Updates

Articles

Articles posted by Radical Socialist on various issues.

ট্রটস্কী, লেনিন ও বিপ্লবের পথ

Leon Trotsky, the man without a country

৭ই নভেম্বর সোভিয়েতরা রাশিয়াতে ক্ষমতা দখল করে। ওই দিনই ছিল বলশেভিক নেতা লেভ ত্রৎস্কীর জন্মদিন। আমরা এই দুই ঘটনাকে মনে রেখে নীচের প্রবন্ধটি প্রকাশ করছি।

কুণাল চট্টোপাধ্যায়

পর্যায় ১ -- নিরন্তর বিপ্লবের পথে

১৯১৭ সালে, বা তার অব্যবহিত পরে, রুশ বিপ্লবের শত্রু-মিত্র সকলেই জানত, প্রলেতারীয় বিপ্লবের দুই প্রধান নেতা লেনিন এবং ট্রটস্কী। হিংস্র দক্ষিণপন্থী কার্টুনে ইহুদী দানব ট্রটস্কী কীভাবে রুশ সংস্কৃতি ধ্বংস করছে সেটা দেখানো হত। মেনশেভিক ও সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারীদের সঙ্গে অক্টোবর অভ্যুত্থানের পরেই যখন সব সমাজতন্ত্রী দলদের সরকার গড়া নিয়ে শেষবারের মত আলোচনা হয়, তখন তাঁদের দাবী ছিল, সেরকম সরকার হতে পারে কেবল লেনিন ও ট্রটস্কীকে বাদ দিলে আবার রোসা লুক্সেমবুর্গ যখন রুশ বিপ্লবের উপর তাঁর অসমাপ্ত পুস্তিকাটি লেখেন, তখন তিনি প্রশংসা ও সমালোচনা, দুই ক্ষেত্রেই এক নিঃশ্বাসে “লেনিন , ট্রটস্কী ও তাঁদের কমরেডদের” কথা বলেছেন।

স্তালিনবাদের উত্থানপর্ব থেকে ইতিহাসের বারে বারে পুনর্লিখন ও নয়া নয়া বিকৃতিসাধন হয়েছে। ট্রটস্কীকে কখনো বলা হয়েছে মেনশেভিক, কখনো প্রতিবিপ্লবী। গর্বাচভের আমলে, দলিল প্রকাশ্যে আনার যুগেও যে একজন বলশেভিক নেতার সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ তোলা হল না, তিনি ট্রটস্কী। ফলে ভারতের মত দেশে, যেখানে রুশ-চীনপন্থী কমিউনিস্টদের রুশবিপ্লব সম্পর্কিত লেখার উপরে প্রভাব বহুদিন থেকে গেছে, সেখানে ট্রটস্কীর ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে, বিশেষ করে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষাতে আলোচনা, প্রায় হয় নি বলা চলে। বাংলা ভাষায় তো একটিও তথ্যনিষ্ঠ জীবনী নেই, নেই ডয়েটশার বা পিয়ের ব্রুয়ের লেখা (যথাক্রমে ইংরেজী ও ফরাসিতে) জীবনীর কোনো অনুবাদও  

বর্তমান প্রবন্ধ সেই সার্বিক ইতিহাসের একটি দিকের উপর আলোকপাত করতে চাইবে, যা হল লেনিন ও ট্রটস্কীর আন্তঃসম্পর্কএর একাধিক দিক আছে, একটা বড় সমস্যা অতিক্রম করার প্রথমে দরকারও আছে। সমস্যাটা হল, ১৯২৩-এ লেনিন বাকশক্তি হারানোর সময় থেকে, জিনোভিয়েভ এবং স্তালিন যে “লেনিনবাদ” চালু করলেন, তাতে অন্য সকলের যাচাই শুরু হল কে লেনিনের সঙ্গে কতটা সহমত তাই দেখে। এই কারণে ইতিহাস পুনর্লিখনও হয়। যেমন আলেক্সান্দর শ্লিয়াপনিকভের ১৯১৭ সম্পর্কে স্মৃতিচারণে স্তালিনকে বিশেষ ভালভাবে দেখানো হয় নি বলে ১৯৩০ নাগাদ তাঁকে দিয়ে “আত্মসমালোচনা” প্রকাশ করানো হয়। সেই প্রবণতা এখনও অনেক সময়ে দেখা যায়।  

লেনিন ও ট্রটস্কীর সম্পর্কের সবটা একটি প্রবন্ধে আলোচনা করা কঠিন, তাই বর্তমান প্রবন্ধে শুধু দেখা যাবে বিপ্লবের চরিত্র নিয়ে তাঁদের মতের বিকাশ, এবং ১৯১৭-র বিপ্লবে রণনীতি ও কৌশলের প্রসঙ্গে তাদের অবস্থান। কেউ মনে করতেই পারেন, পার্টি গঠন, বিশ্বযুদ্ধ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা, কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক গঠন, এবং বিপ্লবের পরও গৃহযুদ্ধ ও নতুন সমাজগঠন প্রসঙ্গগুলি কম জরুরী নয়। সে কথা স্বীকার করে শুধু বলব, এখানে আমি একটি প্রবন্ধ লিখতে বসেছি, পূর্ণদৈর্ঘ্য গ্রন্থ নয়।

মার্ক্স-এঙ্গেলস ও “বুর্জোয়া-গণতন্ত্র”:

মার্ক্স-এঙ্গেলস আরম্ভ করেছিলেন অগ্রসর দেশে শ্রমিক শ্রেণীর বিপ্লবের দিশা থেকে। তাঁরা একাধিক বিকল্প কমিউনিস্ট মতের সঙ্গে তর্ক করে নিজেদের রণনীতি ও দিশা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। একদিকে ছিল সেই মত, যাকে তাঁরা বলতেন “ক্রিটিক্যাল-ইউটোপিয়ান সমাজতন্ত্র”। এই মতের প্রবক্তারা বুর্জোয়া অর্থনীতি, রাষ্ট্র, ধর্ম, এবং পুরুষপ্রাধান্যবাদের তীব্র সমালোচনা করেন। কিন্তু তাঁরা মনে করতেন, তাঁদের ব্যাখ্যা সবার কাছে প্রচার করে কেবল যুক্তির জোরে তাঁদের মত গ্রহণ করাতে হবেগণতান্ত্রিক রাজনৈতিক আন্দোলনে তাঁদের আস্থা ছিল না, বিপ্লবে তো নয়ই। অন্যদিকে ছিলেন ফরাসী বিপ্লবের জ্যাকব্যাঁ ধারাতে অনুপ্রাণিত বিপ্লবীরা, যেমন লুই ব্লাঁকি। তাঁরা মনে করতেন, ছোটো, সুশৃঙ্খল গোপন বিপ্লবী দল গঠন, গোপনে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা চাই, এবং অভ্যুত্থান সফল হলে বিপ্লবী দলের একক শাসনের একটা পর্ব চাই।

এই দুই ধারার বিপরীতে মার্ক্স-এঙ্গেলস ১৮৪৬-৪৭ থেকে যে রণনীতি প্রস্তাব করলেন ও অভিজ্ঞতার থেকে তার প্রসার ঘটালেন, তার প্রথম কথা হল, শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তি শ্রমিক শ্রেণী নিজেই আনবে। কীভাবে তা হবে? প্রলেতারীয় বিপ্লব, এই কথাটা আগের দুই ধারার থেকে প্রচন্ড ভাবে স্বতন্ত্র, যদিও মার্ক্সের নামে এবং প্রলেতারীয় বিপ্লবের নামে পরে বারে বারে ওই দুই ধারাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।  মার্ক্স-এঙ্গেলস একদিকে প্রস্তাব করেন প্রচারসর্বস্বতার বিরুদ্ধে গণবিপ্লব, অন্যদিকে দলের গোপন পরিকল্পনা নয়, বরং সংখ্যাগরিষ্ঠের গণতান্ত্রিক বিপ্লব। শ্রেণী সংগ্রামের তীব্রতা বাড়লে শোষকরা সেই গণতন্ত্রের অংশীদার হবে না, কিন্তু ব্যাপক শোষিত মানুষ গণতন্ত্র গড়বেন। কমিউনিস্ট ইস্তাহার বলেছিল, গণতন্ত্র বিজয় বিপ্লবের প্রথম পদক্ষেপ হবে। আর ১৮৯১ সালে, মার্ক্সের ফ্রান্সে গৃহযুদ্ধ বইয়ের ভূমিকাতে এঙ্গেলস লেখেন, ডিক্টেটরশিপ অভ দ্য প্রলেতারিয়েতের নজীর হল পারী কমিউন।৬  বহু দল বিশিষ্ট, গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থায় পরিচালিত, পুলিশ ও আমলাতন্ত্রকে নির্বাচিত ও ফিরিয়ে আনা যায় এমন জনপ্রতিনিধিদের অধীনে রাখা এই আধা-রাষ্ট্র সম্পর্কে ঐ শব্দবন্ধটি প্রয়োগ করে এঙ্গেলস দেখিয়েছিলেন, ওটা যাই হোক, একনায়কতন্ত্র নয়।  

মার্ক্সের যুগ থেকেই যে প্রশ্নটা ওঠে, তা হল, যে সব দেশে বুর্জোয়া বিকাশ কম হয়েছে, তাদের কী হবে? ১৮৪৮-এর বিপ্লবের ঠিক আগে লেখা কমিউনিস্ট ইস্তাহারে ইতিমধ্যেই এ নিয়ে জটিলতা ছিল। এতে তাঁরা লেখেন, জার্মানীর আসন্ন বিপ্লব বুর্জোয়া বিপ্লব। কিন্তু তার পরই লেখেন, “কমিউনিস্টরা তাঁদের দৃষ্টি ফেরান প্রধানত জার্মানীর দিকে, কারণ ঐ দেশ এমন এক বুর্জোয়া বিপ্লবের প্রাক্কালে, যা ঘটবে সপ্তদশ শতকের ইংল্যান্ডের, এবং অষ্টাদশ শতকের ফ্রান্সের তুলনায় ইউরোপীয় সভ্যতার অনেক বেশী অগ্রসর পরিস্থিতিতে এবং অনেক বেশী বিকশিত শ্রমিক শ্রেণীর উপস্থিতিতে, এবং যেহেতু জার্মানীর বুর্জোয়া বিপ্লব হবে তার পরই আসন্ন প্রলেতারীয় বিপ্লবের পূর্বরাগ মাত্র”।

কি এই বুর্জোয়া বিপ্লব? ১৮৪৮-এর জার্মান বিপ্লবে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে মার্ক্স অনুভব করলেন, জার্মান বুর্জোয়া শ্রেণী বিপ্লবী নয়। তিনি লেখেন, ১৬৪০-এ, বা ১৭৮৯-এ, বুর্জোয়াদের বিজয় ছিল নতুন সমাজ ব্যবস্থার বিজয়। কিন্তু প্রাশিয়ার বিপ্লবে বুর্জোয়া শ্রেণী দ্রুত প্রতিবিপ্লবের দিকেই সরতে থাকে, এই ছিল তাঁর মত।তাহলে স্বতন্ত্রভাবে একটা বুর্জোয়া বিপ্লবের ধারণা কেন জরুরী ছিল? তা ছিল দুটি কারণে। প্রথমত, সামন্ততন্ত্র থেকে ধনতন্ত্রে উত্তরণের যে কয়েক শতাব্দীব্যাপী ইতিহাস, তার থেকে, অপেক্ষাকৃত অল্প সময়ে সামন্ত শ্রেণীর রাষ্ট্রকে ভেঙ্গে বুর্জোয়া রাষ্ট্র গড়ার নাটকীয় ঘটনার পৃথকীকরণের দরকার ছিল। দ্বিতীয়ত, অতীতের বুর্জোয়া বিপ্লবের সঙ্গে প্রলেতারিয়েতের উত্থানপর্বে বুর্জোয়া শ্রেণীর অবিপ্লবী ভূমিকার মধ্যে মার্ক্স একটা পার্থক্য দেখাতে চেয়েছিলেন।

সুতরাং ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের বিপ্লবকে ধরা হল বুর্জোয়া বিপ্লবের (পরবর্তীকালে যার নামটা দৃঢ়ভাবে হয়ে যাবে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব) আদর্শ বা প্যারাডাইম। তাদের সঙ্গে মিলিয়ে অন্যান্য বিপ্লব কতটা বিপ্লবী সেটা নির্ধারিত হবে। কিন্তু ফরাসী বিপ্লবকেই বা মার্ক্স এইভাবে কেন দেখলেন? এর উত্তর দিতে হলে আমাদের তাকাতে হবে উদারনৈতিক ফরাসী ইতিহাসবিদদের রচনার দিকে। বুর্জোয়া বিপ্লবের কাহিনী প্রথম দানা বাধে অষ্টাদশ লুইয়ের এবং দশম চার্লসের শাসনকালে, বুর্জোয়া উদারনৈতিক তাত্ত্বিক ও রাজনীতিবিদদের হাতে। অগুস্ত্যাঁ থিয়েরী, ফ্রাঁসোয়া মিঞে বা ফ্রাঁসোয়া গিজোর মত লেখকেরা ফরাসী বিপ্লবকে একটা শ্রেণী সংগ্রাম ভিত্তিক বিপ্লব হিসেবে দেখিয়েছিলেন। মার্ক্স এই কারণেই তাঁর বন্ধু জোসেফ ওয়েডেমেয়ারকে চিঠিতে লিখেছিলেন যে বুর্জোয়া ইতিহাসবিদরা তাঁর (মার্ক্সের) অনেক আগেই শ্রেণী সংগ্রামের অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন।

মিঞের ইতিহাসে ফরাসী বিপ্লবকে দেখানো হয়েছিল তৃতীয় এস্টেটের দীর্ঘমেয়াদী ফল হিসেবে (অর্থাৎ বুর্জোয়া শ্রেণীর বাণিজ্যিক ও শিল্পগত সম্পত্তির উদ্ভবের ফল হসেবে)। গিজোর ইতিহাসে ইংল্যান্ডের বিপ্লব ও ফরাসী বিপ্লবের সাদৃশ্যের কথা বলা হয়। এঁরা তৃতীয় এস্টেট আর সমগ্র জাতিকে অভিন্ন বলে দেখাতে চেয়েছিলেন। বুর্জোয়া শ্রেণী  এবং কৃষক ও শহরের দরিদ্র জনতার মধ্যে তাঁরা কোনো দ্বন্দ্ব দেখেন নি। গিজো এমন কি বলেন, ১৬৪০-এর দশকে ইংল্যান্ডের বিপ্লবে ধর্ম ছিল শ্রেণী সংগ্রামের আবরণ মাত্র। অর্থাৎ, ফরাসী উদারনৈতিক ইতিহাসবিদরাই দেখাতে চাইলেন ইতিহাসে বুর্জোয়া বিপ্লব বলে কিছু ঘটেছিল, এবং তার নেতৃত্ব দিয়েছিল বুর্জোয়া শ্রেণী, যারা গোটা সমাজটাকে তাদের পিছনে টেনে এনেছিল। মার্ক্স এঁদের রচনা পড়েই বুর্জোয়া বিপ্লবের তত্ত্ব গ্রহণ করেছিলেন। 

বুর্জোয়া-গণতান্ত্রিক বিপ্লবঃ কাউটস্কি থেকে রুশ মার্ক্সবাদ

১৮৮৯ সালে, ফরাসী বিপ্লবের শতবর্ষে, জার্মান মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক কার্ল কাউটস্কি একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ (বা পুস্তিকা) রচনা করেন – ফরাসী বিপ্লবের যুগে শ্রেণীদ্বন্দ্ব। সাধারণভাবে মার্ক্সীয় ইতিহাস রচনা এবং বিশেষভাবে ফরাসী বিপ্লবের ইতিহাসের মার্ক্সীয় চর্চার ক্ষেত্রে এই প্রবন্ধটি খুবই প্রভাব বিস্তার করেছিল। তথ্যের জন্য কাউটস্কি নির্ভর করেছিলেন ইতিমধ্যে যে সব গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে তাঁর উপর। কিন্তু ঐ তথ্যকে শ্রেণী সংগ্রামের আলোকে কীভাবে দেখা যায়, এবং সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণকে কীভাবে ঐতিহাসিক আখ্যানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়, এই ছিল তাঁর কাজের বৈশিষ্ট্য। রুশ বিপ্লবের পর কমিউনিস্ট মহলে কাউটস্কির দুর্নামের ফলে তাঁর এই পুস্তিকাটি পড়া কমে যায়। কিন্তু ১৯২৩ পর্যন্ত, চারটি জার্মান সংস্করণে এর ১৮,০০০ কপি মুদ্রিত হয়, এবং এটি আটটি ভাষায় অনুদিত হয়।

কাউটস্কি দেখাতে চাইলেন, ফরাসী বিপ্লবের কারণ হল তৃতীয় এস্টেটের সঙ্গে প্রথম দুই, সুবিধাভোগী এস্টেটের দ্বন্দ্ব, যার ভিত্তি ছিল অর্থনৈতিক সম্পর্ক। পুরোনো সমাজে ধনতন্ত্রের বিকাশের পায়ে বেড়ী ছিল, যেটা সরে গেল বিপ্লবের ফলে। একই সঙ্গে, কাউটস্কি শ্রেণী সংগ্রামে বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা দেখালেন। বুর্জোয়াদের বিপ্লবী অংশ শহরের দরিদ্র জনতা বা সাঁ-কুলোৎদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। কিন্তু তার ফলে একটা নতুন দ্বন্দ্ব তৈরী হল – একদিকে ধনতন্ত্রের বিকাশের ঐতিহাসিক প্রয়োজন, আর অন্যদিকে পেটি বুর্জোয়া সাঁ-কুলোৎদের মধ্যে শুধু সামন্ততন্ত্র-বিরোধী চেতনা নয়, বুর্জোয়া বিরোধী চেতনারও বিকাশ। কাউটস্কি বলেন, সাঁ- কুলোৎদের পরাজয় ছিল অনিবার্য, কারণ তাঁরা ইতিহাসের গতির বিপরীতে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর ঐতিহাসিক বর্ণনাতে শ্রেণী সংগ্রামের বাস্তব রূপ ধরার চেষ্টা ছিল, কিন্তু তাঁর  সমাজতাত্ত্বিক চিন্তায় ছিল অতিমাত্রায় কঠোর নিয়মভিত্তিকতা বা, বলা যায় নির্ধারণবাদ। তাঁর খসড়া পড়ে এঙ্গেলস মন্তব্য করেছিলেন, তিনি শ্রেণী সংগ্রামের জীবন্ত বাস্তবতার চেয়ে বিমূর্ত সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গীর উপর জোর দিয়েছেন (অর্থাৎ জীবন্ত ইতিহাসকে তিনি তত্ত্বের ছাঁচে ফেলতে চেয়েছেন)। এছাড়া বলা দরকার, রুশ বিপ্লবের পর বইটি সংস্কার করার আগে, তিনি কৃষকদের ভূমিকা নিয়ে বিশেষ আলোচনা করেন নি, যেখানে ফরাসী বিপ্লবের অন্যতম প্রধান গুরুত্বই হল ভয়ানক কৃষি বিপ্লব ও তার ফলে সামন্ততন্ত্র ধ্বংস হওয়া। দ্বিতীয়ত, সাঁ- কুলোৎরা হেরে যেতে বাধ্য, এই ধারণার ফলে তিনি তাঁদের নেতৃত্ব, চেতনা, এ সবকে অবহেলা করেছিলেন। ইতিহাস মানে উৎপাদন ব্যবস্থার বিবর্তন, এই কেন্দ্রীয় ধারণা তাঁর বর্ণনাকে প্রধানত প্রভাবিত করেছিল।

কাউটস্কির এই পুস্তিকা, এবং জর্জ প্লেখানভের রচনা, বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পর্কে মার্ক্সীয় দিশাকে মার্ক্স বা এঙ্গেলসের লেখার চেয়ে অনেক বেশী পুষ্ট করেছিল। কাউটস্কি সম্পাদিত নয়ে জাইট পত্রিকায় প্লেখানভ “বুর্জোয়া শ্রেণী যখন তার বিপ্লবকে স্মরণ করে” শীর্ষক একটি প্রবন্ধে বলেন, মতাঞিয়ার বা পর্বত গোষ্ঠী ছিলেন প্রলেতারিয়েতের নেতা, এবং সন্ত্রাসের রাজ যে পর্বকে বলা হয়, তা ছিল শ্রেণী সংগ্রামের ফল। তিনি বলেন, সে যুগে প্রলেতারিয়েতের বিকাশ ও শ্রেণীচেতনা ছিল খুবই সীমিত, তাই সন্ত্রাস এত বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল। কিন্তু তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করেন যে মতাঞিয়ার নেতাদের বাস্তব চিন্তা ছিল নিছক বুর্জোয়া। সে যুগের সবচেয়ে উগ্র বিপ্লবীর কর্মসূচিতেও ব্যক্তি মালিকানাই প্রাধান্য পেয়েছিল। প্লেখানভের সিদ্ধান্ত হল, রাজনৈতিক শক্তি ছিল প্রলেতারিয়েতের, কিন্তু নেতৃত্ব ছিল পেটি বুর্জোয়ার। (প্রসঙ্গত বলে রাখা ভাল, আধুনিক মার্ক্সবাদী গবেষকরা জ্যাকব্যাঁদের বুর্জোয়া নেতৃত্ব এবং পেটি বুর্জোয়া গণভিত্তিই দেখেন,   প্রলেতারিয়েতের উপস্থিতি দেখেন না। সবুল, গের‍্যাঁ প্রমুখ সাঁ-কুলোৎদের একাংশের মধ্যে প্রলেতারিয়েতের ছবি দেখেছেন, কিন্তু সমগ্র সাঁ-কুলোৎদের তাঁরাও প্রলেতারিয়েত বলেন নি)। 

প্লেখানভের সিদ্ধান্ত ছিল কাউটস্কির চেয়ে নরমপন্থী। ১৯০২-৩ থেকে, রুশ বিপ্লবের প্রস্তুতিপর্বে, সেটা বোঝা গেল। এই সময়ে লেনিন এবং প্লেখানভ ইস্ক্রা গোষ্ঠীর পক্ষে রুশ সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক শ্রমিক দলের খসড়া কর্মসুচী তৈরী করছিলেন। ঐ খসড়াতে বলা হয়, “রুশ সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক শ্রমিক দল রাশিয়ার বিদ্যমান সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যে কোনো বিরোধী বা বিপ্লবী আন্দোলনকে সমর্থন করবে”। এই সময় থেকেই কিন্তু লেনিন ও প্লেখানভের আপাত মতৈক্যের আড়ালে ছিল ভিন্নতা। বিতর্ক শুরু হলে সেটা বোঝা যায়। লেনিনের সঙ্গে খসড়া লেখার সময়েই প্লেখানভের তর্ক হয়। প্লেখানভ লিখেছিলেন, রাজনৈতিক ও নাগরিক স্বাধীনতা হল ধনতান্ত্রিক উৎপাদনের স্বাভাবিক আইনী পরিপূরক। লেনিন “স্বাভাবিক” কথাটাতে আপত্তি তোলেন, এবং বলেন যে “স্বাভাবিক” শব্দটা ব্যবহার করা হল উদারনৈতিক দাবী।  খসড়াটি প্রকাশিত হলে ডেভিড রিয়াজানভ একটি প্রবন্ধ লেখেন, যাতে তিনি বলেন, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বে শ্রমিক শ্রেণী গণতান্ত্রিক অধিকার এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য অগ্রণী যোদ্ধা হিসেবে দেখা দিলে, বিপ্লবের লাভ প্রধানত যাবে বুর্জোয়া শ্রেণীর কাছে, এ কথা মনে করা ভুল হবে।১০ এর জবাবে প্লেখানভ প্রচন্ড আক্রমণাত্মক একটি প্রবন্ধ লেখেন, এবং তাতে বলেন, যে সমাজ রূপান্তর ঘটতে চলেছে, তা হবে বুর্জোয়া বিপ্লব, তাই এতে বুর্জোয়া শ্রেণীর বিশিষ্ট ভূমিকা থাকবে।১১ এর সঙ্গে তুলনীয়, ১৮৪৮-এর বিপ্লবের পরাজয়ের পর মার্ক্স-এঙ্গেলসের মত, যে বুর্জোয়া শ্রেণী বিপ্লবের বিরোধী, এবং পেটি-বুর্জোয়ারাও দোদুল্যমান।

প্লেখানভের অবস্থানকে ব্যাখ্যা করে ট্রটস্কী পরে লেখেন, সেটা ছিল এরকমঃ রাশিয়া ধনতান্ত্রিক বিকাশের পথ ধরেছে। সমাজতন্ত্রের জন্য শ্রমিক শ্রেণীর প্রথমে দরকার গণতান্ত্রিক অধিকার, রাজনৈতিক স্বাধীনতা। এই কারণে রুশ শ্রমিক শ্রেণীকে উদারনৈতিক সমাজের ও বুদ্ধিজীবিদের সংবিধানের দাবীকে সমর্থন করতে হবে।১২ মাইকেল লোয়ি ব্যাখ্যা করেন, প্লেখানভ মনে করতেন, শ্রমিক শ্রেণীকে বুর্জোয়া শ্রেণীর একক শাসন মেনে নিতে হবে, যাতে বুর্জোয়া শ্রেণী তার ঐতিহাসিক কর্তব্য পালন করতে পারে।১৩  অর্থাৎ বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব, এই ধারণা রূপান্তরিত হল বুর্জোয়া শ্রেণীর ঐতিহাসিক কর্তব্যে। ১৯০৫ সালে, প্লেখানভ নাচালো পত্রিকার মেনশেভিক সদস্যদের চিঠিতে লেখেন, “এখন সুযোগ বুর্জোয়া শ্রেণীর, এবং প্রলেতারীয়েত ইতিহাসকে নিজের হাতে নিয়ে তা পাল্টাতে পারে না”।১৪

রুশ বিপ্লবে শ্রমিক শ্রেণী ও “বুর্জোয়া গণতন্ত্র” :  কাউটস্কি, লুক্সেমবুর্গ ও অন্যরা

১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের নেতৃত্ব দেয় বলশেভিক দল, এবং তার প্রধান নেতা ও তাত্ত্বিক ছিলেন লেনিন। এর ফলে ইতিহাসবিদ এবং রাষ্ট্রচিন্তার তাত্ত্বিকরা ১৯০৫-এর বিপ্লবের ক্ষেত্রেও লেনিনের প্রভাবকে বড় করে দেখেছেন। কিন্তু আমরা যদি ১৯০৩ থেকে ১৯০৭-৮ পর্যন্ত রুশ বিপ্লবের চরিত্র ও শ্রমিক শ্রেণীর কর্তব্য নিয়ে আলোচনা দেখি, তাহলে বুঝব, এই সময়ে সমাজতন্ত্রী শিবির দুভাগে বিভক্ত ছিল, এবং বামপন্থীদের প্রধান তাত্ত্বিক ছিলেন কাউটস্কি। পার্ভুস, লুক্সেমবুর্গ, লেনিন, ট্রটস্কী সকলেই তাঁর লেখা থেকে নিজেদের চিন্তার রশদ সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯২২ সালে ট্রটস্কী তাঁর বই ১৯০৫-এর নতুন মুখবন্ধে লেখেন, ঐ যুগে (১৯০৫-এ) কাউটস্কি পোলিশ সমাজতন্ত্রী লিউসনিয়ার উত্তরে প্রবন্ধ, রুশ ও মার্কিণ শ্রমিক শ্রেণী সম্পর্কে তাঁর গবেষণা, প্লেখানভের প্রশ্নের উত্তরে রুশ বিপ্লব সম্পর্কে প্রবন্ধ, এগুলিতে মেনশেভিকদের নির্মমভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন১৫ ১৯০২ সালে ইস্ক্রাতে তাঁর একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় (‘স্লাভরা ও বিপ্লব’), এবং ১৯০৩ সালে কমিউনিস্ট ইস্তাহারের নতুন একটি পোলিশ সংস্করণে তিনি মার্ক্স-এঙ্গেলসের ১৮৫০ সালে লেখা ‘কমিউনিস্ট লীগের প্রতি কেন্দ্রীয় কমিটির চিঠি’-র উল্লেখ করেন ও বলেন এমন এক বুর্জোয়া বিপ্লবের কথা, যা নিরন্তর হয়ে ওঠে, নিজের সীমা ছাড়িয়ে প্রলেতারীয় বিপ্লবে রূপান্তরিত হয়। ১৯০৫-এর ডিসেম্বরে তিনি “পুরোনো ও নতুন বিপ্লব” শীর্ষক প্রবন্ধে বলেন, “রুশ বিপ্লব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এক ইউরোপীয় বিপ্লবের যুগের সূচনার, যা সমাপ্ত হবে ডিক্টেটরশিপ অভ দ্য প্রলেতারীয়েতের মাধ্যমে, এবং যা সমাজতান্ত্রিক সমাজ গড়ার পথ সুগম করে দেবে”।১৬ আর, ১৯০৬-এর নভেম্বরে, প্লেখানভ রুশ বিপ্লবের চরিত্র এবং রুশ সমাজতন্ত্রীদের কর্তব্য সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে একটি চিঠি পাঠালে কাউটস্কি লেখেন “রুশ বিপ্লবের চালিকা শক্তি ও ভবিষ্যত”।১৭ এই প্রবন্ধে কাউটস্কি অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ আলোচনা করেন। প্রবন্ধটির চারটি স্বতন্ত্র রুশ অনুবাদ প্রকাশিত হয়। একটিতে মুখবন্ধ লেখেন লেনিন, আরেকটিতে ট্রটস্কী। ট্রটস্কী লেখেন, সামাজিক সম্পর্ক বিশ্লেষণে আবশ্যক দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের প্রয়োগ। সেটা করলে দেখা যায়, যে যুগ এসেছে, তাতে কোনো স্বাধীন ও বিপ্লবী বুর্জোয়া-গণতান্ত্রিক আন্দোলন নেই, এবং তার কারণ হল, স্বাধীন, শক্তিশালী ও প্রগতিশীল পেটি বুর্জোয়া শ্রেণী বিলুপ্ত। লেনিনের মুখবন্ধে লেনিন লেখেন, প্লেখানভের প্রশ্নগুলির উদ্দেশ্য, বুর্জোয়া ক্যাডেট দলের সঙ্গে শ্রমিক শ্রেণিকে জোট গঠনের দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়া, আর কাউটস্কি প্লেখানভের জবাবে বলেছেন, প্রশ্নটাই ঠিক না।

লেনিন ও ট্রটস্কীর মধ্যে মতভেদ থাকলেও, দুজনেই দাবী করেন, কাউটস্কি তাঁর পক্ষে। এখানে প্রথমত প্রতিষ্ঠিত হয়, কাউটস্কি সেই সময়ে সংস্কারবাদ-সুবিধাবাদ-নরমপন্থার বিপরীত দিকে ছিলেন। তাঁর প্রথম আলোচ্য বিষয় ছিল কৃষি সমস্যার প্রশ্ন। কাউটস্কি দেখান, উদারনৈতিক রাজনীতি তার শ্রেণীগত অবস্থানের ফলে আমূল বিপ্লবী রূপান্তরের বিরোধীকিন্তু কৃষকের হাতে জমি বাড়া জরুরী, যেমন জরুরী উন্নততর কৃষি ব্যবস্থা, সম্পদ, ও প্রশিক্ষণ। জারতন্ত্র কৃষকদের এ সব দেবে না। উদারনৈতিক রাজনীতিও তা পারবে না, কারণ উদারনীতির প্রবক্তারা ক্ষতিপূরণ দিয়ে জমিদারী নিতে চাইছে। সেই ক্ষতিপূরণের বোঝা তো আবার কৃষকদের উপরেই পড়বে। তাই দরকার সমস্ত বড় জমিদারী বাজেয়াপ্ত করা। তার পূর্বশর্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রূপান্তর। তিনি বলেন, সেনা বাহিনীকে ভেঙ্গে দেওয়া, রাজবংশের ও মঠদের জমি বাজেয়াপ্ত করা, রেলপথ, খনিজ তেল, কয়লা খনি, লৌহ-ইস্পাত শিল্প প্রভৃতি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব করা ছাড়া, রুশ কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ সম্ভব নয়। এই কাজ উদারনৈতিক রাজনীতির পক্ষে সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, কাউটস্কি বলেন, বুর্জোয়া গণতন্ত্রের গণভিত্তি হল একটি প্রগতিশীল পেটিবুর্জোয়া শ্রেণী। রুশ পেটি বুর্জোয়ারা ভুগছে অস্থিতিশীলতায়, প্রগতি ও প্রতিক্রিয়ার মাঝে।   

এই পরিপ্রেক্ষিতে কাউটস্কি বলেন, রাশিয়াতে শ্রমিক শ্রেণী রাজনৈতিকভাবে বুর্জোয়া শ্রেণীর অধীনস্থ নয়। বুর্জোয়া শ্রেণী জারতন্ত্রকে যতটা ঘৃণা করে তার চেয়ে বেশী ঘৃণা করে ও ভয় পায় বিপ্লবকে। তাই তারা রুশ বিপ্লবের চালিকা শক্তি নয়। শ্রমিক শ্রেণী একা রুশ বিপ্লবকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না। কিন্তু কৃষকের সঙ্গে স্বার্থের মেলবন্ধন থাকলে বিজয় সম্ভব। এতে নতুন দ্বন্দ্ব থাকবে, কারণ কৃষিবিপ্লব শক্তিশালী ব্যক্তি মালিকানার প্রবক্তা এক কৃষকের স্তর তৈরী করলে তাঁদের সঙ্গে শ্রমিকদের দ্বন্দ্ব হবে। তিনি শেষ করেন এই কথা বলেঃ “রুশ বিপ্লব আমাদের জন্য যে কর্তব্য সাজায় সেগুলিকে দেখা উচিৎ পরম্পরাগত অর্থে বুর্জোয়া বিপ্লব হিসেবে না, আবার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব হিসেবেও না, বরং একটি অনন্য প্রক্রিয়া হিসেবে, যা ঘটছে বুর্জোয়া ও সমাজতান্ত্রিক সমাজের সীমানাতে”১৮ 

কাউটস্কি ঐ সময়ে ছিলেন রোসা লুক্সেমবুর্গের ঘনিষ্ঠ, অর্থাৎ বামপন্থী। তিনি মেনশেভিক রণনীতিকে স্পষ্টভাষায় প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু লেনিন ও ট্রটস্কীর মতভেদ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেন নি। আমরা এর তিনটি কারণ বলতে পারি। প্রথমত, কাউটস্কি নিজেই লিখেছিলেন, বিদেশী হিসেবে, তিনি রুশ কমরেডদের পরামর্শ দিতে অক্ষম। তিনি দূর থেকে নির্দেশ নয়, সাবধানে নিজের মত প্রকাশ করেছিলেন। দ্বিতীয়ত, কাউটস্কি রুশ ভাষা জানতেন না, আর তখনও ট্রটস্কীর বক্তব্য প্রধানত রুশ ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল। তৃতীয়ত, (এবং এটা নিছক অনুমান) তিনি হয়তো বামপন্থী শিবিরের মতভেদ নিয়ে বেশী কথা বলতে চান নি। কাউটস্কির রাজনৈতিক জীবন দেখায়, কাউটস্কি অনেক সময়েই চাপ না থাকলে সূক্ষ্ম বিতর্কে যেতে চাইতেন না। আর, এর সঙ্গে জড়িত ছিল একটি মৌলিক বিষয়ে মার্ক্স-এঙ্গেলসের সঙ্গে তাঁর মতভেদ। রাষ্ট্র সম্পর্কে ১৮৯১-এর নতুন (এরফুর্ট) কর্মসূচীকেও এঙ্গেলস সমালোচনা করেছিলেন। সেই সমালোচনা বুঝতে না পারার ফলে ক্রমে কাউটস্কির মত সংশোধনবাদের দিকে যেতে থাকে।  ১৯১২ সালে তিনি লেখেন, “আমাদের রাজনৈতিক সংগ্রামের উদ্দেশ্য এতদিন যা ছিল আজও তাই আছেঃ পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা জয়ের মাধ্যমে এবং রাষ্ট্রে পার্লামেন্টকে নির্দেশক অবস্থানে ওঠাবার মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা”১৯

এই কারণেই হয়ত, কাউটস্কি রাশিয়া সম্পর্কে বামপন্থী বক্তব্য রাখলেও, এবং ১৯০৫-৬তে সে বক্তব্য মেনশেভিকদের বিরুদ্ধে গেলেও, পরবর্তী কালে তিনি এই বিতর্ক থেকে সরে গিয়েছিলেন। এর বিপরীতে দেখা যায় রোসা লুক্সেমবুর্গের মত। তিনি ১৯০৫-৬তেও মেনশেভিকদের বিরোধী ছিলেন, এবং সব সমালোচনার পরও, ১৯১৭-১৮তে তিনি বলশেভিকদেরই সমর্থন করেছিলেন। ১৯০৭ সালে রুশ পার্টির পঞ্চম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয় লন্ডনে, ৩০ এপ্রিল থেকে ১৯ মে। কংগ্রেসে ছিলেন ৩৩৬ জন প্রতিনিধি – ১০৫ জন বলশেভিক, ৯৭ জন মেনশেভিক, ৫৭ জন (ইহুদী শ্রমিক সংগঠন) বুন্ড প্রতিনিধি, ৪৪ জন পোলিশ সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট, ২৯ জন ল্যাটভিয়ার সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট, ও চার জন কোনো উপদলের সদস্য না। এই কংগ্রেসে রোসা লুক্সেমবুর্গ একটি দীর্ঘ ভাষণ দেন। শ্রমিক শ্রেণীর সঙ্গে অন্য শ্রেণীদের সম্পর্কের প্রশ্নে ট্রটস্কী ঐ ভাষণের সঙ্গে সংহতি জানান। কী বলেছিলেন লুক্সেমবুর্গ? তিনি প্লেখানভের প্রস্তাবিত বুর্জোয়া শ্রেণীর সঙ্গে সমঝোতার নীতিকে তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, প্লেখানভ মুখে দ্বান্দ্বিক পদ্ধতির কথা বললেও কাজে গোঁড়ামির বাইরে যাচ্ছেন না। রুশ বিপ্লবে উদারপন্থার কোনো নেতৃত্ব দেওয়ার আকাংখ্যা নেই। শ্রমিক শ্রেণী একটি স্বাধীন শক্তি, তাঁরা নিজেদের শ্রেণী স্বার্থে চলেন, এ কথা বুঝেই উদারনীতির প্রবক্তারা পিছু হঠছে। এই পর্যন্ত তিনি, লেনিন ও ট্রটস্কী একমত ছিলেন। কিন্তু লেনিনের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য তিনি খোলাখুলি বলেন। তিনি বলেন, প্লেখানভ [বা অন্য বহু মেনশেভিক] কৃষকদের দেখছেন প্রতিক্রিয়াশীল শ্রেণী হিসেবে। সেটা সংকীর্ণ, একপেশে দিশা। এমনকি অবিপ্লবী যুগেও ছোট চাষী এবং ক্ষেতমজুরেরা বিপ্লবী শক্তির দিকে ঝুকতে পারেন। তাই সমগ্র গ্রামীণ জনতাকে অভিন্ন প্রতিক্রিয়াশীল পেটিবুর্জোয়া হিসেবে দেখাটা হল প্রাণহীন তত্ত্ব। আর বিপ্লবের সময়ে পরিস্থিতি আরো পালটায়। রাশিয়াতে কৃষকরা বস্তুগতভাবে বিপ্লবী, কারণ জমির প্রশ্নকে বুর্জোয়া সমাজের মধ্যে সমাধান করা যায় না, তাই এই প্রসঙ্গ তুলে ওই সমাজকে অতিক্রম করার দিক নির্দেশিত হয়।২০ স্পষ্টতই লুক্সেমবুর্গ বলছেন  যে কৃষিবিপ্লব বুর্জোয়া ব্যবস্থার মধ্যে থাকলে গরিব চাষীর সমস্যার সমাধান হবে না। কিন্তুএই সঙ্গে, লেনিনের অবস্থানের কার্যত সমালোচনা করে  তিনি বলেন, “কৃষক আন্দোলন কোনো স্বাধীন ভূমিকা পালন করতে সম্পূর্ণ অপারগ, এবং প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেই যে সব শ্রেণীর বেশী দম আছে, এবং যাদের চেহারা বেশী স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত, কৃষকরা তাঁদের নেতৃত্বে যেতে বাধ্য হয়। ... এ কথা স্পষ্ট যে আজকের রাশিয়ার বিশৃঙ্খল কৃষক আন্দোলনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেওয়া, ও তাঁর উপর প্রভাব বিস্তার করা, হল সচেতন প্রলেতারিয়েতের স্বাভাবিক ঐতিহাসিক দায়িত্ব”।২১

অর্থাৎ কৃষকদের কোনো স্বাধীন, সচেতন রাজনৈতিক দল থাকবে, এবং তারা বিপ্লবে শ্রমিক শ্রেণীর দলের সঙ্গে সমতা রেখে লড়াই করবে, এবং তার ভিত্তিতে গড়ে উঠবে শ্রমিক ও কৃষকের বিপ্লবী গণতান্ত্রিক ডিক্টেটরশিপ, লুক্সেমবুর্গ এই বক্তব্যের সমালোচনা করছিলেন। পার্টি কংগ্রেসে পোলিশ কমরেডদের প্রস্তাবকে বলশেভিকরা এবং ট্রটস্কী ও তাঁর সমর্থকরা গ্রহণ করেন, যাতে বলা হয়, চূড়ান্ত লক্ষ্য হবে  “ কৃষক সমর্থনের উপর দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিক শ্রেণীর ডিক্টেটরশিপ”[1]

