Updates

Articles

Articles posted by Radical Socialist on various issues.

লাখবীর সিংয়ের নৃশংস হত্যা সম্পর্কে র‍্যাডিকাল সোশ্যালিস্টের বিবৃতিঃ

 

১৫ই অক্টোবর ভোররাত্রে লাখবীর সিং নামে এক ৩৫ বছর বয়স্ক মাঝাবি শিখ (যারা দলিত থেকে শিখধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে) শ্রমজীবীকে দিল্লীর কাছে সিঙ্ঘু সীমান্তে প্রতিবাদ ক্ষেত্রে নৃশংসভাবে অত্যাচার করে হত্যা করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে যে লাখবীর সিং শিখ সম্প্রদায়ের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ চুরি করতে চেষ্টা করেছিল। নিহাং শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যরা এগিয়ে এসেছে এবং এই বর্বর কাজের দায়িত্ব স্বীকার করেছে। নিহাং সম্প্রদায়ের নেতারা শুধু যে এই কাজের জন্য কোনো অনুতাপ প্রকাশ করেন নি তাই না, উপরন্তু তাঁরা ঘোষণা করেছেন যে তাঁরা এই কাজকে সমর্থন করেন এবং ভবিষ্যতে এরকম ধর্মের প্রতি অবমাননাকর কাজ হলে আবার এই প্রতিক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (এস কে এম) ইতিমধ্যেই এই হত্যার নিন্দা করেছে এবং নিহাংদের থেকে নিজেদের দূরত্ব সৃষ্টি করেছে।  হিন্দুত্ববাদী দক্ষিণপন্থীরা এই সুযোগে দ্রুত বলতে চেষ্টা করছে যে কিসান আন্দোলন সার্বিকভাবে আইন-শৃংখলা ভেঙ্গে পড়ার জন্য , এমনকি সার্বিক নৈতিক অবক্ষয়ের জন্য দায়ী। 

 

 

 

প্রথমত, আমরা বামপন্থী হিসেবে, দ্ব্যর্থহীন ভাষায় একজন সাধারণ শ্রমজীবির এই হত্যার নিন্দা করছি। এমনকি যদি সংশয়াতীতভাবেও প্রমাণিত হত, যে লাখবীর সিং ধর্মের প্রতি অবমাননাকর কাজের দোষে দুষ্ট, তবু কোনো ব্যক্তি নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারে না, এবং অবশ্যই এইরকম অবর্ণ্নীয় পাশবিক কাজ করতে পারে না। দ্বিতীয়ত, এই ঘটনা স্পষ্ট দেখায় যে সবরকম ধর্মভিত্তিক সংগঠনের মধ্যেই নিহিত থাকে সত্ত্বর প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতিতে দ্রুত অধঃপতিত হওয়ার বিপদ। এই কথা কেবল তাদের জন্য খাটে না, যারা হিন্দুত্ব বা রাজনৈতিক ইসলামের ভিত্তিতে সংগুঠিত হচ্ছে। এই কথা খাটে সমানভাবে ক্রিশ্চান মৌলবাদ, বৌদ্ধ মৌলবাদ, বা বর্তমান ক্ষেত্রে শিখ মৌলবাদ প্রসঙ্গে। যে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে, সেটা এই না, যে ধর্মকে নিন্দা করা জরুরী, এবং কেবলমাত্র নাস্তিকতা, নিরীশ্বরবাদের মূল্যবোধ ঊর্ধে তুলে ধরতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাটা হল, আমরা মানুষের ব্যক্তিগত ধর্মবিশ্বাস থাকার, তা পালন করার অধিকারের মর্যাদা রাখব, কিন্তু বামপন্থী সাংগঠনিক উদ্যোগকে সবসময়েই ধর্মীয় গোষ্ঠীদের বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে।  আমাদের লড়াই হল সবরকমের শোষণ-নীপিড়নের বিরুদ্ধে, উন্নততর পৃথিবীর জন্য লড়াই। এই উদ্দেশ্য নিয়ে সংগঠিত হলে সব বিশ্বাসের, সব ধর্মের মানুষকে  নিতে হবে, কিন্তু সেটা ধর্মভিত্তিক সংগঠনের মাধ্যমে হতে পারে না। তৃতীয়ত, চলমান কিসান আন্দোলনকে এই বর্বর হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী করা ভুল। যে কিসান আন্দোলন চলছে, সেটা ভারতের অন্যতম দীর্ঘ গণ আন্দোলন, এবং এই আন্দোলন চলছে যে সরকারের বিরুদ্ধে, সেটা সম্ভবত স্বাধীন ভারতে দেখা গেছে এমন সবচেয়ে পাশবিক এবং নিপীড়ক কেন্দ্রীয় সরকার। এই আন্দোলন তার বর্তমান আকারেই ১৪ মাসের বেশীদিন ধরে চলছে, এবং তা প্রায় সম্পূর্ণই অহিংস ছিল। আমরা যখন এই নৃশংস হত্যার নিন্দা করি এবং হত্যাকারীদের বিচারের দাবী করি, তখন, তার সঙ্গে সঙ্গেই, আমরা এই আন্দোলনের উপর দক্ষিণপন্থী আক্রমণের বিরোধিতা করি।   

 

সবশেষে আমরা আর একটি, কম উল্লিখিত ঘটনার দিকে ফিরে তাকাতে চাই। পশ্চিমবঙ্গ থেকে একজন ২৬ বছর বয়স্কা মেয়ে কৃষক আন্দোলনের যে কর্মীরা পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে বিজেপি বিরোধী প্রচারে এসেছিলেন তাদের সঙ্গে যোগ দেন এবং  তাদের সঙ্গে টিকরি সীমান্তে আসেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে পথে কিসান সোশ্যাল আর্মি নামের একটি সংগঠনের সদস্যরা তাঁকে আক্রমণ করে এবং আরো অভিযোগ করা হয়েছে যে টিকরিতে থাকার সময়ে তাঁকে ওই হয়রানিকারীরা ধর্ষণ করে। কোভিডের দ্বিতীয় প্রকোপের সময়ে তাঁর কভিডে মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর বাবা এফ আই আর করেন।  

