প ও বাণিজ্যের কংগ্রেসে বক্তারা দাবী তুললেন যে “সোভিয়েতের একনায়কতনন্ত্রের থেকে আমূল বিচ্ছেদ ঘটাতে হবে”, কারণ সেটা রাশিয়াকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। ইউনিয়ন অফ রাশিয়ান পীপল [রুশ রাজতন্ত্রী, উগ্র ইহুদী ও সমাজতন্ত্রী বিদ্বেষী, বস্তুত ফ্যাসীবাদের পূর্বসুরী এমন সংগঠন]-এর প্রতিষ্ঠাতা ও বিখ্যাত দাংগাবাজ ভ্লাদিমির পুরিশকেভিচ গলা মেলালেন ও দাবী করলেন যে শ্রমিক ও সৈনিকদের প্রতিনিধিদের সোভিয়েতগুলিকে অবিলম্বে ভেঙ্গে দিতে হবে।   

প্রতিবিপ্লবীরা তাঁদের কড়া মানুষ খুঁজে পেলেন রুশ সেনাবাহিনীর সদ্য নিযুক্ত প্রধান, জেনারাল লাভর কর্নিলভের মধ্যে। যেদিন তিনি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেন, তার আগের সন্ধ্যায় কর্নিলভ বলেনঃ “সময় এসেছে জার্মান চর ও গোপন দূতদের ফাঁসীতে লটকাতে, যাদের মধ্যে প্রথমেই থাকবে লেনিন। সময় এসেছে সোভিয়েতকে ভেঙ্গে দেওয়ার”। তিনি আরো বলেন, প্রয়োজন হলে “শ্রমিক ও সৈনিকদের প্রতিনিধিদের সোভিয়েতের গোটা সদস্যবৃন্দকে ফাঁসী” দেওয়া হবে। এই ফাঁসী ব্যাপারটা এই জেনারালের সাধারণ বুলি ছিল। বিপ্লবের আগে তিনি বারে বারে কথা বলেছিলেন “ঐ সব গুচকভ আর মিলিউকভদের” ফাঁসী দেওয়ার কথা। কিন্তু এখন তিনি উদারপন্থীদের সঙ্গে হাত মেলালেন, কারণ উভয়েরই প্রথম লক্ষ্য ছিল বিপ্লবকে ধ্বংস করা।

শৃঙ্খলা কিভাবে ফেরানো হবে তা নিয়ে কেরেনস্কী আর কর্নিলভের মধ্যে শলা-পরামর্শ হল। তাঁরা একমত হলেন যে সেনাবাহিনীতে মৃত্যুদন্ড ফিরিয়ে আনতে হবে, সেনা কমিটিদের ভিঙ্গে দিতে হবে, এবং পেত্রোগ্রাদে সামরিক আইন আনতে হবে।  

বিপ্লবী রাজধানীর দিকে সৈন্যরা যেতে শুরু করল ২৫সে অগাস্ট, আর, দুদিন পরে, কর্নিলভ রিপোর্ত করলেন যে তৃতীয় কোর সেই সন্ধ্যার মধ্যে রাজধানীর কাছে পৌঁছে যাবে। তিনি এইবার কেরেনস্কীকে সামরিক আইন জারী করতে বললেন।

ঐ একই দিনে, মেনশেভিকরা প্রস্তাব করলেন, প্রতিবিপ্লবের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষা কমিটি গড়া হোক। সুখানভ মন্তব্য করেছেন, “যদি এই কমিটি সত্যিই কাজ করতে চায়, তাহলে সেরকম রশদ ছিল শুধু বলশেভিকদের কাছে”।

বিপ্লবের সমর্থনে বেরিয়ে এলেন চল্লিশ হাজার পর্যন্ত লাল রক্ষীবাহিনীর স্বেচ্ছাসেবক। জঙ্গী ধাতুশ্রমিকেরা ষোল ঘন্টা করে কাজ করে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে একশ’ কামান বানালেন। মনে হচ্ছিল বিপ্লবী রাশিয়া  প্রকাশ্য গৃহযুদ্ধের মুখে দাঁড়িয়ে। কিন্তু সামরিক দ্বন্দ্বটা ঘটল না। কর্নিলভ থেকে গিয়েছিলেন তার হেডকোয়ার্টার মগিলেভে। কসাকদের এবং ককেশিয় নেটিভ ক্যাভালরী ডিভিশন (যা স্যাভেজ ডিভিশন বা হিংস্র ডিভিশন নামে সমধিক খ্যাত ছিল) নিয়ে এগিয়ে গেলেন জেনারাল আলেক্সান্দর ক্রাইমভ। ইতিমধ্যে সোভিয়েত বিপ্লবী রেল শ্রমিকদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। তাঁরা ত্রেন চলাচল ব্যাহত করলেন, এবং আশিটা স্বতন্ত্র জায়গায় ক্রাইমভের সৈন্যদের ছড়িয়ে দিলেন। সোভিয়েতের প্রচারকরা স্যাভেজ ডিভিশনের মধ্যে প্রচারে নেমে পড়লেন, এবং শেষে দেখা গেল, যে সৈন্যদের উপর নির্দেশ ছিল বিপ্লবকে দমন করার, তাঁরাই লালঝান্ডা তুললেন “জমি আর স্বাধীনতা”র দাবীতে।

পেত্রোগ্রাদে, এক নকল বলশেভিক অভ্যুত্থান দেখিয়ে তার জবাবে দুহাজার সমর্থক সাড়া দেবে, এমন প্রত্যাহা ছিল। কিন্তু কসাক নেতা আলেক্সান্দ্র ডুটভ অভিযোগ করলেন, “আমি লোকজনকে রাস্তায় নামতে ডাকলাম, কিন্তু কেউ আমার পিছনে এল না”।

পেত্রোগ্রাদ থেকে জেনারাল খ্রিস্টোফর বারানভস্কি মগিলেভে জেনারাল আলেক্সিয়েভকে পীড়াপীড়ি করলেনঃ  “সোভিয়েতরা ফুঁসছে। পরিস্থিতি হাল্কা করার জন্য চাই ক্ষমতা প্রদর্শন। কর্নিলভকে গ্রেপ্তার করুন”। আলেক্সিয়েভ জবাব দিলেন, “আমরা একেবারেই সোভিয়েতের নাছোড়বান্দা খপ্পরে পড়েছি”।

মধ্যবর্তী অবস্থানের পতনঃ

৩০শে অগাস্টের মধ্যে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের স্পষ্টতই অবসান ঘটেছিল। ক্যাডেট পার্টিও তার সঙ্গে পরাস্ত হল। তাঁদের সংবাদপত্র ঘোষণা করেছিল, “কর্নিলভের লক্ষ্য আমাদেরও লক্ষ্য, কারণ আমরা মনে করি দেশের উন্নতির জন্য ঐ কাজগুলি করা জরুরী ... কর্নিলভের অনেক আগেই আমরা এই পন্থার হয়ে কথা বলেছিলাম”।

১ সেপ্টেম্বর, সেরেতেলিতার প্রাক্তন মিত্রদের পক্ষে কথা বলতে চেষ্টা করেন। মিলিউকভের প্রস্তাব ছিল, জেনারাল আলেক্সিয়েভকে একনায়ক করা হোক, কারণ তিনি আশা করেছিলেন এতে কেরেনস্কী এবং কর্নিলভ দুজনেই খুশী হবেন। সেই প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে সেরেতেলি বললেন, “অন্তত তাঁদের [ক্যাডেট দলের] প্রামাণ্য ব্যক্তিত্বরা বিপ্লবের পক্ষে ছিলেন।  

মেনশেভিকরা এবং এস আররা, দুই দলই তাঁদের উদারপন্থী মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করার পর, সপ্তাহ দুয়েক বাদেই পিছু হঠলেন।  ইতিমধ্যে সোভিয়েত, এবং সাধারণ মানুষ, জানতে পারলেন যে কেরেনস্কী কর্নিলভের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জনগণের পরিষদ ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন। বামপন্থী এস আর পত্রিকা ঝনামিয়া ত্রুডা সজোরে জানালঃ  “এটা [কর্নিলভের অভ্যুত্থান] অস্থায়ী সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ছিল না, ছিল তার সঙ্গে পরামর্শ করে গণতান্ত্রিক সংগঠনদের বিরুদ্ধে  চক্রান্ত”।