পার্ভুস, ট্রটস্কী ও নিরন্তর বিপ্লবঃ ১৯০৪-১৯০৭

এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপট মাথায় রাখলে বোঝা যায়, ১৯০৫ সালে ট্রটস্কী প্রস্তাবিত নিরন্তর বিপ্লবের রণনীতিতে নতুনত্ব থাকলেও, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের বামপন্থী অংশের চিন্তা থেকে তা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল না। বস্তুত, ট্রটস্কী নিজে এমন দাবী করেন নি। তিনি বিভিন্ন সময়ে কাউটস্কি, লুক্সেমবুর্গের সঙ্গে তাঁর মতের মিল এবং বিশেষ করে পার্ভুসের প্রতি তাঁর ঋণের কথা বলেছিলেন। কিন্তু তাঁর বক্তব্যে বৈশিষ্ট্যও ছিল। 

১৯০৩-এর পার্টি কংগ্রেসে যখন বলশেভিক ও মেনশেভিক দুটি উপদল তৈরী হয়, ট্রটস্কী তখন ছিলেন মেনশেভিকদের পক্ষে। এর কারণ রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত, বা বলা যায় রাজনৈতিক চেতনার অভাব, যা বিপ্লবী দল গঠন প্রসঙ্গে আলোচিত হবেকিন্তু ঐ কংগ্রেসের প্রথমার্ধে তিনি কর্মসূচীগত বিভিন্ন প্রশ্নে লেনিনের এমন কঠোর সমর্থক ছিলেন যে বিরোধীরা তাঁকে বলতেন লেনিনের মুগুরফলে রাজনৈতিক প্রশ্নে অল্পদিনের মধ্যেই মেনশেভিকদের সঙ্গে তাঁর ছাড়াছাড়ি হয়। ১৯০৪ সালে, মেনশেভিক পরিচালিত ইস্ক্রা লেখে, “রাশিয়াতে লড়াইয়ের মঞ্চের দিকে তাকালে আমরা কী দেখতে পাই? কেবল দুটিমাত্র শক্তিঃ জারের স্বৈরতন্ত্র এবং উদারনৈতিক বুর্জোয়া শ্রেণী, যে দ্বিতীয় শক্তিটি সংগঠিত, এবং প্রভূত নির্দিষ্ট ভর সম্পন্ন। শ্রমজীবি জনতা বিভক্ত, এবং কিছুই করতে পারেনা। একটি স্বাধীন শক্তি হিসেবে আমাদের কোনো অস্তিত্ব নেই, তাই আমাদের কাজ হল দ্বিতীয় শক্তিকে – উদারনৈতিক বুর্জোয়া শ্রেণীকে – সমর্থন করা। আমাদের তাঁদের উৎসাহ দিতে হবে, এবং কোনো অবস্থাতেই শ্রমিক শ্রেণীর স্বাধীন দাবী তুলে তাদের ভয় দেখালে চলবে না”।২২

এই সময় থেকে ট্রটস্কী মেনশেভিক উপদল ছেড়ে দেন। তাঁর উপর তখন প্রভাব পড়েছিল কাউটস্কি ছাড়া, পার্ভুসের। আলেক্সান্দর ইস্রায়েল হেলফ্যান্ড নামের এই রুশদেশে জন্ম বিপ্লবী বহুদিন জার্মানীতে বাস করছিলেন পার্ভুস ছদ্মনাম নিয়ে, এবং বার্নস্টাইনের সংশোধনবাদের তীব্র সমালোচক হিসেবে নাম (বা দুর্নাম) করেছিলেন। পার্ভুস ট্রটস্কীকে দুভাবে প্রভাবিত করেছিলেন। প্রথমত, তিনি বিশ্ব ধনতন্ত্রকে এক দ্বান্দ্বিক ঐক্যের আদলে যেভাবে বোঝার চেষ্টা করেছিলেন, তা ছিল মার্ক্সের ক্যাপিটাল-এ ধনতন্ত্রের যে ব্যাখ্যা, তা থেকে নতুন যুগের বিশ্ব ধনতন্ত্রের রূপান্তরকে বোঝার অন্যতম প্রচেষ্টা। মার্ক্স ক্যাপিটালে এক একটি দেশের ধনতন্ত্রের বিকাশকে স্বতন্ত্রভাবে দেখেছিলেন, এবং শিল্পপুঁজিকে ধনতন্ত্রের সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে দেখিয়েছিলেন। পার্ভুস দেখাতে চাইলেন, অর্থনৈতিক বিকাশের ফলে পুঁজি আন্তর্জাতিক আকার ধারণ করেছে, ফলে উৎপাদনের উপাদানের উপর ব্যক্তি মালিকানা এবং জাতিরাষ্ট্র, দুটিই অর্থনীতির উন্নয়নের পথে বেড়ি হয়ে পড়েছিল। ধনতন্ত্রের মধ্যে এর কোন সমাধান নেই। ধনতন্ত্র নিজেকে জাতিরাষ্ট্রে আবদ্ধ রাখতে ব্যর্থ। কাঁচা মাল, আন্তর্জাতিক বাজার, পুঁজি বিনিয়োগের নিরাপদ ক্ষেত্র, এগুলির জন্য প্রতিযোগিতার ফলে উন্নত ধনতান্ত্রিক দেশগুলি সাম্রাজ্য বিস্তার ও বিশ্বযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে। তিনি আরো লেখেন যে আন্তঃ-সাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়তে রাশিয়া বাধ্য হবে,  কিন্তু তা হলে জারতন্ত্রী ব্যবস্থার দুর্বলতাও ধরা পড়বে। রাশিয়াতে বিপ্লব হলে গোটা ধনতান্ত্রিক দুনিয়া প্রভাবিত হবে, এবং রুশ শ্রমিক শ্রেণী আন্তর্জাতিক সামাজিক বিপ্লবের অগ্রণীর ভূমিকা নিতে পারবে।২৩

দ্বিতীয়ত, পার্ভুস, লুক্সেমবুর্গের মতই বার্নস্টাইনের সংশোধনবাদের বিরোধী ছিলেন, আর লুক্সেমবুর্গের আগেই অনুভব করেন যে ট্রেড ইউনিয়নের অর্থনৈতিক লড়াই আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ, এই দুয়ের বাইরেও তৃতীয় একটা কোনো পথের দরকার আছে। ১৮৯৫-৯৬তেই তিনি নয়ে জাইট পত্রিকায় কয়েকটি প্রবন্ধ লেখেন, যাতে রাজনৈতিক দাবীতে সাধারণ ধর্মঘটের গুরুত্ব আলোচিত হয়। ১৯০৪ সালে তিনি বলেন, শ্রমিক শ্রেণীর আক্রমণের পর্বে সাধারণ ধর্মঘট হল একটি মৌলিক হাতিয়ার।

পার্ভুসের ট্রটস্কীর উপরে প্রভাব বুঝতে অসুবিধা হয় না। ১৯০৪-এর ডিসেম্বরে ট্রটস্কী একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ লেখেন। ১৯০৫-এর ২২শে জ্যানুয়ারী (রুশ ক্যালেন্ডারের ৯ই জ্যানুয়ারী) রাশিয়ার রাজধানী সেন্ট পিটার্সবুর্গে শান্তিপূর্ণ শ্রমিক মিছিলের উপর নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটে। এই খবর পেয়ে অল্প সময়ের মধ্যে ট্রটস্কী ফিরে গেলেন রাশিয়াতে। প্রবন্ধের পান্ডুলিপি পার্ভুস জার্মানী থেকে প্রকাশ করেন দো ৯ ইয়ানভারা (‘৯ই জ্যানুয়ারী পর্যন্ত’) শিরোনাম দিয়ে, এবং সঙ্গে একটি মুখবন্ধ লিখে।২৪ মেনশেভিক রাজনীতির বিপরীতে, এতে বলা হয়, উদারনৈতিক রাজনীতি ভীরুতার রাজনীতি, যা মুক্তকন্ঠে সংবিধান, সার্বজনীন ভোটাধিকার, এবং সাধারণতন্ত্রের দাবী (“বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক” দাবী) তুলতে পারছে না। এর বিপরীতে তিনি দেখান শ্রমিক শ্রেণীর বিপ্লবী চরিত্র। তিনি বলেন, শহরাঞ্চলের শিল্প শ্রমিকরা হবেন অগ্রণী বিপ্লবী শক্তি। তাই লড়াইয়ের পদ্ধতিতে থাকবে মিছিল, এবং রাজনৈতিক ধর্মঘট। কিন্তু, ট্রটস্কী সাবধান করে দেন, একা শ্রমিকরা লড়াই জিতবেন না। তাই সাধারণ ধর্মঘটের পাশে কৃষকদের জমায়েত করতে হবে, সংবিধান সভার দাবী তুলে। এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রচার তীব্র করতে হবে, যাতে সৈনিকদের যখন বিদ্রোহ দমনে পাঠানো হয়, তখন তাঁরা বোঝেন, ঠিক কেন রাষ্ট্র এই কাজ করতে বলছে।

পুস্তিকার ভূমিকায় পার্ভুস লেখেন, বিপ্লবকে সংহত করতে হলে চাই শ্রমিক শ্রেণীর শক্তিতে নির্ভরশীল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক অস্থায়ী সরকার। কিন্তু তিনি স্পষ্টভাষায় লেখেন, “একটি  সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক অস্থায়ী সরকার রাশিয়াকে সমাজতন্ত্রের পথে সরাসরি নিয়ে যেতে পারবে না, কিন্তু স্বৈরতন্ত্র উচ্ছেদ ও গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটা তাঁর রাজনৈতিক কর্তব্যের জন্য সুবিধাজনক জমি তৈরি করে দেবে”।২৫

কাউটস্কি, লুক্সেমবুর্গ বা পার্ভুসের সঙ্গে ট্রটস্কীর প্রভেদ দেখা দিল ১৯০৫ সালে তাঁর রুশ বিপ্লবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। ১৯০৫-এ যত সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক নেতা বিদেশে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ট্রটস্কী প্রথম রাশিয়াতে ফেরেন। বলশেভিক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ক্রঝিঝানভস্কির সঙ্গে তিনি সহযোগিতা করেন, এমনকি বলশেভিকদের আসন্ন কংগ্রেসে ক্রঝিঝানভস্কির খসড়া দলিল লেখাতেও সাহায্য করেন। এরপর, আবার শ্রমিক আন্দোলন তীব্র হলে তিনি চলে যান সেন্ট পিটার্সবুর্গে। অক্টোবর মাসে সাধারণ ধর্মঘটে রাজধানী বন্ধ হয়ে যায়। রেল শ্রমিকরা ধর্মঘটে যোগ দেন, এবং টেলিগ্রাফের তারের পথে ধর্মঘট ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। যে ধর্মঘট শুরু হয়েছিল স্টিটিনের ছাপাখানার শ্রমিকদের অর্থনৈতিক দাবী থেকে, তা এবার আট ঘন্টার শ্রম দিবস, নাগরিক অধিকার, বন্দীমুক্তি, এবং সংবিধান সভার মত রাজনৈতিক দাবীতে সোচ্চার হয়। ১০ই অক্টোবর মস্কো, খার্কভ, রেভাল, ১১ই স্মলেনস্ক, কোজলভ, বিয়েলোগরোদ, সামারা, সারাতভ এবং পোলতাভা, ১৩ই ওর্শা, মিনস্ক, ক্রেমেনচুগ এবং সিমফেরোপল, ১৪ই রস্তভ, টিফলিস ও ইরকুটস্ক শহর, ১৫ই ভিলনা, ওডেসা আর বাটুম, ১৭ই টমস্ক, ভিটেবস্ক এবং ইউয়রিয়েভ শহর পড়ে সাধারণ ধর্মঘটের কবলে। শুধু শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা না, শ্রমিকদের নেতৃত্ব এবং জঙ্গী লড়াই বাণিজ্যিক জীবনেও ধর্মঘটকে ক্রমে সর্বব্যাপী করে তোলে। ১৭ই অক্টোবর, শ্রমিক শ্রেণীর এই তীব্র আন্দোলন সেই কাজ করতে পারল, যা পূর্ববর্তী দুবছরে অজস্র সভা, ভোজসভাতে ভাষণ, পিটিশন ইত্যাদির মাধ্যমে উদারপন্থীরা পারে নি। পিছু হঠল জারতন্ত্র। জার দ্বিতীয় নিকোলাস তাঁর অনিচ্ছা সত্ত্বেও কাউন্ট উইটেকে প্রধানমন্ত্রী করলেন, এবং ১৭ই রাত্রে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হল, নির্বাচনী আইন প্রশস্ত করে দুমা (প্রতিনিধি সভা) নির্বাচিত হবে, সভা-সমিতির অধিকার মানা হবে, ইত্যাদি। 

এই লড়াইয়ের নেতৃত্ব ছিল শ্রমিক শ্রেণীর হাতে, এবং তাঁদের মধ্য থেকে উঠে আসা গণতান্ত্রিক শ্রেণী সংগঠনের হাতে। এই সংগঠনের নাম সোভিয়েত (পরিষদ বা council-এর রুশ প্রতিশব্দ)। ১৩ই অক্টোবর টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে নির্বাচিত শ্রমিক প্রতিনিধিদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থির হয়, প্রতি পাঁচশ’ জনে একজন করে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন, যদিও কার্যক্ষেত্রে কোনো কোনো প্রতিনিধি ১০০-২০০ জন শ্রমিকেরও প্রতিনিধি ছিলেন। যেহেতু শ্রমিকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি, তাই বিপ্লবী দলগুলির (সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট – বলশেভিক, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট – মেনশেভিক, এবং সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারী) অ-শ্রমিক সদস্যরা সরাসরি সোভিয়েতে আসেন কেবল ভোটাধিকার ছাড়া। ১৫ তারিখের মধ্যে সোভিয়েতের প্রভাব এতটা বেড়েছিল, যে ধর্মঘট ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সোভিয়েতের নামে আহবান করা শুরু হল। ৩রা ডিসেম্বর পর্যন্ত সেন্ট পিটার্সবুর্গের শ্রমিক আন্দোলন পরিচালনা করেছিল সোভিয়েত। আর এই সোভিয়েতের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য, এবং প্রথম সভাপ্রধান খ্রুস্তালেভ-নোসার গ্রেপ্তার হওয়ার পর সভাপ্রধান ছিলেন ট্রটস্কী। ফলে বিপ্লবী পরিস্থিতিতে শ্রমিক আন্দোলনকে তিনি যে ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছিলেন, অধিকাংশ মেনশেভিক বা বলশেভিক নেতার সেই অভিজ্ঞতা ছিল না।   

এই অভিজ্ঞতা ট্রটস্কীকে দেখায় সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা তাঁদের কর্মসূচীকে যে দুভাগে বিভক্ত রেখেছিলেন, সেটা বিপ্লবী পরিস্থিতিতে অকেজো হয়ে পড়বে। ন্যূনতম কর্মসূচী বলা হত, প্রস্তাবিত “বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবে” শ্রমিক শ্রেণীর দাবীকে। অন্যদিকে ছিল পূর্ণ, অর্থাৎ সমাজতান্ত্রিক কর্মসূচী। কিন্তু যে দাবী হয়তো শান্ত, অবিপ্লবী পরিবেশে বুর্জোয়া অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটাই বিপ্লবী পরিস্থিতিতে দেখাতে পারে অন্য রকম। ট্রটস্কীর লেখা ১৯০৫-এর বিপ্লবের ইতিহাসে আমরা পড়ি এইরকম এক লড়াইয়ের কথা। সাধারণ ধর্মঘটে যে সব দাবীগুলি অগ্রাধিকার পেয়েছিল, সেগুলি সব রকম বিরোধী স্তরের মানুষের জন্য প্রযোজ্য, যদিও তার মানে শ্রমিকরাও লাভবান হয়েছিলেন। কিন্তু আট ঘন্টার শ্রমদিবসের দাবী ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবী, যেটা ন্যূনতম কর্মসূচীর একটি প্রধান দাবী। ২৬শে অক্টোবর থেকে শ্রমিকদের মধ্যে এই দাবী নিয়ে আলোড়ন হতে থাকে। ২৯শে অক্টোবর সোভিয়েত প্রস্তাব নেয়, সমস্ত ফ্যাক্টরীতে আট ঘন্টা শ্রমদিবস চালু হোক। ৩১শে অক্টোবর থেকে বহু ফ্যাক্টরীতে শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে আটঘন্টার বেশী কাজ করতে অস্বীকার করেন। এর জবাবে মালিকরাও ঐক্যবদ্ধ হয়। প্রথমে  সরকার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ফ্যাক্টরীগুলি বন্ধ করে দেয়তারপর লক আউট বাড়তে থাকে। পুঁজি ও রাষ্ট্রের ঐক্যবদ্ধ জোটের মুখে সেন্ট পিটার্সবুর্গ সোভিয়েত ১২ই নভেম্বরে পিছু হঠতে বাধ্য হয়। তাঁদের প্রস্তাবে বলা হয়, এই মালিক ও রাষ্ট্র ঐক্য দেখাচ্ছে, আট ঘন্টা শ্রম দিবস শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, রাজনৈতিক সমস্যাও। বিপ্লবের রাজনৈতিক বিজয় ছাড়া আটঘন্টার শ্রমদিবস চালু করা যাবে না। ট্রটস্কী ব্যাখ্যা করেন, শুধু সাধারণ ধর্মঘট, শুধু আটঘন্টার দাবী নয়, এমন কি সোভিয়েত থাকাও যথেষ্ট নয়, চাই শ্রমিক শ্রেণীর হাতে অস্ত্র, চাই সশস্ত্র অভ্যুত্থান।২৬  

এই অভিজ্ঞতা থেকে, ৩ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হওয়ার পর, ট্রটস্কী একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ লেখেন। ১৯০৫-এ লেখা তাঁর বেশ কিছু প্রবন্ধের সঙ্গে শেষ অধ্যায় হিসেবে এটি যুক্ত হয়। ‘আমাদের বিপ্লব’ শীর্ষক বইয়ের এই শেষ দীর্ঘ প্রবন্ধ ছিল ইতোগি ই পার্স্পেক্টিভি বা ফলাফল ও ভবিষ্যতের দিশা২৭  

ট্রটস্কীর রণনীতির ভিত্তি ছিল একদিকে শ্রেণী সংগ্রামের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁর সচেতনতা ও মেনশেভিকদের প্রতি ঠিক তা নিয়ে তাঁর সমালোচনা। তিনি হেগেলের ‘টোট্যালিটি’-র বর্গটি অবলম্বন করেন, এবং এই কারণে ধনতন্ত্র ও শ্রেণী সংগ্রামকে বিশ্বজোড়া প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেন। তাই তিনি ব্যাখ্যা করেন, আগে যে সব দেশে পুঁজিবাদের বিকাশ হয়েছে, অনুন্নত রাশিয়াতে তাদের মত “স্বাভাবিক” বিকাশ ঘটবে না।  অ-রুশ, বিকশিত পুঁজি যেভাবে বিশ্ব বাজার দখল করেছে, তার ফলে রাশিয়াতে বিদেশী পুঁজির চাপ প্রচুর পরিমাণে পড়েছে, অগ্রসর ধনতন্ত্রের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রাশিয়ার আমূল আধুনিকীকরণ ও শিল্পায়ণকে বাধা দেবে।  এর ফলে, তিনি প্রস্তাব করলেন, যে রুশ ধনিক শ্রেণী বিপ্লবী বুর্জোয়ার ভূমিকা নিতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, তিনি মেনশেভিকদের বিপ্লব সম্প্ররকিত ধারণাকে সরাসরি অ-দ্বান্দ্বিক বলে আক্রমণ করেন। “চেরেভানিন তাঁর রণকৌশল নির্মাণ করেছেন স্পিনোজা যেভাবে তাঁর নীতিশাস্ত্রকে করেছিলেন, অর্থাৎ জ্যামিতিকভাবে”। ২৮  

ট্রটস্কীর চিন্তার আরেকটা উল্লেখযোগ্য দিক হল অর্থনীতিবাদ বর্জন। প্লেখানভ-ধাঁচের মার্ক্সবাদ থেকে ভেঙ্গে বেরোতে না পারলে ট্রটস্কীর পক্ষে নিরন্তর বিপ্লবের রণনীতি প্রস্তাব করা সম্ভব হত না। প্লেখানভদের বক্তব্য ছিল, প্রথমে বুর্জোয়া শ্রেণী ক্ষমতায় আসবে, তারপরে অর্থনীতিতে রূপান্তর হবে, তবে শ্রমিক শ্রেণীর ক্ষমতার প্রশ্ন উঠবে। ট্রটস্কী সবরকম সামাজিক, রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত দ্বন্দ্বকে “অর্থনৈতিক ভিত্তির” মাধ্যমে সমাধান করার এই প্রয়াসকে সমালোচনা করে বলেন, “শ্রমিক শ্রেণীর ডিক্টেটরশিপ যান্ত্রিকভাবে একটি দেশের প্রযুক্তিগত বিকাশ ও সম্পদের উপর নির্ভরশীল বলে কল্পনা করা হল “অর্থনৈতিক” বস্তুবাদের হাস্যকর সরলীকরণ। এই দৃষ্টিভঙ্গীর সঙ্গে মার্ক্সবাদের কোনো সাদৃশ্য নেই”। ২৯

সবশেষে, ট্রটস্কীর পদ্ধতি ছিল দৃঢ়ভাবে ইতিহাসাশ্রয়ী। রাশিয়ার সমাজবিন্যাসের ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্যকে আলোচনা করে তবেই তিনি তাঁর রণনীতি প্রস্তাব করেছিলেন। একই সঙ্গে, তা ছিল ঐতিহাসিক বিকাশকে ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে চলা প্রক্রিয়া হিসেবে দেখার প্রবণতা। এটা জরুরী ছিল। রুশ মার্ক্সবাদের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল কৃষক সমাজ ভিত্তিক সমাজতন্ত্র গড়ার নারোদনিক রাজনীতির সঙ্গে লড়াই করে। প্লেখানভদের কাছে সেটা ছিল জরুরী লড়াই।  কিন্তু সেই কাজ করতে গিয়ে তাঁরা জোর দিয়েছিলেন কেবল সারা পৃথিবীর প্রলেতারীয় শ্রেণী সংগ্রামের মিলের উপরে। রাশিয়ার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কোনো কথাকে তাঁরা গুরুত্ব দিতে চাইতেন না। ট্রটস্কীর রাজনীতি শুরু হয়েছিল নারোদনিক হিসেবে। নারোদনিক চিন্তাতে কল্পনার (কৃষকদের সঙ্ঘবদ্ধ জীবন – মীর বা ওবশ্চিনা – হবে ভবিষ্যত সমাজতন্ত্রের ভিত্তি ) সঙ্গে যেটুকু বাস্তব (রুশ কৃষকরা শুধু সামন্ততন্ত্র নয়, ধনতন্ত্রের দ্বারাও শোষিত, তাই তাঁরা ধনতন্ত্র বিরোধী লড়াইতেও অংশ নিতে পারেন) মিশে ছিল, ট্রটস্কী এটা গ্রহণ করতে অনেক বেশী প্রস্তত ছিলেন। তাই তিনি প্লেখানভের মতো, প্রতি ধাপে রাশিয়ার ভবিষ্যতকে পশ্চিম ইউরোপের অতীত ইতিহাসের সঙ্গে মেলাতে রাজি ছিলেন না। অনেক পরে, রুশ বিপ্লবের ইতিহাস রচনা করতে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন, নারোদনিকদের নানা মোহ থাকলেও, তাঁদের চিন্তা রুশ সমাজ বিকাশের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের উপর দাঁড়িয়ে আছে, যদিও নারোদনিকরা সেটা বুঝেছিলেন একপেশে ভাবে। প্লেখানভরা এর উল্টোদিকে, সাধারণ যেটা, তার উপর জোর দিতে গিয়ে অবহেলা করেছিলেন যেটা বিশেষ, তাকে। ৩০    

পদ্ধতিগত অগ্রগতির ফলে ট্রটস্কী মেনশেভিক চিন্তা থেকে ভেঙ্গে রুশ সমাজ, ও তাতে শ্রমিক শ্রেণীর ভূমিকাকে অন্যভাবে দেখেছিলেন। তিনি বলেন, রাশিয়াতে শহরাঞ্চলে শ্রমিক শ্রেণী ছাড়া অন্য কোনো বড় বিপ্লবী শ্রেণী নেই। রুশ শিল্পায়ণের যে চরিত্র, তার ফলে শহুরে পেটি বুর্জোয়া কারিগর, যারা ছিলেন ফরাসী বিপ্লবে সাঁ কুলোতদের বড় অংশ, তাঁরা রাশিয়াতে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিলেন। তাই রুশ বিপ্লবে বৈপ্লবিক পরিসমাপ্তির জন্য শ্রমিক শ্রেণীর কোনো বিকল্প ছিল না। ট্রটস্কী কোনো রকম “তাৎক্ষণিক সমাজতন্ত্রের” প্রবক্তা ছিলেন না। কিন্তু তিনি শ্রেণী সংগ্রামের অভিজ্ঞতা থেকে যে মৌলিক কথাটা তুলে ধরেন, তাকে দুভাগে ভাগ করে ব্যাখ্যা করা যায়। প্রথমত, বুর্জোয়া শ্রেণী প্রতিক্রিয়াশীল, আর কৃষকরা নিজেদের কেন্দ্রীয়ভাবে সংগঠিত করতে পারে না। তাই বিপ্লবের শীর্ষে যে বিপ্লবী বিকল্প সরকার থাকবে, তাতে প্রধান ভূমিকা নেবে শ্রমিক শ্রেণী ও তার দল। কিন্তু তার ফলে এক নতুন দ্বন্দ্ব অনিবার্যভাবে তৈরী হবে। বিপ্লবী দল ও বিপ্লবী সরকার দেখবে, ন্যূনতম কর্মসূচী চালু করতে গেলে বুর্জোয়া শ্রেণীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাধবে। তিনি দুটো নির্দিষ্ট উদাহরণ দেন। যদি বিপ্লবী সরকার শ্রমিক শ্রেণীর প্রাধান্যের ফলে আট ঘন্টার শ্রমদিবস চালু করে, তাহলে বুর্জোয়া শ্রেণী প্রতিরোধ করবে। তখন কি হবে? পার্টির নেতারা সরকার থেকে পদত্যাগ করবেন? এটা কেবল কয়েকজন মন্ত্রীর ভূমিকা হতে পারে। কিন্তু গোটা শ্রেণী কি করবে? তারা কি মালিকের প্রতিরোধের সামনে মাথা নোয়াবে? তাহলে তো ক্ষমতা দখলের দরকারই ছিল না।

একইভাবে, বেকার সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে শ্রমিক শ্রেণীর উৎসাহ থাকবে। কিন্তু বুর্জোয়া শ্রেণী তো নির্ভর করে শ্রমের উদ্বৃত্ত বাহিনীর উপর। বেকারদের সমস্যা সমাধান করার অর্থ বুর্জোয়াদের ঐ অর্থনৈতিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া। তার উপর, সরকার যদি শ্রমিক শ্রেণীর উপর নির্ভরশীল সরকার হয়, তাহলে ধর্মঘটের সময়ে সরকার ধর্মঘটরত শ্রমিকদের আর্থিক সাহায্য করতে পারে। সেক্ষেত্রে মালিকরা জবাব দেবে লক আউট—ক্লোজারের মাধ্যমে। তখন প্রশ্ন উঠবে, সরকার কি তাহলে বন্ধ কল-কারখানা অধিগ্রহণ করবে?

“এই সব খুব স্পষ্ট করে দেখায় যে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা একটি বিপ্লবী সরকারে ঢুকতে পারেন না, যেখানে তাঁরা আগাম শ্রমিক শ্রেণীকে প্রতিশ্রুতি দেবেন যে তাঁরা ন্যূনতম কর্মসূচীতে জমি ছাড়বেন না, আর বুর্জোয়া শ্রেণীকে প্রতিশ্রুতি দেবেন যে তাঁরা তার বাইরে যাবেন না। এরকম দ্বৈত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হওয়া অসম্ভব”। ৩১  

অর্থাৎ ঃ

(১) বুর্জোয়া শ্রেণী প্রতিবিপ্লবী;

(২) শহরে কোনো বিপ্লবী পেটিবুর্জোয়া শ্রেণী নেই;

(৩) তাই বিপ্লবের জয়ের জন্য চাই শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে বিপ্লবী বিকল্প সরকার গড়ে তোলা;

(৪) সেক্ষেত্রে ন্যূনতম কর্মসুচির মধ্যে আটকে থাকা যাবে না;

(৫) শুরু হবে কৃষক সমর্থন পুষ্ট শ্রমিক শ্রেণীর ডিক্টেটরশিপ।

লেনিন ও ট্রটস্কীঃ

এর পর যে প্রশ্ন আমাদের সামনে আসে, তা হল, সেক্ষেত্রে লেনিন আর ট্রটস্কীর মতভেদ কোথায়, কতটা ছিল? আমরা এই প্রবন্ধে তার সংক্ষিপ্ত আলোচনাই করতে পারব।৩০ কিন্তু কিছুটা আলোচনা আবশ্যক, কারণ তা না হলে, “পুরোনো বলশেভিকবাদ” বনাম এপ্রিল থিসিস বিতর্ক কেন হয়েছিল, কেনই বা ১৯১৭তে লেনিন ও ট্রটস্কীর মধ্যে দ্রুত মতৈক্য হয়েছিল, তা বোঝা যায় না।

লেনিনের রুশ বিপ্লব সম্পর্কিত দিশা নির্মিত হয়েছিল কয়েকটি ধাপে – তাঁর দর্শন চিন্তা , অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, তার ভিত্তিতে শ্রেণী সংগ্রাম সম্পর্কে তাঁর বিশ্লেষণ, এবং তা থেকে বুর্জোয়া-গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পর্কে তাঁর অবস্থান। লেনিনের প্রাথমিক দ্বন্দ্বতত্ত্ব সম্পর্কিত ব্যাখ্যা এবং মার্ক্সের ক্যাপিটালের ভিত্তিতে ও রাশিয়া সম্পর্কে বিপুল তথ্য সংগ্রহ করে তাঁর অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ থেকে তিনি দাবী করেন, ইতিমধ্যেই রাশিয়াতে ধনতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা প্রাধান্য বিস্তার করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে, তিনি উল্লেখ করেন যে রাশিয়াতে ধনতন্ত্রের বিকাশ ও পুঁজি সঞ্চয় প্রক্রিয়া ছিল অপেক্ষাকৃত প্রাথমিক স্তরের। মার্ক্স ক্যাপিটাল-এ ধনতন্ত্রের বিকাশের যে বিভিন্ন স্তরের উল্লেখ করেছিলেন, তার অনুসরণে লেনিন বলেন, উন্নত শিল্পভিত্তিক ধনতন্ত্রের স্ব-বিরোধগুলি ধনতান্ত্রিক বিকাশের গোটা ইতিহাসের মধ্যেই দেখা যায়, কিন্তু সেগুলি স্পষ্ট রূপ পায় ধীরে ধীরে, যে পরিমাণে ধনতন্ত্র তার সর্বোচ্চ স্তরের দিকে এগোয়। মার্ক্সের ক্যাপিটালের ভিত্তিতে লেনিন এই পর্বে শিল্পপুঁজিকে ধনতন্ত্রের সর্বোচ্চ স্তর বলে মনে করেছিলেন। নারোদনিকদের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে তিনি দেখাতে চাইলেন কৃষিক্ষেত্রেও পুঁজির প্রাধান্য গড়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, সামন্ততন্ত্রের উপর ধনতন্ত্রের প্রাধান্য বিস্তার করার শেষ স্তর হল বড়, যন্ত্রভিত্তিক শিল্প উৎপাদনের ব্যাপ্তি। আর, সেই স্তর এলে তবেই ধনতন্ত্র তার নিজের মধ্য থেকে তার বিরোধিতা করার শক্তি তৈরী করে। ৩৩  

লেনিনের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ও তার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক পন্থার সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন নীল হার্ডিং।৩৪ আমাদের সচেতন থাকতে হবে যে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ লেনিনের রাজনৈতিক পন্থা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ । তিনি শ্রমিক শ্রেণীকে অগ্রণি বলেছেন নিছক মার্ক্স বা প্লেখানভ বলেছেন বলে না, বরং তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই শ্রেণীই একমাত্র শ্রেণী যারা শোষণের পূর্ণ চরিত্র উপলব্ধি করতে পারবে, সেই কারণেফ্যাক্টরী উৎপাদন কৃষক সমাজ ও তাঁদের বিচ্ছিন্ন জীবনের থেকে স্বতন্ত্র একটি শ্রেণীকে গড়ে তোলে, যাদের শ্রমের সামাজিকীকরণের ফলে তারা ঐক্যবদ্ধ ক্ষমতার উপর ভর করে, এবং ফ্যাক্টরীতে একাধারে শ্রেণী দ্বন্দ্ব প্রকট হয়, আর জোটবদ্ধ লড়াই সম্ভব হয়।৩৫

সমাজতন্ত্র সম্ভব কেবল উৎপাদিকা শক্তির বিকাশ হলে। এই বাস্তব সত্য, এবং জার্মান মতাদর্শ লেখার যুগ থেকে মার্ক্স-এঙ্গেলসের এই যে অন্যতম কেন্দ্রীয় বক্তব্য, লেনিন তাকে অস্বীকার করেন নি। কিন্তু তিনি তাকে যে সমীকরণের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলেন, তা হল, এই উৎপাদিকা শক্তির বিকাশের জন্য চাই প্রতিটি দেশে স্বতন্ত্র, স্বয়ংসম্পূর্ণ বুর্জোয়া-গণতান্ত্রিক বিপ্লব, যা বুর্জোয়া সমাজ ও অর্থনীতির বিকাশ ঘটাবে।

১৯০৫ সালে ও তারপরে, লেনিনের সঙ্গে এই ক্ষেত্রে ট্রটস্কীর পার্থক্য দেখা যায়। মার্চ-এপ্রিল ১৯০৫-এ লেনিন পার্ভুসের সমালোচনা করে একটি প্রবন্ধে লেখেন যে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার অসম্ভব, “যদি না আমরা আকস্মিক, ক্ষণস্থায়ী ঘটনার কথা বলি, কোনো স্থায়ী, ইতিহাসে নিজের দাগ রেখে যাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন বিপ্লবী ডিক্টেটরশিপের কথা নয়। এটা অসম্ভব, কারণ জনগণের ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনপ্রাপ্ত একটি ডিক্টেটরশিপই একমাত্র টেঁকসই হতে পারবে (চিরন্তন নয় অবশ্যই, কিন্তু আপেক্ষিকভাবে)। কিন্তু রুশ প্রলেতারিয়েত বর্তমানে রাশিয়ার জনসংখ্যায় সংখ্যালঘু। তারা বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে পারে শুধু যদি তারা আধা-প্রলেতারীয়, আধা-মালিক জনতার সঙ্গে, অর্থাৎ শহরের ও গ্রামের দরিদ্র পেটি-বুর্জোয়া জনতার সঙ্গে, জোটবদ্ধ হয়। সম্ভাব্য ও কাম্য বিপ্লবী-গণতান্ত্রিক ডিক্টেটরশিপের সামাজিক ভিত্তির এমন গঠন অবশ্যই বিপ্লবী সরকারের গঠনকে প্রভাবিত করবে, এবং অনিবার্যভাবে তাতে অংশ নেবে, এমনকি প্রাধান্য আবে, বিপ্লবী গণতন্ত্রের মিলিত প্রতিনিধিবর্গ ...। মহান হতে হলে, ১৮৪৮-৫০ নয়, ১৭৮৯-৯৩-র স্মৃতিকে তুলে ধরতে এবং ঐ বছরগুলিকে পেরিয়ে যেতে হলে, ব্যাপক জনতাকে জাগিয়ে তুলতে হবে...।  ঐতিহাসিক বিকাশের বিষয়গত যুক্তি তাঁদের সামনে রাখে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের নয়, গণতান্ত্রিক বিপ্লবের কর্তব্যসমূহ”।৩৬

১৯০৫ সালেই, তৃতীয় (বলশেভিকদের ডাকা) পার্টি কংগ্রেসে তিনি আবার বলেন, বিপ্লবের কর্তব্য হল শ্রমিক ও কৃষকের বিপ্লবী গণতান্ত্রিক ডিক্টেটরশিপ আনা।৩৭ এর পরেও রুশ বিপ্লব সম্পর্কে তিনি একই কথা বলেন। কৃষি কর্মসূচী সম্পর্কে তাঁর বইয়ে তিনি লেখেন, রাশিয়ার সামনে পথ একটাই – বুর্জোয়া বিকাশের পথ। সেই বিকাশ দুটি আঙ্গিকে হতে পারে। সংস্কার অথবা বিপ্লব, দুটোই সম্ভব। বড় জমিদাররা ধীরে ধীরে বুর্জোয়া হয়ে উঠতে পারে, অথবা কৃষকরা বিপ্লব করে সামন্ত মালিকানা উচ্ছেদ করতে পারে। এই দুই পথকে তিনি বলেছিলেন প্রাশিয়ার পথ আর আমেরিকার পথ। এর রাজনৈতিক পরিপূরক হিসেবে তিনি বলেন, বিপ্লবী গণ সংগ্রামের মর্মবস্তু হল, রাশিয়া জমিদার-বুর্জোয়া রাষ্ট্র হবে না কৃষক-বুর্জোয়া রাষ্ট্র হবে।৩৮

উদ্ধৃতি আরো বাড়ানো যায়। মূল কথা হল, লেনিন মনে করেছিলেন, যেহেতু কৃষকেরা পেটি-বুর্জোয়া, তাই তাঁদের সঙ্গে শ্রমিকদের জোট বিপ্লবে নেতৃত্ব দিলে, তলা থেকে, প্রশস্ত গণতান্ত্রিক পথে বুর্জোয়া বিকাশের পথ সুগম হবে, কিন্তু তার চেয়ে বেশী কিছু হবে না। উপরন্তু, তিনি মনে করেছিলেন, এই রকম জোট কোনো বিপ্লবী সরকার গড়লে তাতে শ্রমিক শ্রেণীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকতে পারে না। আগে একটা বুর্জোয়া অর্থনীতি-সম্বলিত সাধারণতন্ত্র কায়েম হবে, সেখানে এক “নতুন প্রজন্মের স্বাধীন ও সাহসী মানুষ নির্মিত হবে”, তবে সমাজতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম বাড়তে থাকবে।৩৯ গণতান্ত্রিক বিপ্লবে সোশ্যাল ডেমোক্রেসীর দুই রণকৌশল গ্রন্থে তিনি এই ধারণাই ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, বুর্জোয়া বিপ্লব শ্রমিক শ্রেণীর কাছে একেবারে আবশ্যক। তিনি শ্রমিক নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সংজ্ঞা স্পষ্ট করে দেনঃ

“সবটা জমি কৃষকদের কাছে হস্তান্তর করা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে চিহ্নিত করবে, এবং বিপ্লবের সামাজিক ভিত্তিকে তার শেষ পরিণতি অবধি নিয়ে যাবে, কিন্তু এটি কোনোক্রমেই একটি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব হবে না ... কৃষক অভ্যুত্থানের সাফল্য, গণতান্ত্রিক বিপ্লবের বিজয়, একটি গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্রের ভিত্তিতে সমাজতন্ত্রের জন্য প্রকৃত ও নির্ণায়ক সংগ্রামের জন্য কেবল জমি তৈরী করবে। সেই সংগ্রামে জমির মালিক শ্রেণী হিসেবে কৃষকেরা সেই একই বিশ্বাসঘাতক, অস্থিতিশীল ভূমিকা পালন করবে, যা এখন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামে করছে বুর্জোয়া শ্রেণী”।৪০

লেনিনের চিন্তায় এই সময়ে একটা দ্বন্দ্ব ছিল, যা সরে যায় ১৯১৫-১৭তে, নতুন করে হেগেল চর্চা, সাম্রাজ্যবাদ ও বিশ্ব অর্থনীতির ঐক্য সম্পর্কে তাঁর নতুন ভাবনা, এবং বুর্জোয়া ও প্রলেতারীয় রাষ্ট্রের প্রভেদ সম্পর্কে তাঁর নতুন চিন্তার ফলে। এর রাজনৈতিক ফল হয় এপ্রিল থিসিস। কিন্তু আপাতত আমাদের দেখতে হবে লেনিন ও ট্রটস্কীর ১৯০৫-এর মতভেদকে। পঞ্চম পার্টি কংগ্রেসে ট্রটস্কী ছিলেন না বলশেভিক, না মেনশেভিক প্রতিনিধি। একটি বিশেষ ধারার প্রতিনিধি হিসেবে তাঁকে বক্তৃতা দিতে দেওয়া হয়, এবং তা ছিল প্রধানত মেনশেভিকদের প্রতি সমালোচনামূলক। ১৯২৪ থেকে, যখন জিনোভিয়েভ ও স্তালিন ট্রটস্কীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করেন, তখন বলা হয়, তিনি ছিলেন কৃষক বিরোধী। উপরন্তু বলা হয়, ১৯০৫ এবং ১৯১৭তে লেনিনের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য ছিল না। দ্বিতীয় প্রসঙ্গটি অন্যত্র আলোচিত হবে। এখানে দেখা দরকার, ট্রটস্কী কতটা কৃষক বিরোধী ছিলেন

