Updates

Articles

Articles posted by Radical Socialist on various issues.

ট্রটস্কী হত্যার দিনে ট্রটস্কীর বিপ্লবী ঐতিহ্যকে স্মরন করে

কুণাল চট্টোপাধ্যায় 

 

১৯৪০ সালের ২০ অগাস্ট এক স্তালিনবাদী খুনে মেক্সিকো সি্টিতে নির্বাসনে বসবাসকারী লিওন ট্রটস্কীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে, এবং পরদিন, ২১শে অগাস্ট, তাঁর মৃত্যু হয়। এই গুপ্তহত্যা ছিল স্তালিনীয় আমলাতান্ত্রিক প্রতিবিপ্লবের অঙ্গ, এবং বারো বছরের অবিরাম আক্রমণের শেষ পরিণতি। ১৯২৭ সালে গণতান্ত্রিক আন্তঃপার্টি আলোচনা, এবং সোভিয়েত গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা দাবী করেছিল সংযুক্ত বিরোধীপক্ষ। এই দাবী মানার পরিবর্তে বলা হল, বিরোধীদের মত মানা পার্টি সদস্য হওয়ার পরিপন্থী। ট্রটস্কী ও জিনোভিয়েভকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করে পার্টি কংগ্রেসে থাকতেই দেওয়া হল নাকয়েক হাজার বিরোধীকে কংগ্রেসে ও কংগ্রেসের পরে তাড়ানো হয়। ১৯২৮ সালে আলমা আটাতে আটকে রাখা হয় ট্রটস্কীকে। জিনোভিয়েভ, কামেনেভ ও তাঁদের সমর্থকরা পার্টিতে ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু বামপন্থী বিরোধী বা বলশেভিক-লেনিনবাদী গোষ্ঠী বোঝেন, এ এক প্রতিবিপ্লবের সূচনা। তাই হাতজোড় করে পার্টিতে ফেরা কাজের কথা নয়। ১৯২৮ সালেই তাঁদের মতের সারসংক্ষেপ  করে ট্রটস্কী কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের ষষ্ঠ কংগ্রেসের উদ্দেশ্যে একটি দলিল লেখেন। এই দলিল হাতে পেলেন খুব অল্প কিছু প্রতিনিধি। তবু তাঁদের দুজন, জেমস কেনান এবং মরিস স্পেক্টর, দলিল লুকিয়ে দেশে ফেরেন, এবং আন্তর্জাতিক বামপন্থী বিরোধী গড়ার উদ্যোগ আরম্ভ হয়। ১৯২৯ সালে ট্রটস্কীকে বে-আইনীভাবে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ তাকে কোনো সে দেশে যাওয়ার ভিসা দিতে অরাজি ছিল। তাঁর ভাষায়, এর ফলে তিনি ভিসাহীন পৃথিবীতে পড়লেন। ১৯৩২ থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভিতরে ঘটনা আরো জটিল হতে থাকে। অর্থনৈতিক সংকট বাড়ে, ফলে অসন্তোষও বাড়ে। এই সময় থেকে স্তালিন সব বিরোধী ও সম্ভাব্য বিরোধীদের শেষ করে ফেলার দিকে যেতে থাকেন। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য ও ট্রটস্কিবাদীদের ঘোর বিরোধী রিউটিন স্তালিনের বাধ্যতামূলক যৌথ খামার গঠনের সমালোচনা করলে পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হন, এবং ১৯৩২ সালে পার্টি সদস্যদের প্রতি একটি ২০০ পাতার দলিল তৈরী করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, এবং প্রতিবিপ্লবী আখ্যা দেওয়া হয়। স্তালিন পলিটব্যুরোতে তাঁর মৃত্যুদন্ড দাবী করেন, কিন্তু  স্তালিনবাদী ‘নরমপন্থী’ বলে যারা পরিচিত, তাঁদের চাপে শুধু দশ বছরের জেল হয়। ১৯৩৬ সালে কিরভের হত্যার পর জিনোভিয়েভ ও কামেনেভকে দায়ী করে বিচারের নামে এক প্রহসনের পর গুলি করে খুন করা হয়। ১৯৩৭ সালে রাডেক, পিয়াতাকভ ও অন্যদের বিচার হয় এবং একইভাবে অনেককে হত্যা করা হয়১৯৩৮ সালে বুখারিন, রাইকভ, র‍্যাকভস্কি প্রমুখকে হত্যা করা হয়। পুরোনো বলশেভিকদের উপর হত্যা চলতে থাকে, এবং যে সব পুরোনো বলশেভিক স্তালিনকে ১৯২০-র দশকে সমর্থন করেছিলেন, তাঁদের অনেকেও জল্লাদের হাতে প্রাণ হারান। এই গোটা প্রক্রিয়াকে বাইরে থেকে চ্যালেঞ্জ করে গেলেন, বিশ্লেষণ করলেন, বিচারের মিথ্যাগুলি ধরিয়ে দিলেন ট্রটস্কী এবং তাঁর ছেলে লেভ সেদভ। উপরন্তু, ১৯২৯ থেকে ট্রটস্কী গড়ে তুলছিলেন আন্তর্জাতিক বামপন্থী বিরোধী গোষ্ঠী। জার্মানীতে ফ্যাসীবাদের উত্থান, এবং তার ক্ষমতা দখলের পর্বে কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের জঘন্য ভূমিকা [কার্যত সব অ-কমিউনিস্ট দলই ফ্যাসিবাদী, তাই আলাদা করে হিটলারের বিরুদ্ধে লড়াই করা অপ্রয়োজনীয়, এই অবস্থান নিয়ে প্রলেতারিয় যুক্তফ্রন্ট গড়তে অস্বীকার করা] ট্রটস্কীর মত পরিবর্তন করল। তিনি এতদিন মনে করেছিলেন, স্তালিনবাদী আমলাতন্ত্র ক্ষতিকর হলেও, শ্রমিক শ্রেণীর চাপে তার সংস্কার করা সম্ভব। এই সময় থেকে তিনি জার্মানীতে নতুন বিপ্লবী দল, এবং জার্মান কমিউনিস্ট পার্টিকে কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক সঠিক বলে প্রস্তাব নেওয়ার পরে নতুন বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলন গড়ার ডাক দেন। ১৯৩৬ সালে রচিত হয় তাঁর বই দ্য রেভল্যুশন বিট্রেড, যেখানে তিনি স্তালিনবাদী শাসনকে একটি আমলাতান্ত্রিক আংশিক প্রতিবিপ্লব বলে চিহ্নিত করেন, এবং বলেন যে শ্রমিক শ্রেণীর গণতান্ত্রিক বিপ্লব অথবা আমলাতন্ত্রের হাতে ধনতন্ত্র ফিরে আসা—এই হল দুই সম্ভাব্য ফল। ট্রটস্কী তুরস্ক, ফ্রান্স, নরওয়েতে বা মেহিকোতে, যেখানে, যে অবস্থায় নির্বাসনে থাকুন না কেন, ফ্যাসীবাদ এবং স্তালিনবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, এবং বিশ্ববিপ্লবের জন্য কমিউনিস্ট রাজনীতির নবীকরণের লড়াই চালিয়ে গেলেন। তাই এটা সামান্যতম অস্বাভাবিক নয়, যে স্তালিনবাদ তাঁর মৃত্যুর জন্য , এবং ট্রটস্কীর সমর্থকদের মৃত্যুর জন্য সচেষ্ট থাকবে। ট্রটস্কীবাদী কথাটা সে সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে যত্রতত্র ব্যবহার করা হত। কিন্তু বামপন্থী বিরোধী গোষ্ঠীর প্রকৃত সদস্য ছিলেন মোটামুটি ৪৪,০০০ জন। স্তালিনের অজানা ছিল না যে ফেব্রুয়ারী ১৯১৭তে বলশেভিকদের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৪,০০০, অথচ বিপ্লবী বছরের শেষদিকে প্রায় ৪০০,০০০ সদস্যের বলশেভিক দলের নেতৃত্বে শ্রমিক ও সৈনিকদের সোভিয়েতরা ক্ষমতা দখল করেছিল। ফলে হাতে গোণা জনকয়েক ছাড়া ঐ ৪৪,০০০কে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়। এঁদের প্রধান তাত্ত্বিক-রাজনৈতিক নেতাকেও যে খতম করা হবে, তাতে কোনো সন্দেহ ছিল না। ১৯৩৬ থেকে একটা গোটা উপদপ্তরের এটাই ছিল কাজ। বিপ্লবী আন্তর্জাতিকতাবাদ ও ১৯১৭-র আশার প্রতীক, তাই ট্রটস্কীকে হত্যা করা আমলাতান্ত্রিক প্রতিবিপ্লব একটা কেন্দ্রীয় কর্তব্য হিসেবেই নিয়েছিল। অবশেষে ১৯৪০-এর ২১ অগাস্ট তাদের দীর্ঘ প্রয়াস সফল হল। আজকের যুগে, অবিকৃত মার্ক্সবাদ নতুন করে খুঁজছেন যে জঙ্গী কর্মীরা, তাঁদের কাছে ট্রটস্কী মার্ক্সবাদের বিকাশের অন্যতম উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ত্ব।

কলম আর তরবারিঃ

ট্রটস্কী ছিলেন এক অসামান্য মানুষ, যিনি বহু কাজে প্রবল দক্ষতা দেখিয়েছিলেন। বিপ্লবী জীবনের গোড়ার দিকে তাঁর লেখনীশক্তির জন্য লেনিন তাঁর ছদ্মনাম রেখেছিলেন পেরো – কলম। সাইবেরিয়ার নির্বাসন থেকে রাজধানীতে ও বিদেশে, বলকান যুদ্ধ থেকে মহাযুদ্ধে, তিনি সাংবাদিক হিসেবে অসাধারণ রচনা রেখে গেছেন, এবং ১৯০৫-এর বিপ্লবের সময়ে বিপ্লবী সাংবাদিকতারও নজীর রেখেছেন। বক্তা হিসেবে তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রসিদ্ধ মানুষ। মেনশেভিক নেতা ও প্রত্যক্ষদর্শী নিকোলাই সুখানভের লেখা ইতিহাসে বারে বারে উল্লেখ আসে ১৯১৭ সালে রাজধানীর শ্রমিক ও সৈনিকদের উপরে ট্রটস্কীর বক্তৃতার প্রভাবের। তিনি ছিলেন একজন উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সমালোচক, যার প্রায় ১০০ বছর আগে লেখা লিটারেচার অ্যান্ড রেভল্যুশন এখনো মার্ক্সীয় সাহিত্য সমালোচনার একটি উল্লেখযোগ্য বই হিসেবে দেখা হয়। তিনি ছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষণে পটু, মার্ক্সীয় তত্ত্বে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে ভাবার ক্ষমতাসম্পন্ন তাত্ত্বিক, এবং ইতিহাসবিদ হিসেবে তাঁর স্থান থুকি্ডিডিস এবং এডওয়ার্ড গিবনের সঙ্গে এক স্তরে আসে।

কিন্তু তিনি নিছক লেখক ও বক্তা ছিলেন না। উনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে তিনি রাশিয়ার গোপন মার্ক্সবাদী আন্দোলনে যোগ দেন এবং এই সময় থেকে প্রলেতারীয় বিপ্লবী আন্দোলনের যোদ্ধা ছিলেন। গ্রেপ্তার হয়ে সাইবেরিয়াতে নির্বাসনে যান। সেখান থেকে পালিয়ে বিদেশে যান এবং ইস্ক্রা গোষ্ঠীর সক্রিয় কর্মী হিসেবে দ্বিতীয় পার্টি কংগ্রেসে সাইবেরিয়ার প্রতিনিধি হন। ১৯০৫-এর রুশ বিপ্লবে না-মেনশেভিক, না বলশেভিক অবস্থানে থাকা এই ২৬ বছর বয়স্ক সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট সেন্ট পিটার্সবুর্গ সোভিয়েতের সভাপ্রধান ছিলেন। ১৯১৭ সালে তিনি বলশেভিক দলে যোগ দেন, এবং ছিলেন পেত্রোগ্রাদ সোভিয়েতের সভাপ্রধান এবং অক্টোবর অভ্যুত্থানের প্রধান সংগঠক। ১৯১৮ থেকে তিনি ছিলেন সেনা ও নৌবাহিনীর কমিশার, এবং এই পদে লালফৌজের প্রধান সংগঠক। প্রথম প্রতিবিপ্লবী আগ্রাসন, যখন দেশীয় প্রতিবিপ্লবের সঙ্গে হাত মেলায় চোদ্দটি অন্য দেশ, তখন কলম ও ভাষণ ছেড়ে বন্দুক হাতেই বলশেভিকদের লড়তে হয়েছিল। ১৯২৩ থেকে আমলাতন্ত্রের ক্ষমতাবৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সামনের সারিতে ছিলেন ট্রটস্কী, যদিও তিনি নিজে তখন পলিটব্যুরো সদস্য। অর্থাৎ, যে সব লেখক দাবী করেছেন,  আমলাতন্ত্র সম্পর্কে ট্রটস্কীর আপত্তি ভুয়ো, ক্ষমতা হারিয়ে ঈর্ষাজনিত, তারা না জেনে লিখেছেন অথবা সচেতনভাবে বিকৃতিসাধন করেছেন। হিটলারের উত্থানপর্বে কমিউনিস্ট-সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট যুক্তফ্রণ্টের জন্য যে সামান্য কয়েকজন মার্ক্সবাদী চেষ্টা করে গেছেন, তাঁদের মধ্যে প্রধান ছিলেন ট্রটস্কী। কমিউনিস্ট পার্টিদের অধঃপতন দেখে হতাশায় পিছু হঠার বদলে তিনি উদ্যোগ নেন চতুর্থ আন্তর্জাতিক গড়ার। প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে তাঁর গোটা জীবন কেটেছিল শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত পৃথিবী গড়ার সংগ্রামে যুক্ত থেকে।

নিরন্তর বিপ্লবঃ

মার্ক্সবাদের বিকাশে ট্রটস্কীর অন্যতম মূল অবদান হল নিরন্তর বিপ্লবের তত্ত্ব। এর উৎস মার্ক্সের চিন্তা, কিন্তু যা অনেকটাই বিস্মৃত হয়েছিল। ১৯০৫-এর রুশ বিপ্লবের সময়ে যে অভিজ্ঞতা, তা থেকে এই তত্ত্বের বিকাশ, এবং ১৯২৫-১৯২৭-এর চিন বিপ্লবের অভিজ্ঞতা থেকে এর বিশ্বব্যাপী প্রয়োগের প্রসঙ্গ আসে। রুশ বিপ্লবী মার্ক্সবাদীরা মনে করতেন, রুশ বিপ্লব হবে ‘বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব’। অর্থাৎ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আসবে, বুর্জোয়া অর্থনীতির বিকাশ হবে। মেনশেভিকরা, বিশেষ করে প্লেখানভ, মনে করেছিলেন যে এই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেবে বুর্জোয়া শ্রেণী। তাই শ্রমিক শ্রেণী বুর্জোয়া শ্রেণী যতটুকু যেতে প্রস্তুত, তার চেয়ে বেশী যেতে পারবে না। তা হলে বুর্জোয়া শ্রেণী ভীত হয়ে বিপ্লবের পথ থেকে সরে আসবে। বলশেভিকরা একমত ছিলেন যে রাশিয়ার সামনে আছে তার ১৭৮৯। কিন্তু লেনিন মনে করেছিলেন, বুর্জোয়া শ্রেণী এত ভীরু, এবং জমিদারদের ও জারতন্ত্রের সঙ্গে রফা করার প্রবণতা তাদের মধ্যে এত বেশী, যে তারা নেতৃত্ব পেলে বুর্জোয়া বিপ্লবের গণতান্ত্রিক উপাদান অসমাপ্তই থেকে যাবে। বুর্জোয়া বিপ্লবের বিপ্লবী বুর্জোয়া শক্তি হিসেবে লেনিন দেখেছিলেন কৃষকদের, এবং শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে ও কৃষকের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে বিপ্লব হবে মনে করেছিলেন। কিন্তু তিনি নিশ্চিত ছিলেন, কৃষক প্রধান রাশিয়াতে এই বিপ্লব বুর্জোয়া স্তরের বেশী এগোবে না, এবং বুর্জোয়া বিকাশের এক দীর্ঘ সময়ের ফলে শ্রমিক শ্রেণীর সংখ্যা বাড়বে, শিল্পায়ন হবে, তবেই সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কথা আসবে।     

ট্রটস্কী এর বিপরীতে এক বিকল্প সম্ভাবনা তুলে ধরলেন। তিনি লেনিনের সঙ্গে একমত ছিলেন যে শ্রমিক শ্রেণীকেই বিপ্লবের নেতৃত্ব দিতে হবে। কিন্তু তিনি ১৯০৫-এর গোড়া থেকেই দেখাতে চাইলেন, যে রাশিয়ার বিকাশের পথ ব্রিটেন বা ফ্রান্সের পথ হবে না। এর কারণ বিশ্ব অর্থনীতির অসম বিকাশ। শিল্পবিপ্লব ঘটে যাওয়ার এক শতাব্দী পরে যখন রাশিয়াতে ধনতন্ত্রের বিকাশ হল, তখন তা আর ব্রিটেনের প্রতিটি পদক্ষেপ অনুসরণ করল না। বরং রুশ শিল্পায়নে প্রাক-পুঁজিবাদী কুটির শিল্পের পর এক লাফে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি চলে এল। অবশ্য, সে এল সব ক্ষেত্রে না, বাছাই করা কিছু ক্ষেত্রে। এর ফলে গোটা দেশের জনসংখ্যার তুলনায় শ্রমিক সংখ্যা অল্প হলেও তারা অনেকটা সংহত, বড় ফ্যাক্টরীতে কর্মরত, এবং লড়াকু  ছিলেন। ফলে, শ্রমিক শ্রেণীর পক্ষে কৃষক সমাজের নেতৃত্ব দিয়ে বিপ্লব সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল।