মেনশেভিকরা এবং দক্ষিণপন্থী এস আররা ব্যাকুলভাবে আঁকড়ে থাকলেন চূড়ান্ত নিন্দিত কেরেনস্কী সরকারকে, এবং শেষ অবধি তার দাম তাঁদের দিতে হল। সেপ্টেম্বরের গোড়ায়, এস আরদের পেত্রোগ্রাদ সম্মেলনে বামপন্থী এস আররা প্রাধান্য পেয়েছিলেন। মেনশেভিকদের গোটা ভাসিলেভস্কি জেলা বলশেভিক দলে যোগ দিল। যে সব ফ্যাক্টরী একদা মেনশেভিক ঘাঁটি ছিল তারা সোভিয়েত থেকে তাদের প্রতিনিধিদের ফিরিয়ে আনল ও বলশেভিকদের পাঠাল। অন্যান্য ফ্যাক্টরিতে প্রাক্তন প্রতিনিধিরা তাঁদের ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চাইলেন এবং এমন কি কেরেনস্কীর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন।

পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্ণায়ক লড়াই হল ৯ই সেপ্টেম্বর সভাপতিমন্ডলী নির্বাচনের সময়ে। কয়কদিন আগে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও তার প্রথম বক্তৃতায় ট্রটস্কী শ্রতাদের মনে করিয়ে দিলেন, “ওরা যখন সভাপতিমন্ডলীর রাজনৈতিক দিশার প্রতি সম্মতি জানাতে বলেন, ভুলে যাবেন না যে আপনারা তখন কেরেনস্কীর নীতিকে মদত দেবেন”।

ট্রটস্কী পরে লিখেছিলেন, “সকলেই বুঝেছিলেন যে তাঁরা ক্ষমতার প্রশ্ন, যুদ্ধের প্রশ্ন, বিপ্লবের ভবিষ্যতের প্রশ্ন স্থির করছেন”। এক এক জনকে নামে ডেকে ভোটের বদলে স্থির হয়, যারা সভাপতিমন্ডলীর ইস্তফা গ্রহণ করবেন, তাঁরা যেন হলঘরটা ছেড়ে বেরিয়ে যান।

শ্রমিক ও সৈনিকরা দরজার দিকে যেতে থাকেন চীৎকারের মধ্যে – একদল বলেঃ কর্নিলভপন্থী, অন্যদল চেঁচায়ঃ জুলাইয়ের বীর। চূড়ান্ত ভোট হয়, মেনশেভিক এস-আর সভাপতিমন্ডলী এবং জোট সরকারের পক্ষে ৪১৪ ভোট; বিপক্ষে ৫১৯ ভোট; এবং ভোটদানে বিরত ৬৭।

সেরেতেলি নিজের এবং অন্যান্য প্রাক্তন নেতাদের পিঠ চাপড়ে বললেন যে তাঁরা সচেতন, বছরের অর্ধেকটা সময় ধরে তাঁরা বিপ্লবের পতাকা ঊর্ধে তুলে ধরতে পেরেছিলেন। ট্রটস্কী উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া নেতাদের মনে করিয়ে দিলেন, বলশেভিকদের বিরুদ্ধে জার্মান সেনাবাহিনীর সেবাদাস হওয়ার অভিযোগ তুলে নেওয়া হয় নি। সোভিয়েত প্রস্তাব গ্রহণ করল, “এই কুৎসার স্রষ্টা, প্রচারকর্তা এবং মদত দাতাদের  ঘৃনার সঙ্গে চিহ্নিত করা হবে”। ক্যাডেট দল এবং কেরেনস্কী উভয়েই কুখ্যাত হয়ে পড়ায় লেনিন অল্পদিনের জন্য সোভিয়েত নেতৃত্বের সঙ্গে সহযোগিতার কথা বললেন। সোভিয়েত নেতৃত্ব যদি ক্ষমতা হাতে নেয়, তাহলে বলশেভিকরা বিরোধী পক্ষ হিসেবে নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যে থাকবেন। কিন্তু আপোসপন্থী সমাজতন্ত্রীরা যখন কেরেনস্কী র জোটকে সমর্থন করা বন্ধ করলেন না, যে জোটে ছিল ক্যাডেটরাও, এবং বলশেভিকরা যখন পেত্রোগ্রাদ, মস্কো ও অন্যান্য সোভিয়েতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেন, তখন লেনিন “সোভিয়েতের হাতে সব ক্ষমতা” স্লোগানে ফিরে গেলেন। পরবর্তী ছয় সপ্তাহ ধরে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটিকে দ্রুত অভ্যুত্থান ঘটানোর দাবী তুলে বিদ্ধ করতে থাকলেন।

সোভিয়েতের হাতে সব ক্ষমতা

১০ই অক্টোবর “সশস্ত্র অভ্যুত্থানের” পক্ষে বিখ্যাত প্রস্তাব গ্রহণের পরেও, বলশেভিক নেতাদের মধ্যে দোনামনা ছিল। কেউ লেউ এমনকি বিপ্লবী রণনীতির পায়ের তলা থেকে জমি সরিয়ে নিতে গেলেন। যখন কামেনেভ এবং গ্রিগরী জিনোভিয়েভ ১৮ই অক্টোবর নোভায়া ঝিঝন-এ অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে তাঁদের যুক্তি প্রকাশ করলেন, তখন লেনিনের ধৈর্যচ্যুতি হল। তিনি দাবী করলেন, “ধর্মঘট বিরোধীদের লাথি মেরে” পার্টি থেকে বার করে দেওয়া উচিত।  

গণ সমর্থন বাড়ানোর জন্য, নেতারা স্থির করলেন যে অভ্যুত্থান সংগঠিত করবে বলশেভিক পার্টি নয়, পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের একটি সংস্থা। ১৬ অক্টোবর ইতিমধ্যে বিপ্লবীদের নিয়ন্ত্রনাধীন পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের কার্যনির্বাহী কমিটি  রাজধানী রক্ষার জন্য সামরিক বিপ্লবী কমিটি গঠনের ঘোষণা করল।

সৈনিকদের উপর কর্তৃত্বের লড়াইয়ে কমিটি পেত্রোগ্রাদ সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে জানাল, এখন থেকে “আমরা যে নির্দেশ স্বাক্ষর করিনি সেগুলি অবৈধ”। জেনারালরা এই কথা মানতে অস্বীকার করলেন। পরদিন কমিটি ঘোষণা করল যে সোভিয়েতের কথা অমান্য করে সামরিক সদর দপ্তর সরাসরিভাবে প্রতিবিপ্লবের হাতিয়ারে রূপান্তরিত হয়েছে।

দ্বিতীয় সারা রাশিয়া সোভিয়েত কংগ্রেসের আগের কটা দিনে পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের সভাগুলিতে বহু নবাগত সৈনিক দাবী করতে থাকেন, যে সোভিয়েত যেন ক্ষমতা দখল করে। মেনশেভিকরা বারে বারে বলতে থাকেন, অভ্যুত্থান হলে রক্তের নদী বইবে।  

যখন ইভা ব্রোইডো প্রশ্ন করলেন, সামরিক বিপ্লবী কমিটি অভ্যুত্থান সংগঠিত করছে কি না, ট্রটস্কী পাল্টা প্রশ্ন করেন, “ব্রোইডো কার নামে প্রশ্নটা করছেন – সে কি কেরেনস্কীর নামে, সামরিক গুপ্তচর বিভাগের নামে, গোপন পুলিশের নামে, না ঐ রকম অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে”? বস্তুত, মেনশেভিকরা নিজেরাও তো আর  নিজেদের সামরিক পরিকল্পনা আগে থেকে ঘোষণা করেন নি। ২৩শে অক্টোবরের এক সভায়, মস্কোর সোভিয়েত নেতা লোমোভ রিপোর্ট দেন যে কসাক সৈনিকরা কালুগা সোভিয়েতকে ভেঙ্গে দিয়েছে। মেনশেভিক ও এস আর পরিচালিত নগর দুমা সৈন্য চেয়েছিল, এবং সেই ফৌজ সোভিয়েত নেতাদের উপর হিংসা প্রয়োগ করেছে।

সেই রাতেই ট্রটস্কী বলেন, সামরিক বিপ্লবী কমিটি গঠন  ছিল ক্ষমতা দখলের এবং সোভিয়েতদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দিকে একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ। কিন্তু ২৪শে অক্টোবর পর্যন্ত তিনি অস্বীকার করেন যে সেই পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই করা হচ্ছে।

পরদিন, সাধারণ সভায়, এক আপ্লুত শ্রোতৃমন্ডলীর কাছে ট্রটস্কী জানালেন যে “অস্থায়ী সরকার আর নেই। ... বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে আমি দ্বিতীয় কোনো নজীর জানিনা , যেখানে এত বিপুল সংখ্যক জনগণ জড়িত ছিলেন অথচ যা এত রক্তপাতহীনভাবে ঘটেছে”।