ইতোগি ই পার্স্পেক্টিভি-তে ট্রটস্কী প্রথমেই বলেছিলেন, “মার্ক্সবাদ আগাম এই বিপ্লবের সামাজিক চরিত্র অনুমান করেছিল। একে বুর্জোয়া বিপ্লব বলার মাধ্যমে মার্ক্সবাদ দেখিয়েছিল যে বিপ্লবের আশু বিষয়গত কর্তব্য হল ‘সার্বিকভাবে বুর্জোয়া সমাজের বিকাশের স্বাভাবিক পরিবেশ’ গড়ে তোলা”।৪১ কিন্তু, তিনি প্রশ্ন তোলেন, শ্রমিক শ্রেণীর প্রাধান্য ছাড়া বিপ্লব সফল হবে কি না , এবং প্রাধান্য থাকলে তা কোনদিকে যাবে? এখানে আসে কৃষক জনতার প্রশ্ন। ‘৯ই জ্যানুয়ারী পর্যন্ত’  প্রবন্ধে পার্ভুস যে মুখবন্ধ লেখেন, তাতে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “জার নয়! চাই শ্রমিকদের সরকার”। এই উক্তির দায় পরে ট্রটস্কীর উপর চাপিয়ে বলা হয়, তিনি এই কথা বলে কৃষকদের ভুলে গিয়েছিলেন।  ট্রটস্কী দেখান, ঐ সময়ে তিনি রাশিয়াতে বলশেভিকদের সঙ্গে সহযোগিতা করে একটি লিফলেট লিখেছিলেন যার শিরোনাম ছিল “না জার, না জেমস্তভো, বরং জনগণ”। তিনি বলেন, জনগণ বলতে শ্রমিক এবং কৃষকদের কথা বলা হয়।৪২ 

লন্ডন কংগ্রেসে তাঁর পূর্বোল্লিখিত বক্তৃতায় তিনি বলেন, রাশিয়াতে শহরাঞ্চলে কোনো গণতান্ত্রিক বুর্জোয়া শ্রেণী নেই, এবং অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষে পারীতে সাঁ-কুলোতরা যে ভূমিকা পালন করেছিল, সেটা দখল করেছে শিল্প শ্রমিকরা। অতএব, তিনি বলেন, অষ্টাদশ শতাব্দীর পেটি বুর্জোয়াদের মতই, রুশ প্রলেতারিয়েতকে “সমর্থন খুঁজতে হবে কৃষক জনতার মধ্যে, এবং বিপ্লবকে যদি জয়যুক্ত হতে হয়, তবে প্রলেতারিয়েতকে ক্ষমতা নিতে হবেএকটি সরকার, যাকে সরাসরি সমর্থন করছে প্রলেতারিয়েত, এবং তাঁদের মাধ্যমে বিপ্লবী কৃষকরা, তা এখনও একটি সমাজতান্ত্রিক ডিক্টেটরশিপ নয়”।৪৩

কৃষিবিপ্লব বলতে তিনি কি বুঝেছিলেন? ১৯০৫-এর ইতিহাস রচনা প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “কৃষি সমস্যার সম্পূর্ণ ফর্মূলা এই রকমঃ অভিজাতদের জমি বাজেয়াপ্ত করা, জারতন্ত্রকে উৎপাটিত করা, গণতন্ত্র...। এর কোনোটাই কৃষি সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান দিতে পারে নাঃ ধনতন্ত্রে কোনো সমাধান পাওয়া যাবে না। কিন্তু যে কোনো ক্ষেত্রেই, আসন্ন সমাধানের আগে আসবে স্বৈরতন্ত্র ও সামন্ততন্ত্রকে নির্মূল করা। 

“রাশিয়ার কৃষি সমস্যা ধনতন্ত্রের উপর একটা ভারী বোঝা, সেটা বিপ্লবী দলের প্রতি একাধারে সহায়ক এবং তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, এটা উদারনীতিবাদের হোঁচট খাওয়ার জায়গা এবং প্রতিবিপ্লবের যে মৃত্যু  অবধারিত, তার একটা স্মারকচিহ্ন”।৪৪

সুতরাং লেনিন ও ট্রটস্কীর মতভেদ কৃষককে অবহেলা করা নিয়ে ছিল না। বিতর্ক ছিল দুটি বিষয় নিয়ে। প্রথমত, লেনিন মনে করেছিলেন, কৃষকরা নিজেদের স্বাধীন দেশজোড়া দল তৈরী করে বিপ্লবী সরকারে বড় ভূমিকা নিতে পারবে। ট্রটস্কী এই সম্ভাবনাকে অস্বীকার করেছিলেন। ১৯১৭র বিপ্লব, এবং বিংশ শতাব্দীর বহু বিপ্লব দেখিয়েছে, কৃষকরা কোনো না কোনো শহুরে দলের অনুবর্তীই হয়েছেন, কৃষকের দল, বা দরিদ্র কৃষকের দল বলে কিছু গড়ে ওঠে নি। দ্বিতীয়ত, লেনিন মনে করেছিলেন, বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব হওয়ার পরও একটা মোটামুটি সময়সাপেক্ষ রূপান্তরের আগে প্রলেতারিয় বিপ্লবের কোনো সম্ভাবনা নেই। ট্রটস্কী মনে করেছিলেন, বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব শ্রমিক শ্রেণীকে ন্যূনতম যা দেওয়ার কথা, সেটা পেতে গেলেও শ্রমিক শ্রেণীকে বুর্জোয়া শ্রেণীর সম্পত্তির উপর আঘাত নামাতে হবে। এমনকি, সামন্ততন্ত্রকে নির্মূল করার কাজও উদারনৈতিক রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই না করে সম্ভব হবে না। আর, বিপ্লবের নেতৃত্বে এলে শ্রমিক শ্রেণী নিজের স্বার্থে যে কোনো পদক্ষেপ নিলেই বুর্জোয়া শ্রেণীর সঙ্গে তাঁদের দ্বন্দ্ব বাড়বে। ১৯১৭ সালের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিল, ঠিক এরকমই ঘটল। আট ঘন্টার শ্রমদিবস, মজুরী বৃদ্ধি, সমান কাজে সমান মজুরী, যে কোনো দাবী নিয়েই লড়াই সর্বাত্মক বুর্জোয়া বিরোধী লড়াইয়ের দিকে গেল। শুধু তাই নয়, শ্রমিক শ্রেণীর ডিক্টেটরশিপ কায়েম করে তবে কৃষি বিপ্লবের মৌলিক কর্তব্য পালন করা সম্ভব হল। 

১৯১৭-র বিপ্লব, ‘পুরোনো বলশেভিকবাদ’, ও লেনিনের বিপ্লবী নীতি’ঃ

ফেব্রুয়ারী বিপ্লব যখন ফেটে পড়ে, তখন বলশেভিক, মেনশেভিক-আন্তর্জাতিকতাবাদী, মেঝরায়ঙ্কা, অর্থাৎ শ্রমিক আন্দোলনের বামপন্থী অংশ যেটা, তার সর্বোচ্চ নেতারা সকলে বিদেশে (লেনিন, জিনোভিয়েভ, ট্রটস্কী, মার্তভ, প্রমুখ), এবং তাঁদের পরের ধাপের নেতাদের বড় অংশ জেলে বা নির্বাসনে (কামেনেভ, সভের্দলভ ও অন্যরা)। বলশেভিক কেন্দ্রীয় কমিটির রুশ ব্যুরোর যারা পেত্রোগ্রাদে ছিলেন, তাঁরা হলেন শ্লিয়াপনিকভ, পিওতর জালুতস্কি, এবং ভিয়াচেস্লাভ মলোটভ। শ্লিয়াপনিকভরা সাদারণ ধর্মঘটের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না, এবং শ্রমিকরা অস্ত্র চাইলে তাঁদের নিবৃত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারাও লিফলেটের মাধ্যমে তৃতীয় দিনে লড়াইকে সমর্থন করেন। অভ্যুত্থান যখন চলছে, তখনই ভাইবর্গ কমিটি একটি লিফলেট প্রচার করেন, যাতে তাঁরা আহবান করেন সোভিয়েত (শ্রমিক এবং সৈনিকদের প্রতিনিধি পরিষদ) নির্বাচন করার জন্য। তারা অবশ্য এর মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেণীর রাজ বা ডিক্টেটরশিপ অফ দ্য প্রলেতারিয়েতের কথা ভাবছিলেন না। ১ মার্চে এক সাধারণ সভায় তাঁরা স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করেন, এই সোভিয়েত হবে অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার।৪৫ এর সঙ্গে বলশেভিকদের ১৯০৫-এর রণকৌশলের সাদৃশ্য স্পষ্ট। ১৯০৫ থেকে, লেনিনের বক্তব্য ছিল, রুশ বিপ্লব হবে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব, কিন্তু তার অগ্রগতির জন্য চাই উদারপন্থী বুর্জোয়াদের বিশ্বাসঘাতকতার সঙ্গে সব সম্পর্কচ্ছেদ করা, এবং শ্রমিক ও কৃষকের বিপ্লবী গণতান্ত্রিক ডিক্টেটরশিপ কায়েম করা। ১৯০৫-এ সোভিয়েতের অভিজ্ঞতার পর তিনি বলেন, সোভিয়েত হবে এই বিপ্লবী গণতান্ত্রিক ডিক্টেটরশিপ বা অস্থায়ী বিপ্লবী সরকারের সাংগঠনিক রূপ। তৃতীয় (বলশেভিক) পার্টি কংগ্রেসে ক্রাসিনের প্রস্তাব থেকেও এই অস্থায়ী বিপ্লবী সরকারের প্রস্তাব উঠে আসে। ৪৬

পিটার্সবুর্গ কমিটির অবস্থা ছিল জটিল। ১৯১৪ সালে এই কমিটিতে অন্তত তিনজন পুলিশের চর ঢুকেছিল। একজন মার্চ ১৯১৭তেও ছিল। সে ধরা পড়ে ১৯১৭-র জুন মাসে। এই চরদের সাহায্যে পুলিশ কমিটির বহু সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। মার্চ ১৯১৭তে পুরোনো সদস্যরা জেল থেকে বেরবার পরও নতুন করে কমিটি গঠিত হয়, যাতে পুরোনো এবং নতুন দুরকম সদস্যই থাকেন। ৪৭ দেখা যায়, যারা ১৯১৪-১৫তে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তাঁরা অপেক্ষাকৃত রক্ষণশীল, এবং ৩রা মার্চ পিটার্সবুর্গ কমিটি যে সিদ্ধান্ত নেয়, তা ছিল ভাইবর্গ কমিটির চেয়ে অপেক্ষাকৃত মোলায়েম। তাদের প্রস্তাবে বলা হয়, তারা “অস্থায়ী সরকারের ক্ষমতার বিরোধিতা করবে না, পোস্তোল’কু, পোস্কোল’কু, তার কার্যক্রম শ্রমিক শ্রেণী ও ব্যাপক গণতান্ত্রিক মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়”। ৪৮ Postol’ku, poskol’ku,  শব্দদুটি এই সময়ে বলশেভিকদের একাংশ, মেনশেভিকদের সকলের, সোভিয়েতের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়। এই শব্দ ব্যবহার করার অর্থ, “যে পরিমাণে”, বা “যতদূর” এই অর্থ দেওয়া। সুতরাং, পিটার্সবুর্গ কমিটি বলল, যে পরিমাণে অস্থায়ী সরকার শ্রমিক শ্রেণী ও ব্যাপক গণতান্ত্রিক মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবহার করবে, তারা তার বিরোধিতা করবে না। নেতিবাচক শব্দচয়ন লক্ষ্যণীয় – সমর্থন করবে, এমন বলা হল না। এইখানে মেনশেভিকদের সঙ্গে তফাৎ।

বলশেভিক কেন্দ্রীয় কমিটির রুশ ব্যুরো প্রথমে “রাশিয়ার নাগরিকদের প্রতি” বলে যে ইস্তাহার প্রচার করে, সোভিয়েতের মুখপত্র ইজভেস্তিয়াতে তা পুনর্মুদ্রিত হয়। এতে তাঁরা বলেন, বড় বুর্জোয়া ও জমিদারদের প্রতিনিধিদের নিয়ে যে অস্থায়ী সরকার তৈরী হয়েছে, তাঁকে সমর্থন করা যায় না, এবং পার্টি ডাক দিচ্ছে এক বিপ্লবী অস্থায়ী সরকারের জন্য। সেই বিপ্লবী অস্থায়ী সরকারে থাকবেন সোভিয়েতে উপস্থিত সব দলের প্রতিনিধিরা, এবং তাঁদের কাজ হবে সমাজতন্ত্রীদের ন্যূনতম কর্মসূচী (অর্থাৎ বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য সমাজতন্ত্রীদের কর্মসূচী) রূপায়ণ করা এবং সংবিধান সভা ডাকা। রুশ ব্যুরোর ১ মার্চের সভায় এই ইস্তাহারে ব্যক্ত মত আবার অনুমোদন করা হয়। কিন্তু তাঁরা শীঘ্রই বোঝেন, অন্য সমাজতন্ত্রী দলগুলি ন্যূনতম কর্মসূচী রূপায়ণকে প্রথম কাজ বলে মনে করছে নাতাঁরা তখন বললেন, তাঁরা এই অস্থায়ী সরকারকে সমর্থন করতে পারেন না, কিন্তু সরাসরি তার বিরোধিতা করতেও পারছেন না, কারণ “আমরা [একা] সরকারের দায়িত্ব নিতে পারব না”। ৪৯

কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে বলশেভিকদের মত পরিবর্তন দেখা গেল। আর, আবারও তা ঘটল লেনিনবাদের নামেই। মার্চ মাসে দেশের নানা অঞ্চল থেকে পুরোনো কর্মীরা ফিরতে থাকেন। তাঁদের বেশ কয়েকজনকে রুশ ব্যুরোতে স্থান দেওয়া হয়। ১২ই মার্চ ১৫ জন পূর্ণ সদস্য ছিলেন। এরা হলেন সম্ভবত ঝালেস্কি, মুরানভ, শ্লিয়াপনিকভ, মলোটভ, জালুতস্কি, কালিনিন, শুটকো, শভেদচিকভ, ওলমিনস্কি, স্টাসোভা, উলিয়ানোভা, এলিঝারোভা, খাখারেভ, এরেমিয়েভ এবং বোকি। এছাড়া, ঐদিন স্থির হয়, স্তালিনকে সদস্যপদ দেওয়া হবে, কিন্তু ভোটাধিকার সহ নয়, কেবল সভাগুলিতে থাকা এবং কথা বলার অধিকার থাকবে।৫০ মুরানভ এবং স্তালিন একই সঙ্গে ফিরেছিলেন। ফলে এই সিদ্ধান্ত দেখায়, স্তালিন সম্পর্কে আপত্তি ছিল, এবং সম্ভবত মুরানভের সমর্থনের ফলেই তিনি কেন্দ্রীয় কমিটিতে ফেরেন।   

আর এক জন সম্পর্কে কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যুরো কড়া সিদ্ধান্ত নিল। তিনি হলেন লেভ বোরিসোভিচ কামেনেভ। তাঁকে ব্যুরোর সদস্যপদ দেওয়াই হল না, এবং বলা হল, তিনি প্রাভদায় স্বাক্ষরিত প্রবন্ধ লিখতে পারবেন না।৫১ কামেনেভের ক্ষেত্রে ব্যুরোর মত স্পষ্ট ছিল। ১৯১৫-র ফেব্রুয়ারিতে চতুর্থ ডুমার বলশেভিক সদস্যদের বিচার হয়েছিল। কামেনেভ তাঁদের সঙ্গে অভিযুক্ত ছিলেন। দেশদ্রোহের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধকে গৃহযুদ্ধে পরিণত করার প্রস্তাবের সঙ্গে (অর্থাৎ রাশিয়ার বাইরে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের প্রস্তাবে) তিনি একমত নন। 

কিন্তু পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে একটা পরিবর্তন ঘটল। কেন্দ্রীয় কমিটিতে এবং পার্টির পত্রিকা প্রাভদাতে প্রাধান্যের জায়গাতে চলে এলেন কামেনেভ ও স্তালিন। কীভাবে তা হল সেটা অস্পষ্ট। শ্লিয়াপনিকভের স্মৃতিচারণে এর সমালোচনা করা আছে। কিন্তু ১৯২৩-এর সংস্করণ পাওয়া যায় না। ১৯২৫-এ তিনি কিছু অংশ পাল্টে লিখতে বাধ্য হন। তাই আমরা আভ্যন্তরীণ খবর পাই না, পাই তার ফলাফলের খবর। ১৫ই মার্চ, ৯ নং প্রাভদাতে প্রকাশিত হল কামেনেভের স্বাক্ষরিত প্রবন্ধ – “গোপন কূটনীতি ছাড়া”প্রবন্ধের শুরুতে তিনি লেখেন, রুশ বিপ্লব যুদ্ধকে থামায় নি, এবং অবিলম্বে যুদ্ধ থামবে না। অতএব, তাঁর মতেঃ “যখন একটা সেনাবাহিনী আর একটা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তখন সবচেয়ে হাস্যকর নীতি হবে এক পক্ষের কাছে প্রস্তাব রাখা, যে তারা অস্ত্র নামিয়ে রেখে বাড়ি চলে যাক। এই নীতি শান্তির নীতি হবে না, হবে দাসত্বের নীতি, একটা নীতি যা এক স্বাধীন জনগণ ক্রুদ্ধভাবে প্রত্যাখ্যান করবেন। না, তাঁরা নিজেদের জায়গায় দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকবেন, বুলেটের জবাব দেবেন বুলেটে, শেলের জবাব শেল দিয়ে”। 

কামেনেভ তাহলে অস্থায়ী সরকারের কাছে কী দাবী করলেন? অবশ্যই একতরফা শান্তি প্রস্তাব নয়। তিনি বললেন, স্বাধীন জনগণের জানার অধিকার আছে, তাঁরা কেন লড়ছেন, অধিকার আছে যুদ্ধের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করার। “তাঁদের শুধু নিজেদের মিত্রদের কাছে নয়, বরং শত্রুদের কাছেও খোলাখুলি জানাতে হবে, যে তাঁরা কোনো দিগবিজয় আশা করেন না, কোনো বিদেশী জমি দখল করতে চান না, তাঁরা প্রত্যেক জাতিকে নিজের ভবিষ্যত স্থির করার অধিকার দেন”।৫২

কামেনেভ বলেন, বিপ্লবী রাশিয়াকে শান্তি আলোচনার জন্য মিত্রশক্তিকে বলতে হবে, কিন্তু ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীকে বিশৃঙ্খল করা বা “যুদ্ধ নিপাত যাক” এই ফাঁপা বুলি “আমাদের স্লোগান নয়”। এই কারণে তিনি সোভিয়েতের পক্ষ থেকে যে “সমগ্র পৃথিবীর জনগণের প্রতি আবেদন” প্রচার করা হয়েছিল৫৩, এবং যার সম্পর্কে শ্লিয়াপনিকভরা সন্দিহান ছিলেন, সেই দলিলকে সাদর অভ্যর্থনা জানালেন।

৭ই মার্চ প্রাভদা লিখেছিল, “অবশ্যই, আমাদের মনে পুঁজির শাসনের পতনের প্রশ্ন নেই, কেবল স্বৈরতন্ত্র ও সামন্ততন্ত্রের পতনের প্রশ্ন আছে”। কিন্তু ঐ সময়ে, অর্থাৎ  স্তালিন-কামেনেভরা নেতৃত্বে প্রবেশ করার আগে, বুর্জোয়া অস্থায়ী সরকারের উপর আস্থা রাখার প্রশ্ন ওঠেনি।৫৪ কামেনেভের প্রবন্ধ প্রতিক্রিয়াশীল অস্থায়ী সরকারকে হঠানোর দাবী ছেড়ে সেনাবাহিনীকে পরামর্শ দিল, ওই সরকারের নেতৃত্বে যুদ্ধক্ষেত্রে সজাগ থাকতে।

সোভিয়েতের যে আবেদনকে কামেনেভ এত তারিফ করলেন, তার দিকেও আমাদের তাকানো দরকার। পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের উপর শ্রমিক এবং সৈনিকদের ধারাবাহিক চাপ ছিল। তাঁরা চাইছিলেন, কোনো তত্ত্বগত কারণে না, একেবারে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে, যে যুদ্ধ শেষ হোক। সুখানভ, স্টেকলভ, সহ বেশ কয়েকজন মেনশেভিক গোড়ার দিকে সোভিয়েতে নেতৃস্থানীয়  ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাঁরা ছিলেন মেনশেভিক বামপন্থী বা মেনশেভিক-আন্তর্জাতিকতাবাদীযুদ্ধের সময়ে পুরোনো বিভাজন ভেঙ্গে নতুন ধরণের বিভাজন তৈরী হয়েছিল। বলা যায়, তিনটি পক্ষ দেখা দিয়েছিল – যারা নিজের দেশের সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের সমর্থক (defencist বলে পরিচিত), মধ্যপন্থী যারা যুদ্ধ বিরোধী, কিন্তু কমবেশী শান্তিবাদী অবস্থান থেকে, এবং যারা যুদ্ধ বিরোধী, এবং যুদ্ধের সময়েও শ্রেণী সংগ্রামকে চালু রেখে শাসক শ্রেণীর বিরুদ্ধে আঘাত হানতে চান। রাশিয়াতে প্রথম পক্ষে পড়েছিলেন দক্ষিণপন্থী মেনশেভিকরা, মধ্যপন্থী মেনশেভিকদের বড় অংশ, সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারী দলের দক্ষিণপন্থী ও মধ্যপন্থীরা। প্লেখানভের গোষ্ঠী এত উগ্র যুদ্ধবাজ হয়ে পড়ে যে অধিকাংশ মেনশেভিকও তাঁদের থেকে আলাদা হয়ে থাকে। মার্তভ ছিলেন ছোট এক মেনশেভিক আন্তর্জাতিকতাবাদী গোষ্ঠীর নেতা। সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারী দলের কেন্দ্রীয় নেতা ভিক্টর চের্নভও ছিলেন যুদ্ধ বিরোধী১৯১৫ এবং ১৯১৬ সালে সুইজারল্যান্ডের জিমারোয়াল্ড এবং কিয়েনথালে দুটি সমাজতন্ত্রী সম্মেলনে এঁরা অংশ নেন, যেমন নেন জার্মানীর কাউটস্কিপন্থীরা সহ বেশ কিছু দেশের প্রতিনিধিরা। যুদ্ধকে শ্রেণী সংগ্রামের পথে মোকাবিলা করার কথা বলেন রাশিয়াতে বলশেভিকরা, ট্রটস্কী এবং নাশে স্লোভো গোষ্ঠীর বামপন্থীরা (নাশে স্লোভোতে মার্তভ ছিলেন নরমপন্থী), জার্মানীতে লিয়েবকনেক্ট-লুক্সেমবুর্গের সমর্থকরা, রোমানিয়াতে র‍্যাকভস্কি, বুলগেরিয়াতে কোলারভ প্রমুখ, পোল্যান্ডে ইয়োগিহেস-লুক্সেমবুর্গ-জারজিনস্কিদের এস ডি কে পি আই এল, এবং তাঁদের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কার্ল র‍্যাডেক, ফ্রান্সে প্রধানত রসমার, মোন্যাত, ও অন্যান্য নৈরাষ্ট্রবাদী-সিন্ডিকালবাদীরা, প্রমুখ। এঁদের সকলের সব বিষয়ে মতৈক্য ছিল না। কিন্তু এরাই ছিলেন বিপ্লবী ধারা। 

রাশিয়াতে বিপ্লবের ফলে মধ্যপন্থীদের সংকট দেখা দেয়। তাঁরা যুদ্ধের বিরোধী। অথচ তাঁরা আবার নীতিগত ভাবে বিশ্বাস করতেন যে রুশ বিপ্লব হবে বুর্জোয়া বিপ্লব, এবং তাতে নেতৃত্ব থাকবে বুর্জোয়াদের হাতে। কিন্তু আবার, মধ্য এবং দক্ষিণপন্থী মেনশেভিকদের সঙ্গে তাঁদের, বিশেষত মেনশেভিক-আন্তর্জাতিকতাবাদীদের,  মতভেদ ছিল। তাঁরা ভাইবর্গের বলশেভিকদের মত তোলা থেকে সোভিয়েত গড়েন নি, বরং আগে সোভিয়েতের কার্যনির্বাহী কমিটি তৈরী করেন, যাতে পার্টিগুলির অ-শ্রমিক নেতাদের স্থান নিশ্চিত করা হয় (১৯০৫-এর বিপ্লবে সোভিয়েত নির্বাচিত হয়েছিল ফ্যাক্টরী স্তর থেকে, এবং সমাজতন্ত্রী দলের অ-শ্রমিক নেতারা কেবল পরামর্শদাতার ভুমিকায় থাকতে পারতেন, যদি না সোভিয়েত নিজে কোনো পরিবর্তন করত)কিন্তু  তাঁরা সোভিয়েত গঠনে উৎসাহী ছিলেন। অস্থায়ী সরকারকে তাঁরা শান্তির জন্য চাপ দিয়েছিলেন, এবং সোভিয়েতের পক্ষ থেকে শান্তির আবেদন প্রকাশ করেছিলেন।  সুখানভের লেখা খসড়ার ভিত্তিতে ওই আবেদনটি গৃহীত হয়। তাতে বলা হয় শান্তি চাই, গণতান্ত্রিক নীতি নিয়ে এবং দেশ দখল বা ক্ষতিপূরণের নামে লুন্ঠন বর্জন করে শান্তি প্রতিষ্টাহ করতে হবে। আপাতভাবে এ ছিল নীতিনিষ্ঠ বক্তব্য। কিন্তু ওই সুখানভরা তো অস্থায়ী সরকারকেও মেনে নিয়েছিলেন। ক্ষমতা নিজেদের হাতে না রাখার, এবং উদারনৈতিক বুর্জোয়াদের সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানে, তাঁরা কেবল আদর্শ কিন্তু বাস্তবায়িত হবে না এমন নীতির কথা বলছিলেন। অথচ, শুধু শ্রমিকদের না, সৈনিকদের মধ্যেও অস্থায়ী সরকারের প্রতি বিশেষ সমর্থন ছিল না। পশ্চিম রণাঙ্গনের প্রতিনিধিদের নিয়ে মিনস্ক শহরে একটি সম্মেলনে বিতর্ক হয়। দেখা যায়, অস্থায়ী সরকারের পক্ষে প্রায় কেউ নেই। সোভিয়েতের প্রস্তাবের সমর্থনে পড়ে ৬১০ ভোট, বিপক্ষে ৮ ভোট এবং ভোটদানে বিরত থাকেন ৪৬ জন। অথচ বিদেশ দপ্তরের মন্ত্রী এবং অস্থায়ী সরকারের প্রকৃত নেতা পাভেল মিলিউকভ, এবং যুদ্ধমন্ত্রী গুচকভ, তাঁদের নিজেদের বুর্জোয়া, আগ্রাসী নীতি নিয়েই চলতে থাকেন। সুতরাং সোভিয়েতের আহবান ছিল শ্রমিক এবং সৈনিকদের চোখে ধুলো দেওয়ার প্রস্তাব। তাঁকে সমর্থন করে কামেনেভ দেখালেন, তিনি বলশেভিকদের সঙ্গে নরমপন্থী সমাজতন্ত্রীদের দূরত্ব কমাতে চাইছেন। আর, এটা কামেনেভের একার অবস্থান ছিল না। সোভিয়েতের ইস্তাহার সম্পর্কে প্রাভদায় ১৪ই মার্চ সম্পাদকীয় লেখেন স্তালিন। তাঁর বক্তব্য হল, বিপ্লবী রাশিয়া ১৭৯২-এর ফ্রান্সের মত শত্রু জোটের সম্মুখীন নয়। তাই যুদ্ধ দীর্ঘজীবি হোক, এমন ঘোষণার কোনো জায়গা নেই। তিনি জিমারওয়াল্ড এবং কিয়েনথাল সম্মেলনের প্রস্তাবদের ইতিবাচক মনে করেন। কিন্তু সরাসরি যুদ্ধবিরোধী স্লোগানের বিরোধিতা করে তিনি লেখেন, “সরাসরি স্লোগান, ‘যুদ্ধ নিপাত যাক’, বাস্তব পন্থা হিসেবে একেবারে অকেজো, কারণ... তা যুযুধান শক্তিদের উপর বাস্তব প্রভাব ফেলার মত কিছু দেয় না”। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের আহবানকে অভ্যর্থনা জানাতে হয়। তিনি সেই সঙ্গে বলেন, জার্মান জনগণ তাঁদের শাসকদের উচ্ছেদ করবেন, এটা যেহেতু নিশ্চিত নয়, তাই এই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য কবে সফল হবে তাও নিশ্চিত নয়। তাই স্তালিনের সমাধান হল, অস্থায়ী সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, শ্রমিক, সৈনিক ও কৃষকদের সভাতে ও মিছিলে শান্তি আলোচনার দাবী তুলতে হবে, যে আলোচনার ভিত্তি হবে জাতিসমূহের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের স্বীকৃতি।৫৫    

স্তালিন এখানে দুটি বিষয় এড়িয়ে গেলেন। লেনিন ও অন্য বলশেভিকরা জিমারওয়াল্ড ও কিয়েনথাল প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন আপত্তি সত্ত্বেও, এবং তাঁরা নিজেদের “জিমারওয়াল্ড বাম” বলে একটি ধারাতে সংগঠিত করেছিলেন। দ্বিতীয়ত, তাঁরা সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধকে গৃহযুদ্ধে রূপান্তরিত করার ডাক দিয়েছিলেন। ভাইবর্গ কমিটির “যুদ্ধ নিপাত যাক” স্লোগানের বিরোধিতা করে স্তালিন বাস্তবে লেনিনের মতেরও বিরোধিতা করলেন।  আর অস্থায়ী বুর্জোয়া সরকারকে  “চাপ দিয়ে” যুদ্ধ বন্ধ করতে বলার পরামর্শের অর্থ, অবশ্যই, ওই সরকারকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকা। শ্লিয়াপনিকভ ভালই বুঝেছিলেন, এই সম্পাদকীয় রুশ ব্যুরোর নীতির তুলনায় অনেকটা নরম, অনেক শ্রেণী সমঝোতার দিকে ঘেঁষা। তাই তার স্মৃতিচারণে তিনি লেখেন, ১৪ই মার্চ, প্রথম এই নতুন নেতৃত্বের হাতে প্রাভদা প্রকাশিত হওয়ার পর টাউরিদে প্রাসাদে (অস্থায়ী সরকার এবং সোভিয়েত উভয়েরই দপ্তর) শোনা গেল, নরমপন্থী, বিচক্ষণ বলশেভিকরা উগ্রপন্থীদের উপর জয়ী হয়েছেন।৫৬  লারস লি বা এরিক ব্ল্যাঙ্ক আজকাল দাবী করেছেন যে ট্রটস্কীর অতিরঞ্জনের জন্য কামেনেভের ভূমিকাকে একপেশে ভাবে দেখা হয়েছে।৫৭  কিন্তু সোভিয়েতের কার্যনির্বাহীকমিটিতে আরেকজন বলশেভিক প্রতিনিধি হিসেবে স্তালিন প্রবেশ করেছিলেন। সোভিয়েতের কার্যবিবরণীতে, ইজভেস্তিয়ার রিপোর্টে, বা অন্য সংবাদপত্রে, কোথাও দেখা যায় না যে মেনশেভিক-সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারী জোটের আত্মসমর্পনবাদী রাজনীতির সরাসরি বিরোধিতা তিনি বা কামেনেভ করেছিলেন। যুদ্ধ চালু রাখতে হবে, এই বিষয়ে মধ্য-বাম মেনশেভিক সেরেতেলির সঙ্গে কামেনেভের বা স্তালিনের বিরাট তফাৎ ছিল না। আমার বক্তব্য এই না যে কামেনেভ মেনশেভিক ছিলেন। আমার বক্তব্য এই, যে দুই স্তর বিপ্লবের তত্ত্ব মেনে নেওয়ার ফলে, এবং যুদ্ধ থামানোকে বিপ্লবী দলের প্রথম শ্রেণীর কর্তব্য হিসেবে দেখেতে ব্যর্থ হয়ার ফলে, বাস্তব শ্রেণী সংগ্রামের মুখে কামেনেভের এই দোদুল্যমানতা দেখা দেয়।

লেনিন, ট্রটস্কী ও বিপ্লবী নীতিঃ

ফেব্রুয়ারী বিপ্লব যখন আরম্ভ হয় তখন লেনিন সুইজারল্যান্ডে। আর ট্রটস্কীকে ফ্রান্স থেকে স্পেনে পাঠানো হয় ১৯১৬-র শেষ দিকে, ও স্পেন থেকে তাড়িয়ে মার্কিণ যুক্তরাষ্ট্রে। জারের উচ্ছেদের খবর পেয়ে দুজনেই একদিকে বিপ্লবী নীতি সম্পর্কে লেখেন (ট্রটস্কী বহু বক্তৃতাও দেন), আর অন্যদিকে রাশিয়া ফেরার চেষ্টা করেন। তাঁদের এই সময়ের বক্তব্য একটু খুঁটিয়ে দেখা দরকার। ৬ই মার্চ লেনিন পেত্রোগ্রাদে টেলিগ্রাম পাঠানঃ “আমাদের কৌশলঃ নতুন সরকারকে কোনো আস্থা না, তার প্রতি কোনো সমর্থন না। কেরেনস্কী বিশেষভাবে সন্দেহজনক; প্রলেতারিয়েতকে অস্ত্রে সজ্জিত করা একমাত্র গ্যারান্টি; পেত্রোগ্রাদ শহর পরিষদের এখনি নির্বাচন চাই; অন্য দলদের সঙ্গে কোনো বোঝাপড়া নয়”। ৫৮

১৯শে মার্চ, প্রাভদা অফিসে লেনিনের দূত হিসেবে হাজির হলেন আলেক্সান্দ্রা কোলোনতাই। তিনি প্রাভদার, তথা পার্টির পেত্রোগ্রাদে উপস্থিত সব নেতার জন্য দিলেন লেনিনের পাঠানো চিঠি।৫৯ প্রথম চিঠিটি কিছুটা কেটেছেঁটে প্রকাশিত হয় প্রাভদায়। দ্বিতীয়টি সাত বছর অপ্রকাশিত হয়ে বসে থাকে।এর পর লেনিন আরো তিনটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন, তবে সেগুলি সম্ভবত তিনি নিজে রশিয়া পৌছবার আগে তার কমরেডদের হাতে যায় নি।

প্রথম চিঠিতে লেনিন বলেন, ফেব্রুয়ারী বিপ্লব গুচকভ-মিলিউকভদের ক্ষমতায় এনেছে ‘এখনকার মতো’। কিন্তু বুর্জোয়া সরকার রুশ জনগণের সমস্যার সমাদান করতে পারবে না। এই সরকারের পাশে উঠে এসেছে এখনও পর্যন্ত স্বল্প বিকশিত, এবং অপেক্ষাকৃত দূর্বল শ্রমিক সরকার, যা শ্রমিক শ্রেণীর ও শহর ও গ্রামের সব গরীব জনতার স্বার্থ ব্যক্ত করছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি চিহ্নিত করেন দ্বৈতক্ষমতার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বলে। “যে বলে যে শ্রমিকদের জারতন্ত্রী প্রতিক্রিয়র বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বার্থে নতুন সরকারকে সমর্থন করতে হবে (এবং আপাতত এ কথা বলছে পত্রেসভ, গোভঝদেভ, চেঙ্খেলিরা, এবং সবরকম পিছলে যাওয়ার চেষ্টা সত্ত্বেও, চখেইদঝে) তারা শ্রমিকদের প্রতি বেইমান, শ্রমিক শ্রেণীর স্বার্থের প্রতি বেইমান, শান্তি ও স্বাধীনতার প্রতিও তাই”। ৬০

এই অবস্থায় লারস লি যখন দাবী করেন যে লেনিনের সঙ্গে কামেনেভের খুব বড় ফারাক ছিল না, তখন বুঝতে হবে, তিনিও একটা রাজনৈতিক দিশা থেকে লিখছেন, যে দিশা হল লেনিনের বক্তব্যকে যথাসম্ভব মোলায়েম করে দেখানো। কামেনেভ –স্তালিন-মুরানভ জোটের হাতে পোস্তোল’কু, পোস্কোল’কু নীতি আগের চেয়ে একটু বেশীই ডানদিকে ঘুরছিল। সোভিয়েতের ইসদতাহারকে প্রাভদা বলেছিল “সোভিয়েতে উপস্থিত বিভিন্ন ধারার মধ্যে সচেতন আপস”। সোভিয়েত নেতৃত্ব ও প্রাভদা দুয়েতেই স্তালিন উপস্থিত। আর কামেনেভ তো লেনিনের এপ্রিল থিসিস প্রকাশিত হয়ার পরের দিন লেখেন যে ঐ বক্তব্য লেনিনের একার, এবং তার সাধারণ ছক গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ তা শুরু হচ্ছে বিপ্লবকে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে রূপান্তরিত করার দিশা থেকে। ৬১

এই একই সময়ে, লেনিনের থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে, ট্রটস্কী তার মত প্রকাশ করছিলেন। ট্রটস্কীর অল্প বয়সের বন্ধু, পরে মেনশেভিক এবং প্রতিপক্ষ, ডক্টর ঝিভ লিখেছেন, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রুশ বিপ্লব নিয়ে সভা ডাকা হলে, ট্রটস্কীর বক্তৃতা হত মুখ্য আকর্ষণ।  ফলে অনেক সময়ে লোকে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করত, তিনি এক সভা থেকে আরেক সভা, শহরের বিভিন্ন এলাকাতে যাবেন বলে।৬২ এই বক্তৃতাগুলির কোনো বিস্তারিত রিপোর্ট নেই। কিন্তু নিউ ইয়র্কে তিনি বুখারিন ও অন্যদের সঙ্গে নোভি মির নামে যে রুশ পত্রিকাতে লিখতেন, তা থেকে তাঁর মতের মূল কিছু কথা পাওয়া যায়। নিউ ইয়ররকের ১৩, ১৭, ১৯ এবং ২০ মার্চ তিনি চারটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন [অর্থাৎ রুশ ক্যালেন্ডারের হিসেবে ১, ৫, ৭ এবং ৮ মার্চ]।

দ্বিতীয় প্রবন্ধে তিনি লেখেন ডুমার প্রগতিশীল জোট নামে পরিচিত জোট হল রুশ বুর্জোয়া শ্রেণীর বিভিন্ন দলের জোট। এরা চায় বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার জয়, এবং দেশের মধ্যে এদের শ্রেণীর নিয়ন্ত্রণ। কয়েকমাস আগে মিলিউকভ প্রদত্ত একটি বক্তৃতার উল্লেখ করে তিনি লেখেন, এরা বিপ্লবের ঘোর বিরোধী।৬৩ 

তৃতীয় প্রবন্ধে তিনি লেখেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে, মুখের কথায়, বুর্জোয়া শ্রেণী সরকারের রূপ স্থির করার প্রশ্ন সংবিধান সভার হাতে ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে। কাজের ক্ষেত্রে কিন্তু অক্টোব্রিস্ট-ক্যাডেট অস্থায়ী সরকার সংবিধান সভার জন্য প্রস্তুতির সমস্ত কাজকে সাধারণতন্ত্রের বিরুদ্ধে, রাজতন্ত্রের জন্য প্রচারে রূপান্তরিত করবে। সংবিধান সভার চরিত্র বহুলাংশে নির্ভর করবে যারা তাকে ডাকছে তাদের চরিত্রের উপর। তাই এটা স্পষ্ট যে বিপ্লবী প্রলেতারিয়েতকে এখনই প্রতিষ্ঠা করতে হবে তাঁদের নিজেদের সংস্থা, শ্রমিক, সৈনিক ও কৃষকদের প্রতিনিধিদের পরিষদ, যা থাকবে অস্থায়ী সরকারের কার্যনির্বাহী সংস্থাগুলির বিপরিতে। এই সংগ্রামে প্রলেতারিয়েতের অবশ্যকর্তব্য গোটা জনগণের উত্থানের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়া – একটি মাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে, যা হল সরকার পরিচালনার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া। কেবলমাত্র একটি বিপ্লবী শ্রমিক সরকার সংবিধান সভার প্রস্তুতি পর্বের কাজ হিসেবে দেশকে আগাগোড়া গণতান্ত্রিক ভাবে পরিশুদ্ধ করার ইচ্ছা ও ক্ষমতা রাখবে”।৬৪

চতুর্থ প্রবন্ধে যুদ্ধ ও শান্তি প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “তাঁরা যে বিপ্লব চান নি এবং যে বিপ্লবের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, তারই দয়াতে গুচকভ ও মিলিউকভ এখন ক্ষমতায়। যুদ্ধ চালাবার জন্য, বিজয়ের জন্য? অবশ্যই! এঁরা তো সেই লোকেরাই, যাঁরা পুঁজির স্বার্থে দেশকে যুদ্ধে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন”।৬৫   

রুশ অস্থায়ী সরকারকে খোলাখুলি সাম্রাজ্যবাদী সরকার বলে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, শ্রমিক শ্রেণী উদারনৈতিক বুর্জোয়াদের স্বার্থে যুদ্ধ চালিয়ে গেলে জার্মান শ্রমিক শ্রেণীর লড়াইকে ধাক্কা দেওয়া ও জার্মান শ্রমিকদের উগ্র দেশপ্রেমিকদের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে।

লেনিন এবং ট্রটস্কী, দুজনেই চেষ্টা করেন দ্রুত রাশিয়াতে ফিরতে। লেনিন কয়েক দিনের মধ্যে বোঝেন, মিত্রশক্তিদের দেশগুলি দিয়ে ফেরার চেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে। মার্তভের একটি প্রস্তাব অনুসরন করে তিনি তখন জার্মানির মাধ্যমে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেন। সুইজারল্যাণ্ডের সীমান্তে তাঁরা একটি বিশেষ ট্রেনে ওঠেন। জার্মান সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, ঐ ট্রেনে অন্য কেউ উঠবে না (এই কারণে অনেক সময়ে ট্রেনটিকে সীল করা ট্রেন বলা হয়)। জার্মানির সাসনিৎস শহরে যাত্রীরা উঠলেন একটি সুইডিশ স্টিমারে। জেনারাল লুডেনডর্ফের হিসেব ছিল – এই সব উগ্রপন্থী বিপ্লবীরা রাশিয়াতে গিয়ে পড়লে রাশিয়া যুদ্ধ থেকে সরে যেতে পারে। তা হলে জার্মানী কেবল মাত্র পশ্চিম রণাঙ্গনে লড়াই করে যুদ্ধজয়ী হতেও পারে। লেনিনের হিসেব ছিল, একটি দেশে বিপ্লবের যথাযথ অগ্রগতি হলে অন্যান্য দেশেও, বিশেষত জার্মানীতে, বিপ্লবের অগ্রগতি হতে পারে। তা হলে যুদ্ধে জার্মানির সাময়িক লাভের চেয়ে গুরুত্বপুর্ণ হবে বিপ্লবের ফলে জার্মান সমরবাদের অবসান।

