News

Statement by Osongothito Kshetro Sramik Sangrami Mancha supporting the General Strike call for 30 April (Bangla text)

Published on Wednesday, 29 April 2015 13:20
Written by Radical Socialist

শ্রমজীবী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে ৩০শে এপ্রিল সাধারন ধর্মঘট সফল করুন

হিংস্র গুণ্ডাবাহিনী ব্যবহার করে, সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে না দিয়ে, তৃণমুল কংগ্রেস দল, রাজ্য প্রশাসন, এবং স্বয়ং রাজ্য নির্বাচন কমিশন, ২০১৫-র পশ্চিমবঙ্গের পৌর নির্বাচনকে সরকারি সন্ত্রাসবাদের এক নজীরে পরিণত করেছে। আসলে তারা পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আরও উগ্র ও ভয়ঙ্কর ভাবে এই অপকীর্তি সংঘটিত করেছে। পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে তৃণমুল কংগ্রেস গড়ে তুলেছে প্রোমোটার, জালিয়াত, নারীধর্ষক এবং গুণ্ডাচক্রের রাজ।

নির্বাচন কোনো স্বর্গ এনে দেবে, এমন নয়। কিন্তু আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের অঙ্গ - ইচ্ছামত ভোট দেওয়া, অপছন্দের দলকে ক্ষমতা থেকে হঠানো।  এই রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার আসার পর সবার আগে রাস্তায় নেমেছি আমরাই। আর, সে কাজ করা হয়নি কোনো দলীয় স্বার্থে। অসংগঠিত শ্রমিকদের মৌলিক দাবি নিয়েই ছিল সেই লড়াই। যে রাজ্যে অধিকাংশ শ্রমিক ন্যূনতম মজুরি পায় না, কাজের নিশ্চয়তা নেই, সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত, যে রাজ্যে চা বাগানে আজ অনাহার মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত এবং কৃষকেরা ফসলের দাম না পেয়ে আত্মহত্যা করে চলেছে, সেখানে সরকারের চোখ কেন ক্লাবদের দিকে, তারা কেন লাখে লাখে টাকা পায়, তা এবারের ভোটের পরও স্পষ্ট।বেকারত্বের জ্বালাকে কৌশলে বিপথগামী করে হতাশ, অসহায় যুবসমাজের একটা অংশকে দিয়ে তৈরী করা গুন্ডাবাহিনী হল শাসকদলের ভোট বৈতরণি পার হবার এক মোক্ষম উপায়।

কিন্তু বাস্তব প্রতি মুহূর্তে শ্রমজীবি মানুষ এবং কর্মপ্রার্থী বেকারদের যে সত্যের সামনে দাড় করিয়ে দেয়, তা হল একমাত্র ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করেই নিজেদের অবস্থার স্থায়ী উন্নতি করা সম্ভব, অর্জিত অধিকার রক্ষা করা ও বাড়িয়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু সেই লড়াই জারি রাখার জন্যই চাই মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। আর, আমরা দেখেছি, এই রাষ্ট্রে কোনো সরকারই মানুষের তীব্র সংগ্রাম ছাড়া গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নেয় না। ভোটের অধিকার না থাকার মানে অন্যান্য গণতান্ত্রিক অধিকারও না থাকা। বামফ্রণ্টের জমানাতেও যে মেহনতি মানুষকে বারে বারে বঞ্চিত হতে হয়েছে, সে জমানাতেও যে শ্রমিক-কৃষকের উপর গুলি চলেছে তা আমরা জানি। কিন্তু প্রশ্নটা সিপিআই (এম) দলের ভোটপ্রাপ্তির নয়, মানুষের অধিকারের। সিপিআই (এম) দলের উপর ন্যায়সংগত আক্রোশ থেকে আমরা এ লড়াইয়ে নিরপেক্ষ থাকলে আমাদেরই ক্ষতি। তাই, বামফ্রণ্টকে আগামী দিনে জয়ী করার স্বপ্ন নিয়ে নয়, বরং শ্রমজীবী মানুষের জন্য উন্নততর জীবনের স্বার্থে, যে বিকল্প শুধু গণ সংগ্রামের পথে আসবে, তার দিকে যাত্রা শুরু করতে সামিল হন ৩০শে এপ্রিলের রাজ্যব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট সফল করার লড়াইয়ে। বামফ্রন্টের ডাকা এই ধর্মঘট মানুষের ক্ষোভ, হতাশাকে পুঁজি করে তাদের নির্বাচনী সাফল্যের হাতিয়ার করার উপায় হতে পারে, কিন্তু মানুষের ক্ষোভ, হতাশা বাস্তব। তাই এই ধর্মঘটকেই আমরা শ্রমজীবি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের হাতিয়ার করে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা দাবী করছি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন ও পুলিশী ব্যবস্থার। আমরা দাবী করছি দলতন্ত্র খতম করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। আরও দাবী করছি রাজনীতিতে পেশীশক্তির অনুপ্রবেশের অপসংস্কৃতির অবসান।

 

স্বপন গাঙ্গুলী                             সোমনাথ ঘোষ

আহ্ববায়ক                                আহ্ববায়ক

অসংগঠিত ক্ষেত্র শ্রমিক সংগ্রামী মঞ্চের পক্ষে

২৯ ০৪ - ২০১৫