 

অবশ্যই, বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবারের দক্ষিণপন্থী সমর্থকরা উপরের ঘতনাতিকে কখনো কখনো ব্যবহার করেছে, আন্দোলনের দিকে কাদা ছেটাতে। আমাদের আন্দোলনে প্রতি সংহতিতে অবিচল থাকতে হবে, কিন্তু সেটা গণ জমায়েতের প্রগতিশীল ক্ষেত্রের মধ্যেও যে কিছু অত্যাচার বা নিপীড়নের ঘটনা ঘটতে পারে, তাকে ঝাঁট দিয়ে লুকিয়ে রেখে না। এই রকম ঘটনাকে সামনে এনে প্রতিবাদ করলে আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্থ হবে, আমাদের শক্তি কমে যাবে, যদি মেয়েরা, দলিতরা (লাখবীরের মত), এবং অন্যান্য অত্যাচারিত গোষ্ঠীর মানুষরা নির্ভয়ে আমাদের আন্দোলনে যোগ দিতে না পারে। আমরা যেরকম সমাজে বাস করি, তাতে এটা স্বয়ংক্রিয় ভাবে হবে না।  এর জন্য আমাদের সব সময়ে এই রকম ঘটনা সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে, এবইং আন্দোলনের নামে কখনো এমন ঘটনাকে লুকিয়ে রাখলে হবে না। এটাই হবে অন্যায় যেখানে, যেভাবে মাথা তোলে তার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমাদের অঙ্গীকার, এবং এটাই আমাদের লড়াইকে মজবুত করবে।

 

১৮/১০/২০২১

 

Statement of Radical Socialist (West Bengal unit) Concerning the Recent Communal Violence in Bangladesh

Radical Socialist condemns in the strongest language the setting of fire on idols and Durga puja  pandals, temples, destruction of homes belonging to minority Hindus, killings, in Comilla and other places in Bangladesh over the issue of keeping the Quran underneath an idol in one Durga Puja place in Comilla, Bangladesh. Radical socialist demands that the guilty people must be identified and immediately subjected to exemplary punishment.

Already, leftist and progressive forces in Bangladesh have come out on the streets to protest and resist. And meanwhile the BJP-RSS Sangh family is trying to use this to further carry out communal polarization in India, notably in West Bengal.  They are busy trying to show how Hindus are under threat. But they want to erase from public understanding the reality that this is a worldwide problem faced by minorities.

This is the trauma of Muslims in India and Palestine, of Hindus in Bangladesh, and the Rohingya ethnic community in Myanmar, who are also Muslims.

Radical socialist supports the defence of the rights of minorities, whether in India or Bangladesh or any other corner of the world.

The geographical area of South Asia, which had been formerly a British colony, has seen one communalism sustaining another, helping each other grow. The ruling classes of the concerned countries fully utilise these, and internationally, the big economic and political powers in their geopolitical rivalries also fully use these conflicts.

Accordingly, in this geographical area, leftist and progressive forces have no alternative to abandoning narrow nationalist positions and joining the struggle together.

Radical Socialist believes that in this sub-continent in the struggles against fascism and communalist fundamentalism all leftist and progressive forces must work unitedly regardless of which country they are in.

Radical Socialist, West Bengal unit

18.10.2021

Radical Socialist Statement Condemning the Brutal Killing of Lakhbir Singh

 
In the early hours of October 15, Lakhbir Singh, a 35-year old labourer from the Mazhabi Sikh community (Dalits who converted to Sikhism), was brutally tortured and murdered at the protest site at Singhu border near Delhi. It has been alleged that Lakhbir Singh had attempted to steal the holy scriptures of the Sikh community. Members of the Nihang Sikh sect have come forward and taken the responsibility for the barbaric act. Not only have the leaders of the Nihang community not shown any sign of remorse for the incident they have gone on to proclaim that they defend and might repeat the same act in case there was any repeat of blasphemy in the future. The Samyukta Kisan Morcha (SKM) has already denounced the killing and have distanced themselves from the Nihangs. The Hindutva right has been quick to take this opportunity to claim that the farmers’ protests as a whole is responsible for break down in law order and for moral degeneration more generally.
 
Firstly, we on the left unequivocally denounce such a brutal killing of an ordinary working class person. Even if it is proved beyond any doubt that Lakhbir Singh was guilty of blasphemy individuals cannot take the law into their own hands and carry out acts of indescribable brutality. Secondly, this clearly demonstrates that all religious organizing carries with it the potential danger of quickly collapsing into reactionary politics. This is true not just for those organizing around questions of Hindutva or political Islam, but is equally true of Christian fundamentalists, Buddhist fundamentalists, and in this case Sikh fundamentalists. The important lesson to draw is not to condemn religion and only uphold values of atheism. The important lesson is that while we respect people’s right to practice and have their own faith, left organizing must always be wary of religious groups. Ours is a fight against exploitation and oppression for a better world. Organizing for this aim can and must have people from all faiths and religions, but cannot be based around religious organizing. Thirdly, it is wrong to hold the farmers’ movement in general responsible for this barbaric act. The current farmers’ movement is one of the longest standing movements in India, and is against arguably the most brutal and oppressive central government, independent India has ever seen. The movement in its current form has already been running for more than 14 months and has been almost entirely non-violent in character. We must defend the movement from right-wing attacks while we condemn this brutal killing and call for the perpetrators to be brought to justice.
 
