Statements of Radical Socialist

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হানাহানির পরিপ্রেক্ষিতে আব্বাস সিদ্দিকীর বক্তব্য সম্বলিত ভিডিও এবং তার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে র‍্যাডিক্যাল সোশ্যালিস্টের মতামত

 
এই বছরেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে আমাদের প্রকাশিত পুস্তিকায় বামপন্থীদের সমর্থনের কথা বললেও, তাদের শরিক পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর দ্বারা প্রভাবিত আই এস এফকে সমর্থনের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিলাম। বলেছিলাম, নির্বাচনের মুখে একজন মুসলিম ধর্মগুরুর প্রভাবে সদ্য তৈরি হওয়া আই এস এফ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক অবস্থান নিতে আমরা প্রস্তুত নই, প্রয়োজন আরও পর্যবেক্ষণের। একদিকে তাঁর নারীবিরোধী মনোভাব এবং উগ্র ধর্মীয় উস্কানি সম্পর্কে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম, আর অন্যদিকে বহুজনের সামাজিক অধিকারের প্রশ্নে তার জোরালো ইতিবাচক বক্তব্যের কি পরিণতি হয় তার দিকে দৃষ্টি দিতে চেয়েছিলাম।
 
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হানাহানির পরিপ্রেক্ষিতে আব্বাস সিদ্দিকীর মতামত সম্বলিত একটা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায়, এই বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা জরুরি মনে হয়েছে। ওই ভিডিওতে আব্বাস সিদ্দিকীর মতামত একেবারেই অপ্রত্যাশিত নয়। আমরা ওই উস্কানিমূলক সাম্প্রদায়িক বক্তব্যের জোরালো নিন্দা করছি। যদিও, দলগত ভাবে আই এস এফ অন্যরকম বিবৃতি প্রকাশ করেছে, তথাপি পীরজাদার বক্তব্যের গুরুত্ব কোনোভাবেই লঘু হয়ে যায় না।
 
একই সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে এখানকার বামপন্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বলি, নির্বাচনের সময়েই আমরা দেখেছিলাম এবং ওই পুস্তিকায় বলেছিলাম, শুধুমাত্র বিশুদ্ধতার পরাকাষ্ঠা হয়ে অর্থনৈতিক শোষণ ও সামাজিক নিপীড়ণের বিরুদ্ধে লড়াই সফল হতে পারে না, দরকার ভারসাম্যের মনোভাব। ক্লেদ, কালিমা থেকে গা বাঁচিয়ে নয়, তাকে সঙ্গে করে, বৃহত্তর লড়াইয়ের সঙ্গেই ওই সমস্ত ত্রুটি বিচ্যুতির বিরুদ্ধে জেহাদ সম্ভব। অথচ, একদল বামপন্থী বহুজনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও আর্থিক উত্তোলনের প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি কাজকর্মের বদলে স্রেফ ক্ষমতার লোভে তাৎক্ষণিক বোঝাপড়ায় সুবিধাবাদকে আশ্রয় করছে। আর, আরেকদল বামপন্থী ক্ষুদ্র গোষ্ঠী রাজনীতির বায়বীয় সাফল্যে বুঁদ হয়ে চরম দেউলিয়াপনার প্রকাশ করে যাচ্ছে। এই দুধরণের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে এগোনোই এখন কাম্য।