লেনিনের বিরোধীরা, এমনকি তাঁর নিজের দলেও তাঁর সমালোচকরা, অনেকে মনে করেছিলেন যে নতুন সোভিয়েত সরকার বড়জোর কয়েক সপ্তাহ টিঁকবে। কিন্তু লেনিন স্থির বিশ্বাস করেছিলেন যে এই তৃতীয় রুশ বিপ্লব সমাজতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করবে। লেনিন মনে করেছিলেন, “আমরা এই কাজে সাহায্য পাব বিশ্ব শ্রমিক আন্দোলনের, যা ইতিমধ্যেই দানা বাধছে ইতালীতে, ব্রিটেনে এবং জার্মানীতে”।

মেনশেভিক এবং দক্ষিণপন্থী এস আরদের রণনীতি, অর্থাৎ ধনতন্ত্রের সঙ্গে আপোস করা, ব্যর্থ বলে প্রমাণিত হয়েছিল। শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসের এক চরম মুহুর্তে মেনশেভিকদের বড় অংশ এবং দক্ষিণপন্থী এস আররা সোভিয়েত কংগ্রেস ত্যাগ করে হাত মেলালেন পুরিশকেভিচ সহ সবরকম সমাজতন্ত্র বিরোধীদের সঙ্গে।  

অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষে কমিউনিস্ট বিদ্বেষীরা আবার বলশেভিকদের বিজয়কে দেখাতে চাইবে সংখ্যালঘু ষড়যন্ত্র হিসেবে। এই মিথ্যা গল্প বলশেভিকরা মাসের পর মাস লড়াই করে কীভাবে গণতান্ত্রিক সমর্থন আদায় করেছিলেন তাকে অগ্রাহ্য করে।  

The Struggle for Food Sovereignty in Tunisia

What lasted for 3000 years has been destroyed in 30": the struggle for food sovereignty in Tunisia

Wednesday 31 October 2018, by Max Ajl


October 16 is the International Day of Action for Peoples’ Food Sovereignty, organised by La Via Campesina. In this article, Max Ajl reports from Tunisia on the struggles for food sovereignty there, and on what it means for the Global South.

Gabès, the Tunisian South’s garden-city, is otherworldly. It is the world’s only maritime oasis, and very different from the Saharan or desert groves which the term tends to call up in the mind’s eye. Natural sweet springs have nourished horticulture and arboriculture there for millennia, back to Carthaginian times, forming the basis of a technical system that has outlasted empires and Beys.

One cannot help but be enchanted by the emerald multi-storied gardens of Chenini, a section of Gabès. Palms stand sentinel on the perimeter, a windbreak which shatters the desert sirocco. The Mediterranean cools the summers and heats the winters, while the oasis effect seals in moisture. Below palms sit grapes on trestles and the telltale pale green of olives. Lower still are shrubs with bursts of the ruddy red and pale yellow of pomegranates. Below them on the ground story sit peppers, canary melons, and depending on the time of year, nitrogen-fixing alfalfa.

We were there on the third day of the Food Sovereignty Days, the brain-child of Tunisian geographer-cinematographer Habib Ayeb and his organization, the Tunisian Observatory for Food Sovereignty and the Environment (OSAE). [1]The tour had descended down Tunisia’s littoral, from the National Gene Bank in Tunis to the Zaghouan bread-basket, sitting south of the capital, to the Sahelian town of M’Saken.

Day three was devoted to Gabès. The farm we visited, that of Amm Salah, is one of the few that still keeps livestock helping to ensure a closed metabolic cycle. Indeed, until the 1970s most farmers also used night-soil to seal yet more tightly the nitrogen cycle. [2] These days, the majority of those farmers, amidst haphazard sprawl, do not reserve space for animals and instead resort to fertilizers. This is not because they yield better. In fact, it has been known since the 1970s that the techniques deployed in the oasis, a year-round polyculture fed by a delicate and socially-managed system for allotting spring-water, were already what agronomists typologize as intensive.

In the same wooden structure housing the animals were dozens of differently-size receptacles holding landrace seeds, stored with tobacco leaves, a natural prophylactic against pests. Such seeds are the genetic treasure of Tunisia. Amm Salah keeps and sells them, seeking to break the dependent relationship which colonialism and even more, post-colonial agricultural modernization instituted in Tunisia: reliance on foreign seeds, often poorly adapted to the local biomes, and turned into commodities by Euro-American agribusiness.

There is precious little left of the oasis, and even less of it is devoted to agro-ecological farming. As Ayeb noted, what “lasted for 3000 years has been destroyed in 30.” The installation of the Gabès industrial pole, part-and-parcel of the developmental mirage began in Tunisia in the 1960s and 1970s, set in motion a rapid process of mostly unplanned urbanization. This metropolitan boom pulled in people from the poorer surrounding steppes, who had been neglected and marginalized in state development planning. Oasis land values increased, pushing people to sell their land or build on it, rapidly overtaking the farms of the oasis. In this time, there has been increased pressure to turn to commodity cultivation, forging cross-country- or cross-Mediterranean supply chains through which value leaches out from the oasis. Fresh yellow dates which sell for one Dinar a kilogram in Gabès might sell for five in Tunis.

Price compression for tropical crops also leads to value hemorrhages. Keeping northern supermarkets stocked does not come without its costs. [3]

Later in the day we visited Shott al-Salem. Located next to Gabès’s phosphate processing plant, Shott al-Salem is the other side of the developmental coin in Tunisia. It is popularly known as the shore of death. It deserves the moniker. The seawater is dyed brown with effluent, the shoreline’s sand is pocked here and there with animal cadavers. Slightly in-land, the earth is covered with desiccated and poisoned vegetation. The air is thick with fumes from the processing, which is sent skyward and seaward untreated. We could not breathe properly. My stomach turned and knotted in reaction to the contamination carried on the currents of the wind. Our group suffered steady attrition as people peeled off, unable to tolerate the stink or the steadily mounting irritation in the mouth and eyes.

The plant visibly harms the oasis flora. We could see fronds with their edges pointing towards the plant scarred by chemical burns. Anatomical surveys of reptiles and, the birds of Rachel Carson’s cautions, show they are riddled with heavy metals, while the mats of Posidonia oceanica sea grass have collapsed and died amidst phosphogympsum toxification. Epidemiological studies were not permitted on the people during the US-backed Zineddine Ben Ali dictatorship, and the people of the oasis still await a serious study. But what hits the fauna hits the people, survey or no. Cancer rates in the neighborhoods adjoining the plant are around one in every ten people for liver and kidney cancers.

The phosphate plant is the emblem and distillation of the global and local regimes that control the Global South: toxic, entropic, carcinogenic, a technology which has concentrated wealth into very few hands, and is articulated into international monopoly production chains, while doling out liberally and locally the externalities of environmentally unequal exchange.

Our trip to that moonscape shore abutting the factory was about two contrasting developmental models. The dominant one is industrial-dedevelopmentalist, which dumps the costs of production on the poor of the oasis ¬– those who cannot afford to leave and have nowhere to go. Then there are the evaporating, although embryonic, possibilities latent in Chenini and elsewhere – the seeds, literal and figurative, of a very different model for the future: food sovereignty.

Like socialism, food sovereignty is a political and conceptual battleground. Definitions bloom along with the movements fighting for their varying visions of the world. It is perhaps best-known as the program of the peasant international, La Via Campesina. [4]

Defining these movements are calls for the right of peoples to healthy food, produced sustainably, using ago-ecology, as well as the right to define their own food and agriculture systems. In Tunisia, explains Nada Trigui, a member of OSAE, it is a question of reducing “dependency of peasants, consumers, communities, as well as on the state level,” on foreign food and inputs, “in the wake of the Green Revolution and agricultural modernization.” Regionally – unavoidably – imperialism and war are part of the food sovereignty program, since foreign violence precludes the political capacity to mold national agricultures. [5]

The next day we went to the Matmata Mountains, which till the sky in the Tunisian steppe. There were no artesian wells to irrigate the arid lands here. Instead, a dazzling water-harvesting system called the jisr dominates. Jessour are small check-dams, wherein water concentrates from the rocky hills, cascading onto flat earth plots held up by a retaining wall. The soil and wall are safehouses for storing scarce water. A lower plane of dirt sits below that mini-plateau, and sometimes another, then another, with water percolating from one to the next. During these lands’ intermittent inundations, water flows freely over them.