কিন্তু ১৯০৫-এর অভিজ্ঞতা থেকে ট্রটস্কী আরেকটা দিক দেখলেন ও তার ভিত্তিতে তত্ত্বগত অবস্থান তৈরী করলেন। বিপ্লবী পরিস্থিতিতে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের এবং সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মধ্যে প্রাচীর ভেঙ্গে পড়ে। শ্রমিক শ্রেণী আটঘন্টার শ্রমদিবস নিয়ে লড়াই করেছিলেন। যদিও এটা কোনোরকম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের দাবী না, তবু বুর্জোয়া শ্রেণী এই বিপ্লবের পরিস্থিতিতে সেটা মানতে রাজি ছিল না। ফলে তিনি একটা মৌলিক প্রশ্ন তোলেন—যদি শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে, শ্রমিক-কৃষক-পেটি বুর্জোয়াদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে, বিপ্লবের প্রাথমিক সাফল্য আসে এবং একটা বিপ্লবী সরকার গড়ে ওঠে,  তাহলে শ্রমিক শ্রেণীর সঙ্গে বুর্জোয়া শ্রেণীর দ্বন্দ্ব তো আরো বাড়বে। বিপ্লবী দল তখন কী করবে? শ্রমিকরা আট ঘন্টা শ্রমদিবস, ন্যূনতম মজুরী, এরকম যে কোনো দাবী করলেই মালিকরা লক আউট ঘোষণা করতে পারে। সেক্ষেত্রে বিপ্লবী শ্রমিক দলের নেতৃত্বাধীন সরকার হয় ন্যূনতম কর্মসূচিতে থাকার নাম করে বুর্জোয়া মালিকের গায়ে হাত তুলবে না, আর তা হলে ন্যূনতম কর্মসূচিও চালু করা যাবে না; অথবা আটঘন্টা শ্রম দিবস চালু করতে গিয়ে ফ্যাক্টরী বাজেয়াপ্ত করতে বাধ্য হবে, অর্থাৎ বিপ্লব আর বুর্জোয়া স্তরে আটকে থাকবে না। এই অর্থে বিপ্লব হবে ‘পার্মানেন্ট’। কিন্তু সেই সঙ্গে ট্রটস্কী বুঝেছিলেন, অনগ্রসর রাশিয়াতে শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে ক্ষমতা দখল করলে বিপ্লবের স্থায়ীত্ব আসতে পারে না, যদি না বিপ্লব উন্নততর বুর্জোয়া দেশগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। এই হল নিরন্তর বিপ্লবের দ্বিতীয় দিক। নিরন্তর বিপ্লবের তৃতীয় দিক হল, একটা প্রশ্নের জবাব — কম শিক্ষিত, কম সংস্কৃতিবান শ্রমিক যে দেশে এত বেশী, সেই দেশে কীভাবে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন হবে? ট্রটস্কীর উত্তর ছিল—রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল উত্তরণের সূচনা করবে, উত্তরণ সম্পন্ন করবে না। তার জন্য চাই সমাজবিপ্লবের এক দীর্ঘ পর্যায়। ১৯১৭-র বিপ্লবের ইতিহাস দেখায়, এই ঘটনাই ঘটেছিল। বুর্জোয়া শ্রেণী হাতে ক্ষমতা রাখতে অক্ষম ছিল, কারণ তারা কৃষকের স্বার্থ, ব্যাপক সাধারণ মানুষের স্বার্থ দেখতে রাজি ছিল না। তাই শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃতে সোভিয়েত বিপ্লব প্রেলেতারীয় রাজ কায়েম করে, যা হল এক দিকে রাশিয়ার রূপান্তরের সূচনা, আর অন্যদিকে বিশ্ববিপ্লবের যুদ্ধঘোষণা।  

কিন্তু এই অভিজ্ঞতাকে তখনই সারা পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে সম্প্রসারিত করা হয় নি। চিন বিপ্লবের অভিজ্ঞতা থেকে সেটা হল। ট্রটস্কী বলেন, যে সব উপনিবেশে কিছুটা শিল্পায়ন হয়েছে, সেখানে, যেমন চিনদেশে, বুর্জোয়া শ্রেণী দুর্বল, এবং সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে ওতপ্রেতভাবে জড়ানো। তাই জাতীয় মুক্তি, কৃষি বিপ্লব এবং গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামকেও তারা প্রগতিশীল পথে বেশিদূর নিয়ে যেতে পারবে না। সেই দায়িত্ব পড়বে শ্রমিক শ্রেণীর উপরে। এই কারণে তিনি ও তাঁর সমর্থকরা চিনের কমিউনিস্ট দলকে কুওমিনতাং থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিতে চেয়েছিলেন। আর, চিয়াং কাই শেকের হাতে শহরাঞ্চলে পার্টি প্রবলভাবে আক্রান্ত হওয়ার পর তারা হঠকারী ক্যান্টন অভ্যুত্থানের বিরোধী ছিলেন। [এই অভ্যুত্থান একেবারেই মস্কো থেকে, স্তালিনের চাপে করানো হয়, কিন্তু তার পরাজয়ের পর গোটা দায় চাপানো হয় প্রথমে ইয়ে তিংয়ের উপরে (অভ্যুত্থান হেরে গেল বলে) ও পরে চু চিউ পাইয়ের উপরে (হঠকারিতার জন্য)।] ট্রটস্কীর বক্তব্য কখনোই ছিল না যে, যে কোনো পরিস্থিতিতে বিপ্লবকে সামনের দিকে ঠেলার হঠকারী পদক্ষেপ নিতে হবে। বরং, তাঁর বক্তব্য ছিল, পার্টিকে শ্রমিক শ্রেণীর মধ্যে গভীরে নিয়ে যেতে হবে, কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে (এই কারণে তাঁর অজানা এক চিনা কমিউনিস্টের হুনান রিপোর্ট রুশ ভাষায় অনুবাদে পড়ে তিনি তার উচ্ছসিত প্রশংসা করেন), এবং গণতান্ত্রিক স্লোগান ধরে তার ভিত্তিতে প্রলেতারীয় রাজনৈতিক-মতাদর্শগত প্রাধান্যের দিকে এগোতে হবে। ১৯৪৯ এর চিন বিপ্লব দেখাল, ট্রটস্কীর দিশা কতটা সঠিক ছিল। কিউবার বিপ্লব অন্যভাবে একই কথা দেখাল। স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে ডিক্টেটর বিরোধী গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্ভব হল না—অতি অল্প সময়ের মধ্যেই কাস্ত্রো, গ্যেভারা, ও তাঁদের কমরেডরা পুঁজি জাতীয়করণের মত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলেন।  জাতীয় বুর্জোয়ারা যে বিপ্লবী শক্তি হবে না, এবং সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধিতা, কৃষি সমস্যার প্রাথমিক সমাধান, ও  সমাজতন্ত্রের লড়াইকে একত্রে আনা যে প্রলেতারিয়েতের বিপ্লবী কর্তব্য, সেটা ট্রটস্কীর বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট বেরোয়, এবং ঐ বিশ্লেষণই স্তালিনবাদের বিপ্লব-ধ্বংসকারী নীতির একমাত্র একনিষ্ঠ তত্ত্বগত প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়ায়। কেবলমাত্র মস্কোপন্থী রাজনীতি নয়, বরং ইন্দোনেশিয়াতে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির অনুগামী আইদিতের নেতৃত্বে পি কে আই-এর সুকর্ণর কাছে অবনত থাকা ও তার ফলে পাঁচ লাখ কমিউনিস্টের মৃত্যুও, এই নীতিরই ফসল।    

ফ্যাসীবিরোধী প্রলেতারীয় যুক্তফ্রন্টঃ

১৯১৮-১৯২০ পর্বে একটা আধা বাস্তব পরিস্থিতি ছিল, যখন ইউরোপের বহু দেশে প্রলেতারীয় বিপ্লব সম্ভব

মনে হয়েছিল। জার্মানী, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরী, ইতালী, বহু দেশে বিপ্লব হয় বা বিপ্লবী পরিস্থিতি দেখা দেয়।

হাঙ্গেরীতে স্বল্পকালের জন্য অতিবাম এক কমিউনিস্ট নেতৃত্বে একটি সোভিয়েত সাধারণতন্ত্র দেখা দেয়।

কিন্তু সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক দলের নেতাদের অবিপ্লবী, বেশ কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি প্রতিবিপ্লবী ভূমিকা অন্য

সব ক্ষেত্রে এই বিপ্লবগুলিকে পরাজয়ের দিকে ঠেলে দেয়। ১৯১৯ সালে গঠিত হয় কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক,

 এবং ১৯২০ থেকে ইউরোপের অনেকগুলি দেশে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক দল ভেঙ্গে কমিউনিস্ট দল গঠিত

হয়। এই পর্বে স্বাভাবিকভাবেই জোর পড়েছিল বিভাজনের উপরে। কিন্তু ১৯২১ থেকে ক্রমে বোঝা যায়,

বিশ্ব ধনতন্ত্রে একরকম স্থিতিশীলতা আসছে। একদল কমিউনিস্ট – রাশিয়াতে জিনোভিয়েভ, হাঙ্গেরির

বেলা কুন, ইতালীর বর্ডিগা, জার্মানীতে এক বড় গোষ্ঠী, এই সময়ে অতিবাম অবস্থান নিয়েছিলেন। এর

বিপরীতে লেনিন, ট্রটস্কী, ক্লারা জেটকিন, হাইনরিশ ব্রান্ডলাররা জোর দিলেন দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ের উপরে,

এবং এই কারণে তারা বললেন যে সোশ্যাল ডেমোক্রেসি অবিপ্লবী হলেও, শ্রমিক শ্রেণীর অঙ্গ, তাই প্রশ্নটা

যখন শ্রমিকদের আত্মরক্ষার, তখন একে অপরের সঙ্গে প্রতিরক্ষামূলক জোট গড়তে পারে।  এই হল

প্রলেতারীয় যুক্তফ্রন্টের উদ্ভব। এই সময়েই কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকে ট্রটস্কী এই ফ্রন্টের চরিত্র ব্যাখ্যায় বড়

ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯২৪ সালে, লেনিনের মৃত্যুর পরে, কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের পঞ্চম কংগ্রেসে

জিনোভিয়েভ ও স্তালিন বাম হঠকারিতাকে সাময়িকভাবে ফেরালেন। বলা হল, যুক্তফ্রন্টের মূল কাজ শুধু

সংস্কারবাদীদের ‘মুখোশ খুলে দেওয়া’, বা ‘তলা থেকে যুক্তফ্রন্ট’। অথচ, যদি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক দলের

নীচের তলার কর্মী নিজের নেতাদের বাদ দিয়েই কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে  লড়তে রাজি থাকতেন, তাহলে 

সেখানে তো আর দুই রাজনীতির মধ্যে সাময়িক যুক্তফ্রন্টের প্রশ্নই ওঠে না। এই সময়ের হঠকারিতা

বেশীদিন থাকে নি। কিন্তু এর প্রভাব থেকে গেল। ১৯২৮-২৯ থেকে, বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের ফলে,

মধ্যপন্থী রাজনীতির জমি সংকুচিত হতে থাকে। জার্মানীতে কমিউনিস্ট পার্টির ভোট ও সদস্যসংখ্যা বাড়ে।

১৯২৮ সালে কমিউনিস্টদের ভোট ছিল ১০.৬২%, এবং আসন ৫৪টি। নাজীদের ভোট ছিল ২.৬৩%, আসন

১২টি। ১৯৩০ সালে, দারিদ্র, বেকারত্ব বৃদ্ধির মাঝে সেটা হল – নাজীরা ১৮.৩% (১০৭টি আসন),

কমিউনিস্টরা ১৩.১% (৭৭টি আসন)।  পরিস্থিতি বিচার করে ট্রটস্কী দেখান, হিটলার ক্ষমতা দখলের বাস্তব

সম্ভাবনা আছে। ‘জার্মানী, দ্য কী টু দ্য ইন্টারন্যাশনাল সিচুয়েশন’ প্রবন্ধ থেকে ১৯৩৩ সালে হিটলারের

ক্ষমতা দখল অবধি তিনি একের পর এক প্রবন্ধ ও পুস্তিকা লিখে জার্মান শ্রমিক শ্রেণীকে এই বিপদ কতটা

সাংঘাতিক সেকথা বোঝাতে চান (এর জন্য দেখা যায় দ্য স্ট্রাগল এগেইন্সট ফ্যাশিজম বইটি)।  কিন্তু ট্রটস্কী

মনে করেছিলেন, হিটলারের ক্ষমতা দখল অনিবার্য নয়। শ্রমিক শ্রেণীর যুক্তফ্রন্ট গড়ে তাকে ঠেকানো সম্ভব

ছিল। কিন্তু এই সময়ে স্তালিনের পরিচালনায় কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক এক আপাতঃ অতিবাম অবস্থান

নিয়েছিল। কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক ঘোষণা করল, মহাযুদ্ধের পর তৃতীয় পর্ব এসেছে, যখন বিপ্লব আসন্ন।

তারা আরো বলল, ক্রমবর্ধমান “সাম্রাজ্যবাদী অন্তর্দ্বন্দ্বের এবং শ্রেণী সংগ্রাম তীব্রতর হওয়ার

এই পরিস্থিতিতে ফ্যাসীবাদ ক্রমে ক্রমে হয়ে পড়েছে বুর্জোয়া শাসনের প্রধান রূপ। যে সব দেশে শক্তিশালী

সোশ্যাল ডেমোক্র্যা্টিক দল আছে সেখানে ফ্যাসীবাদ সামাজিক ফ্যাসীবাদের রূপ নেয়, ফ্যাসীবাদী

একনায়কন্ত্রের সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রামকে পক্ষাঘাতগ্রস্থ করার কাজ করে ক্রমে বেশি করে

বুর্জোয়াদের সেবা করে”। অতএব, এই যুগে নাকি সব বুর্জোয়া সরকারই ফ্যাসিবাদী বা ফ্যাসিবাদমুখী।

যুক্তফ্রন্ট সম্ভব কেবল তলা থেকে। সোশ্যাল ডেমোক্রেসীকে কার্যত তাদের নাজীদের চেয়েও বড় শত্রু বলে

ঘোষণা করে কোনোরকম ফ্যাসীবিরোধী প্রলেতারীয় যুক্তফ্রন্ট গড়া অসম্ভব করা হল। নাজী বিপদ যত বাড়ে,

ট্রটস্কী তত প্রবলভাবে যুক্তফ্রন্টের প্রচার করেন—নেমেতস্কায়া রেভলিউতসিয়া ই স্তালিনস্কায়া বুরোক্র্যাটিয়া

[জার্মান বিপ্লব ও স্তালিনবাদী আমলাতন্ত্র – ইংরেজিতে হোয়াট নেক্সট নামে প্রকাশিত], দি ওনলি রোড,

ইত্যাদির  মাধ্যমে।        


ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে তাঁর প্রচার বুর্জোয়া গণতন্ত্র সম্পর্কেও নির্দিষ্ট এক বিশ্লেষণ করে। তিনি জানতেন,

কমিউনিস্ট ও ফ্যাসীবাদের মধ্যে বুর্জোয়া উদারনৈতিক রাজনীতি ব্রাউনশার্টদেরই বেছে নেবে। সোশ্যাল

ডেমোক্র্যাটিক দলের উপরেও তাঁর বিপুল আস্থা ছিল এমন নয়, কারণ তারা ১৯১৮-১৯এর বিপ্লবকে বধ

করেছিল, এবং সরকার থেকে ঠেলে বার করে দেওয়া অবধি তারা উদারপন্থীদের সংগেই হাত মিলিয়ে

চলেছিল। তাই তিনি যুক্তফ্রন্টের ভরকেন্দ্র পার্লামেন্ট (রাইখস্ট্যাগ)-এ রাখার প্রস্তাব করেন নি। তাঁর প্রস্তাব

ছিল, দুই দলের মধ্যে বোঝাপড়া হোক, নাজী আক্রমণের মুখে সংসদের বাইরে জোট হোক। এর কাজ

হবে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা, নাজীরা যে কোনো পার্টি বা ট্রেড ইউনিয়ন দপ্তর, কোনো শ্রমিক এলাকা

আক্রমণ করলে একজোট হয়ে তাদের প্রতিহত করা হোক। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এতে একদিকে গনতান্ত্রিক

অধিকার রক্ষিত হবে, এবং তার ফলে শ্রমিক শ্রেণীর জঙ্গী লড়াইয়ের মেজাজ বাড়বে। আর অন্যদিকে এর

মাধ্যমে কমিউনিস্টদের পক্ষে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক কর্মীদের কাছে বাস্তব কাজের মাধ্যমে নিজেদের

রাজনীতি কেন শ্রেয় সেটা বোঝানো যাবে। যুক্তফ্রন্টের অগ্রগতি হবে কমিউনিস্ট রাজনীতির ও জার্মান

বিপ্লবের অগ্রগতির সূচনা।    
.
জার্মান কমিউনিস্ট পার্টি, ও তাঁদের পিছনে কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, এই রাজনীতি গ্রহণ

করতে একেবারে রাজি ছিলেন না। কেন এই হঠকারী, অতিবাম ও নিষ্ক্রিয়তার নীতি গৃহীত হল? সোশ্যাল

ডেমোক্রেসী তো নানাভাবে শ্রমিক আন্দোলনের ক্ষতি নিশ্চয়ই করছিল। কিন্তু তার উত্তরে ট্রেড ইউনিয়ন

ভাঙায় জার্মানীতে জঙ্গী কমিউনিস্ট শ্রমিকরা ব্যাপক শ্রমিকদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন।

১৯২৪-২৫-এর অতিবামপন্থা ছিল ভ্রান্ত, কিন্তু তা ছিল বিপ্লবীদের হঠকারী রণনীতি। ১৯২৯-৩৪ পর্বের বামপন্থা কিন্তু তা ছিল না। গোড়ার দিকের বামনেতারা অভ্যুত্থান সংগঠিত করতে চেয়েছিলেন. লড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু ১৯২৮-৩৪-এ যাঁরা নেতা হলেন, তাঁরা ছিলেন স্তালিন, মলোটভদের মনোনীত নেতা, যাঁদের কোনো গণভিত্তি ছিল না, যা ছিল তা হল সোভিয়েত সূর্যের রশ্মি গায়ে পড়ে প্রতিফলিত আলো মাত্র।

কমিউনিস্ট কর্মীরা অনেকে পূর্ববর্তী পর্বের দক্ষিণ-পন্থায় ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাই তাঁরা এই আপাতঃ বাম লাইনকে আসল বামপন্থা বলেই আঁকড়ে ধরলেন।