সুইডেনের ট্রেলবর্গ শহর থেকে তাঁরা গেলেন স্টকহোম, সেখান থেকে ফিনল্যান্ড। ২রা এপ্রিল বলশেভিকদের কাছে খবর এল, লেনিন পরদিন পেত্রোগ্রাদে ফিরবেন। ৩রা এপ্রিল ফিনল্যান্ড-রাশিয়া সীমান্তের বেলো অস্ত্রভ স্টেশনে হাজির হলেন আলেক্সান্দ্রা কোলোন্তাই, লেভ কামেনেভ, আলেক্সান্দর শ্লিয়াপনিকভ, মারিয়া উলিয়ানোভা (লেনিনের বোন), এবং আরো কয়েকজন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্রোনস্টাড দ্বীপ-দূর্গের বলশেভিক নৌ-অফিসার ফিওডর ইলিন, যাকে ফিওডর রাসকোলনিকভ নামেই ইতিহাস বেশী চেনে। রাসকোলনিকভ পরে তাঁর স্মৃতিচারণ করে একটি বই এবং একাধিক প্রবন্ধ লেখেন। তার কাছে আমরা লেনিনের সঙ্গে রাশিয়ার ভিতরে থাকা বলশেভিকদের এতদিন বাদে প্রথম আলাপের বিবরণের জন্য কৃতজ্ঞ। রাসকোলনিকভের বর্ণনা থেকে আমরা জানতে পারি, কে কে ছিলেন,এবং কি কি বিষয়ে কথা হয়েছিল। আবার স্মরণ করাব লারস লি-র মত, যে কামেনেভ-স্তালিনের সঙ্গে লেনিনের খুব একটা মতভেদ ছিল না। রাসকোলনিকভ লিখেছেন, লেনিনের প্রথম উক্তিই ছিলঃ “ এ সব তোমরা কি লিখছ প্রাভদাতে? আমরা অনেকগুলো সংখ্যা দেখে তোমাদের নামে প্রবল গালমন্দ করেছি”।৬৬

ট্রেন পেত্রোগ্রাদের ফিনল্যান্ড স্টেশনে থামলে লেনিনকে স্বাগত জানানো হয়। সোভিয়েতের পক্ষে ভাষণ দেন চখেইদঝে। ফিনল্যান্ড স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন সুখানভ, যার কাছ থেকে আমরা বর্ণনা পাই। কে কে এসেছিল, সেটা গৌণ হত, যদি না ১৯৩০-এর দশকে এ নিয়ে গল্প ফাঁদা হত। এমেলিয়ান ইয়ারোস্লাভস্কি লেখেন, ৩ এপ্রিল স্তালিন লেনিনের সঙ্গে দেখা করতে বেলা অস্ত্রভে যান। বিপ্লবের দুই নেতা, বলশেভিকবাদের দুই নেতা, গভীর আনন্দের সঙ্গে এত কাল বিচ্ছিন্ন থাকার পরও দেখা করেন। তাঁরা দুজনেই শ্রমিক শ্রেণীর ডিক্টেটরশিপের জন্য সংগ্রামে নামার মুখে ছিলেন...”। ৬৭ স্পষ্টত, স্তালিনের কাছে এইভাবে ইতিহাসের পুনর্লিখন ছিল জরুরী। তিনি ক্রমান্বয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন, তিনি লেনিনের খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ট্রটস্কী এ কথা বুঝে লিখেছিলেন, “এই ছোটো তথ্যটি অন্য যে কোনো কিছুর চেয়ে  ভাল করে দেখায় যে দেখায় যে তার এবং লেনিনের মধ্যে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার দূরতম সাদৃশ্য রয়েছে এমন কোনো সম্পর্ক ছিল না”।৬৮ এর এক বিকল্প, অথবা পরিপূরক কারণ হল, ঐ দিন স্তালিন বাস্তবে কোথায় ছিলেন এবং তাঁর রাজনৈতিক মত কি ছিল তা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া। তিনি ছিলেন বলশেভিক ও মেনশেভিকদের মধ্যে ঐক্য নিয়ে এক আলোচনা সভাতে।

২৭শে মার্চ ট্রটস্কীও নিউ ইয়র্ক ছেড়ে রাশিয়ার দিকে পাড়ি দেন, একটি জাহাজে করে। কিন্তু যে কারণে লুডেনডর্ফ লেনিনকে রাশিয়া যেতে দিতে  রাজি ছিলেন, সেই কারণেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ট্রটস্কীকে রাশিয়া ফেরা ঠেকাতে চায়। ক্যানাডার হ্যালিফ্যাক্সে তাঁকে জাহাজ থেকে নামিয়ে বন্দী করে পাঠানো হয় জার্মান যুদ্ধবন্দী শিবিরে। সেখানে তিনি সৈনিক ও নাবিকদের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী প্রচার করেন। জার্মান অফিসাররা এতে ক্রুদ্ধ হয়ে শিবিরের ব্রিটিশ প্রধান, কর্নেল মোরিসের কাছে অভিযোগ করলে, মোরিস শ্রেণীগত অবস্থান থেকে অফিসারদের পক্ষ নিয়ে ট্রটস্কীকে সাধারণ সৈনিকদের কাছে বক্তৃতা দিতে বারণ করেন৫০০-র উপর জার্মান সৈনিক ও নাবিক এতে গণস্বাক্ষর করে প্রতিবাদ করেন। অবশেষে এক মাস পরে, ৪ঠা মে, তিনি পেত্রোগ্রাদে পৌঁছন। 

এই এক মাসে রাশিয়াতে অনেক কিছু ঘটে গিয়েছিল, যার কিছুটা পর্যালোচনা আমাদের পরবর্তী কাজ।

লেনিন ও বলশেভিক দল – এপ্রিল থিসিস থেকে পার্টি নীতি পরিবর্তনঃ

৩রা এপ্রিল সন্ধ্যাবেলা লেনিন বলশেভিকদের এক সম্মেলনে উপস্থিত হন, এবং ট্রেনে আসতে আসতে যে প্রবন্ধ বা একগুচ্ছ কর্মসুচীগত প্রস্তাব লিখেছিলেন, সেটা পড়ে শোনান। এই প্রবন্ধ, যা ইতিহাসে এপ্রিল থিসিস নামে খ্যাত, তা পার্টি সম্মেলনে যেন বোমা ফাটাল। তাই লেনিন কী লিখেছিলেন তা দেখার আগে সম্মেলনে এ পর্যন্ত কী আলোচনা হয়েছিল, সেটা দেখতে হবে।

 

২৭শে মার্চ থেকে ৪ঠা এপ্রিল বলশেভিকদের প্রথম বড় সম্মেলন হয় (১৯১৭ সালে তাঁরা অনেকগুলি সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন)। একই সময়ে, ২৯শে মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলে পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের ডাকে প্রথম সারা রাশিয়া সোভিয়েত সম্মেলন। ইতিমধ্যে লেনিনের চিঠি এসেছে, কিছু নাড়াচাড়া শুরু হয়েছে। স্তালিন এর আগে কামেনেভের পুরো সমর্থক ছিলেন, কিন্তু এবার দোদুল্যমান ভাব দেখা যায় তাঁর লেখাগুলিতে।

মার্চ সম্মেলনের কার্যবিবরণী বহুকাল সোভিয়েত ইউনিয়নে লুকিয়ে রাখা হয়েছিলপ্রথম এগুলি পাওয়া যায় ১৯৩১ সালে ট্রটস্কী  The Stalin School of Falsification  শীর্ষক সংকলনে প্রকাশ করলে। ১৯৮৮ সালে অবশেষে ভপ্রোসি ইস্তোরি কেপিএসএস পত্রিকার সম্পাদকরা সোভিয়েত মহাফেজখানা থেকে মিলিয়ে জানান, ট্রটস্কী যা প্রকাশ করেছিলেন তা বাস্তব দলিল, কেবল প্রথম দুদিনের কার্যবিবরণী সেটাতে ছিল না (তিনি সে কথা স্বীকারও করেছিলেন)। ২৯শে মার্চ আলোচ্য বিষয় ছিল অস্থায়ী সরকার। মূল রিপোর্টার ছিলেন স্তালিন। কেউ মূল রিপোর্টার হওয়ার অর্থ, নেতৃত্ব বা সংখ্যাগরিষ্ঠরা তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছেন। স্তালিনের বক্তব্যে লেনিনের চিঠির প্রভাব কিছুটা দেখা যায়। তিনি এখন বলেন, ফেব্রুয়ারি বিপ্লব দুটি সরকার তৈরী করেছিল – অস্থায়ী সরকার এবং সোভিয়েত। এর আগে তাঁর প্রবন্ধগুলিতে এই স্বীকৃতি ছিল নাকিন্তু লেনিন যে সরাসরি অস্থায়ী সরকারের বিরুদ্ধাচরণের পক্ষে কথা বলছিলেন, স্তালিন তার সঙ্গে একমত ছিলেন না। তাঁর মতে, অস্থায়ী সরকারের কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছেতাঁর বক্তৃতার যে সংক্ষিপ্তসার নোট আকারে আমাদের কাছে এসেছে, তাতে আমরা পড়িঃ “অস্থায়ী সরকার বিপ্লবী জনগণের অর্জিত অধিকারগুলি সুরক্ষা করার দায়িত্ব নিয়েছে। শ্রমিক ও সৈনিকদের প্রতিনিধিদের সোভিয়েত ক্ষমতা ব্যবহার করে ও নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে, আর অস্থায়ী সরকার, আপত্তি সত্ত্বেও, এবং ভুলভাল সত্ত্বেও, জনগণের যে সব জয়গুলি বাস্তবে পরিণত হয়েছে, সেগুলিকে সংহত করে। এমন এক পরিস্থিতির অসুবিধাজনক দিকও আছে, কিন্তু সুবিধাজনক দিকও আছে। যে বুর্জোয়া স্তরগুলি ভবিষ্যতে অনিবার্যভাবে আমাদের থেকে সরে যাবে, ঘটনার উপর চাপ দিয়ে তাদের সরে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, আমাদের বর্তমানে কোনো সুবিধা নেই”।৬৯ বক্তব্যের পর স্তালিন রুশ ব্যুরো ২২শে মার্চ যে প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল সেটা পড়ে শোনান। ঐ প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, অস্থায়ী সরকার বিপ্লবের দায়িত্ব পালন করতে পারবে না, তাই সোভিয়েতকে বিপ্লবী ক্ষমতার ভ্রূণাকার রূপ হিসেবে দেখে বিদ্রোহী জনগণ তাকে ঘিরে জমায়েত হ’ন, এই আহবান করা হচ্ছে৭০ আশ্চর্যের কথা, স্তালিন মন্তব্য করেন, তিনি নিজে ওই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত নন, বরং তিনি সমর্থন করেন ক্রাসনোয়ার্স্ক সোভিয়েতের প্রস্তাবকে। ক্রাসনোয়ার্স্ক সোভিয়েতের প্রস্তাব আবার ওই পোস্তোল’কু পোস্কোল’কু অবস্থান নিয়েছিল। বলা হয়, অস্থায়ী সরকারকে জনগণের দাবী মানতে হবে, এবং তার কাজ যতক্ষণ শ্রমিক শ্রেণী ও বিপ্লবী কৃষকদের দাবীকে সন্তূষ্ট করতে পারবে, ততদিন তাকে সমর্থন করা হবে৭১ 

পার্টিতে একটা ছোটো, কিন্তু সুস্পষ্ট দক্ষিণপন্থী ধারা ছিল। তার একজন প্রতিনিধি ভইটিনস্কি পাল্টা রিপোর্ট দেন। তিনি অস্থায়ী সরকারের কাজের মধ্যে সরাসরি বিপ্লবী কাজ দেখতে পেলেন। তিনি বলেন, শ্রমিক শ্রেণী ক্ষমতা নিলে তা হত বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সর্বনাশ।৭২ স্তালিন-কামেনেভের সঙ্গে ভইটিনস্কির দৃশ্যমান পার্থক্য ছিল। কিন্তু স্তালিনের বক্তব্য স্ববিরোধী ছিলবিতর্কের শেষে তিনি জবাবী ভাষণে বলেন, শ্রমিকরা সরকারকে সমর্থন করছে বলার চেয়ে “বরং বলা যায়, সরকার আমাদের সমর্থন করছে... আমরা যে আমাদের কর্মসূচি বাস্তবে প্রয়োগ করছি, সরকার তাতে বাধা দিচ্ছে না”।৭৩  একটি প্রতিক্রিয়াশীল সরকার কীভাবে “আমাদের” (শ্রমিকদের? সোভিয়েতের? বলশেভিকদের?) কর্মসুচি রূপায়ণে বাধা দিচ্ছে না? কোন কর্মসূচি সেটা? বুঝতে হবে, স্তালিন এখানে উল্লেখ করছেন, শ্রমিকদের চাপে পড়ে অস্থায়ী সরকার যে ক’টি পদক্ষেপ নিয়েছিল, স্তালিন সেইগুলির উল্লেখ করছেন। যেমন, ১২ মার্চ মৃত্যুদন্ড বাতিল করা হল। ২০ মার্চ ধর্মের ভিত্তিতে বা জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ হল। 

কিন্তু বলশেভিকরা এমনকি জারের শাসনের সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল সময়েও যে ন্যূনতম কর্মসূচীর কথা বলেছিলেন, তার মধ্যে পড়ত গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র, বড় জমিদারী বাজেয়াপ্তকরণ, এবং আট ঘন্টার শ্রম দিবস চালু করা। অস্থায়ী সরকার কি এই কর্মসূচী মেনে নিতে তৈরি ছিল? ১৯শে মার্চ প্রাথমিকভাবে বুর্জোয়া নারীবাদীদের উদ্যোগে একটি বড় মিছিল টাউরিডে প্রাসাদের দিকে রওনা দেয়। কোনো কোনো হিসেব অনুযায়ী এতে ছিলেন ৪০,০০০ মেয়ে। বিত্তবান মেয়েদের সঙ্গে নিম্ন পেটি বুর্জোয়া এবং শ্রমিক মেয়েরাও ছিলেন। মিছিলের কেন্দ্রীয় দাবী ছিল সার্বজনীন ভোটাধিকার বলতে যেন মেয়েদের ভোটাধিকারও স্বীকৃত হয়।৭৪ উল্লেখযোগ্য, মিছিল দাবীটা জানিয়েছিল প্রথমে সোভিয়েতের নেতাদের, অস্থায়ী সরকারকে নয়। বেশ কিছুটা ইতস্তত করে তবে সোভিয়েতের নেতারা স্বীকার করতে বাধ্য হন যে বিপ্লবী রাশিয়াতে মেয়েদের ভোট মানতেই হবে। সোভিয়েতের সমর্থন পেয়ে তবে তাঁরা গেলেন প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স ল’ভভের কাছে। ল’ভভ বলার চেষ্টা করেন যে ভোটের আইন তৈরি হয়ে গেছে, এখন আর মেয়েদের ভোট দেওয়া যাবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মেয়েদের দাবী মুখে মেনে নিলেন, যদিও তা আইনে রূপান্তরিত হতে জুলাই গড়িয়ে গেল। অর্থাৎ, সব পুরুষ ভোট পাবে, এটা স্থির করতে লেগেছিল বড়জোর ১৮ দিন, কিন্তু মেয়েদের ভোট দিতেই লেগে গেল কয়েক মাস। এই অস্থায়ী সরকার যে প্রগতিশীল না, এবং বুর্জোয়া নারীবাদীরাও যে সেই কারণে প্রথমে সোভিয়েতের সমর্থন চেয়েছিলেন, সেটা বুঝলে, স্তালিনের এই সরকারের প্রতি আস্থা বিষ্ময়ের ঘটনা।

২৩শে মার্চ, অস্থায়ী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিউকভ একটি সংবাদপত্রে সাক্ষাৎকারে বলেন, কোনো শান্তি সম্মেলন হলে রাশিয়ার দাবী হবে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির সাম্রাজ্য-অধিকৃত ইউক্রেনীয় এলাকা, এবং কনস্ট্যান্টিনোপল ও দার্দানেলিস প্রণালীসোভিয়েতের আবেদনের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী, এবং  খোলাখুলি সাম্রাজ্যবাদী এই ঘোষণার ফলে সোভিয়েত প্রতিবাদ করে। অস্থায়ী সরকার একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় যার ভাষা একটু অন্য। কিন্তু মিলিউকভ ম্যাঞ্চেস্টার গার্ডিয়ান পত্রিকাকে বলেন, মিত্রশক্তির প্রতি রাশিয়ার অঙ্গীকার অটুট থাকবে। ফলে, স্তালিন যখন দাবী করছিলেন যে অস্থায়ী সরকার “আমাদের” কর্মসূচী রূপায়ণে বাধা দিচ্ছে না, তখন আসলে অস্থায়ী সরকার নরমপন্থী সমাজতন্ত্রীদেরও চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিল।

বলশেভিকদের সমস্যার কারণ ছিল তাঁদের ১৯০৫-এর রণনীতি – যে শ্রমিক ও কৃষকের বিপ্লবী গণতান্ত্রিক ডিক্টেটরশিপের কাজ হবে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে সম্পন্ন করা। কামেনেভ বা স্তালিন মেনশেভিকদের মত সরাসরি বুর্জোয়া নেতৃত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করেন নি। লারস লি-র সমস্যা, তিনি মনে করেন, কামেনেভকে সমালোচনা করার অর্থ তাঁকে মেনশেভিক বলা। তাঁরা অস্থায়ী সরকারকে ‘নিয়ন্ত্রন’ করার কথা বারে বারে তুলছিলেন। তাঁরা অস্থায়ী সরকারকে পুরো সমর্থনের কথা বলেন নি, কিন্তু তার কাজের মধ্যে প্রগতিশীলতা দেখেছিলেন এবং সেই প্রগতিশীলতাকে সমর্থন করতে চেয়েছিলেন, কারণ তাঁরা প্রতিবিপ্লব বলতে তখন পর্যন্ত বুঝেছিলেন জারতন্ত্রী শক্তিকে। জারের উচ্ছেদের সঙ্গে সঙ্গে যে বুর্জোয়া উদারপন্থীরাই প্রতিবিপ্লবের প্রধান স্তম্ভে পরিণত হয়েছে, সেই বোধ তাঁদের লেখা বা বক্তৃতায় পাওয়া যায় না। সুতরাং বলশেভিকরা মেনশেভিকে পরিণত হন নি, কিন্তু কামেনেভ-স্তালিনের মতাবলম্বী বলশেভিকদের সঙ্গে মেনশেভিকদের দূরত্বটা কমে গিয়েছিল। মার্চ সম্মেলন মেনশেভিকদের সম্পর্কে যে অবস্থান নিল, তা ছিল লেনিনের বিপরীত। ৩০শে মার্চ কামেনেভ জানান, তিনি বামপন্থী মেনশেভিক ও সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন, এবং সোভিয়েতের কার্যনির্বাহী সমিতিতে আন্তর্জাতিকতাবাদীদের ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব আনতে হবে। ৭৫

সম্মেলনে সকলে অবশ্যই একমত ছিলেন না। এক বহুদিনের বলশেভিক কর্মী, ক্রাসিকভ, কামেনেভের জবাবে বলেন, “আমরা যদি সোভিয়েতকে জনগণের ইচ্ছা প্রকাশকারী সংস্থা মনে করি, তা হলে আমাদের সামনে প্রশ্ন নয়, যে এই বা ঐ নির্দিষ্ট প্রশ্নে কি পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা যদি মনে করি শ্রমিক শ্রেণীর ডিক্টেটরশিপের বাস্তবায়নের সময় এসেছে, তা হলে প্রশ্নটা সেভাবেই রাখা উচিৎ”। এর পর সভাপতি ক্রাসিকভকে বক্তব্য রাখা থেকে থামিয়ে দেন, কারণ , তিনি বলেন, “শ্রমিক শ্রেণীর ডিক্টেটরশিপের প্রশ্ন আলোচ্য বিষয় নয়”। ৭৬

রাত সাড়ে তিনটের সময়ে বসে বলশেভিক ও মেনশেভিকদের যৌথ অধিবেশন। দীর্ঘ আলোচনার পর ৭৪-৬৬ ভোটে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, কার্যনির্বাহী কমিটির প্রস্তাবের বিরুদ্ধে, যৌথভাবে একটি স্বাধীন প্রস্তাব পেশ করা হবে। লক্ষ্যণীয়, বলশেভিকদের সম্মেলনে কামেনেভ বলেছিলেন, বামপন্থী মেনশেভিকদের সঙ্গে বসা হবে, কিন্তু বাস্তবে নামের তালিকা দেখায়, লিবার-এর মত মধ্য-দক্ষিণপন্থী মেনশেভিকরাও উপস্থিত ছিলেন। এমন কি, দুই সংগঠনের যৌথ প্রস্তাব স্থির করার কমিটিতেও লিবারের নাম রাখা হয়েছিল।

১ এপ্রিল পার্টি ঐক্য ছিল আলোচনার বিষয়বস্তু। জর্জিয়ার মেনশেভিক নেতা, এবং ১৯১৭ সালে মেনশেভিকদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, ইরাকলি সেরেতেলি, ঐক্য নিয়ে যে প্রস্তাব করেছিলেন, তার উপর আলোচনা হয়। স্তালিন বলেন, ঐক্য আলোচনাতে বলশেভিকদের যাওয়া উচিৎ, এবং জিমারওয়াল্ড-কিয়েনথালের ভিত্তিতে ঐক্য সম্ভব। স্ক্রিপনিক এবং অংশত মলোটভ তার বিরোধিতা করেন। মলোটভ বলেন, সেরেতেলিও নিজেকে জিমারওয়াল্ডপন্থী বলেন, কিন্তু তার সঙ্গে জোট গড়ার চেয়ে রাজনৈতিকভাবে সঠিক হবে মজবুত আন্তর্জাতিকতাবাদী সমাজতন্ত্রী কর্মসূচীর ভিত্তিতে একটি সংখ্যালঘু ঐক্য। সমালোচকদের জবাবে স্তালিন বলেন, “আগাম দৌড়ে গিয়ে মতভেদ কি হবে তা ভাবার কোনো মানে হয় না। মতভেদ ছাড়া কোনো পার্টি জীবন নেই। আমরা পার্টির মধ্যে খুচরো মতভেদ কাটিয়ে উঠতে পারব”।৭৭ লেনিন যে জিমারওয়াল্ড প্রস্তাবকে মধ্যবর্তী, এবং আর গ্রহণযোগ্য নেই বলে মনে করছিলেন, স্তালিন-কামেনেভ সেই প্রস্তাবকেই যথেষ্ট ভিত্তি বলে ভাবছিলেন।

এই ছিল বলশেভিক পার্টিতে মার্চের শেষে এবং এপ্রিলের গোড়ায় অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে ৩ এপ্রিল সন্ধ্যাবেলা এসে পৌছলেন লেনিন। সেই সভাতেই তিনি পড়ে শোনালেন তার হাতে লেখা দলিল, যা এপ্রিল থিসিস নামে ইতিহাসে বিখ্যাত। এই দলিল ১৯১৭-র বিপ্লবে, এবং লেনিনের রণনীতি রূপান্তর বোঝার ক্ষেত্রে, এতটাই গুরুত্বপূর্ণ, যে তার কয়েকটা অংশ খুঁটিয়ে দেখা আবশ্যক। লেনিনের ফেরার ফলে বলশেভিক দলে যে আলোড়ন হল, তার পরিণতি হল বলশেভিকদের রণনীতিতে মৌলিক রূপান্তর, যা না হলে অক্টোবর বিপ্লব এবং সোভিয়েত ক্ষমতা দখল ঘটত না।  

লেনিনের দলিলে প্রথম থিসিসে বলা হল, যুদ্ধের চরিত্র পালটায় নি, যুদ্ধ এখনও সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ। নতুন সরকার পুঁজিবাদী সরকার, তাই  “বিপ্লবী প্রতিরক্ষাবাদ”-এর প্রতি সামান্যতম ছাড় দেওয়া চলবে না। অর্থাৎ, লেনিন সরকারের যুদ্ধনীতিকে সর্বাত্মক আক্রমণ করলেন, এবং এই অবস্থায় কোনো অজুহাতে, এমন কি বিপ্লব রক্ষার নামে, যুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিরোধীতা করলেন।  তিনি বললেন, বিপ্লবী যুদ্ধ, প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধ, তখনই সমর্থনযোগ্য, যখন ক্ষমতা যাবে শ্রমিক শ্রেণী ও দরিদ্রতম কৃষকদের হাতে, যখন শুধু মুখে না, কাজে অন্য দেশ দখলের লক্ষ্য ত্যাগ করা হবে, এবং যখন সরকার ধনতন্ত্রের সব স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়বে।

থিসিস ২ঃ “রাশিয়াতে বর্তমান মুহূর্তের বৈশিষ্ট্য হল যে বিপ্লবের প্রথম স্তর, যখন বুর্জোয়া শ্রেণী ক্ষমতা পেয়েছিল শ্রমিক শ্রেণীর সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার জন্য, তা থেকে দ্বিতীয় স্তরে উত্তরণ, যা ক্ষমতা দিতে বাধ্য প্রলেতারীয়েত ও কৃষকদের দরিদ্রতম স্তরের হাতে”। দেখা যাচ্ছে, লেনিন মেনশেভিকদের সঙ্গে তো একমত না-ই, তিনি এমনকি ১৯০৫-০৭-এর বলশেভিক দিশার সঙ্গেও একমত না। তিনি মনে করেছিলেন, বুর্জোয়া শ্রেণী ক্ষমতা পেয়েছে কেবল শ্রমিকদের সীমাবদ্ধতার জন্য। এই থিসিসকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লেনিন পার্টি ঐক্য এবং কামেনভদের নীতির খোলাখুলি সমালচনা করেন। “কমরেড, আপনাদের এই সরকারের উপর আস্থা রয়েছে। এই যদি আপনাদের অবস্থান হয়, তাহলে আমাদের পথ আলাদা হয়ে যাবে। ... একজন লিয়েবকনেখট ১১০ জন স্টেকলভ এবং চখেইদঝের ধাঁচের প্রতিরক্ষাবাদীর চেয়ে ভাল”। 

থিসিস ৩ঃ অস্থায়ী সরকারকে কোনোরকম সমর্থন না। এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রাভদা এই সরকারের কাছে দাবি করছে, এরা যেন অন্য দেশ দখল করবে না বলে। পুঁজিবাদী সরকারের কাছ থেকে এমন দাবী করা অর্থহীন।

থিসিস ৪ঃ স্বীকার করতে হবে যে শ্রমিক ও সৈনিকদের প্রতিনিধিদের সোভিয়েতে আমাদের দল সংখ্যালঘু, এবং জনগণকে বোঝাতে হবে যে সোভিয়েত হল বিপ্লবী সরকারের একমাত্র সম্ভাব্য রূপ, তাই যতদিন এই সরকার বূর্জোয়া শ্রেণীর কাছে আত্মসমর্পণ করবে, ততদিন কর্তব্য জনগণের কাছে ধৈর্য ধরে, সুশৃংখলভাবে ঐ কৌশলের ভ্রান্তি ব্যাখ্যা করতে হবে।

থিসিস ৫ঃ এখানে লেনিন সরাসরি সংসদীয় গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উন্নততর গণতন্ত্র হিসেবে উপর থেকে তলা পর্যন্ত সোভিয়েতদের ভিত্তিতে সাধারণতন্ত্রের দাবী করলেন এবং বললেন যে সোভিয়েত থেকে পার্লামেন্টের দিকে যাওয়া হবে পিছু হঠা।

থিসিস ৬ঃ কৃষি কর্মসূচিতে ভরকেন্দ্র সরাতে হবে ক্ষেতমজুরদের প্রতিনিধিদের দিকে। সব জমিদারী বাজেয়াপ্ত করতে হবে। দেশের সব জমি জাতীয়করণ করতে হবে।

থিসিস ৮ঃ সামাজিক উৎপাদন, এবং দ্রব্য বন্টনকে সোভিয়েতদের নিয়ন্ত্রনে আনতে হবে।

লেনিন বলেন, অবিলম্বে পার্টি কংগ্রেস ডাকা দরকার, এবং সেখানে সাম্রাজ্যবাদ, রাষ্ট্র সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গী এবং পুরোনো ন্যূনতম কর্মসূচী পাল্টাতে হবে, এবং পার্টির নতুন নাম নিতে হবে। ৭৮

লেনিনের বক্তৃতায় তাঁর কমরেডদের অধিকাংশই হতবাক হয়ে পড়েন। সেদিনের সভায়, যেহেতু কামেনেভরা তখন বামপন্থী মেনশেভিকদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন, তাই সেরকমও কয়েকজন ছিলেন। সুখানভ পরে লেখেন, “আমি কখনো ওই বজ্রনাদ বক্তৃতা ভুলব না, যা কেবল আমার মত অবিশ্বাসীকেই বিস্মিত করে নি ... বরং সব খাঁটি বিশ্বাসীদেরও...”। সবচেয়ে দক্ষিণপন্থী সমাজতন্ত্রী সংগঠন ছিল প্লেখানভদের ইয়েদিনস্তভো। তাঁরা তাঁদের পত্রিকাতে লেনিনের বক্তব্যকে পাগলের প্রলাপ বলে চিহিত করেনই এপ্রিল রুশ ব্যুরোর সভায় স্তালিন এপ্রিল থিসিসের বিরোধীতা করেন।৭৯ ৭ই এপ্রিল প্রাভদা যখন লেনিনের ওই প্রবন্ধটি প্রকাশ করে, তখন তা একা তাঁর নামে প্রকাশিত হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির বামপন্থীরাও এতদূর যেতে রাজী ছিলেন না। পরদিন প্রাভদা কামেনেভের জবাব ছাপে, যাতে তিনি বলেন, রুশ ব্যুরো বা প্রাভদা সম্পাদকমন্ডলী কেউই লেনিনের সঙ্গে একমত না। 

এরপর প্রায় একমাস ধরে চলে আন্তঃপার্টি বিতর্ক। “পুরোনো বলশেভিকবাদের” নামে কামেনেভের নেতৃত্বে অনেকে লেনিনের নয়া নীতির বিরোধীতা করেন। তাঁদের মনে হল, লেনিন ট্রটস্কীর অতীতে সমালোচিত “নিরন্তর বিপ্লব” রণনীতি মেনে নিচ্ছেন। লেনিনকে সাবধানে পা ফেলে এগোতে হয়। বাস্তববাদী বিপ্লবী হিসেবে তিনি জানতেন, পার্টির কমরেডদের নিজের মতের দিকে টেনে আনতে হবে। তাই তিনি তাঁর বক্তৃতায় কোনো নেতৃস্থানীয় কমরেডকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন নি। কিন্তু ঐক্যের চেয়ে একা দাঁড়ানো ভাল, বা যুদ্ধকে সামান্যতম সমর্থন করার নিন্দা, মার্চের মাঝামাঝি থেকে যে প্রস্তাবগুলি আসছিল তাদের সমালোচনা।  এপ্রিলের শেষে পার্টির সপ্তম সারা রাশিয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে স্থির হয়। তার প্রস্তুতি হিসেবে ১৪ এপ্রিল থেকে ২২ এপ্রিল পেত্রোগ্রাদ নগর সম্মেলন হয়।  

ইতিমধ্যে বহু শ্রমিক বামপন্থী দলগুলিতে আসছিলেন। বলশেভিকরা রাজনৈতিক শিক্ষার উপর বেশী জোর দিতেন বলে তাঁদের দলে সদস্য হওয়া তুলনামূলক ভাবে কঠিন ছিল। তবু, রাবিনোভিচের হিসেবে, ফেব্রুয়ারিতে পেত্রোগ্রাদে পার্টির সদস্য ছিলেন ২০০০ জন, আর এপ্রিলে সেটা বেড়ে হয় ১৬,০০০।৮০ মার্সেল লিয়েবম্যান মনে করেন, বহু জঙ্গী, তরুণ সদস্য আসার ফলে “পুরোনো বলশেভিকদের” তত্ত্বগত রক্ষণশীলতা ও স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠা সহজতর হয়েছিল।৮১ কিন্তু শুধু পার্টির আভ্যন্তরীণ চাপের কথা ভাবলে ভুল হবে। শ্রেণী সংগ্রামের বিকাশ দলে পরিবর্তন আনছিল। যুদ্ধ নিয়ে সংকট দেখা দেয় এপ্রিলের মাঝামাঝি, যখন জানা গেল, বিদেশমন্ত্রী মিলিউকভ ব্রিটিশ ও ফরাসী রাষ্ট্রদূতদের চিঠি লিখে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অস্থায়ী সরকার ‘গ্যারান্টি’ চায় [অর্থাৎ সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ চায়], এবং সেই জন্য নির্দিষ্ট ফল অবধি যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। ২০ এপ্রিল এই চিঠি বিভিন্ন খবরের কাগজে ছাপা হয়। 

শ্রমিক এবং সৈনিকরা মিলিউকভের মত ইতিহাসের অধ্যাপক না হলেও, এইটুকু বুঝতে তাঁদের অসুবিধা হল না, যে মিলিউকভ তাঁদের প্রতিনিধি না, মিলিউকভের শ্রেণীগত লক্ষ্য তাঁদের নয়। প্রিয়ব্রাজেনস্কি রেজিমেন্টের অন্যতম বিপ্লবী সৈনিক নেতা, ফেডোর লিন্ডে, প্রথমে সৈনিকদের জমায়েত করে সোভিয়েতের কাছে নিয়ে গেলেন। কিন্তু সোভিয়েত উলটে তাকেই নিন্দা করল। পরদিন, হাজার হাজার সৈনিক এবং শ্রমিক মিছিল করেনএকটি লিফলেট বিলি করা হয়, যাতে বলা ছিল, ‘অস্থায়ী সরকার নিপাত যাক’। সন্দেহ করা হয়, বলশেভিকদের পিটার্সবুর্গ কমিটির বামপন্থী সদস্য বাগদাতিয়েভ ঐ লিফলেটের জন্য দায়ী । ২২শে এপ্রিল লেনিন এই স্লোগানের সমা্লোচনা করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যতদিন না বিপ্লবীরা শ্রমিক শ্রেণীর সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পাচ্ছেন, ততদিন এমন স্লোগান তোলা হয় ফাঁকা আওয়াজ, নয় তো হঠকারিতা।  কিন্তু এপ্রিলের এই ঘটনা শ্রমিকদের মধ্যে প্রথম বাঁয়ে ঘোরা আরম্ভ করল, আর বলশেভিকদের মধ্যে অস্থায়ী সরকার সম্পর্কে লেনিনের বক্তব্য কত ঠিক তা বুঝতে সাহায্য করল।

এই অবস্থায় ২৪শে এপ্রিল শুরু হল সপ্তম পার্টি সম্মেলন। পাঁচ সদস্যের যে সভাপতিমন্ডলী নির্বাচিত হল, তাতে ছিলেন লেনিন, জিনোভিয়েভ, ইয়াকভ সভের্দলভ, পিটার্সবুর্গ কমিটির এবং পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের নেতা ফেদোরভ, এবং মুরানভ। ভোট দেখাল, লেনিনের পক্ষে সমর্থন বাড়ছিল। সেটা আরো বোঝা যায়, যখন আমরা দেখি, এই সম্মেলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল পেশ করলেন স্তালিন, এবং লেনিনের সমর্থনে ‘বর্তমান পরিস্থিতি’ অ্যাজেন্ডাতে তিনি বক্তব্য রাখলেন।  ‘বর্তমান পরিস্থিতি’ নিয়ে মূল রিপোর্ট দেন দুজন – লেনিন এবং কামেনেভ। কামেনেভ বলেন, যেহেতু সামন্ততান্ত্রিক জমি মালিকানার অবসান হয় নি, তাই বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব সমাপ্ত হয়নি। এই ছিল লেনিনের ১৯০৫-এর মতের অনুরণন। তিনি বলেন, শেষ অবধি অস্থায়ী সরকারের সঙ্গে সোভিয়েতের খাদ্য, গণতন্ত্র ও যুদ্ধ নিয়ে দ্বন্দ্ব বাধবে। কিন্তু পার্টির কাজ নয়, সেই দ্বন্দ্ব তাড়াতাড়ি আনা। তিনি আরো বলেন, আগে থেকে সাবধান থাকলে ‘অস্থায়ী সরকার নিপাত যাক’ স্লোগান উঠত না – যেটা ছিল পরোক্ষে বলা, যে লেনিনই হঠকারিদের উৎসাহদাতা। ৮২   

আরো ছ’জন বিভিন্ন বক্তব্য রাখার পর সভের্দলভের প্রস্তাবে স্থির হয়, দুই মূল বক্তার পক্ষে দুজন করে বলবেন, তার পরও আলোচনা শেষ হবে। লেনিনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন স্তালিন ও জিনোভিয়েভ। এখানে লেনিনের সাংগঠনিক দক্ষতা দেখা জরুরী। তার দিকের বিভিন্ন সমর্থককে বাদ দিয়ে স্তালিনকে প্রথম বক্তা করার পিছনে অবশ্যই একটা উদ্দেশ্য ছিল সম্মেলনকে দেখানো, যে কামেনেভের পক্ষের একজন বড় নেতা লেনিনের সমর্থকে পরিণত হয়েছেন। আলোচনার শেষে জবাবী ভাষণে লেনিন এপ্রিল থিসিসে যে তীব্র বৈপরীত্য ছিল, তাকে কিছুটা মোলায়েম করেন। কিন্তু তিনি দেখান, তাঁর এবং কামেনেভের পার্থক্য আছে। রাইকভ তার বক্তৃতায় বলেন, রাশিয়াতে শিল্প দূর্বল, কৃষি প্রধান। তাই রাশিয়াতে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সম্ভব নয়। লেনিন রাইকভের জবাবে বলেন, এটা মার্ক্সবাদ নয়, মার্ক্সবাদের হাস্যকর নকল মাত্র।৮৩ এরপর সম্মেলন ভোটের মাধ্যমে নয় সদস্যের একটি কমি্টি নির্বাচিত করে, ‘বর্তমান পরিস্থিতি’ নিয়ে চূড়ান্ত দলিল লেখার জন্য। এই ন’জনের মধ্যে চারজন ছিলেন লেনিনের সমালোচক – কামেনেভ, বুবনভ, মিলিউটিন এবং নোগিন। অর্থাৎ, লেনিন গোটা পার্টিকে নিজের মতের দিকে টেনে নিতে পারেন নি। ২৯শে এপ্রিল জিনোভিয়েভ প্রস্তাব আনেন, স্টকহোমে আগামী ১৮ই মে জিমারওয়াল্ডপন্থীদের যে আন্তর্জাতিক সম্মেলন ডাকা হয়েছে, তাতে যোগদান করা হোক। শুধু একজন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন – তিনি লেনিন।৮৪ বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ক দলিল শেষ অবধি গৃহীত হল -- পক্ষে ৭১ ভোট, বিপক্ষে ৩৯ ভোট, এবং ভোটদানে বিরত ৮ জন, এই ব্যবধানে।৮৫ নয় সদস্যের যে কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচিত হল তাতে থাকলেন লেনিন, সভের্দলভ, জিনোভিয়েভ, স্তালিন, স্মিলগা, কামেনেভ, নোগিন, মিলিউটিন এবং ফেদোরভ।৮৬

মে মাসের গোড়ায় ট্রটস্কী রাশিয়াতে ফেরেন। সোভিয়েতে দেওয়া তাঁর প্রথম বক্তৃতা শ্রেণী সমঝোতার সরকার সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছিল। ট্রটস্কীর বক্তব্য বলশেভিকদের শতর্ক করে দেয় যে তিনি লেনিনের অনুরূপ রাজনৈতিক অবস্থান নিচ্ছেন। ট্রটস্কীর সঙ্গে বলশেভিকদের প্রথম কয়েকদিনের মধ্যেই কথা হয়। ১০ই মে লেনিন, জিনোভিয়েভ এবং কামেনেভ ট্রটস্কী এবং মেঝরায়ঙ্কা নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করেন। এর আগে লেনিন কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রস্তাব করেছিলেন প্রাভদার সম্পাদক হতে ট্রটস্কীকে আহবান করা হোক। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটি এ বিষয়ে লেনিনের চেয়ে অনেক কম নমনীয় ছিল। প্রস্তাব করা হয়, মেঝরায়ন্তসির একজন প্রাভদার সম্পাদকমন্ডলীতে বসুন, এবং কেন্দ্রীয় কমিটি একটি পার্টি কংগ্রেস ডাকুক, যাতে মেঝরায়ন্তসিরা তাঁদের প্রতিনিধি পাঠাবেন, যেমন পাঠাবেন অন্য আন্তর্জাতিকতাবাদীরা, যাঁরা ঐক্যবদ্ধ হতে চান।৮৭ লেনিন ও ট্রটস্কী দুজনেই এ নিয়ে কিছু লিখেছেন, এবং তাতে পার্থক্য থাকলেও, বিরোধ নেই। লেনিনের নিজের নোট থেকে দেখা যায়ঃ “ব্যুরো – (সিসি +...) গ্রহণযোগ্য।৮৮ এ থেকে মনে হয়, এই সময় থেকে লেনিন বড় কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছোটো একটি ব্যুরোর কথা ভাবছিলেন, যা পরে রাজনৈতিক ব্যুরো বা পলিটব্যুরো নামে খ্যাত হবে, এবং ট্রটস্কীকে তাতে নেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। ট্রটস্কীরও তাতে আপত্তি ছিল না, এই ছিল লেনিনের অনুমান। কিন্তু বলশেভিকদের একাংশের আপত্তি ছিল, এবং অন্যদিকে ট্রটস্কীরও কিছু বক্তব্য ছিল। ট্রটস্কী বলেন, তিনি ও তার সহযোদ্ধারা “বলশেভিক” পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন না, তাঁরা পার্টি ঐক্য করছেন। ১৯২৭ সালে পার্টি ইতিহাস ব্যুরোর প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো কিছু কথা বলেন, যা তাঁর আত্মজীবনীতে পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি বলেন, তিনি যখন ফিনল্যান্ড স্টেশনে উপস্থিত হন, সেখানে তার সঙ্গে দেখা করেন মেঝরায়ঙ্কার নেতারা এবং বলশেভিক কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে ফেদোরভ। তিনি বোঝেন, মেঝরায়ঙ্কার সদস্যরা বলশেভিকদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়া থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন। ঐ সংগঠনে তখন ৪০০০ জঙ্গী শ্রমিক। তাই একা বলশেভিক দলে না গিয়ে, তিনি চেয়েছিলেন মেঝরায়ঙ্কার কমরেডদের সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ দলে যেতে। ৮৯

লেনিন ও ট্রটস্কী দুজনেই ছিলেন সক্রিয় বিপ্লবী। বিপ্লবের সময়ে মতের মিল দেখে তাঁরা কৌশলগত আলোচনাই করেছিলেন, তত্ত্বের সূক্ষ্ম বিচার করেন নি। কিন্তু ট্রটস্কী যে নিজের পুরোনো অবস্থানেই ছিলেন, এবং পার্ট যে সেটা মেনে নিয়েছিল, তাঁর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল অগাস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর লেখা কিছু প্রবন্ধ নিয়ে একটি পুস্তিকা, যা পার্টির তরফে প্রকাশ করা হয়। ‘রুশ বিপ্লবের চরিত্র’ শীর্ষক অধ্যায়ে তিনি লেখেন যে রুশ বিপ্লব একটি বুর্জোয়া বিপ্লব, এই সাধারণীকরণ বেশীদূর এগোতে দেবে না, কারণ বুর্জোয়া শ্রেণী বিপ্লবের দায়িত্ব পালনে অক্ষম। শ্রমিক শ্রেণিকে স্বাধীন উদ্যোগ নিতে হবে, কিন্তু নিঃসঙ্গভাবে না, বরং কৃষক জনতা এবং শহরের অন্য দরিদ্র জনতার নেতৃত্বে থেকে।৯০ আর, পরের অধ্যায়ে তিনি মার্তভের মত মেনশেভিক আন্তর্জাতিকতাবাদীদের সঙ্গে তর্ক করে লেখেন, রাশিয়াতে স্বয়ংসম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক বিপ্লব একটি স্বতন্ত্র বিপ্লব হিসেবে  সম্ভব না, কারণ রুশ বিপ্লব ঘটছে বিশ্ব ধনতন্ত্রের এক পরিণত অবস্থায়। তাই, তিনি শেষ করেনঃ “হয় নিরন্তর বিপ্লব, না হয় নিরন্তর গণহত্যা!এই হল লড়াই, যা চলছে মানুষের ভবিষ্যতকে নিয়ে!”৯১ স্পষ্টতই, লেনিন, বা অন্য কেউ (প্রাভদার সম্পাদক স্তালিন সহ) এই সময়ে মনে করেন নি যে এই কথা বলে ট্রটস্কী পার্টির গৃহীত মতের বিরোধী কিছু বলছেন। বরং, এই পুস্তিকা পড়লে তাঁর এবং লেনিনের ঐকমত্যই দেখা যায়।

টীকাঃ

১। A. Kh. Burganov, ‘Byla li vozmozhnost’ sozdaniia demokraticheskogo praviyerl’stva pasle oktiabr’skoi revoliutsii’,  Otechestvennaia istoriia, 5, 1993, pp. 26-38.