The fecund soil and greenery in the steppic landscape seems surreal until one sees that it is everywhere. A patch-work of light and dark greens, the milk chocolate of moist soil, the silver shimmer of sun-licked water on earth after the last week’s deluges, amidst more monochrome tan escarpments, blankets one small valley after another in life.

Even without much extension work from the state agronomic research institutions, which have devoted huge amounts of funding to white elephant mega-dams compared to studies of the jessour, such small-scale infinitely renewable systems allow enough water for date and olive trees, and, in exceptional years, vegetables. Farmers also plant hard wheat and barley. Indeed, the National Gene Bank, where another of the OSAE team, Amine Slim works, carried out some of its first landrace gathering expeditions in the Matmata, where farmers had preserved such seeds in situ – a technique the BNG is deliberately replicating in the North.

Of course, poverty and plenty walk hand-in-hand. The poverty of the Tunisian South has, in making cheap labor, often been the maker of wealth whether for Tunisian corporations or further afield through labor export. Food sovereignty is also about arresting that poverty, and thus, the OSAE has its enemies, and not merely amongst transnational seed companies or northern cereal exporters who are used to the markets the US government made for them in Tunisia through its Trojan Horse PL-480 aid programs. These enemies are also within Tunisia itself, where government agencies, importers, contractors, and those intoxicated by the ambrosia of a very particular, parochial, and shortsighted version of modernity, do not want food sovereignty on the agenda.

Some of what OSAE is doing, explained Emna Mornagui, an engineer who works with the organization, is “connecting people in the city with the countryside.” Sensibiliser, which has no easy Anglophone analogue but is close to consciousness-raising, peppered conversations with the OSAEers as they discussed the food sovereignty tour. It is a means of combating the alienation which is part-and-parcel of the metabolic rift which occurs at the physical level in periphery and core countries alike. Such a distance can easily take the form of a chauvinism which forgets the centrality of food-getting to civilization. As people forget how food is made, we may often accidentally authorize a politics which undercuts the small-scale systems of production which still produce at least half of the world’s food.

However, what is lost may not be so easily found once it is well and truly gone. Food production is based, above all, on the expertise of peasants, Trigui adds. The tour’s participants mentioned that foreign seed vaults are often necessary for restoring and restocking Tunisia with its ancestral genetic varieties, including, quite often, cultivars resistant to the droughts which will hammer Tunisia ever-more-frequently in a warming world. But if seedstock can be stored ex situ – and not without problems, not least the climactic or war-related destruction of seed banks – knowledge cannot. [6] Making and maintaining jessour, tending to the water-turns which allocate oasis water, knowing which rotations are appropriate for which soils and which micro-climates, or erecting and protecting the myriad other technics which are inseparable from the social systems with which they gestated, are also being lost amidst the destruction of the last patches of oasis polycultures or human out-migration to slums.

Whether technologies that have outlasted Rome will outlast industrial capitalism remains to be seen. It does not depend only on whether work-groups like OSAE are able to permeate the membrane separating production and consumption in the South. It is also a question of whether we in the North can help secure southern countries the space to protect their own farming systems, not from biological blights but socio-political ones, like NAFTA, or the ALECA trade agreement under discussion with the EU. [7]

This is not a matter of charity but of survival, for such trade agreements have ripped apart not merely southern farming systems but also northern ones. [8] The message of food sovereignty is not merely for countries like Tunisia but also larger and richer ones which have long neglected our own agricultures and their capacity to help solve social and climate crises alike. [9] [10]As fossil capitalism nears its nova-stage, there is much of interest, I think, beyond nostalgia or antiquarianism, in farming systems whose lifespan can be dated in terms of millennia. Not merely of interest, but to learn from and protect. [11] And not at any cost, but precisely because the cost of losing a sustainable agriculture is far more than we can afford to pay, whether we now know it or not.

Verso books


If you like this article or have found it useful, please consider donating towards the work of International Viewpoint. Simply follow this link: Donate then enter an amount of your choice. One-off donations are very welcome. But regular donations by standing order are also vital to our continuing functioning. See the last paragraph of this article for our bank account details and take out a standing order. Thanks.


Sex and the Russian Revolution

Sex and the Russian Revolution

Thursday 8 March 2018, by Peter Drucker

From International Viewpoint 

The big question surrounding the centenary of the October Revolution: Is this event a hundred years ago still relevant for the left today?

For decades now, there’s been a steady drumbeat of mainstream historians and ideologues telling us that the legacy of October has been, and deserves to be, dead and buried. Yet some people on the radical left persist in arguing for a critical recuperation of the heritage of 1917. I believe these arguments are well founded. In many ways, the strategic insights the October Revolution yielded have still not been surpassed, or in some ways even equaled.

But even on the far left, I’m afraid, there are many more people who appreciate what the Bolsheviks have to teach us about the value of grassroots democratic institutions forged in struggle, the dangers of bureaucracy, the possibility of even an underdeveloped country’s breaking with capitalism and the importance of internationalism, than about sexual politics.

In fact, there were also Bol¬sheviks who had valuable insights about sexual politics. I think we can reclaim the sexual politics of the October revolution, too, as a relevant past, a usable past.

This is a delicate operation, however, because a usable past has to be a historically accurate past. And the conditions for sexual politics in Russia in 1917 were very different from those we face today. So drawing lessons from 1917 for 2017 has to be done very carefully, taking great pains to avoid anachronisms.

I think the lessons are there. But they have as much to do with historical breaks as with continuity.

Catching Up

Why does 1917 matter for sexual politics? Because the first decade of the October Revolution yielded an extraordinary wealth of thinking and activism on issues of gender and sexuality.

The problem is that hardly anybody today knows this, or even believes it when they’re told. There’s been a big effort to conceal and deny the early Communists’ sexual radicalism, by liberals on the right and by both Stalinists and anarchists on the left. As a result, the dominant image today is that the Bolsheviks were sexual puritans.

Stalinists propagated this image by citing a ragtag assortment of quotations from Lenin. Many of these quotations came from unattested recollections years later by people like Clara Zetkin and Nadezhda Krupskaya, [1] Communists who were part of anti-Stalinist opposition currents for a time (Paul Levi’s current in Zetkin’s case, Grigory Zinoviev’s in Krupskaya’s) before capitulating to Stalinist orthodoxy.

Other quotations were taken from letters that weren’t meant for publication. And others were taken out of context from Lenin’s published writings.

No doubt Lenin did have a sexually conservative side. But it’s odd to rely on Lenin for a picture of Bolshevik sexual politics. Despite Lenin’s major contributions in other fields, sexual politics was never a priority for him. And he played only a minor role in shaping Soviet sexual policies between 1917 and his death.

To get a picture of Bolshevik sexual politics in the first few years after the revolution, Alexandra Kollontai’s writings are much more useful. When she was the first Bolshevik Commissar for Social Affairs, Kollontai’s ideas were reflected in revolutionary decrees. And her decrees weren’t just confined to paper; they were put into practice.

It’s true that her ideas fell rapidly out of favor after that, especially once she became a leader of the Workers’ Opposition in the party and her current was defeated and marginalized in 1920-21. But even when her ideas about sexuality were being fiercely attacked at party congresses — and sometimes viciously distorted — they were still being debated. It was still not possible, in the relatively freewheeling climate of Bolshevism in the early 1920s, to completely silence her ideas.

The affinity between Kollontai’s ideas and the sexual politics of Marxist feminists and radical queers today is extraordinary. Even after the decline of Stalinism, however, most Marxists neglected the rich legacy of early Communist sexual politics.

In the 1960s and ’70s, this had a lot to do with many New Leftists’ sympathy for China, Vietnam and Cuba, none of which had liberating sexual politics in those years (to put it mildly).

Trotskyists had a better starting point, because they had always condemned the Stalinist recriminalization of abortion and homosexuality. But they too had a problem: their social profile was shaped in the 1930s and ’40s by a predominant orientation to male industrial workers, who were often perceived as sexually conservative.

So even Trotskyists didn’t initially highlight early Bolshevik sexual radicalism. Some, especially in the Fourth International, began catching up after 1968. But there’s still a ways to go. I would like to help continue and accelerate that catching up.


Why do I say that Kollontai’s ideas had an extraordinary affinity with the sexual politics of Marxist feminists and radical queers today? It hinges on the argument she made in “Make Way for Winged Eros,” and especially on her concept of “love-comradeship.”

Love-comradeship was for Kollontai the form of sexual love appropriate to the age of proletarian rule, much as courtly love was to feudalism and bourgeois marriage and prostitution were to capitalism. Love-comradeship meant for her, by contrast with the privatization of sex and love in bourgeois society, the embedding of sexual love in a socialist collective — in which women were fully equal and independent.