স্তালিনের প্রকৃত উদ্দেশ্য খুঁজতে হলে তাকাতে হবে সোভিয়েত পররাষ্ট্র নীতির দিকে। ১৯২৩-এর বিপ্লবী আন্দোলন ব্যর্থ হলেও, রুশ-জার্মান সম্পর্ক তার ফলে ক্ষুন্ন হয়েছিল। স্ট্রেসেম্যানের সরকার ক্রমেই পশ্চিম ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতির উপর জোর দেওয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়নের সমস্যা বাড়ছিল। ‘‘একদেশে সমাজতন্ত্রের’’ পূর্বশর্ত হল, কোনো না কোনো সাম্রাজ্যবাদী দেশকে মিত্র হিসেবে পেলে তাতে সুবিধা হবে।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে একদেশে সমাজতন্ত্র” গড়ার অর্থ তাহলে বিশ্ব ধনতন্ত্র ও তার শ্রমবিভাজনের উপর নির্ভরতা। দশ বছরে পাশ্চাত্যকে ছাড়িয়ে যেতে হবে এই অবাস্তব স্লোগানকে অন্তত আংশিকভাবে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজন ছিল জার্মান প্রযুক্তির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ। 

হিটলার ক্ষমতা দখল করল, ইউরোপের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলন বিনাযুদ্ধে ধ্বংস হয়ে গেল। ১৯৩৭ সালে সোভিয়েত আমলাতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করার পর ওয়াল্টার ক্রিভিটস্কি যে বহু গোপন তথ্য ফাঁস করে দেন, তার একটি হলঃ যদি ক্রেমলিনে জার্মানপন্থী বলে কারো কথা বলা যায়, তবে তিনি হলেন স্তালিন।.....নাজীদের জয় তাঁর মধ্যে জার্মানীর সঙ্গে নিবিড়তর সম্পর্কের অনুসন্ধানের ইচ্ছা দৃঢ়তর করল। 

শোভনলাল দত্তগুপ্ত কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের এই পর্বের দলিল ধরে দেখাতে চেয়েছেন, আংশিকভাবে স্তালিনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব করেই ডিমিট্রভের যুক্তফ্রন্ট রণনীতি আসে। কিন্তু এর সঙ্গে ১৯২১-থেকে ১৯২৩ এবং পরে ট্রটস্কী প্রস্তাবিত যুক্তফ্রন্টের বিরাট পার্থক্য ছিল। প্রথমত, এই প্রস্তাবিত যুক্তফ্রন্ট প্রলেতারীয় যুক্তফ্রন্ট না, এ হল ‘ফ্যাসীবিরোধী যুক্তফ্রন্ট’ যাতে নাকি সামিল হবে ‘গণতান্ত্রিক বুর্জোয়া’ দলরাও। ফলে, স্পেনে, ফ্রান্সে, যখন কমিউনিস্ট, সমাজতন্ত্রী, এবং স্পেনের ক্ষেত্রে নৈরাজ্যবাদী ও ট্রটস্কীবাদী দলের সমর্থক শ্রমিকরা একজোট হয়ে লড়াই করলেন, তখন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের চেয়েও উৎসাহের সঙ্গে আন্দোলনের রাশ টেনে ধরলেন স্তালিনবাদী কমিউনিস্ট নেতারা। ফ্রান্সে মরিস থোরেজ বললেন, কখন ধর্মঘট শেষ করতে হবে তাও জানতে হয়। সাধারণ ধর্মঘট থেকে বিপ্লবের পথে যাওয়া ছিল ট্রটস্কীবাদ। স্পেনে ফ্র্যাঙ্কোর নেতৃত্বে সেনাবিদ্রোহের জবাবে ক্যাটালোনিয়াতে নৈরাজ্যবাদী ও ট্রটস্কীবাদী নেতৃত্বে শ্রমিকরা বুর্জোয়া সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করলে কমিউনিস্ট-সমাজতন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের নিরস্ত্র করে, মালিকদের কাছে ফ্যাক্টরী ইত্যাদি ফিরিয়ে দেয়। যুক্তফ্রন্ট সংসদ বহির্ভূত লড়াই থেকে সংসদীয় লড়াইয়ের দিকে চলে গেল। ধনতান্ত্রিক ইউরোপে স্পেনের মতো দেশেও প্রলেতারীয় বিপ্লবকে এজেন্ডার বাইরে বলে দেখা হল। ফলে শ্রমিক শ্রেণীর মধ্যে হতাশা দেখা দিল। যে ‘গণতান্ত্রিক’ বুর্জোয়াদের তোষণ করতে এই কাজ করা হল, তারা পরোক্ষে ফ্র্যাঙ্কোকেই সাহায্য করল। কমিউনিস্ট বিশ্বাসঘতকতা স্পেনের বিপ্লবকে ফ্র্যাঙ্কোর হাতে তুলে দিল। আর সে পার্লামেন্টে ফ্রান্সে একদিন কমিউনিস্ট সমর্থিত পপুলার ফ্রন্ট সরকার গঠিত হয়, ১৯৩৯ সালে, নতুন নির্বাচন ছাড়াই, ঐ পার্লামেন্টেই, ঐ ‘গণতান্ত্রিক বুর্জোয়া’ র‍্যাডিক্যাল দলের সাহায্যে কমিউনিস্ট দলকে নিষিদ্ধ করা হল, আর ১৯৪০ সালে ঐ সাংসদরাই পেত্যাঁর নেতৃত্বে নাজীদের সঙ্গে সহযোগিতা করবে এমন এক সরকারকে গঠন করলেন।

অধঃপতন ও পুনর্গঠনঃ

আমরা আলোচনা করেছি, যে নিরন্তর বিপ্লবের তত্ত্ব অনুযায়ী, রাশিয়াতে প্রলেতারীয় বিপ্লব এককভাবে সমাজতন্ত্রে উত্তরণ সম্পন্ন করতে পারত না। প্রয়োজন ছিল বিশ্ববিপ্লবের সম্প্রসারনের। গৃহযুদ্ধ, অবরোধ, জার্মানী সহ সব দেশে বিপ্লবের পরাজয়, এই ধারণা কত সঠিক ছিল তা দেখাল। সোভিয়েত রাষ্ট্র বাঁচল, কিন্তু এক জটিল অবস্থায়। নিঃসংগতা , দারিদ্র, এবং গৃহযুদ্ধের ফলে  সোভিয়েত গণতন্ত্রের অবক্ষয় ঘটল।   

১৯২১ থেকে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য নয়া অর্থনৈতিক পলিসী নামে একটি নীতি গৃহীত হল। এর বিভিন্ন উপাদানের একটি হল, ফ্যাক্টরির উতপাদনশীলতা বাড়ানো, তাকে লাভজমক রাখা, কারণ তা না হলে বেসরকারি ক্ষেত্রের সঙ্গে বাণিজ্য করা সম্ভব হবে না। এর ফলে একদিকে বেকারত্ব এল, আর অন্যদিকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক আমলাতন্ত্র এল। এই অর্থনৈতিক আমলাতন্ত্র যুক্ত হল ইতিমধ্যেই গড়ে ওঠা রাষ্ট্রীয় ও পার্টি আমলাতন্ত্রের সঙ্গে। এর নেতা হিসেবে এলেন স্তালিন। এই আমলাতন্ত্রের নতুন মতাদর্শ হল, জার্মানী বা অন্য কোনো বিপ্লবের থেকে সাহায্য নিয়ে না, বিশ্ববিপ্লবের মাধ্যমে বিশ্ব সমাজতন্ত্র না, (যেটা মার্ক্স থেকে লেনিন সকলেরই তত্ত্ব ছিল), বরং রাশিয়াতে ‘এক দেশে সমাজতন্ত্র গঠন’ সম্ভব হবে। ট্রটস্কী ও বামপন্থী বিরোধী গোষ্ঠী ব্যাখ্যা করেন, এ হল এক জাতীয়তাবাদী রাজনীতি। উপরন্তু, তাঁরা লড়াই করলেন গণতান্ত্রিক পরিকল্পনা, সোভিয়েত ও পার্টি গণতন্ত্র, এবং আন্তর্জাতিকতাবাদের জন্য। বামপন্থী বিরোধীদের পরাজয় হলেও, তাঁদের বিপ্লবী দিশা আমলাতন্ত্রের দুঃস্বপ্নের কারণ ছিল। মস্কোর বিচার-প্রহসনের প্রত্যেকটাতে যে ট্রটস্কীকে মূল ‘চক্রান্তকারী’ বলা হল, সেটা হঠাৎ না। স্তালিন পুরোন বলশেভিক, তাই তিনি জানতেন, তিনি ক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারবে্ন গোটা পুরনো বলশেভিক দল ও তার ঐতিহ্য, তার রাজনীতিকে ধ্বংস করে। তিনি ভাল বুঝতেন, যে ট্রটস্কীর দিশা  আমলাতন্ত্রের ক্ষমতা ও বিশেষ সুবিধার একেবারে পরিপন্থী।  

আমলাতন্ত্র শ্রমিক শ্রেণীর রাজনৈতিক ক্ষমতা কেড়ে নিলেও, সোভিয়েত ইউনিয়নে নতুন কোনো শ্রেণী শাসন তারা আনে নি। ট্রটস্কী এই কথা বুঝেছিলেন। স্তালিনবাদকে তিনি প্রতিবিপ্লবী মনে করতেন। কিন্তু তিনি ব্যাখ্যা করেন, ধনতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হওয়ার অর্থ সম্পত্তিসম্পর্কে মৌলিক পরিবর্তন আসা, যেটা ঘটে নি। সোভিয়েত অর্থনীতি ছিল আগাগোড়া জাতীয়করণের ভিত্তিতে, কিন্তু আমলাতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত। আমলাতন্ত্র একটা পরগাছা সামাজিক স্তর, একটা শোষক শ্রেণী না।  দেশের ভিতরে ও বাইরে শ্রেণী সংগ্রামের ভারসাম্যের এক অদ্ভুত পরিস্থিতিতে এই ঘতনা ঘটেছিল। একে তিনি তুলনা করেন বোনাপার্ততন্ত্রের সঙ্গে, যেখানে সামন্ত ও বুর্জোয়ার শক্তির ভারসাম্য, এবং বিংশ শতাব্দীতে বুর্জোয়া ও শ্রমিকের ভারসাম্যের ফলে বুর্জোয়া সমাজ আছে অথচ সমগ্র শ্রেণী ক্ষমতায় নেই, এমন পরিস্থিতি হয়েছে। তফাতও ছিল, যা এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে না। কিন্তু ট্রটস্কীর বক্তব্য ছিল, হয় আমলাতন্ত্র নিজের ক্ষমতাকে স্থায়িত্ব দিতে ধনতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে, অথবা  শ্রমিক শ্রেণী আরেকবার বিপ্লব করে প্রলেতারীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। এই বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনিই একমাত্র কেন্দ্রীয় স্তরের বলশেভিক নেতা, যিনি স্বীকার করেন, ১৯২১ সালে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর অন্য পার্টিদের নিষিদ্ধ করা আন্তঃপার্টি গণতন্ত্রকেও খতম করেছিল। ১৯৯০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তিম অবস্থা ও তার উত্তরসূরী দেশগুলিতে ধনতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা দেখিয়ে দিল, ট্রটস্কীর বিশ্লেষণ কেন ঠিক ছিল। অবশ্যই, তিনি এই ফল চান নি, চেয়েছিলেন প্রলেতারীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব – ১৯৫৩ সালে পূর্ব জার্মানীতে, ১৯৫৬ সালে হাঙ্গেরী ও পোল্যান্ডে, ১৯৮০ তে পোল্যান্ডে,  যা ঘটেছিল, বা ঘটার দিকে অনেকটা এগিয়েছিল।   

কিন্তু ট্রটস্কীর বিশ্লেষণের গুরুত্ব হল, এর ফলে রুশ বিপ্লবের প্রগতিশীল ঐতিহ্য এবং তার আংশিক ধারাবাহিকতাকে বোঝা সম্ভব ছিল। স্তালিনবাদী আমলাতন্ত্রকে প্রলেতারীয় বিপ্লবের শত্রু বলে চিনলেও, তিনি ব্যাখ্যা করেন যে সাম্রাজ্যবাদ সমাজতন্ত্রের মূল শত্রু। সোভিয়েত আমলাতন্ত্রকে যে কেউ উচ্ছেদ করা তাই প্রগতিশীল না—শ্রমিক শ্রেণী প্রলেতারীয় বিপ্লবী দিশা থেকে উচ্ছেদ করলে তবেই সেটা প্রগতিশীল। তাই সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে তার দ্বন্দ্বে সোভিয়েত ইউনিয়নকে নিঃশর্ত সমর্থন ছিল তাঁর নীতি।

এই দিশা বিপ্লবী মার্ক্সবাদীদের একটা মেকী বাইনারী এড়াতে সাহায্য করেছিল। সেই মেকী বাইনারী হল, হয় বিপ্লব স্বৈরতান্ত্রিক তাই তার বিরোধিতা করতে হবে, অথবা বিপ্লবকে যেহেতু সমর্থন করতে হবে তাই তাকে সমালোচনা করা, এমনকি তার তথাকথিত নেতৃত্বকে উচ্ছেদ করে বিকল্প প্রলেতারীয় নেতৃত্ব আনার কথা বলা যাবে না। প্রথম অবস্থানের অর্থ, সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে আমলাতান্ত্রিক অধঃপতিত বা আমলাতান্ত্রিক বিকৃতিপ্রাপ্ত শ্রমিক রাষ্ট্রের দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ থাকা, বা এমনকি সাম্রাজ্যবাদ গণতান্ত্রিক এই ছুতোয় তার পক্ষ নেওয়া। দ্বিতীয় অবস্থানের অর্থ তথাকথিত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলির সমস্ত অপরাধকে চুনকাম করে দেখানো। ট্রটস্কীর অবস্থান থেকে আমরা ধনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সব চেষ্টার বিরুদ্ধে যে কোনো শ্রমিক রাষ্ট্রকে সমর্থন করতে পারি, কিন্তু একই সঙ্গে আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রলেতারীয় গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে সামিল হতে পারি।
দুর্ভাগ্য এটাই, যে এই নীতিনিষ্ঠ অবস্থান বামপন্থীদের মধ্যে কম।

নিষ্কলঙ্ক ঝাণ্ডাঃ

ট্রটস্কীর লড়াই ছিল প্রলেতারীয় বিশ্ববিপ্লবের জন্য লড়াই। তিনি স্তালিনবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন স্তালিনের সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জন্য না। তা ছিল মার্ক্স থেকে লুক্সেমবুর্গ ও বলশেভিকবাদের বিপ্লবী রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনার লড়াই। তিনি জানতেন,ধনতন্ত্র কোন সামনের দিকে পথ দেখাতে পারে না। সাম্যবাদের জন্য লড়াই করতে হলে সংস্কারবাদী পথ, তত্ত্বগত বোঝা হাল্কা করা, ‘গণতান্ত্রিক’ বুর্জোয়াদের উপরে নির্ভর করা, এর প্রত্যেকতা ত্যাগ করতে হবে। শ্রমিক শ্রেণীর ঐক্য, শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে সব শোষিত , নিপীড়িত, নির্যাতিত মানুষের ঐক্য ও বিপ্লবী লড়াই-ই একমাত্র পারে দাসত্ব, শোষণ ও অন্ধকার থেকে মুক্তি এনে মানুষকে মানুষ হিসেবে বাঁচতে দিতে। চতুর্থ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠার সময়ে ট্রটস্কী এই দিশাকে তুলে ধরে বলেছিলেন, চতুর্থ আন্তর্জাতিক শ্রমিক শ্রেণীর সামনে তুলে ধরবে এক নিষ্কলঙ্ক ঝাণ্ডা। ট্রটস্কীর ঐতিহ্য রক্ষা মানে এই দিশার ভিত্তিতে  লড়াই করা।  

Eleven Theses on the Resurgence of Islamic Fundamentalism

Given the renewed discussion, we are producing this 1981 document, which stands the test of time. The “theses” were circulated widely and have been translated into many languages. Their success was due to the fact that they gave a Marxist analysis of a phenomenon that was then still relatively new. The current resurgence of Islamic fundamentalism dates from the 1970s, and reached its first crescendo, after years of underground activity, with the Iranian revolution of 1979.

1. The extent and diversity of the forms taken by the resurgence of Islamic fundamentalism, which has marked the beginning of the last quarter of the twentieth century, preclude any hasty, generalized conjectures about it. It would be totally mistaken to equate the Catholicism of the Polish workers with that of Franco’s reaction, though this should not make us overlook the common features of the agrarian histories of Spain and Poland or the political and ideological content that their respective forms of Catholicism share.

Similarly, elementary analytical caution forbids putting such diverse phenomena as the resurgence of Muslim clerical and/or political movements in Egypt, Syria, Tunisia, Turkey, Pakistan, Indonesia, or Senegal, Zia Ul-Haq’s military dictatorship in Pakistan or Gaddafy’s in Libya, the seizure of power by Iranian Shi’ite clergy or by Afghan guerrillas, etc., all into the same category. Even phenomena that on the surface appear clearly identical, such as the progress made by the same movement, the “Muslim Brotherhood,” in Egypt and Syria, have different underlying political content and functions, determined by their different immediate objectives.

Beneath their agreement on otherworldly matters, beyond their agreement on problems of everyday life, when they do agree on such issues, and notwithstanding their similar, even identical, denominations and organizational forms, Muslim movements remain essentially political movements. They are thus the expression of specific socio-political interests that are very much of this world.

2. There has been no eruption of Islam into politics. Islam and politics have always been inseparable, as Islam is a political religion in the etymological sense of the word. Thus, the demand for the separation of religion and state in Muslim countries is more than secularist: it is openly anti-religious. This helps explain why none of the major currents of bourgeois or petty bourgeois nationalism on Islamic soil, with the exception of Kemalism in Turkey, have called for secularism. What is an elementary democratic task elsewhere-separation of religion and state-is so radical in Muslim countries, especially the Middle East, that even the “dictatorship of the proletariat” will find it a difficult task to complete. It is beyond the scope of other classes.

Furthermore, the democratic classes of Muslim societies have on the whole shown no interest, or almost none, in challenging their own religion. In fact Islam has not been perceived in the twentieth century as the ideological cement of an outmoded feudal or semi-feudal class structure in these societies. It has been seen instead as a basic element of national identity jeered at by the foreign Christian (or even atheist) oppressor. It is no accident that Turkey is the only Muslim society not to have been subjected to direct foreign domination in the twentieth century. Mustafa Kemal too was exceptional among his peers. He waged his main battle not against colonialism or imperialism but against the Sultanate, a combination of temporal and spiritual power (the Caliphate). On the other hand Nasser, however radical a bourgeois nationalist, had every interest in identifying with Islam in his main combat against imperialism; all the more so because this was a cheap way for him to protect his left and right flanks.