২। Rosa Luxemburg, Zur russischen Revolution, in Rosa Luxemburg, Gesammelte Werke, Band 4, Dietz Verlag, Berlin 1990, pp. 341, 349, 356, 365.

৩। Valentino Gerratana, “Stalin, Lenin, and ‘Leninism,’” New Left Review, no. 103, May-June 1977, newleftreview.org/I/103/valentine-gerratana-stalin-lenin-and-leninism

৪। Barbara.C. Allen, Alexander Shlyapnikov, 1885-1937: Life of an Old Bolshevik, Brill, Leiden, 2015

K. Marx and F. Engels, Collected Works, [MECW] Vol. 6, Progress Publishers, Moscow, 1976, p. 504.

K. Marx and F. Engels, Selected Works, Vol. 2, Progress Publishers, Moscow, 1977, p. 189.

MECW:6, p. 519.

K. Marx, ‘The Bourgeoisie and Counter-Revolution’, MECW:8, 1977, pp. 160-3.

R.C. Elwood (Ed), The Russian Social Democratic Labour Party 1898 – October 1917, vol 1 of R. H. McNeal, General Editor, Resolutions and Decisions of the Communist Party of the Soviet Union, University of Toronto Press, Toronto, 1974, p. 45.

১০N. Riazanov, ‘The Draft Programme of ‘Iskra’ and the Tasks of Russian Social Democrats’, in Richard B. Day and Daniel Gaido (Ed and trans), Witnesses to the Permanent Revolution: The Documentary Record,  Haymarket Books, Chicago, 2011, pp. 67-134. [hereafter mentioned as Day and Gaido]

১১G.V. Plekhanov,’  ‘Orthodox’ Pedantry’, in Day and Gaido, pp. 135-168.

১২L. Trotsky, The Young Lenin, Penguin, Harmondsworth, 1974, pp. 165-66.

১৩Michael Lowy, The Politics of Uneven and Combined Development, Verso, London, 1981, p. 33.

১৪

১৫L. Trotsky, 1905, Pelican, Harmondsworth, 1973, p. 10.

১৬Karl Kautsky, ‘Old and New Revolution’, in Day and Gaido, pp. 529-536.উদ্ধৃতির জন্যp.536.

১৭Karl Kautsky, ‘The Driving Forces of the Russian Revolution and Its Prospects’, in Day and Gaido, pp. 567-608.এর মধ্যে লেনিন ও ট্রটস্কীর লেখা মুখবন্ধ দুটিরও অনুবাদ রয়েছে।

১৮ p. 607.

১৯Massimo Salvadori, Karl Kautsky and the Socialist Revolution , Verso London, 1979, p162. 

২০Rosa Luxemburg, ‘The Role of the Bourgeoisie and the Proletariat in the Russian Revolution’, in Day and Gaido, pp. 543-566.

২১ঐ। কৃষকদের প্রসঙ্গে  pp. 562-565.

২২G. Zinoviev, History of the Russian Communist Party (Bolsheviks), New Parks, London, 1980, pp. 107-8.

২৩Iskra, 1 January 1905

২৪Leon Trotsky, ‘Up to the Ninth of January (1905)’, in Day and Gaido, pp. 273-332.

২৫Parvus, ‘What Was Accomplished on the 9th of January’, Day and Gaido, pp. 251-272.

২৬L. Trotsky, ‘Eight Hours and a Gun’, in L. Trotsky, 1905, pp. 194-201.

২৭Kunal Chattopadhyay, Aninda Banerjee, Saurobijay Sarkar (Eds), Leon Trotsky, The Permanent Revolution and Results and Prospects [PRRP], Aakar Books, Delhi, 2005, pp. 3-93তে ইংরেজী অনুবাদ আছে। বাংলা অনুবাদের জন্য লিয়ঁ ট্রটস্কী, রুশ বিপ্লব ১৯০৫ঃ ফলাফল ও ভবিষ্যতের দিশা, নয়া আন্তর্জাতিক প্রকাশনা, কলকাতা ১৯৯১।

২৮L. Trotsky, ‘The Proletariat and the Russian Revolution’, in L. Trotsky, 1905, p. 313.জ্যামিতিক বলতে কার্টেসীয়, বা প্রাক-দ্বান্দ্বিক যুক্তিবাদের কথা বলা হচ্ছে।

২৯L. Trotsky, PRRP, p. 41

৩০L. Trotsky, History of the Russian Revolution, Aakar Books, delhi, 2014.

৩১L. Trotsky, PRRP, p. 58.

৩২বিশদ আলোচনার জন্য দ্রষ্টব্য Kunal Chattopadhyay, Leninism and Permanent Revolution, Antar Rashtriya Prakashan, Baroda, 1987

৩৩V. I. Lenin, Complete Works,[LCW],  Progress Publishers, Moscow, 1965 onwards, vol 1, pp. 218, 93, 430, 437, 438.

৩৪Neil Harding, Lenin’s Political Thought, 2 vols., MacMillan, London and Basingstoke, vol. 1, 1977, vol. 2, 1981.

৩৫LCW, vol. 1, pp. 236, 379-80, vol.3, 316-17.

৩৬V.I. Lenin, ‘Social Democracy and the Provisional Revolutionary Government’, LCW, vol. 8, pp. 291-2.

৩৭LCW, vol. 8, p. 385.

৩৮The Agrarian Programme of Social-Democracy in the First Russian Revolution, 1905-1907, in LCW, vol. 13, pp. 239, 343.

৩৯LCW, vol. 8, pp. 328-9.

৪০LCW, vol. 9, p. 136.  এছাড়া pp. 50-1, 100, 130.

৪১লিয়ঁ ট্রটস্কী, রুশ বিপ্লব ১৯০৫ঃ ফলাফল ও ভবিষ্যতের দিশা, পৃঃ ৮।

৪২PRRP, p. 205.

৪৩L. Trotsky, 1905, pp. 293-4.

৪৪L. Trotsky, 1905, p.52.

৪৫। KPSS v bor’be za pobedu sotsialisticheskoi revolyutsii v period doevlastii, 27 Fevralya --- 4 iyulya 1917 g, Sbornik dokumentov, Moscow 1957, p. 1171; E. Burdzhalov, ‘O taktike bol’shevikov v marte-aprele 1917 goda’, Voprosy istorii, 1956, no. 4, pp. 38-56, esp. p. 41; KPSS v bor’be…, p. 72.

৪৬। Tretii S”ezd RSDRP Protokoly, Gospolitizdat, Moscow, 1958, p.15.

৪৭। পিটার্সবুর্গ কমিটির সম্পর্কে তথ্যের জন্য P.F. Kudelli (Ed), Pervyi legal’nyi Peterburgskii komitet bol’shevikov v 1917g, Sbornik materialov i  protokolov zasedanii, Moscow-Leningrad, 1927.

৪৮। Ibid., pp. 9-10.

৪৯। ইস্তাহারের জন্য N. Avdeev, Revolutsiya 1917 goda. Khronika sobytii, Vol 1, Moscow, 1923, pp. 185-6.   সরকার নিয়ে সমস্যা ও তা নিয়ে আলোচনার জন্য  ‘Protokoly i Rezolyutsii Byuro, TsK RSDRP(b), (Mart 1917 g)’, Voprosy istorii KPSS, 1962, No.3, p. 141.

৫০ স্টাসোভা যে সদস্য ছিলেন তা নিশ্চিত। কিন্তু মারিয়া উলিয়ানোভা, আনা এলিজারভা, খাখারেভ, এরেমিয়েভ এবং বোকি সদস্য ছিলেন কি না তা নিয়ে সংশয় আছে। স্তালিন সম্পর্কে সিদ্ধান্তের জন্য দেখুন ‘Protokoly i rezolyutsii …’, p. 143. ১৯৫৬-র আগে কেন এই সব দলিল দুপ্রাপ্য ছিল তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। এ বিষয়ে আরো আলোচনার জন্য দেখুন Robert Slusser, Stalin in October: The Man Who Missed the Revolution, The Johns Hopkins University Press, Baltimore, Maryland, 1987, pp. 11-12.স্লাসার বলেছেন, সরাসরি তথ্যের অনুপস্থিতিতে স্তালিনের জীবনীকাররা এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নানা মত প্রকাশ করেছেন। রয় মেডভেডেভের ব্যবহৃত এক পুরোনো বলশেভিকের অপ্রকাশিত স্মৃতিচারণ থেকে মনে হয়, এর কারণ ছিল তুরুখানস্কে নির্বাসনের সময়ে স্তালিনের অ-কমরেডসুলভ ব্যবহারে অনেকের আপত্তি। Roy Medvedev, Let History Judge, Knopf, New York, 1971, p. 7.

৫১‘Protokoly i rezolyutsii …’, p. 143.

৫২ প্রাভদা, ৯, ১৫ মার্চ ১৯১৭ [ পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারে ২৮ মার্চ]।

৫৩ প্রাভদা, ৭ মার্চ ১৯১৭তে মুদ্রিত।  

৫৪ প্রাভদা, ৯ মার্চ, ১৯১৭ আহবান করেছিল সোভিয়েতের নেতৃত্বে অন্যরকম অস্থায়ী সরকার গড়তে হবে।

৫৫J . Stalin, Works, Foreign Languages Publishing House, Moscow, 1952-55, vol 3, pp. 4-9.

৫৬Aleksandr Gavrilovich Shliapnikov, Kanun semnadtsatogo goda; Semnadtsatyi god, in 3 volumes, Politizdat, Moscow, 1992 [originally 1923-31], vol 2, pp. 439, 452.

৫৭ Lars T. Lih, ‘Fully Armed: Kamenev and Pravda in March 1917’, The NEP Era: Soviet Russia 1921-1928: vol 8, 2014, pp. 55-68; Eric Blanc, A revolutionary line of march: ‘Old Bolshevism’ in early 1917 re-examined’, https://johnriddell.wordpress.com/2017/04/02/a-revolutionary-line-of-marc-old-bolshevism-in-early-1917-re-examined/ (accessed on 5/8/2017)

৫৮। উদ্ধৃত, Alan Woods, Bolshevism: the road to revolution, Wellred Publications, London, 1999, p. 528.

৫৯। এ বিষয়ে একটা তর্ক আছে। লারস লি দাবী করেছেন, লেনিনের পাঠানো চিঠিগুলির মধ্যে কেবল প্রথমটিই তিনি ফেরার আগে পার্টি নেতৃত্বের হাতে এসেছিল। উপরন্তু, ওই লেখাতে তাঁরা যে সম্পাদকীয় কলম চালিয়েছিলেন, তা কোনো দুরভিসন্ধি থেকে নয়। লেনিন বেশ কয়েকজন মেনশেভিক-সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারী নেতাকে এমন ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছিলেন, যে সেটা ছাপলে লেনিনকে রাশিয়াতে ফেরানোর জন্য ওই নেতাদের সাহায্য পাওয়া সম্ভব ছিল না। Lars T. Lih, ‘Letter from Afar, Corrections from Up Close: The Bolshevik Consensus of March 1917’, Kritika: Explorations in Russian and Eurasian History, 16, 4, 2015, pp. 799-834. শুধু প্রথম চিঠিটাই এসেছিল, এটা ১৯২৪ সালে কামেনেভ দাবী করেছিলেন। রবার্ট স্লাসার লিখেছেন, লেনিন প্রথম চিঠিটা লিখেছিলেন ৭ই মার্চ, দ্বিতীয়টা ৯ই মার্চ। দুটোই কোলোনতাইয়ের হাত দিয়ে পাঠানো হয়। Robert M Slusser, Stalin in October, pp.32-33.কোলোনতাইয়ের প্রামাণ্য জীবনীকার ইভানস ক্লিমেন্টসও একই দাবী করেছেন – Barbara Evans Clements, Bolshevik Feminist: The Life of Alexandra Kollontai, Indiana University Press, Bloomington and London, 1979, pp. 103-5.

৬০V. I. Lenin, Collected Works, Vol. 23, Progress Publishers, Moscow, 1981 (original ed. 1964), pp. 297-308. See p. 305 for the direct quotation.

৬১ প্রাভদা, ৮ এপ্রিল, ১৯১৭।

৬২  Isaac Deutscher, The Prophet Armed, Vintage, New York, 1953, p. 243.

৬৩। মিলিউকভ বলেছিলেন, “ যদি [যুদ্ধে] বিজয়ের জন্য বিপ্লবের প্রয়োজন হয়, তবে আমি চাইব যেন কোনো বিজয় না হয়”। দ্রষ্টব্য, Sarah Lovell (Ed), Leon Trotsky Speaks, Pathfinder Press, New York, 1972, p. 42.

৬৪Ibid, p. 46.

৬৫Ibid., p. 48

৬৬। F. F. Raskolnikov, Kronstadt i Piter v 1917 goda, Gosizdat, Moscow and Leningrad, 1925, p. 54.

৬৭E. Yaroslavsky, Landmarks  in the Life of Stalin, Foreign languages Publishing House, Moscow, 1940, p. 94.

৬৮L. Trotsky, Stalin

৬৯। Leon Trotsky, The Stalin School of Falsification, Pathfinder Press, New York, 1979, p. 238

৭০Ibid., pp. 240-1.

৭১ibid., pp. 241-2.

৭২ibid.,  pp. 242-5.

৭৩Ibid, p. 255.

৭৪Rochelle Goldberg Ruthchild, Equality and Revolution: Women’s Rights in the Russian Empire, 1905-1917, University of Pittsburgh Press, Pittsburgh, 2010, pp. 226-8.

৭৫Leon Trotsky, The Stalin School of Falsification, p. 256.

৭৬Ibid, p. 258.

৭৭Ibid, p. 275.

৭৮Ibid., pp. 289-98.

৭৯Revoliutsionne dvizhenie v Rossii v aprele 1917g: Aprel’skii krizis, Izdatel’stvo Akademii nauk SSR, Moscow, 1958, pp. 15-16. স্বাভাবিক কারণেই, স্তালিনের জীবদ্দশায় এই সব দলিল মুদ্রিত হয় নি। এর বিপরীতে লক্ষ্যণীয় ইয়ারোস্লাভস্কির দাবী, যে স্তালিন দৃঢ়ভাবে বিপ্লবের প্রতি বিশ্বাসঘাতক জিনোভিয়েভ ও কামেনেভকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। দ্রঃ, E. Yaroslavsky, Landmarks, p. 94.

৮০Alexander Rabinowitch, The Bolsheviks Come to Power, New Left Books, London, 1979, pp. xxi, xxxi.

৮১ Marcel Liebman, Leninism Under Lenin, Merlin, London, 1975, p. 134.

৮২Sed’maia (aprel’skaia) Vserossiiskaia konferentsiia RSDRP (bol’shevikov), Petrogradskaia obshchegorodskaia konferentsiia RSDRD (bol’shevikov) aprel’ 1917 goda: Protokoly, Gozpolitizdat, Moscow, 1958, pp. 78-86.

৮৩Ibid, p. 112

৮৪Ibid., p 372.

৮৫ Ibid, p. 373.

৮৬Ibid., p. 228. Robert Slusser, Stalin in October, pp. 81-87,দাবী করেছেন, নামগুলো সবটা লেনিনের স্থির করে রাখা। কিন্তু স্লাসারের নিজের কথা থেকেই আমরা দেখতে পাই, তিনি দুজনের নাম কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখার পক্ষে বক্তৃতা দেন, যে দুজন হলেন স্তালিন এবং কামেনেভ। লেনিনকে প্রকাশ্য সভাতে এই বক্তৃতা দিতে দেখে আমরা কি বুঝব? প্রথমত, পিছন থেকে কলকাঠি নেড়ে না, সামনে থেকে নিজের প্রস্তাব রেখে তিনি নেতৃত্ব গড়তে চাইছিলেন। দ্বিতীয়ত, এই দুজনের নামের উপর জোর দেওয়া দেখায়, দলের রণনীতি পাল্টালে আগের নীতির প্রবক্তা সব নেতাকে নেতৃত্ব থেকে তাড়াতে হবে, এই মতে তিনি বিশ্বাস করতেন না, বরং গণতান্ত্রিকভাবে নানা মতকে নেতৃত্বে রাখার পক্ষপাতী ছিলেন।

৮৭V.I. Lenin, Collected Works, volume 24, p. 421, এবং  Leninskii sbornik, no. 4, Gosizdat, Moscow, 1925, p. 303.

৮৮Leninskii sbornik, no. 4, p. 303.

৮৯ Leon Trotsky, The Stalin School of Falsification, p. 5.

৯০।https://www.marxists.org/archive/trotsky/1917/next/ch05.htm

 

 



[1]আমি ডিক্টেটরশিপ কথাটা অনুবাদ করিনি। হ্যাল ড্রেপার এবং সোমা মারিকের গবেষণাতে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও দুজনেই দেখিয়েছেন, মার্ক্স-এঙ্গেলস ডিক্টেটরশিপ অফ দ্য প্রলেতারিয়েত বলতে “একনায়কতন্ত্র” বোঝান নি। অবশ্যই এক দল, এক নেতা, মহান কর্ণধার, এই ধরণের চিন্তা তাঁদের ছিল না।  ড্রেপার মনে করেছেন এই কারণে এখানে আঙ্গিকের উপর আদৌ জোর দিতে হবে না। মারিক এ বিষয়ে ড্রেপারের বিরোধী। তিনি পারী কমিউন থেকে সোভিয়েত ধাঁচের দিকে তাকাতে চেয়েছেন। কিন্তু একনায়ক বললে যে এক নেতার উপরে শেষ অবধি জোর পড়ে, সেটা এড়াতে চেয়ে আমি বাঙ্গলায় সচরাচর যে শব্দটি ব্যবহৃত হয় তাঁকে সচেতন ভাবে সরিয়ে রেখেছি। 

 

 

 

Lula III: a new hope

Sao Paulo, October 30th. By Carlos N. 

Socio-environmentalist of the São Paulo Insurgency

 

Today, October 30, 2022, at forty-five minutes into the second half, Luís Inácio Lula da Silva (PT) was again elected President of the Republic of Brazil. After weeks of political tension and anxiety after the first round - as it could not be otherwise, because, since the 2016 legal-parliamentary coup, what we have seen is a succession of defeats for the progressive camp.

The victory was bitter, because the far right grew institutionally, electing parliamentarians and governors, in addition to Bolsonaro (PL) consolidated as the opposition leadership at the national level. Now, we must fight to guarantee Lula's inauguration, despite the Bolsonarist coup rage. An avenue of challenges and opportunities will then open up, of a size and quality unheard of since the June 2013 Journeys.

The greatest of these challenges will be facing the opposition, made up of professional politicians from the Centrão and by sectors of the far right, empowered and armed, at a level of provocation never seen in the history of the New Republic. Therefore, the first challenge for the left will be to guarantee Lula's presidency over the next few years, so that he is not impeded by a legal-parliamentary coup, like Dilma Rousseff (PT) in 2016, or the victim of a coup d'état, or even a physical attack.

The realization of this challenge is linked to the political space that we will be able to wrest from Lula throughout his government, and which, dialectically, will energize a social base that is hungry, tired, disillusioned and unemployed. Where can an anti-system mass movement on the left go?

In 2019 there was the student uprising against Bolsonaro's educational policies, and the mobilizations against the destruction of the Amazon. In 2020, in the midst of the Covid-19 pandemic, the anti-fascist journeys of the Brazilian black movement, organized supporters, and app workers resulted in relatively successful electoral campaigns for the progressive camp. Now, in 2022, we had a diffuse electoral campaign, but it made it possible to raise guidelines in the career of Lula's good voting rate in the first and second rounds - in this last stage, enabling the construction of grassroots nuclei, given the urgency of barring Bolsonaro, and elect Lula.

The mobilization of the second round, in the “all or nothing” style, could offer the left to reorganize itself from demobilized sectors, but who saw in the campaign for Lula a moment to regroup, even if temporarily. Of these broad groups formed in support of the President-elect, only a part will remain active, but if we propose concrete work within the reality of the territories, it will be possible to organize these people. Collectives that can link Lula's most progressive proposals to local demands,

discussed during the campaign, and to oppose the governments of the right and extreme right that swarm throughout Brazil.

So the new President will need street mobilization to stay in office. However, Lula is, above all, a manager of Brazilian capitalism. How much he will be willing to enter into clashes with the bourgeoisie that supports Bolsonaro-or, did not openly oppose his government-is one of the neuralgic points of the short and medium-term conjuncture.

Meanwhile, the international situation plays both ways. In Latin America, through the election of the governments of Gustavo Petro, in Colombia, and of Gabriel Boric, in Chile, the left beckons with a greater understanding of the discussion around the climate emergency, with emphasis on the speech of the former, in the Assembly of the United Nations of September 2022. This may push Lula towards a more emphatic defense of the Amazon, and question not only illegal deforestation, but also that in legal theory, despite the proximity of the point of no return, that is, , from the point at which the Amazon will enter a spiral of destruction that will culminate in irreversible damage to human life on Earth.

On the other hand, even before Lula's inauguration, at the end of the present year 2022, Europe will know the possible lack of fuel for domestic heating in winter, in this case, gas, of Russian origin, in the context of the Russian attack on Ukraine, which can intensify tempers and boost the far-rights strengthened with the rise to power of the so-called “post-fascism” in Italy in the last elections.

In Brazil, then, there is a new breath for the Brazilian left, which will make up for lost time, because there will be no second chance. We need to be inspired by the best experiences of the grassroots organization of the Movimento dos Trabalhadores Sem Teto (MTST), as well as solidarity campaigns in relation to hunger during and after the Covid-19 pandemic in Latin America, from movements linked to agroecology and poison-free food, youth for the climate, party and non-party base groups that organize themselves around territories – such as, for example, the experiences of the Frente Povo Sem Medo in the city of São Paulo.

 

Make no mistake: our space will not be offered on a platter. Any resistance by Lula and his government to the discussions around anti-racist, anti-LGBTQIA+phobic struggles, against the climate emergency, and the feminist movement, and to economic proposals that confront Brazil's historical organization, will be decisive. Centrão guarantees votes in parliament, but does not mobilize broad sectors - the extreme right does it, and we can do it again. Anyway, tonight is to commemorate the Lula III government, of a new hope for the Brazilian left.

We defeated Bolsonaro at the polls! Now, let's go for the next challenges of the working class

By the leadership of PSTU, Brazil

 

This is the first statement we have received from any revolutionary current inside Brazil. Radical Socialist is a permanent observer of the Fourth International, and our comrade organisation in Brazil works wthin the PSOL. However, we have received no statement on the elections either from the Brazilian fourth Internationalists or from PSOL as a whole. Meanwhile, the PSTU, the Brazilian section of the International Workers League-- fourth International (LIT-CI) has issued the following statement,which we carry. 

 

Lula won the elections in this second round. Across the country, workers, youth and oppressed sectors feel relieved and rightly commemorate Bolsonaro's electoral defeat.

National Directorate of the PSTU Brazil

Now, we of the working class, must remain attentive to Bolsonaro's movements so that, in the event that he does not accept the results of the polls, carry out massive mobilizations and guarantee, in the streets, with strikes and self-defense, that the will of the people be imposed.

The PSTU called and campaigned for a critical vote for Lula in this second round, to defeat Bolsonaro and his authoritarian dictatorship project in the elections. We saw how the government used, in an unprecedented way, the state machine to perpetuate itself in power, as well as having generalized sieges, carried out by a large part of the bosses, with threats and intimidation. The Federal Rodoviária Police (PRF) [road police] itself was mobilized in an absurd way to carry out blitz [surprise police operations] and prevent or hinder the opposition from voting.

The PSTU vote was critical because, despite the importance of removing Bolsonaro from the Presidency, the alternative represented by Lula-Alckmin, in our opinion, will not definitively defeat the extreme right or meet the needs of the working class. . It is a relief to defeat Bolsonaro at the polls and, we insist, we must reject any attempt by Bolsonaro against Lula's inauguration.

However, the extreme right is not defeated by elections and can be further strengthened if we do not change the conditions that made its emergence and rise possible, that is, the deep setback experienced by the country in recent decades, aggravated by the crisis, unemployment, famine and famine.

Posted at www.pstu.org.br

Translation: Natalia Estrada.

Kavita Krishnan And A Fresh Discussion Within The Indian Left

Kunal Chattopadhyay

 

Part I -- Socialist Construction, Stalinism, Anti-Fascism And Liberal Democracy

            Kavita Krishnan, till recently a Politbureau member of the CPI(ML) Liberation, and one of the most well-known individual faces on the far left, as well as among feminist circles, has resigned from the CPI(ML). This was connected to her views about the former Soviet Union, as well as questions she raises about socialism and democracy. Serious charges have been levelled against her. This short essay will not be able to take up all the issues that may require adequate treatment. However, some things need to be argued from the standpoint of revolutionary Marxism. We do so, starting with expressing our solidarity with her against the trolling and offensive attacks she has been facing. While we have our own views, we also seek to engage in a serious discussion, without an a priori closure that declares her some kind of a 'deviationist' or a ‘class traitor’ or uses other hostile epithets, which do not allow serious discussions to develop.

Kavita Krishnan in her own words:

The meat of Krishnan’s original public statement consisted of these points:

1. The need to recognise the importance of defending liberal democracies with all their flaws against rising forms of authoritarian and majoritarian populisms not just in India but around the world.

 

2. The need to recognise that it is not enough to discuss the Stalin regime, USSR, or China as failed socialisms but as some of the world’s worst authoritarianisms that serve as a model for authoritarian regimes everywhere.

 

3. The conviction that for our fight for democracy against fascism and growing totalitarianism in India to be consistent, we must acknowledge the entitlement to the same democratic rights and civil liberties for all people across the world, including subjects of socialist totalitarian regimes past and present.

 

In a subsequent Facebook post, she elaborated on these in the following way [some sentences are omitted, but I hope none that she feels are core arguments. Otherwise the text is as she wrote it, apart from minor spelling and punctuation editing]:

            “This shouldn’t need saying, it’s obvious, but I’m saying it anyway because I see some (well-meaning) people are getting it wrong: When I speak of the “importance of defending liberal democracies with all their flaws” I am NOT talking of capitalist liberal democracies as the best and final form of government.

 

1) Capitalism requires a political form and a society with a degree of formal freedom - and that is why it has till now favoured parliamentary democracies. This may be changing, of course: capitalism is aware of the benefits of totalitarianism in Russia, or China, and may well favour such forms elsewhere as well. Indian capitalists favoured Modi’s majoritarian “Gujarat model” and still do. But to the extent that capitalism needs formal democracy -- the working classes, ordinary people and of course the revolutionary left and democratic movements use that democratic form to the fullest to build their own strength and wrest rights and protections and entitlements from a reluctant state. It also does its best to expand and strengthen and deepen that democracy -- to extend it beyond the formal constitutional word on paper to reach the lives of real people including the poor and oppressed for whom those formal freedoms and protections are usually out of reach.

 

2) Today even those formal liberal democracies are in danger -- in India and the world over -- from authoritarian and majoritarian populisms and it’s from THESE that I’ve spoken of defending democracies….

 

3) The Modi regime wants to keep the constitutional parliamentary form -- but empty it of all meaningful content and turn it for all purposes into a Hindu supremacist totalitarian state which is “opposition-free”, “one party”, “one Leader”, “one language”, “one culture” (i.e., Brahminical Hindu North Indian culture), “one ideology”, “one election” etc.   We’re all resisting this together. All I’m saying is -- we have to support people all over the world who are doing the same; that includes Americans building resistance to and seeking to strengthen democratic institutions against Trumpist fascism; and Ukrainians fighting against Russian fascist invasion which threatens democracy all over Europe and in fact, the world. The left shouldn’t keep thinking that US imperialism is the sole or even the main danger in the world today. It must recognise that Putin-ruled Russia (which has puppet or client governments in former Soviet colonies and wants the same in Ukraine, backed Trump and meddled in US elections, funded pro-Brexit far-right forces in the UK).           Xi-ruled China which backs the brutal and genocidal military rulers in Myanmar, is a Han-nationalist regime “with socialist rhetoric”, and places entire Uyghur Muslim populations in concentration camps; and Modi-ruled India, Bolsonaro-ruled Brazil are a danger to the world. Alliances between these powers (Russia, China and India are holding joint military exercises as we speak) can change the “balance of power” in the world, and NOT in a good way. Russian fascists have long theorised that these three nations represent civilizational empires that ought to be able to rule in keeping with “cultural nationalism”, imperialism and fascism boldly -- without having to answer to liberal democracies and institutions like UN on “human rights” and other concepts they mock and jeer at. To this nightmarish spectre of Putin, Xi and Modi in alliance, add one of a US ruled by Putin’s and Modi’s best pal Trump who also has huge business interests in China. There is a real danger of “balance of power” in the world truly changing to make such a nightmare come true, surely the first priority ought to be to prevent it?

 

4) Fascisms have been born out of liberal democracies - in part due to inherent weaknesses of such democracies. We’ve seen that in India. But even so, no serious anti-fascist in India would equate the Modi regime with governments ruled by Congress and other parties, even when we know the latter designed and enacted many of the draconian laws and undemocratic practices that the fascists wield with such glee today.

 

5) As we defend and seek to strengthen and shore up democracies in India and other countries, we have to face the fact that “socialisms” as they’ve existed and exist today have been deeply authoritarian and totalitarian. They’ve violated the principles of civil liberties, democratic rights we defend today as completely as any fascist could -- and probably for longer periods of time. In my interview with Mathrubhumi (linked in endnotes)[i] I’ve discussed some of the reasons for this.

            My point is, any “socialism” we fight for has to be a better and more consistent democracy than the ones in capitalist liberal democracies. As I put it to my friends, with apologies to Emma Goldman who said she didn’t want a revolution that had no dancing, I don’t want a revolution without, say, habeas corpus (look it up if you don’t know, it means the citizen is protected from arbitrary arrest and incarceration by the state). In fact, any revolution which violates habeas corpus ought to be unthinkable and there ought to be all kinds of protections for it. The same for, say, the right to privacy and so on.  The socialist state ought not to be a totalising state with total power concentrated in it -- just because its intentions are good doesn’t mean citizens don’t need protection from the power of socialist states.

 

6) The argument for socialist totalitarianisms has always been -- “but they lifted countries out of absolute poverty, hunger and so on”. My answer to that is that indeed food, housing, education, health and so on, are as much democratic rights and the foundations of human freedom as civil liberties. But you can’t justify crushing the latter in exchange for the former. As I argue in Fearless Freedom, you can’t take away liberty in the name of security; likewise you can’t take away liberty in the name of feeding and clothing and housing people. Daily bread is necessary -- but so is the daily "Bread of Justice", to quote Brecht. “

 

________

 

On the Russian/Soviet Question – Our Views

 

            In view of the fact that Krishnan uses the term socialist totalitarianism, there is a vital need to clarify matters about the USSR. Historically, the overwhelming majority of those calling themselves communists, in India as well as in other parts of the world, identified themselves with the victors of the inner-party struggles in the CPSU. This is true of those who set on a reformist path long back, those who still see “Protracted Peoples’ War” as the line, as well as those who have been trying to find alternatives to these two poles. Consequently, for them, there is no such entity as Stalinism, distinct from Bolshevism. This leads to the conclusion, inevitably, that socialism had indeed been constructed in the USSR, and mutatis mutandis, in China and other countries. If there were problems, if tortures, killings, had at all existed, they can be explained away by the apologists as lies, or as necessary steps to protect socialism from imperialism.

            In recent times, Krishnan, and the CPI(ML) Liberation as a whole, had been bucking this trend in connection with the Russian invasion of Ukraine. Those who are often called “tankies” are willing to remain silent about Putin’s vilification of Lenin and the Bolshevik principle of the right of nations to self-determination, as long as Putin appears as an opponent of US imperialism. These are the last, dying, yet protracted embers of the doctrine that only US imperialism and its allies are “evil”. This has led many on the left to discover unlikely anti-imperialist heroes, including in Putin and Assad. This has led people to condemn Syrian rebels against Assad. To the credit of Krishnan, she tried to probe deeper into the history of the USSR. And this led her to conclude that the Soviet nationalities policy under Stalin was very different from what Lenin had proclaimed. Putin of course admitted as much in his speech when he condemned Lenin but said that Stalin had de facto reversed the policy, while keeping the formal shell there.[ii]

            But as long as Krishnan, or the CPI(ML), on whose behalf she had written those earlier statements and articles, remained stuck within the binary of Socialism vs Social Imperialism, there was bound to be a major problem.

            A social analysis of the USSR cannot be carried out in abstraction but must be situated historically. From 1921, there had emerged oppositional currents questioning the idea that the workers’ state was marching directly to socialism. During the last period of free inner-party debates in 1921, the Workers’ Opposition raised serious questions about whether the dictatorship of the proletariat could exist without proper Soviet democracy. In 1922, Lenin took up a battle against the growing party bureaucracy, with the oppression of national minorities in Georgia and elsewhere, as one of the principal immediate issues. By the time a stroke ended his political life, close to a year before the termination of life itself, he had identified Stalin as a key target demanding his removal as General Secretary. But the very fact that one individual could amass so much power in his hands pointed to more serious systemic problems.

            This would be taken up by the Left Opposition, led by Lev (Leon) Trotsky, Iuri Piatakov, Christian Rakovsky, Evgenii Preobrazhenskii and others. Under pressure of proletarian Petrograd (Leningrad), a section of the emerging bureaucratic layer broke with the system for a time and Zinoviev, Kamenev and their allies formed an alliance with the Left, to form the United Opposition. But by this time, even inner party democracy was dead, and the Platform of the Opposition was not printed, though they were still members of the party, several of them still members of the Central Committee. Instead, adhering to opposition views was declared incompatible with party membership.

            This would be followed by Stalin’s sudden swing, the rapid forced collectivization, the over-ambitious five year plans, and all within a bureaucratic command system that ensured increasingly skewed distribution, as well as decision making that came only from the top in a thoroughly undemocratic way.

            Leon Trotsky, in summing up and carrying forward the analysis of the Left Opposition in the 1930s, wrote a number of essays, and the book The Revolution Betrayed. There are shifts, which we cannot discuss in this short essay. Prior to 1933-34, Trotsky used the analogy with "Thermidor" (the reactionary aftermath of the French Revolution) to understand a class overturn. He, and his comrades, had thought in terms of a capitalist overturn. Since within Russia the only significant capitalist class was the rich peasantry or the kulaks, this had led Trotsky and his co-thinkers to identify, even to specific personnel (and correctly) by 1926 that part of the party leadership they saw as the Right. They assumed that the policies of Rykov and the ideological positions of Bukharin would lead to capitalist restoration. Realising the problem of charging an old Bolshevik like Bukharin with direct accusations of 'restorationism', they in fact suggested that restoration would be a consequence of their policies not their intentions. The key debate was the nature of Soviet economic growth, especially its industrialization policy.

            The description of the Stalinist faction as “centrist” was meant to signify the incapacity of this group to operate on its own behalf. In the same way, Trotsky saw the bureaucracy as emerging from the working class, first by functional separation, but then by using political power to consolidate its privileges. The centrists lacked a definitive social base in class relations and would, by turns, be drawn towards the left and proletarian policies and then towards the right, reflecting the pressure of bourgeois interests. 

            After 1933-34, there was a shift. Trotsky now recognised that the bureaucracy itself was the principal opponent of the working class for a long period to come. He now introduced the idea of a political counter-revolution, which led to no basic change in the social basis of the revolution but pulled politics to the conservative side. He argued that the bureaucracy had emerged from the working class, and had carried out a political counter-revolution, but had as yet not fully overturned the social gains of the October Revolution.

            The strengths of his use of the analogy need to be underscored. First, this meant that counter-revolution would clothe itself in the dress of the revolution. Second, in this analysis, he saw how a revolutionary upsurge is followed by a downturn, the resulting withdrawal of the broad masses from active revolutionary politics, which in turn feeds into the ability of the bureaucracy to take and consolidate power.

            In The Revolution Betrayed, Trotsky summed up the class nature of the bureaucracy. He argued that it was not a new class. Nor was it state capitalism. Rather, it was a privileged layer, which if it continued to consolidate its privileges, would inevitably want to move from privileges in consumption and distribution to control and ownership over the means of production.

[For the sake of brevity, I reproduce only one section of his much longer analysis--KC]

            "In order better to understand the character of the present Soviet Union, let us make two different hypotheses about its future. Let us assume first that the Soviet bureaucracy is overthrown by a revolutionary party having all the attributes of the old Bolshevism, enriched moreover by the world experience of the recent period. Such a party would begin with the restoration of democracy in the trade unions and the Soviets. It would be able to, and would have to, restore freedom of Soviet parties. Together with the masses, and at their head, it would carry out a ruthless purgation of the state apparatus. It would abolish ranks and decorations, all kinds of privileges, and would limit inequality in the payment of labour to the life necessities of the economy and the state apparatus. It would give the youth free opportunity to think independently, learn, criticize and grow. It would introduce profound changes in the distribution of the national income in correspondence with the interests and will of the worker and peasant masses. But so far as concerns property relations, the new power would not have to resort to revolutionary measures. It would retain and further develop the experiment of planned economy. After the political revolution – that is, the deposing of the bureaucracy – the proletariat would have to introduce in the economy a series of very important reforms, but not another social revolution.

            If – to adopt a second hypothesis – a bourgeois party were to overthrow the ruling Soviet caste, it would find no small number of ready servants among the present bureaucrats, administrators, technicians, directors, party secretaries and privileged upper circles in general. A purgation of the state apparatus would, of course, be necessary in this case too. But a bourgeois restoration would probably have to clean out fewer people than a revolutionary party. The chief task of the new power would be to restore private property in the means of production. First of all, it would be necessary to create conditions for the development of strong farmers from the weak collective farms, and for converting the strong collectives into producers’ cooperatives of the bourgeois type into agricultural stock companies. In the sphere of industry, denationalization would begin with the light industries and those producing food. The planning principle would be converted for the transitional period into a series of compromises between state power and individual “corporations” – potential proprietors, that is, among the Soviet captains of industry, the émigré former proprietors and foreign capitalists. Notwithstanding that the Soviet bureaucracy has gone far toward preparing a bourgeois restoration, the new regime would have to introduce in the matter of forms of property and methods of industry not a reform, but a social revolution.

