Articles posted by Radical Socialist on various issues.

The Battle is Won ! All Hail those who fought. The war continues. (Radical Socialist Statement on Repeal of Article 377)




Radical Socialist welcomes the Supreme Court verdict on Section 377 IPC. This is an important victory for the LGBTIQH community in India. We do not see the victory as a gift from the judiciary, but as the result of decades of battles, on the ground, in grassroots organising, as well as in courts. In this moment of achievement, we hail all those who fought to make it possible. It is not a few elite figures, nor some mainstream liberals, and certainly not any of the major political parties, but large numbers of people in their communities, resisting police violence and blackmail, building militant LGBT organisations, and coming out with their identities, or taking part in the Pride Walks and other programmes, who have made the struggle visible and ultimately won this significant step.

Homophobia and compulsory heterosexuality go hand in hand with male domination, glorification of the family and gendered roles for women. These in turn are buttressed by Brahmanism as well as other religious orthodoxies. And all of them are also connected to capitalist exploitation. This is why many LGBT activists, hailing the toppling of Section 377, also chanted slogans against the UAPA and demanded the release of civil rights activists.

Repealing Section 377 is not the end of the struggle. Notwithstanding the promise of equality in Article 14 of the Indian Constitution, the social reality is that Dalits continue to be sidelined, ill-treated, subjected to violence, excluded from jobs, education and access to many services. The fact that the Supreme Court has completely removed consenting adults from the scope of Section 377 does not mean that LGBTs will immediately achieve equality especially the civil rights to marry; adopt; inherit properties and so on.

That struggle will only now be widened, as greater numbers are emboldened and as they come out declaring their orientation openly. But there have been on one hand attempts at coopting through prioritising small groups of elite LGBTs, and on the other hand aggressive and violent propaganda and threats persist against many LGBTs. Legal redressal cannot solve the issue of social ostracism and deprivations of the sexual minorities. The reworked Transgender Bill is still skewed. The demand for reservation in government jobs and educational institutions are yet to be accepted.

The struggle for recognition as equal humans, the struggle for a right to live life on their own terms, to get equal access to jobs, shelter, health, education – these are struggles where LGBTs have a long way to go. At the same time, these struggles call for unity of the exploited across sectional divisions.

This is not to be confused with pseudo-class, or class reductionist arguments, where the struggles of marginal sexualities are ignored, or rejected as petty bourgeois/ bourgeois reactionary fashionable behaviour. Real class unity will be achieved only when special oppression is acknowledged and its issues seriously addressed within larger class forces. At the same time, therefore, we need to remind people, both in the LGBTIQH communities and in the leadership of working class organisations and left parties, that the bulk of LGBT people are labouring people; and to reject as reactionary the propaganda of those on the left who either treat the struggle as insignificant, or as reactionary, from petty bourgeois moralism disguised as class politics.

Radical Socialist has participated, to the best of its abilities, in struggles of the Queer communities in India. Radical Socialist has argued that the way forward is through mass movements and widest unity of all the exploited, while recognising and fighting for all special oppression. Radical Socialist will continue to be involved in these struggles, as we unitedly fight for our demands.



জাতীয় নাগরিক পঞ্জি নিয়ে র‍্যাডিক্যাল সোশ্যালিস্টের অবস্থান


অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করা ভারতীয় জনতা পার্টির কাছে অত্যন্ত লাভজনক হয়েছে। কেননা শোষিত-নিপীড়িত শ্রমজীবী মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করার একটি বড় সুযোগ তারা পেয়ে গিয়েছে। এই ক্ষেত্রে ভাষাভিত্তিক জাতিগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সংঘাতের সঙ্গে তারা অত্যন্ত সুকৌশলে জুড়ে দিয়েছে ধর্মীয় পরিচিতিকে। 

জাতীয় নাগরিক পঞ্জির চূড়ান্ত খসড়ায় বাদ পড়া মানুষের সংখ্যাটা বিপুল। নাগরিক পঞ্জিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন ৩ কোটি ২৯ লক্ষ মানুষ। বাদ গিয়েছেন ৪০ লক্ষ ৭ হাজার মানুষ। কিছু উৎকট বাদ পড়া ব্যতিরেকে যা সবচেয়ে উদ্বেগজনক, তা হল বাদ পড়া মানুষের সংখ্যাটা। কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের যুক্তি, এটি একটি খসড়া, চূড়ান্ত তালিকায় নাম ঢোকানোর সুযোগ আছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটিতে প্রবেশ করার আগে কয়েকটি মৌলিক প্রসঙ্গের বিষয়ে অবতারণা জরুরি।


আন্তর্জাতিকতাবাদী হিসাবে আমরা আগ্রাসী জাতীয়তাবাদের বিরোধী। সেই সঙ্গে সমস্ত জাতিগত, ভাষাগত এবং ধর্মীয় বিভাজন, মেরুকরণ ও ঘৃণার বিরোধী। যে বিভাজন শ্রমিকশ্রেণী এবং প্রশস্ততর শ্রমজীবী মানুষের ঐক্যকে দুর্বল করে, আমরা তার তীব্র বিরোধিতা করি। যে যুগে পুঁজিবাদ দাবি করছে, সে সমস্ত সীমান্ত অগ্রাহ্য করবে। গত ত্রিশ বছর ধরে প্রতিটি সরকারই সীমান্ত পেরিয়ে পুঁজির চলাচলকে স্বাগত জানিয়েছে এবং অবাধ করেছে, সেই যুগে এটা অত্যন্ত বিস্ময়কর ও নিন্দনীয় যে, প্রবল রাষ্ট্রীয় শক্তিকে ব্যবহার করে কেবল মানুষের চলাচলকেই ঠেকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যখন ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী পাঁচ লক্ষ ভারতীয়কে ‘বেআইনি’ বলে ঘোষণা করছে, তখন একই ভাবে ভারত সরকারের নিজ দেশের বসবাসকারী মানুষদের প্রতিও সম মনোভাব থেকে এটাই স্পষ্ট যে, দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসমূহ সাধারণ মানুষের স্বার্থের সামনে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।


জাতীয় নাগরিক পঞ্জির পক্ষে মূলত চারদফা যুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

  • প্রথমত, অসম চুক্তির মধ্যেই নতুন করে নাগরিক পঞ্জি তৈরির সূত্র ছিল।
  • দ্বিতীয়ত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের মান্যতা দিতে নাগরিক পঞ্জি তৈরি করতেই হত।
  • তৃতীয়ত, ভারতীয়দের চাকরি ও কর্মসংস্থানের সুয়োগ বজায় রাখতে এটা করা জরুরি।
  • চতুর্থত, বাংলাদেশ থেকে আসা ‘বেআইনি’ অভিবাসন অসমের জনবিন্যাসকে বিকৃত করে দিয়েছে।


এই চার যুক্তিকে সামনে রেখেই বিজেপি এবং অবশ্যই সংঘপরিবার এক নির্লজ্জ্ব সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ শুরু করে দিয়েছে। ফলে গোটা প্রক্রিয়াটিরই সম্প্রদায়িকীকরণ ঘটে গিয়েছে। মৌখিকভাবে, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলিতে এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রচার চালানো হচ্ছে— এটা বাঙালি-অসমীয়া দ্বন্দ্ব নয়, আদতে এটা হল হিন্দু বনাম মুসলিম দ্বৈরথ। আমরা কোনও জাতিভিত্তিক বা আন্তর্ধর্মীয় সংঘাতকে সমর্থন করি না। বিজেপি তার নিজস্ব অ্যাজেন্ডা অনুসারে গোটা প্রক্রিয়াটির মধ্যেই এক উৎকট ধর্মীয় বিভাজন রেখা এঁকে দিয়েছে। বলা হচ্ছে হিন্দু হলেই সে হবে ‘শরণার্থী’ এবং মুসলিম হলেই সে হবে ‘অনুপ্রবেশকারী’। একই সঙ্গে ধর্মের ভিত্তিতে ঘৃণা ছড়ানোর প্রক্রিয়াটিও ক্রমশই তীব্র করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য বিবিধ। প্রথমত, শোষক-শোষিতের শ্রেণী দ্বন্দ্বকে হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বে পরিণত করা এবং দ্বিতীয়ত তার সম্পূর্ণ ফায়দা তুলে শ্রেণী ব্যতিরেকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন আদায় করে নেওয়া। আমরা দ্বিধাহীনভাবে এই বিভাজন ও বিভেদমূলক নীতির তীব্র বিরোধিতা করি এবং সেই কারণেই প্রত্যাখ্যান করি জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকে।


জম্মু-কাশ্মীরের মতো কোনও নির্দিষ্ট সাংবিধানিক অন্তরায় না থাকলে কোনও একটি রাজ্যে একটি জাতিগোষ্ঠী ঐতিহাসিক ভাবে বসবাস করলে অন্য জাতিগুলির অভ্যন্তরীণ অভিবাসন বন্ধ করতে হবে—এই তত্ত্ব আমরা সম্পূর্ণ অস্বীকার করি। কেননা এই প্রচেষ্টা একটি হিংসাশ্রয়ী আঞ্চলিকতাবাদের জন্ম দেয়। এই চেষ্টা মহারাষ্ট্রের শিবসেনা, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের মদতপুষ্ট বাংলাপক্ষ বা কোনও জাত্যাভিমানী অসমীয়া গোষ্ঠী, যারাই করুক না কেন, তা সমানভাবেই বর্জনীয়। কারণ বেশিদূর চললে এর পরিণতি হতে পারে জাতিগত হিংসা থেকে জাতিগত সংখ্যালঘুদের গণনিধন।


কোনও কোনও মহল থেকে বলা হচ্ছে, এই প্রক্রিয়াটি ২০১৯ সালে ভোটে জেতার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মীয় গোষ্ঠীকে গৈরিক শিবিরের পাশে সমবেত করার চেষ্টা। কিন্তু বিষয়টি এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জাতীয় নাগরিক পঞ্জি তৈরি আদতে ভারতীয় জাতীয়তার সজ্ঞা বদলে দেওয়ার জন্য সংঘ পরিবারের নির্দিষ্ট রণনীতির অংশ। যদি একবার জাতীয় নাগরিক পঞ্জি সাফল্যের সঙ্গে বলবৎ করা যায়, তাহলে জাতিভিত্তিক গণ খতমের রাজনীতি নৈতিক ন্যায্যতা পেয়ে যাবে। আমাদের মনে রাখা উচিত ১৯৮৩ সালে নেলির গণহত্যা একই বিজাতীয় বিদ্বেষের ফসল।


এর বাইরেও কয়েকটি নীতিগত প্রসঙ্গের অবতারণা অত্যন্ত জরুরি।


প্রথমত, আমরা এমন কোনও নীতি মানি না, যে নীতিতে মানুষকেই প্রমাণ করতে হয় সে বা তারা ন্যায়সঙ্গত নাগরিক। বরং রাষ্ট্রকেই প্রমাণ দিতে হবে সে বা তারা কোনও বেআইনি কাজ করেছেন কিনা। তা না হলে বিচারব্যবস্থার সেই মূল নীতিকেই আঘাত করা হবে, যেখানে বলা হয়েছে রাষ্ট্র দোষ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযুক্ত নির্দোষ। ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ মধ্যরাত্রির আগে তাঁরা ভারতে ছিলেন কিনা তা নথিপত্র দিয়ে প্রমাণ করা তাঁদের দায়িত্ব হতে পারে না। বরং রাষ্ট্রকেই প্রমাণ করতে হবে নাগরিক পঞ্জি থেকে যাঁরা বাদ গিয়েছেন, তাঁরা নির্দিষ্ট সময়সীমার পরে অনুপ্রবেশ করেছেন। এটা মনে রাখা জরুরি যে বিপুল সংখ্যক ভারতবাসী হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন না এবং সেই কারণেই তাঁদের জন্মের শংসাপত্রও থাকে না। রাষ্ট্র তার সমস্ত নাগরিক প্রসূতিকে সেই পরিকাঠামো এখনও দিতে পারেনি যে তারা হাসপাতালে প্রসব করবেন। বিপুল সংখ্যক ভারতবাসীর পাসপোর্ট ও নেই। যদিও এই দু'টিকেই নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নথি হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে।


দ্বিতীয়ত, অসম চুক্তির নামেই হোক আর সুপ্রিম কোর্টের রায়ের নামেই হোক ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ মধ্যরাত্রিকে চূড়ান্ত এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা হিসাবে মানতে আমরা অস্বীকার করি। ধরা যাক ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে কোনও পরিবার ভারতে এসেছিলেন। ২০১৮ সালেও ভারতে থাকার অর্থ হল, ওই পরিবারটি ৪৭ বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন। ভারতের নাগরিকত্ব আইন বলে, একাদিক্রমে ভারতে ১২ বছর বসবাস করলেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। তাঁরা যে আইনত বেআইনি বসবাসকারী, রাষ্ট্রকেই তা প্রমাণের দায় নিতে হবে। ২০১৮ সালে দাঁড়িয়ে ১৯৭১ সালকে নির্দিষ্ট তারিখ হিসাবে আদৌ মেনে নেওয়া যায় না।


তৃতীয়ত, ব্যক্তিটি যিনিই হোন না কেন, আদতে তিনি একজন ভারতবাসী। নাগরিক পঞ্জির তথাকথিত বিধি তাকে বেআইনি বসবাসকারী বানাতে পারে, কিন্তু তাঁকে বলপূর্বক মায়ানমার বা বাংলাদেশে পাঠানোর আমরা তীব্র বিরোধী। ভারতে ঐতিহ্য রয়েছে বিপুল সংখ্যক তিব্বতী, শ্রীলঙ্কার তামিল, চাকমা এবং অন্যান্যদের আশ্রয় দেওয়ার। এক্ষেত্রেও সেই ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানানো উচিত বলে আমরা মনে করি। নাগরিক পঞ্জি বা নাগরিকত্ব নির্ধারণের যে কোনও প্রক্রিয়াই যেন কোনওভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী প্রক্রিয়ায় পরিণত না হয়। যেহেতু তথাকথিত অ-নাগরিকদের ভারত থেকে বহিষ্কার করার সুযোগ নেই, সেহেতু ধরেই নেওয়া যায়, এঁরা রাষ্ট্রচ্যুত মানুষ হয়ে দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় শ্রেণীভুক্ত বাসিন্দা হিসাবে প্রশাসনের দাক্ষিণ্যের ওপর নির্ভরশীল জীবন যাপন করবেন। সমস্ত বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে এর বিরোধিতায় নামতে হবে। যদি অসম বা সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতে জন পরিচিতি উদ্বেগের কারণ থাকে, তাহলে আলোচনার পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে। কোনও জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।


এই নীতিগত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনার পরই খুঁটিনাটি বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। অসম চুক্তি রূপায়ণের একটি পদক্ষেপ হিসাবে নয়। নাগরিক পঞ্জি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছিল অসমের পূর্বতন কংগ্রেস সরকার। অসম চুক্তিতেই বলা হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ মধ্যরাত্রি হবে নাগরিকত্ব প্রমাণের রেখাচিহ্ন। ১৯৫১ সালের নাগরিক পঞ্জি এবং ১৯৭১ সালের ভোটার তালিকাকে নতুন এনআরসিতে নাম ঢোকানোর মূল ভিত্তি হিসাবে রাখা হয়েছে। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় নাম ওঠে এবং বাদ পড়ে যায়, তাতে একথা বলা কঠিন নয় যে, এনআরসি থেকে নাম বাদ পড়ার ভিত্তি এখানেই সৃষ্টি হয়েছিল। এছাড়াও ১৯৪৭ সালের পর থেকে অসম অনেকবারই বিভক্ত হয়েছে। বার বার নতুন নতুন অভিবাসন ঘটেছে। প্রত্যেকের ক্ষেত্রে প্রতিটি বাসাবদলের নথি রেখে দেওয়া সম্ভব নয়। এই সমস্যা বিশেষ করে গরিব মানুষের ক্ষেত্রে ভীষণভাবে সত্যি। এনআরসিতে আবার পঞ্চায়েতের দেওয়া শংসাপত্র গ্রাহ্য নয়। 

অসমে ট্রান্সজেন্ডার গোষ্ঠীগুলির সামনে এক বিশেষ সমস্যা এসেছে। এঁদের বেশিরভাগই হয় জন্মের পরই পরিত্যক্ত অথবা পরে পরিবার ছেড়ে বেরিয়ে আসা। অনেকেই আরোপিত লিঙ্গ পরিচিতি থেকে ভিন্নতা অনুভব করেন। এঁরা বিভিন্ন ট্রান্স/রূপান্তরকামী/রূপান্তরিতদের সঙ্গে নিজেদের সমাজে পরিবার হিসাবে বসবাস করন। এঁদের কাছে যে সব নথিপত্র চাওয়া হচ্ছে, তা দেওয়া এঁদের পক্ষে অসম্ভব। বর্তমান এনআরসি বলবৎ হলে অন্তত পক্ষে ২০ হাজার, গোপন রূপান্তরকামীদের ধরলে কমপক্ষে দ্বিগুণ সংখ্যক মানুষকে বেআইনি অভিবাসনকারী হিসাবে চিহ্নিত করে বিভিন্ন শিবিরে ঠেলে দেওয়া হতে পারে।


বিজেপি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক খেলা খেলছে। পাসপোর্ট এন্ট্রি রুল সংশোধন করে এবং নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী বিল এনে তারা নাগরিক এবং অভিবাসনকারীদের একটি সাম্প্রদায়িকতাবাদী কাঠামোর মধ্যে দেখতে চায়। যেখানে মুসলিমদের দূরে সরিয়ে রাখা হবে এবং শত্রু হিসাবে গণ্য করা হবে।


অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ও তাদের মিত্র বুদ্ধিজীবীরাও আদতে বিজেপির খেলাই খেলছেন। কেননা তাঁরা এনআরসির প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন গণতান্ত্রিকতার ভিত্তিতে নয়, বাঙালি জাত্যাভিমনের ভিত্তিতে। ইতিমধ্যেই বিজেপি পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে। উদ্দেশ্য, মুসলিমদের বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসাবে দেখানো। ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের এটাই তাদের রণনীতি।


আমরা বিজেপির এই ভয়ঙ্কর রণনীতির চূড়ান্ত বিরোধী। একই ভাবে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি তৃণমূলের বাঙালি জাত্যাভিমানকেও। আমরা তৃণমূলকে কোনও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের রক্ষক বলেই মনে করি না।

এই সঙ্গেই আমরা দাবি করছি, অসমের এনআরসিতে বাদ পড়া ৪০ লক্ষ মানুষের মধ্যে যাঁরা আর অসমে থাকতে চাইবেন না, তাঁদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিয়ে অন্যত্র পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

Radical Socialist condemns attacks on human rights activists and arrests

Radical Socialist condemns the targetted attacks on human rights activists and their arrests in a simultaneous operation across the country by the Maharashtra police. In one of the grossest violation of human rights, the Pune police conducted raids on the houses of activists across the country and arrested them including the confiscation of mobile phones, computer and other electronic devices, books, periodicals. The police claims that these raids and arrests are in connection to the Bhima Koregaon incident.

Over four years of the BJP in power at the Centre; well over three decades of aggressive struggle by the fascists to force the pace and move their agenda in place, India today has moved so far to the right, that gross violations of civil liberties can be wiped out of consciousness when the targets are secular and rationalist activists, or civil rights/democratic rights activists, or Dalits, Adivasis, Muslims, people whose existence is seen as socially less valuable by the Brahman-bania elite at the core of the Sangh’s elite politics, and at the same time people on whose oppression their conception of Hindutva is based. The attacks on Human /rights activists on 28 August 2018 must be denounced without hesitation, and the release of all who were arrested demanded. Radical Socialist joins all democratic forces in making these as the primary demands today. We do not need to go into raptures over the Supreme Court’s interim order, for us to realise that even less aggressive fascistic components of the state find the assault irrational and totally violating democratic rights.