Lastly, we would like to underscore another less highlighted incident. A 26-year old woman activist from Bengal joined members of the farmers’ movement who were campaigning against the BJP for the state assembly election in WB. She came with them to the Tikri border. On the way, it has been alleged, she was assaulted by members of the Kisan Social Army. It has been further alleged that later during her stay at Tikri she was raped by those who were harassing her for a while. She contracted and died of Covid during the deadly second wave. After her death, her father has filed an FIR.
 
Of course, the above incident has sometimes been cynically used by right-wing supporters of the BJP and Sangh Parivar to discredit the movement in general. We need to stand firmly in support of the movement but never at the cost of brushing under the carpet incidents of oppression that may happen within such progressive spaces of mobilisation. This will not undermine the movement. What will truly undermine our strength is when women, Dalits (like Lakhbir Singh) and other members of an oppressed community are unable to join our movement without fear. Given the kind of society we live in this is not going to happen automatically. It will require us to be ever vigilant about such incidents and to never hush up any such incident for the sake of the movement. That will be a testament to our commitment to fighting injustice whenever and wherever it raises its ugly head, and will ultimately strengthen our struggles.
 
Radical Socialist demands that due punishment be done to the perpetrators of sexual violence at the Tikri border and urge all those involved in progressive organizing to be vigilant about such atrocities. Radical Socialist also demands that the perpetrators of the brutal murder of Lakhbir Singh be brought to justice. Two people have been arrested so far, and one of them is Dalit. Irrespective of their faith and social background, people who are found guilty of this crime should be held accountable. However, this should not be lead to any further victimization of the family members of Lakhbir Singh, and they should be duly compensated by the state.

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হানাহানির পরিপ্রেক্ষিতে আব্বাস সিদ্দিকীর বক্তব্য সম্বলিত ভিডিও এবং তার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে র‍্যাডিক্যাল সোশ্যালিস্টের মতামত

 
এই বছরেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে আমাদের প্রকাশিত পুস্তিকায় বামপন্থীদের সমর্থনের কথা বললেও, তাদের শরিক পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর দ্বারা প্রভাবিত আই এস এফকে সমর্থনের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিলাম। বলেছিলাম, নির্বাচনের মুখে একজন মুসলিম ধর্মগুরুর প্রভাবে সদ্য তৈরি হওয়া আই এস এফ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক অবস্থান নিতে আমরা প্রস্তুত নই, প্রয়োজন আরও পর্যবেক্ষণের। একদিকে তাঁর নারীবিরোধী মনোভাব এবং উগ্র ধর্মীয় উস্কানি সম্পর্কে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম, আর অন্যদিকে বহুজনের সামাজিক অধিকারের প্রশ্নে তার জোরালো ইতিবাচক বক্তব্যের কি পরিণতি হয় তার দিকে দৃষ্টি দিতে চেয়েছিলাম।
 
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হানাহানির পরিপ্রেক্ষিতে আব্বাস সিদ্দিকীর মতামত সম্বলিত একটা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায়, এই বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা জরুরি মনে হয়েছে। ওই ভিডিওতে আব্বাস সিদ্দিকীর মতামত একেবারেই অপ্রত্যাশিত নয়। আমরা ওই উস্কানিমূলক সাম্প্রদায়িক বক্তব্যের জোরালো নিন্দা করছি। যদিও, দলগত ভাবে আই এস এফ অন্যরকম বিবৃতি প্রকাশ করেছে, তথাপি পীরজাদার বক্তব্যের গুরুত্ব কোনোভাবেই লঘু হয়ে যায় না।
 
একই সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে এখানকার বামপন্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বলি, নির্বাচনের সময়েই আমরা দেখেছিলাম এবং ওই পুস্তিকায় বলেছিলাম, শুধুমাত্র বিশুদ্ধতার পরাকাষ্ঠা হয়ে অর্থনৈতিক শোষণ ও সামাজিক নিপীড়ণের বিরুদ্ধে লড়াই সফল হতে পারে না, দরকার ভারসাম্যের মনোভাব। ক্লেদ, কালিমা থেকে গা বাঁচিয়ে নয়, তাকে সঙ্গে করে, বৃহত্তর লড়াইয়ের সঙ্গেই ওই সমস্ত ত্রুটি বিচ্যুতির বিরুদ্ধে জেহাদ সম্ভব। অথচ, একদল বামপন্থী বহুজনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও আর্থিক উত্তোলনের প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি কাজকর্মের বদলে স্রেফ ক্ষমতার লোভে তাৎক্ষণিক বোঝাপড়ায় সুবিধাবাদকে আশ্রয় করছে। আর, আরেকদল বামপন্থী ক্ষুদ্র গোষ্ঠী রাজনীতির বায়বীয় সাফল্যে বুঁদ হয়ে চরম দেউলিয়াপনার প্রকাশ করে যাচ্ছে। এই দুধরণের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে এগোনোই এখন কাম্য।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হিংসার বিরুদ্ধে র‍্যাডিক্যাল সোশ্যালিস্টের বিবৃতি:

 

 

― বাংলাদেশের কুমিল্লায় এক দুর্গাপূজার মন্ডপে এক মূর্তির তলায় কোরান রেখে দেওয়া এবং তাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লাসহ সে দেশের নানান জায়গায় মূর্তি, মন্ডপ, মন্দিরে অগ্নিসংযোগ, সংখ্যালঘু হিন্দুদের বাড়িঘর ভাঙ্গচুর, প্রাণহানি প্রভৃতি ঘটনাকে র‍্যাডিকাল সোশ্যালিস্ট তীব্র ভাষায় নিন্দা করে ও ধিক্কার জানায়।একই সাথে এই ঘটনা পরম্পরায় দোষীদের চিহ্নিত করে, অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

 

 ― ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বাম আন্দোলন ও প্রগতিশীল শক্তি এই ঘটনার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করছে, আর একে কেন্দ্র করে ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি-আর এস এস - সংঘ পরিবার। তারা হিন্দুরা কতটা আক্রান্ত দেখাতে ব্যস্ত। কিন্তু এটা যে সারা দুনিয়ার সংখ্যালঘুদের সমস্যা তা জনমানস থেকে মুছে ফেলতে চাইছে। 