3. The following theses do not deal with Islam as one element among others, albeit a fundamental element, in the ideology of nationalist currents. That kind of Islam’s time is up, as with the currents that identify with it. More generally, we shall distinguish between Islam used as one means among others of shaping and asserting a national, or communal, or even sectarian identity, on the one hand, and Islam considered as an end in itself, a total, general objective, a unique, exclusive program, on the other. “The Koran is our constitution,” declared Hassan Al-Banna, founder of the Muslim Brotherhood in 1928. The Islam that interests us here is Islam elevated to an absolute principle, to which every demand, struggle and reform is subordinated-the Islam of the Muslim Brotherhood, of the “Jamaat-i-Islami,” of the different ulemas’ associations and of the movement of Iranian ayatollahs whose organized expression is the Islamic Republican Party.

The common denominator of these different movements is Islamic fundamentalism, that is, the wish to return to Islam, the aspiration to an Islamic utopia, which incidentally cannot be limited to a single nation but must encompass all Muslim peoples if not the whole world. In this spirit, Bani-Sadr declared to the Beirut daily An-Nahar in 1979 that “Ayatollah Khomeini is an internationalist; he is opposed to Islamic Stalinists who want to build Islam in one country” (sic!). This “internationalism” is also visible in the way that all these movements go beyond the borders of their countries of origin and/or maintain more or less close relations with each other. They all reject nationalism in the narrow sense, and consider nationalist currents-even those that claim to be Islamic-rivals if not adversaries. They oppose foreign oppression or the national enemy in the name of Islam, not in defense of the “nation.” The United States is thus not so much “imperialism” for Khomeini as the “Great Satan”; Saddam Hussein is above all an “atheist,” an ”infidel.” For all the movements in question, Israel is not so much a Zionist usurper of Palestinian land as “the Jewish usurper of an Islamic holy land.”

4. However progressive, national and/or democratic the objective significance of certain struggles carried on by various Islamic fundamentalist currents, it cannot mask the fact that their ideology and their program are essentially, by definition, reactionary. What sort of program aims to construct an Islamic state, faithfully modeled on the seventh century of the Christian era, if not a reactionary utopia? What sort of ideology aims to restore a thirteen-century-old order, if not an eminently reactionary ideology? Thus it is wrong and even absurd to define Islamic fundamentalist movements as bourgeois, whatever the extent to which some struggles they wage align them with all or part of their countries’ bourgeoisies, just as wrong as to define them as revolutionary when they happen to come into conflict with these same bourgeoisies.

In terms of the nature of their program and ideology, their social composition, and even the social origins of their founders, Islamic fundamentalist movements are petty bourgeois. They do not hide their hatred of representatives of big capital any more than of representatives of the working class, or their hatred of imperialist countries any more than of “communist” countries. They are hostile to the two poles of industrial society that threaten them: the bourgeoisie and the proletariat. They correspond to those layers of the petty bourgeoisie described in the Communist Manifesto:

“The lower middle class, the manufacturer, the shopkeeper, the artisan, the peasant, all these fight against the bourgeoisie to save from extinction their existence as fractions of the middle class. They are therefore not revolutionary, but conservative. Nay more, they are reactionary, for they try to roll back the wheel of history. ”

Petty bourgeois Islamic reaction finds its ideologues and leading elements among the “traditional intellectuals” of Muslim societies, ulemas and the like, as well as among the lower echelons of the bourgeoisie’s “organic intellectuals,” those coming from the petty bourgeoisie and condemned to stay there: teachers and office workers in particular. In a period of ascendancy Islamic fundamentalism recruits widely at universities and other institutions that produce “intellectuals,” where they are still more conditioned by their social origins than by a hypothetical and often doubtful future.

5. In countries where Islamic fundamentalist reaction has been able to become a mass movement and where it now has the wind in its sails, the labor force includes a relatively high proportion of middle classes, according to the Communist Manifesto definition: manufacturers, shopkeepers, artisans and peasants. Nevertheless, any outbreak of Islamic fundamentalism mobilizes not only a larger or smaller layer of these middle classes, but also layers of other classes newly spawned by the middle classes under the impact of capitalist primitive accumulation and impoverishment. Thus parts of the proletariat whose proletarianization is very recent, and above all parts of the sub-proletariat that capitalism has dragged down from their former petty bourgeois level, are particularly receptive to fundamentalist agitation and susceptible to being caught up in it.
This is Islamic fundamentalism’s social base, its mass base. But this base is not the natural preserve of religious reaction, the way that the bourgeoisie relates to its own program. Whatever the strength of religious feeling among the masses, even if the religion in question is Islam, there is a qualitative leap from sharing this feeling to seeing religion as an earthly utopia. In order for the opiate of the masses to become an effective stimulant once more in this age of automation, the peoples must truly have no other choice left but to throw themselves on God’s mercy. The least one can say about Islam is that its immediate relevance is not obvious!

In fact, Islamic fundamentalism poses more problems than it solves. Although Islamic law is several centuries younger than Roman law, it was produced by a society considerably more backward than ancient Rome. (The Koran was largely inspired by the Torah, just as the Arabs’ way of life was fairly similar to the Hebrews’.) And besides the problem of updating a thirteen-century-old civil code, there is also the question of completing it. In other words, the most orthodox Muslim fundamentalist is incapable of responding to the problems posed by modern society with exegetical contortions alone, unless the contortions become totally arbitrary and therefore a source of endless disagreements among the exegetes. There are thus as many interpretations of Islam as there are interpreters. The core of the Islamic religion, which all Muslims agree on, in no way satisfies the pressing material needs of the petty bourgeois, quite apart from whether it can satisfy their spiritual needs. Islamic fundamentalism in itself is in no way the most appropriate program for satisfying the aspirations of the social layers that it appeals to.

6. The social base described above is notable for its political versatility. The quotation from the Communist Manifesto above does not describe a fixed attitude of the middle classes, but only the real content of their fight against the bourgeoisie when there is a fight, when they turn against the bourgeoisie. Before fighting against the bourgeoisie, the middle classes were its allies in the fight against feudalism; before seeking to reverse the course of history they contributed to advancing it.

The middle classes are first and foremost the social base of the democratic revolution and the national struggle. In backward, dependent societies such as Muslim societies the middle classes still play this role as long as the tasks of the national and democratic revolution are still more or less uncompleted and on the agenda. They are the most ardent fans of any bourgeois leadership (and even more of any petty bourgeois leadership) that champions these tasks. The middle classes are the social base par excellence of the Bonapartism of the ascendant bourgeoisie; they are in fact the social base of all bourgeois Bonapartism. So the only time when large sections of the middle classes strike off on their own and seek other paths is when bourgeois or petty bourgeois leaderships that have taken on national and democratic tasks run up against their own limits and lose their credibility.

Of course, as long as capitalism on the rise seems to open up prospects of upward social mobility for the middle classes, as long as their conditions of existence are improving, they do not question the established order. Even when depoliticized or unenthused, they normally play the role of “silent majority” in the bourgeois order. But if ever the capitalist evolution of society weighs on them with all its force-the weight of national and/or international competition, inflation and debt-then the middle classes become a formidable reservoir of opposition to the powers that be. Then they are free of any bourgeois control, and all the more formidable because the violence and rage of the petty bourgeois in distress are unparalleled.

7. Even then the reactionary option is not unavoidable for the petty bourgeoisie, downtrodden though it is by capitalist society and disillusioned with bourgeois and petty bourgeois democratic-nationalist leaderships. There is always another option, at least in theory. The middle classes are faced with the choice between reaction and revolution. They can join the revolutionary struggle against the bourgeoisie, as the Communist Manifesto foresaw:

If by chance [the middle classes] are revolutionary, they are so only in view of their impending transfer into the proletariat, they thus defend not their present, but their future interests, they desert their own standpoint to place themselves at that of the proletariat.

In the backward and dependent societies that the Communist Manifesto did not take into account, however, the middle classes have absolutely no need to abandon their own viewpoint in order to place themselves under proletarian leadership. Quite the contrary, by taking up the middle classes’ aspirations, notably national and democratic tasks, the proletariat can manage to win them over them to its side.

But for the proletariat to win the middle classes’ confidence, it must first of all have a credible leadership itself, a leadership that has proved itself politically and practically. If on the other hand a leadership with a majority in the working class has discredited itself on the level of national democratic political struggles (while maintaining its majority position because of its trade union positions or simply the lack of an alternative), if it proves politically flabby in face of the established order, or if even worse it supports the established order, then the middle classes will really have no choice but to lend their ears to petty bourgeois reaction-even if it is as inscrutable as Islamic reaction-and possibly respond to its calls.

8. In all the countries where Islamic fundamentalism has gained considerable ground, particularly in Egypt, Syria, Iran and Pakistan, all the conditions described above exist. In all these countries middle class living standards have manifestly deteriorated over the last few years. Although some of these countries are even oil exporters themselves, the only effect the massive oil price increases have had on most of their middle classes has been unbridled inflation. In addition, bourgeois and petty bourgeois democratic-nationalist leaderships are generally discredited in these countries. In all four countries, democratic-nationalist leaderships have undergone the test of state power.

All of these leaderships had had virtually unanimous middle class support at certain moments in their history as they were trying to implement their national democratic programs. Some went a long way in this direction, notably in Egypt and countries under Egyptian influence, where Nasser towered over the political landscape. Nationalists were able to stay in power for a long time, or are still in power-in the latter cases because they owe their power to the army.

In Iran and Pakistan, where the nationalists formed civilian governments, the army soon swept them away; Mossadegh and Bhutto came to sad ends. In all four countries, in any case, the progress made so far in carrying out the national democratic program, even within the framework and limits of a bourgeois state, ranges from very little to almost none. Even in Iran where the Mossadegh experience was a very short one, the Shah took it on himself (on his US tutors’ advice) to bring about with his own pseudo-Bismarckian methods what the combined efforts of Robespierres and Bonapartes accomplished elsewhere.

On the other hand, the only noteworthy working class political organizations in the whole region are Stalinist parties.

These, when they amount to anything, have totally discredited themselves with a long history of selling out popular struggles and making deals with the powers that be. So when middle class discontent began to surface these past few years in the four countries mentioned, no working class or bourgeois or petty bourgeois nationalist organization was able to capitalize on it. The way was wide open for petty bourgeois Islamic fundamentalist reaction.

By contrast, in Algeria, Libya and Iraq, where the enlightened despotism of a bourgeois or petty bourgeois nationalist bureaucracy allowed broad middle class layers to benefit from the oil manna, Islamic fundamentalism could be contained.

9. While Islamic fundamentalism has made notable gains in Egypt and Syria as well as Iran and Pakistan, the forms and extent of its gains differ greatly from one country to another, as do its political content and function. In Syria, the fundamentalist movement is the main opposition to the declining Bonapartism of the Ba’athist bourgeois bureaucracy, and engaged in a life-and-death struggle against it. Syrian fundamentalists have profited from the fact that the Ba’athist ruling elite belongs to a minority faith (Alawi).

The outrageously, purely reactionary nature of the Syrian fundamentalist movement’s program reduces its possibilities of seizing power on its own to almost nothing. It cannot on its own, on the basis of such a program, mobilize the forces needed to overthrow the Ba’athist dictatorship. Still less can it run, alone, a country whose economic and political problems are as thorny as Syria’s. The Syrian fundamentalist movement is thus condemned to co-operate with the Syrian propertied classes (bourgeois and landowners). It is not, and cannot be, any more than their spearhead.

In Egypt too, for the same reasons, the possibility of an independent seizure of power by the fundamentalist movement is very limited, all the more so because it has less influence there than in Syria. In both these countries a long struggle against progressive regimes has hardened the fundamentalist movement, thus highlighting its reactionary character. Moreover, the very scope of Egypt’s economic problems makes the fundamentalists’ bid for power even less credible.

The Egyptian bourgeoisie is perfectly aware of this fact and is thus very obliging toward the fundamentalist movement. The fundamentalists constitute in its eyes an ideal “fifth column” inside the mass movement-a particularly effective “antibody” to the left. That is why it is not at all worried about Egyptian fundamentalist movement’s trying to outbid the left on the left’s two favorite issues: the national question and the social question; any gains made by Islamic reaction on these two issues mean equivalent losses for the left. The Egyptian bourgeoisie’s attitude toward the fundamentalist movement resembles that of any bourgeoisie faced with a deep social crisis toward the far right and fascism.

Pakistan is different from Egypt in that the Pakistani fundamentalist movement has consolidated itself mainly under reactionary regimes. It has therefore been able to reclaim some elements of the national democratic program for long periods of time and thus form a credible opposition to the established order. But during these same long periods, bourgeois democratic- nationalist tendencies were themselves in opposition, and more credible and thus more influential than the fundamentalists were.

Only when Bhutto, skipping the stages of a Nasser-type evolution in an impressive historical shortcut, rapidly alienated the masses by getting entangled in his own contradictions was the way opened up for the extreme right dominated by the fundamentalist movement (given that the Pakistani far left was insignificant). Bhutto’s bankruptcy was so glaring that the fundamentalists managed to mobilize a huge mass movement against him.

The army’s coup d’état was meant to forestall the “anarchy” that could have resulted had this mobilization led to Bhutto’s overthrow (as in Iran!). To win the fundamentalists’ sympathy, Zia Ul-Haq’s reactionary bourgeois military dictatorship took over their projects for Islamic reforms and used them to its own advantage. Today it is counting on the fundamentalist movement to neutralize any “progressive” opposition to its regime, including the late Bhutto’s party.

In the three cases analyzed above, the fundamentalist movement has proved itself to be nothing but an auxiliary for the reactionary bourgeoisie. But Iran is different.

10. In Iran the fundamentalist movement, represented mainly by the fundamentalists among the Shi’ite clergy, was forged in a long and bitter struggle against the Shah’s eminently reactionary imperialist-backed regime. The sad historical bankruptcy of Iranian bourgeois nationalism and Stalinism is too well known to describe here. Because of this exceptional combination of historical circumstances, the Iranian fundamentalist movement managed to become the sole spearhead of the two immediate tasks of the national democratic revolution in Iran: overthrowing the Shah and severing the ties with US imperialism.

This situation was all the more possible because the two tasks in question were in perfect harmony with the generally reactionary program of Islamic fundamentalism. So as the social crisis matured in Iran to the point of creating the preconditions for a revolutionary overthrow of the Shah, as the middle classes’ resentment of him reached fever pitch, the fundamentalist movement personified by Khomeini managed to harness the immense power of the embattled middle classes and sub-proletariat and deal the regime a series of body blows.

The fundamentalists were almost suicidal in their determination to remain unarmed, a feat that only a mystical movement is capable of. The Iranian fundamentalist movement managed to carry out the first stage of a national democratic revolution in Iran. But its fundamentalist character very quickly got the upper hand.

In a sense, the Iranian revolution is a permanent revolution in reverse. Starting with the national democratic revolution, it could under proletarian leadership have “grown over” into a socialist transformation. Its fundamentalist petty bourgeois leadership prevented that, pushing it on the contrary in the direction of a reactionary regression. The February 1979 revolution was astonishingly similar to February 1917-two identical points of departure ushering in diametrically opposite processes. While October 1917 enabled the Russian democratic revolution to go to its logical conclusion, in Iran the fundamentalist leadership betrayed the revolution’s democratic content.

The Russian Bolsheviks replaced the Constituent Assembly, after having struggled to have it elected, with the eminently democratic power of the soviets; the ayatollahs replaced the Constituent Assembly, which they too had placed at the head of their demands but never allowed to see the light of day, with a reactionary caricature: the Muslim “Assembly of Experts.” The fate of this demand common to the two revolutions eloquently sums up the counterposed natures of the leaderships, and thus the opposite directions they took.

As for the democratic forms of organization that arose in the course of the Iranian February, the Islamic leadership co-opted them. The shoras were a far cry from the soviets! On the national question, while the Bolsheviks’ proletarian internationalism made possible the emancipation of the Russian empire’s oppressed nationalities, the ayatollahs’ Islamic “internationalism” turned out to be a pious pretext for bloody repression of the Persian empire’s oppressed nationalities. The fate of women in the two revolutions is just as well known.

The fundamentalist Iranian leadership only remained faithful to the national democratic program on one point: the struggle against US imperialism. But it stayed true to this struggle in its own peculiar way. Describing the enemy not as imperialism but as the “West” if not the “Great Satan,” Khomeini called for throwing out the baby with the bathwater, or rather the baby before the bathwater. He attributed all the political and social gains of the bourgeois revolution, including democracy and even Marxism, which he considered (correctly) a product of (supposedly “Western”) industrial civilization, to the hated “West.”

He called on Iranians to rid their society of these plagues, while neglecting the main links between Iran and imperialism: the economic links. The US embassy affair, the way it was managed, gained Iran nothing. In the final analysis it proved very expensive, profitable in the last analysis to US banks. However the fundamentalist dictatorship evolves in Iran from now on, it has already proved to be a major obstacle to the development of the Iranian revolution.

Moreover, its evolution is very problematic. Beyond the exceptional combination of circumstances described above, there is a fundamental difference between Iran and the three other countries mentioned earlier: Iran can afford the “luxury” of an experiment with an autonomous, petty bourgeois, fundamentalist regime. Its oil wealth is the guarantee of a positive balance of payments and budget. But at what price and for how long? The economic balance sheet of two years of fundamentalism in power is already very negative compared with earlier years. On the other hand, the inconsistency of the fundamentalist “program” and the great variety of social layers who identify with it and interpret it according to their own lights are manifest in a plurality of rival and antagonistic centers of powers. Only Khomeini’s authority has made it possible so far for them to keep up a façade of unity.

11. Islamic fundamentalism is one of the most dangerous enemies of the revolutionary proletariat. It is absolutely and under all circumstances necessary to fight against its “reactionary and medieval influence,” as the “Theses on the National and Colonial Question” adopted at the Second Congress of the Communist International said many years ago. Even in cases such as Iran, where the fundamentalist movement takes on national democratic tasks for a time, the duty of revolutionary socialists is to fight intransigently against the spell it casts on the struggling masses.

If not, if they do not free themselves in time, the masses will surely pay the price. While striking together at the common enemy, revolutionary socialists must warn working people against any attempt to divert their struggle in a reactionary direction. Any failure in these elementary tasks is not only a fundamental weakness, but can also lead to opportunist wrong turns.

On the other hand, even in cases where Islamic fundamentalism takes purely reactionary forms, revolutionary socialists must use tactical caution in their fight against it. In particular they must avoid falling into the fundamentalists’ trap of fighting about religious issues. They should stick firmly to the national, democratic, and social issues. They must not lose sight of the fact that a part, often a big part, of the masses under Islamic fundamentalist influence can and must be pulled out of its orbit and won to the workers’ cause.