The growing openness of the far right violence needs to be understood with clarity. The attacks on secular and rationalist activists, leading to the murders of Kalburgi, Pansare, Dabholkar, Lankesh; the attempt a few days ago on Umar Khalid; the mass lynchings in the name of cow protection in large parts of north India; the attacks on Dalits and Adivasis including driving Rohith Vemula to suicide, the violence in Una, and the violence in early 2018 in connection with the annual celebration by Dalits of the Bhima Koregaon battle; the violence unleashed by state as well as far right forces on Adivasis, are all tied together.

On 28th of August 2018, the police forces raided offices and residences of nine activists. The raids and arrests were by the Pune police, in connection with the Bhima Koregaon violence in January, in which Dalit activists had clashed with upper-caste Marathas. Those arrested include noted radical poet and cultural activist Varavara Rao, lawyer Sudha Bharadwaj, and activists Arun Fereira, Gautam Navlakha and Vernon Gonsalves. The raids were carried out in Delhi, Faridabad, Goa, Mumbai, Ranchi and Hyderabad.

Rao was arrested on the alleged involvement of his in a plot to kill Narendra Modi.

Arun Fereira and Vernon Gonsalves were arrested from Thane and Mumbai. Human rights lawyer Sudha Bharadwaj was picked up from her home in Faridabad. Gautam Navlakha's transit remand to Pune is also on hold, the Delhi High Court said. He will stay at home under police guard and can meet only his lawyers.

Earlier, in June, others had been arrested -- Sudhir Dhawale, Surendra Gadling, Mahesh Raut, Rona Wilson and Shoma Sen. They had allegedly made “provocative speeches”. In a country where a right wing MLA can even speak about the need to kill intellectuals, this charge is laughable, or would have been, had it not been backed up by court cases and arrests.

A new term has been created, in conjunction with ultra-right television channels whose task is to prepare the ground for the state and right wing. This is the term Urban Naxal. In reality it means nothing, since Naxalite is a term used about a range of left wing parties and groups that owe some allegiance to the Naxalbari uprising of 1967, the Andhra struggles of Srikakulam etc., as well as to Mao Tse Tung and the Cultural Revolution in China. Beyond these few points to day these groups have diverse politics. Many are involved in ttrade union work, some in elections, while for some rural work continues to be primary. Any radical left activist who supports any of these organisations and lives in cities, is formally speaking an urban Naxalite. But the term has been coined for a very different aim. It is to suggest that the original Naxalites were rural guerrillas, and urban Naxalites are all, to use some of the favourite terms of the government and its pet media, “terrorists”, “anti-nationals”, etc. By putting these claims, an attempt is made to deprive citizens, accused of being urban Naxalites, the democratic rights that everyone is supposed to have. Apparently the Delhi Police, after having arrested Sudha Bharadwaj, waited for Republic TV to arrive so that her arrest could be used on television in a sensational manner, to demonise activists, human rights defenders and intellectuals. And of course this is further evidence of how Republic TV and its ilk need to be seen, not even as run of the mill bourgeois right wing media, but as part of the fascist-Hindutva brigade.

It is also a matter of significance that the Bhima Koregaon issue has been made a focal point. If Dalits and Muslims and Adivasis join hands, that would mean a major blow to the ideological project of the Hindutva forces. We do not take the position that these attacks are in any sense attempts to remove attention from some supposed “real” issues, reducing the class struggle to only bread and butter issues. But we do underscore the need to take a class approach to these struggles. For each ascent of the Hindutva Right, when the left has failed to put up principled struggles, has resulted in a popular front which has only used people’s anger to form alternative, non-BJP bourgeois coalitions rather than forge mass struggles. Yet each time, the Sangh has managed to raise the bar higher. Fighting for real issues that affect dalits, adivasis, Muslims, working class and peasant women, men and persons of other gender identities, have to be brought together. We join all democratic forces in condemning the attacks and arrests, we demand the release of all those arrested, and the withdrawal of cases. At the same time, we warn that this will be a tough battle, and only if we are not prepared to succumb to the charm of merely electing a non BJP government as the solution to all evil can we resist the constant shift to the right that is happening.


Radical Socialist statement on National Register of Citizens (NRC)

(picture courtesy :http://twocircles.net/)

The publication of the draft National Register of Citizens in Assam has been a major political gain for the BJP and its agenda of politically dividing the oppressed and exploited on the basis of religious identities, in this case by harnessing it to linguistic ethnic identity strife. 

The number of people excluded by the draft NRC is massive – out of 3.29 crore people who had applied for inclusion in the NRC the names of 40.07 lakhs have been excluded in the draft. There have been glaringly obvious omissions, and these have been highlighted, but beyond such cases there is the gross figure itself. Both the Central Government and the Assam Government have been repeating that this is only a draft and there will be scope for corrections. But certain fundamental issues need to be addressed, before we look at technicalities about how far the draft can be tweaked and so on.

As internationalists, we are opposed to aggressive nationalism, ethnic hatred, and other forms of divisions that weaken the working class and the broader mass of toiling people. In an era when capitalism claims to be capable of ignoring all frontiers, when every government in the past three decades has welcomed this huge movement of capital across borders, it is indeed terrible that the movement of humans is the only thing that will be blocked by vast shows of force. In an era when the Trump administration is seeking to treat some 500,000 Indians living in the USA as “illegal”, for an Indian government to treat people living in India in the same way shows how right-wing political goals damage the interests even of ordinary Indians. 

The arguments made in defence of the NRC are the following:

    • This was built into the Assam Accord

    • This is the result of a Supreme Court directive

    • This is necessary in order to save the jobs of Indians

    • The influx of “illegal” immigrants from Bangladesh have skewed the population distribution of Assam.

Along with these there has emerged a communalisation of the issue by the BJP and all the Sangh forces. This has been shown by the massive online as well as word of mouth and other propaganda, claiming that it is not a matter of Bengali versus Ahomiya, but of Hindu versus Muslim. We do not support inter-ethnic conflicts any more than inter-community violence. But we draw attention to this vicious propaganda. By this portrayal, as well as the attempt to make a distinction between “refugee” and “illegal immigrant” based on religion, and making the conferring of citizenship linked to religious identity, the BJP has done what it does best – sowing hatred based on religious identity, drumming up Hindu majoritarian support, even among the poor, by pointing to the poor with different religious identities as the enemy, rather than the exploiting classes. We oppose such a divisive policy without qualification and reject the NRC or any segregation policy and classification based on such communal principles. Also, we reject the argument that once a province has a historic group, internal migration by others must be blocked when it is not specifically provided in any way constitutionally (as it is in the case of Jammu and Kashmir). This is crude, violent regionalism. Whether by the Shiv Sena in Maharashtra, or by the TMC sponsored Bangla Paksho in West Bengal, or any Ahomiya ethnic group, this is equally unacceptable, for carried to its extreme it can only lead to ethnic violence tending to ethnic cleansing. This is not simply a matter of mobilising a core constituency for the 2019 elections, as sometimes being portrayed, but  part of the Sangh’s strategy of redefining the Indian nation. Should the imposition of the NRC succeed, it will set up a dangerous precedent and open the door to legimisation of ethnic cleansing. We need to remind all that the Nellie massacre was a consequence of exactly this kind of xenophobia.

Beyond this, we need to stress three or four fundamental points of principle.

First, we are opposed to the principle that it is the responsibility of the people to prove that they are legal citizens. Rather, it is for the state to produce evidence that they have been involved in any illegal action. To do otherwise is to damage the principle that all who are accused are presumed innocent till proven guilty in a court of law. They do not have to provide documentation of having been there before 1971 and if they do not have 'sufficient' identification papers as arbitrarily determined by the authorities no matter. It is for the government to disprove their citizenship with proper documentary evidence, while taking note of the fact that a huge number of Indians  are not born in hospitals and have no birth certificates let alone passports, the two most reliable means of confirming citizenship.

Second, we reject the 1971 cut off date, regardless of the Assam Accord or anything the Supreme Court may have said. India’s own citizenship rules say that anyone living in India for 12 years can apply for citizenship. Unless the state disproves their claim, it is not for them to “prove” they are not “illegal immigrants”. So in 2018 to put the date to 1971 is completely unacceptable.

Third, regardless of whether the person is in fact an Indian falsely accused of being an illegal immigrant, an immigrant whose papers are being disputed, or an undocumented person, we reject any forcible return to Burma or Bangladesh. India has a record of permitting large numbers of Tibetans, Sri Lankan Tamils, Chakmas & others to reside in India. It is that honourable example that should be followed.

The NRC, or any process of identification of citizens, must not violate any human rights convention, under any pretext whatsoever. Since there is no possibility of deportation or repatriation, the NRC would render a huge population “stateless” which in effect would make them permanent second and/or third grade citizens of the country sustaining under the mercy of adminstrations. All left and democratic forces must oppose this.  If there are genuine grievances about the potential or perceived adverse impacts of changing demographic patterns in Assam or the North-East, a framework of discussion and dialogue could be instituted rather than harassments or punitive actions against a section of the population.

It is after these principled issues that technicalities can be discussed. The present NRC updating exercise was raised by the previous Congress government in Assam as a step towards implementing the Assam Accord which had stipulated 24 March 1971 as the cut-off point for determination of ‘foreigners’ or illegal immigrants. The 1951 NRC and subsequent electoral rolls till 1971 have been made the main basis (legacy data) for inclusion in the updated NRC. The way electoral rolls are handled, tampered, etc., it is not difficult to make a serious case that the basis of the NRC thus has exclusion built in. Moreover, the fact that the 1947 Assam has since been repeatedly redrawn, and that this has involved repeated internal migrations, it is difficult for people to document all their moves. This is particularly true for the poor. The NRC has disregarded certificates issued by panchayats.

A special situation also exists for Assam’s transgender community. Most are either abandoned at birth or disowned by their families later in life. Some start to feel differently from their ascribed gender identity. They leave their homes and start living with fellow transpeople. They live as families within their own community. As a result, the kind of documentation demanded from them is impossible to provide. At least 20,000 of them and possibly double that number if the closet transgenders are identified, may end up being ghettoised further and pushed into camps and declared illegal immigrants if the current NRC is finalized.

The BJP is playing as dangerous game. By amending the passport entry rules and introducing the Citizenship Amendment Bill, it has made it clear that it wants to deal with the issues of citizenship and immigration on the basis of a communal framework where Muslims will be excluded and treated as enemies. 

At the same time, the Trinamul Congress and its intellectual allies in West Bengal are playing into the BJPs game, by presenting a Bengali chauvinist, rather than democratic, response. Meanwhile BJP leaders in Bengal are now demanding implementing the NRC in the state, attacking the Muslim community of the province, calling them all  ‘Bangladeshi infiltrators’. This is part of the BJPs strategy of polarisation in Bengal prior to the 2019 parliamentary elections. 

We reject this, while also rejecting Bengali chauvinism. We do not equate Hindutva communalism and its politics of ghettoisation with the politics of minority community defence/self-defence. But we do not see the TMC and their adjutants as defenders of any democratic values.

Of the over 40 lakh excluded by the NRC in Assam, those who for whatever reason do not wish to stay in Assam must be enabled to be fully rehabilitated elsewhere with due compensation provided for any material losses wherever this may become necessary.



Murzban Jal

I have not the shadow of doubt that Hinduism owes all the great traditions that the Brahmans have left for Hinduism. They have left a legacy for India, for which every Indian, no matter to what varna he may belong, owes a deep debt of gratitude.

M.K. Gandhi,1921.


This essay is on how one understands caste in the space of modes of production and how Marx’s original idea of dialectical and historical materialism could literally “lift up” (aufheben), to borrow an expression of Hegel, the understanding of caste.  The caste question has thus to go through a process of dialectical metamorphosis where in locating it in the Indic variation of the Asiatic mode of production, it can be scientifically understood.  This essay also understands caste as a neurotic and psychotic system that has now been transfigured itself as an ethno-religious fascist state.

Repeating History and Fascism’s Dirty Mouth

“Beneath the veneer of a modern, developing, superpower”, so Anand Teltumbde says in his Republic of Caste, “India remains a republic of caste.”[1] The perverse celebration of the 125th Birth Anniversary of B.R. Ambedkar by the Indian elites is not mere an attempt on the part of the upper-caste elites to appropriate the message of Ambedkar by purging it of all the revolutionary content. It is basically on how one completely dismantles revolutionary ideologies by claiming a supported nationalist tinge to it.  This, as we know from Freud, is the work of psychosis where reality is completely erased. But in the functioning of fascist ideology that manipulates all that comes its way is the functioning of neurosis where the same traumatic act is repeated ad infinitum. 

Sometime back in an article on Leninism I had said that, if for the bourgeoisie, history repeats itself twice: the first time as tragedy and the second time as farce, then for revolutionaries there is a sublation of tragedy and farce for revolutionary joy.  This idea of repeating history is taken from Slavoj Žižek, a theme that we have highlighted earlier[2]. In a way it transcends the idea of repetitive history that Marx draws in his celebrated Eighteenth Brumaire of Louis Bonaparte. We have therefore the model that Marx outlined where history under counterrevolutionary governments repeat twice—the first as tragedy, the second as farce.[3] In Žižek we have another model that I am trying to invoke—especially his idea of repeating Lenin. Lenin is repeated, but not in the same way as he came on the scene of history in late 19th and early 20th history.

            In contemporary times we say that with the triumph of the neo-conservatives, we have the Marx inspired model—history now works in a farcical manner. Yet what we say is that despite the neurotic model that counterrevolutionary history prescribes, and despite this being governed by a form of tragi-comedy, there seems to be a form of joy embedded in history that transcends both tragedy and comedy. Marx, it seems, should have said that history repeats itself thrice, the third time as great joy. In a certain sense we are sitting on the crossroads of history where tragedy, farce and joy appear all at the same time. The overthrow of the Indian fascists will lead to this form of revolutionary joy.

            Central to our analysis of the rise of the Indian fascists is the question of caste. If Georgi Dimitrov had said that fascism is the most reactionary dictatorship of finance capital, then this has to be linked with the caste question. One must note that for the British colonialists as was also for the German Nazis, the Indian caste system was an ideal model of governance to be followed. We thus turn to the problem of identifying caste in India, especially in identifying the genealogy of caste. Tragedy shall be inexorably linked with the genealogy of caste. Central to this theme of caste is the question of capitalism and modern classes and whether the new capitalist structures are able to erase the earlier caste-based mode of discrimination. If tragedy is linked to the genealogy of caste, farce is related to the question of the persistence of caste in the age of modernity

The relation between social hierarchies and graded inequality (the sine qua non of the caste system and the philosophy of ‘Hinduism’) on the one hand, and the very Marxist issue of class struggle especially the bourgeois/proletariat opposition on the other hand will be studied. Alongside the question of caste and class emerges another issue that of caste and race. We thus pose the question: “Is caste and casteism similar to racism, if not a European type of racism, then at least a South Asian type of it?”  Finally the problem of caste is also related to the psychoanalytic problem of neurosis and psychosis. It is keeping these three problematic: (1) of estranged clannishness, (2) class, (3) race and racism, and (4) neurosis and psychosis that we shall try of locate the question of caste. Combined with these three problematic we also deliberate on the question of social and political power in India.

            I have been articulating for quite some time that the initial articulation stems from the first appearance of caste in ‘Indian’ literature, namely in the Rg Veda where the Brahmans appear as the wielders of the Ideological State Apparatus of India, and the Rajanyalater to become the Kshatriya becoming the military elites and the bearers of the Repressive State Apparatus who control the army, the police and the paramilitary forces. It is important to note that these concepts: the Ideological State Apparatus and the Repressive State Apparatus, as we know, are from Louis Althusser’s repertoire. The peasants (the Vaisya) and the artisans (Sudras) become the Hellish and Unclean Other. If the tenth mandala Rg Veda has the first statement on social stratification, then Sankara (the philosopher and ideologist of caste Brahmanism and also its theological founder) becomes the most reactionary spokesman for caste stratification veiled in his almost nihilistic and proto-fascist philosophy of Advaita Vedanta. In this sense one will have also to disagree with Wendy Doniger’s articulation of Advaita Vedanta who gives space to this nature of thinking akin to the Sufistic way of philosophizing.[4] We disagree with the idea that “the wisdom of Vedanta is the wisdom of Sufism”.[5] Instead we say that what Sankara did was that he mastered the macabre technique of alienation and ontologized the lines of caste-based demarcations. He in this sense mastered the art of psychosis where social reality is totally forgotten. 

            But as we know, psychosis is so closely woven with neurosis. And thus like the neurotic who negates the trauma, only to posit it once again, caste refuses to leave the scene of India. One recalls Marx’s classical formulation here of hauntology: “Alongside of modern evils, a whole series of inherited evils oppress us, arising from the passive survival of antiquated modes of production, with their inevitable train of social and political anachronisms. We suffer not only from the living, but from the dead. Le mort saist le vif! We are seized by the dead!”[6]

This hauntology of caste domination occurs in modern India because those who control the Ideological State Apparatus of contemporary India are the uncanny Brahmans. In this sense the foundational myth stated in the tenth mandala of the Rg Veda—where the Brahmans are said to be to the mouth and speech act of the schizophrenic-stratified god, and other castes-classes said to be arms, thighs and feet and also many things besides that are totally alienated from the sacred (read “dirty”) Brahmanical mouth (thus “fascism’s dirty mouth”)—stands even today as the reality of the social and political life-world of so-called ‘modern’ India. Consider the myth. Also try to imagine how in contemporary India this same form of domination operates:


The Brahman was his mouth, of both his

arms was the Rajanya made.

His thighs became the Vaisya, from his

feet the Sudra was produced.[7]      


Now relook at what this myth suggests: the Brahmans as the wielders of state ideology speak, but do not think. They most certainly do not feel. Feeling and emotions along with thinking remain totally absent both in the foundational myth as also absent in the Indian ruling classes.

            Yet the Brahmans as ideologists have to deal with ideas, despite they being bereft of all ideas. They are said to think, though thinking is perpetually absent. They become imaginary thinkers, who do not think, but make claims to think. Just as capitalism produces surplus value, the Brahmans operate in the realm of this surplus. They think in terms of surplus, to be precise thinking in terms of surplus value. And as we know since Marx surplus value is “unpaid labour”.


The Republic of Caste and the Terrible Counterrevolution


It is true we live in a republic, but this republic is the republic of caste. Any democratic movement would have wanted to supersede this system. What democratic India did was that it abolished untouchability, but not caste. As Sunil Khilnani says:


…caste was infused into the Constitution by the legislative afflatus of reservations. Policies of reservations….have produced real gains for dalits. But they also gave the already privileged a pliant tool to manipulate caste categories—allowing then to maintain their dominance, not least by generating a self-cancelling politics of internecine conflict between subcastes.[8]


The Constitution then had two paths opened: that of democracy and that of the sabotage of this very democracy, thus of counterrevolution. The phrase the “silent counterrevolution” is borrowed (albeit in inverted form) from Christophe Jafferlot’s The Silent Revolution. This inversion is central in our understanding of how counterrevolutions are able to overpower revolutionary upsurges. A small note on this silent counterrevolution is necessary. The “silent counterrevolution” is the narrative of history, to be precise the narrative of present history that is burdened by what Hegel once called “the cunning of reason” (die List der Vernunft) where caste supposed to ‘disappear’ according to the alleged logic of history appears once again dressed not only as the communal-fascist, but also as the liberal. This silent counterrevolution is thus in actuality built on cacophony and chaos. Though there is chaos, there is also order in this chaos. It is basically about the silencing of radical voices. It is thus about the silence on the speaking of the dynamics of Indian society, despite the plethora of the once upon a time indological studies which miraculously under the influence of Yankee universities turned to postmodernity and the now re-born as the prosperous centres for the studies of inclusion and exclusion. It is thus about speaking in borrowed language, of language that is masked. It is thus about speaking on India’s social relations, or as one may dare say so, speaking on the basic structure of Indian society—about caste  and all the vicissitudes that it carries—from the Indian variant of apartheid and a form of human slavery to a form of neurotic and psychotic cultural system. Thus to the question of caste is intrinsically bound the issues of class, racism and neurosis-psychosis.