Of course she rejected prostitution — but she was equally fierce in rejecting long-term sexual couples in which a woman was dependent on a man. This is why she rejected criminalization in the fight against prostitution. She argued that if prostitutes’ clients should be arrested, so should “the husbands of many legal wives.” [2]

Women’s sexual liberation required in her eyes the complete socialization of childcare — and she went very far. Motherhood, she wrote, “does not in the least mean that one must oneself change the nappies, wash the baby or even be by the cradle.” [3]

She argued for free and easy divorce, which was official policy. But she also argued against “any formal limits on love,” any value judgment on long-term as opposed to short-term relationships, and any imposition of monogamy as a norm.

She affirmed “the value of experimentation in … love relationships.” Not only love but also “fleeting passion” was a legitimate basis for a sexual relationship, she argued; “calculation, habit or even intellectual affinity” was not. (Even today, I think, Kollontai’s sharp comments can still make us uneasy!) The keys for her were “complete freedom, equality and genuine friendship.” [4]

Same-Sex Relationships

Kollontai in her writings only talked about sexual ties between men and women, not about same-sex ties. This may seem odd to us today. I think it’s actually no surprise.

Unlike Germany in the early 20th century, Russia didn’t have a homosexual emancipation movement. In Russia, a homosexual community and identity were much more weakly developed. This meant that homosexuality wasn’t a priority for the women’s work that was Kollontai’s focus.

This makes it all the more remarkable that Bolshevik positions on homosexuality in the 1920s were as advanced as they were. I think this was mainly due to the Bolsheviks’ internationalism, to the international experience of many leading Bolsheviks in exile before 1917, and specifically to the excellent example set by August Bebel in the Reichstag from 1898 on in arguing for the decriminalization of same-sex acts.

Whatever the reasons, for most of the 1920s in Soviet Russia, a positive spirit was common in dealing with same-sex relationships — particularly lesbian relationships.

There were women in positions of command in the Red Army who were in sexual relationships with other women, viewed as “happy, well-adjusted Lesbians.” In Moscow in the 1920s the private arts circle Antinoi staged readings of consciously homosexual poetry and musical and ballet performances. And there were several cases in the 1920s when Soviet courts recognized same-sex marriages as legal. [5]

That this is still news, even to many people who know the history of the Russian revolution fairly well, shows how much work remains to be done to reclaim the radical legacy of early Bolshevik sexual politics.

Contested Politics

It’s important to stress, though, that none of these radical positions was ever uncontested in Bolshevik Russia. And they fell out of favor by the mid-1920s, even before the definitive victory of Stalinism — before the recriminalization of abortion and homosexuality in the 1930s.

Kollontai’s vision of a fully free sexuality presupposed an extensive socialized infrastructure to free women for domestic drudgery. This never actually existed in Russia in the 1920s. So her vision was largely utopian — as were so many early Bolshevik ideas.

Victor Serge’s novels capture the terrible paradoxes of those years: of people starving and freezing in ruined, half-empty cities as they drew up their blueprints for true proletarian culture and the glorious socialist future.

This utopian bent helps account for Kollontai’s defeats in Bolshevik debates, such as the defeat of her hard-fought attempt to write the “withering away of the family” into the party program. This led her to warn that “the petty-bourgeois way of life and its ideology is swamping us.” [6]

The libertarian family legislation adopted in 1922, which she favored, led to unwanted side effects, notably massive abandonment of women and children and deepening of their poverty. This was one motive for its amendment in a more conservative direction in 1926.

Moreover, even the most radical Bolshevik sexual politics had its limitations. For example, I know of no Bolshevik who advocated the right of independent self-organization for women or sexual minorities.

There were Bolshevik women’s organizations in Soviet Russia, and Bolshevik women’s conferences, which fought for women’s emancipation and became a model for Communist women’s organizations in other countries. But the task they were assigned was to promote Bolshevism among non-Bolshevik women and organize the party’s work among women.

They were not supposed to collectively fight the prejudices and privileges of working-class men within the party. This limited their ability to resist the conservative backlash in the party once it began.

Another constraint was Bolsheviks’ uncritical reliance on science. For Marxists in the early 20th century, religion was seen as the main source of sexual prejudice, and science as an ally against it.

For several years, the Bolsheviks’ anticlerical libertarianism and their push for scientific modernization seemed to go naturally together. But eventually, as with Lenin’s enthusiasm about Taylorist management techniques, they diverged.

The left’s generally favorable attitude towards eugenics was a symptom of the same problem. There was still little understanding of the role that a growing scientific establishment could play in buttressing bureaucratic authority, in sexual matters as in others, and in curtailing self-activity.

Lessons and a New Start

What lessons can we draw from all this today? Positively, we can point out to feminist and queer activists the strong affinity between Kollontai’s vision of women’s sexual autonomy and love-comradeship and a contemporary queer ideal like polyamory.

Too often today, as the word “polyamory” catches on in the mainstream media, it’s being used just to mean “non-monogamy.” But originally for radical queers it meant much more than that. Like “love-comradeship” for Kollontai, it implied a valorization of friendship and shared commitment over a mere consumerist pursuit of orgasms.

At the same time, we should emphasize the materialist basis and class content of Kollontai’s program, especially the need for wholesale socialization of domestic labor and childcare as a precondition for sexual liberation. And we should emphasize the precondition that the Bolsheviks didn’t see: the independent self-organization of the victims of gender and sexual oppression, inside labor and socialist movements as well as the wider world.

All that, I would say, is the easy part. The hard part is adapting Bolshevik sexual politics to today’s very different class and social environment.

In a way, we suffer from the opposite problem from what sexual radicals had to contend with in the 1920s. Back then, class politics risked crowding out sexual politics. Today in feminist and queer milieus, it’s class politics that has a hard time getting a hearing.

In Russia in 1917, and for years afterwards, there were millions of working-class people who identified strongly as working-class. The Bolsheviks didn’t have to invent working-class culture; they were born as part of it. They took it for granted.

That was also still true in Western Europe in the first decades after the Second World War, and to a lesser extent in the United States. When the second wave of feminism and lesbian/gay liberation took off, a fair proportion of its activists were young people who, even if they didn’t necessarily have working-class jobs, came from working-class origins and were interested in making links with the working-class movement.

Today, by contrast, following the fragmentation and disorganization of the working class by 40 years of neoliberalism, a very great proportion of objectively working-class people no longer have that strong class identity.

In my experience, young people today coming to feminism or queer activism don’t often spontaneously radicalize to any great extent on the basis of class issues. That doesn’t mean that they often consciously have good things to say about capitalism. But unconsciously, they often seem to take it as a given in all sorts of ways.

That doesn’t mean that anti-capitalism is objectively any less necessary. In 2017 as in 1917, the logic is inescapable: There can be no true sexual liberation without overthrowing the capitalist foundations of domestic and personal life.

But in 1917, anti-capitalism was the starting point, and sexual liberation came later. Today, we sometimes have to tackle things the other way around.

It’s harder for young people today to be radicalized in working-class battles, because working-class battles are scattered and on the defensive. So it’s lucky for the left that many young people today are being radicalized around gender and sexuality, as in the fight against racism.

But winning young feminists and radical queers to Marxism isn’t easy. Frankly, I don’t think many young people out there today spontaneously see socialism as sexy. But I think reclaiming the lost legacy of Bolshevik sexual radicalism can help convince them that it was, and is.



[1] Clara Zetkin, “Lenin on the Women’s Question,” https://www.marxists.org/archive/ze...; Nadezhda Krupskaya, Reminiscences of Lenin, Chicago: Haymarket, 1917. See also Alexandra Kollontai, Selected Writings, translated by Alex Holt, Westport, CT: Lawrence Hill and Co., 1978, 202-3.

[2] Kollontai, op.cit., 271-2

[3] Ibid., 142.

[4] Ibid., 289, 288; Dan Healey, Homosexual Desire in Revolutionary Russia: The Regulation of Sexual and Gender Dissent, Chicago: University of Chicago Press, 110-1; Kollontai, op.cit., 230, 259, 229.

