News

Resolution adopted at Ganamancha Convention, Kolkata 7 august

গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষার 
গণমঞ্চ আয়োজিত কনভেনশন
৭ আগস্ট, ২০১৪
ফণিভূষণ মঞ্চ (বাগবাজার, কলকাতা)

প্রস্তাবনা

রাজ্য তথা দেশের জনগণের পক্ষে আশঙ্কাজনক এক সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমরা একটি আন্দোলনমুখী মঞ্চ গঠন করেছি। "গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষার গণমঞ্চ” - সংক্ষিপ্ত ভাবে “গনমঞ্চ”। আমরা যে সম্মিলিত মঞ্চে একত্রিত হয়েছি তা নিম্নলিখিত রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি দায়বদ্ধ:

• গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা
• ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
• নব-উদারবাদী, বৃহৎ কর্পোরেট-মুখী আর্থিক নীতি, যা সামাজিক বৈষম্যের এবং সার্বজনীন সম্পদ লুটের জন্ম দেয়, তার বিরোধিতা
• নারী, দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘু ও অন্যান্য সামাজিকভাবে বঞ্চিত মানুষের সামাজিক ন্যায়ের দাবী
• দুনিয়া জুড়ে প্রগতিশীল ও গনতান্ত্রিক নীতির প্রতি সমর্থন এবং যুদ্ধ ও আধিপত্যবাদের বিরোধীতা

যে সমস্ত প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও বামপন্থী রাজনৈতিক দল, সংগঠন, গ্রুপ ও ব্যক্তি উপোরক্ত রাজনৈতিক অবস্থানের সাথে একমত ও এই বিষয়গুলি নিয়ে লড়াই আন্দোলন করতে প্রস্তুত, আমরা তাঁদের সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি হাতে হাত মিলিয়ে এই মঞ্চে যোগ দিয়ে তাকে আরো শক্তিশালী করতে।

নির্বাচনী প্রচারের সময় বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় এলে ‘আচ্ছে দিন’ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকার গঠনের পর কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গলায় অন্য সুর - তিনি এখন মানুষকে 'তেতো দাওয়াই' দেওয়ার কথা বলছেন। ব্যপক হারে রেলভাড়া বৃদ্ধি এবং পেট্রল ডিজেলের নিয়মিত দাম বাড়ানো দেখলে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে এই বিজেপি সরকার পূর্ববর্তী কংগ্রেসী সরকারের মতোই জনবিরোধী নীতি আরো উৎসাহের সঙ্গে প্রণয়ন করবে। এর সাথে বাড়বে আরএসএস-বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিপদও।

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকারের ভূমিকায় দিনকে দিন পরিস্থিতির আরো অবনতি হচ্ছে - তোলাবাজি, খুন এবং রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জনসাধারণের গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের আঘাত, সরকারি মদতে বিরোধীদের ওপর হামলা এবং মহিলাদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা প্রতিদিনই ঘটে চলেছে। একে একে বন্ধ হচ্ছে জেশপ, হিন্দমোটর, ডানলপ, শালিমারের মতো পুরোনো কারখানা। পুনরুজ্জীবনের কথা ঘোষণা করেও ইলেকট্রমেডিক্যালের মতন সরকারী সংস্থাগুলিকে বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বন্ধ কলকারখানা খোলার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আপাতত ঠান্ডাঘরে ঠাঁই পেয়েছে!

তৃণমূল সরকারের অগণতান্ত্রিক শাসন ও রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের ক্রমাগত ব্যর্থতায় রাজ্যে বিজেপি’র সমর্থন বাড়ছে। বিজেপি’র উত্থান সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ঘটিয়ে শ্রমজীবী মানুষকে বিভাজিত করার রাজনীতিকে আরো শক্তিশালী এবং রাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল ঐতিহ্যকে ধ্বংস করবে।

রাজ্য রাজনীতির এই প্রেক্ষাপটে গনমঞ্চ একটি ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষে কাজ করবে। মেহনতী জনগণের যে আশু সমস্যা এবং দাবিসমূহগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে তা হল:

১. জেসপ, হিন্দমোটর, ডানলপ, শালিমার, বিভিন্ন চটকল ইত্যাদি বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা অবিলম্বে খোলার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে; উত্তরবঙ্গের চা বাগানে শ্রমিকদের অনাহারে মৃত্যু বন্ধ করতে বিশেষ ভাতাদানের মতো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে; অসংগঠিত ক্ষেত্রে ন্যুনতম মজুরি মাসে ১৫০০০ টাকা করতে হবে

২. লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি রুখতে মজুতদারী-কালোবাজারীর বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং খাদ্য সুরক্ষার স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারকে সার্বজনীন গণবন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে সস্তা দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করতে হবে

৩. কৃষিক্ষেত্রে সার-বীজ-কীটনাশক ও বিদ্যুতের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির সাপেক্ষে সরকারকে কার্যকরী সহায়তা দিতে হবে ও কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দাম সুনিশ্চিত করতে হবে

৪. দলিত, আদিবাসী ও মুসলিম সংখ্যালঘুদের সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; সাচার কমিটি ও রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের সুপারিশগুলির বাস্তবায়ন চাই; বনাঞ্চল আইন ২০০৬–কে কার্যকরীভাবে লাগু করে অরণ্যবাসীদের জঙ্গলের অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে

৫. অবিলম্বে নারী নির্যাতন, ধর্ষণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; কামদুনি, মধ্যমগ্রাম, কোন্নগরের মতন মহিলাদের বিরুদ্ধে যে কোনো অত্যাচারের ঘটনার ক্ষেত্রে বিশেষ আদালতে দ্রুততার সাথে বিচার সুনিশ্চিত করতে হবে

৬. পশ্চিমবঙ্গে তৃনমূল কংগ্রেস সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে রাজনৈতিক হিংসা এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর আক্রমন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে; রাজনৈতিক হিংসা এবং সারদা, টেট ইত্যাদি দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত শাসক দলের সাংসদ-বিধায়ক-নেতাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে

এই দাবিগুলিকে নিয়ে আগামীদিনে গণমঞ্চ সুনির্দিষ্ট আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

অভিনন্দনসহ,

গণমঞ্চের আহ্বায়কবৃন্দ:

আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা, সামাজিক ন্যায় বিচার মঞ্চ 
আভাস মুন্সী, মজদুর ক্রান্তি পরিষদ 
কুনাল চট্টোপাধ্যায়, র‍্যাডিকাল সোশালিস্ট 
পার্থ ঘোষ, সিপিআই এম-এল লিবারেশন 
প্রসেনজিৎ বসু, লেফট কালেক্টিভ