At the same time revolutionary socialists must nevertheless declare themselves unequivocally for a secular society, which is a basic element of the democratic program. They can play down their atheism, but never their secularism, unless they wish to replace Marx outright with Mohammed!

February 1, 1981: First published in English in International Marxist Review vol. 2 no. 3 (Summer 1987)

Radical Socialist Statement on Afghanistan: A Double Tragedy

 

            We mourn with the Afghan people their double tragedy. The first tragedy---the US's illegal and utterly unjustified military invasion twenty years ago---helped prepare the ground for today's tragedy, the accession to power of the Islamo-fanatical Taliban. Condemnation of the latter must not mean any softening of the criticism of US and Western imperialism or in shedding tears at its departure from the country. The single most important democratic advance in the whole of the second half of the 20th century was the end of foreign colonial and imperialist rule even where this unfortunately resulted in the emergence of indigenous dictatorships. In a world where peoples are constituted as belonging to separate and multiple states, the fundamental moral-political principle to uphold (minus the rarest of exceptional cases) is respecting the freedom of agency of a people to overthrow their own tyrants. This is why it was the responsibility of Indians to overthrow British rule, of Indonesians the Dutch, of South Africans against Apartheid, and so on. Calling for external help of all kinds, even military aid, was one thing; calling for external military liberation, No!

 

            In the 1978 'Saur Revolution' a secular and reform-minded pro-Soviet 'Communist' party, the PDPA (People's Democratic Party of Afghanistan) came to power but was bedevilled by internal armed faction-fighting and had no real social base beyond Kabul. The Soviet invasion in 1979 to support this government was morally unjustified and condemnable while politically disastrous, handing over as it did the mantle of 'popular nationalist struggle' against the foreign invader, to a host of ethno-tribal Islamist groups including Al Qaeda and Taliban. The primary military aiders, equippers and trainers of these were the US, its British/French allies along with Pakistan. The Soviets finally withdrew in 1989 with its factotum government collapsing three years later amidst a civil war waged by the various Islamists until the Taliban capturing  90% of the territory established its dominance in 1996.

 

            In 2001 the US government deliberately refused to characterise the assault on Twin Towers and Pentagon as what it was, namely an international crime against humanity. For that would have meant going after the criminals and their network only. Instead, by declaring a 'Global War on Terror' and claiming that no distinction would be made between the guilt of the perpetrators and that of the governments of countries which the US declared to be 'housing terrorists'---the way was cleared for the US to transform a conflict between itself and a non-state network into one against any number of countries in West and Central Asia in keeping with its wider geo-political ambitions of achieving global dominance. In the new millennium Afghanistan was the first of many to suffer such military assaults. The US foreign policy establishment had already identified China, Iran and Russia as the ones to watch out for and were accordingly well aware that Afghanistan, apart from Pakistan, abuts Iran, China and pro-Russia Central Asian Republics, the latter also a region having large relatively untapped sources of oil and gas.

 

            In these 20 years the US military and its puppet regimes (themselves corrupt and internally fractious) have carried out massive bombings ('daisy cutters', cluster bombs), drone attacks (extending into Pakistan) and brutal and indiscriminate 'search and destroy' missions against unknown insurgents and their families. US deaths (soldiers and contractors) have been around 6500. In contrast, by extremely conservative estimates, total Afghan deaths up to the end of 2019 (government soldiers/police, opposition fighters, civilians) were around 160,000. Other sources which try to take account of unreported deaths have estimates of civilian casualties alone running from a few hundred thousand to over a million in an overall population between 35-40 million. Four million Afghans have been internally displaced with another 2.7 million external refugees. As of now around 48% are below the national poverty line. Some progressive laws and reforms have taken place but they no more justify US presence and rule than the fact of the British building hospitals, schools and introducing some legislatures, elections and limited franchise would have justified the persistence of colonial rule in India.

 

            That the 300,000 plus official Afghan forces (soldiers, police, special militias) numbering 5 to 6 times more than Taliban fighters and also equipped with the most advanced arsenal of weapons and having full mechanical control of airspace should have so dramatically collapsed, indicates that the Taliban did have a measure of ground support and public acquiescence (no doubt considerably fear-induced) beyond its predominantly Pushtun base. However, it is strongly hostile to the Persian-speaking Tajiks who make up 27% of the population as compared to the 42% of Pushtuns which means there is every reason to fear serious internal repression and even a possible civil war type situation in the future. Taliban may or may not have learnt something from its past international isolation and avoid some forms of social  and civic repression. But given its history and social/civic programme of religious sectarianism, anti-democratic, anti-women measures---it has declared it will impose Sharia Law---there is every reason to oppose it forthrightly and without equivocation.

 

            Governments everywhere including India's, will shed crocodile tears for the Afghan people, but are in fact (accompanied by respective bus loads of 'strategic experts') only motivated by the crude and amoral considerations of realpolitik. Claiming to pursue the 'national interest'---standardised subterfuge for the actual pursuit of ruling class interests that these different states actually represent---they will decide whether or when to establish diplomatic relations of some kind with the new Taliban government; or else to join hands with other self-serving major powers and their cohorts be these the Western Alliance or the possible front of Russia, China and Pakistan that looks more favourably at the new dispensation in Afghanistan. No Afghan government has ever accepted the Durand line and the Taliban with even stronger sympathies with Pushtuni nationalism is not as beholden to Pakistan as the Islamophobic Modi government (some of whose Hindutva prescriptions are as debased as those of radical Islam) would like to make out for the purpose of whipping up anti-Pakistan sentiment domestically which then pays dividends for deepening repression in Kashmir.   

 

            It is the good of the Afghan people not our supposed 'national interest'  that must be our point of departure for reflecting on what we must support and oppose. There should be no economic sanctions against Afghanistan. These hurt the people much more than the elites that govern. Humanitarian aid on an appropriate scale routed through progressive international and civil society organisations to this war-torn country is a must. No recognition to the Taliban regime while political, diplomatic and cultural pressures of various kinds (but not military) can play a role in pushing it to be less repressive in its laws and actions against women and ethnic and religious minorities. A basic test for the West and many other countries will come with regard to the posture they adopt towards the flow of Afghan refugees now and afterwards. There should be no restriction to those seeking refuge or asylum and adequate provision be made for them to stay or relocate to where they can. This holds for India as well. Even before the advent of Modi, India was and remains a non-party to the 1951 Refugee Convention and its 1967 Protocol which among other things rejects refoulement (forcible return of refugees to their places of displacement/persecution). This Modi government has carried this out to a number of Rohingyas simply because they are Muslims. This hostility to Muslims and Islam is also reflected in the Citizenship Amendment Act applicable to Afghanistan. While New Delhi may in current circumstances allow for selective refugee influx this is not enough. Free flow must be allowed even as there can be discussion among neighbouring states for sharing the responsibility. Moreover, those Afghans, students and otherwise who are already in the country and wish to remain must have their visas extended until such time as they feel confident of returning back or they can in due course apply for Indian citizenship.

 

NO TO IMPERIALISM, NO TO THE TALIBAN

 

18 August, 2021

Ten Theses on the Social and Economic Laws Governing the Society Transitional Between Capitalism and Socialism

Ernest Ezra Mandel was an outstanding revolutionary Marxist of his age. Born in Frankfurt, he moved with his parents, who were Jewish socialists, to Belgium after the Nazi rise to power. Recruited to the Belgian Section of the Fourth International, he fought against the Nazis during World War II, was arrested and escaped twice, and survived the Dora Concentration Camp. In 1946, he was elected the youngest member of the International Secretariat of the Fourth International. During the decade long split he was one of the principal leaders of the International Secretariat, ad he was among those who pushed for unification. From Unification in 1963 till his death in 1995, Mandel was a key leader of the Fourth International. Mandel was an activist and a theorist and a populariser.

Mandel died on 20th July 1995. Many of his writings remain extremely relevant. We are putting up a few over the next few days, beginning with the one below.

 

 

n  Administrator, Radical Socialist website

 

Ten Theses on the Social and Economic Laws Governing the Society Transitional Between Capitalism and Socialism

 

Originally published in Peter Hennicke (ed.), Probleme des Sozialismus und der Übergangsgesellschaften, Frankfurt/M. 1973. Translated from German by Iain L. Fraser, January 1974. Published in Critique, No.3, Autumn 1974, pp.5-21. Transcribed & marked up by Einde O’Callaghan for the Marxists’ Internet Archive.

 

 

1. Every socio-economic formation is characterized by a particular set of relations of production. This applies not only to the great historical periods of human history, called modes of production (primitive communism, slave-owning society, the ancient Asiatic mode of production, feudalism, capitalism, communism), but to each particular social formation, in each phase of its development. To deny that a particular social formation has production relations specific to it would be to deny a basic principle of historical materialism.

In the famous passage of the Preface to the Critique of Political Economy in which Karl Marx gives the basic definition of historical materialism, he does not say that it is only in each mode of production that men enter into particular relations of production. He says, on the contrary, that “in the social production of their life men enter into definite relations that are indispensable and independent of their will, relations of production which correspond to a definite stage of development of their material productive forces” (MEW, Vol.13, p.8, Berlin 1961). [1*] From the point of view of historical materialism there can be no society without specific relations of production. That would amount to a society without social production. Thus, from the standpoint of historical materialism, the first step in understanding any social formation, including a transitional society, and, therefore, including also the society transitional between capitalism and socialism, is to reach an analysis of the relations of production which prevail in it and determine it.
 

2. The decisive difference between one of the historically progressive modes of production, one of the great “progressive epochs of the economic formation of society” (Marx), and a transitional society, lies in the different degree of structural stability, or fixity, of the existing relations of production. The difference does not lie in a mode of production having specific relations of production and a transitional society lacking them. The same applies to the transitional society between capitalism and socialism as it formerly applied to the transitional epoch between the slave-owning regime and feudalism (the 4th to 7th centuries in Western and Southern Europe), and to the transitional society between feudalism and capitalism (15th to 17th centuries in the Low Countries, the North Italian cities, and England). All these are cases of not yet fully “established social systems”, to use Walter Ulbricht’s mistaken formula. To return to the old system remains just as possible as the advance to the new one. The victory of the new, higher mode of production is not yet economically safeguarded. It is only politically and socially facilitated.

This becomes especially clear if one looks at the development of the capitalist mode of production. The first great bourgeois revolutions of the 16th and 17th centuries broke the political and social class power of the feudal nobility, which was the chief hindrance to the appearance and growth of capitalism. They did not, however, ensure direct exercise of power by the bourgeoisie. Far less did they ensure the final and definitive breakthrough of the capitalist mode of production as a predominant one. That did not take place until the industrial revolution unfolded all its results. In order to have prevented the victory of the capitalist mode of production, the power of the feudal nobility would have had to have been restored. But to ensure the final establishment of the capitalist mode of production, it was necessary but not sufficient to smash this class power. The reason for this is that the prevailing relations of production in that transitional period were not those of capitalism (i.e. the relations of capital and wage labour in the production process), nor those of feudalism (serf labour, feudal rent, guilds), but those of simple commodity production, as a transition from feudalism to capitalism.

The transitional society is characterized by specific relations of production. These are not simply a combination of the old mode of production which is to be overcome and the new one which is gradually developing. Thus the production relations characterising the society transitional from feudalism to capitalism were not a “combination” of feudal and capitalist modes of production, but the relations peculiar to this epoch: relations of simple commodity production. The mass of producers consisted neither of villeins nor of wage labourers, but of free farmers and free manual workers, producing with their own means of production. Such production relations are different from both those of feudalism and those of capitalism. They are a result of the dissolution of feudalism before capitalism could fully develop in the sphere of production (capital “rules”, but in areas outside production, such as banking and merchant capital).

One could make a similar analysis for the transitional epoch from slave-owning society to feudalism, say from Diocletian’s reforms to the final subjection of the formerly free German settlers and colonists in the western Roman area of rule. This is not the place to work out the parallel in detail. But there is an analogy to be found in the specific development of that transitional society. The political and social power of the slave-owning class is broken. Slave labour is on the decline in the production process. But between prevalent slave labour and prevalent serf labour there intervenes an intermediate phase of semi-free and free peasant labour linked with the emancipation of slaves, which exists while slave production is dissolving to make possible the full development of feudalism. [1]

The problem of the society transitional between capitalism and socialism must be treated according to the same method. The collapse of bourgeois class society (and of the bourgeois state), and the setting up of the dictatorship of the proletariat, create only the possibility of constructing a socialist and then a communist society. They do not ensure this automatically. Consciousness plays a considerably greater part in the socialist revolution, and in the process of constructing a socialist social order, than it did in the development of any earlier historical mode of production. Nevertheless, even here analysis cannot simply abstract from the existing production relations. It cannot regard them as immaterial, as insignificant for the further development of the society, or as secondary in comparison with the factors of “political leadership” and “prevailing consciousness”. To do this is to retreat from historical materialism into historical idealism, and turn Marxism upon its head into a hypothesis based on the assumption that social consciousness determines social being and not vice versa. 

3. At present, we are unable to analyse the production relations specific to the society transitional from capitalism to socialism in an exact way, because we as yet lack the decisive historical material. At this point, we are faced with a similar difficulty as if we were trying to explain simple commodity production on the basis of the economic relations of the cities of Venice or Florence in the 14th century, or the economy of the capitalist mode of production on the basis of the manufacture production in the Low Countries in the 16th century.

All the “models” that we have of the society transitional between capitalism and socialism are characterised by the relative immaturity of their production relations, as are the historical comparative cases of simple commodity production and of capitalism mentioned above. The history of the social sciences for half a century has emphatically confirmed Marx’s assertion that only when the abstraction from the concrete form of labour extended into practice, could economic theory develop a “pure” labour theory of value {Marx: Introduction to the Grundrisse, p.24-25, Berlin, 1953). [2*] Only when we have had actual experience of a mature transitional society between capitalism and socialism will a “pure” socio-economic theory of such a society be possible. What we have experienced hitherto - from the USSR through Jugoslavia to China and Cuba - are transitional societies in conditions of socio-economic underdevelopment (with an insufficient degree of development of the productive forces), which therefore show, in various ways, severe or extreme forms of bureaucratic deformation and degeneration. It is, therefore, at least possible, if not probable, that what today seem to be “general” features of this transitional society are in reality peculiarities having less to do with the internal logic of such a society than with the conditions of socio-economic underdevelopment.

These ideas are relevant to the debate on the social structure of the Soviet Union which has been going on for more than half a century. The historical possibility, or justification, of the socialist October revolution can only be correctly estimated on an international scale. That revolution was historically necessary because the world had been “ripe” for socialist revolution since the height of the imperialist age (since the inclusion of China in the imperialist world market), and because the continuance of the rule of the possessing classes in Russia would have meant the continuance of its integration into the international imperialist system (with all the consequences of that as we know them from the cases of Turkey, Persia, Greece, Spain, Portugal, Brazil and India). However, the forces of production in Russia were not sufficiently developed at the national level to make possible the development of a “mature” transitional society between capitalism and socialism, i.e. one in which production is controlled by the associated producers. The isolation of the October revolution in an economically underdeveloped country (with the resulting compulsion to “primitive socialist accumulation”) thereby produced a whole series of distortions from a more mature model of transitional society which were enormously increased by the peculiar development of the subjective factor (the self-identification of the Communist Party of the Soviet Union with the Soviet bureaucracy, the bureaucratization of the party, Stalinism, etc.).

But the alternative must be seen on both sides. It is a mistake to conclude from these distortions that, even though the economy of the USSR has not been reabsorbed by the imperialist world market and its economic development is still not regulated by the law of value, nevertheless capitalism has already been restored there. The mistake lies in a failure to recognise the historical significance of the October revolution, and to construct, instead of a dialectic between productive forces and production relations, a mechanical identity of both. There then follows an argument after the pattern: “On the basis of the productive forces which exist (then and now!) in the USSR, only capitalism was and is possible”, without going through an exact scientific analysis of the prevailing relations of production. An error essentially identical to this was committed in succession by the Russian Mensheviks, Western European social-democratic Marxists such as Otto Bauer, the adherents of the state capitalism theory who broke with Trotskyist and other oppositional communist movements, and lately the Bettleheim school among the Maoists. 

4. To the extent that one can discover general laws for the existing societies in transition between capitalism and socialism, which are characterised by extreme bureaucratic deformation or degeneration, they would have to be formulated more or less as follows:

After the abolition of private ownership of the means of production and the transition to a socialized, planned economy, and given a certain level in the development of the productive forces, the spontaneous distribution of economic resources among the various branches of production through the law of value (i.e. by deviations from the average rate of profit and by subsequent corrections through inflow and outflow of capital, or economic resources, into and out of these branches) can be superseded. Conscious distribution of economic resources through the plan is now the decisive characteristic of the new production relations. On the other hand, however, exchange value cannot be fully suppressed all at once. The commodity – money relationships survive in the first place because the distribution of the producers’ share in the given consumption fund by means of a general equivalent remains indispensable. This then makes the consumer goods retain the form of commodities with all the corresponding consequences. [2]

This commodity form of consumer goods reacts in its turn both economically and socially on the production relations. The economic order of the society transitional between capitalism and socialism is therefore governed by the conflict of two antagonistic economic logics: the logic of the plan and the logic of the market (distribution of the economic resources according to priorities consciously set by the society, or distribution of these resources according to objective market laws which hold sway behind the backs of the producers). The two sets of laws evidently correspond to two class interests which are in the broadest historical sense antagonistic: the first, the interest of the proletariat, and the second the interests of the bourgeoisie and of the classes and strata working on the basis of private enterprise and private profit.

The main driving force tending to put through the planning principle (which in the last analysis can only fully conquer under the democratic rule of associated producers, as Marx formulated it) is the proletariat’s interest in a maximum economy of the work effort, with a simultaneous increase of self-realisation of its human needs. [3] The main driving forces tending xo the triumph of the law of value are the insufficient level of development of the productive forces (i.e. widespread shortage), the pressure of the capitalist world market, the reactions of the commodity-money relationships on the total organisation of the economy, the consequences of the social inequality connected therewith for the consciousness of the proletariat on the one hand, and the petty-bourgeois intelligentsia and the bureaucracy on the other hand, etc. The production relations specific to the transitional society are thus a hybrid combination of essentially non-capitalist economic planning and the elements of commodity production (with their drive towards private appropriation and private enrichment) which arise from the basically still bourgeois distribution relations. This combination is specific to this social formation and can be reduced neither to regulation of the economy by the law of value (capitalism) nor to regulation of the economy by associated producers under conditions of a withering away of commodity-money relations (socialism). It marks the historical transition from the first social formation to the second, the result of the suppression of capitalism before socialism can fully mature. 