In this sense the silent counterrevolution is about the political economy of this cultural system. Our motif is the Marxist Humanist articulation of caste that functions under the banner of studying non-Western societies. Marx’s Economic and Philosophic Manuscripts of 1844, Capital and the rather unknown Ethnological Notebooks form the epistemic mechanism of this New Text. The historicism and humanism of Lukács and Gramsci will be present in the background of this essay, alongside what I call the “Indian Fanonists” (derived from the militant repertoire of Frantz Fanon), namely Jyotiba Phule and B.R. Ambedkar. Thus unlike the Established Indian Left (I insist of the word “Established”, “Established” because it was always in thrall of Stalinism and the Indian parliament) that has been deliberately blind to Marx’s alternative reading of Asian societies, thus blind to his Ethnological Notebooks, the essay on the silent counterrevolution speaks about Marx’s alternative understanding of Indian history, a history that refuses to follow the dictates of an imagined history written with the Orientalists’ spectacle and constructed in exotic spaces, that ultimately created the Hindu nationalists political logic of the “imagined Hindu community” in the late nineteenth century, nor of course the Stalinist dictates of history governed by the even more imagined “iron laws”. This exotic space constructed by Orientalism not only covers Basham’s The Wonder that was India, but also the nationalist imaginary from Gandhi’s Hind Swaraj and Nehru’s Discovery of India to the communal-fascism of Savarkar and Golwalkar. It also covers the spaces chartered by the Indian Stalinists. Whilst S.S. Dange could be said to be the founder of this strange school of “exotic Indian Stalinism”, the parliamentary left led by the CPI(M) is the true inheritor. For them what Marx said about India and Asia, what he says about an alternative understanding of history would be not only forgotten, but actively repressed.

This essay is thus on the silence of voices of scientific exploration as well as on the silence of dissent. In this sense it recalls what Freud used to call “hysterical blindness”. This silence and blindness locates this terrible silence in the upper cast liberal coup d'étatthat took the form of what we call “Brahmanical Constitutionalism” after the death of B.R. Ambedkar. In this sense Indian parliamentary democracy is thus truly Brahmanical Constitutionalism. This essay is on counterrevolution and Brahmanism in all its forms: liberalism, fascism and Stalinism. It is about the counterrevolution that devours even Jaffrelot’s “silent revolutions” of the Yadavas and the Mayawatis., for whom in all the rhetoric of dignity have forgotten the very important programme of the annihilation of the caste system. For them it is the preservation of caste that remains at the forefront of their politics. They are thus the Stalinists and the counterrevolutionaries within the dalit movement. 



A Pre-history to the Asiatic Mode of Production Debate


What is necessary to understand is that hitherto studies on caste could not empirically locate this system in concrete history. Caste thus could not be grounded in a concrete historical mode of production. Both dalit and orthodox Marxist theory failed in this endeavor. This is because they did not encounter Marx’s idea of the Asiatic mode of production. There are two themes intersected in this essay: The first deals with Marx’s original idea of the Asiatic mode of production with caste forming the nucleus of the understanding of social formations in India. Caste here is not understood merely as primitive division of labour. One will have to critique D.D. Kosambi here. For it his view that caste is only linked to primitive division of labour[9]. Instead we say that caste is something more complex that combines the issues of class, race and neurosis-psychosis. The second theme deals with Marx’s problematic of alienation and radical humanism in critiquing both caste and class societies. The linking of caste with modern classes, thus the linking of caste with industrial capitalism and the global accumulation of capital remains the leitmotiv of this essay.

At the outset one must say that though the ‘legacy’ of the Asiatic mode of production is said to lie in the 13th century translation of Aristotle’s Politics and consequently with the development of a ‘science’ of politics by Machiavelli, Marx’s idea is not to be confused with either the Latin interpretations of Aristotle  or Jean Bodin, Machiavelli and Montesquieu. For Marx the Asiatic mode of production is not a normative discourse, thus unlike Karl Wittfogel’s Oriental Despotism which drew a fictitious line of demarcation between apparent ‘free’ societies of the West and an alleged ‘totalitarian’ Eastern world, but a specific concrete mode of production that could not be reduced to the same mechanisms of slave, feudal and capitalist societies of Western Europe, but is a concrete mode of production following its own internal mechanism. As we shall see in the course of this essay there will be three different structures: the centralized state, village communities and the classless communes central to Marx’s idea of the Asiatic mode. We will insist that when theorizing on the Asiatic mode of production any claim that Marx differentiated a materialist and ‘rational’ West from an ‘idealist’ East would be completely wrong. Instead Marx had a very materialist on the question of the Asiatic mode of production where the peculiarity of the Asiatic characteristic of the state emerged. Consider Marx’s first usage of this idea:


Either, as in Greece, the res publica was the real private concern, the real content of the citizens and the private man was slave, that is, the political state as political was the true and sole content of the citizen’s life and will; or, as in Asiatic despotism, the political state was nothing but the private will of a single individual, and the political state, like the material state, was slave. What distinguishes the modern state from these states in which a substantial unity between people and state obtained is not that the various moments of the constitution are formed into particular actuality, as Hegel would have it, but rather that the constitution itself has been formed into a particular actuality alongside the real life of the people, the political state has become the constitution of the rest of the state.[10]


Once one is able to grasp this materialistic character of the Asiatic state and the Asiatic mode of production one will be able to understand the mistakes made by the critics of Marx. A very small note on the Asiatic mode is necessary since a form of criticism would come in, namely that it is a product of the colonial mind. According to this thesis (and there is great deal of serious thought behind this) Orientalism drew a line of demarcation that demarcated the seeming ‘rational east’ from a supposed ‘mystical and idealist east’ if not an out rightly ‘idiotic east’. Caste would be the final product of this outright stupidity. Consider Edward Said:


Until the last thirty years of the nineteenth century, everything to the east of an imaginary line drawn somewhere between Greece and Turkey was called the Orient. As a designation made in Europe, ‘the orient’ for many centuries represented a special mentality, as in the phrase ‘the Oriental mind,’ and also a set of special cultural, political, and even racial characteristics…..But mainly the Orient represented a kind of indiscriminate generality for Europe, as associated not only with differences and otherness, but with the vast spaces, the undifferentiated masses of mostly colored people, and the romance, exotic locales, and mystery of ‘the marvels of the east’.[11]


In contrast to this reading that claims that proponents of the Asiatic mode of production would produce a great abyss between the ‘rational’ west from an ‘irrational’ east thereby deducing a form of absolute peculiarity of the east, one needs to understand what one calls the mode of “relative peculiarity”[12], contextualized in a form of concreteness of social phenomena. Thus in contrast to the thesis of a great abyss of the west vs. the east, we talk of what is known since Trotsky as combined and uneven development.  Thus when theorizing on caste and the Asiatic mode of production we do not talk of civilization gripped by some sort of invisible iron cage constructed by Eurocentric discourse. Instead we talk of real history, history that actually happens.

One has thus to be careful about terminology. A small note on Marx’s characterization of the “Oriental despot” is thus necessary. Marx’s idea of this “Oriental despot” is not any way opposed to the free thinking liberal European. As we shall see in this essay, Oriental despotism—and here we are talking of the Indian variant of the Asiatic mode of production—is linked almost directly to the Indian caste system and the cunning hegemony of Brahmanical oligarchy. Hegel’s “the cunning of reason” can now be transcribed as “the cunning of the Brahman’s (un)reason”. Consider this celebrated and much quoted passage from Marx where he talks of:


….idyllic village communities, inoffensive though they may appear, (which) had always been the solid foundation of Oriental Despotism, that they had restrained the human mind within the smallest compass, making it the unresisting tool of superstition, enslaving it beneath traditional rules, depriving it of all grandeur and historical energies. We must not forget that the barbarian egotism which, concentrating on some miserable piece of land, had quietly witnessed the ruin of empires, the perpetuation of unspeakable cruelties, the massacre of the population of large towns, with no other consideration bestowed upon them than on natural events, itself the helpless prey of any aggressor who designed to notice it at all. We must not forget that this undignified, stagnatory, and vegetative life, that this passive sort of existence evoked on the one part, in contradistinction, wild, aimless, unbounded forces of destruction and rendered murder itself a religious rite in Hindustan. We must not forget that these little communities were contaminated by caste and slavery, that they subjugated man to external circumstances, that they transformed a self developing social state into never changing natural destiny, and thus brought about a brutalizing worship of nature, exhibiting its degradation in the fact that man, the sovereign of nature, fell down on his knees in adoration of Hanuman the monkey, and Sabbala, the cow.[13]



So are these ‘offensive’ passages of Marx? Is Marx an Orientalist as Edward Said imagined?  But then were also Phule and Ambedkar Orientalists, since they also said almost the same thing[14]. Consider Aijaz Ahmad who had said that “Marx’s denunciation of pre-colonial society in India is no more stringent than his denunciation of Europe’s own feudal past, or of the Absolutist monarchies, or of the German burghers; his essays on Germany are every bit nasty”.[15] Remember that for Ahmad Marx visualized the power of the caste system in the Indian village—“restraining the human mind within the smallest compass” equals his critique of “the idiocy of rural life” in feudal Europe.[16] Further, for Ahmad, Marx “regarded the caste system as an altogether inhuman one—a ‘diabolical contrivance to suppress and enslave humanity’, as Ambedkar put it in the preface to The Untouchables—that degrades and saps the Indian peasantry, not to speak of the ‘untouchable’ menial castes”.[17] Our emphasis is on the linking of caste with the generic idea of the Asiatic mode of production and that of the infamous Orientalist despot.

And here it is imperative to emphasis that the Asiatic mode is a complex genre and cannot be reduced to a Unitarian mode of production. In Iran it takes a certain kind of form, whilst in China and India it takes different forms. In India it is caste and the peculiar type of social stratification that forms the basis of the critique of political economy of India.  In the Indian variant of the Asiatic mode we put caste (and not class devoid of caste) as central to a Marxist radical imagination of historization and humanization of Indian society. We not only recall, but also emphasize Marx’s statement that caste has been “the solid foundation of Oriental despotism”[18], celebrating the “wild aimless, unbounded forces of destruction”[19], based on “a sort of equilibrium, resulting from a general repulsion and constitutional exclusiveness, resulting between all its members”[20]. Not only is it the foundation of what I insist on calling “Oriental despotism”, it is also the solid foundation of the “inherited evils”[21] that yet possess and haunt modern India. That is why it is pertinent to say that in contrast to the liberal’s forgetfulness of caste (Gandhi and Nehru are only two examples), as well as in contrast to the established left that has made a fetish of class (here one means that only modern economic class matters—in fact a European idea of class—and nothing else) and thus ignored the dialectic of caste and class, one needs keeping this dialectic central in order to understand how actual class formations and state power come into the scene of revolutionary history.                                                                                One also needs to tell the established Indian left, who seem not to have read Marx critically, that by “modes of production” Marx means something much more profound than what the economist inspired left imagines it to be so. Consider Marx: “Religion, family, state, law, morality, science, art, etc., are only particular modes of production, and fall under its general law (i.e., the law of estrangement, private property and the production of reified consciousness. My insertion: M. J.).”[22] One also needs to inform this same “Marx-less leftist” that Lenin had based his revolutionary politics on the radical critique of economism. Taking this in consideration, as also taking into consideration that caste like religion, family, state, law, morality are all modes of production, we insert caste as not only some aberration of Indian society, but as very well defined social structure, so deep rooted that we call after Hegel as the essence or the Wesen of social being.



Re-viewing Caste in the Genre of the Asiatic Mode of Production


One needs to review the caste question in the larger genre of the Asiatic mode of production. We outline three basic fault lines centralized on the mechanism of caste:

(1) Caste as human alienation. Here one understands caste as the alienated “cutting off” of one human from the other governed by the dictatorship of the upper castes. This dictatorship is carried out through not only the upper caste Panchayats and communal organizations, but also through the medium of the parliament and the bureaucracy. Caste is thus not merely related to pre-capitalist rural India, not only related to anti-democratic movements of primordial nativism (best emphasized by the RSS and the Shiv Sena) whereby the Indian right-wing produces a fantasy world that is built on the dream-images of imperialist barbarism. It is an essential part of the liberal project institutionalized since the early 1920s where the upper caste ideology of the Hindu reform movement sank deep into national consciousness. We will keep Žižek’s recent account of Gandhi as a “social fascist” and Jaffrelot’s reading of Indian democracy as “conservative democracy”[23] and Gandhi as the source of Congress conservatism[24] that despite its cosmopolitan appearance remains conservative in actual practice. As Ambedkar said Gandhism is a “call of return to Antiquity” as well as a “reanimation of India’s dread, dying past”.[25] It is this conservative character that the Indian liberals nurtured, thus disabling the programme of the annihilation of the caste system.

(2) How the caste system, albeit radically modified in the age of late imperialism in permanent crises, structures minorities like the Muslims along with the traditionally oppressed castes to look like the “hellish other” (to borrow Sartre’s term from a different context) that serves the interests of anti-democratic, anti-secular and pro-imperialist forces, and

(3) Caste to be understood as the Confucian lethargy of Indian civilization which serves the production of the political economy of the capitalism-at-the-periphery, as well as the creation of a sluggish de-politicized and fragmented working class that is so internally divided that it cannot play out its role as the insurrectionist proletariat. Here we relate the problem of caste with R.D. Lang’s theory of the divided self and Theodor Adorno’s theory of the general regression of thinking.

Keeping the above in mind I state that by caste one means inherited class status (or frozen classes, classes that are involved in the production of surplus, but classes that are reified and hypostasized) based on segregation that is sanctioned on religious grounds and built on the ideas of purity and pollution.[26] ‘Exclusion’, one must note is a transcendental form of exclusion, but exclusion based on concrete political economy. For instance Irfan Habib mentions that the hunters (the Chandalas and the Nisadas) “were the original ‘untouchable castes….(who) were excluded from taking to agriculture”.[27] Exclusion is thus based in concrete social situations, in concrete political economies.

In this historical materialist model based on the critique of political economy it is the upper castes led by the priestly castes (the Brahmans) accompanied by the warrior clans[28] which are considered ‘pure’, whilst the working masses (the Sudras) are said to be ‘impure’. What happens in ancient India despite Buddhism (unlike in ancient Iran, for instance, where Zarathushtra as the messianic prophet of ancient Iran denounced this warrior-priests combine), is that the warrior-priests combine (with the help of the Vedic rituals) could institutionalize this form of domination.

A small note on the term “caste” is necessary. Despite the terms “varna” and “jati’ being part of the Indian lexicography, the modern term “caste” is precise to define its characteristic.  The word “caste” is itself derived from the Latin castus meaning “pure, segregated, cut off”, and is etymologically related to carere “to cut off”.[29] If then caste implies the logic of “cutting off”, it gets to be directly related to alienation. One will need to point out the relation between alienation as Entfremdung that arouses the feeling of loneliness and helplessness with Freud’s concept of Unheimlich or the “uncanny” that raises the feeling of dread and terror. And since caste as human alienation and the feeling of the uncanny has within it the discourse of race, the problem of racism inherent in Hinduism is repeatedly raised.  Now what seems to be mere cultural criticism from a radical secularist perspective turns into the core question of locating revolutionary subject positions in India. Would caste imply race, and if so would the problem of the political economy of India conjoin the class question with that of caste? In this sense would the ‘high’ castes, the priests (Brahmans), the warriors (Kshatriyas) and merchants (Vaiśyas) be considered part of the ruling establishment and the Śūdras and anti-Śūdras be understood as the proletariat?  Then is caste=class and class=caste and that at both the levels of the ideological superstructure and the economic base one has to unleash a cultural revolutionary attack on Hinduism? Would this attack be the prelude to the critique of political economy in India? In this perspective of the caste-class combine, one must also note that whilst caste remains a part of the history of India in particular, caste takes a more generic form where understood as an oppressive social system was also linked to the Asiatic states and even to the counterrevolutionary bureaucratic Stalinist state[30].

A small note on the origins of caste is necessary. Since social science has attempted to locate a manifold origin of caste: from the Indo-Iranian origins to the period from the rise of Buddhism to the Gupta period[31], its genealogy and structural analysis is necessary. The scientific point of view locates caste in the complex of social formations that is itself based on a form of labour process that produces surplus.[32] Removing caste from this space of historical social formations would only make the reading of the caste question extremely unscientific. Secondly attempting to locate caste exclusively as a conspiracy created by a specific social group could be erroneous. Caste is so unfortunately deeply rooted in Indian civilization and intrinsically woven in India’s social fabric (and that though it is represented both theologically and ideologically in Hinduism) its encounter with Buddhism and then with Islam and Christianity did not allow the uprooting of this system. It seems that despite Buddhism’s humanist and anti-Vedic worldview and despite Islam’s egalitarianism, the Buddhist and Muslim rulers not only did not challenge it, but used it for their own advantage. Irfan Habib, for instance, claims that not only in Brahmanism, but also in the times of Buddhism and Islam caste was present.[33] The sources drawn by Habib will be of great help, though as we shall see, he does not want to link it with the Asiatic mode. Not only does he link castewith Brahmanism and Buddhism, but also with the Islamic rulers[34], despite both Buddhism and Islam’s ideology of egalitarianism.

How does one understand this irony that despite anti-caste religious ideologies (in Buddhist and Islamic times) caste continuously persist? How does one understand that it is not created by some sort of idealist conspiracy independent of the questions of land, labour and capital, but located in a particular social formation? But also how does one understand how in almost similar social formations (existing in India and Iran in medieval times) in one case (India) caste was prominently present, and in the other (Iran) it did not prevail?[35] Would then, the Iranian version of the Asiatic mode of production give way to different results, which do not correspond to the Indian variant?

Locating caste to the question of the Asiatic mode of production also brings in the question of human geography as well as the very important issue of origins into our discussion. One will have to turn one’s attention to ontogenesis and phylogenesis. The origins of caste are complex and diverse ranging from the versions from Kosambi to Habib and from Georges Dumezil to Gherardo Gnoli. Historical analysis traces the domination of the Indo-Iranian military elites (the Indian Kshatriyas and the Iranian Rathaēštars (literally “the wielders of the chariot”) in the Late Bronze Age with discovery of bronze and production of chariot as the vehicle for raiding pastoral communities. According to Gnoli the primary class struggle was between these warrior tribes (the Indian Kshatriyas and the Iranian rathaēštars) and the agriculturalists (the Indian Vaiśyas and the Iranian Vastryō.fšuyants)[36]

To understand this class struggle in the ancient Indo-Iranian world whereby one understands the origins of caste, one needs to understand how the Indo-Iranian warrior-priests combine could dominate the agriculturalists and the pastoral communities through the ideology-ritual of Yagna. Yagna was not merely a religious ritual. It was a mode of destruction of the surplus produced by the agriculturalists and the pastoral communities. We begin here with the theory of trifunctional ideology as introduced by Dumezil in 1929 where proto-Indo-European society was divided into three classes: the priests, warriors and the working multitude (the farmers, herders, craftspeople and traders). What happened is that corresponding to these three ancient classes were the three great economic activities: the sacred/political (dealing with the ideology and practice of sovereignty—this is the Ideological State Apparatus), war/defence/policing and internal repression (the Repressive State Apparatus) and economic production.  Whilst in a certain way historical materialism would state that there is a shared code between the Indians, Iranians, Romans, Greeks and Germans with this tripartite division of society, what happened in the Indian sub-continent is that these three classes got reified into castes with its corresponding theological sanction, whilst also producing the “great refusal” (to use Herbert Marcuse’s term from a different context) in the form of the Śūdra and the ati-ŚSūdra communities.  The fact that there is a genetic affinity between the upper castes in South Asia with Europeans, whilst  the lower castes are more like Asians has to be pointed out. A 2001 study pointing to these conclusions also puts Phule’s thesis of the upper caste elites being parts of the European stick and thus Indo-Iranian raider tribes, where stratification according to the principle of racial colour (“varna”) was the basis of their class rule.

Here one needs to go to Albêrûnî who points to this race-based classification with regards the Indian castes. In his chapter ‘On the Castes, called “Colours” (Varna), and on the Classes below them’, in his magnum opus India talks of the apparent ‘genius’ of the kings of ages gone by who invented the caste system to prevent the ‘disorder’ of intermixture.[37] Iranian mythology claims that Jamshid (Middle Persian), who appears as Yima (in Old Persian) and Yama (in Old Sanskrit) created the three-fold class division. The Sháhnáma (the eleventh century Persian classic penned by the legendary Firdausi) says that Jamshid created the three Anjuman (literally “institutions” or “assemblies”). This what the rendering of the origins of institutions of pre-capitalist class formation looks in Iranian literature. Remember that the Persian words are Anjuman and Guroh implying “assembly”, “congregation”, “troop” and “band”. How it is related to caste as a pre-capitalist institution and whether it is related to the Hindu order based on purity and pollution where untouchability remains the essence of its system remains to be seen. This Persian text (rather in translation says), that “to the joy of all he (Jamshid) founded castes” and that ‘”distinguishing one caste (the priest, my insertion, M.J.) as sacerdotal”.[38] What happens in India, is that caste as a hierarchical system based on the totem of purity and taboo of pollution with deeply graded system of inequality, took roots that no nation could ever duplicate. 