[5] Healey, op.cit., 61-2, 143-4, 47, 68

[6] Kollontai, op.cit., 301

The Russian Revolution, Black Bolshevichki and Social Reproduction

The Russian Revolution, Black Bolshevichki and Social Reproduction


In his 1981 book on the February Revolution, Tsuyhoshi Hasegawa includes the story of a young girl walking towards a line of Cossack troops who had come to confront women demonstrators on International Women’s Day. The women had amassed to protest the ongoing war, high food prices, and the need, as the contemporary slogan had it, of “Bread for the workers!” “From her cloak” Hasegawa writes of the girl, “she brought out a bunch of red roses and held it towards the officer. His unexpected acceptance has been seen as a symbol of both peace and revolution.” 1 For Jane McDermid and Anna Hillyar, authors of Midwives of the Revolution: Female Bolsheviks and Women Workers in 1917, the incident underscores not only the centrality of Bolshevichki – or female Bolsheviks – to the inception of the Revolution, but their corresponding program to fuse “economic” with “political” demands. As Wendy Goldman has written of the Revolution, Bolshevichki argued that “capitalism had created a new contradiction, felt most painfully by women, between the demands of work and the needs of family.” 2 Women’s oppression, they argued, was located in labor performed in the so-called “private” sphere of the home, a special burden especially for female proletarians. In turn, women like Alexandra Kollontai repeatedly pushed Lenin and other Bolshevik leaders to fight for the socialization of housework, and for the “withering away of the family” as an oppressive bourgeois institution. 3

From our vantage point today, we understand the fight for “Bread and Roses” in the Russian Revolution as an effort to fill a gap in Marxism’s endeavor to comprehend women’s oppression under capitalism. A defining moment in that understanding remains Lise Vogel’s 1983 book Marxism and the Oppression of Women. The book asserted that where Marx and Engels had fallen short in their analysis of the family was in seeing the interrelationship of so-called “domestic” life and labor and the workplace “point of production.” Specifically, Vogel argued that under capitalism women played a key role in reproducing “labor power” necessary for the reproduction of the capitalist system as a whole. Vogel writes:

Class struggle over conditions of production represents the central dynamic of social development in societies characterized by exploitation. In these societies, surplus labor is appropriated by a dominant class, and an essential condition for production is the…renewal of a subordinated class of direct producers committed to the labor process. Ordinarily, generational replacement provides most of the new workers needed to replenish this class, and women’s capacity to bear children therefore plays a critical role in class society.…In propertied classes…women’s oppression flows from their role in the maintenance and inheritance of property…In subordinate classes…female oppression…derives from women’s involvement in processes that renew direct producers, as well as their involvement in production. 4

How then might social reproduction theory function as a framework for analyzing specific historical forms of political practice? Here I use as case study the impact of the Russian Revolution on 20th century black radicals – especially black women radicals – drawn to its political example. As the image below suggests – Paul Adams’s 1971 poster for the National Union of Healthcare Employees (see Image 1) – efforts to integrate and synthesize workplace and domestic struggles under capitalism is part of a living trajectory of black radical politics over the course of the 20th century. In what follows, I examine how black communist women in the U.S. used the Russian Revolution as intellectual and political framework in their struggle for fights for black women’s workplace rights, for domestic workers’ rights, and for rights within the private abode of the home. Indeed, their attention to paid domestic laborers in the U.S. produced prescient insight into the “contradiction” Goldman notes had plagued the Bolshevchki around “the demands of work and the needs of family.” Because their domestic work for whites was also paid labor, black women radicals came to an advanced analysis of the fundamental role of household labor in reproducing the capitalist system: their wages literally produced and reproduced the black laboring classes that were their own families. In the second part of the essay, I will pick up another piece of the historical thread, and look at how black activists in and around the Black Panther Party similarly looked to Russia 1917 as model for generating social service programs like free child care and free breakfast programs. To the Bolshevik cry for “land, peace and bread,” for example, the Panthers added food, clothes and education – staples of social provisioning. Social reproduction theory helps us perceive their urgent understanding of the disproportionate way in which the black working class was socially reproduced, the lack of and/or heavily racialized and gendered state support for that reproduction, and how black radicals sought to politically challenge such capitalist inequality through working in the social reproduction sphere and drawing attention to its vital functions.

Finally, while social reproduction theory was not a developed theoretical framework available to the earlier generations of black radicals under discussion here, their concrete political projects around social reproduction can be one basis for social reproduction theorists of today.

Image 1: Paul Adams, Poster for the National Union of Healthcare Employees, 1971.

The stepping stones to an integrated analysis of women’s oppression under capitalism were carefully laid by Bolshevik women between the 1905 and 1917 revolutions. Recall the formation of women’s socialist clubs in St. Petersburg in 1905, the first 1908 All-Russian Women’s Congress sponsored by the Bolsheviks, the 1913 inaugural celebration of International Women’s Day, as well as the same year launch of Rabotnitsa, the Bolshevik paper for women workers. 5 These events reflected the key material position of women in the Russian proletariat – in 1914 half of factory workers were women 6 – and the political interventions of leading female socialists like Alexandra Kollontai. Kollontai joined the Bolsheviks in 1904, and was elected a delegate to the Petrograd Soviet in 1917. In the Spring of 1917, she helped coördinate a city-wide laundresses’ union in St. Petersburg. In so doing, Kollontai sought to suture the broader ‘political’ aims of Bolshevism to the social location of women: “To the schools, the hospitals, to housing, to maternity and childcare benefits? Nothing of the sort is happening. The people’s money is going to finance bloody skirmishes.” 7 The success of Bolshevichki agitation within the party is evident in the well-known roster of achievements of the Revolution: day-care centers, paid maternity leave, divorce on demand, nursing breaks at work, and children’s food programs. A singular achievement of the Revolution, the Zhenotdel, or women’s department of the party, was established by the Central Committee in 1919 to broaden the definition of the “worker” to include women and peasants.

Black women drawn to the Communist Party of the United States after the Revolution had CPUSA emulation of the Bolsheviks in part to thank. In 1929, the Party established the Women’s Department of the Central Committee (the American Zhenotdel) and began publication of the newspaper The Working Woman, the American Rabonitsa. Its second issue featured an article on exorbitant Harlem rents, highlighting their effects on black women in the domestic sphere: “This strain,” wrote reporter Grace Lamb, “falls heavily upon the Negro mothers and wives who must of necessity supplement their husbands small pay by their hard earnings. These women of the working class have borne the hardship of unsanitary housing conditions.” 8 Its third issue included a letter from a black domestic worker complaining of a 14 hour work day and combined pay with her husband barely enough to feed their 6 children. In response to her query “I wonder what can be done to better our condition,” an editor’s note replied, “Organization is the only way to fight effectively for better work conditions, shorter hours, and higher wages. Exploitation of the workers, Negro and white, can only be abolished by changing the present capitalist government into a workers government like that of the Soviet Union.” 9

This tentative analysis by the Communist Left of the lives of black working-class women under capitalism would cohere around the conditions of black women domestic workers. Here we turn to the significant theoretical contributions to the U.S. Communist movement by the likes of Louise Thompson Patterson, Esther Cooper Jackson, and Claudia Jones. Patterson’s April, 1936 essay from Working Woman, “Toward a Brighter Dawn,” can be considered in retrospect a pioneering moment in analysis of black domestic work as a nodal point within capitalism. Patterson’s essay was in the form of a report produced from coverage of a special “Woman’s Sub-Session” of the Women’s Committee of the National Negro Congress, a united front organization first formed by the CPUSA in 1925, and another echo of Bolshevik organizing. Patterson was the first to use the phrase “triple exploitation” to describe the conditions of Negro women under capitalism as “workers, as women, and as Negros.” 10 What Patterson meant by “triple exploitation” is best understood via social reproduction theory’s emphasis on the integrated spheres of the domestic and the workplace. Patterson elaborated thusly:

The economic crisis has placed the severest test upon the Negro woman. Representing the greatest proportion of unemployed workers in the country, Negroes are discriminated against in relief and work relief. Negroes must pay high rent for the worst housing in any city. Segregated Negro neighborhoods are invariably deficient in nurseries, playgrounds, health centers, schools. And in the face of such adverse conditions, Negro women must maintain and rear their families. 11

To return to an insight from Lise Vogel, “[i]n propertied classes…women’s oppression flows from their role in the maintenance and inheritance of property…In subordinate classes…female oppression…derives from women’s involvement in processes that renew direct producers, as well as their involvement in production.” For Patterson, black women constitute membership in a “subordinate class” exploited at work and oppressed at home, yet charged with the “renewal” of direct producers of labor power under capitalism: “Negro women must maintain and rear their families.” Here the pathway she charts is also resonant with Vogel’s analysis. The National Negro Congress focus on working conditions of black domestic workers, included in Patterson’s report, speaks to that vocation’s dialectical capacity to reveal the simultaneous oppression of “propertied classes” (i.e. bourgeois white women) who help in the “maintenance and inheritance of property,” and black women workers who labor simultaneously at two sites which reproduce the capitalist system: the abode of domestic work, and the oppressive habitus of a deracinated Black social reproductive sphere of diminished schools, playgrounds, nurseries, and homes.