            Let us assume to take a third variant – that neither a revolutionary nor a counterrevolutionary party seizes power. The bureaucracy continues at the head of the state. Even under these conditions social relations will not jell. We cannot count upon the bureaucracy’s peacefully and voluntarily renouncing itself in behalf of socialist equality. If at the present time, notwithstanding the too obvious inconveniences of such an operation, it has considered it possible to introduce ranks and decorations, it must inevitably in future stages seek supports for itself in property relations. One may argue that the big bureaucrat cares little what are the prevailing forms of property, provided only they guarantee him the necessary income. This argument ignores not only the instability of the bureaucrat’s own rights, but also the question of his descendants. The new cult of the family has not fallen out of the clouds. Privileges have only half their worth, if they cannot be transmitted to one’s children. But the right of testament is inseparable from the right of property. It is not enough to be the director of a trust; it is necessary to be a stockholder. The victory of the bureaucracy in this decisive sphere would mean its conversion into a new possessing class. On the other hand, the victory of the proletariat over the bureaucracy would insure a revival of the socialist revolution. The third variant consequently brings us back to the two first, with which, in the interests of clarity and simplicity, we set out."[iii]

The Labour Bureaucracy and the Stalinist Bureaucracy – Ernest Mandel’s Contribution

            This analysis would be further elaborated, notably by Ernest Mandel. His most detailed study in this regard was the book Power and Money. Mandel goes back to Rosa Luxemburg and to Marx’s own conception. For Marx and Engels, ‘the emancipation of the working classes must be conquered by the working classes themselves’. Yet the historical reality is that the working class cannot, as a whole, be permanently active in the class struggle. It is only in unusual situations, in situations we call pre-revolutionary or revolutionary, that the entire, or even bulk, of the working class engages in strikes, mass demonstrations, mass offensives, because the working class is separated from the means of production and in order to survive, must sell their labour power. Most of the time, different segments of the working class become active in the struggle against capitalism at different times.

            In the wake of successful mass struggles, only a minority of the workers remain consistently active. Most of this “workers’ vanguard”—the layer of workers who “even during a lull in the struggle...does not abandon the front lines of the class struggle but continues the war ‘by other means’”. -- preserves and transmits to newer workers the traditions of mass struggle in the workplace or the community. However, a minority of this “militant minority”, together with middle class intellectuals who have access to cultural skills from which the bulk of the working class is excluded, must take on responsibility for administering the unions or political parties created by periodic upsurges of mass activity. Mandel recognized that “the development of mass political or trade-union organizations is inconceivable without an apparatus of full-timers and functionaries.”  But he also saw in this what he called the "dialectics of partial conquest". Trade unions and parties have the potential to form an apparatus, that in times of lull between peaks of the class struggle, get an autonomous life of their own. Those workers who become officials of the unions and political parties begin to experience conditions of life very different from those who remain in the workplace. The new officials find themselves freed from the daily humiliations of the capitalist labour process. They are no longer subject to either deskilled and alienated labour or the petty-despotism of super­visors. Trade union officials try to make that position permanent, and to set extra privileges.

            The consolidation of such labour bureaucracies are intensified during periods when upturns in the long waves of capitalist development make it possible for considerable sections of workers to have gains in their wages and living conditions without incessant and massive struggles (not without any struggles, but their scale, breadth and depth go down). In such situations, the organisations find a ‘stability’ which involves lasting structures, full timers, some privileges, and protecting the organisation becomes an end in itself. Election campaigns, parliamentary lobbying, and tightly controlled, top-down forms of union negotiations replace the self-organisation and self-activity of the masses.

            Reformism was an outgrowth of this labour bureaucracy, sticking to electoralism and limited collective bargaining, fearful that mass revolutionary action might threaten the stability of the organisation. This has led to serious consequences for the working class –since reformism ignores “the structural character of the basic relations of production and of political and social class power”. During revolutionary and pre-revolutionary crises, (e.g., Italy in 1920, Germany during 1918-1923,  Spain and France in 1936-37),  the social-democratic and (from 1935) Stalinist parties successfully disorganized the workers’ struggles and organizations (workers’ councils, factory committees, etc.) in the name of preserving bourgeois democracy and the past conquests of the workers’ movement.

            Is bureaucratization then inevitable? Mandel does not argue that. He certainly makes the case that reformism cannot be willed away, that it has structural roots and will continue to be a problem till capitalism is overthrown. But in his significant work,  The Leninist Theory of Organisation, Mandel elaborated how the class struggle concretely develops the working class vanguard, a much broader layer than the party(ies), and certainly well beyond the small groups portraying themselves as THE party.

            The Seventh Congress of the Communist International began a process of transformation of the bulk of the Communist Parties. The new version of “United Front”, which pushed for the inclusion of the non-fascist bourgeois forces in such a front, actually meant the subordination of working class independence. Contrary to Mandel’s own optimism, this had a far more damaging result. When Lenin, Trotsky and their comrades in Russia, or Luxemburg, Liebknecht and their comrades in Germany, broke with the reformist leadership, they were confident that there was a mass radical working class vanguard cadre they could appeal to. Stalinist reformism in the capitalist countries, and the period of post-war 'long wave' of economic expansion, combined to finish that entire tradition of militancy.

            Mandel’s analysis of the labour bureaucracy also helps in understanding the nature of the Soviet bureaucracy. Both Trotsky and Mandel follow Marx in looking at a phase of transition between capitalism and socialism. I have argued this at length elsewhere[iv]. But such a transition called for an expansion of the world revolution. In fact, in 1917-1923 there was a revolutionary upsurge over vast areas. But in the end capitalism prevailed, leaving the isolated Soviet state in a difficult, beleaguered position. Russia’s pre-war economic backwardness was compounded by the destructive  civil war—in which a big part of the vanguard working class that had made the October Revolution died, or was removed from the productive process, absorbed into urgent tasks to save the revolution with the already weak economy further destroyed by civil war. The failure of the German and Italian revolutions, above all due to the role of the Social Democrats, resulted in an intensification of the inherent contradictions of the transitional society of the USSR between socialized production and bourgeois norms of distribution.

            The absence of material abundance and a large and concentrated proletariat meant the most important preconditions for socialist construction were not there. This enabled the condition for the growth of the Soviet bureaucracy. A layer of full-time state and party officials separate from the mass of workers emerged first to administer the distribution of scarce goods and services among the population. During the civil war, the number of state and party officials began to grow, as the Soviets requisitioned grain from the peasants to feed the urban workers and Red Army, and attempted to organize the shrinking state-owned industries for war production. The introduction of the New Economic Policy was essential, yet it also assisted the growth of the party and state bureaucracy with the revival of commodity production and circulation in both the cities and countryside. Through the purges, the Terror, the annihilation of all potential challengers to its power, especially from workers and peasants, this bureaucracy was able to create a relatively long period of its own rule, with vast material privileges. It was in and after 1991 that large sections of the bureaucracy turned categorically to the project of capitalist restoration, a process discussed, for example, in a resolution of the Inquilabi Communist Sangathan, one of our forerunner organisations.[v]

            Trotsky briefly, and Mandel much more elaborately, also recognised that errors of the Bolsheviks had assisted the rise of the bureaucracy. Trotsky wrote that the ban on opposition parties “brought after it the prohibition of factions”. Mandel stressed the substitutionist elements in Lenin and Trotsky’s writings and work in 1920-21, when they would look at the party as the only force capable of building socialism. While both would start drawing back, it would only be in the 1930s that Trotsky would settle accounts with the past. And it would be Mandel who would respond most clearly to the question of the relationship between socialism and democracy. Not only would he be the principal drafter of the Fourth International’s resolution on Socialist Democracy and the Dictatorship of the Proletariat. He would also take up seriously the matter of democratic planning.

            Trotsky’s and Mandel’s positions have been assailed from other attempts at Marxist analysis, both “State Capitalism” and variants of “New Class” theories. There is no possibility of examining that here. We can cite Perry Anderson, who emphasized that Trotsky’s analysis “...provides a theory of the phenomenon of Stalinism in a long historical temporality, congruent with the fundamental categories of classical Marxism. At every point in his account of the nature of the Soviet bureaucracy, Trotsky sought to situate it in the logic of successive modes of production and transitions between them, with corresponding class powers and political regimes, that he inherited from Marx, Engels or Lenin.......Because he could think of the emergence and consolidation of Stalinism in a historical time-span of this epochal character, he avoided the explanations of hasty journalism and improvised confections of new classes or modes of production, unanchored in historical materialism, which marked the reaction of many of his contemporaries”.[vi]

            To take a position that says, Stalinist Russia, or Maoist China, serve as “models” for other authoritarianisms, is to ignore the social character of different regimes. In fact, it was the very instability of the bureaucracy, as a social layer but not a class rooted in the mode of production, that pushed it to so much brutal force. By all means communists must condemn it, must lay out a vision of socialist construction that rejects such violence, illegality, but that has to be one without lumping Stalinism with bourgeois right-wing forces and regimes.

The Temptations of Liberal Democracy

            The memory of the democratic Soviets would disappear under an avalanche of Stalinist propaganda about why the “leading role” of the party was essential, why violation of basic human rights in the name of class struggle were legitimate. For the majority of those calling themselves communists, there existed the polar opposites – capitalist rule and “working class rule” (exercised by the upper echelons of the party, implemented through the nomenklatura). Anyone who has lived under the over three decades of CPI(M) domination in West Bengal, however disguised under a wider Left Front banner, has experienced this on a small scale. As we have written in the past, just as  hardened defenders of Stalinism would deny its wrongdoings, similarly hardened defenders in the  CPI(M) would deny that the CPI(M) had done anything wrong, insisting that people turned against it only due to bourgeois and imperialist propaganda.

            Of course there exists bourgeois propaganda. A key propaganda theme is the great value of liberal-democracy. As a matter of fact, liberal-democracy as a hyphenated reality did not exist till the twentieth century. While we cannot provide a country by country, in-depth survey, some basic data is instructive. The vote was not the sole issue. But it was an important one. Ellen Meiksins Wood points out correctly, that due to the significant separation of the economic and the political, only in capitalism can the ruling class accept a form of government where it is not directly governing. However, this is subject to the fundamental needs of the capitalist class, and as long as full separation of the direct producer from the means of production has not been achieved, this is unacceptable to capitalism. That is why, theorists have been unambiguous in early capitalism. When the Levellers debated the Army Grandees at Putney, a Leveller leader, Rainsborough, defending their demand for democracy, had said, “Really I think that the poorest he that is in England has a life to live as the greatest he; and therefore truly, sir, I think it's clear that every man that is to live under a government ought first by his own consent to put himself under that government; and I do think that the poorest man in England is not at all bound in a strict sense to that government that he has not had a voice to put himself under”.

            To this, Oliver Cromwell’s ally Henry Ireton immediately objected, on the ground that this would put those who had property and those who did not have property on the same foundations. And when, decades later, it was again necessary for Shaftesbury and the Whigs to rope in a Leveller-like social force, Shaftesbury’s ideologue, John Locke, put it clearly enough – everyone had the right to resist tyranny, if the social contract was violated. But only those who were propertied had the right of express consent—i.e., the vote.

            In 1832, the First Reform Act in UK broadened the franchise to include small landowners, tenant farmers and shopkeepers, and in the boroughs gave the vote to all householders who paid a yearly rental of 10 pounds, and to some lodgers. In other words, the entire working class was excluded. The result was a mass working class movement, the Chartist Movement. But the call for ‘manhood suffrage’, as well as the call for women’s suffrage, were resisted all out by the British Parliament. The 1867 Second Reform Act doubled the electorate, but still linked votes to property qualifications. The Third Reform Act of 1884 finally gave votes to around 60% of the men, but still excluded 40% men and all the women. It would be after World War I that all adult men aged 21 and over, and all women aged 30 or over got the vote. Equalisation of the ages for women took more years.

            The French case was more complicated. Due to the historical memory of the Jacobin Republic and its great Constitution of the Year II, the demand for male suffrage would repeatedly come up. But it would also be turned into a plebiscitary distortion by Louis Bonaparte. After his fall, the Third Republic would have male suffrage, but this was a Republic set up over the blood and bones of the Communards of Paris, defeated with some assistance from Bismarck. So one can hardly see in this a liberal-democracy. Also, in the French case, women finally got the vote only after World War II.

            In Germany, Bismarck introduced the male adult suffrage for the Reichstag, but not for the powerful Prussian provincial assembly. And it was the Social Democratic Party, especially its left-wing women leaders like Klara Zetkin, who fought for women’s suffrage. That suffrage would come only after a worker and soldier revolution had overthrown the Kaiser and the imperial system in 1918.

______

 

            These dates need to be remembered. In 1917, the February Revolution overthrew the Tsar. Members of the Tsarist Duma, elected on a restricted franchise, who till a few days back had been opposing the revolution, now strutted forward, setting themselves up as the  Provisional Government. They declared an election commission. But votes for women were ignored. On 19 March, 40,000 women marched demanding votes for women. A sidelight of this programme was, when the Bolshevik Alexandra Kollontai tried to speak, liberal organisers of the march pushed her off the steps of the Tauride Palace. Bolsheviks would persist, however, and would organise women workers and the wives of soldiers. Given that by 1917, 43% of the labour force was female, the Bolshevik ascendancy in the Soviets also meant their increasingly strong base among women.  And the October Revolution would be followed by a sweeping set of political, social, legal changes in favour of gender equality. That there was a later decay of the Russian Revolution cannot be denied. But it was the Russian Revolution that posed the question of full democracy, and Western liberalism responded only after that.

            Krishnan however would appear to see the relationship in a different way. As quoted near the beginning of this essay, she argues that capitalism “requires a political form and a society with a degree of formal freedom -- and that is why it has till now favoured parliamentary democracies.” We see things differently. As August Nimtz, Hal Draper, and others have argued, there was a distinct political current called The Democracy, in the 19th century, and Marx, Engels, and the Marxists played an important role in it. Historically, capitalism has existed in many forms, and not all parliamentary forms have been parliamentary democracies, as indicated above. Nor is it true that democracy has meant one and the same thing at all times. For all its class and gender limitation, demokratia in ancient Athens meant rule by the people in a real way. The Ekklesia or Assembly was the highest decision making body with a quorum of 6000 (in a citizen body originally assessed  at 30,000). Mass law courts with dikasts (people who acted as judge and jury simultaneously) rather than specialist elite judges, were the norms. And it was only with armed force that this rule of the people could be smashed – once when a Spartan army tore their rights away in a bloody counter-revolution; and the second and final time, when the superior military force of Macedon ended the democracy. From the time of Plato, upper class intellectuals were hostile to the democracy, as historian Jennifer Tolbert Roberts records.[vii] It would be from the time of the American Revolution, when bourgeois leaders found a need to rope in people from the subordinate classes, that they agreed to something they called democracy. But the definition rapidly changed. In place of people actually ruling, liberal democracy limited the role of the “people” [the electorate] to voting periodically.

            It would be argued that voting isn’t the only thing. Krishnan explicitly makes the point, when she talks about the Modi regime emptying the constitutional parliamentary form of all meaningful content. We would agree, but only up to a certain point. What we have to fight for is not something called liberal democracy. We have to fight for the elements of working-class democracy that two centuries of working class struggles have wrested periodically from the rulers. This of course means we need to fight fascism, and we need to make a distinction between the fascists and the other bourgeois forces.

            However, Marx’s own views about bourgeois democracy and freedom do need to be considered when we fight. Marx did not make a counter-position between how much socialism and how much democracy. From his incomplete work on the critique of Hegel’s Philosophy of Right, where he sought to show that “true democracy” needed a new content, namely communism, to his work on the Paris Commune, he shows consistent democracy in socialist terms, and consistent socialism in democratic terms, as Hal Draper put it. To provide one example of what this meant, when Marx turns to liberals and their versions of democracy he would consistently uphold complete freedom of the press. One is aware of how this was totally destroyed under Stalinism (leading to a quip attributed to Trotsky, that “there is no Pravda (truth) in Izvestiya, and no Izvestiya (news) in Pravda”).

            Counter-posing some real Liberal democracy to Modi on this field does not take us far. The controls over media stem from liberal democracy and the limits it imposes. When Liberals formed a government after the 1848 revolution in Prussia, the Neue Rheinische Zeitung, edited by Marx, was to condemn the government for trying to use Penal Laws against “slander” to gag the press. Marx saw liberalism as not really establishing full democracy, but engaging in what he calls, even for the United States of his era, the “democratic swindle”. This implied the use of democratic forms to frustrate genuine democratic control from below. Time and again Marx or Engels analysed bourgeois-democratic politics as an exercise in convincing a maximum of the people that they were participating in state power, by means of a minimum of concessions to democratic forms.

            Does this mean, that communists should be uninterested in democratic reforms? Not according to classical Marxism, though considerable parts of contemporary ultra-leftism does have some such belief. The point was clarified by Rosa Luxemburg a long time back. Revolutionary socialists are the best fighters for democratic reforms, --not because we seek to uphold bourgeois democracies but because the form of our fight against totalitarianism precisely exposes the limits of the capitalist democracies.  We do not identify liberal democracy with fascism. But nor do we contrast them as polar opposites. Rather, we show how and why bourgeois authoritarianism in its entire spectrum finds its breeding ground in liberalism. When Trotsky talks about the Workers’ United Front against fascism, he too takes a similar approach. Before Hitler’s rise to power, Trotsky hammered away at the idea that the German Communist Party (KPD) must propose to the Social Democrats a joint struggle against Hitler and that Hitler’s victory would herald the complete smashing of the workers’ movement. A united struggle could, if timely, halt the Nazis and even enable the working class to move from a defensive to an offensive position. This was why, he did not see an alliance with liberals as a useful step even in the defensive battles. But this supposedly “broader” united front with liberals would be raised as the solution at the Seventh Congress of the Communist International.

Anti-Fascism and Popular Frontism

            What is not clear is whether this view that Popular Frontism must be the response to Anti-Fascism represents Krishnan’s main line of thinking. Are  Trump, Putin, Modi and similar forces so much to the right of liberalism, that it is in the interests of the working class to defend liberal democracy against them? Also, how strongly does the CPI(ML) Liberation hold to this perspective given its political line – in West Bengal, in Bihar (where it is the strongest of the left parties who contest elections), and elsewhere. As the first draft of this essay was being written, there was news that CPI(ML) General Secretary Dipankar Bhattacharya met Nitish Kumar in Delhi.

            Once again, the lessons of history are not what those holding this binary opposition would like to read in them. The most extreme case is that of Germany. And German Social Democracy fought tooth and nail to preserve liberal democracy by liberal democratic means in Germany. But what Germany lacked, under that on paper truly democratic Weimar Constitution, was a liberal democratic partner that would collaborate with the SPD to uphold liberal democracy. A detailed study of parties, electorates, and party behaviour in parliaments show that it was not just the Nazi Party or the Monarchist-Right DNVP that was opposed to the democratic constitution. Bruening ruled for a considerable period with the help of an emergency provision and Presidential Decrees. Franz von Papen of the Catholic Center Party used the same provision to massively attack working class rights.

            This did not make any of them fascists. But this did mean that defence of working-class rights could not be ensured by making parliamentary battles the priority and forging alliances with them. It is the same today. The Congress is not the BJP. But if we look at the laws that BJP has used, how many are rooted in Congress era laws? As a Radical Socialist resolution states in part: “In the specifically Indian context we need to realize that the old Congress hegemony has given way to a Hindutva hegemony mediated at the parliamentary level by the BJP. The BJP is the one bourgeois party that secures votes because of its programme. Other parties are cynical, and by programme mean little more than periodic electoral pledges, forgotten whether elected or defeated. More, they have all accepted soft Hindutva and neoliberalism. Thus, to call upon working people to vote for these parties in the name of halting BJP’s road to power merely puts the revolutionary organization as an agent of unprincipled and degenerate bourgeois parties”.

The resolution further states: "Rejection of both neoliberalism and Hindutva politics will then provide the necessary and sufficient preconditions for an anti-capitalist politics. To say that one must put anti-capitalism on the backburner because fighting Hindutva is the first task makes the working class subordinate to the bourgeois opposition. To ignore the specificities of Hindutva fascism by saying that all non-revolutionary parties are fascist (including calling or implying that the reformist left is “social fascist”) is a horribly sectarian politics. But given the relative strengths between the reformist left and the far left even now, the main danger comes from not recognizing that revolutionary anti-capitalism must be highlighted.  This has to reject illusions, such as green capitalism, bourgeois secularism, or bourgeois welfare statism as adequate safeguards. Only by building a strong revolutionary left can this fight be waged. Such a fight is not mainly electoral. But our electoral struggle cannot follow a path going in a direction opposite to our principal struggles."

            We have been consistently arguing the following. Indian capitalism had begun a neoliberal turn at least from the beginning of Rajiv Gandhi’s Prime Ministership, but pace gathered from 1990-91. The balance of payments crisis was used to ram through devastating pro-rich policies. The minority government of P.V. Narasimha Rao could do that only by threatening the left with the bogey of the BJP. A persistent policy of lesser evilism, of making a distinction between fighting class battles and fighting fascism, meant handling the Congress government with kid gloves. The result was a further massive growth of the BJP. In 1996 it won 161 seats, its allies a further 26. The Congress lost 7.5% votes and its seats came down from 232 to 140. What was significant through all those years was the grim determination of the parliamentary reformist left to hang on to “progressive” bourgeois allies. In 1996 this led to the United Front Government, which the CPI joined, and the CPI(M) and RSP supported. The economic policies of this government showed no difference. P. Chidambaram as its finance minister presented a budget that Indian capital hailed as a “dream budget”.

            This popular frontism cost the left heavily. Its last major opportunity in electoral terms had come in 2004, when it got 61 seats. But that was followed by the decision to give “support from outside” to UPA-I. But at what cost? Civil liberties were not extended. Natural justice was not promised to the victims of the Gujarat pogrom of 2002. The rights of Kashmiris remained as they had been – violated, trampled upon. The ideological offensive during the Vajpayee regime was not rolled back. Rather, Manmohan Singh played the old Congress game of balancing between extreme Right and the soft left, when he condemned in one breath “left fundamentalists” along with Hindutva fundamentalists.

            Nor is it the case that the left took stronger positions over bread-and-butter issues. It has been a persistent failure of the left, to recognize that the strength of the left is primarily based on extra-parliamentary mobilizations. In the UPA-I period, the left seemed satisfied with the MNREGA, instead of fighting all out for the rights of workers and peasants and for even a partial roll back of neoliberalism.

            Krishnan could say that this is not what she is intending. We hope so. But we argue that this is indeed the logic of Popular Frontism, as laid down for India in the (in)famous Dutt-Bradley thesis, and as followed with variants by both the CPI(ML) Liberation and the more parliamentary embedded CPs. To fight fascism, two dimensions of struggle are needed. One, a deep-rooted ideological struggle, to counter the century long ideological offensive of Hindutva. Here, an alliance of different forces would create a parallelogram of forces in which the resultant would be shorter if the forces are too divergent. The second key dimension is the bid to forge a unity of all the exploited and oppressed. That would indeed be a united front. And it would certainly be important for the left to recognize that any attempt to impose a single party line, to ignore the voices from below, of Dalits, of Adivasis, of LGBTIQ+ forces, in the name of the authentic solution found by a self-declared vanguard, would damage the potential united front. The left can become a part of the leadership of such a front by demonstrating itself to be better, more consistent fighters. There can of course be periodic agreements with bourgeois parties for specific struggles (e.g., left and opposition bourgeois parties voting together against bills, etc). But these cannot be the principal focus of leftwing struggles against fascism. Above all, fascism is a force that on one hand has its autonomous agenda (in the Indian case aggressive Hindutva nationalism), but on the other hand carries out the agenda of the capitalist class.

            Indian capitalism did not turn to the BJP as the party of its first choice. It did so because the old Congress hegemony has broken down, and this seemed the best option after all other options failed. There, the parties that are presenting themselves as liberal opponents of the BJP have strings tied to the capitalist class. That is why, defence of working class, defence of all the oppressed, and defence of their democratic rights can’t be encapsulated by the slogan of defence of liberal democracy. If that is done, that is because one more key ideological feature of Stalinism, which it shares again with Menshevism and centrist Social Democracy (the Kautsky of the pre-1910 era) is the stage-ist conception of revolution. First achieve democracy. Then socialism. Going by Marx’s conception of socialism and democracy discussed earlier, this does not fit in with classical Marxism. In the next part we will examine in greater details issues connected to this question.

 

Part II --‘Socialist’ authoritarianism?

 If defending liberal democracy against fascism was the key issue Krishnan wants to raise then it is not a sufficient marker of ideological difference from other left parties in India. Where she does indeed crucially differ from all variants of Stalinist or Stalinism derived leftism is in her rejection of the Stalin (and Mao) model(s) as worthy of emulation, her characterisation of the former definitely, and the latter implicitly, as authoritarian. This however, travels a path to a subsequent juncture many who have left the mainstream “communist politics have arrived, since the early 1930s if not earlier. Classical Marxism was categorical in asserting that socialism would have to be democratic. Marx’s ‘Critique of Hegel’s Philosophy of Right’ stressed that American democracy (then one of the few examples of liberal democracy) was not true democracy because all were not included. For Marx, the human emancipation exemplifies the realisation of “true democracy”. Thus: “Democracy is the resolved mystery to, all constitutions. Here the constitution not only in itself, according to essence, but according to existence and actuality is returned to its real ground, actual man, the actual people, and established as its own work.”

At the same time, attacking Hegel’s idea of the bureaucracy as a universal class, standing above particular interests in civil society, Marx characterised it as a pseudo-universal entity whose members disdainfully regard popular life as material to be manipulated in the pursuit of their own careers. In the Introduction to the Critique, written a few months later and the only part to be published in Marx’s own lifetime, it is the proletariat that is identified as the universal class. Thus, the text that talks about the proletariat and communism is also the introduction to the text that lays out Marx’s idea of true democracy. Since a long narrative has gone into casting doubt about the writings of the early Marx, we only need to look at Marx on the Paris Commune, Engels on the same, and both of them on the draft programme of the united German workers’ party (the draft of the Gotha Programme). In his magnificent description and analysis of the Paris Commune, Marx stressed its democratic character. In a speech on the anniversary of the International, Marx characterised the commune explicitly as a ‘dictature’ of the proletariat.[viii] But for him, a dictatorship of the proletariat did not mean ‘authoritarianism’. Certainly, it would use force against the bourgeoisie, which would not accept a majority verdict against it as if it was a football match and the referee had blown the final whistle. Defending the Commune’s use of force, Marx wrote:

While the Versailles government, as soon as it had recovered some spirit and strength, used the most violent means against the Commune; while it put down the free expression of opinion all over France, even to the forbidding of meetings of delegates from the large towns; while it subjected Versailles and the rest of France to an espionage far surpassing that of the Second Empire; while it burned by its gendarme inquisitors all papers printed at Paris, and sifted all correspondence from and to Paris; while in the National Assembly the most timid attempts to put in a word for Paris were howled down in a manner unknown even to the Chambre introuvable of 1816; with the savage warfare of Versailles outside, and its attempts at corruption and conspiracy inside Paris – would the Commune not have shamefully betrayed its trust by affecting to keep all the decencies and appearances of liberalism as in a time of profound peace? Had the government of the Commune been akin to that of M. Thiers, there would have been no more occasion to suppress Party of Order papers at Paris that there was to suppress Communal papers at Versailles.[ix]

 

Thus, Marx was pointing out that the Commune was moderate (perhaps excessively) even while suppressing armed opponents and their supporters. At the same time, he described the Commune in terms that left no doubts about its democratic character.

Paris could resist only because, in consequence of the siege, it had got rid of the army, and replaced it by a National Guard, the bulk of which consisted of working men. This fact was now to be transformed into an institution. The first decree of the Commune, therefore, was the suppression of the standing army, and the substitution for it of the armed people.

The Commune was formed of the municipal councillors, chosen by universal suffrage in the various wards of the town, responsible and revocable at short terms. The majority of its members were naturally working men, or acknowledged representatives of the working class. The Commune was to be a working, not a parliamentary body, executive and legislative at the same time.

Instead of continuing to be the agent of the Central Government, the police was at once stripped of its political attributes, and turned into the responsible, and at all times revocable, agent of the Commune. So were the officials of all other branches of the administration. From the members of the Commune downwards, the public service had to be done at workman’s wage. The vested interests and the representation allowances of the high dignitaries of state disappeared along with the high dignitaries themselves. Public functions ceased to be the private property of the tools of the Central Government.[x]

 

And further:

In a rough sketch of national organization, which the Commune had no time to develop, it states clearly that the Commune was to be the political form of even the smallest country hamlet, and that in the rural districts the standing army was to be replaced by a national militia, with an extremely short term of service. The rural communities of every district were to administer their common affairs by an assembly of delegates in the central town, and these district assemblies were again to send deputies to the National Delegation in Paris, each delegate to be at any time revocable and bound by the mandat imperatif (formal instructions) of his constituents. The few but important functions which would still remain for a central government were not to be suppressed, as has been intentionally misstated, but were to be discharged by Communal and thereafter responsible agents.

The unity of the nation was not to be broken, but, on the contrary, to be organized by Communal Constitution, and to become a reality by the destruction of the state power which claimed to be the embodiment of that unity independent of, and superior to, the nation itself, from which it was but a parasitic excrescence.

While the merely repressive organs of the old governmental power were to be amputated, its legitimate functions were to be wrested from an authority usurping pre-eminence over society itself, and restored to the responsible agents of society. Instead of deciding once in three or six years which member of the ruling class was to misrepresent the people in Parliament, universal suffrage was to serve the people, constituted in Communes, as individual suffrage serves every other employer in the search for the workmen and managers in his business. And it is well-known that companies, like individuals, in matters of real business generally know how to put the right man in the right place, and, if they for once make a mistake, to redress it promptly. On the other hand, nothing could be more foreign to the spirit of the Commune than to supersede universal suffrage by hierarchical investiture.[xi]

So the mature Marx, who would draw the lesson of the Commune to emphasize the necessity of a change in the Communist Manifesto, was as committed to democracy in working class rule as was the Young Marx, who has been airbrushed by ideologues of High Stalinism like Althusser. As Marx and Engels wrote in the 1872 introduction to the Manifesto:

One thing especially was proved by the Commune, viz., that “the working class cannot simply lay hold of the ready-made state machinery, and wield it for its own purposes.” (See The Civil War in France: Address of the General Council of the International Working Men’ s Association, 1871, where this point is further developed.)[xii]

 

In their discussion of the programme of the German workers’ Party, they return to these issues. And when they do, they categorically differentiate their position from that of liberalism.

Between capitalist and communist society there lies the period of the revolutionary transformation of the one into the other. Corresponding to this is also a political transition period in which the state can be nothing but the revolutionary dictatorship of the proletariat.

Now the program does not deal with this nor with the future state of communist society.

Its political demands contain nothing beyond the old democratic litany familiar to all: universal suffrage, direct legislation, popular rights, a people's militia, etc. They are a mere echo of the bourgeois People's party, of the League of Peace and Freedom. They are all demands which, insofar as they are not exaggerated in fantastic presentation, have already been realized. Only the state to which they belong does not lie within the borders of the German Empire, but in Switzerland, the United States, etc. This sort of "state of the future" is a present-day state, although existing outside the "framework" of the German Empire.[xiii]

So the revolutionary dictatorship of the proletariat has to be more democratic than liberal democracy. It has to have a firm programme of bringing all bureaucracy, military separation under control and overcome special military-bureaucratic apparatus by the people in arms and democratic control over all functionaries. This would be restated by Engels when he wrote his 1891 introduction to Marx’s work on the Commune.

This shattering of the former state power and its replacement by a new and really democratic state is described in detail in the third section of The Civil War. But it was necessary to dwell briefly here once more on some of its features, because in Germany particularly the superstitious belief in the state has been carried over from philosophy into the general consciousness of the bourgeoisie and even to many workers. According to the philosophical notion, “the state is the realization of the idea” or the Kingdom of God on earth, translated into philosophical terms, the sphere in which eternal truth and justice is or should be realized. And from this follows a superstitious reverence for the state and everything connected with it, which takes roots the more readily as people from their childhood are accustomed to imagine that the affairs and interests common to the whole of society could not be looked after otherwise than as they have been looked after in the past, that is, through the state and its well-paid officials. And people think they have taken quite an extraordinary bold step forward when they have rid themselves of belief in hereditary monarchy and swear by the democratic republic. In reality, however, the state is nothing but a machine for the oppression of one class by another, and indeed in the democratic republic no less than in the monarchy; and at best an evil inherited by the proletariat after its victorious struggle for class supremacy, whose worst sides the proletariat, just like the Commune, cannot avoid having to lop off at the earliest possible moment, until such time as a new generation, reared in new and free social conditions, will be able to throw the entire lumber of the state on the scrap-heap.

Of late, the Social-Democratic philistine has once more been filled with wholesome terror at the words: Dictatorship of the Proletariat. Well and good, gentlemen, do you want to know what this dictatorship looks like? Look at the Paris Commune. That was the Dictatorship of the Proletariat.[xiv]

This clarity of perception would be diluted over time, especially as the German Social Democratic Party won major electoral victories as well as wrested economic concessions under Bismarck as well as the post-Bismarck Imperial Germany. Karl Kautsky, in recent times again hailed as a champion of left-wing forces, wrote:

The democratic-proletarian method of battle may appear more monotonous than the revolutionary period of the bourgeoisie; it is certainly less dramatic and striking, but it calls for far fewer sacrifices. This may be somewhat disappointing to those smart literary persons who come to Socialism as an interesting sport, looking for interesting stuff, but not to those who actually have to do the fighting. 

These so-called peaceful methods of conducting the class struggle, which are confined to non-military measures (parliamentarism, strikes, demonstrations, the press and similar methods of bringing pressure to bear) stand a chance of being maintained in any country the more democratic the institutions, and the greater the political and economic insight and the self control of the people.[xv]

In other words, while Kautsky differentiated himself from the right-wing of the party by insisting on the need for a working class revolution, he insisted that the revolution would follow “peaceful methods”. Such an assumption would eventually lead to his argument in a later work, The Dictatorship of the Proletariat (1918), that “The antagonism of the two Socialist movements is not based on small personal jealousies: it is the clashing of two fundamentally distinct methods, that of democracy and that of dictatorship. Both movements have the same end in view: to free the proletariat, and with it humanity, through Socialism. But the view taken by the one is held by the other to be erroneous and likely to lead to destruction”.[xvi]

Does this mean, that because Kautsky was a political degenerate by 1918, that we must uncritically side with the Bolsheviks? And if we criticise them in any way, are we arguing that Bolshevism automatically led to Stalinism? Neither is correct. A proletarian revolution did occur. It will take a full-length essay to argue why it was more democratic. For now I refer readers to an earlier article of mine.[xvii] However, not only the monarchists, and the liberals (mainly under the political leadership of the Kadet Party and the military command of former generals and other officers of the tsarist army and navy), but also the biggest non-Bolshevik socialist party, the Socialist Revolutionary Party, as well as a good part of the Mensheviks, joined hands to wage an armed struggle to overthrow the rule of the Soviets. Even left-wing Mensheviks like Martov walked out of the Congress of Soviets rather than accept the working-class seizure of power. A civil war is not the best situation in which workers’ democracy can be fully worked out. And well before the Bolsheviks had thought of the least bit of Red Terror, a left social democratic, almost Kautskyian experiment was carried out on the borders of Soviet Russia.

Revolution, Liberal Social Democratic Illusions and White Terror in Finland:

In Finland, which even under the Tsar had autonomy, and considerable freedom for political parties, a Social Democratic Party had existed. On paper the SDP claimed to be orthodox, revolutionary Marxist. This claim has been revived in recent times by Eric Blanc. In fact the party was beset by Kautskyist illusions. As just one example, at their August 1906 congress, they denounced armed struggle and ordered the Red Guards to disband on the pretext that they would be a threat to the legality of the party.

The majority of the leadership firmly believed that they could bring about socialism peacefully through parliament while preserving the trappings of liberal democracy, while leftists like Kuusinen would seek to paper over cracks, acting in typical centrist manner. When World War I broke out in 1914, the Russian tsar sent 100,000 soldiers to Finland. Parliament was suspended and both censorship and restrictions on the right to assemble were introduced. Under Nicholas II, there had been a campaign of Russification, which revived and fanned the flames of Finnish nationalism. This pushed sections of the Finnish bourgeois and petty-bourgeois into the willing arms of German imperialism, who cynically posed as friends of the Finnish people, as enlightened liberators against the tyranny of tsarist autocracy – a position the German social democrats also shamefully adopted.

However, wartime demand for Finnish exports to tsarist Russia meant not only that there was practically no unemployment but also that the Finnish big industrial capitalists were making huge profits. This landed them objectively in the camp of Russian imperialism, in order to defend their own position. Despite tsarist oppression, the Finnish industrial capitalists were loyal above all to their own narrow class interests. So it was the working class alone that could fight for Finnish independence. The SDP, with over 51000 members, was a strong force. It opposed the war, and sent representatives to the Zimmerwald Conference, where however it stayed with the pacifist, Kautskyist wing rather than the Zimmerwald Left.

Soon after the February Revolution, the Finnish working class went on strike. The workers set up a Red Guard. With the Finnish army dissolved and the Russian army and navy in revolution, there was no organised counter-revolutionary force. A Helsinki Soviet tried to take power. But the SDP rejected this path. Instead of forming a workers’ government, the SDP entered into a coalition with the bourgeois parties. Only two in the leadership voted against, including Otto Kuusinen. The new senate was led by Antti Tokoi from the SDP and consisted of six socialists and six bourgeois politicians. It soon issued appeals against “anarchy” and in favour of “order.” During the summer a party congress of the SDP again saw a struggle between the left and right wings of the party. The left-wing proposals to push for a general strike were defeated, and instead the party adopted Finnish independence with a liberal-democratic parliament as its main programmatic goal. In the 1913 Diet, the SDP and the Agrarian Party (championing peasant interests) together had a majority. Under Kerensky, Russian troops dissolved that diet. Fresh elections saw the SDP getting 92 seats out of 200, but the bourgeois parties held the majority. Later, ample evidence would be unearthed that the voting had been heavily rigged against the SDP. The SDP denounced the elections but went along with them.

The bourgeoisie, increasingly alarmed by the growing revolutionary mood, began organising their counteroffensive. After the fall of the tsar and the disorganisation of the tsarist army, the first White Guard in history was openly formed in Finland, the “Protection Guards,” to ensure that so-called “law and order” were maintained. Right-wing militias had secretly begun training around the country. During a meeting in the Stock House in Helsinki, representatives of the ruling class decided to allocate huge sums of money for these purposes. In addition, on 31 October, the Whites received a big shipment of guns from Germany.

Soon after, the Russian Revolution meant the Finnish bourgeoisie no longer had Kerensky as a protector. They used their newly won and illegitimate parliamentary majority to move towards a dictatorship, with the reactionary Pehr Evind Svinhufvud at its head.

The workers responded with a general strike and established a Revolutionary Central Council to serve as its leadership. They immediately sent representatives to meet with the Bolshevik leaders in Russia, and Lenin urged them to take power. The day they returned to Finland with this revolutionary message, the strike began. The night before, workers had received guns from Russian troops, and in mass demonstrations on the first day, 3,000 armed workers marched through the streets.

 The Whites represented just a handful of the population and did not have sufficient time to prepare for the mass upsurge. In contrast, the entire Finnish workers’ movement was mobilised in the streets, ready to respond enthusiastically to a call to establish a workers’ state.

Power was within reach. What was necessary was a leadership. But on the fourth day of the strike, a motion to take power was just barely defeated in the Revolutionary Central Council by a vote of eight against eight – with the Chairman casting the decisive vote.

On 6 December, the Finnish parliament declared that Finland was independent, which was soon recognised by the Bolshevik government, in keeping with Lenin’s repeated insistence on the right of nations to self-determination all the way to independence.

The revolutionary wave spread, including among the peasants, who began to draw the conclusion that their liberation could come only through self-action, not by waiting for decrees from parliament. But when finally the SDP moved it was with the contradictory goal of organising a revolution but only to establish an idealised bourgeois democracy.

A small White army was formed under Mannerheim, the former tsarist general, comprised of the “Protection Guards,” the 27th Jägers, and a brigade of 1,300 Swedish volunteers made up largely of bourgeois and petty-bourgeois youth. These “volunteers” included military officers that the Swedish government allowed to go on temporary “leave” to join the Finnish Whites.

The Whites attacked several poorly defended Russian garrisons in the North to acquire weapons, and it is likely that the commanders of those garrisons were complicit in letting the arms fall into the White Guards’ hands. All told at that time, they had around 5,000 troops against the 1,500 poorly armed Red Guards. But the Red Guards were heroic, and with the help of some revolutionary Russian commanders, including part of the Baltic Fleet, which was docked at Helsinki, they repelled Mannerheim’s first attacks, and began arming and training more Finnish Red Guards.

On 3 March, the Treaty of Brest-Litovsk was forced on the Bolsheviks. One clause involved the wirthdrawal of all Russian troops from Finland. As the Russians left in the aftermath of Brest-Litovsk, the Germans entered. Svinhufvud opened the door to Wilhelm II’s troops, and on 3 April, some 20,000 well-trained and equipped soldiers landed in Hangö, Helsinki, and Lovisa in Southern Finland, effectively attacking the Reds from the rear. After bitter street-by-street fighting, they captured Helsinki. One tactic used by the Kaiser’s troops was to round up the workers’ wives and children, and to march them in front of them through the streets. At least 100 women and children were killed during the fighting, and hundreds more women summarily shot without trial after Helsinki fell. They were marched out into the streets and onto the frozen ice and shot. The decisive battle came at Tavastehus. 20,000 to 25,000 Reds – who had been accompanied by their families – fought heroically before again being defeated. A few thousand escaped, but most did not. The reprisals were again brutal: the wounded were murdered in cold blood, thousands were massacred, and 10,000 taken prisoner.

“The struggle which is now in progress in Finland is not a class war… but is a collision between, on the one side a legal social order… and on the other side plain terrorist activity… the Finnish government cannot recognize for a moment these criminal gangs, which have initiated violence against all human and divine rights, are a belligerent party with who negotiations are possible.”