Since the Ur-origin of caste is related definitely to the Rg Vedic tradition, one has to understand its relation to the Indo-Iranian past. We saw how in the Hindu caste system the alienated cutting off one social group from another is the sine qua non of India. But in the Iranian narrative, there is class stratification, but this is not the same as caste stratification as in the Hindu-Brahmanical model based on the totem of purity and the taboo of pollution. Remember that however brutal the Iranian mode of Asiatic pre-capitalist social formation was (which reached its epitome in late Sasanian era, probably in the late 5th century A.D.), it did not take in this peculiar form that emerged in India. The reason? One could say that a form of human geography that forms a part of historical materialism could be the basis. It must be noted that though the Indo-European model that we just mentioned formed in a type of a generic model of class formations that was common in a very minute way with the Greeks, Romans, Iranians and the Indians; there is a considerable difference between the Greco-Roman model on the one hand and the Indo-Iranian on the other, not to forget a difference between the Iranian and the Indian type of class formation. To explicate the latter point it must be noted that in Iranian tradition the king of kings (Shāhān Shāh-ī-Ērān) was a messianic form of personification of all the classes. He was priest, warrior, peasant and artisan all at the same time.

            Consider the Sháhnáma where “separation” of one social group from another links only to the priests—they are separated from all other classes (it seems that even today the Iranian Ayatollahs represent this obnoxious ‘Aryan’ tradition)—and also considering that the Iranian peasants were considered “independent tillers of the soil” just as weavers were said to be “free men” who “labor upon the soil safe from dispute and contest”, along with the artisans who are depicted as “given much to thought” (unlike the Indian caste system that is based on the most de-humanized division of labour between physical labour that was said to be unclean; and mental labour which was said to be of a higher level and thus which monopolized the process of thinking, or rather speaking). Clearly the difference between the Iranian and the Indian models are apparent.

            The problem is that due to the neurotic structure of caste—one abolishes it only to make it reappear once again—caste makes its presence firstly liberal India under Nehru and then once again in neo-liberal India in the era of globalization. One thus needs to say that it is not merely the Hindu right-wing led by the RSS and their fascist cousins like the Shiv Sena and the Maharashtra Navnirman Sena that emphasizes caste, but also Gandhi in his silent way who swept it below the carpet of semi-feudal reason, not to forget Nehru who romanticized it as “an all-inclusive order without any common dogma and allowing the fullest latitude to each group” that also included “equality and a measure of freedom” and “a high degree of specialization and skill in handicrafts and craftsmanship”[39].




‘Hinduism’ and the Asiatic Mode of Production


That is why we are saying that we need to be critical of the established Indian left’s deficit analysis of caste and surplus analysis of “Indian feudalism” and thus critical of not only the analysis of classes in contemporary India, but also is critical of the theory of transition of pre-capitalism to capitalism in India. It is also critical of the abstract-universal theory of history propounded by Kant (that laid the basis of the theory of history determined by iron laws independent of humanity) as well as critical of the general theory of history that has its origins in Stalin’s counterrevolution and manipulation of Marxism. Remember it was Stalin (since the early 1930s) who literally banned any debate on the Asiatic mode of production. The debate on the Asiatic mode of production was officially banned in the Soviet Union in 1931. In 1933 V.V. Struve’s theory that the ancient east (like Western Europe) also had a slave owning mode of production was adopted. Though the Soviets after Stalin’s death re-opened the debate in 1964 followed in France by the works of Maurice Godelier and Suret-Canale; in India the pattern of history writing was determined by R.S. Sharma’s Indian Feudalism followed by the works of Irfan Habib that followed the Stalinist unilinear model. More recently it is Kevin Anderson who has challenged the Stalinist view by raising the importance of a more nuanced reading of Marx on non-Western societies in his Marx at the Margins. 

That is why we are putting caste as the central category in Marxist historiography, caste located in the problematic of the Asiatic mode of production, caste that has yet not left us even in the age of late capitalism. And that is why we also insist that the philosophies of Marx and Ambedkar are central in this analysis. But since we talk of caste as not yet leaving us in the age of late capitalism, we also recall Freud’s theory of neurosis as the eternal recurrence of the self-same trauma. As we shall see in the course of this essay, since critics of Marx, (especially those following Edward Said) found that Marx’s critique of pre-capitalist India as stagnant was some sort of hidden Orientalism based on the Eurocentric narrative; we shall be relating the Freudian critique of neurosis to critique the Indian caste system. Thus when Marx had talked of the Indian “self-sufficient communities that constantly reproduce themselves in the same form, and when accidently destroyed, spring up again on the spot and with the same name”[40], we were referring to the neurotic caste system.

Here we would like to note that Marx did not think of the so-called “Eastern world” as “timeless” and “devoid of history”. Marx not only considers the dynamics of non-European societies, but also emphasized it. Remember that in the letter to Vera Zasulich he talks of the dynamism of the Russian communes, how they are revolutionary and can directly skip the capitalist mode of production, and thus how he celebrates the archaic world[41]. Likewise Kosambi too did not view the Indian village in the Orientalist phantasmagoric space of living “outside history”. Instead he says how historical materialism links the formation of caste with agricultural economy, and thus in his view was a “tremendous advance in the mode of production”.[42] But with this “tremendous revolution” is tied “grimmest poverty and helplessness”.[43] What Kosambi misses out is linking of caste with the Indian variant of the Asiatic mode of production as also his lacuna in articulating the superstructural aspect of caste, not to forget his almost forgetfulness of psychoanalysis and his consequent amnesia on the relation between neurosis and caste. We, on the contrary, place this neurosis central to India.

And this neurosis I have stated in the following tragedy: that caste survived Buddhism, survived Islam and would soon collide with not only colonialism, but also with industrial civilization and modernity, and survive these too. Our repertoire is thus based on the trio—Marx, Freud and Ambedkar. Not only do we relate the Marxist-Freudian-Ambedkarite critique of caste with domination and neurosis, but we also talk of caste as a form an estranged clannishness and thus relate it with Marx’s theory of alienation. Consequently we talk of caste consciousness with what Hegel and Marx called (in different contexts) as the “unhappy consciousness” and the “estranged mind”.

In a certain sense it is almost necessary to talk of the necessary dalitization of Marxism and consequently the necessary humanization of the communist movement. It is also necessary to talk of a philosophical rendering of historical materialism where Marx’s idea of communism as humanism and naturalism combined with Lenin’s praxis of insurrection as art is used to deconstruct caste consciousness. The philosophies of Phule, Carl Einstein, Georg Lukacs, Gramsci, Ambedkar and Žižek are utilized for this purpose. We begin with Ambedkar’s analysis of both caste as well as its ideological superstructure called “Hinduism”.

It seems to be tragic that though Ambedkar speaks with the head and the heart of a radical Marxist, the left could simply not understand him. And despite thinkers like Debiprasad Chattopadhyaya from the left, the established left could not unleash a radical historicist and humanist critique of the Indian ruling classes and its ideology called ‘Hinduism’. And since India (alongside a large part of South Asia did not go through the process of an Enlightenment where humanism and science could displace superstition, rituals and anti-humanism inherent in pre-capitalist societies, one has the ghosts of inherited evils yet oppressing us, where we are yet seized by the dead! The ghosts are divided into two schools—the liberal and the fascist.

Here one needs to point out that not only is the liberal theme of Gandhi and Nehru incorrect, not only the high idealism of Vivekananda and Aurobindo  completely wrong in trying to articulate what ‘India’ and ‘Indianness’ means, but also contemporary thinkers like Ashis Nandy alongside the now proliferating departments in American universities, who following the New Orientalists like David Lorenzen hypostasize India as some sort of phantasmagorical ‘Hindu Nation’ that has existed from time immemorial with its idealist systems of philosophy that is resistant to secular ideals. That Andres Brevik the Butcher of Norway also follows this line of thinking and also the fact that the Nazis were readers of the Vedas and the Upanishads should not go unnoticed. Thinkers like David Frawley, a born-again Yankee neo-Hindu who in his Universal Hinduism: Towards a New Vision creates a fiction of a great and tolerant Hinduism, completely forgets that ‘Hinduism’ as a discipline is basically a colonial construct that is completely oblivious to caste stratification. One must point out that the now fashionable idea of Hinduism as an eternal religion (sanātana dharma) was born only with the nineteenth century theosophists. And that is why one insists that “the notion of ‘Hinduism’ is itself a Western-inspired abstraction”[44], an abstraction that completely forgets caste only to hypostasize a so-called tolerant Hinduism.  A small history of the genealogy of the word ‘Hinduism’ is necessary.

            For we have not only thinkers from Gandhi to Nandy who reconstruct this hysterical melancholia called ‘Hinduism’in the repertoire of liberalism, or Lorenzen who constructs this imaginary discourse called ‘Hinduism’ to be taught in American and European universities[45]. We now are not only accompanied by these so-called innocent inventors of innocence discourses. We have now Western Academia who accompany the Indian fascists. Consider Koenard Elst who not only wrote ideological treatises as in his infamous Decolonizing the Hindu Mind,, but also hate literature like Rama Janmabhoomi vs. Babri Masjid, a book that was released by the Indian fascist leader L.K. Advani. And that is why we insist that ‘Hinduism’ is no longer an innocent discourse that can claim to be the most original Gnostic philosophy and neo-Platonism where Ananda Coomaraswamy and René Guénon occupy this space of Orienatlist innocence. It now becomes out rightly fascist where its inheritors can only be Advani and Narendra Modi, not to forget Andres Brevik, the infamous butcher of Norway.

            So one may ask: what is so specific to the discourse of ‘Hinduism’ that caste which remains at the essence of its repertoire is almost always perpetually veiled? At this juncture it must be noted that the term ‘Hinduism’ as is being used today is basically a vacuous and fuzzy term manipulated firstly by the colonial state and then by the upper caste elites in independent India. The contemporary usage cannot be confused with the original Persian origins—the Achaemenians mention the people on the east of the river Sind as Hindus (Hapt Hindûkân, as the Iranian Avesta calls this land[46]). The term then in the age of the first Persian Empire was geo-cultural. This geo-cultural usage continued till the Mughal rule in India. Contemporary usage of this term (mainly as a single religious entity) was constructed by the eighteenth century Orientalists based on the Judeo-Christian understanding of what constitutes a religion.[47] If the Orientalists (especially Max Müller) imagined a unified doctrine called ‘Hinduism’, the colonial authorities used the same to create a Hindu-Muslim zone of conflict. The term for the dominant ideology of India, since Shankara (788-820 A.D.) began his counterrevolution against Buddhism, ought to be Brahmanism. And that is why we insist that the term ‘Hinduism’ is a fetishized cloak that veils caste and class relations.

            This fetishized reading not only encompassed the Indian Orientalists who indigenized Max Müller’s theory: from Dayanda Saraswati, Bankim Chattopadhyaya, Aurobindo and Vivekananda to Tilak, Lajpat Rai, Savarkar and Gandhi. This fetishized manufacturing of traditions was used by the Indian national Congress since the beginning of the twentieth century, which via Nehru got transformed into the Indian variant of political liberalism. What we inherit today is less of the original geo-cultural understanding and more of the geo-political inheritance of colonialism. The tragedy of Indian is that the radical left, despite Phule, Ambedkar and Annabhau Sathe and the grass root fighters of liberty, equality and fraternity, has not been able to shake off this phantasmagoria of ‘Hinduism’. 

We therefore unleash a certain kind of fury that envelope many a movement for social and political emancipation. The fury is directed to the exploiters, the counterrevolutionaries, the communal-fascists and imperialist cartels. But the fury is also directed towards the hidden ideologists and the wielders of the ideology of dominance, an ideology of dominance that has led not only to a type of ideological blindness, but also to a silent counterrevolution in India. This silent counterrevolution has been blind to the question of caste and then constructed an imaginary theme of India being a Hindu society. Our claim is that this silent counterrevolution links what Marx once called “idyllic village communities, (that have been the)… ..the solid foundation of Oriental Despotism, restraining the human mind within the smallest compass, making it the unresisting tool of superstition, enslaving it beneath traditional rules, depriving it of all grandeur and historical energies”[48] to the imperialist policies of Washington based think tanks.

What we claim is that in the complete overhauling of the entire ideological superstructure of capitalism, the complete overhauling of the caste system and the ideological myth of Hinduism is absolutely necessary. It is not merely that we argue against imperialism, as if imperialism exists independent of pre-capitalist social formations. One needs to link organically the relation between global capital accumulation, the Indian elites and the ideology of dominance in India. The organic linking of the relation between the economic base of accumulation of capital and the superstructure of the mass hysteria (of “we are Hindus being swamped by Pakistanis and Bangladeshis in our own homeland”) and the corresponding stratification, superstition and backwardness needs to be studied.

One needs to link the Yankee War Industry and the Indian ideology in dominance. One thus needs to claim that even the so-called holy book of ‘Hinduism’ which now the RSS wants to promote as the national book is not in any way to be confused with any sort of philosophical or ethical treatise. One needs to deny the moral claims of the Gita as it does nothing but represent the ideological upholding of the caste system. One needs to stress alongside Marx that the caste system “restrains the human mind within the smallest compass”.  One needs also to emphasize alongside Ambedkar that the claim that the Gita is devoid of any message is absolutely correct.[49] It is a “justification of war” and “a philosophical defence of war and killing in war’.[50] It is consequently the classical book for the Indian counterrevolution.[51] In this case why did Gandhi also celebrate this classical book of the counterrevolution?

We need to strike at this terrible counterrevolution. We thus have to attack its ideology. I have said this before that to strike at the Ideological State Apparatus, held domestically by both the liberals and the communal-fascists and globally by the American led corporate imperialism, one needs to articulate how this Ideological State Apparatus produces not only this “hysterical melancholia” that Gandhi had mastered, but now the construction of what we call after Fredric Jameson as the “hysterical sublime”[52], this post-Kantian sublime which moves from aesthetics to spectacle-like politics of fascism. In India the production of the discourse of ‘Hinduism’ (again re-packaged in the early 1990s) whether in the form of peaceful anthropological Hinduism, the Gandhian variation, or the fascistic political Hinduism of Hindutva, has taken brutal forms. For one it has been totally anti-democratic, for caste has always been reproduced by it.

It is necessary to demarcate the eras of liberalism by differentiating the politics of melancholia and that of hysteria. We live in a hysterical world order. It necessarily produces this hysterical sublime, the hysteria that I outlined in a number of articles published in Mainstream which later came out in my Why We Are Not Hindus. It is here that one asks the important question: “What is this hysterical sublime, this post-Kantian sublime?” It is to quote Jameson “the experience bordering on terror, the fitful glimpse, in astonishment, stupor and awe of what was so enormous as to crush life altogether”.[53] It is also “the limit of figuration and the incapacity of the human mind to give representation”.[54] In the above stated articles I had said that it is a “phantasmatic relationship with some organic pre-capitalist peasant landscape and village society”.[55] The hysterical sublime has necessarily to create a pre-capitalist imaginary.

In this phantasmatic representation, the mass hysteria of “being Hindu” implies a violent ideological phantasy created by some sort of castration anxiety which is projected elsewhere (i.e. the production of the ‘Hindu’ as the one who is crushed by the ‘Muslim’). This mass hysteria is also the master signifier of the Indian culture industry where people who are unhappy in the unhappy home of capitalism are served with this sense of false happiness, what one can call   after Marx (and which w call again and again) the feeling of ease and strength in human self-estrangement.[56]One is thus forced to say with cynicism and irony: caste has never left us. Like Freud’s eternal recurrence of the neurotic, caste returns to haunt us once again.

The problem is that caste now appears in fascistic form. Caste was always headed by the Caste Oligarch. This time the Oligarch has become totally insane. The name of this insanity is fascism. The annihilation has now to be at the same time the annihilation of fascism.


[1]Anand Teltumbde, Republic of Caste , with foreword by Sunil Khilnani (New Delhi: Navayana, 2018), p. 19.

[2] See my ‘Why We are Not Hindus: A Reply to the Indian Fascists’, in Mainstream, Vol. LII, No. 1, December 28, 2013, p. 110. Also see my Why We Are Not Hindus (Delhi: Aakar Books, 2015).

[3] Karl Marx, ‘The Eighteenth Brumaire of Louis Bonaparte’, in Marx Engels. Selected Works (Moscow: Progress Publishers, 1975), 96.

[4] Wendy Doniger, On Hinduism (New Delhi: Aleph Book Company, 2013)

[5] This was allegedly the Mughal emperor Akbar’s viewpoint. See ibid., p. 15

[6] Karl Marx, Capital (Moscow: Progress Publishers, 1983), p.

[7] This is the passage from the Rg Veda, Sacred Writings. Hinduism. Rg Veda, trans. Ralf  T. F. Griffith (New York: Quality Paperback Books, 1992), p. 603, where the first reference to castes in Indian society emerges:

[8] Sunil Khilnani, ‘Foreword’, to Anand Teltumbde, Republic of Caste, p. 14.

[9] D.D. Kosambi, The Culture and Civilization of Ancient India in Historical Outline (New Delhi: Vikas Publishing House, 2000), p. 50.

[10] Karl Marx, ‘Contribution to the Critique of Hegel’s Philosophy of State’, in Karl Marx. Early Writings (London: Penguin Books, 1992), p. 91.

[11] Edward Said, The Question of Palestine (New York: Vintage Books, 1992), p. 3.

[12] See Marian Sawer, Marxism and the Question of the Asiatic Mode of Production (The Hague: Martinus Nijhoff, 1977), p. 159.

[13] Karl Marx, ‘The British Rule in India’, in On Colonialism (Moscow: Progress Publishers, 1976), p. 40-41.

[14] See my ‘In Defence of Marxism: A Reply to a Neo-Hindu’s Reading of The Seductions of Karl Marx, in Critique, Vol. 40, No. 1, February 20012, p. 109. See also my The Legacy of Karl Marx (Centre for Scientific Socialism: Nagarjuna University, 2012), pp. 56-7.

[15] See Aijaz Ahmad, In Theory. Classes, Nations, Literatures  (Delhi; Oxford University Press, 1994), p. 224

[16] Ibid., p. 225.

[17] Ibid.

[18] Karl Marx, ‘The British Rule in India’, in On Colonialism (Moscow: Progress Publishers, 1976), p. 40; and Marx’s ‘Letter to Engels, June 14, 1853’, in Marx. Engels. Selected Correspondence (Moscow: Progress Publishers, 1975), 80.

[19] Karl Marx, ‘The British Rule in India’, p.41.

[20] Karl Marx, ‘The Future Results of the British Rule in India’, in On Colonialism (Moscow: Progress Publishers, 1976), p. 81.

[21] Karl Marx, Capital, Vol. I, p. 20.

[22] Karl Marx, Economic and Philosophic Manuscripts of 1844 (Moscow: Progress Publishers, 1982), p. 91.

[23] Christophe Jaffrelot, (2003): India’s Silent Revolution. The Rise of the Low Castes in North Indian Politics (Delhi: Permanent Black), p. 11-12.

[24] Ibid., pp. 13-47.

[25] B.R. Ambedkar, ‘Gandhism’, in The Essential Writings of B.R. Ambedkar , ed. Valerian Rodrigues (New Delhi: Oxford University Press, 2008), p. 165.

[26] The idea of ‘purity’ and the construction of a hierarchical social system is not a construction in the void, independent of an economic system. Instead, as Irfan Habib claims: “Concepts of ‘purity’ and ‘pollution’ were a rationalization of this basic economic fact”. See  Irfan Habib, ‘Caste in Indian History’, in Essays in Indian History. Towards a Marxist Perception (New Delhi: Tulika, 1995), p. 166.