Esther Cooper Jackson’s seminal writing on black women domestics builds directly out from Patterson’s analysis. Jackson’s study of domestics was her M.A. Thesis at Oberlin College completed in 1940. Like Patterson, her concentration on working-class women drew a straight line to the Russian Revolution. Jackson cites in her study the Soviet’s Domestic Worker Order of 1926 which regulated conditions of employment for domestic workers and was part of their inclusion within Soviet trade unions after the Revolution. 12 The title of Jackson’s study, “The Negro Woman Domestic Worker in Relation to Trade Unionism,” further indicates the Revolution’s influence. Jackson’s analysis of black domestic workers enacts several breakthroughs from a social reproduction perspective. First, it situates black domestic work of the 1930s, her period of focus, within the proletarianization of black labor generally after the Great Migration. Aware that black domestics were excluded from New Deal social provisioning like unemployment benefits, Jackson seeks to inscribe paid domestic laborers within the category “worker.” 13 Second, the essay inserts black paid domestic employment within an historical trajectory of capitalism, ebbing and flowing according to supply and demand, mechanization, and the economic conditions of employers. Third, the analysis situates white employers and black workers within a unitary understanding of capitalist exploitation. Jackson’s observation that time-saving labor devices in the middle-classes affected black domestic employment levels, for instance, provides an integrated perspective on women’s functional oppression under capitalism across class and race lines.

Most importantly, the essay’s call for “unionization” of black domestic workers attempted to establish worker-to-worker solidarity not only against the market’s propensity to divide through competition, but against the market itself. Cooper situates domestic labor within a shifting political economy of women’s oppression within capitalist modernity. She observes that from 1900 to 1914 the proportion of all Negro women employed in domestic personal declined due to a

tendency towards smaller homes so that housewives could perform household duties alone or with one domestic worker. The bakeries, the clothing stores, laundries, dairies, etc., began to do work which was traditionally the role of the domestic worker. 14

The increasing privatization of domestic labor was for Cooper an indicator of the ever-expanding integration of social reproduction into capitalist social relations. In this expansion, black women domestic workers were to be both “canaries in a coal mine” and what Marx called, speaking of slavery, a “pivot” of bourgeois industry. 15

Indeed, it is Claudia Jones’s articulation of black women as “pivot” that was her signature contribution to analysis of black working-class life, one also with fealty to Bolshevichki roots. We can look at three Jones essays published in 1949 and 1950, respectively, that do this work. In her 1949 essay “An End to the Neglect of the Problems of Negro Women” published in Political Affairs, the première theoretical journal of the CPUSA, Jones argues to the party “it is necessary to have a special approach to Negro women workers who, far out of proportion to other women workers, are the main bread winners in their family.” 16 Jones insists that the proletarianization of black women uniquely centralizes the double-burden of oppression and exploitation in domestic and workplace spheres, and the extractive perils under capitalism of wage-labor, or, euphemistically, “bread-winning.” Thus in a companion essay published the same year, “We Seek Full Equality for Women,” Jones argued that the “triply-oppressed status of Negro women” was a “barometer of the status of all women (emphasis mine) and that the fight for the full economic, political and social equality of the Negro woman is in the vital self-interest of white workers, in the vital interest of the fight to realize equality for all women.” 17 Jones here centers social reproduction analysis as hermeneutic: black women’s workplace exploitation as paid labor and domestic oppression as reproducers of the laboring class is an explanatory framework for diagnosing and challenging capitalism in totality. Her position may deliberately echo one of Jones’s influences elsewhere – Clara Zetkin – who argued in a speech at the 1890 founding Congress of the Second International, “It is not women’s work per se which in competition with men’s work lowers wages, but rather the exploitation of female labor by the capitalists who appropriate it.” 18 Jones and Zetkin both argue that capital’s exploitation and appropriation of women’s paid labor is a “barometer” of the exploitation of the working-class as a whole. As Jones puts it, “the inequality of women stems from exploitation of the working class by the capitalist class.” 19

The influence of Zetkin and Bolshevichki feminism is more clearly pronounced in Jones 1950 essay “International Women’s Day and the Struggle for Peace.” The essay was originally written as a speech to be delivered on International Women’s Day, March 8, 1950. As is well known, Women’s Day was first celebrated by American women in 1908, but designated “International” Women’s Day at the International Socialist Conference in 1910 at Zetkin’s initiative. In her essay, Jones Bolshevizes the origins of IWD, pointing out that Lenin was present at the International Socialist Conference meeting, and had argued in 1907 that the “women question be specifically mentioned in Socialist programme because of the special problems, needs and demands of toiling women.” Jones ambitiously seeks to use March 8th to build a new “united front” against U.S. war and imperialism. The speech celebrates more than 50 demonstrations across the U.S. for “peace, freedom, and women’s rights,” a supplemental echo of the Bolshevik cry for “Peace, Land, and Bread.” As with March 8th, 1917, women, and now black women, are to be a vanguard in this new united front. Harriet Tubman and Sojourner Truth are invoked as “militant women proletarians of the textile workers.” “Working women,” writes Jones, “who are the most oppressed of all the oppressed, have never stood aloof and could not stand aloof from the great march of emancipation.” 20 They “may and should become…a regular army of the working class fighting shoulder to shoulder with the great army of the proletariat.” 21 This is an echo here of other contemporaneous claims for the autonomy of black working class struggles. 22 Most important for our purposes, Jones’s characterization of black women as the “most oppressed of the oppressed” moved towards generalizing black women’s experience of racism and sexism as endemic to capitalism as a system. As Sue Ferguson has written,

While (like her Communist Party brethren) Jones saw the key to (Black) women’s emancipation as fighting for the betterment of their wages and conditions, she moved beyond them in arguing that labor isn’t just an “economic” issue. Because the American workforce is so thoroughly racialized, there can be no improvement for all until racism is also confronted and destroyed. This is a radical and important innovation. It situates women’s paid labor as inextricably tied not only to sexism, but also to racism, raising the specter of – if not fully analyzing – a wider systemic logic.” 23

A full reckoning of black communist women’s engagement with Bolshevechki thought is beyond the scope of this article. What can be said here is that their constellation expands our universe of understanding of the political lineage of 20th century social reproduction analysis. To complete this provisional genealogy, I will turn in brief to 1960s Black Power politics, particularly the politics of the Black Panther Party. A healthy renaissance of scholarship on black women in the BPP by scholars like Bettye Collier-Thomas (Sisters in the Struggle), Robyn C. Spencer (The Revolution Has Come) and Donna Murch (Living for the City) combined with first-person accounts by surviving Panthers like Kathleen Cleaver and Ericka Huggins (subject of a forthcoming biography by Mary Phillips) has begun to redraw the gender boundaries of the movement and the era. 24 Kiran Garcha, in an important essay published in 2015 in Viewpoint, “Bringing the Vanguard Back Home: Revisiting the Black Panthers’ Sites of Class Struggle,” pursues a train of thought that warrants further development, by examining the “home and family unit” as political locations within Party practice. As Garcha notes, “the Panthers’ anti-colonial politics were often transmitted across generations not in Party offices or community centers, but behind closed doors, in the intimate spaces of living rooms, kitchens, and backyards.” 25

As my own starting point, I will single out point 10 of the Panther’s original 10 point program. It is the most capacious demand, a veritable laundry list of social reproduction keywords: “We want land, bread, housing, education, clothing, justice and peace.” We can recognize again the immediate echoes of 1917 – “Land, Bread, Peace” supplemented by traditional claims from the “domestic” sphere: education, clothing, housing. As recent historical studies have noted, the Panthers were proffering a version of Lyndon Johnson’s “Great Society” enacted through a politics of anti-capitalist self-determination. 26 Hence the Panthers well known Free Breakfast Program, its establishment of the Oakland Community School as an alternative to what were perceived as racist white-dominated schools, and its establishment of People’s Free Medical Clinics. As Alondra Nelson has ably observed, the Panthers medical program was s a “health social movement,” or “politics by other means.” 27

I would argue that insights from social reproduction theory best elucidate the “politics” and wider “social movement” she describes. Most of the party cadre involved in the Panther health program were women. In addition to screening for sickle cell anemia, services included gynecological screening, pap smears, and STD testing. In 1971, women in the Party pushed for expanded birth control on the basis that extensive child-rearing could limit political participation for both men and women. In a 1972 BPP position paper, Audrea Jones recommended that both men and women attend birth control classes. Also in 1972, the Central Committee of the BPP recommended establishing a “Planned Parenthood” program within the organization; in 1974, Party leadership issued a directive that members should use birth control. 28 The emphasis on what might be called reproductive and sexual justice for Black women is a political index to what Dorothy Roberts has referred to as the “killing” of Black bodies under capitalism, 29 as well as a centering of compulsory reproductive capacity – and responsibility – for working-class women to regenerate the system. Reproductive and social reproductive justice, in other words, was for the Panthers a specifically working-class issue, part of the Party’s wider “anti-poverty” analysis, and an index to the double burden role of black working women as reproducers of labor power under a capitalist system with few safety nets.