This was the announcement made by the Whites to justify murder of working-class activists with no trial, no legal process at all. From the foregoing, what we want to stress is, when the class struggle sharpens, whether because there is a revolutionary crisis or because of looming counter-revolution, the dominant class ignores liberal democracy, and the working class will find it inadequate.

 

 

Civil War, Terror and Crisis of Revolution in Russia

 

In Russia, too, the Civil War begun with white offensives. A line can be drawn, from the Kerensky-Kornilov conspiracy of August 1917, to the attempted counter-revolution. Along with this there was complete non-cooperation by the capitalists in the economic sphere. As a result, in both the political and economic spheres, there was a huge degree of centralisation without any prior plan on the part of the Bolsheviks. The decline of the Soviets did not occur, as Western myth has it, because Lenin had planned it from the start. Civil War made democratic functioning very difficult. In the economic sphere, the Bolsheviks had no plan for rapid nationalisation. On the contrary, the slogan of workers’ Control actually meant continued ownership by the capitalists.

The overthrow of the Tsar inspired the workers, who returned to their factories determined to junk the old system in factories as well as at the top. Their earliest actions included the tearing up of old contracts of hire, the old rulebooks, and the blacklists. Just as they drove out the hated ‘pharaohs’ (mounted police) and the worst elements of the old bureaucracy from the government offices, so they set out to throw out the elements most identified with the repressive administration of the factories.

The other side of the democratisation process was the creation of the factory committees. Smith remarks that “The apparent spontaneity with which they appeared is something of an optical illusion, for there was a strong tradition within the Russian working class of electing stewards (starosty) to represent workers before management.”[xviii] This is not an adequate explanation. The rate-system in Germany, the shop stewards’ movement in the United Kingdom, the factory councils in Italy, and so on show that it was not just a matter of the tradition of the Russian working class. In any case, factory committees proliferated, and often clashed with the unions. In principle, the majority of the factory committees recognised the need for cooperation with the union. However, at the plant level they sought to guard their autonomy with tenacity, and this brought about clashes. The trade union structure was Menshevik dominated, for a variety of reasons. Even in June, when the All-Russian Central Council of Trade unions was formed, notwithstanding the rising tide in favour of Bolshevism, the Mensheviks won a majority. It was against their moderate politics that ordinary workers were fighting. Even before the soviets, the factory committees went over to the Bolsheviks on a mass scale. Among the political forces, the Mensheviks looked upon the factory committees as potential local cells of the unions, the only role that they considered legitimate.  The Bolsheviks’ relationship to the factory committee was more complex. Lenin in the April Theses called for the control of production and distribution by the soviets.  But by control, he meant essentially accounting and checking. Lenin’s assumption seems to have been that putting a majority of workers in the central control boards would counter bureaucratic control. Bolshevik policy was marked by contradictions throughout 1917.  Smith’s study suggests that the dominant Western interpretation of workers’ control of production, which posits a dichotomy between the Bolshevik party and the factory committee movement, is not correct.  This is certainly true of Avrich’s claim that “From April to November, Lenin had aligned himself with the Anarcho-syndicalists .... But after the Bolshevik Revolution was secured, Lenin abandoned the forces  of  destruction for those  of  centralisation and order.”[xix]  Before the Soviet seizure of power there were five conferences of factory committees  - four of the Petrograd Factory committees, and, from 17 to 22 October, the First All Russian  Conference of Factory Committees. The debates there show a tripartite struggle between Mensheviks, Bolsheviks and Anarcho-Syndicalists.  What is remarkable is that each time, workers control with some kind of centralisation   was the line accepted. This suggests that factory committees recognised that grass roots activity was inadequate by itself.

The Bolshevik discourse on production was shaped in the Second International crucible, which often had deterministic philosophical premises latched on to a general technological optimism to produce an out and out productionist version of the historical dynamics of the forces and relations of production.  The seizure of power was conceived as the last political (institutional) barrier to proletarian appropriation of neutral, and objectively emancipatory forces of production already formed within capitalism. Even Lenin, notwithstanding his return to Hegel and subsequent shifts in 1914-17, could not get rid of everything at one go. And we have to understand clearly that during the lifetime of Lenin, Bolshevism was not the mythic monolith that it would be portrayed as, later on. So Lenin’s opinions did not equate Bolshevik line or even understanding. Lenin argued in 1917 that state monopoly capitalism represented the “complete material preparation for socialism”.[xx]  Central to his conception was the primacy attributed to the development of productive forces and labour productivity at any cost.[xxi]

Given these premises, Lenin’s (and Trotsky’s) enthusiasm for the principles of scientific management developed by Frederick Taylor is understandable.  Lenin did make certain critical comments e.g. his warning on possible ill-effects on workers’ health, etc.[xxii] But this was a minor aspect. Between this, and forced industrialization and Stakhanovism, there is no linear progress, but nor is it possible, in this sphere, to absolve Bolshevism of an ideological deficiency that subsequently was utilised by rising Stalinism. However, it is also necessary to stress that Lenin did not lose sight of the ultimate goal - a classless society. And the decline of workers’ control was not simply the result of plotting by evil Bolsheviks like Lenin and Trotsky. The Soviet seizure of power made it possible to implement the slogan of workers' control. The All Russian Trade Union Council endorsed a narrow definition of workers' control, emphasizing only the creation of a central apparatus to regulate the economy. The leaders of the factory committee movement, by contrast, used the word 'Kontrol', to mean, more or less, management. On 14th November, the All Russian Central Executive Committee (VTsIK) of the Soviets passed a decree on workers' control, legalising the de-facto system of control. Lenin's draft, which served as the basis, gave considerable prominence to local level power.[xxiii]

What happened thereafter was a twofold shift. First, the refusal of any significant sector of Russian capitalism to cooperate led the factory committee movement to push for nationalisation. It has to be understood that in the early period the bulk of nationalisations came from below, not from the Council of Peoples’ Commissars or the VTsIK. Thereupon, Lenin, and a number of leading Bolsheviks, went on to argue that the workers’ state could have political democracy combined with individual management under state control.[xxiv] But they were opposed by a strong faction, the Left Communists, and more instinctively, by significant part of the workers. That explains why, in 1919, only 10.8% of Russian enterprises had come under one-man management. It was the civil war that, tearing apart the already crisis-ridden economy, destroyed workers' control. The main industrial regions of northern and central Russia remained under soviet rule throughout the civil war. But the industries often lacked coal (Donets), oil (Baku), iron (Urals, the Ukraine), cotton (Turkestan) etc. The export - import trade shrank dramatically. Taking the productivity per worker as 100 in 1913, in 1919, it was 22.[xxv] Terrible conditions, including lack of food, contributed to absenteeism. Large-scale industry in 1920 provided 18% of what it had produced in 1913.[xxvi] Even out of this meagre amount produced, the bulk was going to the army. With large parts of the peasantry turning hostile due to unequal town-country relations, food suppliers were uncertain, both the attempt to requisition grain, and the organisation of production, made a degree of excessive centralization easy to defend. In fact, though, this resulted in economic confusion. In this situation, centrifugal forces became acute. The journal of the Peoples' Commissariat for Labour described how factory committees fought only to keep their factory supplied with orders and funds, and even tried to use force.[xxvii] They behaved as though they were rival capitalist owners competing against each other. Shlyapnikov, the concerned Commissar, told the VTsIK on 20 March 1918, that there was a total chaos in the railways, and that committees were unable to make the system work. The curbs on workers' control began with those in the railways (20 March 1918), followed by industries important for the army, like machine and metalworking plants, leather and shoe factories, etc. It is worth noting that Shlyapnikov had been quite on the left in 1917 and would be one of the three principal leaders of the 1921 Workers’ Opposition, so his criticism of the collegial system shows the situation was one where there were practical problems, rather than any dogmatic opposition to grass-roots democracy. Thus, "authority" that is, centralization at the cost of the factory committees, developed out of the failure of the committees to protect the industries at a period of acute crisis. Moreover, with nationalization accomplished, it was no longer possible to view the bourgeoisie as the main enemy.

As other parties, and factory committees, both collapsed, in one case because of the conflicts of the civil war, in the other case because of the economic problems noted, the call for one-man, management because stronger, and ceased to be justified as stop-gap measures, or special cases. As late as March, 1920, in Petrograd 69% of the factories employing over 200 workers were still run by collegial boards.[xxviii]The experience of the democratic factory was not simply given up, whether by the workers as a whole, or by most Bolsheviks. But as tens, and hundreds of thousands of most militant workers, mobilized by the unions, joined the army, the militants of 1917 - early 1918 were no longer in a position to assert their standpoint.

As yet, the party did not abandon the goal. The programme adopted in 1919 called for an intimate association between the Soviet power and the trade unions.[xxix]  But an unending number of exceptions began to be made. The turning point came in 1920-21. And it came about without any understanding of the gravity of the situation. In February 1920, it became clearly to Trotsky, that the policy of War Communism had arrived at a blind alley. But when he proposed a shift to a tax in kind. It was ruled out by the Central Committee.[xxx] Failing in this, Trotsky, however, did not carry out the struggle. On the contrary, at the Ninth Congress, Trotsky and Lenin developed a line advocating a type of forced work. The 9th Congress fully approved Trotsky's report. A number of important party leaders, including Rykov, Lomov and Larin, all members of the Supreme Council of National Economy, and Tomsky, Nogin and other trade unionists opposed this policy. But it bears saying that this was a policy of the Central Committee, endorsed by the Party Congress. Trotsky was putting forward a theory of dictatorship of the proletariat which was at variance, not only with Marx's views but also with those of Lenin and himself expressed in earlier years. Here dictatorship was being opposed to democracy. Nor was Trotsky particularly unique in this. Irrespective of the exact words, Lenin, Zinoviev, Stalin, all the major party leaders in fact, adopted this kind of stand. What made Trotsky's case piquant was the fact that he had warned, 16 years earlier, about such substitutionism. Secondly, Trotsky was seeking to convince the party and the unions of the correctness of his line, by democratic means. In other words, Trotsky was using the institutions of workers' democracy to urge the working class, in the name of saving the workers' state, to give up workers' democracy. The very absurdity of the process enabled a massive opposition to be generated. It was as if workers' democracy, in the last era of its existence, was still compelling the Bolsheviks to acknowledge it. Thus a large scale opposition sprang up at all levels. At the Communist fraction of the All-Russian Central Council of Trade Unions, nearly 60-70 members opposed Lenin and Trotsky.[xxxi] At the party Congress, Osinskii said, "what you are doing is implanting bureaucracy under the flag of militarization."[xxxii]

Critics of Bolshevism, including ‘left’ critics, often disregard  the circumstances of many of Lenin’s and Trotsky’s statements of this period. The Civil war had necessitated a tremendous centralization, so that the army could fight. As Carr has written, “as early as October 1918 the shortage of raw materials made it imperative to close the less efficient factories in many branches of industry and concentrate production, in the most efficient; such decisions could only be taken by a strong central authority.”[xxxiii]

In the beginning the Bolshevik regime had about 30,000 or so Red Guards in Petrograd and Moscow. Trotsky began to build up the Red Army in 1918. The initial volunteers were good enough against Russian opposition, as weak and as badly organised. But against Germans in the Ukraine or the Czechs in Siberia they were helpless. Moreover, a pure voluntary force was insufficient. By April, 1918 the Red Army had about 200,000 soldiers. On 22 April 1918, the VTsIK approved a Decree on Compulsory Military Training. On 29 May, it decreed the first step towards conscription. By July the Red Army had grown to 725, 383, and by end of 1919 it was 3 million strong.[xxxiv]

However, while fighting the civil war was the fundamental cause of this centralisation, the growth of a military and a bureaucratic apparatus, many leading Bolsheviks too often made a virtue out of necessity. This has been discussed at length in Soma Marik’s book.[xxxv] By 1921, this process culminated in actions that would damage the socialist orientation massively. As a result, when a year later Lenin, Trotsky, and others started becoming aware, they found the system already turning against them. In 1921, all opposition parties, including those which accepted Soviet legality, were banned. At the Tenth Party Congress, a ban on factions was adopted, which became permanent. Previously, various currents in the party had been represented in the Central Committee in close to their actual strength at the Congress. Now, Lenin and his supporters, who had a majority, swept the list. Struggles over the same Congress led to the removal of party leaders from trade union leadership if they did not support the position of the Central Committee. Thus, while seen as one more ad hoc step due to the civil war, the war with Poland, etc., in fact 1921 saw a terrible blow to workers’ democracy.

However, what emerged therefore was not a simple restoration of capitalism. Rather, the section of the working class that had been pushed into administrative positions, including many sincere party activists, turned to bureaucratic practices which over time turned into a confirmed bureaucratic social layer. Christian Rakovsky, a Balkan Marxist who had joined the Bolsheviks, had been part of the Bolshevik fightback in the Ukraine, would fight for the autonomy of Ukraine against the kind of centralisation Stalin was to demand with the formation of the USSR, and would be a leader of the Left Opposition, wrote a remarkable essay in 1928. In this, he pointed out  :

When a class takes power, one of its parts becomes the agent of that power. Thus arises bureaucracy. In a socialist state, where capitalist accumulation is forbidden by members of the directing party, this differentiation begins as a functional one; it later becomes a social one. I am thinking here of the social position of a communist who has at his disposal a car, a nice apartment, regular holidays, and receiving the maximum salary authorized by the party; a position which differs from that of the communist working in the coal mines and receiving a salary of fifty or sixty Roubles per month. As regards workers and employees, you know that they are divided into eighteen different categories ...

Another consequence is that certain functions formerly satisfied by the party as a whole, by the whole class, have now become the attributes of power, that is, only of a certain number of persons in the party and in this class.

The unity and cohesion which formerly were the natural consequences of the struggle of the revolutionary class cannot now be maintained but by the application of the whole system of measures which have for their aim the preservation of the equilibrium between the different groups of this class and of this party, and to subordinate these groups to the fundamental goal.

But this constitutes a long and delicate process. It consists in educating politically the dominant class in such a way as to make it capable of holding the state apparatus, the party and the syndicates, of controlling and of directing these organisms. I repeat this: it is a question of education. No class has been born in possession of the art of government. This art can only be acquired by experience, thanks to the errors committed, that is by each learning from his errors. No Soviet constitution, be it ideal, can ensure to the working class an exercise without obstacle of its dictatorship and of its control over the government if the proletariat does not know how to utilise its rights under the constitution. The lack of harmony between the political capacities of any given class, its administrative ability and the judicial constitutional forms that it establishes for its own use after the taking of power, is a historical fact.[xxxvi]

It can be said that the revival of working-class democracy required two components—an actual growth and cohesion of the working class, which had been shattered due to war and civil war (the number of industrial workers fell by just under 58% between 1917 and 1921-22), and the stability of democratic institutions. As late as 1921, the existence of the institutions had enabled the Workers’ Opposition to gain considerable hearing and support. In 1922, Lenin would find himself out manoeuvred by the General Secretary. In 1923-24, the Left Opposition would find itself defeated in heavily manipulated local voting. In 1927 the United Opposition would find the Central Committee even refusing to publish its platform for all party members to read.

From 1922, Lenin, Trotsky, Preobrazhenskii, Piatakov, and a number of others would make sharp criticisms of the bureaucracy. But the bureaucracy had already become powerful in the party too. At the 12th Party Congress, Stalin argued that after a correct line has been given it is necessary to choose staffs in such a way as to fill the various posts with people who are  capable of carrying out the directives.[xxxvii] Thus, the party was being seen as a centralized machine rather than an independent minded vanguard. And responding to demands that the entire party be kept informed, he asserted that a party of 4,00,000 members, if it was fully informed, would mean the confidential information leaking out, which was not possible since Soviet Union was surrounded by world imperialism. Thus, the bogey of imperialism was raised for the first time to rule out internal democracy.

As a result, if we are to consider the rise of a dictatorship in the contemporary sense rather than in Marx’s sense of the dictatorship of the proletariat, we need to look at the crucial period 1918-1928, when the soviet system broke down, when a working class bureaucracy emerged, and having emerged, separated itself from the class, and created its power structure. This is what Trotsky, Mandel and our current have called a bureaucratically degenerated workers’ state—a state that originated as a workers’ state, but underwent a bureaucratic degeneration and a partial counter-revolution.

We have laid out the possibility of a different analysis here. Kavita Krishnan has raised an important debate – rather late in the international context, but still important. Not just Krishnan, but even more, parties still seeing socialism in Stalinist or post-Stalinist USSR, etc, need to return to the lessons of classical Marxism, and carry out an analysis of the past, not for academic exercise, but because unless we learn from the past and rectify our errors we cannot move forward. And not only individual activists like Krishnan but organisations need to understand that the rejection of Stalinism open up two possibilities. Either an adherence to class analysis, or an acceptance of a binary between democracy versus authoritarianism. By calling the Soviet Union under Stalin 'socialist authoritarianism' Krishnan takes a step in the wrong direction, since the USSR was certainly not capitalist, but nor was it socialist if Marx and Engels are in any way guides to what socialism has to be. We hope she will retract. We hope that those criticising her will not retreat turtle like and pretend that Stalinism was virtually a flawless socialism, but engage in a fruitful dialogue that leads to a restatement of classical Marxism, enriched by the experience of the class struggle of a further century.

 

 



Endnotes

 I am grateful to Tithi Bhattacharya, Achin Vanaik and Peter Solenberger for reading and commenting on the first draft. 

[i]Not given here. See her original Facebook post for any links she has given.

[ii]Putin’s speech, the Russian strategy, and our perspectives are discussed in Kunal Chattopadhyay and Achin Vanaik, ‘No to Russian Imperialist Aggression, No to US/NATO Interference’, https://spectrejournal.com/no-to-russian-imperialist-aggression-no-to-us-nato-interference/?fbclid=IwAR3X6OtbJUeB3VMu9j9Ep9BrOQ4lt41bLP2IWOZuAjHMi9WqRs4DSY_zbHk

 

[iv]See Kunal Chattopadhyay, The Marxism of Leon Trotsky, Progressive Publishers, Kolkata, 2006, pp.52-60.

[vi]Perry Anderson, ‘Trotsky’s Interpretation of Stalinism’, pp. 123-4, in Tariq Ali (Ed), The Stalinist Legacy, Haymarket, Chicago, 2013.

[vii]Jennifer Tolbert Roberts, Athens On Trial, Princeton University Press, 1997.

[viii]Karl Marx and Frederick Engels, Collectd Works, Moscow, [hereafter ME:CW], Vol.22, p. 634.

[x]Ibid.

[xi]Ibid.

[xvii]Kunal Chattopadhyay, ‘Revolutionary Democracy in 1917 and the Bolsheviks’, https://www.epw.in/journal/2017/44/russian-revolution-centenary-special/revolutionary-democracy-1917-and-bolsheviks

[xviii]          S.A.Smith, Red Petrograd, Cambridge, 1986, p. 57.

[xix]           P. Avrich, ‘The Bolsheviks and Workers’ Control’, Slavic Review, No.  1, 1963, p. 62.

[xx] V. I. Lenin, Collected Works, 4th English Edition , Moscow 1965 on,[ hereafter cited as LCW} Vol.  25, p. 363

[xxi]           Cf.  ibid., Vol. 27,  p. 257; Vol. 29, p. 427;  and Vol. 36, p. 549 for examples.     

[xxii]           For the critical dimension of his appreciation of Taylorism, cf. ibid, Vol. 33 pp. 245 - 6, 368 -9

[xxiii]             See Dekrety sovetskoi Vlasti. Vol. 1, Moscow 1957, pp. 77 - 65, and Obrazovanei v razvitie organov Sotsialisticheskogo Kontrol v SSSR ( 1917 - 1975 ) Moscow, 1975, pp. 21. - 23, see also, I. A. Gladkov (ed.) Nationalizatsiya promeshlennosti  V SSSR 1917 - 20gg, Moscow, 1954, pp. 76 - 84, for a broad definition of workers’ control used by factory committees.

[xxiv]             LCW : 29, p.70, Ibid : 27, p.268.

[xxv]            L. N. Kritzman, Die heroische periode der grossen russischen Revolution, Verlag: Frankfurt am Main, Verlag Neue Kritik,, 1971, p. 293.

[xxvi]            J. Bunyan, The Origin of Forced Labour in the Soviet State : 1917 - 1921, Baltimore, The John Hopkins Press, 1967, pp. 173 - 4.

[xxvii]            T. Cliff, Lenin, Vol.3, Pluto Press, London, 1978, p.117, notes 19 and 20.

[xxviii]            S. A. Smith, Red Petrograd, p. 242.

[xxix]            N. I.  Bukharin and E.A. Preobrazhensky, The ABC of Communism, Harmondsworth 1989, p.448.

[xxx]Desiatii S"ezd RKP(b), pp. 451-2.

[xxxi]            J. Bunyan, The Origins of Forced Labour ..... p.92.

[xxxii]           Ibid., p.123.

[xxxiii]        E.H. Carr, The Bolshevik Revolution, vol. 2, p.183.    

[xxxiv]        This account is based on Trotsky’s How the Revolution Armed,5 vols, London 1979-81 and My Life.

[xxxv]Soma Marik, Revolutionary Democracy: Emancipation in Classical Marxism, Haymarket, Chicago, 2018, pp. 367-494.

[xxxvii]J. Stalin, Works, vol. 5, Moscow, 1947, p. 213.

Twentieth Congress of the Chinese Communist Party: the tipping point

The 20th Congress of the Chinese Communist Party represents a very symbolic tipping point: the predicted break with the political order established at the turn of the 1980s and 1990s under the aegis of Deng Xiaoping has now been consummated. Xi Jinping has granted himself personal power unprecedented in the history of contemporary China.

The tipping point can also be understood in a more general sense. Under his previous terms of office, Xi Jinping’s China benefited from exceptionally favourable conditions for its growth and international expansion, to become the second biggest world power, far ahead of Russia. That is changing. It was at the heart of the market globalization that is flatlining today and is not recovering from the blow of the Covid-19 pandemic. Out-of-control inflation and financial instability raise fears of a full-blown recession. The United States is back in the Asia-Pacific after a long period of impotence in this region. The inter-imperialist conflict is sharpening on all terrains, including that of high technology (semiconductors). In this context, internal tensions are becoming increasingly difficult to manage.

Nothing indicates, at the end of the 20th Congress, that Xi Jinping has taken the measure of the problems, while he is busy consolidating his grip on the state. The ability of the regime to steer economic development has long been an important asset in China’s take-off. However, the new political regime shaped by Xi now risks proving to be a dangerous handicap.

Internal monolithism

Deng Xiaoping’s reforms initiated in the 1980s and 1990s aimed to engage post-Maoist China on the capitalist road by ensuring the “bourgeoisification” of a section of the bureaucracy and, on the other hand, by providing the country with a stable political regime, for the benefit of the elites. Collegial functioning at each level of leadership and the regular renewal of governing bodies would, inter alia, prevent the concentration of power in the hands of one man.

During his first two terms, Xi Jinping worked to establish a governance that was opposed on every point to that which Deng had promoted [1]. The 20th Congress of the CCP was an opportunity to complete what can be called a political counterrevolution in capitalist China. Xi is beginning his third term as head of the CCP, whereas previously no one could remain in office for more than two successive five-year terms. While placing his relatives in key positions, Deng was content to be chairman of the Central Military Commission. Xi is chairman of the commission, party secretary-general and president of the People’s Republic.

With seven members, the Politburo Standing Committee is the core of power within the CCP. It traditionally had to incorporate a minimum of factional pluralism and the designated successor to the Secretary General. The question of succession does not arise, since Xi intends to ensure other mandates – he now wears the habit of a triple Number 1 for life.

Li Keqiang sat (without weight) on the standing committee as Prime Minister. He has not been renewed. He is close to Hu Jintao, the previous general secretary of the CP – the same Hu who was (apparently without his consent) pulled from the podium by two men in black during the closing session of the congress – a rather strange sight in a ceremony where everything is meticulously organized. Moreover, Xi wants to marginalize in the country’s governance the administration (another counter-reform) that Li embodied. Although the party’s pre-eminence had previously been assured, the plurality of centres of authority gave flexibility to the system and allowed the people to address more than one interlocutor. The authority of the party must henceforth be exclusive.

Xi Jinping’s main rivals have been asked to retire and are not being reappointed to the new 205-member central committee, which has been renewed at 65 percent. Usually, the age limit for election to a party leadership is set at 68 (Xi is 69 and is preparing to live for many more years at the head of the CP). Wang Yang (67) was nevertheless ousted despite being chairman of the Chinese People’s Political Consultative Conference (a body composed of “democratic parties”, i.e., categorical fronts of the CCP, which allows informal exchanges); For Beijing watchers, he was considered too liberal economically.

However, we must be careful not to rationalize factional conflicts within the party apparatus too much. These are often struggles over power rather than orientation. Or at least we must avoid raising them to a confrontation between “reformists” (Li Keqiang, Wang Yang and so on) and “conservatives”, expecting the former to fight the latter. The hopes placed in Deng Xiaoping to democratize the country for the benefit of the population proved dramatically illusory with the bloody repression of social movements in 1989. Since then, three blocs have formed around General Secretaries Jiang Zemin, Hu Jintao and Xi Jinping. None ever questioned the dictatorship of the party over society or considered the possibility of an organized political opposition, even if the first two could tolerate individual dissent [2].

Xi’s peculiarity is to have purged the rival cliques or factions, as he purged the army and the secret services. The 20th Congress was an opportunity to complete his stranglehold on the party-state apparatus.

The liegemen

The list of the seven new members of the Politburo Standing Committee shows how personal loyalty to Xi is what matters most to reach the holy of holies. In addition to Xi Jinping, it includes, in order of protocol:

Li Qiang (63 years old). Party secretary in Shanghai, a metropolis that has been the springboard for many national careers, he enters for the first time. Particularity: it was under his authority that the especially brutal and rigid implementation of the Zero Covid policy had disastrous economic consequences and provoked strong popular resistance. A notorious incompetent, but no matter, he is a familiar companion of Xi (he was with him in 2004-2007 in the province of Zhejiang of which Xi was then the boss).

Zhao Leji (65 years old). A linchpin of the police state that has put its powers at the service of Xi. He headed the party’s main anti-corruption watchdog, the Central Commission for Discipline Inspection, and headed the Organization Department, which oversees the appointment of all senior officials.

Wang Huning (67 years old). A former academic, he is Xi Jinping’s chief ideologue, his advisor on ideology, propaganda and international politics. A follower of “neo-authoritarianism”, he advocated a strong and centralized state to counter foreign influence and opposed the principle of collective leadership (defended by Deng).

Cai Qi (66 years old). Party secretary in Beijing, his entry into the standing committee came as a surprise to Beijing watchers. He was a leading advocate of Xi’s “Zero Covid» policy and oversaw the 2022 Winter Olympics.

Ding Xuexiang (60 years old). Little known to the public. Xi Jinping’s confidant, he was his political secretary in 2007 when the latter led the party in Shanghai and followed him, becoming private secretary and gatekeeper when he took over as head of the country.

Li Xi (66 years old). A long-time member of Xi’s inner circle. He rose through the ranks of the party in various provinces. He is now party leader in Guangdong (where Canton, Guangzhou is located), being responsible for the development of the Greater Bay Area, Xi’s master plan for an economic power that integrates nine Chinese cities with Hong Kong and Macau.

When it comes to personal power, Xi Jinping is often described as a new Mao Zedong. This is a misreading. Not only do they belong to two different historical eras, but the team that came to power in the CCP in 1935, during the great retreat of the Long March, was not made up of liegemen, far from it. Mao was able to bring together proven cadres, strong personalities, often at the head of army corps, from various backgrounds. Several of them had even opposed him in the multiple factional battles that had torn the CCP apart.

Constitutional enthronement

Constitutional changes have been introduced to further elevate the personal status of Xi Jinping and his “thought”. The congress approved amendments, including the “Two Establishments” and the “Two Safeguards,” aimed at placing Xi at the heart of the party and his political thought as the underlying ideology. Criticizing Xi or questioning the validity of his speech becomes an attack on the Constitution!

Xi’s cult of personality has reached delusional heights, like Mao’s at the dawn of the Cultural Revolution (1966-1969). The resolution adopted at the November 2021 plenary meeting of the Central Committee already affirmed, concerning Xi, that the present times represented “the most magnificent epic in the history of the Chinese nation over millennia,” with “socialism with Chinese characteristics [having] entered a new era” since he came to power. That his “thought is the quintessence of Chinese culture and soul” and his presence at the “heart” of the party “is of decisive importance (...) to promoting the historical process of the great rejuvenation of the Chinese nation.”

At the origin of Mao’s cult was the desire to oppose a Chinese authority to the cult of Stalin, which was used to regiment the Communist International, but once one has such a weapon in his hands, one also uses it to settle scores or strengthen his hand in factional struggles, whether they have a political content (they often did have at the time) or not. As for “thought”, Xi’s is not a continuation of Mao’s. Although he never managed to learn a foreign language and did not travel as so many Asian revolutionaries did, Mao read what he found in translation, and was exposed to multiple intellectual, Chinese, regional or Western influences. His official works are rather boring, but many internal party documents were made public during the Cultural Revolution and are much livelier. Not being a sinologist, I hesitate to venture into this field, but some consider that he had a conception of history imbued with Taoism; he was always convinced that societies evolve only under the impact of their internal contradictions and therefore of social struggles. Invoking contradictions can obviously lead to better or worse, as illustrated by the story of the Great Helmsman.

Masculinism

The Standing Committee of the Political Bureau did not include any women; this remains the case. However, since 1997, there was always one in the PB (and even two, for a short time). A quota system had been established requiring the presence of at least one cadre at all lower levels of leadership, which contributed to a small but steady flow of female candidates.

Today, the Politburo (24 members) is entirely male, Sun Chunlan, known as the Covid Tsar, was neither re-elected nor replaced. According to “Guardian” journalist Emma Graham-Harrison, in more than 70 years, she was one of only three women to have risen so far in the party apparatus on the basis of her own activity, without being the wife of a powerful man or a “propaganda tool”! [3] However, it was rumoured that another woman would be integrated into the Politburo (the names of two candidates were circulating). On a list of 205 members of the new voting central committee made public on 22 October, there were only 11 women.

The CCP has nearly a hundred million members, but less than a third are women, and this proportion declines at every stage of the hierarchy. When Xi Jinping began to systematically crack down on civil society organizations, he specifically targeted feminists who yet posed no danger. In general, Xi’s hardening of power is accompanied by a truly reactionary evolution on so-called social issues. To increase the declining fertility rate, he exerts pressure on young people who resisted his injunctions. Under these conditions, it is feared that reproductive rights will one day be called into question. As Graham-Harrison concludes, quoting a lecturer “One thing that is safe to say is that without women leadership, women’s issues will be underrepresented.”

Problems remain

Xi Jinping has been re-elected but the problems facing his regime remain.

Two figures illustrate the extent of the socio-economic transformations during the previous period:

- China and the United States account for more than half of the world’s billionaires, with 1,058 for China (32.8% of the world total) and 696 for the United States (21.6%) [4].
- The same applies to companies in the Fortune Global 500 (2020). In the lead, China with 124 companies (24.8% of the total) followed by the United States with 121 companies (24.2%). [5].

China’s internal economic dynamism is exhausted if we believe the following data, partly taken from an article by journalist Helen Davidson. [6]

- A fall in gross domestic product growth. After doubling from 2012 to 2021, growth is slowing sharply to the point that, for the first time in thirty years, it has been lower than that of the Asia-Pacific region.
- Social inequalities. During the same period, according to World Bank figures, gross national income per capita also doubled to $11,890 in 2021. Last year, the CCP said it had eradicated absolute poverty in the country. Nevertheless, income inequality remains high and the Covid outbreak has had many implications for Chinese workers, especially those migrating to cities far from their home villages. As the level of social protection is very low, households are led to save as much as possible. The structural unemployment rate has exceeded 5% since 2019. According to the National Bureau of Statistics, in 2019 it reached the record level of 19.9% for the 16-24 age group.
- The crisis of the real estate market. The real estate sector has captured a large part of investment. According to economist Mary-Françoise Renard, in the strict sense, it represents 14% of GDP, but 30% if we include the sectors concerned upstream (cement or steel for example) and downstream (decoration, furniture). [7] There is a great deal of interdependence between these sectors, which weakens them in the event of difficulties. That is precisely what is happening today. Urbanization and the need to own property in order to marry have stimulated demand, but also encouraged speculation and overproduction. The housing crisis has profound social consequences: many people have invested their savings in buying apartments that may never be built or in new cities that will remain phantoms. It is affecting the entire financial sector and a debt crisis is looming. The national government or local governments sometimes intervene massively to prevent the bankruptcy of developers, but this does not solve anything in substance.
- The demographic crisis is taking shape in China, as in much of East Asia. Despite all its efforts, the government has not succeeded in reversing the downward trend in birth rates. By 2021, it fell to its lowest level in 61 years, with young people denouncing the high cost of living, unequal gender roles, stagnating career prospects and a lack of maternity services. Fewer and fewer people are getting married every year.

Inter-imperialist conflicts

Joe Biden’s Asian refocusing and Russia’s invasion of Ukraine are bad news for Xi Jinping. It is not possible to elaborate on this issue in the context of this article, but the period of triumphalist expansion of Chinese power seems to be over. Xi has failed to get Putin to bend his hard-line policy which risks having significant consequences for Chinese influence in Eastern and Western Europe.

The Philippines, after the return to power of the Marcos clan, is strengthening its ties with Washington. In the South Pacific, Beijing had signed a strategic agreement in the Solomon Islands – they nevertheless joined the so-called “American Partnership for the Pacific” initiative on 20 September in which fifteen states in the region are already participating, including the Cook Islands and Papua New Guinea [8].

Despite considerable investment, China is unable to catch up in the key area of high-end semiconductors. Joe Biden is now doing everything to prevent him from acquiring or developing certain advanced technologies. However, the degree of interdependence of economies remains such that the Sino-US “rift» is not self-evident. The transnational companies of the Western bloc take a very dim view of the strengthening of the political control exercised by Beijing on investment, but do not want to reduce their profits by relocating their production to the United States as Biden demands.

Xi Jinping has broken all channels of cooperation with Washington, including on health and climate change – areas that should escape the logic of confrontation between powers. His “thought” does not go so far as to assimilate two of the major crises threatening our world.

Ukraine: Divisions Among The Left

It was never expected that the response to the war on Ukraine of the Left internationally, would be so divided. Broadly there have been four positions held by those who consider themselves to be anti-capitalist socialists of one kind or the other. The arguments, rationalisations and justifications provided by the first three of these groups do, in some degree or the other, overlap. 

The first group (which is certainly the smallest of the four categories) includes those who fully support the Russian invasion as well as those who while not going gung-ho in supporting the invasion will neither call it an invasion nor condemn it in even the mildest of language. The Communist Party of the Russian Federation fully supports the action which it describes only as a "special military operation". The Communist Party of India (Marxist) or CPM calls the war "unfortunate"  and insists that US/NATO expansionism is the real cause forcing Russia to behave as it did. The older and smaller Communist Party of India (CPI) says much the same without using the word "unfortunate" even, and makes a meaningless general call for peace in the region. That is to say, neither of these parties make even a cursory criticism of the Russian action and put not just primary but sole blame on the US/NATO. Whatever the leaders and ideologues of these two parties in India may think privately, in public they do not even declare that Russia (and China) are now capitalist countries let alone that they are imperialist. In fact, a principal ideologue of the CPM, Vijay Prashad who has written a number of good books on the Middle East and on the Indian diaspora in the US, says that the only imperialist country in the world is the US. So France and the UK, despite their behaviour in Africa, the Middle East or elsewhere are no longer to be seen as imperialist powers despite their past. While lower order powers making military-political incursions abroad whether they be Saudi Arabia, India, Pakistan, Turkey, Israel, etc. are also absolved of any charge of being weaker imperialist countries or even sub-imperialisms. It is not just that the US is the biggest imperialist power with the ugliest historical record which it is; but that it is uniquely imperialist!. However, this claim cannot be used to deny the ugly and unjustified behaviour of either China or Russia or even the former USSR. Loyalty to the CPM/CPI, however, has generally triumphed to the point of its acolytes and leaders repeatedly defending the indefensible whether it is the Soviet invasions of Hungary in 1956 or of Czechoslovakia in 1968 or post-Soviet Russia in Chechnya and Ukraine.

Second Group: Two Variants

The second group do condemn the Russian invasion in milder or stronger forms. But they generally avoid reference to Ukraine's 'right to self-determination' since if one were to endorse this clearly and unequivocally or even half-heartedly, then what follows as a matter of logic is endorsing the right to resist of the Ukraine people, whatever be the nature of their current government, to fight as they see fit to regain their freedom and sovereignty. However, the central preoccupation of this group of leftists is to focus on the iniquities of the US and NATO. The latter's expansionist drive is not seen as the sole reason for the invasion but it is seen as the main reason. This is the dominant prism used for understanding the why of the invasion and what the response of the Left and progressives should be to this development. Depending on whether one sees Russia as itself an imperialist country or not, there will be variation in the degree of culpability to be attached to Russia. a) Those reluctant to identify Russia as an imperialist power (even if of much lesser weight than the US) can then talk of its 'misadventures' or its 'imperial' behaviour but above all emphasize its 'reactive' character mistaken though this is or might be. They will highlight the iniquities of the Ukrainian government, its rightwing and even its supposedly far-right or Nazi character which can then serve as a kind of excuse for Russia's assault. b) Then there are those who say very clearly that Russia (and China) are imperialist powers though weaker than the US. Hence there is an inter-imperialist dimension to the Ukraine issue and a corresponding geopolitics that must be unravelled. That there is a geopolitical dimension that has to addressed is obvious since the impact and implications of the Russian invasion are not confined to Ukraine and yes, these inter-imperialist rivalries have also been playing out within Ukraine's own internal politics. 

The crucial question is how much weight to give to this inter-imperialist dimension as a causal or explanatory factor behind Russia's decision to invade. Those subscribing to approach a) given above will give much more weight to the geo-political dimension (they are reluctant to call Russia imperialist) and will in their arguments provide at least implicit rationalisations, even justifications, that will greatly soften their explicit words of formal condemnation. Supplementary arguments will be used to buttress their case. There will be talk of Kiev's repression in the Donbas region where pro-Russia separatist forces are presumably wanting to exercise their choice of political self-determination. This argument then becomes a cover of sorts for Russian intervention in the past (the 2014 takeover of Crimea) and the 'understandable' desire of Moscow today to 'counter' this drive against the more culturally Russified eastern part of the Ukraine. Focussing more attention in one's arguments on the 'Nazi' character of the government and the ruling classes for example, becomes a way of  diverting attention away from the fact that it is the huge mass of ordinary working people in Ukraine who are angry, who are suffering deaths, injuries and devastations from the military assault and who are fighting back in whatever way they can. To pretend or even imply that the broad masses are dupes of their authoritarian rulers is shameful. One can certainly criticise the far-right forces and ruling government in Ukraine but there are liberals, socialists, Marxists, feminists who are very much part of the forces resisting the Russian forces. This is rarely if ever mentioned; nor is it pointed out that Ukraine's quite flawed democratic polity is less flawed than that of Putin's Russia. Instead, most efforts are made to promote the view that since the 2014 Maidan protests (supposedly engineered by Washington) the Kiev regime is basically a puppet or near-puppet regime of the US led West.

Those subscribing to approach b) will usually say a lot more about Ukraine's sovereignty being violated. They will make more noises about the suffering of the Ukrainian people and that they are resisting. They will generally be more critical of both the domestic and external behaviour of Putin and the Russian ruling classes---after all, Russia is an ambitious imperialist power. Its recent record from 1990 onwards can be brought in to defend the argument that they too are an imperialist power though not one able to match the US. So Russia's military-political interventions into Afghanistan, Georgia, Moldova, Abkhazia, Tajikistan, Nagorno-Karabakh, Kazakhstan, Chechnya, Armenia and Azerbaijan and its own establishment of a pact of countries over which it can exercise some degree of control and influence, the Collective Security Treaty Organisation (CSTO) are much more likely to be pointed out. But since this lot of leftists also claim that the primary factor in causing this war is inter-imperialist rivalries, this section of the Left will also greatly underplay the more fundamental reason for why the Russian government carried out this invasion. Ironically, this is not something that Putin and the key decision-makers and supporters around him have ever been shy of publicly voicing---that the very formation of a post-Soviet Ukraine as an independent country is unacceptable and that, in part or preferably whole, it should cease to exist and be part of a Greater Russia and subordinate to the dictates from Moscow. That Putin declared as much to the Russian people just before invading is either ignored or only very briefly mentioned in the most cursory way. No, it is US/NATO expansionism that is the main culprit alongside the geopolitical ambitions of Russia beyond the specific concern with Ukraine that must be understood to make proper sense of what has happened. 

In both the cases of a) and b) it is essentially assumed that Putin is so naive that he would not recognise that his attack on Ukraine (the country had not even reached the stage of getting a NATO Membership Plan), far from weakening this western expansionism, would solidify and spur it forward towards greater hostility and efforts to militarily encroach nearer Russia's borders. It should occasion no surprise that Finland and Sweden have now decided to become members of NATO thus providing newer border outposts against Russia. It is also revealing that Putin has dismissed  these developments as of little worry or consequence indicating that for him, capturing as much as he can of Ukraine and dismembering it is a much greater priority than concern about US/NATO expansionism. Both a) and b) use the language of this being a 'proxy war' between Russia and the US-led West. What an extraordinary claim! The term 'proxy war 'is used in cases where within some country there is an internal conflict between two major forces, something like a civil war situation where two major external forces or blocs are militarily-politically respectively supporting opposing sides. The 'external' aspect is then to be seen as the major arena of contestation rather than the internal conflict itself. The geopolitical dimension is given a higher political status and concern than the national dimension. Is it any wonder then that upholders of this approach go on and on about the global impact of the war in Ukraine, of how global food supplies are being affected and how a new Cold War is emerging and how this new and growing tension is making things globally worse and dangerous. All true of course. But this then should lead to a more severe and forthright condemnation of the culprit Russia which has caused it and should reinforce support from the international Left for Ukrainian resistance. Moreover, to call this basically a 'proxy war' is absurd. It is an actual war launched by one side, Russia against another capitalist country which is not itself an imperialist country or a weaker imperialist power or even a sub-imperialist one. The use of the term 'proxy war' disguises what is the central characteristic---that for Ukraine this is a war of national liberation against a foreign power out to crush and subordinate it and that Ukraine therefore deserves the support of the international left which must always be both unconditional in defending its right to self-determination and yet always prepared to be critical and even opposed to the ways its government and other forces may go about conducting this struggle. 