[27] Irfan Habib, ‘Caste in Indian History’, p. 166.

[28] The Brahmans besides being priests are also scholars and ideologists, not to forget the interpreters of Dharma (the Hindu moral law).

[29] The cutting of is evident since the foundational myth in the Rg Veda, Sacred Writings. Hinduism. Rg Veda, trans. Ralf  T. F. Griffith (New York: Quality Paperback Books, 1992), p. 603.

[30] Leon Trotsky, The Permanent Revolution & Results and Prospects (Delhi: Aakar Books: 2005), p. 40; Leon Trotsky, The Revolution Betrayed (Delhi: Aakar Books, 2006), pp. 102, 214, 256,  links caste as a ossified group with an entrenched closed mentality to the Stalinist bureaucracy.

[31] See Irfan Habib, ‘Caste in Indian History’, in Essays in Indian History. Towards a Marxist Perception, p. 169.

[32] Ibid., p. 164.

[33] Ibid., p. 169.

[34] Ibid., p. 173.

[35] Ibid., p. 176.

[36] Gherardo Gnoli, Zoroaster’s Time and Homeland. A Study on the Origins of Mazdeism and Related Problems (Naples: Insitituto Universitario Orientale, 1980), p. 186.

[37] Albêrûnî, India. An Account of the Religion, Philosophy, Literature, Geography, Chronology, Laws and Astrology of India about A.D. 1030 (New Delhi: Rupa, 2002), p. 83.

[38] Firdausi, Sháhnáma, Vol. I, trans. George Warner and Edmund Warner (London: Kegan Paul, 1915)pp. 132-3.

[39] Jawaharlal Nehru, The Discovery of India (New Delhi: Oxford University Press, 1985). See also Perry Anderson, ‘Why Partition?’, in London Review of Books, July 19, 2012.

[40] Karl Marx Capital, Vol. I, trans. Samuel Moore and Eduard Aveling  (Moscow: Progress Publishers, 1983), p. 338-9

[41] See Karl Marx, ‘First draft of reply to V.Z. Zasulich’s Letter’, in Karl Marx. Frederick Engels, Selected Works, Vol. 3 (Moscow: Progress Publishers, 1977), pp. 152-161.

[42] D.D. Kosambi, The Culture and Civilization of Ancient India in Historical Outline (New Delhi: Vikas Publishing House, 2000), pp. 15-6.

[43] Ibid., p. 17.

[44] See Richard King, Orientalism and the Myth of Modern Hinduism (New Delhi: Critical Quests, 2008), p. 14.

[45] See David Lorenzen, ‘Who Invented Hinduism?’ in  Society for Comparative Study of Society and History, 1999.

[46] See the Pahlavi Vendidâd (Zand=Î Jvît-Dêv=Dât), transliteration and translation by B. T. Anklesaria (Mumbai: K. R. Cama Oriental Institute, 2002), p. 12.

[47] See Richard King, Orientalism and the Myth of Modern Hinduism (New Delhi: Critical Quests, 2008), p. 10.

[48] Karl Marx, ‘The British Rule in India’, in On Colonialism (Moscow: Progress Publishers, 1976), p. 40-41.

[49] B.R. Ambedkar, ‘Krishna and his Gita’, in The Essential Writings of B.R. Ambedkar, p. 193.

[50] Ibid.

[51] Ibid., p. 195, 196, 197

[52] Fredric Jameson, Postmodernism or the Cultural Logic of Late Capitalism (London: Verso, 1991), p. 14.

[53] Ibid.

[54] Ibid.

[55] Ibid.

[56] Karl Marx and Frederick Engels, The Holy Family (Moscow: Progress Publishers, 1980), p. 46.

দুনিয়া কাঁপানো সেই দিন

দুনিয়া কাঁপানো সেই দিন

৭ই নভেম্বর ১৯১৭-র কাহিনী --যেদিন বলশেভিকরা এই পৃথিবীর ইতিহাস পরিবর্তন করেছিল

মূলরচনাঃ চায়না মিয়েভিল

ভাষান্তরঃ কৌশিক চট্টোপাধ্যায়

সম্পাদনাঃ কুণাল চট্টোপাধ্যায়




হ্যাঁ, সেই দিন।– ১৯১৭র ৭ নভেম্বর।

২৫-এর ভোর হল। মরিয়া কেরেনস্কি কসাকদের উদ্দেশ্যে আবেদন করেন, “স্বাধীনতার নামে, আমাদের দেশের মাটির সম্মান ও মর্যাদার স্বার্থে, সোভিয়েত কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহক কমিটি, বিপ্লবী গণতন্ত্র এবং অস্থায়ী সরকারকে সাহায্য করতে, যাতে রাশিয়ার রাষ্ট্র ব্যবস্থা ধংসের হাত থেকে রক্ষা পায়।”

কিন্তু কসাকরা জানতে চায়, পদাতিক বাহিনী বেরিয়ে আসবে কি না। সরকারের জবাবে ইতস্তত ভাব দেখে একটি ছোটো অতি-অনুগত দল ছাড়া বাকিরা উত্তর দেয়, তারা একা  কাজ করতে এবং “জীবন্ত লক্ষ্য হতে চায় না”।    

বারে বারের, সহজেই, শহরের বিভিন্ন এলাকাতে, সামরিক বিপ্লবী কমিটি অনুগত রক্ষীদের নিরস্ত্র করে তাদের বাড়ি চলে যেতে বলে। অধিকাংশ সময়ে, তাঁরা সেই কাজই করে। বিদ্রোহীরা ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাসাদ দখল করেন নিছক হেঁটে সেখানে ঢুকে পড়ে। একটি স্মৃতিচারণে বলা হয়েছে, “ওরা ঢুকে নিজেদের আসন নিল, আর যারা বসেছিল তারা উঠে চলে গেল”।  সকাল ছটায় চল্লিশজন বিপ্লবী নাবিক পেত্রোগ্রাদ স্টেট ব্যাঙ্কের কাছে উপস্থিত হন। এর রক্ষীরা ছিল সেমেনভস্কি রেজিমেন্টের, এবং তাঁরা অগ্রিম নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁরা লুটেরা ও অপরাধীদের হাত থেকে ব্যাঙ্ককে রক্ষা করবেন, কিন্তু বিপ্লব আর প্রতিবিপ্লবের মধ্যে পক্ষ নেবেন না। তাঁরা হস্তক্ষেপও করবেন না। অতএব তাঁরা সরে দাড়ালেন এবং সামরিক বিপ্লবী কমিটিকে দখল নিতে দিলেন।   

ঘন্টাখানেকের মধ্যে, যখন এক জোলো শীতের আলো শহরকে ধুয়ে দিচ্ছিল, তখন ঝাখারভ নামে এক অনন্যসাধারণ সামরিক স্কুলের ছাত্র, যিনি বিপ্লবের পক্ষে চলে এসেছিলেন, কেক্সগোলমস্কি রেজিমেন্টের একটি অংশকে নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে গেলেন প্রধান টেলিফোন  এক্সচেঞ্জের দখল নিতেএই টেলিফোন এক্সচেঞ্জে কাজ করার দরুণ জাকারভ নিরাপত্তার যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয়গুলো জানতেন।তার নেতৃত্বে সেনাদল যখন বিপ্লবীদের পক্ষ নিয়ে এক্সচেঞ্জটিতে প্রবেশ করে, তখন তিনি খুব সহজেই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ক্ষুব্ধ, কিন্তু ক্ষমতাহীন শিক্ষানবিশদের নিরস্ত্র ও বিচ্ছিন্ন করেন। বিনারক্তপাতে বিপ্লবীরা সরকারী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সমর্থ ও সফল হন।

তাঁরা কিন্তু দুটি লাইন খুঁজে পেলেন না। এই দুটির সাহায্যে, উইনটার প্যালেসের ম্যালাকাইট রুম বলে পরিচিত সাদার ওপর সোনালী বর্ডার দেওয়া মখমলের পর্দায় কারুকার্য শোভিত ঘরটিতে বসা মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা তাঁদের যৎসামান্য ফৌজী শক্তিদের সাথে সংযোগ রক্ষা করেন। বিচলিত চাপা স্বরে ফোনে তারা তাদের অবশিষ্ট সামরিক শক্তিকে উদ্ভ্রান্তের মতো নির্দেশ দিয়ে চলছিলেন। এই গোলমালের মধ্যে চুপচাপ, উদাসীন ভঙ্গিতে বসেছিলেন কেরেনস্কি।


তখন মাঝ-সকাল। ক্রোনস্টাডের নাবিকরা আগের মতই অস্ত্র হাতে যে যেমন পারেন সমুদ্রযাত্রা করা যায় এমন যানে চেপে বসেন। হেলসিংফোর্স থেকে তাঁরা রওনা হলেন পাচটা ডেস্ট্রয়ার আর একটা পেট্রল বোটে চেপে, সবকটাতেই বিপ্লবের লাল নিশান উড়িয়ে। গোটা পেত্রোগ্রাদ জুড়ে বিপ্লবীরা তখন আরো একবার জেলখানাগুলো খালি করে দিচ্ছিলেন।

স্মোলনিতে বলশেভিক কর্মকাণ্ড-পরিচালন কক্ষে একটা উসকোখুসকো চেহারার লোক ঢুকে পড়েছিল। উপস্থিত কর্মীরা নবাগতের দিকে বিস্মিত ও বিব্রতভাবে তাকান। শেষ পর্যন্ত ভ্লাদিমির বঞ্চ-ব্রুয়েভিচ্ চীৎকার করে হাত বাড়িয়ে দৌড়ে যানঃ “ ভ্লাদিমির ইলিচ , আমাদের প্রিয় নেতা! আমি আপনাকে চিনতেই পারিনি!

লেনিন একটা ঘোষণাপত্রেরর খসড়া লিখতে বসলেন।  তিনি সময়ের ব্যাপারে উদ্বেগে কাপছিলেন, কারণ তিনি ব্যাকুলভাবে চাইছিলেন যে দ্বিতীয় সোভিয়েত কংগ্রেস যখন শুরু হবে, তাঁর আগেই যেন সরকারের উচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়ে যায়। তিনি ভালই জানতেন ঘটে যাওয়া ঘটনার একটা ক্ষমতা আছে।

রাশিয়ার সব নাগরিকদের প্রতিঃ

অস্থায়ী সরকারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতা চলে গেছে পেত্রোগ্রাদ শ্রমিক ও সৈনিকদের প্রতিনিধিদের সংস্থা সামরিক বিপ্লবী কমিটির হাতে। এই কমিটি দাঁড়িয়ে আছে পেত্রোগ্রাদের ছাউনী এবং প্রলেতারিয়েতের শীর্ষে। 

যে দাবীগুলির জন্য জনগণ লড়াই করেছেন, অর্থাৎ গণতান্ত্রিক শান্তির আশু প্রস্তাব, জমিদারদের জমি দখল, উৎপাদনের উপর শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ, একটি সোভিয়েত সরকার – সেই দাবীগুলির বিজয় আজ নিশ্চিত হয়েছে।

শ্রমিক, সৈনিক ও কৃষকদের বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক!











সামরিক বিপ্লবী কমিটির উপযোগিতা সম্বন্ধে ইতিমধ্যে লেনিন নিঃসন্দেহ, তাই তিনি ঘোষণাপত্রটি বলশেভিকদের নামে স্বাক্ষর করেন নি, বরং করেছিলেন ঐ অ-পার্টি সংস্থার নামে। ঘোষণাপত্রটি দ্রুত মুদ্রিত হল  সিরিলিক হরফের বড়, বলিষ্ঠ ব্লকে। মুদ্রিত বিজ্ঞপ্তি দেওয়ালে দেওয়ালে পোস্টার হিসেবে লটকে দেওয়া হয়।

তার-যন্ত্রের সাহায্যে বিজ্ঞপ্তির মূল বার্তা সঞ্চালকগণ রাশিয়ার নানা প্রান্তরে ছড়িয়ে দেন।

বাস্তবটা তত সহজ ছিল না, কিন্তু সেটা ছিল একটা ঐকান্তিক প্রচেষ্টা।




উইন্টার প্যালেসে ঘেরাও হয়ে থাকলেও তার-যোগে কেরেনস্কি রাজধানীর জন্য সেনা পাঠানোর বার্তা দিতে তখনও সক্ষম ছিলেন। কিন্তু সেই সেনাদের বাস্তবে কেরেনস্কীর কাছে পৌঁছানো সহজ ছিল নাতিনি পালাতে পারলেও, সামরিক বিপ্লবী কমিটি রেল স্টেশনগুলি নিয়ন্ত্রণ করছিল।  

কেরেনস্কির সাহায্যের দরকার ছিলসেনাপ্রধানদের দপ্তর দীর্ঘ এবং ক্রমেই উন্মত্ত অন্বেষণে অবশেষে একটা নির্ভরযোগ্য মোটর গাড়ি পাঅনুরোধ করে তারা আমেরিকার দূতাবাস থেকে আরো একটি গাড়ি যোগাকরে,যেটার সামনে কূটনৈতিক পরিচয়বাহী প্লেট থাকায় তা কেরেনস্কির জন্য সুবিধাজনক ছিল

২৫ তারিখ। বেলা ১১টার কাছাকাছি হবেলেনিনের ঘোষণাপত্র, যেটা আগাম ইচ্ছাকে বাস্তব বলে জানাচ্ছিল, চারিদিকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছেএই রকম সময়ে গাড়িদুটো সামরিক বিপ্লবী কমিটি -যত না সক্ষম তার চেয়ে বেশী উৎসাহী রাস্তা-রোখো পেরিয়ে চলে গেল।

ভগ্ন-বিধ্বস্ত কেরেনস্কি গুটিকয় সাঙ্গোপাঙ্গকে সঙ্গে নিয়ে অনুগত সৈন্যদের খোঁজে শহর ছেড়েছেন

অনেক নাগরিকেরই মনে হচ্ছিল যে এই আলোড়ন সত্ত্বেও পেত্রগ্রাদে দিনটা যেন আর একটা স্বাভাবিক দিনেরই মতো। অবশ্যই, কিছুটা ছোটখাটো সংঘর্ষ, হৈ চৈ ও গন্ডগোলকে অস্বীকার করা অসম্ভব হয়ে উঠছিল, কিন্তু অপেক্ষাকৃত অল্পসংখ্যাক মানুষ বাস্তবে লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আর সেও আবার বাছাই করা কেন্দ্রগুলিতে। এই অল্প সঙ্গখ্যক মানুষ যখন তাঁদের বিপ্লবী বা প্রতিবিপ্লবী কাজ করে চলেছিলেন, পৃথিবী  পুনর্বিন্যাস করতে চেয়ে, তখন রোজকার মতো ট্রাম রাস্তায় সচল ছিল, আর অধিকাংশ দোকান-পাট ছিল খোলা।

দুপুর নাগাদ সশস্ত্র বিপ্লবী সৈনিক ও নাবিকরা মারিনস্কি প্রাসাদে পৌঁছায়। প্রাক্-পার্লামেন্টের সদস্যরা যারা সেখানে অধীর আগ্রহে নিজেদের মধ্যে এই নাটকীয় মুহূর্ত সম্পর্কে আলোচনা করছিল, তারা অচিরে এইঘটনাবলীর সক্রিয় কুশীলবের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চলেছিল

এম আর সি-র একজন কমিশার ঝড়ের গতিতে থিয়েটার হলটায় ঢুকলেন। তিনি প্রাক্-পার্লামেন্টের সভাপতির আসনে বসা আভক্সেনতিয়েভের উদ্দেশ্যে নির্দেশ দিলেন প্রাসাদ ত্যাগ করতে। সশস্ত্র সেনা এবং নাবিকরা তাদের অস্ত্রের ঝঙ্কার তুললোতুমুল হৈ-হট্টগোলের পরিস্থিতি সৃষ্টি হল। কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় আভক্সেনতিয়েভ দ্রুত স্ট্যারিং কমিটির যতজন সম্ভব সদস্যকে একত্রিত করলেন তারা জানেন প্রতিরোধ মূল্যহীন,কিন্তু তারা চলে যাওয়ার আগে যতটা সম্ভব আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করে গেলেন, এবং প্রতিশ্রুতি দিলেন যে  যথাশীঘ্র সম্ভব তাঁরা আবার জমায়েত হবেন।


হুল ফোটানো কনকনে শীতের মধ্যেই তারা বেরিয়ে যেতে উদ্যত হলেননতুন দ্বাররক্ষীরা তাদের কাগজ পত্র পরীক্ষা করলেও, বেশীক্ষণ আটকালো না। করুণ এই প্রাক্-পার্লামেন্ট নয়, আসল যে লক্ষ্য হাতে না পাওয়াতে লেনিন ক্ষেপে যাচ্ছিলেন, সেটা তখনও বিপ্লবীদের এড়িয়ে গিয়েছিল।

সেই অভিষ্ট লক্ষ্য বা পুরষ্কার তখন উইন্টার প্যালেসে, কেরেনস্কিহীন অবস্থাসেইখানে, তাঁদের জগত যখন ভেঙ্গে পড়ছে, তখনও অন্তর্বর্তী সরকারের আগুনের শেষ আভাটুকু জ্বলছে

দুপুরে ম্যালাকাইট রুম নামে পরিচিত মস্ত ঘরটায় টেক্সটাইল মিল মালিক ও কাডেট নেতা কোনোভালভ ক্যাবিনেটের সভা বসালেন।

নৌবাহিনীর মন্ত্রী, অ্যাডমিরাল ভেরদেরেভস্কি চাপা স্বরে বললেন, “এই অধিবেশন যে কেন ডাকা হল তার কারণটাই আমি বুঝে উঠতে পারছি না।” আক্ষেপের সুরে তিনি বলে চলেন, “আমাদের কাছে সেই সামরিক শক্তি নেই যার সাহায্যে আমরা যথাযত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারি।” তিনি প্রস্তাব করলেন, হয়তো প্রাক-পার্লামেন্টের সঙ্গে একত্রে বসা উচিত ছিল – এমন সমেয়ে খবর এল, প্রাক পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।

তখনও মন্ত্রীরা নানা প্রতিবেদন গ্রহণ করে চলেছেন এবং সেখানে হাজির ক্ষমতাহীন শলাপরামর্শকারীদের উদ্দেশ্যে নানা কাতর আহ্বান জানাচ্ছেন। যারা ভেদেরেভস্কির শোকার্ত বাস্তবতায়কান দিতে চাইছেন না, তাঁরা কল্পনাবিলাসে লিপ্ত হলেনক্ষমতার শেষ সুতোটুকুও যখন উবে যাচ্ছে, তাঁরা তখন নতুন কর্তৃত্বের স্বপ্ন দেখছিলেন।

এই পৃথিবীর সকল ঐকান্তিকতাকে সঙ্গে নিয়ে, রাশিয়ার অস্থায়ী সরকারের ভষ্মতর্ক করতে থাকে, আগামী একনায়ক কাকে করা হবে, যেন নিভন্ত দেশলাইকাঠিরা গল্প শোনাচ্ছে, তারা অচিরে যে বিধ্বংসী অগ্নিকান্ডের শুরু করবে সেটার।

এই সময় ক্রোনস্টাডের বাহিনী জলপথে পেত্রোগ্রাদ  পৌঁছালো। তাদের কাছে একটা সাবেকী প্রমোদ তরী – ইয়ট্, দুটো মাইনলেয়ার, প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত একটা জাহাজ, একটা পুরনো যুদ্ধ-জাহাজ, এবং একগুচ্ছ ছোটো ছোটো বার্জ। এ আর এক উন্মত্ত নৈবহর।


মন্ত্রীসভা যেখানে বসে স্বৈরতন্ত্রের কল্পনায় বুঁদ হয়েছিল, তার খুব কাছেই বিপ্লবী নাবিকরা অ্যাডমিরাল্টি দখল করে নৌবাহিনীর উপরমহলকে গ্রেপ্তার করছিল। পাভলভস্কি রেজিমেন্টসেতুগুলোর ওপর পিকেট বসাচ্ছিল। মইকা নদীর উত্তরের অংশ নিয়ন্ত্রণ করছিল কেক্সগোল্মস্কি রেজিমেন্ট।      

উইন্টার প্যালেস দখল করার সময় যা নির্ধারিত হয়েছিল সেই দুপুর বারোটা এসে চলে গেছে। সময়কাল তিন ঘন্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়, অর্থাৎ সরকারকে গ্রেপ্তার করার সময় ঠিক হল দুপুর দুটোয় সোভিয়েত কংগ্রেস সূচনা হওয়ার পরে। লেনিন এইটাই এড়াতে চেয়েছিলেন। সুতরাং কংগ্রেস সূচনাটা পিছিয়ে দেওয়া হল।

কিন্তু স্মোলনির হল তখন পেত্রোগ্রাদ আর প্রাদেশিক সোভিয়েতগুলি থেকে আসা প্রতিনিধি ঠাসা। তাঁরা খবর চাইছিলেন। তাঁদের অনন্তকাল ঠেকিয়ে রাখা যায় না।

সুতরাং দুপুর দুটো পঁয়ত্রিশে ট্রটস্কী পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের এক জরুরী অধিবেশন শুরু করলেন। তিনি ঘোষণা করলেন, “সামরিক বিপ্লবী কমিটির পক্ষে আমি ঘোষণা করছি, যে অস্থায়ী সরকারের আর কোনো অস্তিত্ব নেই”।

তাঁর কথা ঝোড়ো উল্লাসের জন্ম দিল। উত্তেজনার উপরে গলা তুলে ট্রটস্কী বলে চললেন, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানরা সামরিক বিপ্লবী কমিটির হাতে। উইন্টার প্যালেস ক্ষণিকের মধ্যে পড়ে যাবে। আরেকটা বিরাট জয়ধ্বনি শোনা গেল। লেনিন সভাকক্ষে প্রবেশ করছেন।

 ট্রটস্কী বলে উঠলেন, “কমরেড লেনিন আমাদের মধ্যে ফিরে এসেছেন। কমরেড লেনিন দীর্ঘজীবি হোন!”