 

― এই সমস্যা ভারত আর প্যালেস্তাইনের ক্ষেত্রে  মুসলিমদের, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হিন্দুদের আর মায়ানমারে এক নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর রোহিঙ্গাদের, যারা ইসলাম ধর্মাবলম্বী। 

 

― র‍্যাডিকাল সোশ্যালিস্ট সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার পক্ষে, তা ভারতে বা বাংলাদেশে বা পৃথিবীর যে কোন প্রান্তেই হোক। 

 

― দক্ষিণ এশিয়ার এই ভৌগোলিক অঞ্চলে(পূর্বতন ব্রিটিশ উপনিবেশ) এক সাম্প্রদায়িকতা অন্য দেশের বিপরীত সাম্প্রদায়িকতাকে জল হাওয়া দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে, বাড়তে সাহায্য করে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শাসকশ্রেণী তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বড় অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিরাও ভূ-রাজনীতিতে এই দ্বন্দ্বকে পুরোপুরি ব্যবহার করে।

 

― অতএব, এই ভৌগোলিক অঞ্চলের বামপন্থী ও প্রগতিশীল শক্তিকে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী অবস্থান পরিত্যাগ করে, যৌথভাবে লড়াইতে সামিল হওয়ার কোন বিকল্প থাকছে না।

 

― র‍্যাডিকাল সোশ্যালিস্ট মনে করে এই উপমহাদেশে ফ্যাসিবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে দেশ নির্বিচারে সব বাম ও প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।

 

(১৮.১০.২১)

Kevin Floyd’s Foundational Queer Marxism: A Tribute

 

 

 

Peter Drucker

AGAINST THE CURRENT advisory

editor Peter Drucker, the author

of Warped: Gay Normality and Queer

Anticapitalism, is one of a handful of

scholars who have in recent years

developed the field of queer Marxism.

Another pioneer of queer Marxism,

Kevin Floyd, died tragically in 2019.

This year the Marxist Literary Group

honored Kevin Floyd’s legacy with a

special issue of its

journal Mediations, including this

tribute by Peter Drucker.

MARXISTS WORKING IN queer

studies have gradually been building a body of theory during the first decades of

the 21st century. We have been synthesizing core Marxist concepts, like class,

totality and reification, with concepts from other paradigms, such as social

construction, performativity and intersectionality. In the small boomlet of

publications that has marked this queer Marxist renaissance, one moment stands out: the publication in 2009 of Kevin Floyd’s The Reification of Desire.(1) All of

us queer Marxists who have published since then have been in dialogue with this

seminal work. It is not much of an exaggeration to say that we have been writing

a series of glosses on it.

The queer Marxism in which Floyd played a foundational role is a new turn in

Marxism’s more-than-century-old dialogue with same-sex activism and

theorizing. The roots of Marxist queer studies go back to the first interactions

between Marxist theorists linked to socialist labour movements, on the one hand,

and successive waves of homosexual emancipation and lesbian/gay liberation,

on the other. The story goes back to German Marxist Eduard Bernstein’s critique

in Die Neue Zeit of sexually repressive legislation in response to the 1895 trial of Oscar Wilde,(2) and to the Russian Bolsheviks’ post-revolutionary decriminalization of homosexuality and support for research in sexology.(3) The near-simultaneous rise of New Left Marxism and of lesbian/gay liberation in the

1960s and 1970s resulted in a new flowering of lesbian/gay Marxist theory. John

D’Emilio’s seminal essay “Capitalism and Gay Identity” (1983), linking “free”

labour under capitalism to identity formation, was widely and lastingly influential.(4) Floyd, too, knew this history – he called D’Emilio’s article

“crucial”5 – and drew on it.

In his deep readings of queer theory and his open-minded attitude toward it,

however, Floyd broke with the dominant tone of the Marxists who came before

him. As queer theory had spread and became increasingly hegemonic in

lesbian/gay studies in the course of the 1990s, many Marxists had responded

initially with skepticism or outright hostility. Teresa Ebert and Donald Morton

exemplified Marxists’ sometimes tendentious dismissal of queer theory’s contributions.(6) In a very different key, Rosemary Hennessy’s Profit and

Pleasure (2000), though it can be seen in retrospect as a key early text of queer

Marxism, was still characterized by a strong critique of the queer theory of the 1990s.(7) Floyd changed the discourse. More than any other person he heralded a

new wave, in which dismissal increasingly gave way to efforts to forge a new

queer Marxism, engaging more deeply with queer theory while trying to avoid

its idealist and postmodernist pitfalls.

Floyd’s Synthesis

Fully versed in queer theory, Kevin Floyd forged a synthesis in which old

Marxist concepts were equally central and invented anew. The synthesis took

him a long way from the Texas childhood and Midwestern life he later recalled in sketching his trajectory.(8) In the tradition he helped found, the category of

totality has been important to queer Marxists seeking a global, non-reductionist

vision. The concept of reification, too, has been both key to Marxist approaches

to queer studies and a fruitful source of divergences. Queer Marxist debates

about these concepts today are unthinkable without Floyd’s ground-breaking

work on them.

The queer Marxism Floyd pioneered is strictly speaking a 21st-century

phenomenon. The “Marxist renaissance” in queer studies has largely been a by-

product of the continuing rapid growth of queer studies generally, particularly in North American universities.(9) At first Marxist approaches in the field were very

marginalized. As Floyd wrote, by the 1990s “what was once a healthy queer

skepticism about the Marxist tradition … congeal[ed] into something more automatic, dismissive, phobic.”(10) It was only after 2007 that several years of

intense capitalist crisis provoked a rethinking of Marxism’s possible “explanatory power.”(11) Published in 2009, The Reification of Desire seized the

moment – and was marked by the moment.