As for the possible advocacy and exercise of the right to self-determination in Donbas and Crimea, this cannot ever be justifiably done under the military jackboot of a foreign occupier. The military takeover of Crimea in 2014 followed by a referendum under occupation was a deliberate and ruthless violation of the 1994 Budapest Memorandum whereby Russia, in return for retrieving Ukraine's nuclear arsenal (then the third largest in the world) promised never to violate its territorial integrity---a betrayal that gets little or no mention among the geopolitical preoccupations of the Left rationalisers of Russian behaviour.

Third Group

This third group is for peace and an end to militarism. It notes the suffering of the Ukrainian people and condemns Russia for what it has done. But for various reasons---the danger of further military escalation, the nefarious designs of the US for wanting to 'bleed' Russia over time by continuing the war---it wants a settlement as quickly as possible. This group is therefore against US/NATO supplying of arms to Ukraine---a posture also held by the first and second group of leftists discussed above. Another common position held by these three groups is that economic sanctions against Russia should be opposed because these will hurt ordinary working people economically. That they are in fact endorsing and supporting an undeclared regime of sanctions against the Ukrainian people (their desired embargo on arms) whereby on a mass scale the suffering endured by Ukrainians---millions displaced as refugees, physical deaths and injuries, destruction of homes and devastation of everyday life is far beyond what can happen in Russia through sanctions---does not even seem to register on the minds of these leftists. How is this settlement to be achieved? Why, through diplomacy presumably! And how is that going to happen? Is a ceasefire and settlement to be somehow imposed on the belligerents or at least made more possible through pressures applied from outside powers?  Since Russia is much the more powerful side in this war isn't it logical that it would be easier to achieve a settlement by pressuring the weaker side, the Ukrainians? In brief, what follows from this logic is that for the peace advocates, in the name of a practical and realistic assessment of the balance of forces on the ground, the least consideration should be given to what the Ukrainians themselves think or want. 

Ukrainians want justice; they want a retreat of Russia, they want reparations. Their only hope of being able to move some way at least towards these goals depends on changing the course of this war in a direction whereby the costs to Russia, material and political, become progressively higher. Weapons support, whatever be the motivations of the suppliers which are not the same as those of the Ukrainian people fighting, is vital. Certainly, those motivations can be fiercely criticised by left voices but solidarity with the people of Ukraine is primary. They have to decide whether and when to stop fighting. We on the outside can disagree with tactics, strategies and policies and warn about this or that. But we must respect their freedom of agency to decide as they see fit because they are the people oppressed! On this issue the position of Chomsky and other peace votaries like him is not to be upheld or supported.

Fourth Group

This fourth group aligns itself with what the anti-Stalinist Marxists and Socialists and Socialist Feminists and progressive Anarchists of Ukraine themselves say. Listen to us, they say. We are as much against the US and NATO as you in the West and elsewhere are. But this war is not about Russian security concerns but primarily about its imperialist ambitions. We are fighting this war; we need political, moral, material support and yes a continual supply of weapons to enable us to effectively resist this military onslaught. The more determinedly the international left supports us the stronger can the Ukrainian left become internally, for we are much more aware than you outsiders of our own class and internal divisions and its dangers even as we are broadly united as we must be, in opposing the Russian military and its government. We, like leftists internationally, also want a dismantling of NATO which has now become more difficult to attain. But what about the dismantling of all imperialist blocs like the CSTO about which you say little or nothing?

Any end to this war, whether temporary or prolonged or permanent will be shaped by the course this war will take. And that trajectory will itself depend on the strength and durability of the will of the Ukrainian people to keep resisting this great injustice done to them. The calculations of the US and other Western powers, that currently say they support Ukraine, are always subject to change and to the proclivity of their elites/governments to making unprincipled deals with others including Russia if they think this will best suit their 'national interests'. The international revolutionary and democratic left should be the most principled supporters in the fight against injustices everywhere. 

Even as we criticise those sections of the Western left who are not prepared to give unconditional yet critical support to Ukraine and go on and on about the Russian invasion as basically a reaction to the US and its allies, we can be grateful that at least they are strongly critical of and opposed to their own governments for their imperialist behaviour or collusion in imperialist pacts like NATO. In India, however, too many liberals as well as many of those who see themselves as on the left refuse to similarly attack the stand of the Indian government but actually applauded its so-called neutrality on the war in Ukraine. This is an India which is, in all but name, a strategic ally of the US and whose own imperialist ambitions to become a dominant regional (perhaps global) power require it to maintain a strong military relationship with Russia and Israel and with the US as well. India has the second largest army in the world. It has the third largest military budget and is the fourth largest purchaser of arms. Its healthcare expenditure as a proportion of GDP is the fourth lowest in the world and it has the largest absolute number of malnourished and undernourished people in the world. India itself is a lower order imperialist power with ambitions to become an ever more powerful imperialist one. Why should leftists support such an orientation let alone cover it up with false references to India having a foreign policy of 'strategic autonomy' or 'neutrality'? 

In a world divided into separate nation-states the left everywhere must always also take a stand against the pernicious, immoral and unprincipled positions adopted by its own national governments. This, much of the Indian organised left has failed to do. The  position of the Radical Socialist (RS) group is clear. That the Communist Party of India Marxist Leninist-Liberation (CPIML-Liberation) has also taken a forthright stand condemning the Russian invasion and supporting the Ukrainian resistance is to its credit. The Communist Party of India-Maoist (CPI-Maoist) does condemn Russia and declare its support for Ukrainian sovereignty and resistance. However, its public statement is a very long and rambling text which spends most of its time making generalities about 'proletarians of the world unite' and of 'turning the imperialist war into a civil war and revolution'. The statement has more to do with propagandising the general perspectives of the Party than with analysing or focusing on the specificities of the Russia-Ukraine issue. One of the more interesting sidelights revealed in the text is that the CPI-Maoist calls China a "social imperialist" country. This means it sees China as still not a capitalist country but one which turned towards social imperialism presumably after the leadership of Mao ended. That the two biggest parties of the mainstream Indian left---the CPM and CPI---have neither condemned Russia nor the stand of the Indian government nor offered solidarity to the Ukrainian people, is but another symptom of why we need to build a newer  revolutionary and democratic left in India.

Achin Vanaik 

An Addendum 

Many of those who position themselves on the anti-capitalist radical Left nonetheless have viewed the war in Ukraine through a lens which saw the primary conflict as between a much stronger and more hegemonic imperialist power the US and a weaker one Russia. Even for those who didn't give primary status to this imperialist face-off, some did believe that this would require them to more generally support the lesser imperialism since counter-balancing against the stronger US (and allies) opens up greater spaces globally for progressives forces and struggles against capitalism. Another term when used on the left buys into a similar kind of thinking. This is the belief that in today's world there is real merit in supporting the development of 'multipolarity' as against a unipolar order represented by the US. In effect, the way is made clear for these sections of the Left to, in some way or the other, take sides with the "lesser evil" imperialism and endorse its regressive foreign policy behaviour. 

A Realist Discourse

This language of 'poles' and 'polarity' (whether of unipolarity, bipolarity or multipolarity) is a standard refrain in the Realist discourse on international relations and foreign policy behaviour and is used by rightwing and liberal thinkers who have no interest whatsoever in fighting against capitalism, domestically or globally. So why do leftists who believe they are inspired by Marxism, adopt the same terminology not only using the term 'multipolarity' as a conceptual tool but also ascribing virtues to it as a desired outcome? 

In this Realist discourse, states are seen as the primary actors on the world stage. But the state entity that that they refer to is understood as a 'national territorial totality' when it is actually a much smaller set of apparatuses that is encased within a much wider social formation involving all kinds of tensions and relations between the state and civil society, between different sections in that larger social order, with above all, the division between classes. All states are class states that are structurally biased towards the interests of their ruling classes. In the post-1990 overwhelmingly capitalist world we live in today, these are the interests of capitalists, weaker or stronger, more or less independent from others. However, this much more important reality is covered up and obscured by the notion of the state in its foreign policy acting as a 'national territorial totality'. The fact that world politics is very much shaped by the competition among the most powerful such states, each pursuing the interests domestically and externally of their own capitalist classes and TNCs, is similarly obscured. 

Talk of polarity (single, dual or multi-) is another way of shifting the understanding of vertical power relations away from its social and class nature to a supposedly horizontal set of power relations between a few 'poles', each of which is also understood as a 'national territorial totality'. A state defined in such a way is then axiomatically pursuing the 'national interest' and to question this means one is being anti-national and unpatriotic. There is all too often  much wisdom in the saying that "patriotism is the last refuge of the scoundrel." 

Revolutionary Marxists should (a) unconditionally but critically support oppressed nations subject to military invasions by imperialist powers even if they are capitalist and autocratic e.g., opposing the US invasions of 1991 and 2003 of Iraq. b) They should support progressive anti-capitalist forces and struggles in all countries (whether liberal democratic or authoritarian) against their own capitalist ruling classes even if these capitalists are feeble and subordinate to other ruling classes in other countries. c) It is important to fight for greater democratization even within a capitalist country and to oppose any steps being taken toward greater authoritarianism internally. However, when it comes to the external bullying and imperialist behaviour of the stronger countries it is not their internal political character i.e., whether they are liberal democratic or authoritarian that is the key explanatory factor but their capitalist character. All such imperialist behaviour and efforts to establish their respective 'spheres of influence'---a euphemism for bullying and trying to subordinate in one way or the other weaker neighbouring and even more distant countries---must be opposed.

No Longer the Cold War Era 

What about the idea that multipolarity provides greater global space for progressive and revolutionary struggles? In today's world this is a dangerous delusion. Today's world order is fundamentally different from that in the Cold War era. Then the world was not 'Bipolar'---a deeply misleading term---but had a systemic divide. That is to say, there were two fundamentally different socio-economic systems, a capitalist vs. a non-capitalist bloc arraigned against each other. The existence of such a non-capitalist  but far from socialist bloc meant that an objective space was created for progressive struggles in the developing world to advance, most notably de-colonization. But even here the primary reason for successful liberation came from the internal struggle for national liberation howsoever much it may have been helped by outside material and political support. Even so, in this misnamed 'Socialist or 'Communist' bloc, because of their governments ridiculous belief in the possibility of "socialism in one country", the nationalism became much more important than socialist aspirations which required the  strongest commitment to the principles of  Proletarian Internationalism. The end result was nationalist hostilities and rivalries---Stalin vs. Tito, the Sino-Soviet split, the USSR against Albania, China militarily attacking Vietnam (1979), Kampuchea's war with Vietnam, not to mention the diplomatic games played between the USSR and the US, the former's repressions against progressive and pro-Socialist struggles in Hungary (!956)  and Czechoslovakia(1968), and the shameful entente between Mao's China and the US under Nixon.  The best characterisation of the external behaviour  of the most powerful non-capitalist regimes of USSR and China  is that they were deeply contradictory---both progressive and reactionary.  

Today's world order is very different. The most powerful countries are now capitalist and imperialist. Different imperialist powers (US, Russia, China and a few others) are interested in supporting regime change in other countries if this can result in governments that are more amenable to their own regime. Even better if after such changes they become subordinate or best of all if they become basically puppets. Of course over time, even such alliance arrangements and networks because of imperialist competitions will be subject to shifting compositions among their country-members. But the one thing to be absolutely sure about is that none of these imperialist powers want to promote or see anti-capitalist regimes emerge anywhere. Capitalist competition will always create temporary or longer term winners and losers as well as shifts in power rankings. But what remains the common global commitment is that the world must remain capitalist. 

Nor do the imperialist countries care whether their allies are internally more democratic or authoritarian--- the crucial thing is that they remain allies and subordinates. As for the weaker and smaller countries which are capitalist or seeking to establish a more stable or independent capitalism, they too are bitterly opposed to progressive anti-capitalist politics and struggles. Why then should revolutionary leftists see any virtue in today's world of such inter-imperialist rivalries? We should not be fighting to shift the world from a "super-imperialism" to a "multi-imperialism" but against all imperialist and capitalist states. Our strategic allies in this much longer term domestic and global struggle are not governments but progressive and anti-capitalist forces and organisations everywhere. 

From the time of Marx till the 1990s despite all ups and downs, the banner of internationalism was upheld by the Left. Today, contra the hopes of Marx,  it is the biggest capitalists of the world who are saying "Despite all differences let us try and unite to protect and strengthen the world capitalist order since we having nothing to lose, certainly not our privileges"! 

The struggle for the Revolutionary Left to once again capture the banner of internationalism has now become more necessary than ever. 

Achin Vanaik

[October 11, 2022]

 

On “The Tragedy of the Ukrainian Working Class”

 

When Russia invaded Ukraine in February 2022, at first we were speechless. For the war had raised many questions that are hard to answer clearly and unambiguously. A first reaction, supported by the editorial board of this journal, was to point out the frightening geopolitical dimensions of this war and oppose the ongoing militarization “at home.” [1] In the editorial of the last issue of this journal, we then formulated further questions. [2] First of all, as a historical journal, we came up with the question of the disposal of historical knowledge by calling this war, for example, “the first one in Europe after 1945”(and thus implicitly removing Southeastern Europe from the map) or by labeling it a “war of extermination” (and thus trivializing the Nazi and Wehrmacht mass murder). The second question we asked was about the fate of those on whose backs this war primarily is being waged. As a first contribution to this question, a member of our editorial committee conducted an interview with Karmína collective, based on an analysis published some weeks ago – which we very much recommend to our readers as an introduction to the current class struggles in Ukraine. [3]

Question: Your text includes a lot of information about the history of the labor movement in Ukraine. However, it remains at first sight a bit unclear what exactly the “tragedy” of the workers consists of. How would you tell this story, like in a nutshell?

Karmína: A few words about the origin of our article and its title. Like many others on the internationalist left, we were shocked by the invasion in February. As a small collective blog that tries to follow working class struggles and conditions in our home countries (Slovakia and the Czech Republic) and beyond, we started working on a text about the war right away. In the meantime, other radicals around the world, including people we know, put out their responses to the war. We found some of them quite formulaic, often revolving around readymade slogans such as “No war but the class war!,” and full of factual inaccuracies (e. g., the now standard tune of “eight years of bombing the Donbas” and “14,000 dead”). We thought that this lack of a more historically and empirically grounded approach was unfortunate and not in the tradition of critical historical materialism at all. We tried to compensate for it by providing a longer history of post-independence Ukraine from a working class perspective.

This meant that all work on our “text about the war” had to be postponed indefinitely. Instead, we spent the next four months looking at events which preceded the invasion. Although we are from countries which have close historical and geographical links with Ukraine, we had little to work with at the beginning – we were, for the most part, ignorant of its history. Thankfully, there is a wealth of resources and perspectives, mostly by Ukrainian left-wing academics and activists, that we could study and link to in our text. We mention this not just to acknowledge this mountain of existing work without which our own text would not have been possible, but also to emphasize that we are in no way experts on the subject – the article is just a synthesis and interpretation of other people’s research. What we produced is by no means original and should be viewed simply as an attempt by amateur enthusiasts at making sense of what happened in Ukraine between circa 1990 and 2022.

As we studied the last thirty years of Ukrainian history, we realized there is a tragic arc to them, which is perhaps most apparent when looked at through the prism of the Eastern regions. In the late 1980s, the miners in the Donbas (but also in the Western part of Ukraine) joined strikes initiated by their colleagues in Siberia’s Kuzbas. At first, they demanded better working conditions and higher living standards. Soon, the movement became more politicized, demanding wider democratization and, in Ukraine, independence from the USSR. Some even believed that privatizing the mines would give workers more autonomy and control. Instead, the economic transition of the 1990s and beyond decimated the material basis of the “old” Ukrainian working class and its way of life. These merciless processes pushed workers to ever more desperate forms of struggle, such as hunger strikes, self-immolation or a 600 km march on foot from the Donbas to Kyiv in 1998. The aim of these struggles was often simply limited to preserve the “right” to be a wage worker – to be paid for one’s work instead of working for free or for remuneration in kind. We think of this twist – from fighting for more freedoms to struggling for bare existence as wage workers – as the first act of the tragedy.

In the 2000s, Ukraine’s new capitalist class, divided into sectoral and geographic “clans” with different material interests, began to use the national question to mobilize political support. The “Anti-Maidan” movement of 2013/2014, which later morphed, to some extent, into “separatism,” dreamed of resurrecting the old industrial base in the East. The idea was that up to then, Donbas workers had been forced to feed the rest of the country (note that this was a fantasy), but once the region becomes autonomous within a federalized Ukraine, gains complete independence, or joins the Russian Federation, things will finally turn around. Turn around they did, but in an even more desperate direction. The self-appointed administrations of the unrecognized “people’s republics” closed down most of the mines and crushed independent trade unions. Their Russian overlords (or, as they say in Ukraine, “curators”) did not bother investing in the extractivist and manufacturing base of the Donbas – or in its conversion in a more sustainable and/or competitive direction – at all. Looking for stable employment, many former miners saw no other option than to sign a contract with the “people’s militia,” i. e., the Russia-controlled military. This was the second act of the tragedy.

The current, third act has been unfolding since 24 February 2022. Donbas workers from the occupied territories aged 18 to 55 are being forcibly mobilized, snatched directly from the street or their workplace, and sent to the front, regardless of any chronic health conditions they may have, without training and with ancient, Soviet-era helmets. More enterprises close down or are destroyed by the war – including on previously unoccupied territory, such as the Azovstal steel works (Mariupol) or the Azot chemical plant (Sievierodonetsk). All of this is accompanied by massive civilian casualties, brutality, displacement, and dispossession. However, if we look at just the material side of things and focus on the fate of the Soviet-era fixed capital base, what we see is a continuation of the processes of decomposition and destruction that began with the economic transition after the demise of the USSR. What the impersonal forces of capitalist competition were not able to accomplish is now being completed by the brute force of artillery shells. Only now, the process also extends to plants that it had been quite profitable to operate.

By using the term “tragedy,” we do not wish to paint Ukrainian workers simply as passive victims. On the contrary, they were often the ones taking the initiative. It is just that in the ensuing whirlwind of events, their moves often had unintended consequences – “tragic” in the ancient Greek sense of the term. There is a sense of heroism and hope as well, because through it all, the flame of working class resistance from below was weakened, but never completely extinguished.

The re-composition of the working-class

Question: And what is the working class in Ukraine? You describe a strong social differentiation since the 1990s. What is the common ground, from your point of view, between workers in different industries, of different genders and origins?

Karmína: Processes of class recomposition and social differentiation in Ukraine were mostly analogous to those in other post-Soviet and Eastern European countries. However, Slovakia’s post-socialist industrial base, for example, was mostly destroyed or quickly shrinking, despite desperate struggles, by the early 2000s (it was, of course, much smaller, at least in absolute terms). It was replaced by Foreign Direct Investment driven manufacturing, mostly in the burgeoning automotive sector and its suppliers. In Ukraine, by contrast, the old base was never completely dismantled. True, it was decimated, but some of it survived. There are still more than a thousand state-owned enterprises operating in Ukraine. In 2020, they accounted for ten percent of the country’s gross domestic product (GDP). The corresponding layer of Ukraine’s working class (along with public sector workers) appears to be quite militant and has a long history of organization and conflict. One recent example are struggles in the Kryvyi Rih mining and steel industry in 2018–2021, briefly discussed in our text.

Another layer would be the “new working class,” concentrated around greenfield investments in the Western part of Ukraine – notably, in wiring and electronics manufacturing, which is often linked to the European automotive industry. A still other stratum of Ukrainian workers are the highly-skilled tech workers in the information and communications technology sector, along with their colleagues, “office proletarians,” from shared service centers in cities like Kharkiv or Lviv. Or, take the couriers and others in the new “platform” or “gig economy,” which of course also exists in Ukraine. All of these newer sectors have shown less militancy so far, which also seems to have been the case in most other Central and Eastern European (CEE) countries.

What unites all of these strata is the antagonism between their material interests and those of capital and its state. But this is only “in theory,” and unfortunately, it cannot be easily translated into practical existence by leftist activists. Only the workers themselves can discover points of unity in the course of their struggles. In any case, we think one should be wary of any “exoticization” of Ukraine that puts too much emphasis on the supposed national divisions inside the working class – namely, between the Ukrainian-speaking and the Russian-speaking parts of the population. These divisions were largely whipped up by the political rivalry of the “clans,” with key support from the Russian state’s propaganda machine. Pre-invasion polls show that “national issues” (e. g., the state language question) play a rather negligible role in most people’s consciousness, regardless of their origin or language. People find questions of material survival much more pressing.

The relations between Ukraine and the occupied territories are a different matter. There does not seem to be any deep-seated hostility, at least from the Ukrainian side, where polls consistently show that Ukrainians view people in the “people’s republics” as either “victims of circumstance” or “hostages of illegal armed groups” (we just do not have comparable data from the occupied Donbas). But conditions for struggle in the “republics” are very difficult, not to mention possibilities for practical solidarity across the (unrecognized) border. From the Ukrainian side, important work in this regard is carried out by the Eastern Human Rights Group, founded by former trade union activists from the Donbas.

Question: What role does migration play in the economy of the working class in Ukraine (as migration into Ukraine, out of the Donbas, but also into the EU and Russia)?

Karmína: The Ukrainian working class has been very mobile since the 1990s, undoubtedly because of the catastrophic transition that unfolded. Over time, this dynamic has accelerated. In recent years, remittances from abroad amounted to as much as ten per cent of Ukraine’s annual GDP.

Russia, due to the many economic links and the absence of a language barrier, had long been the chief destination for Ukraine’s migrant workers. This began to change significantly after 2014. By 2016, Poland became the main source of remittances. It was estimated by Polish researchers that in 2013–2018, Ukraine’s migrants have added about 0.5 percentage points per annum to Poland’s economic growth. [4] Perhaps somewhat surprisingly, Italy has also been an important destination for Ukrainian workers, as well as the, less surprising, Czech Republic. After the EU Association Agreement enabled easier movement, workers from Ukraine quickly became the most important migrant group on Slovakia’s labor market as well.

Today, we are witnessing a significant shift, as some of the (“postsocialist”) CEE countries which are EU members move from being net exporters of labor power to being net importers. As their national wage levels rise, they become dependent on inflows of cheap migrant labor. Ukraine is one of the source countries enabling this change. In this respect, the plight of Ukraine’s migrants is not significantly different from those from other “third countries” (e. g., Serbia): low wages, long hours, semi-legal schemes of employment, predatory work agencies that keep workers at an arm’s length from their real employers, which are often transnational corporations – and little to no union representation. Ukraine’s internal migrants from the war-torn Donbas since 2014 (some 1.4 million people before 2022) have faced different kinds of problems. Upon moving westward inside Ukraine, many of them were left to their own devices, with no easy access to housing, jobs, and public services. Incidentally, one reason why even today, people from the villages and towns near the front line are returning home, to a very dangerous situation and a life among ruins, is that the state is unable to provide dignified conditions in the safer parts of the country – with NGOs desperately trying to substitute for that.

Development and significance of labor unrest

Question: In your text, you report about labor unrest especially for the years since 2020, in the Donbas, but also in the western part of the Ukraine. This is very interesting. What was the course and significance of these struggles? What organizational and political forms have, if so, accompanied them? What has happened to them since the beginning of the war?

Karmína: Firstly, it is important to note that workers’ struggles in the occupied Donbas have to deal with very specific conditions: There are no independent trade unions, there is no freedom of the press, and there is no freedom of assembly. The early waves of repression, when hundreds of journalists, pro-Ukrainian activists and others experienced illegal detention and torture in improvised prisons, are still a living memory. Of course, in the rest of Ukraine, as in many other countries, the state also sometimes resorts to repression and police harassment of worker activists, but people do not simply disappear in basements of the secret police, as they did in the occupied Donbas.

In 2020, the pent-up anger of miners, who had not been receiving their full wages for almost two years, finally exploded. The spark was probably a leaked list of more mines that the administration was planning to close. Miners at the Nykanor-Nova mine (near Zorynsk, “Lugansk People’s Republic,” “LPR”) refused to surface after their shift. They achieved that the wages owed were paid, at least in part. This, then, inspired miners at four other mines. About 100 miners at the Komsomolskaya mine (near Antratsyt, “LPR”) staged an underground protest, but word got out to the authorities before workers at other mines could join them. Another underground protest broke out when the mining company failed to meet the next agreed-upon payment date. This time, the authorities were well-prepared: They cut the electricity underground, blocked cell phone networks and internet access on the surface, and cordoned off the town to prevent solidarity actions. The MGB, which is basically a local version of the FSB / KGB, then started an investigation of the “ringleaders” and their families. Over twenty people were detained, which provoked a demonstration by colleagues and relatives in front of the building of local authorities. In 2021, conflict was brewing at the Alchevsk metallurgical plant (in the “LPR”) as well. Not much is known about the way these struggles are organized. There are no formal organizations that we know of, and so word of mouth and private groups on the Telegram instant messaging platform probably play a key role. There also appear to be contacts between people on the territory of the republics and trade union or human rights activists on the Ukrainian side. As regards the significance of these struggles, it is difficult to tell. On the one hand, they were able to secure some concessions, including the payment of some of the wage arrears. The company that originally managed the illegal export of coal and other products from the “republics,” Vneshtorgservis, was eventually replaced by a new investor, YuGMK, which promised to pay back all it owed. As of early 2022, its wage debts in the “DPR” still amounted to about € 29 million.

On the other hand, these early successes of workers in the occupied Donbas were interrupted by the beginning of the full-scale war in February 2022. Forcibly mobilized soldiers from the “republics” are quite literally used as cannon fodder, and many workers – perhaps including some of those involved in these struggles – will be killed or maimed on the front.

Question: To what extent can the labor struggles in Ukraine be compared with those in other (former) Commonwealth of Independent States countries? Are there similar tendencies there (thinking of Belarus, for example, but also of Russia)? Are there possible connections?

Karmína: Alas, we know far too little about countries like Belarus or Kazakhstan to provide any interesting insights. Superficially, there still seem to be important material connections between the economies of post-Soviet countries which could serve as the basis for solidarity and common struggles, notably in the fossil fuel–heavy industry nexus. In many of these countries, ruled as they are by authoritarian capitalist regimes, economic issues faced by the working class seem to be inextricably linked with questions of freedom and democracy, even in the sense of elementary bourgeois democracy that some of our Western friends would scoff at. Any democratic movement in these countries seems hopeless without the participation (and hopefully a leading role) of the masses of working-class people. We have seen hints in this direction in the summer of 2020, when a wave of demonstrations and, significantly, strikes swept parts of Belarus.

This brings us to an important point: The Lukashenko regime was only able to survive thanks to various forms of Russian assistance. Today, the Russian state is once again a transnational gendarme – albeit not of all Europe, as in the times of Nicholas I, but of the post-Soviet space, which it views as its sphere of influence. Before the current invasion, the most recent example of the utterly reactionary role that Russia plays in this region was provided by its intervention in Kazakhstan, where (mostly) Russian troops helped crush an emerging working-class insurrection in the very early days of 2022. [5] In the future, the defeat of the Putinist regime could serve as a clarion call for the working class across the CIS to rise up. The disintegration of this regime could come about through military defeat in the current war of attrition in Ukraine, but it can also be brought about by a mass movement – at the very least, a democratic movement – in Russia itself. For everyone’s sake, we would very much prefer the latter option.

On the significance of the Russian intervention

Question: In your analysis you speak of “colonialism” – about Ukraine as a whole, but also about the Donbas. I find this reference rather problematic and unconvincing, especially in view of colonialism as a historical crime of incomparable scale. What is the case for using this comparison?

Karmína: We are aware of the difficulties, which is why a close look at the text reveals that the term “colonialism” does not actually appear in it, not even once! There are some veiled references to it, but not in the sense the question suggests.

As regards the territory of Ukraine as whole, we think that its position in Tsarist Russia is best thought of as that of an “internal colony,” similarly to other regions on the periphery of the Russian Empire, such as Siberia. The Soviet period was somewhat specific: On the one hand, we saw murderous repression, massive dispossession, large-scale starvation as a result of economic policy (similar to, e. g., British India), proletarianization, and forced population displacement going hand-inhand with Russification and Russophone settlement (with a brief interlude in the 1920s, the heyday of both Ukrainian Bolshevism and local cultural development).

On the other hand, we also saw intense modernization, state-led development, urbanization and upward social mobility. We are not sure what to call this deeply contradictory process, but we hesitate at using the term “colonialism” without adjectives. Perhaps a special theory of the relation between the Stalinist center and its periphery is required – in our view, this would be quite fitting, since we tend to view Soviet-type economies as not fully capitalist, but also not in the least socialist. Maybe such a theory already exists in the vast work of post-Soviet researchers, largely untranslated and unknown in the West.

As far as the occupied Donbas is concerned, we suggest a parallel in the text between the authoritarian apparatus of the two “people’s republics” and a “colonial administration.” We use this term because the apparatus is completely subservient to the Russian state. The latter directly determines the composition of the ruling elite through appointment and repression (including assassination); some elements of this elite are Russian citizens with no history in Ukraine. Moreover, the relation between Russia and the occupied regions in the last eight years has been completely parasitic. The Donbas is viewed simply as a source of cheap coal, which was exported to Russia and beyond through Vneshtorgservis, a semi-legal scheme based in another Russia-controlled quasi-state, South Ossetia. The region also serves as a source of cheap and flexible labor power for the neighboring regions of Russia (or, today, as a source of cannon fodder). As noted above, there have been no significant investments from Russia (or anywhere else, for that matter) in the Donbas, no development to speak of – only plunder, including the export of scrap metal from abandoned production facilities, and “spontaneous” decay. Hence our comparison of Pushilin [leader of the “DPR,” P. B.], Pasechnik [leader of the “LPR,” P. B.], and others, with a “colonial administration.”

Some have also called the 2022 invasion a colonial war. We still owe our readers (and ourselves, really) a text on these events, where we want to take a closer look at this question. In the text we published, we opted for calling the present war an “irredentist” one. [6] We took cue from the many declarations by various representatives of the Russian state and its media, who have clearly stated the goal is for the state of Ukraine – and its civil society – in its original form to cease to exist, and to annex at least some parts of this alleged primordial Russian territory. Now, some would perhaps argue that all this is just for show, and that the true motives of Russia’s invasion are different: to deflate internal contradictions of Russian society, to make a run for a position as an important global power, or to consolidate the current clique’s hold on the Russian state. But whatever it is, it does not seem to matter much from the point of view of the Ukrainian population.

The Russian army’s practical actions are no different from what an irredentist expedition would do: Signs in Ukrainian are replaced by ones in Russian, teachers are interrogated by the secret police, the education system is being switched to instruction in Russian only, and civilians are put in “filtration camps” where they are sorted based on their perceived harmfulness to the Russian project. Whatever the “true motives” might be, from the Ukrainian side it really does look like a war of territorial expansion whose goal is to fully subdue the population and install subservient administrations similar to the ones in the “people’s republics.”

“Euromaidan” and transnational social movements

Question: A most striking part of your text is the reference to Greece (concerning the depth of the crisis and the social upheavals after 2008 and 2014), but also the worldwide social movements since 2011. But you do not name any left wing social movement dynamics, in contrast to Greece, not even a trace of it, but mainly the strengthening of rightwing forces, in Russia, but also in Ukraine. Are there no such remnants at all?

Karmína: As regards movements since 2011 (or since the 2008 crisis more generally), they are a rather disparate group – some included explicitly leftist elements and were motivated more by material grievances, while the focus of others was simply democratization. Some were coupled with left-wing electoral mobilization, others were not. What united them, in our view, were their roots in the 2008 crisis and its aftermath, their heterogeneity in terms of social composition (i. e., they were cross-class movements and were also not led by the working class), and their specific tactics (i. e., occupation of urban space, such as squares, sometimes including attempts at blocking the circulation of commodities – but no significant strikes, for example). Some of these movements elicited a lot of enthusiasm in certain left-wing quarters and were hailed as exemplifying a new mode of struggle. After about a decade, we think it is fair to state the obvious: Such hopes were misplaced. These movements have not left much behind, regardless of the extent to which they engaged in leftist rhetoric. The Euromaidan of 2013/2014 fits into this group precisely because of its cross-class – or “civic” – nature, its tactics, the vagueness of its demands (it is now also known as “The Revolution of Dignity”), as well as the quickness with which it became co-opted by established political forces and then demobilized without much fanfare. Unlike in some of these other movements, the left did not play a significant role in the Euromaidan, though not for a lack of trying. Socialist, anarchist and feminist activists were often simply pushed out of the movement by far-right threats or violence. Many then decided to pull back or at least to operate more covertly, without openly stating their affiliation with the left. The overall strengthening of the far right was, at first, due to the escalation of violence at the Euromaidan by the state and then, in 2014, a result of the Russia-sponsored violence in the Donbas.

However, we think that to judge the state of working-class or wider social movements in Ukraine, one has to look beyond the Euromaidan. Similarly, when looking at the current state of the left in the US, it would not be wise to focus on “Occupy Wall Street,” which is now a rather distant memory. And, at least before the 2022 invasion, there were significant struggles in different sectors of the Ukrainian economy, some of which we summarize in the text, or struggles beyond the workplace, such as against real estate development.

We think the presence of such struggles is more important than the outward appearance of there being a lot of leftist activists and visible organizations (though these do exist: We want to mention specifically the Kharkiv-based anarchist group, Assambleya / Assembly, the broadleft, democratic socialist Sotsialnyi Rukh / Social Movement, as well as the journal, Spilne / Commons). To put it another way: We know Ukraine is much bigger than the Czech Republic or Slovakia, in all respects, but still, when we look at the activity of its working class pre2022, we do get a little jealous. The same applies to the level of sophistication of the debates on the left which, to be honest, is far beyond what we experience in our own country. Of course, this may not be enough for our friends in the West, where working-class movements are so much more powerful and the debates so much more exciting. Or are they?

Question: Immediately before the war, you speak – with a view to the election of Zelensky and the deselection of Poroshenko – of fatigue in the face of nationalist mobilization. What does that mean today? Has this social tendency of “fatigue” disappeared? What will happen next? What perspectives do you see for the Ukrainian working class facing the war? And what are the possibilities of solidarity?

Karmína: The landslide victory of Zelensky and the defeat of Poroshenko indeed showed that efforts at a mobilization under the banner of “Army! Language! Faith!” do not resonate with the majority of Ukraine’s electorate. It appears that in the months before the invasion, Ukraine was on a course to further moderation in terms of nationalism – as even Zelensky was quickly losing popularity, unable to deliver what he promised, including any substantial progress on the eastern front (and also because of continuing with the hugely unpopular “reforms,” such as creating a market in agricultural land).

With the beginning of the full-scale war, most of the population (to the extent that we can trust the polls and other, more anecdotal evidence) rallied around the president and the army. This does not mean, in itself, that divisions along national lines within Ukraine will deepen. After all, the brunt of the war’s destruction is borne by cities and towns with a substantial Russian-speaking population, such as Kharkiv – the very population whose language rights the “special military operation” is supposed to protect. Many are now saying openly that they have lost any sympathy they may have had for this version of the “Russian world.”

But the broader perspectives for the Ukrainian working class are, of course, bleak. They can only get bleaker as the war drags on – which it most probably will, in a form that will be more or less desperate. Its level of desperation will be inversely proportional to the amount and sophistication of military aid sent from the West. It is a convenient pacifist fairy-tale that the bloodbath would stop immediately if there were no weapon deliveries from the West. Firstly, there are other sources of weapons and ammunition, though much less high-tech, on the world market, including on the black market. And, secondly, even if there were not, the war could continue for quite some time in a much more primitive, though no less brutal form of a Ukrainian insurgency and “punitive expeditions” by Russia. The past two decades provide plenty of examples of the efficacy of this form of warfare, of the sort of difficulties it can create for even the most sophisticated military in the world, as well as of the effects it has on the civilian population. It is not difficult to predict what political forces would inevitably try to take control of such an insurgency on the Ukrainian side – the far right.

A range of bad alternatives

Question: I understand the reference to Afghanistan etc. But, in my opinion, that does not mean that the arms deliveries will more or less automatically (like the as the mathematical metaphor suggests) lead to shortening or ending the war. Couldn’t the delivery of “sophisticated” weapons and the development of a proxy war also prolong and brutalize it, see for example the ongoing war in Syria? Aren’t there situations, in terms of the dynamics of wars, where there are just several bad alternatives?

Karmína: There being a range of bad alternatives might be a good way of describing it. We would underscore, though, that unlike us, the mass of Ukrainian people do not have the luxury of remaining aloof, at the level of description. These alternatives are forced on them in a very real way. Even if they hesitate or abstain from choosing, a choice will be made for them and will shape the reality they face – a reality more brutal than inflation or a recession. It seems to us that for many on the Left outside Ukraine, the chief task seems to be to “get it over with” and quickly come to some definite conclusion (e. g., that the war can in no way be won; that the Ukrainian state is this or that anyway, so why care; that there is no fundamental difference between bourgeois democracy and a “D/LPR”-style society, since both are forms of capitalist rule, etc.). Once this is done, people move on to thinking and writing about other issues. But even if such reasoning were correct, for people in Ukraine, the bad alternatives are a lived reality and there are few “other issues” to think about at the moment. Unfortunately, most of the commentators stop short of providing any (realistic) pointers as to what they should do. Perhaps this leftist desire to be done with the war on the verbal level of declarations is also an expression of our collective powerlessness on a practical level. Meanwhile, the majority of Ukrainian workers still seem to bet on an alternative they prefer over others: the vision of an unoccupied, independent Ukraine. The idea that they are unaware of the immense costs is ludicrous, as they bear them every day. Still, their views are ignored in much of Western leftist discourse on the war.

The way we see it, the rather piecemeal military aid from the West (quite restrictive, for example, in the kinds of long-range capabilities it includes) has enabled the Ukrainian armed forces to halt the Russian advance and, as we are writing this, to try to push it back. This would not have been possible, for example, without the deliveries of artillery shells which Ukraine had been running short on. On the one hand, this does prolong the conventional war and is directly responsible for casualties on both sides. But the proportionality metaphor concerns something else: Western military aid has so far prevented a descent into a desperate insurgency and a brutal occupation, while also tiring and demoralizing the invading force. Foreign weapons also provide some measure of safety to people in places further from the front which have been targeted. We can ask ourselves: If we had to remain in Kharkiv, for whatever reason (as many people have), would we prefer that an anti-aircraft missile system be stationed near the city or not? This, as opposed to the fanciful dichotomies of “an immediate ceasefire vs. continued attacks” or “a peaceful handover of state power to Russia vs. more war,” is one of the immediate questions. It is an other-worldly question for people like us, who only know the sound of air-raid sirens from quarterly test runs – but one such missile system was in fact donated by Slovakia, to the protests of local pacifists and opponents of “escalation.”

For these reasons, we were critical of workplace actions in Italian ports that sought to prevent the transfer of arms to Ukraine. Nor would we go out and demonstrate against weapons deliveries (and in defense of the national economy), as tens of thousands of people have recently done in Prague. Unless such disruption becomes commonplace in Russia, such actions objectively amount to supporting the military aggression. On the other hand, we think anyone, including men of military age, should be free to flee the war or, as many labor migrants have done, not to go back to Ukraine to join the war effort. The people whom the Ukrainian state views as draft dodgers deserve our solidarity. Moreover, unlike some comrades in Ukraine, we are wary of the idea that this is simply an emancipatory “people’s war” that can somehow strengthen pro-worker forces – such illusions can in fact be quite dangerous. Finally, attempts by EU governments to shift the costs of the war and its inflationary effects on the working class can and should be resisted, though in a way that does not turn Ukrainian workers into scapegoats. Admittedly, our position is contradictory. We prefer the headaches that such contradictions lead to over the sort of satisfying but reality-independent thinking mentioned above.

Question: A final question. What does the ongoing war mean, in your opinion, for the development of class struggles in Ukraine?

Karmína: The current conditions of occupation appear to foretell the “DPR- / LPR-ization” of new territories such as the Kherson Oblast – that is, unless they are liberated by the Ukrainian army, which can only be done at terrible human cost. The destruction of lives and productive capacity in other regions has already brought about immense suffering and an unprecedented decline of the economy. Even if the war would end tomorrow, in whatever compromise, it will still have set Ukraine’s development back by years, deepening the country’s dependence on international financial aid and precipitating further outflows of labor power. Moreover, the ruling class in Ukraine is already using the war as a pretext for rolling back basic freedoms and protections of workers in ways which appear to be incompatible with EU legislation, even though European integration (and approximation of legal norms) is its proclaimed goal. See, for example, the recently passed law no. 5371 that robs workers employed in small and medium-sized enterprises of any Labor Code protections and leaves everything up to shop-floor negotiation. A draft of the law had been submitted to parliament already in April 2021, but the economic difficulties created by the war provided new “arguments” in favor of passing it, allegedly as a temporary measure.

The key to the situation is, of course, the Russian working class, although its obligations to act (obligations, firstly, to itself, but also to the global working class) are only rarely mentioned in the declarations of the Western left. Through strikes, sabotage, and well-planned acts of terror against military and government targets, it could suffocate the war. The level of resistance that the Russian population has already put up, in quite difficult conditions, should not be underestimated. Note that in the West, there were plenty of peaceful demonstrations before and during the Iraq war, but we don’t remember seeing US recruiting offices on fire or supply trains derailed. Alas, actions on a more massive scale are needed to make a dent in the Russian war effort. In short, our solidarity with Ukraine must be with those who fight on both fronts – against the Russian occupation and against the homegrown policies of austerity and repression. Such forces do exist. Our solidarity with Russia can only be with those who throw wrenches in Putin’s war machine.

Subcategories