জুলাইয়ের পর এই প্রথম লেনিন প্রকাশ্যে বেরিয়েছেন। তাঁর আগমন ছিল ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু উল্লাসপূর্ণ। তিনি বিশদে কিছু বললেন না, কিন্তু ঘোষণা করলেন, “নতুন পর্ব শুরু হয়েছে”, এবং উদ্বুদ্ধ করলেনঃ “দুনিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।”

যারা উপস্থিত তাঁদের অধিকাংশ হর্ষধ্বনিতে মুখরিত হলেন। কিন্তু বিরোধী মত ছিল। কেউ একজন চীৎকার করে বলে, “তোমরা সোভিয়েত কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত আগাম স্থির করছ”।

ট্রটস্কী পাল্টা ডেকে বললেনঃ  “সোভিয়েদের দ্বিতীয় কংগ্রেসের ইচ্ছা নির্ধারিত হয়েছে শ্রমিক ও সৈনিকদের অভ্যুত্থানের বাস্তবতা দিয়ে। এখন আমাদের বাকি শুধু এই বিজয়কে বিকশিত করা”।

 কিন্তু ভোলোদারস্কি, জিনোভিয়েভ এবং লুনাচারস্কির ঘোষণাদের মাঝে, ছোট একদল নরমপন্থী, অধিকাংশ মেনশেভিক, সোভিয়েতের কার্যনির্বাহী প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে সরে গেলেন। তাঁরা সতর্ক করলেন, এই চক্রান্তের ফল হবে ভয়াবহ।

প্রায় আট ঘণ্টা দেরী করার পর সোভিয়েত প্রতিনিধিদের আর ঠেকানো যাচ্ছিল না। ঐ প্রথম কামান দাগার ঘন্টাখানেক পর স্মোলনির সুবিশাল এসেম্বলি হল ঘরে সোভিয়েত দ্বিতীয় কংগ্রেস আরম্ভ হয়। 


সিগারেটের ঝাপসা নীল ধোঁয়ায় ঘরটার মধ্যে বারবার শোনা যাচ্ছে যে ধূমপান নিষিদ্ধ, যদিও ধূমপায়ীরাও সহর্ষে ধূমপায়ীরা সেই নিষেধজ্ঞার পুনরুচ্চারণ করছিলেন। সুখানভ শিহরণের সঙ্গে লিপিবদ্ধ করে গেছেন যে প্রতিনিধিদের অধিকাংশের ছিল “বলশেভিক প্রদেশগুলির ধূসরতা”। তাঁর সূক্ষ্ম এবং বৌদ্ধিক চোখে তাঁদের লাগছিল “গোমড়া’,  এবং “আদিম” এবং “ঘোর কালো” “অভদ্র এবং অজ্ঞ” ।  


৬৭০ প্রতিনিধির মধ্যে ৩০০ জন ছিলেন বলশেভিক। ১৯৩ জন সোশ্যালিস্ট-রেভল্যুশনারি, যাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশী তখন পার্টির বামপন্থী অংশে; ৬৮ জন মেনশেভিক এবং ১৪ জন মেনশেভিক-আন্তর্জাতিকতাবাদী। বাকীরা কোনো দলের অনুমোদিত নন, অথবা ক্ষুদ্র কোনো গোষ্ঠীর সদস্যবলশেভিকদের উপস্থিতির আয়তন দেখিয়ে দেয়, যারা ভোট দিয়ে প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বলশেভিকদের প্রতি সমর্থন বাড়ছিল, এবং ঢিলেঢালা নির্বাচন পদ্ধতির ফলে তাঁরা আনুপাতিক হারের চেয়ে বেশীই প্রতিনিধি পেয়েছেন।  তা হলেও, বামপন্থী সোশ্যালিস্ট রেভল্যুশনারীদের সমর্থন ছাড়া সংখ্যাধিক্যের কোনো সম্ভাবনা ছিল না


তবেসভা সূচনারঘণ্টা যিনি বাজালেন, তিনি কিন্তু বলশেভিক নন, একজন মেনশেভিকবলশেভিকরা দানের আত্মম্ভরিতার সুযোগ নিয়ে তাঁকে এই ভূমিকা পালনের প্রাস্তাব দিলেনকিন্তু তিনি ততক্ষণাৎ আন্তঃপার্টি সহযোগিতার আশায় ঠান্ডা জল ঢেলে দিলেন।  

দান ঘোষণা করলেন, “কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি আমাদের প্রথাসিদ্ধ প্রারম্ভিক রাজনৈতিক সম্ভাষণকে অপ্রয়োজনীয় বিবেচনা করেএমনকি এখনও, আমাদের যে সব কমরেডদের আমরা দায়িত্ব দিয়েছিলাম, তাঁরা নিঃস্বার্থভাবে তা পালন করতে উইন্টার প্যালেসে গোলাগুলির মুখে দাঁড়িয়ে আছেন”।

দান এবং অন্যান্য নরমপন্থীরা, যারা মার্চ মাস থেকে সোভিয়েত পরিচালনা করছিলে, তারা আসন ছেড়ে দিলেন এক নতুন, আনুপাতিক হারে নির্বাচিত সভাপতি মন্ডলীকে। তুমুল সমর্থনের মধ্যে নির্বাচিত হলেন চোদ্দজন বলশেভিক, যাদের মধ্যে ছিলেন কোলোন্তাই, লুনাচারস্কি, ট্রটস্কি এবং জিনোভিয়েভ, ও সাতজন বামপন্থী এস আর, যাদের মধ্যে ছিলেন বিখ্যাত মারিয়া স্পিরিদোনোভা। মেনশেভিকরা প্রবল অসন্তোষে তাদের তিনটে আসন পরিত্যাগ করলেনমেনশেভিক-আন্তর্জাতিকতাবাদীদের জন্য একটা আসন বরাদ্দ ছিলঃ একই সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ এবং করুণ পদক্ষেপে মার্তভেরগোষ্ঠী আসন তখন নিল না, কিন্তু পরে নেওয়ার অধিকার জানিয়ে রাখল।

নতুন বিপ্লবী নেতৃত্ব যখন তাদের পরবর্তী কর্মসূচী নির্ধারণের কাজে বসেছেন, ঠিক তখনই কামানের একটা গোলা বিস্ফোরণের প্রতিধ্বনিতে গোটা ঘরটা কেঁপে উঠলো

সকলে যেন স্তব্ধ হয়ে গেলেন।

এবারের কামান গর্জন এসেছিল পিটার ও পল দূর্গ থেকে। অরোরা যুদ্ধজাহাজ যেখানে ফাঁকা আওয়াজ করছিল, এক্ষেত্রে কিন্তু তা নয়।


বোমা বিস্ফোরণের তৈলাক্ত চমক নেভা নদীর উপর দেখা দিল। গোলা বাঁকা পথে উপরে উঠছিল, আর রাতের আঁধারে সশব্দে নামছিল তাদের লক্ষ্যর দিকে।  অনেকগুলো, হয় দয়াবশত, অথবা অযোগ্যতার দরুণ,  দৃশ্যমানভাবে ফাটলো আকাশে,ফাঁকা আওয়াজ করলোঅন্য অনেকগুলি আবার গভীর জলে পড়ল, চারিদিকে জল ছিটিয়ে দিল।

লালরক্ষী বাহিনীও তাদের অবস্থান জানান দিয়ে গুলি-গোলা ছুঁড়ছিলতাদের বুলেটগুলি উইন্টার প্যালেসের দেওয়ালে দাগ ফেলছিল।সরকারের অবশেষটুকু তখন ভয়ে গুটিসুটি মেরে টেবিলের তলায়, তাঁদের চারদিকে কাচের টুকরো বর্ষিত হচ্ছিল।

স্মোলনিতে সেই গোলাবর্ষণেরর করাল ধ্বনির মধ্যে মার্তভ তাঁর কাঁপা-কাঁপা কণ্ঠেবলতে উঠলেনতিনি একটা শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজছিলেনভাঙ্গা গলায়তিনি যুদ্ধ বিরতির আহ্বান জানানতিনি একটা সমাজতান্ত্রিক জোট সরকার চাইছিলেন যেটা রাজনৈতিক দলগুলির সমবেত বোঝাপড়ায় গঠিত হবে

সহস্র শ্রোতার মিলিত কলরোলে বক্তাদের আহ্বান মাঝে মাঝেই থেমে যাচ্ছিলসভাপতিমণ্ডলীর থেকেইবাম এসআর নেতা মস্তিস্লাভস্কি মার্তভকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন। চীৎকার উঠলোঃ খুব হয়েছে! থামুন! মুর্দাবাদ। একেবারে নীচের স্তরের বলশেভিক সদস্যরা এটা করছিল।

পার্টির নেতৃত্বের পক্ষে লুনাচারস্কি বলতে উঠলেন। ব্যাপক উত্তেজনায় তিনি ঘোষণা করলেন, “আমরা বলশেভিকরা মার্তভ উত্থাপিত এই প্রস্তাবের ওপর ভোটে যাবো না।”

উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে মার্তভ-এর প্রস্তাবের ওপর ভোট শুরু হয়। সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব পাস হয়।

সান ফ্রান্সিস্কো বুলেটিন পত্রিকার সাংবাদিক বেসি বেট্টি ঘরটায় ছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন যে তিনি যা দেখছেন তার ঝুঁকি কোথায়। তিনি লিখছেন, “রাশিয়ান বিপ্লবের ইতিহাসে এটা ছিল একটা জটিল মুহূর্ত।” দেখে মনে হল যেন একটা গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক জোটের জন্ম হতে চলেছে।

        কিন্তু সময় যত বয়ে চললো, নেভার উপরে তোপের ধ্বনি বাড়তে লাগলো। আর তার প্রতিধ্বনি ঘরটাকে কাঁপিয়ে তুলছিল – এবং পার্টিদের মধ্যে ফাটলটা ক্রমে  আবার স্পষ্ট হতে লাগলো।

এক মেনশেভিক সামরিক অফিসার, খারাশ ঘোষণা করলেন, “সারা রুশ কংগ্রেসের নেপথ্যে একটা অপরাধমূলক রাজনৈতিক অভিসন্দি কাজ করছে।” আরও স্পষ্ট করে তিনি বললেন, “মেনশেভিক এবং এসআররা তার সর্বশক্তি দিয়ে এখানে যা চলছে তা প্রত্যাখান করছে এবং অঙ্গীকার করছে যে তারা সরকারকে ক্ষমতাহীন করার সকল প্রচেষ্টাকে দৃঢ় ভাবে রুখে দেওয়ার চেষ্টা করবে।”

এক ক্রুদ্ধ সৈনিক চীৎকার করে বলেঃ “ও দ্বাদশ আর্মির প্রতিনিধিত্ব করছে না! সেনাবাহিনী দাবী করছে সোভিয়েতদের হাতে সব ক্ষমতা!  

এক গুচ্ছ আক্রমণাত্মক মন্তব্য। দক্ষিণপন্থী মেনশেভিক এবং এস আররা, পালা করে বলশেভিকদের প্রতি নিন্দাসূচক মন্তব্য চীৎকার করে বলতে থাকেন। তাঁরা সাবধান করে দেন, তাঁরা কার্যপ্রণালী থেকে সরে যাবেন। বামপন্থীরা চীৎকার করে তাঁদের থামিয়ে দেন।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে লাগলো। মস্কো সোভিয়েতের খিঞ্চুক বলতে ওঠেন। তিনি বলেনঃ“বর্তমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের একমাত্র পথ হল অস্থায়ী সরকারের সঙ্গে আপোস আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।”


হট্টমেলা। খিঞ্চুক-এর হস্তক্ষেপ ছিল হয় কেরেনস্কীর প্রতি মানুষের ঘৃণা যে কতখানি তা সর্বতোভাবে বুঝতে না পারা, অথবা এক সচেতন উস্কানীএতে সাড়া দিয়ে তীব্রভাবে আক্রোশ প্রকাশ করলেন এক বিশাল স্তরের মানুষ, শুধু বলশেভিকরা না। অবশেষে, এই তুমুল শব্দের মধ্যে খিঞ্চুক চীৎকার করে জানালেন, “আমরা বর্তমান কংগ্রেস ত্যাগ করছি।”

সভাকক্ষে এমন ছিছিক্কার, অবজ্ঞাসূচক ধ্বনি, শিষ দেওয়ার আওয়াজ প্যাঁক, টিটকিরি সত্ত্বেও মেনশেভিক এবং এসআররা ইতস্তত করছিলেন। তারা জানতেন যে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি হল শেষ তুরুপের তাস  

পেত্রগ্রাদের অন্য প্রান্তে, দুমা আলোচনা করছিল ম্যাসলভের মৃত্যু-বার্তা-বাহক টেলিফোন কলটিএসআর দলের নাউম বাখভস্কি বলেনি-- “আমাদের কমরেডদের জানিয়ে দেওয়া হোক যে আমরা তাদের ত্যাগ করিনি, তাদের জানতে হবে যে আমরা তাদের সঙ্গেই মরবো।”  নরমপন্থী এবং রক্ষণশীলরা উঠে দাঁড়িয়ে ভট দিলেন, তাঁরা উইন্টার প্যালেসে যারা বাঙ্কারে আটক, তাঁদের সঙ্গে যোগ দেবেন। বর্তমান সরকারের জন্য প্রাণ দিতে তারা প্রস্তুত। ক্যাডেট দলের কাউন্টেসসোফিয়া পানিনা ঘোষণা করেন, তিনিকামানের সামনে বুক পেতে দাঁড়াবেন।”  

বলশেভিক প্রতিনিধিরা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিলেন। তারা জানালেন যে তারাও যাএন – কিন্তু উইন্টার প্যালেসে না, সোভিয়েতের দিকে।

নাম ডাকার কাজ শেষ হল। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শোভাযাত্রা হাঁটা দিল অন্ধকারের মধ্যে।

স্মোলনিতে ইহুদী সোশ্যাল-ডেমোক্রাটদের সংস্থা বুন্দের পক্ষে এরলিশসভার কাজে ব্যাঘাত ঘটিয়ে নগর দুমা প্রতিনিধিদের শোভাযাত্রার খবর দিলেন। তিনি বললেন,  “যারা চান না যে রক্তস্নান ঘটুক” তারা যেন মন্ত্রীসভার প্রতি সংহতি জ্ঞাপন করে প্রাসাদের দিকে শোভাযাত্রায় যোগ দেনআবারও বামপন্থীদের নিন্দাসূচক ধ্বনির মধ্যে মেনশেভিকরা, বুন্দ সদস্যরা, এস আর রা, এবং অল্প সংখ্যক অন্যরা উঠে, অবশেষে বেরিয়ে গেলেন। থেকে গেলেন পড়ে রইলো বলশেভিকরা, বাম এসআর-রা এবং উত্তেজিত মেনশেভিক-আন্তর্জাতিকতাবাদীরা।

ধীর পদক্ষেপে বৃষ্টিস্নাত শীতের রাতে হেঁটে স্মোলনি থেকে  স্বেচ্ছা-নির্বাসিত  নরমপন্থীরা পৌঁছলেন নেভস্কি প্রসপেক্টে এবং দুমাতে । সেখানে তারা যোগ দিলেন দুমা ডেপুটিদের সঙ্গে, কৃষক সোভিয়েতের কার্যনির্বাহী কমিটির মেনশেভিকবং এসআর সদস্যদের সঙ্গে, এবং ঐক্যবদ্ধভাব তাঁরা সকলে রওনা দিলেন  মন্ত্রীসভার সঙ্গে সংহতি জানাতেচারজন করে এক সঙ্গে হাঁটতে থাকলেন যোগান মন্ত্রী সেরগেই প্রকোপোভিচ্ এবং মেয়র শ্রাইদারের পিছনে।তিনশ জনের এই দলটি অস্থায়ী সরকারের জন্য প্রাণ দিতে বেরিয়ে পড়ল, হাতে তাদের মন্ত্রীদের উদরপূর্তির জন্য রুটি আর সসেজ, গলায় কাঁপা কাঁপা স্বরে [ফরাসী বিপ্লবের গান] লা মার্সেয়াস।


তারা এক ব্লকের বেশী যেতে ব্যর্থ হয়েছিল। ক্যানেলের কোনার দিকটায় তাদের যাওয়ার পথেই বরং বিপ্লবীরা তাঁদের পথ আটকে দেয়

“আমাদের পথ ছেড়ে দেওয়ার দাবি করছি!” – শ্রাদার এবং প্রোকোপোভিচ্ চীৎকার করে বলে। “আমরা উইন্টার প্যালেসে যেতে চাই।”

একজন নাবিক হতবুদ্ধি হয়ে গেল। যদিও সে তাদের যেতে দিতে অস্বীকার করলো।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বলল, “তুমি চাইলে আমাদের গুলি করে মারতে পারো!আমরা মরতে রাজী, যদি তুমি রাশিয়ানদের এবং কমরেডদের মারতে চাও...আমরা তোমার বন্দুকের সামনে বুক পেতে দিচ্ছি।”

সেই অদ্ভুত পরিস্থিতি চলতেই থাকলো। বামপন্থীরা গুলি চালাতে অস্বীকার করে, আর দক্ষিণপন্থীরা দাবী করে হয় তাঁদের যেতে দিতে হবে না হলে গুলি করতে হবে।

“তুমি কি করতে চাও?” চীকার করে প্রশ্ন করা হল সেই নাবিকটির প্রতি, যে তাঁদের হত্যা করতে অরাজী ছিল।  

এরপর কি ঘটলো তা জন রীডের প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণে বিখ্যাত হয়ে আছে

অন্য একজন নাবিক একমুখ বিরক্তি নিয়ে দ্রুত এগিয়ে এলো। “আমরা তোমায় একটা থাবড়া মারবো!” সে সর্বশক্তি দিয়ে চীৎকার করে উত্তর দিল। “এবং যদি প্রয়োজন পড়ে আমরা তোমায় গুলি করেও মারতে পারি। বাড়ি যাও, আমাদের শান্তিতে থাকতে দাও।’’