While the book brought a hefty dose of socioeconomic reality to a burgeoning

academic field, it could not reflect an activist upsurge that did not particularly

characterize the time. The academic setting of most Marxist queer studies has

resulted in focuses ranging beyond core concerns of historical materialism –

political economy, social struggles and transformations, and political power – to

the more common concentration in queer studies on philosophy, literature, film

and other arts. The Reification of Desire, too, focused largely on this sort of

philosophical and cultural critique. Like other Marxists working in queer studi

es, Floyd had a strong aversion to economic reductionism, which has

traditionally contributed to Marxists’ neglect of sexuality.

 

Yet although much of Floyd’s academic work dealt with literature and the

Marxist Literary Group was his home ground, his knowledge and his concerns

always ranged further. He forcefully rejected “depictions of my work as (merely) culturalist.”(12) He participated in North American conferences of the Historical

Materialism network, helping to bring a queer perspective to a largely new

generation of hundreds of Marxist scholars. Though his department’s travel

budget never stretched far enough to allow him to join the even bigger

gatherings of queer Marxists at the annual Historical Materialism conferences in

London, the Sexuality and Political Economy Network that was born there was

in this sense his offspring as well.

Performativity and Reification

Queer Marxists all (to a greater or lesser extent) acknowledge their indebtedness

to feminist theorists who since the 1970s have been emphasizing the conjoined

centrality of class and gender. One of Floyd’s greatest contributions was to show how Judith Butler’s concept of performative gender(13) should be historicized, as a

form of gender that emerged due to changes in early 20th-century capitalism.

Shifting from the earlier, 19th-century emphasis on “manhood” and

“womanhood,” he showed, performative constructions of gender have been defined more by patterns of consumption, dress and everyday behaviour,(14) linked to the “‘scientific management’ of anxieties about changing gender norms.”(15)

To avoid any narrow economic determinism, Marxists in queer studies have

deployed György Lukács’ category of totality to explore how sexuality is

embedded in broader power dynamics. Here too, Floyd made an absolutely vital

contribution, showing the relevance of the category to the study of sexuality. At

the same time, he warned against the dangers of a conception of totality that

would relegate sexuality to the superstructure. In some of his later statements,

moreover, he shrank from choosing between “characterizing global capitalism as either heterogeneous or unified,”(16) thus opting for a contrast between

heterogeneity and unity rather than a more dialectical formulation of unity in

contradiction.

In a third, particularly brilliant contribution, Floyd strikingly developed the

sexual dimensions of the concept of reification (particularly as analyzed by

Lukács). Drawing on historical analyses of the late 19th-century invention of

heterosexual and homosexual persons, he pointed out the particular reification of

gender manifest in these supposedly scientific sexual categories. Today, Marxists

note, male and female bodies are reduced to things to be obtained, like so many

other fetishized commodities.

Yet different Marxists in queer studies have drawn out different implications

from the concept of reification. Floyd initially dwelled on Lukács’ late self-

criticism for failing to distinguish adequately between (humanly inevitable) objectification and (specifically capitalist) reification.(17) Yet in his desire to

emphasize the political importance of “the use of the body as a pleasurable

means,” Floyd ended up emphasizing reification’s positive role as “a condition of possibility for … sexually non-normative discourses.”(18) Curiously, this

emphasis moved Floyd away both from traditional Marxist criticisms of all

existing sexualities under capitalism and from queer theorists’ advocacy of fluid

sexualities at a certain distance from existing lesbian/gay identities. This

reflected his nuanced take on queer politics. While he was one with queer

theorists for example in strongly criticizing same-sex marriage, which he saw as

“[p]art and parcel of neoliberalism,” he argued in an early article that it is not

always “inherently conservative or assimilationalist.”(19)

It is a terrible loss for queer Marxism that Floyd is no longer here to help us

engage with new upsurges and new debates, notably the transformative Black

Lives Matter protests and the astonishing mobilizations that have accompanied

them around the themes #BlackTransLivesMatter and #BlackQueerLivesMatter.

Sadly, we will never know what insights Kevin would have contributed to

understanding this pivotal juncture. All we can do is carry on in his spirit of

theoretical daring and radical engagement.

Notes

  1. Kevin Floyd, The Reification of Desire: Toward a Queer Marxism (Minneapolis: University of Minnesota Press, 2009).
    back to text
  2. John Lauritsen and David Thorstad (The Early Homosexual Rights Movement (1864-1934) (New York: Times Change, 1995).
    back to text
  3. Dan Healey, Homosexual Desire in Revolutionary Russia: The Regulation of Sexual and Gender Dissent (Chicago: University of Chicago Press, 2001).
    back to text
  4. John D’Emilio, “Capitalism and Gay Identity,” in Ann Snitow, Christine Stansell and Sharon Thompson (eds.), Powers of Desire: The Politics of Sexuality (New York: Monthly Review Press, 1983).
    back to text
  5. Email from Kevin Floyd to Peter Drucker, June 19, 2017.
    back to text
  6. Teresa Ebert, “The Matter of Materialism,” and Donald Morton, “Changing the Terms: (Virtual) Desire and (Actual) Reality,” in Morton (ed.), The Material Queer: A LesBiGay Cultural Studies Reader (Boulder: Westview Press, 1996).
    back to text
  7. Rosemary Hennessy, Profit and Pleasure: Sexual Identities in Late Capitalism (New York: Routledge, 2000).
    back to text
  8. Ayumu Tajiri, Asako Nakai and Shintaro Kono, “An Interview with Kevin Floyd,” Correspondence: Hitotsubashi Journal of Arts & Literature 3 (2018).
    back to text
  9. Gianmaria Colpani, Queer Hegemonies: Politics and Ideology in Contemporary Queer Debates (Utrecht [unpublished PhD dissertation], 2017).
    back to text
  10. Kevin Floyd, “Making History: Marxism, Queer Theory, and Contradiction in the Future of American Studies,” Cultural Critique 40 (1998): 171.
    back to text
  11. Kevin Floyd, Reification of Desire, 2.
    back to text
  12. Email from Kevin Floyd to Peter Drucker, June 19, 2017.
    back to text
  13. Notably in Judith Butler, Gender Trouble: Feminism and the Subversion of Identity (New York: Routledge, 1999).
    back to text
  14. Reification of Desire, 57-66.
    back to text
  15. Floyd, “Making History” 179.
    back to text
  16. Christina Crosby, Lisa Duggan, Roderick Ferguson, Kevin Floyd, Miranda Joseph, Heather Love, Robert McRuer, Fred Moten, Tavia Nyong’o, Jordana Rosenberg, Gayle Salamon, Dean Spade and Amy Villarejo 2012, “Queer Studies, Materialism, and Crisis,” GLQ, 18, 1 (2012): 127-47.
    back to text
  17. Georg Lukács, History and Class Consciousness: Studies in Marxist Dialectics (Cambridge, MA: MIT Press, 1972 [1922]) xxiv; Reification of Desire, 23.
    back to text
  18. Floyd, “Lukács and Sexual Humanism,” Rethinking Marxism 18:3 (2006): 399-400. Reification of Desire, 74-75.
    back to text
  19. Email from Kevin Floyd to Peter Drucker, June 19, 2017. “Making History” 179.
    back to text