5. Charles Bettelheim has put forward the thesis (subsequent to a formulation by Nico Poulantzas [4]), that the technical integration of the enterprises is not yet possible in the USSR and the other “socialist” states, that this is the reason why the commodity-money relationships survive there, and that, therefore, these relations, though not an unimportant factor for the determination of the class nature and the exact production relations of the transitional society, are in no way the decisive factor for this determination. This thesis is based on a misunderstanding of the Marxist category of production relations, i.e. on their impermissible relocation. Production relations are never simply “technical”. They are not simply relations between men and things, but are always social relations between men. The assertion that without “complete technical integration of all enterprises”, the immediately and directly social character of labour cannot be realised, amounts to putting the reified appearance of bourgeois relations in the place of their social reality. [5] If labour under capitalism does not have an immediately social character, this is not because of a lack of “technical” integration between enterprises. It is because there is private ownership of the means of production; because there is private power of disposal over economic resources by productive units which are independently active and compete with one another; because of the private character of firms and of labour.

Certainly, the overcoming of this private character of labour is also linked to a particular stage of development of the productive forces. By reason of their low technical standard, very small enterprises cannot be socialised efficiently. But in capitalist industry, the objective degree of socialisation is without doubt sufficiently developed for efficient control of production by associated producers. Marx and Engels held this view as long as a hundred years ago, when the degree of objective socialisation of labour in the West was far below its present state in the USSR. The assertion that present day big industry is insufficiently “technically integrated” to guarantee a directly social character of labour, and that the survival of the commodity-money relationships corresponds to this “technical compulsion”, amounts to questioning the objective possibility of socialist revolution and the construction of a socialist society altogether.

If the private ownership of the means of production is overcome, and the economic resources are distributed by a plan on a national (and tomorrow an international) scale, then the immediately social character of the labour employed in the various units of production under these social relations of production is made possible by fiat of the proletariat’s power. The existence of different levels of productivity of labour in the various production units does not change this possibility in any way. The differing productivity of labour in modern industry is only to a vanishingly small degree a function of differing individual or collective levels of work effort (work load) by the producers, and is to a much larger extent an expression of differing production techniques, of differing material means of production put at the disposal of those units. Since it is, however, society that distributes these means of production among those units, it is not evident at all why the workers of the under-equipped units should be punished for the society’s decision by a reduction of their income. If, however, all living labour is measured by its quantitative input only (reducing the skilled labour to simple labour by the use of a set of coefficients) and rewarded irrespective of the different labour productivity of the different productive units in which it is performed, this then expresses the social fact that it is directly recognized as social labour, and that it is not only after the sale of the products it has created (which would then be commodities), and depending on the yield of this sale, that it has this social character recognized fully, partially, or (if sale is not effected) not at all.

6. Bettelheim confuses the power to dispose of the means of production with “full appropriation of all produced goods”. The former concerns investment activities, i.e. the distribution of the economic resources available to society. The latter concerns the forms and degrees of direct acquisition and distribution of goods, which is admittedly connected with the former, but is in no way identical with it. In the USSR and the other Eastern bloc countries, the overwhelming majority of the major investment decisions are taken centrally and not at enterprise level. It is, therefore, false to assert that the social ownership of means of production as an economic category (as distinct from a purely formal and legal one) has already disappeared there. It would only disappear if investment took place at enterprise level, and if enterprises could freely buy and sell machines, according to their own profitability calculations. Incomplete social acquisition of all goods, which can certainly be combined with a socialist planned economy and social ownership of means of production, is not to be explained by a lack of technical integration of the enterprises. Its explanation lies in scarcity phenomena and the objective effects of the commodity-money relationships (which can also go on working in cases of perfect technical integration), and in the lack of social control, i.e. of actual political rule, by the mass of producers.

The fact that many products, contrary to the dictates of the plan, are hoarded and distributed on the black market, and in general escape the net of the planned economy, is made possible because production, distribution and plan are not under constant, open democratic control by the workers, organised in councils and exercising direct public supervision. The system of individual enterprise profitability, already introduced by Stalin (khozraschot), does not correspond to any “technological compulsion” or “insufficient technical integration of the enterprises”, but to a deliberate socio-political option. Because the relations between thousands of productive units no longer run via the market, and because the rule of the privileged bureaucratic stratum is irreconcilable with conscious control, through planned democratic association of self-managing producers (democratic centralisation), the long way round must be taken via an ineffective and top-heavy administrative bureaucratic centralisation. And, in order to attain even a minimum of economic results such a system of management must necessarily rest on the foundation of individual enterprise profitability.

The institution and dogma of individual enterprise profitability are not objective results of the given state of development of the productive forces, but of a social state of affairs: the monopoly of management of the economy and of the state in the hands of a privileged upper stratum; the use of the maximization of private consumption interests of the management bureaucracy as the main motor for the realization of the plan. All these institutions, conditioned by special social interests, could be abolished within the given state of development of the productive forces, and be replaced by forms of organisation and management which correspond to the control of associated producers, producing directly and immediately recognized social labour. [6] 

7. The thesis that capitalism has already been restored in the USSR and other countries of the Eastern bloc, is based on a complete revision of the Marxist concept of capital ism. The capitalist mode of production is based on generalised commodity production, which exists neither in the USSR nor in the other countries of the Eastern bloc. The fact that the official economic “science” of these countries characterises the existing economic order by the absurd formula of “socialist market economy” [7], is just as little proof of the existence of generalized commodity production as the fact that the official capitalist political economy proclaims the equality of all economic subjects under the capitalist market economy is a proof of the existence of such an equality. In both cases, these are obviously ideological theses, not the results of a scientific analysis or of a scientifically checked and proved hypothesis.

In fact, the mass of the big means of production in industry, transport, communications, trade, etc., has no commodity character. They cannot be freely bought and sold by the management units (productive units). Nor is their production and distribution the result of “private” decisions by the enterprises, but of central planning decisions; they are not products of “independently operating private labour” (Marx, Das Kapital, Vol.1, MEW, Vol.23, p.87), i.e. they are not commodities.

The consumer goods industrially produced according to the plan have a commodity form only in as much as they are produced for an anonymous market and must be exchanged against money. They do not have that form in the sense that they are products of private labour. Certainly, the degree of socialisation of labour in the consumer goods sector is smaller than in the producer goods sector. In order not to deviate from the decisive aspects of the production relations in the state sector, we have deliberately left out the problem of combining socialised planned economy with private or co-operative simple commodity production in agriculture and handicrafts, which without doubt complicates even further the hybrid combination of planning, bourgeois norms of distribution and (in the Eastern bloc countries) individual enterprise profitability.

The capitalist mode of production is characterized by particular laws of motion, which in no way determine the dynamics of the Soviet economy. None of these laws can be observed in the history of the USSR over the past fifty years: neither the falling rate of profit nor the to-and-fro flux of economic resources between the branches of production in accordance with the variations of the rate of prof it in these branches, nor the periodic crises of overproduction,-laws of motion which are everywhere constantly confirmed in the whole history of the capitalist mode of production. Still more exactly: the thesis that capitalism] has recently been restored in the USSR after 1956 leads to the conclusion, ridiculous in terms of Marxism, that non-capitalist and capitalist societies could have identical production relations. For it is not hard to see that the production relations in the USSR have not changed in any important respect since 1930-32. It is incompatible with Marxism to assert that there was “socialism” in 1938 and 1949 under Stalin, but “capitalism” in 1958 under Krushchev and in 1969 under Brezhnev, when there has been no change in production relations.

If it is asserted that “capitalist” production relations in the USSR can be deduced from the Soviet proletariat’s lack of power to dispose of the means of production, and from the management technique of Soviet enterprises, (the adoption of capitalist incentive and wage determination methods), then the following answer must be made:

  1. All these characteristics have been present since the introduction of “one-man-management” into Soviet enterprises in 1930. They were at least as widespread under Stalin as they are today, if not more so.
  2. It is impermissible to reduce capitalist production relations to hierarchical relationships inside the enterprise. Among the most fundamental of production relations are the relations that obtain between different enterprises, and between enterprises and labour. These relations are shaped quite differently by generalized commodity production, than they are in a socialised economy.
  3. In the People’s Republic of China the same organisation, labour, and wage forms, are gradually being introduced into big industry. Supporters of the thesis that the introduction of these forms has restored capitalism in the USSR, if they are to be consistent, should therefore conclude that the same process of restoration is in full swing in the People’s Republic of China.
     

8. In reality, the Maoist supporters of this old Menshevik thesis base themselves on an historical-idealist identification of production relations, state power, evaluation of the political “general line” and prevailing ideology. This is standing historical materialism on its head. Since the Maoists declare the revision of Marxism-Leninism in the USSR to be the expression of the triumph of a capitalist ideology, they assert that the “general line” of the state leadership in the USSR is that of a bourgeoisie; therefore the state is a bourgeois state, and therefore the economy is a capitalist one.

Historical materialism demands that the problem be defined in the opposite way. First of all the objective laws of motion of the Soviet economy, or the prevailing production relations and their dynamic, must be scientifically analysed. Then it must be clarified whether there is a capitalist mode of production and a ruling capitalist class. If there are no proofs for the existence either of a capitalist mode of production or of a ruling capitalist class, then the state cannot be a bourgeois state. If, on the basis of this socio-economic analysis, the state is recognized as a deformed workers’ state, - that is, the ruling bureaucracy is recognized as a privileged petty-bourgeois upper stratum of the proletariat and not as a new socially ruling class - then the ideological revisionism and the deviations of the “general line” from the Marxist-Leninist tradition (“deviations” which are obviously at least as evident in Stalin’s time as today) are disclosed not as the expression of a new class rule, but as the expression of the special interests of the bureaucracy and at most as results of objective pressure from social classes and strata which are under the influence of capitalism. To say that the Catholic church in France, after the 1815 restoration, won for its semi-feudal ideology a dominating ideological influence in society is not to say that feudalism was then restored in France as a social system. To say that the trade union bureaucracy is subject to the pressures of petty-bourgeois or sometimes even capitalist ideologies, is not to say that the trade unions are objectively no longer instruments of proletarian class struggle, but have become instruments of the capitalist employers.

If direct rule (exercise of power) by the associated producers is genuinely established, then the transition from first phase communism to communism itself may certainly take place in a gradual and evolutionary manner. But if such rule is not so established, as it is not in the USSR and other state forms similar to it, and if a hardened monopoly in the exercise of power has been formed in the hands of a privileged upper layer, then this must be corrected by a political revolution so that power can be established in, or returned to, the Soviets. This is a political revolution, because the basic non-capitalist production relations are not overturned, but are allowed for the first time to develop fully. (This does not, of course, mean that the transition to the direct exercise of power by the associated producers would not bring with it great changes in the organisation of the economy, especially in enterprise management, in planning, in work organisation, in wage determination, etc.). On the other hand, a social counter-revolution would be unavoidable in order to re-establish a capitalist mode of production and bourgeois class rule in the USSR and the Eastern bloc countries. A gradual restoration of capitalism is excluded simply because the distribution of economic resources over the various branches of industry can be realised neither “simultaneously” through the plan and through the law of value, nor “a bit” through the plan and “a bit” through the law of value. The preconditions for the restoration of capitalism would be on the one hand a new capitalist class forming (there is no capitalism without a capitalist class), and on the other hand the destruction of the resistance of the working class to such a restoration. To assume that these preconditions are already given, is to proclaim one’s own class’s battle lost before it has even begun. 

9. The weakness of the thesis of the restoration of capitalism in the USSR (including that of “state capitalism” [8]) can be seen most clearly in the inability of its representatives for over fifty years to set up any historically confirmed law of development for this peculiar “capitalism”. The advantage of our analysis of the transitional society, on the other hand, is that it puts us in a position at least to sketch out some such laws of motion. Here the exact evaluation of the social nature of the bureaucracy, and its specific place in the production relations of the transitional society, play an important role.

The bureaucracy is neither in the juridical nor in the economic sense of the word the owner of the means of production. It cannot use the control over these means of production, which it monopolizes, for the acquisition of private property, nor for any other specific economic purpose outside the consumption sphere. Its privileges are limited to the extension or conservation of advantages in income and direct acquisition in the consumer goods sector. The assertion that the “collective bureaucracy” represents the “principle” of investment maximization, or of the “maximum extortion of surplus value”, or of the “growth of production for production’s sake”, which would correspond in the Soviet economy to the “principle” of “capital accumulation”, is merely a mystification of the compulsion to accumulation peculiar to the capitalist class, and the capitalist mode of production. This compulsion does not flow directly from the material or technical conditions of big industry or of factory production, but from production relations peculiar to capitalism (and only capitalism).

It is private property, i.e. competition, that conditions the compulsion to reduce production costs, to extend production and technology, and to expand reproduction and accumulate capital. Marx expressly says that without competition, i.e. without “many capitals”, the growth in capitalism would become extinguished. Too low a level of unemployment, it is true, could also lead to a compulsion for capital to reduce employment by massive investments in fixed capital and rationalization, in order to increase the rate of surplus value. But in the absence of competition, this would be a unique occurrence, and once unemployment was restored, it would eventually lead back to relative stagnation. The Soviet bureaucracy cannot in any way be subject to a “compulsion” to accumulation since there is no capital competition there. Still less is the bureaucracy subject to any compulsion to a lasting reconstitution of the industrial reserve army. On the contrary, it “hoards” labour power and has hardly had any significant unemployment since the first Five Year Plan. Why it should be interested in “investment maximization”, therefore, remains a theoretical riddle. [9]

Practice entirely corresponds to these provisional theoretical conclusions. One of the main conflicts, which, for decades, has characterized the Soviet society as a bureaucratically deformed [10] workers’ state, is precisely that between (1) potential optimization of economic growth and use of economic resources which flows from planning and expresses the conditions of production of socialized property, and (2) the actual indifference to such optimization by the individual bureaucrats, whose aims are only those of maximizing their own consumption. Since the economic resources are managed exclusively by the bureaucracy and since there is no broad democratic control of the management by the workers (this is impossible without broad socialist democracy in general), the economic growth remains permanently below the optimum, bringing huge losses or waste with it.

For forty years, the central state and party organs, as representatives of the collective interests of the bureaucracy, have been striving to overcome this contradiction, at least partly. That was the “rational” core both of the Stalinist terror and of the wage differences linked to the bonus system. This is the “rational” core of the Leiberman reforms of yesteryear. But the successive stages of the management reforms or of the management forms of the bureaucracy, are all proofs that optimization of the economy is excluded under bureaucratic management. Every reform of this kind merely replaces one category of contradiction and waste by another.

The fact that the consistent defence of the private interests of the bureaucrats collides with the immanent logic of the socialized planned economy, instead of being congruent with it, is the clearest proof that the bureaucracy is not a new ruling class. In every class society there is a congruence between the private interests of the ruling class and the immanent logic of the given mode of production (slave-owner interests consolidated the slave-owning society; the feudal nobility consolidated feudalism, by defending its own private interests; the capitalist class consolidates the capitalist mode of production, by trying to obtain profit maximization, etc.). The lack of a class ideology specific to the bureaucracy – the fact that it remains incapable of independent ideological production, and has to limit itself to “ideologizing” Marxism, which expresses the class interests of the proletariat, that is to revising and castrating it - is only the reflection of this basic state of affairs of the transitional society in the sphere of social superstructure.

There is, to be sure, an interesting parallel to this special position of the bureaucracy in the society transitional from capitalism to socialism; the position of the officials, the “mandarins”, in the old Asiatic mode of production, e.g. in China. But this parallel case confirms our characterization of the Soviet bureaucracy. The Chinese officials, just like the Soviet bureaucrats, owed their privileges exclusively to their position in the state apparatus and not to their property. Accordingly, they did not form a possessing class. However, since they could not ensure their privileges without possession, they regularly strove towards the acquisition of property in land, so as to rise into the landed gentry. To the extent that they became landowners, they could no longer fulfil the main socio-economic function in the given mode of production - the assurance of agriculture reproduction against, among other things, the landed gentry. They undermined the existing social order and laid the groundwork for a violent peasant rising, which, in the course of a dynastic change, re-established the rights of the peasants, pressed back the gentry, and replaced the corrupt, self-seeking mandarins by officials devoted to the state and to the reproduction of the mode of production – until the cycle started again. Here too, the conflict between private interest and state or management function comes clearly to the fore, confirming that the Chinese officials were effective officials only as long as they did not form part of a possessing class, and could only become part of a possessing class by negating their official function.

The parallel with the Soviet bureaucracy, or with the bureaucracy in the Eastern bloc, can be carried still further. Without doubt there are forces within the bureaucracy which objectively press in the direction of a restoration of capitalism. The demand that more powers be given to the enterprise directors; the demand for the power to dismiss workers; the demand in the context of Leiberman reforms for the power to “negotiate” “free prices” for raw materials and manufactured goods; all these tendencies objectively correspond to a pressure towards putting the law of value back into command.

Can such a tendency of development, however, realise its logical conclusions in the context of state ownership of the means of production? This seems less than probable. Linking the income of the director to the “profit” of “his” enterprise, must lead as a logical consequence to a lasting link of the enterprise to the director, i.e. to the restoration of private ownership. High incomes fromcorruption (especially in foreign trade), the acquisition of bank accounts and property abroad, and the reappearance of a large private sector of the economy (especially in the service sector) with private exploitation of labour power, would be additional factors in such a development. They would all point towards a restoration of classical private property, which alone could guarantee the bureaucrats the security of a new ruling class, not at all towards some mythical “state capitalism” with a “state bourgeoisie”.

In Jugoslavia, after the economic reforms of 1965, the tendencies in this direction were much further advanced than in the USSR, Hungary or Rumania. But, as we had predicted, what followed was their unavoidable collision with the planned economy, with social ownership of the means of production, with the elements of worker self-management which exist in Jugoslavia, and with the forces of the state and party bureaucracy which are linked to this mechanism. The working class, too, which in Jugoslavia is more independent than in the other Eastern bloc countries, actively intervened in this process, and clearly did so against the privileged and restorative groups. This confirms that a gradual restoration of capitalism “on the quiet” in the Eastern bloc is not possible, and that it is the living conflict of social forces, national and international, which will decide the outcome of this process. 