তন্ত্রেরযোদ্ধাদের জন্য এটা কেমন বেমানান ভবিতব্য ঠেকছিল। একটা বাক্সের ওপর দাঁড়িয়ে প্রোকোপোভিচ্ তাঁর ছাতাটা নেড়ে অনুগামীদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করলেন যে তাঁরা এই নাবিকদের তাঁদের নিজেদের হাত থেকে বাচাবেনঃ “এই অজ্ঞ লোকগুলির হাতে আমাদের নির্দোষ রক্ত থাকবে, এ আমরা হতে দিতে পারি না...। এখানে রেলের কর্মচারীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মরা [এবং অবশ্যই থাপ্পড় খাওয়া] আমাদের মর্যাদার নীচে পড়ে।  বরং দুমায় ফিরে গিয়ে দেশ ও বিপ্লব বাঁচাবার সর্বোত্তম উপায় নিয়ে আলোচনা করা ভালো।”

অতঃপর নীরব মর্যাদায় উদারনৈতিক গণতন্ত্রের স্ব-ঘোষিত মরণযাত্রা পিছন ফিরল, তার অতীব লজ্জাকর হ্রষ প্রত্যাবর্তন পথে পা বাড়াল, আর তাদের সসেজ নিতে ভুললো না।


মার্তভ তখনও এ্যসেম্বলি হলে জনগণের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত। তিনি তখনও রফার জন্য ব্যাকুল। এবার তিনি প্রস্তাব আনলেন, বলশেভিকদের সমালোচনা করে, যে বলশেভিকরা সোভিয়েত কংগ্রেসের ইচ্ছা আগাম ভেবে নিয়েছেন, এবং আবারও বলতে চাইলেন যেন প্রশস্ত, সকলকে নেওয়া সমাজতান্ত্রিক সরকার গড়ে তোলা যায়। এই প্রস্তাব দু’ঘণ্টা আগে দেওয়া তাঁর প্রস্তাবের অনুরূপ। তখন, লেনিনের নরমপন্থীদের সঙ্গে ভাঙ্গন চাইলেও, বলশেভিকরা ঐ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন নি।  

কিন্তু দু’ঘণ্টা ছিল অনেকটা সময়।

যেই মার্তভ বসলেন, তখনই একটা আলোড়ন দেখা গেল। দুমার বলশেভিক অংশ হলটাতে প্রবেশ করলো। প্রতিনিধিরা কিছুটা বিস্মিত এবং কিছুটা উজ্জীবিত হল। তাঁরা বললেন, তাঁরা এসেছেন, “সারা রুশ সোভিয়েত কংগ্রেসের সঙ্গে মৃত্যু অথবা গৌরবময় সাফল্য অর্জন করতে।”

 উল্লাস ও হর্ষধ্বনী যখন কিছুটা স্তিমিত হল, ট্রটস্কি স্বয়ং উঠলেন মার্তভের কথার উত্তর দিতে। তিনি বললেনঃ একটা গণ অভ্যুত্থানের কোনো যৌক্তিকতা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যা ঘটেছে তা একটা অভ্যুত্থান, কোনো ষড়যন্ত্র নয়। আমরা পেত্রোগ্রাদের শ্রমিক ও সৈনিকদের বিপ্লবী শক্তিকে শান দিয়েছি,; আমরা প্রকাশ্যেই জনগণের চেতনাকে গড়ে তুলেছি, কোনো ষড়যন্ত্র করিনি।  জনগণ আমাদের নিশানকে অনুসরণ করেছে এবং আমাদের অভ্যুত্থান সাফল্য পেয়েছে। এবং এখন আমাদের বলা হচ্ছেঃ তোমাদের জয় তোমরা পরিহার করো,  ছাড় দাও, আপোসে এসো। কিন্তু কার সঙ্গে আপোস? আমি প্রশ্ন করিঃ কাদের সঙ্গে আমরা আপোস-আলোচনা করবো? সেই সব ঘৃণ্য, নোংরা গোষ্ঠীর সঙ্গে যারা আমাদের এক সময় দূরে সরিয়ে দিয়েছিল, অথবা যারা এই অসাম্যের প্রস্তাবনা গঠন করেছে? কিন্তু আমরা তাদের পুরোপুরিভাবে চিনি। রাশিয়ার কেউই প্রায় এখন আর এদের সঙ্গে নেই।আমাদের নাকি সমানে সমানে একটা বোঝাপড়ায় আসতে হবে, যার একদিকে কয়েক লক্ষ শ্রমিক এবং কৃষক যাদের এই কংগ্রেস প্রতিনিধিত্ব করছে, আর একদিকে তারা, যারা তৈরি, এটা প্রথম নয় আবার শেষও নয়, বুর্জোয়ারা যেমন চায় তেমন ভাবে [ঐ শ্রমিক-কৃষকদের] বিকিয়ে দিতে। না, আপোস করা সম্ভব নয়। যারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে, অথবা যারা আমাদের এটা করতে বলছে, তাদেরকে বলবোঃ তোমরা দুর্দশাগ্রস্ত দেউলিয়া, তোমাদের খেলা শেষ। তোমরা যাও যেখানে তোমাদের খাঁটি জায়গা, সেই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে!”

উল্লাসে, হর্ষধ্বনিতে ঘরটা ফেটে পড়লদীর্ঘ হাততালির মধ্যেই মার্তভ উঠে দাঁড়িয়ে চীৎকার করে বললেনঃ “তাহলে আমরা এখান থেকে বেরিয়ে যাবো!”

তিনি ঘুরে দাঁড়াতেই একজন প্রতিনিধি তাঁর পথ আগলে দাঁড়ালো। লোকটা তাঁর দিকে তাকালো যেভাবে তাতে দুঃখ এবং অভিযোগ - দুয়েরই মিশ্রণ ছিল। সে বলে উঠলো, “আমাদের ভাবনা ছিল যে মার্তভ অন্তত আমাদের সঙ্গে থাকবেন।”

 মার্তভ বললেন, “একদিন তোমরা বুঝবে,” তার কণ্ঠস্বর তীক্ষ্ণ হল, “কোন্ অপরাধমূলক কাজে তোমরা অংশ নিয়েছো।”

তিনি দ্রুত ঘরের বাইরে বেরিয়ে গেলেন।

মার্তভ সহ অন্যান্যদের এই চলে যাওয়া প্রসঙ্গে কংগ্রেস দ্রুত এক আক্রোশসূচক প্রকাশ্য নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করলো। এই ধরনের জ্বালা-ধরানো মন্তব্য ঘরে তখনও উপস্থিত বাম এসআর এবং মেনশেভিক আন্তর্জাতিকতাবাদীদের চোখে ছিল অনাকাঙ্খিত এবং অপ্রয়োজনীয়। এমন কি, কিছু বলশেভিকও তেমনই মনে করেছিলেন।

বরিস ক্যামকভকে করতালি দিয়ে রক্তিম অভিনন্দন জানানো হল যখন তিনি ঘোষণা করলেন যে তার দল, বাম এসআর এই সভায় অংশ নেবে। তিনি মার্তভ-এর প্রস্তাবনাকে আবার নতুন করে তুলতে চাইলেন, এবং মৃদুভাবে বলশেভিক সংখ্যাগরিষ্ঠকে সমালোচনা করলেন তিনি শ্রোতাদের মনে করিয়ে দিতে চাইলেন যে বলশেভিকরা কৃষকদের, এবং সামরিক বাহিনীর বড় অংশকে, সঙ্গে টেনে নিতে পারেন নি । আপোস-আলোচনার প্রয়োজনীয়তা এখনও ফুরায়নি।

এবার উত্তর ট্রটস্কি দিলেন না, দিলেন জনপ্রিয় লুনাচারস্কি – যিনি আগে মার্তভ-এর প্রস্তাবের সমর্থক ছিলেন। সামনের দিনগুলি যে দুঃসহ, তাতে তিনি সহমত হয়েই বললেন, “কিন্তু আমাদের সম্পর্কে ক্যামকভের সমালোচনা ভিত্তিহীন।”

লুনাচারস্কি বলে চলেছেন, “ক্যামকভকে সঠিক বলা যেত, যদি এই অধিবেশন সূচনার শুরুতে আমরা অন্য পক্ষদেরপ্রত্যাখ্যান করতে বা বাতিল করে দিতে কোনো পদক্ষেপ নিতাম। কিন্তু আমরা তো সকলেই সর্বসম্মতিক্রমে সংকট সমাধানের শান্তিপূর্ণ পথ প্রসঙ্গে মার্তভ-এর প্রস্তাবনা মেনে নিয়েছিলাম। এবং তার পর থেকে শুরু হল ঘোষণার পর ঘোষণা মহাপ্লাবন চলতেই থাকলো।... আমাদের কথা শোনা হয়নি, এমনকি তারা (মেনশেভিক এবং এসআর) তাদের নিজেদের প্রস্তাবনার ওপর আলোচনা করার প্রয়োজন বোধটাও করেনি। আমাদেরকে তারা এড়িয়ে চলছিল।”

এর জবাবে কেউ লুনাচারস্কিকে বলতে পারতেন যে সপ্তাহ কয়েক আগে থেকেই লেনিন জোর দিচ্ছিলেন যে তাঁর দলকে একাই ক্ষমতা দখল করতে হবেকিন্তু সেই সেই শুভনাস্তিক্য থাকলেও,  লুনাচারস্কি ঠিক ছিলেন।


মার্তভ যখন প্রথম সহযোগিতার, অর্থাৎ একটি ঐক্যবদ্ধ সমাজতন্ত্রী সরকারের প্রস্তাব করেছিলেন, তখন উল্লসিত সংহতিতে, বা অতীব আপত্তির সঙ্গে, বা কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায়, বা যে কারণেই হোক না কেন, আর সব দলের অন্য সকলের মতই, হলে উপস্থিত বলশেভিকরা সকলেই সেটা সমর্থন করেছিলেন।

বেসি বিট্টির মতে, প্রথম প্রস্তাবের জবাবে ট্রটস্কী যে যত দ্রুত সক্রিয় হওয়া যায় ততটা হন নি, তার কারণ হয়তো “তিনি এই সব অন্য নেতাদের হাতে অতীতে যে সব অপমান সহ্য করেছিলেন তার তিক্ত স্মৃতির দরুণ”। এটা নিয়ে তর্ক করা যায়, এবং যদি বাঁ এই কথা সত্যি হয়, মেনশেভিকরা, দক্ষিণপন্থী এস আর-রা, এবং অন্যরা ঐ ভোট বলশেভিকদের মুখে ছুঁড়ে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁরা ঐখান থেকে সোজা বিরোধিতার জায়গায় চলে গিয়েছিলেন, এবং যারা তাঁদের চেয়ে বামপন্থী, তাঁদের নিন্দা করেছিলেন।   

লুনাচারস্কির প্রশ্নটা যথার্থ ছিলঃ তুমি তাদের সঙ্গেকীভাবে সহযোগিতার পথে অগ্রসর হবে যারা সহযোগিতা প্রত্যাখ্যান করছে?  


যেন তাঁর এই উক্তির যাথার্থ্য প্রমাণ করার জন্যই, সেই মুহূর্তে হল ঘরটা থেকে বেরিয়ে আসা নরমপন্থীরা সোভিয়েত কংগ্রেসকে “বলশেভিক প্রতিনিধিদের একটা ব্যক্তিগত সমাবেশ” তকমা দিচ্ছিলেনতাঁরা ঘোষণা করলেন, “কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি মনে করে দ্বিতীয় কংগ্রেসঅনুষ্ঠিত হয়নি”।  


লের মধ্যে জোট সংক্রান্ত বিতর্ক চলতে থাকে গভীরতম রাত অবধি। কিন্তু ইতিমধ্যে জনম ঘুরে গেছে লুনাচারস্কি এবং ট্রটস্কীর দিকে।

উইন্টার প্যালেসে তখন শেষ খেলা।

চূর্ণ বিচূর্ণ ভাঙা কাঁচের মধ্যে দিয়ে কনকনে ঝোড়ো হাওয়া অনাহুতের মত ঢুকছে। বিশাল ঘরগুলি ঠান্ডা। আশাহত সৈনিকরা লক্ষ্যহীন হয়ে সিংহাসন ঘরের দু-মাথা ঈগলের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। আক্রমণকারীরা সম্রাটের ব্যক্তিগত কক্ষে পৌছল। ঘরটা ছিল ফাঁকা। তারা সময় নিয়ে সম্রাটের প্রতিকৃতিগুলিকেই আক্রমণ শুরু করল। দেওয়াল থেকে তাকিয়ে থাকা সম্রাট দ্বিতীয় নিকোলাসের আড়ষ্ট, শান্ত ছবিটাকে তারা বেয়নেট দিয়ে আঘাত করতে থাকল। বড় বড় নখওয়ালা পশুর আঘাতের মত করে তাঁরা ছবিটাকে শতছিন্ন করলো -- ভূতপূর্ব সম্রাটের মাথা থেকে পা অবধি।

কিছু ছায়ামূর্তি চোখের গোচরে-অগোচরে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, কিন্তু কে যে কি তা বোঝা তখন দুষ্কর ছিল।

লেফটেন্যান্ট সিনেগুব নামে একজন তখনও সরকার রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।তিনি এলোমেলো ঘন্ট ধরে বারান্দাগুলোতে পায়চারি করে চলেন। তিন অপেক্ষা করছিলেন আক্রমণের, এবং ভেসে চলেছিলেন একরকম প্রাশান্ত ত্রাসে, এক অতীব নারকোটিক অবসাদে। তিনি পেরিয়ে যাচ্ছিলেন বহু দৃশ্য, যেন আধ-শোনা গল্পের এক একটা দৃশ্য --নৌসেনাধ্যক্ষের পোশাকে একজন বৃদ্ধ ভদ্রলোক, যিনি একটি নিশ্চল আরাম কেদারায় বসে আছেন;  একটা পরিত্যক্ত সুইচবোর্ড, একটা গ্যালারির তৈলচিত্রের নীচে সৈন্যরা হাঁটু মুড়ে বসে থাকা


সিঁড়িগুলোতে খন্ডযুদ্ধ বাধে। মেঝের পাটাতনগুলোতে তে যে কোনো ধরনের ক্যাঁচ ক্যাঁচ আওয়াজ হয়ত বিপ্লবের আগমনের শব্দ। এই দৌড়ে এল এক যুঙ্কার, যাচ্ছে কোনো দিকে একটা দায়িত্ব নিয়ে।  সে অলংকারবহুল শান্ত কণ্ঠে সাবধান করে দিল, সিনেগুব সদ্য যে লোকটাকে পেরিয়ে এসেছেন – হ্যাঁ, তিনি এইমাত্র একজনকে পেরিয়ে এসেছেন বটে --  সম্ভবত সে ছিল একজন শত্রু। “ভালো, খুব ভালো”, সিনেগুব বললেন।এই দেখো! আমি এখনই নিশ্চিকরছি।” তিনি ঘুরে দাঁড়িয়ে তাকে নিশ্চল করলেন, খেলার মাঠের মারপিটে বাচ্চারা যেভাবে করে, সেইভাবে তার কোটটা টেনে নামিয়ে, যাতে হাতদুটো নাড়াতে না পারে—দেখলেন, অন্য লোকটা সত্যিই বিদ্রোহীদের দলের একজন ছিল


রাত দুটো নাগাদ সামরিক বিপ্লবী কমিটির ফৌজ বেশ শক্তি নিয়ে প্রাসাদে প্রবেশ করলো।

উদভ্রান্তের মত কোনোভালভ টেলিফোনে শ্রেইদারকে জানিয়েছেঃ “আমাদের সঙ্গে আছে শুধু ছোটো একদল শিক্ষানবীশ অফিসার। আমাদের গ্রেপ্তার আগতপ্রায়।” সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।

হলঘরটা থেকে মন্ত্রীরা বিফল গোলাবর্ষণের শব্দ শুনতে পাচ্ছিল। এটা তাদের আত্মরক্ষার শেষ চেষ্টা। পদধ্বনি। একজন ফ্যাকাশে চেহারার কাদেত নির্দেশের জন্য ছুটে এলো। সে জানতে চাইলঃ “শেষ বিন্দু পর্যন্ত লড়ে যাব?

“আর রক্তক্ষয় নয়!” তারা চিৎকার করে উঠলো। “আমরা আত্মসমর্পণ করবো।”

তারা অপেক্ষা করেছিল। এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। সবচেয়ে ভালোভাবে কীভাবে দেখা দেওয়া যায়?নিশ্চয়ই ট্রেনের জন্য অপেক্ষারত একদল ব্যবসায়ীরমত হাতে ওভারকোট ধরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় না।

ডিক্টেটর বলে ঘোষিত কিসকিন অবস্থা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিলেন। তিনি তাঁর শাসনপর্বের শেষ দুটি নির্দেশ জারী করলেন 

“তোমাদের ওভারকোট ত্যাগ করো এবং এসো আমরা আলোচনায় বসি”, সে বলল।

তারা এই নির্দেশকে মান্যতা দিল । তারা সেই মন্ত্রীসভা মিটিঙেমূর্তিবৎ স্থানু মূকনাট্য করে বসে রইল, যখন আন্তনোভ  নাটকীয়ভাবে ঢুকে এলেন,  তাঁর উতকেন্রদীক শিল্পীর টুপি তাঁর লাল চুলের উপর দিয়ে পিছনে ঠেলা। তার পিছনে সৈন্য, নাবিক ও লাল রক্ষীরা হাজির।


কোনোভালোভ মর্যাদাপূর্ণ শোভনীয়তায় বললেন, “সাময়িক সরকার এখানে উপস্থিত।” তিনি যেন বোঝাতে চাইলেন তিনি দরজায় টোকা মারার জবাব দিচ্ছেন, অভ্যুত্থানের জবাব নয়।

“তোমরা কি চাও?”