Mediations: Journal of the Marxist Literary Group, Volume 34, No. 1 (Fall 2020)

আফগানিস্তানঃএক দ্বিবিধ ট্রাজেডি

 

আমরা আফগান জনগণের সঙ্গে তাঁদের দ্বিবিধ ট্রাজেডির জন্য শোকপ্রকাশ করছি। প্রথম ট্রাজেডি হল  কুড়ি বছর আগে মার্কিণ যুক্তরাষ্ট্রের বে-আইনী এবং সর্বৈব অন্যায্য সামরিক আগ্রাসন। সেটাই জমি তৈরী করেছে আজকের ট্রাজেডিকে, যা হল ইসলামী-ধর্মোন্মাদ তালিবানের ক্ষমতা দখল। তালিবানের নিন্দা করতে গিয়ে যেন কোনোভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এবং অন্য পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদের সমালোচনাকে একবিন্দুও হাল্কা করা না হয় বা তারা যে আফগানিস্তান ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে তার জন্য চোখের জল ফেলতে না বলে। সমগ্র বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে সবচেয়ে বড় যে গণতান্ত্রিক অগ্রগতি হয়েছিল, তা হল বিদেশী ঔপনিবেশিক ও সাম্রাজ্যবাদী শাসনের অবসান, এমনকি সেই সব দুর্ভাগ্যজনক ক্ষেত্রেও, যেখানে দেশজ একনায়কতন্ত্রের উদ্ভব হয়েছিল। যে বিশ্বে মানুষ স্বতন্ত্র এবং অঙ্কগুলি ভিন্ন রাষ্ট্রের অন্তর্গত বলে ধরা হয়, সেখানে বিরলতম কোনো ক্ষেত্র ছাড়া সবচেয়ে মৌলিক যে নৈতিক-রাজনৈতিক নীতিকে ঊর্ধে তুলে ধরতে হয়, তা হল, একটি জনগণের স্বাধীন অধিকার থাকতে হবে, যে তাঁরাই নিজেদের অত্যাচারী শাসকদের উচ্ছেদ করবার দায়িত্ব রাখবেনএই কারণেই, ভারতীয়দেরই দায়িত্ব ছিল ব্রিটিশ শাসন উচ্ছেদ করার, ইন্দোনেশিয়ার মানুষেরই ওলন্দাজ শাসন উচ্ছেদ করার, দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষেরই বর্ণবিদ্বেষবাদ  বিরোধী লড়াই করার, ইত্যাদি। যে কোনো রকম বাইরের সাহায্য চাওয়া, এমন কি বাইরের থেকে সামরিক সাহায্য চাওয়া, একটা কথা, কিন্তু বাইরের ফৌজ দিয়ে একটা দেশের সামরিক মুক্তি? না!

   ১৯৭৮ সালের ‘সাউর বিপ্লব’-এ ধর্মনিরপেক্ষ, সংস্কারপন্থী সোভিয়েত-ঘেঁষা ‘কমিউনিস্ট’ দল, পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ আফগানিস্তান ক্ষমতায় এলো। কিন্তু তাদের মধ্যে সশস্ত্র অন্তর্দ্বন্দ্ব ছিল এবং কাবুলের বাইরে তাদের খুব গণভিত্তি ছিল না। এই সরকারকে সমর্থন করতে ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত আগ্রাসন ছিল নৈতিকভাবে অন্যায়, নিন্দনীয় এবং রাজনৈতিকভাবে সর্বনাশা, কারণ এর ফলে ‘জনপ্রিয় জাতীয় আন্দোলনের’ পতাকা চলে গেল আল-কায়েদা, তালিবান সহ একগুচ্ছ ধর্মীয় ও ভাষিক/সামাজিক গোষ্ঠীদের হাতে।প্রাথমিকভাবে সামরিক সাহায্য এল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তাদের ইঙ্গ-ফরাসী মিত্ররা এবং পাকিস্তান থেকেসোভিয়েত ইউনিয়ন শেষ অবধি পিছু হঠল ১৯৮৯ সালে এবং তাদের বসানো সরকারের পতন হল তিন বছর পরে এক গৃহযুদ্ধের মাঝে। বিভিন্ন ইসলামী গোষ্ঠির মধ্যে গৃহযুদ্ধের পর ১৯৯৬ সালে দেশের ৯০% এলাকা দখল করে নিজেদের প্রাধান্য আনল তালিবান।      