A final snapshot of the Panther’s anti-capitalist social reproduction politics comes into sharp focus in Emory Douglas’s iconic 1972 lithograph “Vote for Survival.” (Image 2) The image projects a “lumpen” black woman as class conscious embodiment of Panther support. Her handheld sign, “Vote for Survival,” pointed not just to the Party’s electoral turn that year, but to the Panthers 1972 “Black Community Survival Conference,” which included, literally, a “chicken in every bag” and voter registration form for attendees. In her pocket, the woman also carries a pair of children’s booties bearing a tag reading, “David Hilliard, People’s Free Shoe Program.” The image argues that the road to revolutionary consciousness passes through the home, and that demands for “bread and shoes” suture the “economic” to “political” demands. In this portrait of a new revolutionary, the Panthers announce an all-encompassing– if reformist –anti-capitalist critique of the system, and a new figure in the vanguard.

Image 2: Emory Douglas, “Vote for Survival, 1972.

Susan Ferguson and David McNally speak of social reproduction theory’s capacity to illuminate social movements that demand “the end to the differential degradation of human life, full and communal access to the means of subsistence, control over our own human bodies.” 30 The narrative I have outlined, from 1905 St. Petersburg, to 1972 Oakland, the “long” era of social reproduction as it were, also helps us understand how and why capitalism itself has so long identified black womanhood as a threat to the capitalist state’s endeavors to manage class relationships. Despite the best efforts of Bolshevichki, black communists, and Black Panthers, capital’s general tendency to foist the costs of social provisioning onto the poor and working-class has produced its enemy more often than not in the figure of the black woman. Ronald Reagan’s “welfare queen” is, from a social reproduction standpoint, the Bolshevichki at the gate. Reaganism’s, and neoliberalisms, recurring attacks on what was once known as the “welfare state” have repeatedly produced a depressingly familiar language of class domination. “It is…no coincidence,” write Salar Mohandesi and Emma Teitelman,

that the assault on social welfare spoke a racist and sexist language. Black mothers were demonized as dishonest, irresponsible, and promiscuous; blacks and Latinx people were vilified as criminals or indolent abusers. The hope was to convince other workers, such as poor or unemployed white males, to blame the “black welfare queen” or “reverse racism” for their own conditions, rather than the capitalists. In this way, the battle over social reproduction played an unsurpassed role in turning the heterogenous sectors of the working class against one another. 31

We know this story so well that we dare not repeat it. What we should repeat on this 100th anniversary of 1917 is the political challenge embedded in explanatory frameworks by which we know the past and present. Our contemporary battles against Trumpism, against the alt-right, against the viral misogyny and racism of our times, against creeping fascism, would do well to have more, not less Bolshevichkism if we hope to heal what ails us. There is nothing stale in Claudia Jones’ nearly 70 year-old appeal: “by successfully mastering our theory of the woman question, organizing masses of American women, and focusing attention primarily on the problems and needs of working class women,” we can renew social reproduction cries of “land, bread and peace,” and forge what Louise Patterson called nearly a century ago “a brighter dawn.”

The author would like to thank Tithi Bhattacharya, Susan Ferguson and Charlie Post for their comments on an earlier draft of this essay.


1. Tsuyoshi Hasegawa, The February Revolution: Petrograd, 1917. (Seattle: University of Washington Press, 1980), 154.
2. Wendy Goldman, Women, the State, and Revolution: Soviet Family Policy and Social Life, 1917-1936. (Cambridge: Cambridge University Press, 1993), 2.
3. Ibid., 12.
4. Lise Vogel, Marxism and the Oppression of Women: Toward a Unitary Theory (London: Pluto Press, 1983), 129.
5. See Wendy Goldman, Women at the Gates: Gender and Industry in Stalin’s Russia. (Cambridge: Cambridge University Press, 2002), 1-37 and Jane McDermid and Anna Hillyar, Midwives of the Revolution: Female Bolsheviks and Women Workers in 1917 (London: University College London, 1999), 147.
6. Goldman, Women at the Gates, 34.
7. Barbara Evans Clements, Bolshevik Women (Cambridge: Cambridge University Press, 1997), 127.
8. Grace Lamb, “High Rents, Vile Houses in Negro’s Lot in Harlem,” Working Woman, Vol. 1, No. 2 (May 1929): 10.
9. Negro Domestic Worker Slaves 14 Hours a Day,” Working Woman, Vol. 1, No. 3, (Dec. 1929).
10. Louise Thompson Patterson, “Toward a Brighter Dawn (1936),” Viewpoint, Oct. 31, 2015.
11. Ibid.
12. Esther Cooper Jackson, “The Negro Domestic Worker in Relation to Trade Union Production (1940),” Viewpoint, Oct. 31, 2015.
13. Salar Mohandesi and Emma Teitelman, “Without Reserves” in Social Reproduction Theory: Remapping Class, Recentering Oppression, ed. Tithi Bhattacharya (London: Pluto Press, 2017), 56.
14. Cooper Jackson, “The Negro Domestic Worker in Relation to Trade Union Production.”
15. Karl Marx, “The Poverty of Philosophy,” 1847.
16. Claudia Jones, “An End to the Neglect of Problems of Negro Women,” cited in Bill V. Mullen, UnAmerican: W.E.B. Du Bois and the Century of World Revolution (Philadelphia: Temple University Press, 2015), 154.
17. Ibid., 166.
18. Goldman, Women, The State, Revolution, 41.
19. Claudia Jones, “We Seek Full Equality for Women (1949),” Viewpoint, February 21, 2015.
20. Claudia Jones, “International Women’s Day and the Struggle for Peace,” cited in Mullen, 168.
21. Ibid.
22. I have in mind here C.L.R. James’s 1948 claim for Black working-class struggle as having “a vitality and a validity of its own” which “has got a great contribution to make to the development of the proletariat in the United States.” C.L.R. James, “The Revolutionary Answer to the Negro Problem in US,” Fourth International, Vol.9 No.8 (December 1948): 242-251.
23. Susan Ferguson, “Feminist Theory: Labor,” forthcoming in Bloomsbury Handbook of Twenty-first Century Feminist Theory, ed. Robin Truth Goodman (New York: Routledge, 2017).
24. See Bettye Collier-Thomas, Sisters in the Struggle: African American Women ni the Civil Rights-Black Power Movement (New York: NYU Press, 2001); Robyn C. Spencer, The Revolution Has Come: Black Power, Gender, and the Black Panther Party in Oakland (Durham: Duke University Press, 2016); Donna Murch, Living for the City: Migration, Education, and the Rise of the Black Panther Party in Oakland, California (Chapel Hill: University of North Carolina Press, 2010).
25. See Kiran Garcha, “Bringing the Vanguard Home: Revisiting the Black Panther Party Sites of Class Struggle,” Viewpoint, Oct. 31, 2015.
26. Mohandesi and Teitelman, “Without Reserves,” 59.
27. Alondra Nelson, Body and Soul: The Black Panther Party and the Fight Against Medical Discrmination (Minneapolis: University of Minnesota Press, 2013), 1. See also Robert Self, American Babylon: Race and the Struggle for Postwar Oakland (Princeton: Princeton University Press, 2003).
28. Angela D. LeBlanc-Ernest, “‘The Most Qualified Person to Handle the Job’: Black Panther Party Women, 1966-1982,” in The Black Panther Party Reconsidered, ed. Charles Jones (Baltimore: Black Classic Press, 1998), 319-320.
29. See Dorothy Roberts, Killing the Black Body: Race, Reproduction, and the Meaning of Liberty (New York: Vintage, 1998).
30. Ferguson and McNally, “Social Reproduction Beyond Intersectionality,” Viewpoint.
31. Mohandesi and Teitelman, Social Reproduction, 64.

is Professor of English and American Studies at Purdue University. His books include UnAmerican: W.E.B. Du Bois and the Century of World Revolution (Temple UP, 2015); W.E.B. Du Bois: Revolutionary Across the Color Line (Pluto Press, 2016); andAfro-Orientalism (Minnesota UP, 2004).     


From Viewpoint Magazine