আন্তোনভ দৃঢ়ভাবে বললেনঃ“আমি তোমাদের সকলকে জানাতে চাই যে তোমরা, সাময়িক সরকারের প্রতিনিধিরা গ্রেপ্তার হলে।”

বিপ্লবের আগে, একটা গোটা রাজনৈতিক জীবন আগে, অন্যতম উপস্থিত মন্ত্রী মালিয়ান্তোভিচ তার বাড়িতে আন্তোনভকে একবার আশ্রয় দিয়েছিলেন। দুজন মানুষ নিজেদের মধ্যে চাওয়াচায়ি করলো, কিন্তু কিছু বললো না।  

লাল রক্ষীরা ক্ষোভে ফেটে পড়লো যখন তারা জানতে পারলো যে কেরেনস্কী অনেক আগেই প্রাসাদ থেকে পালিয়ে গেছে। রক্তপিপাসুদের মতো চিৎকার করে একজন বললো, “কুত্তার বাচ্চাগুলোকে সঙিন দিয়ে কোতল কর।”

“আমিএদের বিরুদ্ধে কোনো হিংসা অনুমোদন করব না।” আন্তনোভ খুব ধীর এবং শান্ত গলায় জানালেন। এরপরেই মন্ত্রীদের নিয়ে তিনি বেরিয়ে গেলেন। তারা ফেলে রেখে গেলেন কিছু ঘোষণার খসড়া, যার বেশীরভাগটাই কেটে দেওয়া হয়েছে, এই কাটাকুটিগুলো এঁকেবেকে চলে গেছে যেন স্বৈরতন্ত্র কায়েমের স্বপ্নের নকশায় পরিণত হয়ে। একটা টেলিফোন বেজে উঠলো।

করিডোর থেকে সিনেগুব গোটা ঘটনাটার উপর নজর রাখছিলেন। যখন এটা শেষ হল, তার সরকারও গেল, তাঁর দায়িত্বও শেষ হল। তিনি তখন শান্তভাবে হেঁটে সার্চলাইটের আলোয় বেরিয়ে গেলেন

লুঠেরারা ঘরগুলোকে তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখতে থাকে।  তারা শিল্পকলার নিদর্শনগুলি অবহেলা করে নিতে থাকল কাপড়চোপড়, নানা টুকিটাকি। সারা মেঝে জুড়ে তারা কাগজপত্র ছড়ালো, ছেটালো। সেই ঘর থেকে তারা বেরোলে বিপ্লবী সৈনিকরা তাদের তল্লাসি করে এবং তাদের কাছ থেকে লুঠের জিনিস বাজেয়াপ্ত করতে শুরু করলো। “এটা জনগণের প্রাসাদ”, একজন বলশেভিক লেফটেনান্ট ভর্ৎসনার সুরে বলে উঠলেন। “এটা আমাদের প্রাসাদ। জনগণের সম্পত্তি চুরি করবেন না।”

একটা ভাঙা তরবারির হাতল, একটা মোমবাতি। লুঠেরাদের দল তাদের সেইসব লুঠের মাল জমা দিচ্ছিল। তাতে ছিল একটা কম্বল, একটা সোফার তাকিয়া এবং আরও অনেক কিছু।


প্রাক্তন মন্ত্রীদের আন্তোনভ প্রাসাদের বাইরে নিয়ে এলেন। বাইরে এসে তারা একটা উদ্ধত, ভয়ানক ক্রুদ্ধ জনতার মুখোমুখি হলেন। তিনি তার পিছনে বন্দীদের কিছুটা আড়াল করে চলছিলেন। “এদেরকে আঘাত কোরো না।” তিনি এবং অন্যান্য অভিজ্ঞ, গর্বিত বলশেভিকরা বলছিলেন। “এটা আমাদের সংস্কৃতি বিরোধী”-

কিন্তু রাস্তায় ক্ষোভের আগুন এতো সহজে নেভার ছিল না। উৎকণ্ঠার সেই মুহূর্ত পরে, কাকতালীয়ভাবে কাছেই কোথাও মেশিনগানের গুলির শব্দে সতর্কঘন্টাও ক্রমশঃ স্পষ্ট হতে লাগলে জনতা কিছুটা ছত্রভঙ্গ হয়। সেই সুযোগকে কাজে লাগা আন্তোনভ। তিনি তার বন্দীদের নিয়ে দৌড়ে ব্রিজটা অতিক্রম করে যান। ভিড় ঠেলে বন্দীদের পিটার-পল কারাদূর্গে নিয়ে আসেন।

জেলের দরজা যখন প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, তখনই মেনশেভিক অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী নিকিতিন তার পকেট থেকে টেলিগ্রামটি খুঁজে পান। টেলিগ্রামটি এসেছিল ইউক্রেনের পার্লামেন্ট ভারখোভনা ‘রাডা’ থেকে।

“আমি এটা গতকাল পেয়েছি”, সে বললো। আন্তোনভকে সেটি দিয়ে নিকিতিন আরও বললেন, “এবার এটা তোমার বিষয়।”


স্মোলনিতে আগত প্রতিনিধিদের এই খবরটি দিলেন সেই একগুঁয়ে হতাশাবাদী কামেনেভঃ “উইন্টার প্যালেসে গেঁড়ে বসা প্রতিবিপ্লবের নেতাদের বিপ্লবী গ্যারিসন বন্দী করেছে।” তিনি আনন্দপ্রকাশে তুমুল উচ্ছাসের উদ্রেক ঘটালেন


সময় তখন রাত তিনটে অতিক্রম করে গিয়েছে, অথচ কাজ আরো বাকি। দু’ঘণ্টারও বেশী সময় ধরে কংগ্রেসে রিপোর্ট শোনার কাজ চলতে থাকে- বিভিন্ন ইউনিট তাঁদের পক্ষে চলে আসার রিপোর্ট, সেনাধ্যক্ষরা সামরিক বিপ্লবী কমিটির কর্তৃত্ব। মতবিরোধ ছিল না যে তা নয়। কেউ একজন বন্দী এস আর মন্ত্রীদের ছেড়ে দেওয়ার দাবী তোলেন। ট্রটস্ক তাঁদের মেকী কমরেড বলে কষাঘাত করেন।


ভোর চারটের সময় মার্তভের বহির্গমনের পুনশ্চ হিসেবে তাঁর গোষ্ঠীর একদল প্রতিনিধি মেনিমুখো হয়ে কক্ষে প্রবেশ করলো, এবং আবার তারা একটা সমাজতান্ত্রিক জোট সরকার গঠনের পক্ষে তাঁর প্রস্তাব নতুন করে পেশ করতে গেল। কামেনেভ সভাকে মনে করিয়ে দিলেন যে মার্তভ যাদের সঙ্গে সহযোগিতা প্রস্তাব করেছিলেন তাঁরা পিঠ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তবু, অনন্ত নরমপন্থী, তিনি প্রস্তাব করলেন  সোশ্যালিস্ট-রেভলিউশনারি এবং মেনশেভিকদের নিন্দা করে ট্রটস্কীর আনা প্রস্তাব পদ্ধতিগত কারণে সরিয়ে রাখা হোক, যাতে পরে আলোচনা আবার শুরু হলে কেউ বিব্রত না হয়।

লেনিন সেই রাতে আর সভায় ফিরবেন না। সম্ভবত সেই মিটিঙে ফিরে আসেননি। তিনি পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু তিনি একটি দলিল লিখেছিলেন, যেটি পেশ করার দায়িত্ব পড়ে লুনাচারস্কির উপর।

শ্রমিক, সৈনিক এবং কৃষকদের প্রতি ঘোষণায় লেনিন সোভিয়েত ক্ষমতা ঘোষণা করলেন, এবং অঙ্গীকার করলেন দ্রুত একটি গণতান্ত্রিক শান্তি প্রস্তাব করবার। জমি হস্তান্তর করা হবে কৃষকদের মধ্যে। শহরগুলিতে পর্যাপ্ত রুটির যোগান জারি থাকবেসাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত জাতিদের জন্য এল  আত্ম-নিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতিশ্রুতিকিন্তু সেই সঙ্গে লেনিন সাবধান করে দিলেন যে বিপ্লব তখনও ভিতরের ও বাইরের বিপদে্র সম্মুখীন।

“কর্নিলভপন্থীরা... পেত্রোগ্রাদের বিরুদ্ধে সৈন্যদের আনতে চেষ্টা করছে। ... সৈনিকরা! কর্নিলভবাদী কেরেনস্কির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান!... রেলশ্রমিকরা! পেত্রোগ্রাদের বিরুদ্ধে কেরেনস্কির পাঠানো সৈন্যবাহী ট্রেনগুলি থামিয়ে দিন! সৈনিক, শ্রমিক ও কর্মচারীগণ! বিপ্লব এবং গণতান্ত্রিক শান্তির ভবিষ্যৎ আপনাদের হাতে!”

নথির সবটা পড়ে শোনাতে অনেকটা সময় লাগল, কারণ পড়ে শোনানোটা বারে বারে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল অনুমোদনের জয়ধ্বনিতেএক জায়গায় ছোট্টো একটা কথা পাল্টে বাম এসআর-দের সম্মতি নিশ্চিত করা গেল।একটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মেনশেভিক উপদল ভোটদানে বিরত থাকলো, এবং এইভাবে বাম-মার্তভপন্থার সঙ্গে বলশেভিকদের কাছাকাছি আসার পথ তৈরী করল। সে যাই হোক। অবশেষে ২৬শে অক্টোবর ভোর পাঁচটায় লেনিনের ইস্তেহার বিপুল ভোটে পাস হল।

  একটা হুংকার। তার প্রতিধ্বনি হাল্কা হতে থাকে, যখন চীৎকার করে গৃহীত প্রস্তাবের গুরুত্ব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে। সমবেত মানুষজন একে অপরের দিকে তাকায়। এইটা পাশ করা গেছে। ওইটা করা হয়েছে।  

বিপ্লবী সরকারকে ঘোষণা করা হয়েছে

বিপ্লবী সরকার ঘোষিত হইয়েছিল, এবং সেটা একরাত্রের পক্ষে যথেষ্ট। প্রথম মিটিঙের জন্য তা অনেক বেশী।


রণক্লান্ত, ইতিহাসে বুঁদ, তবু লৌহশলাকার মতো টানটান স্নায়ুতে সোভিয়েতের দ্বিতীয় কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা অনিশ্চিত পা ফেলে স্মোলনি ছাড়লেন। তাঁরা মেয়েদের উঁচু ক্লাসের স্কুলবাড়িটা থেকে বেরিয়ে এলেন ইতিহাসের এক নতুন মুহূর্তে - এক নতুন ধরনের প্রথম দিন যা ছিল শ্রমিকের সরকারের, যা ছিল এক নতুন শহরের সকাল এবং শ্রমিক রাষ্ট্রের রাজধানীর।

তারা শীতের মধ্যে হেঁটে চললো সেই আলো আঁধারিতে যখন পূবের লাল আকাশটা ক্রমে উজ্জ্বল হচ্ছে।



On Syria

On Syria

By Achin Vanaik

The Syrian upheaval reflected the democratic upsurge that took place throughout the Middle East in 2011 and after. These upheavals were for the restoration or establishment of democracy and not for a movement towards socialism despite the fact that economic distress was very much at the heart of these upheavals. Of course this democratic upsurge is to be supported by all progressives and socialists. Regarding Syria, the Assad dynasty (father and son) have been ruling Syria since 1971 and belong to the minority Shia sect of Alawites but remained in power because of support from substantial sections of Sunnis especially in the army. Indeed, until the US invasion of Iraq throughout much of the Middle East (barring the Iran-Saudi Arabia interface), the Shia and Sunni communities were neither sharply divided nor hostile but interacted and intermingled normally and peacefully as many sects within Islam do.

The eruption of a non-violent democratic opposition to Bashar al-Assad (who succeeded his father in 2000) was a very positive development deserving of support from progressives everywhere. It was led by civil society organizations between January and July 2011 but brutal assault by the Assad government forced a small section of the hitherto nonviolent movement to take up armed resistance while defectors from the Syrian army set up the Free Syrian Army (FSA) whose main purpose was not securing democracy but to remove the Assad regime from power. From this time on till the present, a civil war situation emerged with on one hand the decline of the original democratic opposition whose place was basically taken up by all sorts of new actors having different motives and purposes going in for armed conflict against the Assad regime.

In this civil war with multiple actors both within and outside Syria, over 400,000 people have been killed and over 5 million displaced. This conflict no longer has a force or side that one can support because it aims to establish an independent and democratic Syria. Rather, the struggle is now all about regime change or not. At one time various radical Islamist forces (e.g., al-Nusra and ISIL) out to establish their versions of an Islamic state were fighting against Assad and against each other and were gaining ground and backed by outside powers and forces while other external forces and powers were supporting the Assad regime for their own geopolitical purposes.

Today the situation is roughly as follows. The Islamist forces have been basically defeated by on one hand Assad, and on the other by the Kurds of Syria who are connected to the Kurdistan Workers Party which outside of Syria is seen as an enemy by Turkey which rejects Kurdish self-determination. The Assad regime has been supported by Iran and Russia as also by Hezbollah of Lebanon and this back-up has helped Assad to gain control of a little more than half of the country.  The FSA and the Kurds were supported by the US (Turkey supported some of the radical Islamists against Assad) which along with Israel sees Iran and Syria under Assad as its main obstacles to greater control over the region. They are also backed by Saudi Arabia which is opposed to Iran. The US also for a time (till they were defeated) prioritized the fight against radical Islamists, e.g., ISIL, and therefore temporarily eased off on the struggle against Assad. France and Britain have been faithful backers of whatever the US does.

Once the Islamist threat receded and the Kurds became much stronger, Turkey which was held back earlier by both Russia and the US, has now entered the fray to successfully push back the Kurds which has had to concede a large part of the ground they had earlier secured but are still holding on to parts of Syria largely populated by them. Both Russia and the US who value their ties more with Turkey than with the Kurds allowed the former to attack the latter. But the US would not like the Kurds to be totally decimated. As for the recent claim that Assad has used chemical agents in Douma, this was the excuse made for the joint French, British and US air attack on supposed storage and airport facilities – an act that is illegal under international law and must be condemned as such. Where the West says there was the use of chemical weapons, Russia says this was a ‘false flag’ staged affair by opponents of Assad (who may well have their own stocks of chlorine and used it) which gave an excuse to the Western powers to carry out their aerial assault a day before inspectors from the UN’s Organisation for the Prohibition of Chemical Weapons (OPCW) were to enter Douma. On the face of it, when Assad is advancing territorially (although a very large part of Syrian territory remains out of his control) it would make little political sense for him to carry out such an attack. Also in 2013 Russia persuaded him to allow his stockpile of chemical agents to be destroyed under international supervision. These inspectors have now visited Douma and their report is awaited.

Given this highly complicated situation what should the position of Socialists and progressives be on what is happening in Syria? 1) This civil war was initiated by a brutal and undemocratic Assad regime and there is no question of giving him support earlier, now or later. 2) At the same time once the truly democratic forces were defeated there can be no question of supporting any of the other internal forces opposed to Assad whether radical Islamists or FSA which have nothing to do with seeking or promoting the advance of democracy in Syria. 3) It is one thing to support Kurdish self-determination which is another matter altogether and therefore to oppose the Turkish assault on them; but we cannot support their alliance with the US and the larger Western aim to use them as one pawn among others to unseat the Assad government not because of their concern for the ordinary Syrian people but for their own cynical and imperialist geo-political purposes. 4) Nor should one forget or endorse the Russian role in Syria. 5) In fact the only appropriate position or stand to take is to call for ending the civil war as soon as possible for which there should be a complete arms embargo by all external powers and forces. Instead international pressure should be put for ending the war and for the holding of free and fair elections apart from providing all humanitarian support and aid to the suffering people of Syria and to displaced refugees.

Of course given the way things are, this position is not going to materialise but it is still the only correct position to take. When the US attacked Saddam Hussein in 1991when he invaded Kuwait, socialists opposed this invasion and also the invasion by the US of Iraq but without thereby supporting Hussein against the US either. Even when we are too weak to change things on the ground we must nevertheless uphold the banner of political integrity and try and generate a wider consciousness of what is the right and democratic path that should be taken. Ours is the long run effort to build a stronger and wider radical and progressive awareness.

There is also a broader question that the earlier invasions of Iraq, what is happening in Syria and what many other struggles in which external forces intervene raises – under what circumstances if any should progressives and socialists defend or oppose external military interventions? What follows below is a general theoretico-political discussion on this crucial issue of what is called “Humanitarian Intervention”

Three Positions

There is non-forcible humanitarian intervention and forcible (military) intervention in the name of protecting human rights. About non-forcible humanitarian intervention, usually (but not always) by non-state actors there is generally not much of a problem although it can certainly be opposed by target state in the name of national sovereignty and external non-interference. The main problem is how to deal with the issue of forcible (military) humanitarian intervention which is qualitatively different from even supplying arms to a favoured side (e.g. progressive revolutionaries in a civil war situation) in a country. Of course if one is a practitioner of realpolitik (your standard so-called strategic or foreign affairs ‘expert’) then one can simply say that whatever is in the interest of the state (that favourite phrase that covers a multitude of sins, namely “national interest”) should be done and to hell with normative, legal or moral considerations. However, even these realpolitikers invariably try to cover up their actions and claims in legal and moral disguises.

A.    Such a form of intervention is a breach of the principle of state sovereignty and national self-determination as the supreme legal principle embodied in Article 2(7) of the UN Charter makes clear. [It should be noted here that the single greatest global democratic advance of at least the second half of the 20th century if not of the whole of that century was de-colonization even when a local dictator replaced external colonial-dictatorial rule!]. The only exceptions allowed to this are (i) the “right to self-defence” in Article 2(4) of the same UN Charter where there is an attack by the official armed forces of another state and not just by unofficial ‘insurgents’. (ii) When the Security Council (SC) as a ‘last resort’ (when all other efforts have failed) sanctions armed action in the case of a “breach of international peace”. Apart from this there is no dispute that any forcible intervention would be a violation of international law. The issue is whether this would be justified or not.

The five main objections to any such external armed action are the following: (i) There is issue of motives -- states don’t intervene for humanitarian reasons. (ii) Sovereignty is supreme and therefore there can be no such intervention. Citizens are the exclusive responsibility of their state and their state i.e., entirely their business. (iii) Don’t promote further possibility and likelihood of abuse by adding another ‘exception’ in the name of human rights to what already exists by way of exceptions. (iv) There will always be selective applications of the principle of forcible humanitarian intervention and thus there will always be inconsistency in this policy promoting its abuse. (v) There is no agreed consensus among the states of the world n what should be the principles on which forcible humanitarian intervention would be justified. It is better for the world that the order currently provided by upholding the principle of non-intervention that already legally exists is far better than allowing international disorder that would result from accepting periodic violations of this principle in the name of human rights.

B.     Those who argue for forcible humanitarian intervention insists (i) that promotion of human rights is at least a important, if not more so, than international peace and security. Articles 1(3), 55 and 56 of the UN Charter are put forward as being as, or more important than Article 2(40 though legally such a view is untenable. (ii) Whatever the legal position, this is not the same as the moral position. Morality may require in certain cases forcible humanitarian intervention to end slaughter. The existence of a legal right enables action but does not determine it. (iii) It is outcomes not motives that are most important. Also outcomes are shorter/immediate and longer-term. The short-term considerations are met by intervention to stop the human suffering but some decision-makers and decision–shapers including liberal scholars, insist on meeting what they call “justice in endings”. So even if it was wrong for the US to invade Iraq in 2003 once having done so they must now stay on to ensure proper economic, social, political reconstruction. How long they should stay and what constitutes adequate reconstruction will of course be decided by the intervener!

C.     There is also a ‘qualified intervention position’ which states that for the most part humanitarian intervention is not justified because one must respect the right of a people [where peoples are constituted as separate nations] to overthrow their own tyrant. That is to say, the suffering people must themselves be seen as the primary agency of their own future. Their agency cannot be substituted for by an external agency. This is why the overthrow of British colonial rule must be by the colonized people themselves and not by an external invasion from another country. Similarly the struggle against apartheid must be fought above all by the victims of apartheid. Or the overthrow of the Shah of Iran or any another domestic tyrant must be by the people of that state themselves. Of course there can be external help in this effort but not military invasion to overthrow the domestic oppressor.

      The only qualifications to this are (i) when the situation is so grave that the very existence of the ‘people’ in question is threatened. After all, to respect a people’s right to overthrow their own tyrant must presume that the people’s existence is not threatened. Expulsion of a people (one form of ethnic cleansing) or even killings on a very large scale but which do not threaten the very existence of the affected population in whole or substantial part, do not qualify as justifications for external military intervention. Unfortunately the UN definition of ‘genocide’ is so loose and vague that it does not help because it allows for the killing of hundreds or a few thousands to be considered or called a ‘genocide’ as well as being applied to a much larger scale of massacres that should be seen as threatening the existence of a people. The question of proportionately of killings in relation to the total population does come in. When this is being threatened then outcomes do matter more than motives and there should be intervention from the outside to stop this. In the case of East Timor in 1975 when the Indonesian government got a green light from the US to invade it did so and killed more than one-third of the total population of 800,000 East Timorese. Similarly in Rwanda in 1994 there was the wholesale massacre of Tutsis and even when the UN peace-keeping force headed by Romeo Dalliare called for a massive influx of UN troops to prevent this, it was prevented because the Western powers led by the US were not strategically interested in the region but wanted UN sanction for military action against Serbian presence in Bosnia.  One region where an external military action did take place which was justified was the Vietnamese invasion of Kampuchea to finally defeat the Pol Pot regime (backed by both the US and China) in 1978. The motive may have been to end the cross-border conflict between the two countries but the outcome was an end to a regime that had killed between a third and a half of the Kampuchean population. This invasion was decried by the West and its allies when it should have been applauded.

(ii) The second qualification where an external military intervention is justified is when in a civil war situation another country first invades directly to support a regressive rebel side against the legitimate ruling government. This happened in Angola (1975) and in Mozambique (1987) when the Apartheid regime of South Africa sent in its troops to help local rebel groups to overthrow respectively the MPLA (Movement for the Liberation of Angola) government which had come to power by throwing out the Portuguese colonialists in Angola; and then again there was the South African Apartheid government’s troop support to a rebel force seeking to overthrow FRELIMO (Front for the Liberation of Mozambique) which had also come to power by throwing out Portuguese colonial rule. In both cases -- in an example still unparalleled of genuine proletarian internationalism -- Cuba sent in its troops to defeat those of Apartheid South Africa.

      This third position is the best political guideline we have and one I believe revolutionary Marxists should uphold.

      There are those like Noam Chomsky who say that only if there is a genuine international force and not one suborned like the UN forces to manipulation by the great powers can we talk of and justify external humanitarian intervention. But even if such a force did exit (which is not the case) here too, the principle of respecting the agency of a people to overthrow their own tyrant holds.