২০০১ সালে যুগল টাওয়ার এবং পেন্টাগণের উপরে আক্রমণকে মার্কিণ যুক্তরাষ্ট্র সচেতনভাবে মানবতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ বলে চিহ্নিত করতে রাজি হল না। কারণ তা হলে তাদের কেবলমাত্র অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হত। তার বদলে, তারা ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ’ ঘোষণা করল। তারা দাবী করল, অপরাধ করেছে যারা আর আমেরিকা যে সব দেশকে ‘সন্ত্রাসবাদীদের বাস করতে দিয়েছে’ বলে ঘোষণা করবে, তাদের মধ্যে কোনো পৃথকীকরণ করবে না। এইভাবে পথ প্রশস্ত হল একটা অ-রাষ্ট্রিক সংস্থার সঙ্গে মার্কিণ যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্বকে আমেরিকার ব্যাপকতর ভূ-রাজনৈতিক দিশা, অর্থাৎ বিশ্ব দমনের খোয়াব, মাথায় রেখে পশ্চিম এবং মধ্য এশিয়ার যে কোনো দেশের সঙ্গে সংঘাতে রূপান্তরিত করার। নতুন সহস্রাব্দে এমন বহু দেশের মধ্যে আফগানিস্তানই হল প্রথম দেশ, যাকে এই সামরিক আগ্রাসন সহ্য করতে হল। মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি নির্মাণ করেন যারা, তারা ইতিমধ্যেই চিন, ইরান এবং রাশিয়াকে প্রধান বিপদ হিসেবে সনাক্ত করেছিল, এবং তারা সচেতন ছিল যে পাকিস্তান ছাড়া আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলি হল ইরান, চিন, এবং রুশ-ঘেঁষা মধ্য এশিয়ার সাধারণতন্ত্রগুলি। আর ঐ এলাকাতে আছে খনিজ তেল ও গ্যাসের এক এতদিন ধরা হয়নি এমন বড় সম্ভার।      

বিগত কুড়ি বছরে মার্কিণ সামরিক বাহিনী এবং তাদের পুতুল সরকারগুলি (যারা নিজেরা দুর্নীতিগ্রস্থ এবং নানা উপদলে বিভক্ত)তারা ব্যাপকভাবে বোমা ফেলেছে (‘ডেইজি কাটার’, ক্লাস্টার বোমা), পাকিস্তান অবধি ড্রোন আক্রমণ করেছে, অজানা বিদ্রোহী ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ‘খোঁজ করে ধংস করা’র নামে নৃশংস ও বাছবিচারহীন আক্রমণ করেছে। মার্কিনীদের (ফৌজ এবং কন্ট্র্যাক্টার মিলিয়ে) মৃত্যুর সংখ্যা ৬৫০০ মত। এর বিপরীতে সবচেয়ে রক্ষণশীল হিসেবে, ২০১৯ অবধি মোট আফগান মৃত্যু সংখ্যা (সরকারী সৈন্য/পুলিশ, সরকার বিরোধী যোদ্ধা, অসামরিক নাগরিক মিলিয়ে) ছিল ১,৬০,০০০। অন্য অনেকে, যারা সরকারীভাবে স্বীকৃত না এমন সব অসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু্র হিসেব করতে চেষ্টা করেছে, তারা কয়েক লাখ থেকে দশ লাখের বেশী, নানা সংখ্যা দেখাতে চায়, যেখানে গোটা দেশটার জনসংখ্যা ৩.৫ কোটি থেকে ৪ কোটি। ৪০ লাখ আফগান দেশের মধ্যেই ঘরছাড়া এবং আরো ২৭ লাখ দেশের বাইরে শরণার্থী। এই মুহূর্তে দেশের ৪৮% জাতীয় দারিদ্র সীমার নীচে বাস করছে। কিছু কিছু প্রগতিশীল আইন ও সংস্কার হয়েছে, কিন্তু সে সব মার্কিন উপস্থিতি ও শাসনকে ন্যায্যতা দেয় না, ঠিক যেমন ব্রিটিশরা হাসপাতাল, স্কুল বানিয়েছিল বা কিছু আইনসভা, নির্বাচন ও সীমিত ভোটাধিকার দিয়েছিল বলে ভারতে ঔপনিবেশিক শাসন চালু রাখার কোনো ন্যায্যতা আসে না।         

৩০০,০০০-র চেয়ে বেশী সংখ্যক আফগান বাহিনী (সৈন্য, পুলিশ, বিশেষ মিলিশিয়া), যা সংখ্যার দিক থেকে তালিবানের চেয়ে ৫ থেকে ৬ গুণ বড়, যার হাতে ছিল সবচেয়ে আধুনিক অস্ত্রসম্ভার, আর আকাশপথের সম্পূর্ণ যান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ, তা যদি এমন নাটকীয়ভাবে ধ্বসে যায়, সেটা দেখায় যে তালিবানের সত্যিই জমিতে বেশ কিছুটা সমর্থন এবং জনতার সম্মতি (নিঃসন্দেহে অনেকটা ভয়ের ফলে) আছে, যেটা শুধু তাদের মূলত পুশতুভাষী ভিত্তির বাইরেও যায়। তবে তারা ফারসিভাষী তাজিকদের প্রতি ভীষণই বৈরিতাপূর্ণপুশতুভাষীরা দেশের ৪২%, আর তাজিকরা ২৭%। অর্থাৎ, প্রবল আভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন বা এমনকি ভবিষ্যতে সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি হবে, এই ভয় থেকে যায়। তালিবানরা তাদের অতীতের আন্তর্জাতিক নিঃসংগতা থেকে কিছু শিখে থাকতে পারে, নাও পারে। হয়তো তারা নির্দিষ্ট কিছু ধরণের সামাজিক ও নাগরিক দমনপীড়ন এড়িয়ে যাবে। কিন্তু তাদের ইতিহাস, তাদের ধর্মীয় সংকীর্ণতাবাদী, গণতন্ত্রবিরোধী, নারীবিদ্বেষী সামাজিক/নাগরিক কর্মসূচীর আলোকে, যেখানে তারা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে তারা     শারিয়াভিত্তিক আইন চালু করবে, সেখানে তাদের কোনোরকম ইতস্তত না করেই খোলাখুলি বিরোধিতা করার যথেষ্ট কারণ আছে।