10. Provided there is no privileged bureaucracy monopolizing power and management, or after such a monopoly has collapsed, a transitional society may grow into a socialist society. Such a growth requires in principle the simultaneous operation of six factors:

  1. The growth of the productive forces, of the standards of living, qualifications and culture of the workers, which overcomes the objective conditions of the social division of labour between managers and managed, and which by a radical shortening of the working day, among other things, gives the immediate producers the material possibility of self-management in the state and the economy;
  2. Worker self-management, which is not exclusively or mainly limited to enterprise level. An articulated worker self-management of general assemblies, workers’ councils, and democratically elected local, regional, national and international congresses of workers’ councils (with revocability of delegates, prescribed rotation, and large majorities guaranteed to members who are directly occupied in production); in which the associated producers freely plan production on the basis of various plan alternatives, determine priorities in the satisfaction of needs, and decide the extent of postponed consumption (“socialist accumulation”).
  3. Political council democracy with full political freedom within the framework of the socialist constitution, (freedom of organisation, including different political parties, freedom of the press, freedom of demonstration, right to strike, etc.) in order to guarantee in practice a democratic process in which to choose between plan alternatives, priorities and postponed consumption. With the present high degree of centralization of the productive forces (objective socialisation of labour), self-management which is limited to the enterprise or to the economic level does not allow the actual power of disposing of the social surplus product to lie in the hands of the workers, i.e. it does not permit any real deproletarianization process. This can come about only by the direct exercise of political and economic power by the working class. A democracy of workers’ councils also means the beginning of the “withering away of the state”, by handing over more and more spheres of administration to direct democracy -i.e. the immediate self-management of those concerned;
  4. Development and deliberate furtherance of the withering away of the commodity-money relationship. A growing number of services and consumer goods will be distributed according to the principle of satisfaction of needs and not in exchange for money. The radical reduction of income differentials works in the same direction.
  5. Development and deliberate furtherance of a continuous revolution in daily habits, morals, ideology and culture, by which means the tendencies of the individual “struggle for existence”, of individual enrichment and egoism are systematically pressed back, and the driving forces of voluntary co-operation and solidarity are promoted, not by state pressure, but by persuasion, education, and, above all, by the altered social conditions, through example and experience in day today life;
  6. Orientation towards, and furtherance of, the international development of the revolution, which alone in the last analysis is capable of creating the necessary preconditions for a successful conclusion to the process of constructing a socialist society, by extending the international division of labour and removing of the pressure from the surrounding capitalist world (including the compulsion to arm).

These processes cannot be looked at separately from each other. It is, above all, erroneous to take one or some of them and regard it or them as solely decisive. The basis of Khrushchev’s revisionism was the conception that only the development of the productive forces was decisive, and that it would automatically create new production relations. Mao’s revisionism rests on the assumption that political leadership and “cultural revolution” are decisive; it fails to realise that on the basis of an insufficient development of the productive forces, social reality as the main source of the education of the “socialist man” must remain ineffective. Growing productive forces with growing commodity-money relationships can in fact move a society farther from the socialist goal instead of bringing it closer. But increasing abolition of the commodity-money relationships without sufficient growth of the productive forces decays into rationalisation of scarcity, which in turn moves socialism farther off, both objectively and subjectively.

Worker self-management without the political democracy of workers’ councils can, especially in combination with “socialist market economy”, raise new objective and subjective barriers on the road to socialism. But even worker self-management and political council democracy will not automatically produce a new attitude towards society and towards-work. Conscious intervention of the “subjective factor”, i.e. education and a permanent cultural revolution, are ‘indispensable for that. In order to be effective, however, these must be able to rest on a rapid growth of the productive forces, which can make possible in practice an extension of distribution according to the principle of satisfying need, and a withering away of the commodity-money relationships (without which the private sphere of enrichment and alienated labour cannot wither away).

We can summarize laws of the society transitional between capitalism and socialism by stating that, in the last analysis, it is a matter of creating the necessary economic, political, social and cultural preconditions for the withering away of commodity production, of money, of classes, and of the state, i.e. the construction of a classless society: “Socialism is the abolition of classes” (Lenin).


Footnotes

1. See on this inter alia, from a non-Marxist point of view, Bloch’s La Societe Feodale, and from the Marxist side, the discussion between the Soviet authors E.M. Shtaerman and S.I. Kovaliev. Friedrich Engels expressed the same viewpoint in the Origin of the Family, Private Property and the State.

2. Among other things the consequence of unsaleability, of overproduction, of non-realisation of their exchange-value.

3. We do not, of course, use the notorious Stalinist formula of the “unlimited rising need”, which in reality implies the impossibility of communism. One can formulate the law that from a particular stage of saturation and from a particular cultural level onward, the need for additional material goods rapidly declines, the needs grow more and more in the direction of self-realisation of the personality (i.e. the possibility of creative activity) and in the direction of further development of social and human relationships.

4. Nico Poulantzas distinguishes in his book Pouvoir Politique et Classes Sociales between technical and social relations of production.

5. See inter alia Charles Bettelheim, Calcul Economique et Formes de Proprieté (Paris, Maspero), and also his correspondence with Paul M. Sweezy, On the Transition to Socialism (New York, Monthly Review Press).

6. Contrary to the reproach which Bernard Jobie directs against us (La revolution culturelle et la critique de l’economisme, in Critique de l’Economie Politique, No.7-8, April, September, 1972), we in no way support the view that planned economy “by itself” implies socialist production relations. What we emphasize is rather the fact that planned economy represents production relations specific to the transitional phase from capitalism to socialism. - The rejection of the dogma of “individual enterprise profitability” does not entail a rejection of the most exact cost accounting. On the contrary: it is only when the accounting is separated from material income and consumption interests and placed under open, democratic social control, that it can develop objectively, irreproachably and completely. Workers’ councils, which no longer have any kind of interest in the “hoarding” of supplies or in systematic under-evaluation of production capacities, because their income is no longer directly bound up with any sort of “plan fulfilment”, will not practise such extravagances but will radically eliminate them because they imply additional work requirements, or additional postponed consumption, in which workers’ councils can have no interest.

7. Marx in his Critique of the Gotha Programme expressly emphasized that even in the first phase of communism, the phase of actual socialism, commodity production no longer occurs: “Within the co-operative society, based on common ownership of the means of production, the producers do not exchange their products; just as little does the labour employed on the products appear here as the value of these products, as a material quality possessed by them, since now, in contrast to capitalist society, individual labour no longer exists in an indirect fashion but directly as a component part of the total labour. The phrase “proceeds of labour”, objectionable also today on account of its ambiguity, thus loses all meaning. What we have to deal with here is a communist society, not as it has developed on its own foundations, but, on the contrary, just as it emerges from capitalist society; which is thus in every respect, economically, morally and intellectually still stamped with the birth marks of the old society from whose womb it emerges”. (MEW, Vol.19, p.19-20). [3*]

8. There are, to be sure, some representatives of the thesis that state capitalism prevails in the USSR who avoid the difficulty by asserting that “state capitalism” is a different mode of production from “private capitalism”. They are, however, incapable of analysing any key laws of motion of this “mode of production”.

9. Many supporters of this thesis assert that “foreign competition” compels investment maximization. If this means competition in commodity production on the world market with the imperialist countries, this thesis is nonsense: such exchange of commodities involves less than 1% of the Soviet gross social product. How this is supposed to bring about a general compulsion to “investment maximization” remains obscure. If it is “military competition” that is meant, then the only objective compulsion would be more in the direction of growth optimization than in that of an “investment maximization”, which is both militarily, politically, and economically ineffective.

10. After 1920, Lenin coined the formula that Soviet Russia was a bureaucratically deformed workers’ state. 


Notes

1*. Marx and Engels, Selected Works, p.181 (Lawrence & Wishart, London, 1970).

2*. Karl Marx, The Grundrisse, pp.103-105. (Penguin Books, London, 1973).

3*. Marx and Engels, Selected Works, p.319 (Lawrence & Wishart, London, 1970).

 

Statement on Cuba by Executive Bureau of the Fourth International

In view of the popular mobilizations in Cuba

and imperialist aggressions

 

 

- End the imperialist economic blockade of Cuba now!

- For a free and sovereign Cuba

- Down with imperialist interference in Cuba!

- For socialist democracy in Cuba!

On July 11 we witnessed protests driven by the tremendous shortages that Cuba has been suffering since Trump placed it on the list of terrorist countries, cutting off remittances from the US to the island, worsened by the pandemic and the loss of income from tourism.

This is taking place on an island that has to import a large part of what it consumes, without any international support (the enormous difficulties that Venezuela is going through have also had a negative impact on Cuba), something that in some respects is reminiscent of the worst times of the “special period”. This blockade also impedes the production of Covid-19 vaccines for Cubans, and this despite the aid that Cuba has given to other countries during the pandemic.

This is compounded by a deep-seated malaise on the island: social differentiation has greatly increased over the last thirty years, while the government has sought to attract foreign investment, the tourism sector has developed, allowing for an increase in private initiative employing wage labour. In a situation of scarcity of goods, unequal access to US dollars has further amplified inequalities, which have nevertheless remained much lower than in countries that have restored capitalism, such as China, Vietnam and the former Eastern European bloc. A large local capitalist sector able to exploit wage labour has not developed in Cuba. The local capitalist sector is certainly growing, but not to the same extent as the countries mentioned above. The 2019 amendments to the constitution made it clear that there are still legal barriers to the free development of the capitalist sector, in particular the limitation on the number of wage earners the local capitalist sector can hire. 

In addition to the worrying effects of increasing inequality, the blockade and the increase in domestic production to meet the needs of the population; there is the development of evangelical religious sects that put pressure on the government to limit, for example, the full recognition of LGBTQI+ rights.

It is also worth mentioning the activity of new generations, closely connected to global social networks, in the midst of which a new generation of artists developed, who do not feel at all concerned by the legacy of the revolution. At the same time, an important part of the previous generation that participated directly in the revolutionary process of the 1960s and 70s is dying out.

This cocktail is exploding in a context in which the government has very little room for manoeuvre to mitigate the short-term effects of scarcity and great resistance to opening a democratic decision-making process that would re-engage the new generations (the constituent process was an attempt in this direction, but it has clearly been insufficient). By favouring bureaucratic methods, the government is making no effort to increase workers’ participation, in particular for the development of workers’ control in enterprises and citizens’ control in society.

This explains the recourse to repression and mobilization of the sectors that remain loyal to the government, in order to stop the protests and try to recover at least a certain amount of tourist income during the summer season, which would give them room for improvement in order to combat certain aspects of popular disaffection. President Miguel Díaz Canel’s speech on Sunday 11 July, following the wave of protests that have affected more than a dozen cities across the country from east to west, is not an adequate response to the situation. Although Díaz Canel acknowledged that a large part of the demonstrators were genuinely concerned about the hardships of life, he did not make any self-criticism of his handling of the situation and only emphasized the manipulations of the counterrevolutionary sector - which is clearly in favour of US intervention - which must be condemned. The government’s call to revolutionaries to mobilize on the streets in response to the threats of the counterrevolutionaries risks provoking clashes and increased repression.

We cannot separate the protests in Cuba from what is happening in other Latin American countries where the high cost of living aggravated by the pandemic and ultra-liberal measures, is, with different motivations, behind social outbursts like the recent Colombian movement, or those in Ecuador and Chile in 2019. The pandemic has undoubtedly exacerbated all social contradictions internationally and in Latin America in particular, leading to growing social exclusion and increasing inequalities. Despite exemplary health care in many respects, Cuba is also unable to escape the most perverse economic and social effects of the global crisis and the pandemic. However, rising social resistances in Latin America, in confronting imperialism’s economic and political plans for the region, work in favour of breaking Cuba’s isolation and maintaining its political independence.

Unfortunately, important sectors of the left do not make any critical analysis of the situation in Cuba, the deterioration of its political system and the despair of the younger generations. On the contrary, we see in many countries an uncritical closing of ranks in which everything is a conspiracy of imperialism, where the legitimacy of popular mobilization is not recognized and is attributed exclusively to “agents of imperialism”. It is obvious that imperialism seeks to interpret the meaning of social protests in its interests in the different international conflicts of an increasingly convulsive world, particularly in a country that stands as an example of sovereign resistance for the whole region… And that it does so increasingly by intense campaigns on social networks, through which it tries to steer social discontent from the outside, in order to channel it towards the bringing down of the Cuban government. But to say that it is all the product of the interference of the great powers is far removed from the complex and contradictory reality. In addition, this response dismisses the participation of the popular sectors in social conflicts, as if everything were a chess game to which the people are never invited and where they are considered to be a kind of minors incapable of recognizing and defending their own interests.

Although the situation is complex and contradictory, we of the Fourth International, which from the earliest times has unconditionally supported the Cuban Revolution, defend some fundamental ideas:

-First, we condemn and demand an immediate end to the illegal and inhuman blockade to which the Cuban people are subjected.

- We call for solidarity mobilizations to alleviate the situation of shortage of basic products suffered by the island and to oppose the blockade decreed by the USA.

-We demand that the Biden Administration remove Cuba from its list of countries that harbour and favour terrorism, which is essential, for obvious reasons, to alleviate the country’s economic situation. We reject the threats of intervention with which Biden seeks to encourage the Cuban ultra-right abroad and the most reactionary Republican sectors.

- We denounce the international mainstream media campaign that falsely claims that the entire Cuban people are rising up against the government and that the government would respond with great brutality, while the mainstream media have turned a blind eye to the much more violent anti-people repressive forms of repression used in countries like France during the Yellow Vests movement in 2018-2019, in the United States during the Black Lives Matter protests in 2020, or in Colombia in 2021, to name but a few examples from a long list.

-We demand that the Cuban authorities respect the democratic right to protest, the development of independent social movements, political pluralism and democratic debate, the only way to prevent the Revolution from ceasing to be an example for the peoples of Latin America and the world.

-We call for the truth about the conditions of detention and repression in order to stop the abuse of force and bring to justice those responsible for cases of abuse.

-We call for the immediate release of those arrested in the 11 July demonstrations, provided that they have not committed actions that have threatened the lives of others.

-We defend a sovereign, independent Cuba with real democratic-popular participation of the workers in the destiny of the island. For a socialist and democratic Cuba.

 

21 July 2021

Executive Bureau of the Fourth International

কিউবা প্রসঙ্গে র‍্যাডিক্যাল সোশ্যালিস্টের বিবৃতি

 

সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা করুন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে দাঁড়ান, যে সব রাষ্ট্রীয় নীতি সংকট বাড়ায় সেগুলি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন

 

১৯৯২ সাল থেকে, কিউবা প্রতি বছর রাষ্ট্রসংঘের সামনে মার্কিন আরোধ শেষ করার দাবী এনেছে, এবং প্রতিবছর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ সেটা সমর্থনও করেছে। সবসময়ে নীরব থেকেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর তার ঘনিষ্ঠতম সহচর ইজরায়েল। এই আবেদন কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করে না। মাসখানে আগেই এবছরও এটা আনা হয়েছিল, এবং ১৮৪ ভোট পক্ষে পড়েছিল, ২টি বিপক্ষে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল) আর তিনটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে (কলম্বিয়া, ইউক্রেন আর সংযুক্ত আরব আমীরশাহী)।

বছরের পর বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিউবাতে ‘গণতন্ত্র’ ও ‘স্বাধীনতা’ র জন্য লড়াই করার অজুহাত দিয়ে চলেছে, অথচ তারা এমন এক অবরোধ চালিয়ে গেছে, যা তারা যে মানুষগুলোকে নাকি মুক্ত করার কথা তুলে থাকে তাদেরই অভুক্ত রেখে দিচ্ছে। এই দাবীটা গত এক সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসের দুপক্ষের রাজনীতিবিদরাই আবার করে তুলেছে। ১১ জুলাই এক প্রেস কনফারেন্স ডেকে মায়ামির মেয়র ফ্রান্সিস সুয়ারেজ আহ্বান করেছে, মার্কিন নেতৃত্বে কিউবাতে এক আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ হোক।

ভারতীয় বামপন্থীদের বৃহদাংশের কাছে তথাকথিত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রদের বিরুদ্ধে যে কোনো সময়ে, যে কোনো প্রতিবাদই অন্যায্য এবং সাম্রাজ্যবাদের তৈরী। এটা স্তালিনবাদের মৌলিক ধারণা থেকেই আসে। কিউবার ক্ষেত্রে, ভারতীয় স্তালিনবাদীরা সমগ্র দায় রেখেছে সাম্রাজ্যবাদের উপরে, যে কাজে তারা কিউবার কমিউনিস্ট পার্টিকেই অনুসরণ করছে।

নিঃসন্দেহে দীর্ঘমেয়াদী দায়ের সিংহভাগ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের উপরেই পড়বে। কিউবারে এবারের প্রতিবাদ ঘটেছে বিগত ত্রিশ বছরের সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে। গত কয়েক মাস ধরে ভিডিও ঘুরেছে সোশ্যাল মিডিয়াতে,যেখানে দেখা গেছে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঘাটতির ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করছে,খাদ্যের জন্য লম্বা লম্বা লাইন পড়েছে, এবং অতিমারীকে সরকার যেভাবে মোকাবিলা করতে চাইছে তার প্রতি অসন্তোষ আছে। অতিমারির বিশ্বে অবরোধের প্রভাবে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিকতম প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে  ২০১৯-এর মার্চ থেকে ২০২০-র মার্চে মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ কিউবার অর্থনীতির ৫.৫৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি করেছে। অতিমারী যত পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ফল তত মারাত্মক হতে বাধ্য।। এই কথা বিশেষ করে বলতে হবে, কারণ দেশের প্রধান শিল্প হল পর্যটন, এবং সেই ক্ষেত্রটি ভীষণভাবে আঘাত পেয়েছে। দেশের মোট আভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমেছিল ১১ শতাংশ। ব্যবসা এবং রেস্তোঁরাগুলি বন্ধ, ফলে বহু কিউবান এখন কাজ পাচ্ছেন না। সেপ্টেম্বরের মধ্যে টিকাকরণ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে, কিউবার এই পরিকল্পনা ধাক্কা খেয়েছে কারণ ইঞ্জেকশনের ছুঁচ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার ফলে যথেষ্ট পরিমাণে  উৎপন্ন হয় নি।  

