Statements of Radical Socialist

সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা বাতিল প্রসঙ্গে র‍্যাডিক্যাল সোশ্যালিস্টের অবস্থান

Published on Sunday, 11 August 2019 07:11
Written by Radical Socialist

 

র‍্যাডিক্যাল সোশ্যালিস্ট দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ও দৃঢ়তার সঙ্গে সংবিধানের ৩৭০ ধারার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কার্যত বাতিল করা এবং ৩৫এ ধারা রদ করার বিরোধিতা করে নিন্দা জানাচ্ছে। একটি অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক আইনি মারপ্যাঁচের মাধ্যমে এবং একইসাথে কাশ্মীরের মানুষকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সশস্ত্র ভীতিপ্রদর্শনের মাধ্যমে এই কাজটি করা হয়েছে। যা ঘটেছে তাকে বলা চলে অসৎ, এবং সংবিধানের উক্ত ধারাগুলির মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যগুলির প্রতি প্রতারণা ও জালিয়াতি ।

৩৭০ ধারা বাতিল করার একমাত্র উপায় হল জম্মু-কাশ্মীরের সংবিধান সভার পুনর্গঠন এবং সেখানে এই প্রস্তাব নেওয়া। কারণ এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৫৭ সালে ভেঙ্গে দেওয়া হয়। কোনরকম সাংবিধানিক সংশোধন ছাড়া অবৈধভাবে একটি রাষ্ট্রপতির আদেশ জারি করে সংবিধানের ৩৬৭ ধারা বদল করে এর মাধ্যমে নির্লজ্জভাবে জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভার ক্ষমতা ঐ সংবিধান-সভার সমতুল্য বলে দেখানো হয়। এই শেষোক্ত প্রতিষ্ঠান অনেক বেশি সার্বভৌমিক ক্ষমতার অধিকারী। যেহেতু জম্মু-কাশ্মীরে এখন রাষ্ট্রপতির শাসন চলছে সেহেতু রাজ্যপালের সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫এ ধারার বিলোপ ঘটায়। তাছাড়া স্বাধীন ভারতে এই প্রথম সংসদের দুই কক্ষে একটি রাজ্য পুনর্গঠন বিল পেশ করা ও গৃহীত হয় যার মাধ্যমে একটি রাজ্যের মর্যাদা হ্রাস করে তা অবলুপ্তি ঘটিয়ে দুটি কেন্দ্র-শাসিত অঞ্চলে ভেঙ্গে দেওয়া হয়। এই কেন্দ্র-শাসিত অঞ্চলগুলির একটির – জম্মু-কাশ্মীরের - পন্ডিচেরি ও দিল্লির মতো আইনসভা থাকবে আর লাদাখ দেশের আরও পাঁচটি কেন্দ্র-শাসিত অঞ্চলের মতো এই অধিকার ভোগ করবে না। চাপের মুখে নতিস্বীকার করে বিরোধী দলগুলি বিজেপির পক্ষ না নিলে এই রাজ্য পুনর্গঠন বিল পাশ করানো যেত না।

কংগ্রেস দল (যে দল ঐতিহাসিকভাবে জম্মু-কাশ্মীরের স্বশাসনের ধারাবাহিক অবনতি ঘটিয়েছে) সরকারিভাবে বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে। যদিও অভিষেক সিংহভি এবং জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মতো কোন কোন কংগ্রেসের নেতা এই কাজের বিরোধিতা করেন নি, শুধুমাত্র পদ্ধতির সমালোচনা করেছেন। একমাত্র বামপন্থীরাই এর বিরোধিতায় রাস্তায় নেমেছে এবং সারা ভারতে প্রতিবাদ করেছে।

আমদের কোন দ্বিধা থাকা উচিত নয় যে বিজেপি সরকার ও সঙ্ঘ পরিবারের এই নির্লজ্জ রাজনৈতিক ও সামরিক দখলদারির মূল কারণ হল ক) প্রথমত মুসলমানের প্রতি ঘৃণা, এবং যেখানে জম্মু-কাশ্মীর কার্যত দেশের একমাত্র মুসলমান প্রধান রাজ্য ছিল। খ) দ্বিতীয়ত উপত্যকার মানুষের ওপর আরও বেশি আঘাত নামানো। সেই কারণেই ৬,৫০,০০০ ফৌজির উপস্থিতি সত্ত্বেও আরও ৩৫,০০০ সৈন্য পাঠানো হয়। কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতাদের গৃহবন্দী করে রাখা হয়, কারফিউ জারি করা হয় এবং উপত্যকার সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিন্ন করে দেওয়া হয়। গ) তৃতীয়ত হিন্দু রাষ্ট্র নির্মাণের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ঘ) চতুর্থত এর মাধ্যমে পাকিস্তান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্যদের রাজনৈতিক বার্তা পাঠানো যে পাকিস্তানের সাথে দ্বিপাক্ষিকভাবে মীমাংসা করার মতো কোন "আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব" নেই। রাষ্ট্রপুঞ্জ বা আন্তর্জাতিক স্তরে মীমাংসার কোন প্রশ্নই ওঠে না। কোনরকমের মানবিক বিবেচনার বিষয় নেই এখানে।

অদূর ও সুদূর ভবিষ্যতে কী হতে পারে

 

আমাদের সতর্ক করার কারণ এই যে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও রাষ্ট্রের ক্ষমতার ক্ষয় আসলে হিন্দুত্ব প্রকল্পেরই একটি অংশ। যে আঞ্চলিক দলগুলি কেন্দ্রের বিজেপির সাথে অঘোষিত, অবাঞ্ছনীয় আপোষের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধির আশা করছে, বাস্তবে তারা আসলে আরো বড় বিপদের সম্ভাবনা বহন করছে।

হিন্দুত্ব প্রকল্পের বিপদের কথা মাথায় রেখে যারা এর বিরোধিতা করছেন, সেইসব প্রগতিশীল মানুষের আছে আমাদের আহ্বান, আপনারা সকলে কাশ্মীরের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহমর্মিতা পোষণ করুন। কাশ্মীরীদের প্রতি ন্যায়বিচার ও সম্মান তাদের স্বাধীন চলাফেরা ও দ্রুত অসামরিকীকরণ দাবি করে। ইচ্ছানুসারে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায়সঙ্গত ক্ষোভের প্রকাশ ও সংগঠিত প্রতিবাদ তাদের অধিকার।

আমরা এই বেড়ে ওঠা প্রান্তিকীকরণ, জাতিগত বর্ণবৈষম্যবাদ, সামরিক জাতীয়তাবাদের তীব্র প্রতিবাদ করছি । আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি কাশ্মীরের নিপীড়িত মানুষের রাজনৈতিক আত্মনিয়ন্ত্রণের সম্পুর্ণ অধিকার আছে।