ভারতে সহ, সর্বত্র সরকাররা আফগান জনগণের জন্য মড়াকান্না গাইবে, কিন্তু বাস্তবে তারা আর তাদের দলে দলে রণনৈতিক বিশেষজ্ঞরা কেবল লাভ-ক্ষতির রাজনীতির স্থূল, নীতিহীন চেতনা থেকে কাজ করবে। ‘ জাতীয় স্বার্থ’ দেখার দাবী করে তাঁরা সেই বাঁধাগতের অজুহাত দিয়ে আসলে এই প্রত্যেকটা রাষ্ট্র যে সব ভিন্ন ভিন্ন শাসক শ্রেণীর স্বার্থ দেখে, তার ভিত্তিতে স্থির করবে, তাঁরা নতুন তালিবান সরকারের সঙ্গে কোনোরকম কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না করবে না, কিরকম করবে, নাকি তাঁরা হাত মেলাবে অন্য স্বার্থন্বেষী রাষ্ট্রদের সঙ্গে, সে পাশ্চাত্যের জোট হোক বা রাশিয়া, চিন এবং পাকিস্তানের সম্ভাব্য জোট হোক, যে জোট আফগানিস্তানের নয়া শাসকদের প্রতি বেশি সদয়। কোনো আফগান সরকারই ডুরান্ড লাইন মেনে নেয় নি এবং পুশতু জাতীয়তাবাদের সঙ্গে বেশি নিবিড় সম্পর্কযুক্ত তালিবান পাকিস্তানের কাছে মোটেও ততটা কৃতজ্ঞ না, যেমন দেখাতে চাইছে ইসলামবিদ্বেষী মোদী সরকার, দেশের ভিতরে পাকিস্তান বিরোধী মনোভাব বাড়ানোর জন্য, কারণ তা হলে তাদের লাভ হবে, কাশ্মীরে অত্যাচার আরো বাড়ানোর সময়ে। অথচ, তাদের হিন্দুত্ববাদী নিদানগুলো অনেক সময়ে র‍্যাডিকাল ইসলামের মতই অবক্ষয়প্রাপ্ত।    

আমরা কাকে সমর্থন করব, কার বিরোধিতা করব, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করার সূচনাবিন্দু হতে হবে আফগান জনগণের স্বার্থ, আমাদের কল্পিত ‘জাতীয় স্বার্থ’ নয়। আফগানিস্তানের উপরে কোনোরকম অর্থনৈতিক অবরোধ চাপানো চলবে না। এগুলি শাসকবর্গকে যতটুকু আঘাত করে, তার চেয়ে অনেক বেশি আঘাত করে জনগণকে। এই দীর্ঘ যুদ্ধপীড়িত দেশটিতে প্রগতিশীল আন্তর্জাতিক ও নাগরিক সংস্থাদের মাধ্যমে মানবিকতাবাদী সাহায্য যথাযথভাবে পাঠানো এক অবশ্য কর্তব্য। তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি না, কিন্তু কোনোরকম সামরিক চাপও না। নানা ধরনের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক চাপ দিয়ে তাদের মেয়েদের বিরুদ্ধে, আর ভাষিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কম দমনপীড়ন পদক্ষেপ ও আইন করার দিকে ঠেলে দেওয়া যায়।  পাশ্চাত্যের ও অন্য নানা দেশেরও, একটা মৌলিক পরীক্ষা এখন আসবে, যা হল আফগানিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের বিষয়ে তাদের অবস্থান। যারা আশ্রয় চায়, তাদের উপরে কোনো নিষেধাজ্ঞা করা চলবে না এবং তাঁরা যেখানে যেতে পারে সেখানে থাকার বা সেখানে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। মোদির আগমনের আগে থেকেই, ভারত ১৯৫১-র শরণার্থী কনভেনশন এবং তার ১৯৬৭-র প্রোটোকল স্বাক্ষর করে নি। এই আন্তর্জাতিক সনদ অন্যান্য নানা কাজের মধ্যে ‘রিফাউলমেন্ট’ অর্থাৎ শরণার্থীরা যেখান থেকে এসেছেন তাঁদের জোর করে সেখানে ফেরত পাঠানোকে নিষেধ করে। মোদি সরকার ইতিমধ্যেই বেশ কিছু রোহিঙ্গার প্রতি এই আচরণ করেছে, নিছক তাঁরা মুসলিম বলে। মুসলিমদের প্রতি এবং ইসলামের প্রতি, এই যে শত্রুতামূলক আচরণ, সেটা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ )-র ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে, যে আইন আফগানিস্তান সম্পর্কে প্রযোজ্য। আজকের পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লী বাছাই করা কিছু শরণার্থীকে  আসতে দিতে পারে, কিন্তু সেটা আদৌ যথেষ্ট নয়। অবাধে আসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং প্রতিবেশী দেশদের মধ্যে আলোচনা চলতে পারে এই দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার জন্য। উপরন্তু, যে সব আফগান ছাত্ররা বা অন্যরাও ইতিমধ্যে এদেশে আছেন এবং থাকতে চান, তাঁদের ভিসার সময়সীমা বাড়াতে হবে, যতদিন না তাঁরা নিশ্চিন্তে স্বদেশে ফিরতে পারেন অথবা যথাসময়ে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।

                     ------------------------------------------------------

সাম্রাজ্যবাদ নয়! তালিবান নয়!

র‍্যাডিক্যাল সোশ্যালিস্ট – ১৮ অগাস্ট ২০২১

Subcategories