কিন্তু এখানে থেমে যাওয়ার অর্থ হবে, কিউবার কমিউনিস্ট পার্টি যা করেছে তার সবকিছুই নিঃশর্তে মেনে নেওয়া। কিউবার বিপ্লবের প্রতি সমর্থনের মানে এই না, যে বর্তমান (বা পূর্বতন) নেতৃত্বের ভূমিকা সম্পর্কে নীরব থাকা। কোনো আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রযন্ত্র, যা কেবল জনগণকে ‘সংগঠিত’ করতে চায়, কিন্তু প্রতিবাদী কন্ঠদের রোধ করে, তার পক্ষে সাম্রাজ্যবাদের চাপ সহ্য করা সম্ভব নয়। ভূতপূর্ব রাষ্ট্রপতি রাউল কাস্ত্রো সরকার যে উদারীকরণ প্রক্রিয়া আরম্ভ করেছিল, সেটা এখন দিয়াজ-ক্যানেল সরকারের তত্ত্বাবধানে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি, এবং সরকারের ভাষায় ‘অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি ও বিনামূল্যে পরিষেবা’ কেটে বাদ দেওয়ায় জনগণের উপর এক কঠোর ব্যয়সংকোচ নীতি চেপে বসেছে। এটা শুরু হয়েছে ১ জানুয়ারি থেকে ডলারের সঙ্গে বিনিময়যোগ্য পেসো বন্ধ করে দেওয়া এবং পেসোর দাম ২৪ পেসোতে ১ ডলার করে বেঁধে দেওয়া থেকে, যার ফলে মুদ্রার ২৪০০ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়েছে। অন্যদিকে, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এবং ব্যক্তিগত ক্ষেত্রকে (অর্থাৎ কয়েক ডজনের বেশি না, এমন অল্প মানুষকে নিয়োগ করে যে ছোটো ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা, তাদের ) সতেজ করে তুলতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই সব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ৫০০টির বেশি প্রকল্প যা প্রধানত ভ্রমণশিল্প ও খনিজ তেলের ক্ষেত্রে “সুবিধার পোর্টফোলিও” আনার আশা প্রকাশ করেছে, যাতে নাকি ১২ বিলিয়ন ডলার আনবে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ঘোষণা হল যে ভ্রমণ, বায়োটেকনোলজি এবং পাইকারী ব্যবসাতে রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক থাকবে, এই ব্যবস্থার অবসান। 

যে প্রতিবাদগুলি দেখা দিয়েছে তা ভালমন্দ মেশানো এবং এখন অবধি বেশ সীমিত। কিন্তু সরকার তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল, ঘোষণা করল সবটাই সাম্রাজ্যবাদের মদতপুষ্ট। প্রেস কনফারেন্সে দিয়াজ-ক্যানেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিন্দা করলেন, সমস্ত প্রতিবাদীকে প্রতিবিপ্লবী বলে চিত্রায়িত করলেন এবং ‘বিপ্লবীদের’ আহ্বান করলেন রাস্তায় নেমে ‘বিপ্লবকে রক্ষা করতে’। অবশ্যই আমরা দক্ষিণপন্থীদের, চার্চকে এবং ‘পাত্রিয়া ই ভিদা’ আন্দোলনকে প্রত্যাখ্যান করি। এরা কিউবার পরিস্থিতির ফলে যে ক্ষোভ দানা বেধেছে, সেটাকে পুঁজি করে কিউবার বিপ্লবের অর্জিত অধিকারগুলি মুছে ফেলতে চায় এবং ধনতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চায়। কিন্তু এটাই পুরো গল্পটা নয়। প্রতিবাদগুলি শুরু হয়েছিল শান্তিপূর্ণভাবে, কিন্তু প্রায় প্রতিটি প্রতিবাদ-বিক্ষোভই শেষ অবধি হিংসাত্মক ঘটনা দেখেছিল। আর সেই কাজটা কিন্তু দুপক্ষই করেছিল। আর,একই সময়ে একের পর এক শহরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দেখা দিয়েছিল, এটা সমাজতন্ত্রী কিউবাতে অভূতপূর্ব। ঘটনাগুলি বোঝার সময়ে এই কথাটাও মনে রাখতে হবে।

 ১১ জুলাই কিউবাতে কী ঘটেছিল, তার তিনরকম ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সরকার দাবী করেছে, এটা ছিল প্রতিবিপ্লবীদের সঙ্গে কমিউনিস্টদের সংঘাত। বুর্জোয়া প্রচারমাধ্যম পৃথিবীজুড়ে বলছে এটা ছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে নিপীড়িতের বিদ্রোহ। আবার কেউ কেউ বলেছেন, এটা ছিল অবক্ষয়ী আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিপ্লবী শ্রমিক শ্রেণীর উত্থান। বাস্তবে ১১ জুলাইয়ে এই তিনটি বাখ্যারই কিছু কিছু উপাদান দেখা যায়। মার্কিন অর্থপুষ্ট প্রতিবিপ্লবী সংগঠনরা কমিউনিস্ট পার্টিকে আক্রমণ করেছিল। কিছু বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী, যাঁরা মনে করেছেন তাঁদের নাগরিক অধিকার ভীষণভাবে সংকুচিত, তাঁরা সেন্সরশীপের সামনে পড়ছেন, তারাও প্রতিবাদ করেছেন। আর শ্রমিক শ্রেণীর সদস্যরা দাবী করেছেন, সরকার তাঁদের জীবন যাপনের অবস্থা ফেরাক। কিন্তু যদিও প্রতিবাদীদের ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ ওই তৃতীয় পর্যায়ে পড়েন তবু এঁদের কোনোভাবে এক সচেতন সমাজতন্ত্রী জনতা হিসেবে দেখা যাবে না, যারা  এক স্থবির আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে আরো সমাজতান্ত্রিক দিকে যেতে চাইছেন।  

প্রতিবাদের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ

·        অধিকাংশ প্রতিবাদীই কোনো প্রতিবিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না। প্রতিবাদগুলি প্রতিবিপ্লবীদের নেতৃত্বে ঘটেও নি।

·        প্রতিবাদীদের মধ্যে ব্যাপক সংখ্যক যে তরুণ ছিলেন, সেটা দেখায়, সরকারের ন্যায্যতা মানুষের চোখে কমছে।

·        প্রতিবাদগুলি প্রাথমিকভাবে দানা বেধেছিল শ্রমিক মহল্লাতে, যেখানে সামাজিক সমস্যা সবচেয়ে বেশী। আজকের কিউবার সমাজে সামাজিক অসাম্য একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা। দারিদ্র, সামাজিক অবহেলা, সামাজিক নীতিদের অনিশ্চয়তা, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে খাদ্য ও অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহের সীমাবদ্ধতা এবং নিম্নমানের সাংস্কৃতিক নীতি এই সব প্রান্তিক ও নিম্ন-আয় মহল্লাগুলির জীবনের বৈশিষ্ট্য।

·        প্রতিবাদ কোথাও সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পায় নি। কিউবার জনগনের বড় অংশ এখনো সরকারকেই সমর্থন করেন।

·        প্রতিবাদগুলিতে প্রায় কোনো সমাজতন্ত্রী স্লোগান ছিল না।

·        অল্পসংখ্যক বুদ্ধিজীবী প্রতিবাদগুলির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিন্তু অবাধ মতপ্রকাশের দাবী, সেন্সরশীপ ছাড়া অবাধে শিল্প সৃজনের দাবী সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যে সাড়া জাগায় নি কারণ তারা চাইছিলেন জীবনজীবিকার মৌলিক উন্নতি।

·        হাভানার শান্তিপূর্ণ মিছিলের বিকৃতি ঘটিয়ে লুঠ ও ভাঙ্গচুরের জন্য দায়ী লুম্পেনরা

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোশ্যাল মিডিয়া মারফত আসা প্রতিবিপ্লবী প্রচার অবশ্যই একটা ভূমিকা পালন করেছিল, কিন্তু এইগুলি প্রতিবাদের জন্ম দেয় নি।    

 

সামনে এগোনোর পথঃ

বিপ্লবকে রক্ষা করা আর রাষ্ট্রে গভীরভাবে গেঁথে থাকা কমিউনিস্ট পার্টির আমলাতন্ত্রকে রক্ষা করা সমার্থক নয়পুঁজিবাদীদের উচ্ছেদ করার দিকে শ্রমিক শ্রেণী যে অগ্রগতি ঘটিয়েছেন তাকে রক্ষা করা। সাম্রাজ্যবাদ বিপ্লবদের উল্টে দিতে পারে। কিন্তু একদলীয় পার্টি-রাষ্ট্রের আমলাতন্ত্ররাও বিপ্লবদের প্রতি অন্তর্ঘাত করতে পারে যার ফলে ধনতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হতে পারে।   

যারা কিউবার বিপ্লবের অর্জিত জয়গুলি রক্ষা করতে ও তাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে লড়াই করছেন, আমরা তাঁদের স্বাধীনভাবে মিছিল করার, ইউনিয়ন গঠন করার অধিকারের পক্ষে ।

যে কোনো রাজনৈতিক বন্দী তিনি যদি  অন্য কোনো মানুষের জীবন বিপন্ন না করে থাকেন, তবে তাঁদের প্রত্যেকের অবিলম্বে মুক্তি দাবী করি।

সামনে এগোনোর একমাত্র পথ হল গণপ্রতিরোধে অংশ নেওয়া, তার মধ্যে স্বাধীন সমাজতন্ত্রী কর্মসূচীর পক্ষে মত রাখা, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এবং প্রতিক্রিয়াশীলদের সরকার উচ্ছেদের প্রয়াসের বিরোধিতা করার সঙ্গে সঙ্গে জনগণের প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ কায়েম করার জন্য লড়াই করা এবং উপর থেকে আমলাতান্ত্রিক শাসনের প্রবক্তা হতে অস্বীকার করা।

১৯ জুলাই ২০২১

Does solidarity with Palestine equal ‘anti-Semitism?’

By COOPER BARD

Let’s not confuse the issue. What is happening in Palestine is not a conflict that exists between “Islam and the West” or between “Judaism and Islam.” It is a conflict between oppressor and oppressed—a conflict between a settler-colonial state engaging in ethnic cleansing, and the people whose land they are stealing. When the Israeli Defense Force deliberately targets hospitals and civilian homes, and the Israeli government actively encourages Jewish settlement on lands recently stolen from Palestinians who are told to demolish their own homes, this couldn’t be more clear. For over 70 years, Palestinians have been fighting for their freedom.

Unfortunately, Zionists and their allies (including real anti-Semites) will deliberately foster the notion that the free Palestine movement is anti-Semitic (anti-Jewish)—for different purposes, of course. Movement activists need to discredit the lie that Israel defends Jews, and therefore that countering Israeli policy is inherently anti-Semitic. Dismantling this falsehood is important for achieving Palestinian liberation; at the same time, it necessitates combating anti-Semitism whenever it flares up around the world.

Anti-Semitism must not be tolerated

Agitators have and will come to Palestine solidarity rallies and meetings with the intention of exploiting justified anger against mass murder and turning it into “anti-Semitism.” They try to catch the movement off guard, occasionally taking poorly conceived statements out of context and then publishing the “evidence” far and wide. Sometimes they go much further in their actions, such as accusing Palestine supporters of seeking a second Holocaust.

The “anti-Semitism” label was recently employed against the Palestine solidarity movement by Senators Joe Manchin (D-WVa.) and Marco Rubio (R-Fla.), who reintroduced legislation that would effectively allow state and local governments to implement laws targeting firms that boycott Israel. “The boycott, divestment, and sanctions movement is the single most destructive campaign of economic warfare facing the Jewish state of Israel today,” said Rubio. “Amid a rising tide of anti-Semitism, it’s critical that we stand shoulder to shoulder with our closest democratic ally in the Middle East.”

Of course, real anti-Semitism must be crushed wherever it rears its ugly head. Anti-Semitism is designed, like all forms of racism and prejudice, to divide the working class. The longer that Jewish workers are fooled into thinking Palestinians are their enemies, and the longer that some Palestinians put blame on Jews in general, makes it longer until they realize that their common enemy is capitalism. This works to the benefit of the Israeli capitalists and their sponsors in the United States and other imperialist countries.

This is the same dynamic that white supremacy plays in the United States, and it is thus no surprise that Trump rallies fly the flag of Israel, while Black Lives Matter rallies have often embraced the cause of the Palestinians. Many U.S. police and border patrol agents receive training from Israeli security experts or receive training directly in Israel. The same methods of police terrorism are applied globally, and therefore it is easy for both BLM activists and Palestinians to see that their oppression takes similar forms. The racists and anti-racists alike are well aware of their allies and enemies.

Israel will not protect Jews from oppression

One of the reasons used to defend the existence of Israel (by arch-Zionists as well as by supporters of a “two-state solution”) is that Jewish people, being persecuted globally, need a homeland of their own, an ethnic Jewish state for their own protection. Never mind that to secure this Promised Land requires theft from the Palestinian people, with their persecution and murder.

For one to believe that Jewish people require a hermetically sealed special box for their protection is to cede to global racism a massive victory. But shouldn’t oppressed peoples have the right of self-determination? Yes, absolutely, but this doesn’t justify Israel. As the 1971 Socialist Workers Party resolution on Israel and the Middle East explained:

“The situation of the Israeli Jews is essentially different from that of Jews in other parts of the world. The struggle against anti-Semitism and the oppression of Jews in other countries is a progressive struggle directed against their oppressors. In some circumstances the demand for self-determination for oppressed Jews, directed against the oppressor nation, could become appropriate. Thus the Bolsheviks under Lenin and Trotsky recognized the right of the Jews in Russia to set up a state on their own territory, if they wished. However, the oppression of Jews in other countries does not justify the creation and maintenance of the existing Israeli state at the expense of the Palestinians, who were not and are not responsible for the oppression of the Jews. There, the situation is the reverse. The Israeli Jews form an oppressor nationality of a settler-colonial character vis-a-vis the Arab peoples. The Israeli state is the means by which this oppression is maintained.” [1]

Israel does nothing to halt the oppression of Jews worldwide. If anything it intensifies it, by allowing an opening for the anti-Semites to declare that “the Jews,” as a group, are oppressing people. As Israel privileges Jews more and more at the expense of the civil rights and autonomy of other peoples, this racism only feeds more racism.

Moreover, Zionism implicitly relies on the existence of anti-Semitism to justify itself. As long as Jews in Israel perceive that they are surrounded by enemies, and that they are powerless to make common cause with oppressed people in the Middle East, the suggestion is reinforced that the only solution is to continue the settler-colonial project. This idea encourages a xenophobic fortress mentality on the part of Jewish citizens of Israel, who feel obliged to defend themselves from a hostile world that intends to destroy them as a people.

However, the target of the Palestinian movement is not Jewish people but the state of Israel. Some well-meaning people may believe that the only viable means to do so is to hoist the Jews off the land once stolen. But this is not a goal expressed by most forces of the free Palestine movement and its supporters worldwide.

Zionism leads Jews away from the class struggle

In the history of labor struggles and social movements, particularly before World War II, Jewish people were at the forefront, and made up a large portion of socialist forces. This was true in both the United States and Europe. It is no surprise that with the emergence of fascism in Germany and other countries, Jews became a specific target of persecution.

Fascism, as a dictatorship of capitalists guaranteed by gangsterism*, has as a high priority the annihilation of socialist forces. In the 1918 revolution, before the rise of Hitler, the German proletariat came very close to overturning capitalism, and they had chances again in 1923 and 1933. The association of “Jews” with “Bolshevism” became a ringing point of fascist propaganda. Jews were, of course, not the only victims of the Holocaust, and the slaughter of a number of class fighters and a majority of Jews helped German capitalists eliminate any memory of the proletarian class struggle in Germany.

After this abomination, Zionism came to the forefront, supported by U.S. and British capitalists. They supplied money, arms, and willing settlers to the burgeoning colonial state of Israel. They did not, of course, do this out of the kindness of their hearts or out of any sense of guilt for persecution happening in their own countries. The existence of Israel provided a beachhead, and a very valuable one, for securing U.S. and British interests in the Middle East. They continue to provide arms (including material for nuclear weapons) and other aid to Israel for this purpose and no other. It is a great evil of history that one mass killing is used to justify another.

Zionism leads Jewish working-class people into a racist trap, one which, as mentioned, helps perpetuate capitalism and colonialism by pitting them against Palestinians, as well as the whole Arab world. In reality, Jewish working people have their real allies in the greater working class of the Middle East and Palestine. It is by mobilizing this class in the name of its own interests against the rich of the Middle East that Israeli Jews can secure their own protection. Arab workers of the Middle East must also recognize where this trap is being set for them, and struggle as a class.

Two state solution?

In the struggle to end the oppression of Palestinians by settler colonialism, what solution will work? What state of affairs will guarantee, in reality and not mere words, the equality of rights in Palestine between Jews, Muslims, Christians and everyone else? It should be clear that the settler-colonial state itself, Israel, is incapable of providing the needed framework. It is built, as is the United States, on a foundation of land theft and genocide.

Biden and other imperialist politicians call for a “two-state solution,” a formula that is accepted by the Palestinian Authority. That would require maintaining the state mainly for Jews (Israel) while allowing a smaller one for Palestinians (the West Bank and Gaza). Since Israel has not found success in putting an end to rebellions against its domination over historical Palestine, the two-state scheme is the next best acceptable option for the U.S. ruling class. Steering the Palestinians toward such a “solution” would strengthen the influence of the leaders of the Palestinian Authority and provide hope that more radical forces could be contained.

It should be obvious, however, that there no way that Palestinians could build a tenable “state” while their territory is subdivided into tiny unconnected parcels that are interspersed with hostile settler communities, and subject to constant Israeli regulation. [2] Moreover, it would be ridiculous to assume that Palestinians can liberate themselves from racist tyranny while Israel remains a military outpost for the expansionist needs of U.S. imperialism. Any movement by Palestinians against neo-colonial domination would be met by the force of Israeli arms. These reasons help explain why the “two-state solution” is increasingly unpopular among radicalizing youth, both in Palestine and in the world solidarity movement.

Only a united socialist Middle East can successfully repel imperialist aggression. The establishment of a singular, secular, and democratic Palestine,with the right of return open to all Palestinians, is an unavoidable step along this road. It is in the framework of a democratic secular Palestine that the Free Palestine movement can begin to achieve its goal of equal rights for all ethnicities and religions, including Palestinians and Jews. But full liberation can only come when workers and oppressed people throughout the world take the road of socialist revolution.

And this especially is why anti-Semitism is so valuable to the ruling classes of both Israel and the United States. The suggestion that there is an inherent desire for race war among those in struggle is a tool that they will try to use to hold off workers’ revolution in the Middle East and occupied Palestine—and in this country as well.

* The book “Fascism and Big Business,” by Daniel Guerin, is an exemplary history of the rise of fascism in Italy and Germany, and is recommended reading for anyone seeking an understanding of the causes (and horrors) of 20th century fascism.

Sources:

[1] https://www.marxists.org/history//etol/document/swp-us/24thconvention/zionism.htm — SWP 1971 Resolution on Israel.

[2] https://socialistresurgence.org/2021/05/25/palestine-ceasefire-declared-but-israeli-occupation-continues/ — Erwin Freed discusses the successes and challenges to the Free Palestine movement, including the pointlessness of the “two-state solution.”

 

From the website of Socialist Resurgence

Subcategories